ফেইসবুক ও গুগল জিন

ফেইসবুক ও গুগল জিন

আমাদের ভেতরকার আকাঙ্ক্ষা ও প্রবণতাগুলো কিন্তু ইন্টারনেটের তৈরি নয়,  ইন্টারনেট শুধু জিনগতভাবে আমাদের মধ্যে উপস্থিত প্রবণতাগুলোকে বুঝে কাজ করে।

আজ থেকে মিলিয়ন বছর পূর্বে কোনো ইন্টারনেট ছিলোনা, তাহলে এমন কোনো জিনের অস্তিত্ব থাকা কী সম্ভব যা আমাদেরকে বর্তমানে ইন্টারনেটের প্রতি আসক্ত করবে? PlOS ONE জার্নালে, Personalised Media: A Genetically Informative Investigation of individual differences নামক একটি আর্টিকেল প্রকাশিত হয়। কিং কলেজ লন্ডনের একদল গবেষক বলেন, অনলাইন মিডিয়া যেমন সোশ্যাল নেটওয়ার্ক এবং গেমিং খুব কঠিনভাবে আমাদের জিন দ্বারা প্রভাবিত। এক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো গবেষকরা এটা কিভাবে খুঁজে বের করলেন? উপায়টা একদম সাধারণ। তারা প্রথমে ১৬ বছর বয়সী ৮,৫০০ জন যমজের উপর গবেষণা করেন। যদি কম্পিউটার গেমস এবং সোস্যাল নেটওয়ার্কিং পরিবেশের দ্বারা সম্পূর্ণ প্রভাবিত না হয়ে হেরিটেবিলিটির উপর ডিপেন্ড করে তবে যমজদেরকে ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশে লালন পালন করা হলেও গেমিং ও অনলাইনের প্রতি তাদের আকর্ষণ প্রায় সমান হবে।

আমরা বংশানুক্রম বা হেরিটেবিলিটি থেকে প্রাপ্ত কোনো বৈশিষ্ট্যকে পরিবেশ পরিবর্তনের মাধ্যমে সম্পূর্ণ নির্মূল করতে পারিনা। যদি তাই হয় তবে যমজরা একে অন্যের ১০০ ভাগ জিন ধারণ করে এবং তাদের দুজনের জিন বংশানুক্রমে প্রাপ্ত। আর তাই তাদের মন মানসিকতাও হবে একে অন্যের মিরর ইমেজ। যদি তাই হয় তবে, তাদেরকে আলাদা আলাদাভাবে লালন পালন করা হলেও তাদের জিনগত স্বভাব তথা পছন্দ, অপছন্দ, ভালোলাগা ও ভালো না লাগার ব্যাপারগুলো একই হবে। গবেষকরা মূলত বুঝতে চেয়েছেন ফেসবুক, টুইটার ও চ্যাটরুমে সময় কাটানোর মানসিকতার পেছনে জিন ও পরিবেশের ইন্টারেকশন যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিলো গেম, এনটারটেইনমেন্ট এবং এডুকেশন। 

   তারা দেখতে পান বিভিন্ন রকমের সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় কাটানোর পেছনে হেরিটেবিলিটি খুবই বাস্তব একটি বিষয়। বিনোদনের ক্ষেত্রে ৩৭ শতাংশ, শিক্ষা ৩৪ শতাংশ, অনলাইন গেম ৩৯ শতাংশ, সোশ্যাল ওয়ার্কিং ২৪ শতাংশ। হেরিটেবিলিটি শিশুদের অনলাইন ব্যাবহার করার মানসিকতার ক্ষেত্রে তারতম্য দেখিয়েছিলো_ যা জেনেটিক্যাল ফ্যাক্টর দ্বারা ইনহেরিটেড, পরিবেশের কোন প্রভাবের পরিবর্তে।এছাড়া, ইউনিক এনভায়রনমেন্টাল ফ্যাক্টর ২/৩ ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করার প্রবণতা ব্যাখ্যা করতে পারে।

একটি অনন্য এনভায়রনমেন্টাল ফ্যাক্টর হলো, পরিবারের কারো পারসোনাল ফোন আছে আর কারো নেই। পরিবার হয়তো একজনের তুলনায় অন্যজনের সোশ্যাল নেটওয়ার্কের ব্যাপারটা অনেক বেশি ভারী ভাবে পর্যবেক্ষণ করে। অতএব আমরা এটা ঢালাওভাবে বলতে পারিনা যে, মিডিয়াই আমাদের ব্রেনকে পরোক্ষভাবে তার নিজের প্রতি অন্ধ করে রেখেছে বা সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতি আমাদের আকর্ষণ পরোক্ষভাবে সমাজের সৃষ্টি; আমরা এখন দেখতে পাচ্ছি যে অনলাইন মিডিয়া ব্যবহার করার জন্য আমাদের রয়েছে  অন্যন্য এক জেনেটিক প্রবণতা ( এটাকে আমরা বলতে পারি জিন ও এনভায়রনমেন্টাল কো-রিলেশন)   ।

 Ziada Ayorech যিনি ছিলেন কিং কলেজ লন্ডনের Study from the Institute of Psychiatry, Psychology and Neuroscience এর প্রথম আথর, তিনি বলেন, আমাদের আবিষ্কার জনপ্রিয় মিডিয়া ইফেক্ট থিওরির সাথে কন্ট্রাডিক্ট করছে, যেখানে বলা হয়, মিডিয়া একটা এক্সটারনাল এন্টিটি যেটি অসহায় ভোক্তার উপর ভালো ও মন্দ প্রভাব বিস্তার করে। তিনি বলেন, আমরা ডিএনএ’র মধ্যে যে মৌলিক পার্থক্য পেয়েছি তা আমাদের বলে যে,  জিনই নির্ধারণ করে দেয় আমরা কিভাবে মিডিয়ার সাথে ইন্টারেক্ট করবো। এখানে অসহায় ভোক্তাকেই ড্রাইভারের সীটে বসানো হয়, যে নির্বাচন করে ও পরিমার্জন করে তাদের মিডিয়াকে তাদের নিজস্ব প্রয়োজন অনুসারে।

জিন কিন্ত আপনাকে বলবেনা, লিয়া গোট্টির পর্ণ ভিডিও দেখো , জিন লিয়াকে চেনেনা এবং সে এটাও জানেনা পর্ণ কি কিন্তু সে আপনার মধ্যে সেক্স নামক একটি প্রবণতা তৈরি করে দেয় বংশবিস্তার করার স্বার্থে। আর এ জন্য পর্ণ যদিও আপনাকে বলেনা, আমাকে দেখো কিন্তু আপনি সেটার প্রতি আকৃষ্ট হোন। আসলে আমাদের ভেতরকার আকাঙ্ক্ষা ও প্রবণতাগুলো কিন্তু ইন্টারনেটের তৈরি নয়,  ইন্টারনেট শুধু জিনগতভাবে আমাদের মধ্যে উপস্থিত প্রবণতাগুলোকে বুঝে কাজ করে।

কিং কলেজের প্রফেসর, রবার্ট প্লোমিন, যিনি IoPPN এর সিনিয়র আথর, তিনি বলেন, The Key component of this Gene and Environment Correlation is Choice , Such individual are not simply Passive Recipient of their Environment but instead actively select their Experiences and this Selections are Correlated with their Genetic Propensities.

মানব মস্তিষ্কের বিবর্তনে ইন্টারনেট

hsbd bg