বাস্তবতা কী আসলেই বাস্তব?
মূলপাতা বিজ্ঞাননিউরোসায়েন্স বাস্তবতা কী আসলেই বাস্তব?

বাস্তবতা কী আসলেই বাস্তব?

লিখেছেন অ্যান্ড্রোস লিহন
127 বার পঠিত হয়েছে

বাস্তবতা  কী বাস্তবেই বাস্তব?

 

আমরা সবাই ইউনিভার্সকে দেখছি ও শুনছি; কিন্তু আমরা যা পর্যবেক্ষণ করছি তা কী আসলেই বাস্তব।নাকি আমরা যা দেখি তার সবটাই ইলুশন?

 

  • কেস-১ঃ আপনি যখন কোন একটি দেয়ালের দিকে তাকান তখন আপনার কাছে সেটাকে মনে হয় মসৃন এবং স্থির চিত্রের মতো।কিন্তু গবেষণায় জানা যায় আপনার দৃষ্টিতে একটি Gaping Hole আছে যেটা আপনার রেটনার অপটিক নার্ভে  প্রতিনিধিত্ব করে।হ্যা…আমাদের চোখের ভেতর একটি ব্লাইন্ড স্পোট আছে যেটাকে বলা হয় অন্ধবিন্দু।যে ব্লাইন্ডস্পোট দেয়ালটি থেকে প্রতিফলিত আলোক তরঙ্গকে রিড করতে পারেনা।অতএব দেয়ালের মধ্যে একটি ফুটো দেখা উচিত।কিন্তু আমারা সেরকম কোনো ফুটো দেখিনা।আমাদের ব্রেন এই গর্তটি পেপারিং এর মাধ্যমে পূরণ করে ফেলে।তার মানে যা কিছু দেখছি তার একটি অংশ ফেইক যা আমাদের সাব-কনসাস মাইন্ড নিখুঁতভাবে তৈরি করছে।

 

  • কেস-২ঃ ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ডায়াগ্রামে অসীম সংখ্যক স্পেক্ট্রাম আছে কিন্তু আমরা শুধু একটি স্পাকট্রামকেই ফিল করতে পারি।ইনফ্রায়েড, ইউ বি, এক্স-রে অথবা গামা রশ্নি আমরা দেখিনা।ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ডের অসীম তরঙ্গের মধ্যে অত্যন্ত ক্ষুদ্র একটি ফ্রিকোয়েন্সিকেই আমরা পড়তে পারছি।এটাই আমাদের ব্রেনের রেঞ্জ।প্রশ্ন আসতে পারে কেনো ব্রেন অন্য ফ্রিকোয়েন্সীগুলি সম্পর্কে আনকনসাস থাকে?এর উত্তর এভোলিউশন আমাদেরকে সম্পূর্ণ ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ডকে বুঝার ক্ষমতা দেয়নি আমরা যদি একসাথে অসীম ফ্রিকোয়েন্সী নিয়ে সচেতন থাকতাম তবে আমাদের ব্রেনের অসীম শক্তির প্রয়োজন হতো সে শক্তি আমাদের নেই।এ জন্যে আমাদের ব্রেন অপেক্ষাকৃত কম শক্তি খরচ করে শুধুমাত্র একটি ফ্রিকোয়েন্সিতেই টিউন হয়েছে।আমরা প্রকৃত বাস্তবতার ৯৯.৯৯ ভাগই জানিনা!

 

  • কেস-৩ঃ এছাড়া আমরা আমাদের ফিল্ড ভিশনের কেন্দ্রবিন্দুকেই দেখি শুধু যাকে বলা হয় ফোভিয়া কিন্তু এনার্জি কনজার্ভ করার জন্যে পেরিপেরাল অংশ থাকে ব্লারি।আপনি যখন কোনো নির্দিষ্ট একটি বিন্দুতে দৃষ্টিপাত করেন তখন ঐ বিন্দুটাই আপনার মস্তিষ্কে পরিচ্ছন্ন হয়ে উঠে কিন্তু এর পেছনের প্রান্ত আপনার ব্রেন দেখেনা।(বাস্তবতা কী আসলেই বাস্তব?) যখন একটি ফুলের দিকে তাকান তখন আপনার ব্রেন শুধু ফুলকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়, সে ফুলটাকে সুস্পষ্ট বা উজ্জ্বলভাবে দেখছে কিন্তু তার পেরিপেরাল অংশ সে দেখছেনা বা সেটা কুয়াশান্ন কিন্তু আমাদের সাব-কনসাস মাইন্ড আমাদের সাথে প্রতারণা করে সে আমাদের কাছে রিয়েলিটিকে এমনভাবে উপস্থাপন করে যেনো কোনো সমস্যাই নেই।আমাদের রেটিনা লাল,নীল এবং সবুজ রঙকে অনুবাদ করতে পারে, অন্য রঙকে বুঝার জন্য আমাদের চোখে সেন্সর নেই, অন্যান্য রঙগুলি আমাদের সাব-কনসাস মাইন্ড তার জেনেটিক্যাল শিক্ষা অনুযায়ী একটার সাথে অন্যটা এড করে তৈরি করে, বা আমরা যে মিলিয়ন মিলিয়ন কালার দেখি তার সম্পূর্ণটাই আমাদের অবচেতন মনের তৈরি, তাদের কোনো রিয়েলিটি নেই!কালার টিভি স্কিন প্রকৃতপক্ষে ইলুশন।

 

  • কেস- দের রেটিনা বস্তুর থিকনেস বুঝেনা।কারণ আমাদের চোখের রেটিনা টু-ডায়মেনশনাল।কিন্তু দু-চোখের মাঝখানে কয়েক ইঞ্চি ফাঁকাস্থান আছে।মস্তিষ্ক  আলাদা আলাদা দুটি ছবিকে Merge করে এবং একপ্রকার  থার্ড ডায়মেনশনের ফলস উপলব্ধির প্রদান করে।আমরা দূরের কোনো বস্তুকে উপলব্দি করি তাদের দূরত্বের সাথে তারা কিভাবে মুভ করে আমাদের মাথার মুভমেন্টকে পর্যবেক্ষণ করে।এটিকে বলা হয় প্যারালাক্স।যেমন- ছোটকালে আমরা যখন হাঁটতাম, চাঁদও আমাদের সাথে মুভ করতো।আমাদের কাছে মনে হতো চাঁদ আমাদের পর্যবেক্ষণ করছে, ঐ দূরত্বের বস্তুর সাথে প্যারালাক্স বোঝা খুবই কষ্টের।তার শুধু মনে হবে চাঁদের সাথে তার পেছনে নির্দিষ্ট একটি দূরত্ব আছে।এটাও ফলস সেনসেশন!

 

আমাদের রিলেটেড আর্টিকেল গুলি পড়তে ক্লিক করুনঃ

বাস্তবতা কী আসলেই বাস্তব?

তথ্যসুত্রঃ

 

আরও পড়ুন

Leave A Comment...

হাইপারস্পেস
চিন্তা নয়, চিন্তার পদ্ধতি জানো...!