মূলপাতা Uncategorized ফিউচার অব দ্যা মাইন্ড

ফিউচার অব দ্যা মাইন্ড

লিখেছেন অ্যান্ড্রোস লিহন
107 বার পঠিত হয়েছে

ফিউচার অব দ্যা মাইন্ড

 

 মস্তিষ্কের মাধ্যমে কম্পিউটার টাইপ করা যাবে?

মিনাসোটার মায়ো ক্লিনিকে ডঃজেরি শিহ পিলেক্টিক পেশেন্টের মস্তিষ্কের মধ্যে ECOG SENSOR সংযুক্ত করে দেয় যার মাধ্যমে সে মনে মনেই কম্পিউটার টাইপ করতে পারতো।প্রথমে পেশেন্টকে একটি সিরিজ অব ল্যাটার দেখানো হয় এবং তারপর সেগুলির দিকে মানসিকভাবে ফোকাস করতে বলে।কম্পিউটার তার মস্তিষ্ক থেকে নির্ঘত সিগনালগুলিকে রেকর্ড করতে থাকে মনে হয় যেনো কম্পিউটার ব্যাক্তির মস্তিষ্কের শব্দগুলিকে স্ক্যান করছে!ইতমধ্যে EEG টাইপ রাইটার মার্কেটে প্রবেশ করেছে কিন্তু যদিও সেগুলি ECOG টাইপ রাইটারের মতো না কিন্তু তাদের কিছু বিশেষ উপযোগিতার কারণে সেগুলি বিক্রি হচ্ছে।

মস্তিষ্কের চিন্তার মাধ্যমেই কী মিউজিক তৈরি করা যাবে?

 

এরপরের প্রযুক্তি হলো মস্তিষ্কের সম্পূর্ণ কনভারসনকে ট্রান্সমিট করা যেটি ট্যালিপেথিক ট্রান্সমিশনের স্পিডকে বাড়িয়ে দেবে।এর জন্য যেটা প্রয়োজন এক একটি করে প্রত্যেকটি শব্দের

সম্পর্ক ম্যাপ করা এবং তাদের EEG,MRI এবং ECOG সিগনাল জানা।মনে করুন, কেউ যদি মস্তিষ্কের কয়েকশত শব্দের আলাদা আলাদা ইলেক্ট্রিক্যাল সিগনাল রেকর্ড করতে পারে তখন সে যেকোনো একটি কমন কনভারসন থেকে খুব সহযে একটি ওয়ার্ডকে ট্রান্সমিট করতে পারবে।তারমানে আপনি যদি একটি সেন্টেন্স অথবা পেসেজের শব্দগুলিকে চিন্তা করেন কম্পিউটার সেগুলির প্রিন্ট আউট করে দিতে পারবে!সাংবাদিক, কবি এবং সাহিত্যিকদের জন্যে এ প্রযুক্তি খুবই প্রয়োজনীয় কারণ তারা যা চিন্তা করবে কম্পিউটার সেটার চিত্রাংকন করে ফেলবে।

এ প্রযুক্তির মাধ্যমে আপনি Robo Secretary তৈরি করতে পারেন যে আপনাকে কখন ডিনার করা উচিত অথবা কখন লাঞ্চ তার দিক নির্দেশনা প্রদান করবে।ভবিষ্যতে মিউজিককেও কম্পিউটার এ পদ্ধতি ট্রান্সক্রাইভ করবে।একজন মিউজিশিয়ান মনে মনে মিলোডি তৈরি করবে আর কম্পিউটার সেটাকে বাস্তবরূপ প্রদান করবে!!আপনি যদি মনে মনে একটি মিজিক্যাল নোটকে চিন্তা করেন, তবে আপনার মস্তিষ্কে একটি সিগনাল তৈরি হবে, এভাবে প্রতিটি নোটের সাথে সম্পৃক্ত প্রতিটি ইলেক্ট্রিক্যাল সিগনালের ভিত্তিতে কম্পিউটার একটি মিউজিক ডিকশনারী তৈরি করবে।এরপর আপনি যখন মনেমনে কোনো একটি সুরের কথা চিন্তা করবেন কম্পিউটার সেটাকে প্রিন্ট আউট করে দিয়ে দেবে!!চিত্রশিল্পিদের আর অজস্র সময় অপচয় করার প্রয়োজন হবেনা, শুধুমাত্র চিন্তার মাধ্যমেই তাদের পক্ষে ছবি অংকন করা সম্ভব!

 

আমাদের মস্তিষ্কের ইমোশনগুলি কী ইন্টারনেটের মাধ্যমে সেন্ড করা সম্ভব?

 

অনেকেই বলে থাকেন আমাদের চিন্তা ইউনিভার্সাল কিন্তু কথাটি সঠিক নয়।মূলত আমাদের আবেগ অনুভূতিগুলোই ইউনিভার্সাল।

সায়েন্স ফিকশন মুভিগুলিতে ট্যালিপেথিক্যালি চিন্তা পাঠানোর ক্ষেত্রে ভাষাগত একটা জটিলতা দেখা দেয় যেমন ইংরেজদের চিন্তাগুলিও ইংরেজী, রাশিয়ানদের চিন্তাগুলি রাশিয়ান।কিন্তু আমাদের ইমোশন বিশ্বজনীন।রাশিয়ান আবেগ আর বাংলিশ আবেগ বলতে আলাদা কোনো সঙ্গা নেই।

তার মানে আমরা টেলিপেথিক্যালি আমাদের মস্তিষ্কের ইমোশনগুলিকে একে অপরের কাছে সেন্ড করতে পারবো।ইমোশনকে বুঝতে ভাষার প্রয়োজন হয়না, যেকেউ ইমোশনকে তাদের নিজেদের ভাষায় ট্রান্সলেশন করতে পারবে যদিও যৌক্তিক চিন্তাগুলি পাঠানোর ক্ষেত্রে ভাষাগত সীমাবদ্ধতা থেকে যাবে!

 

ফিউচার অব দ্যা মাইন্ড; টেলিপ্যাথি হেলমেটঃ

 

এটি সেনাবাহীদের যুদ্ধক্ষেত্রে একে অপরের কাছে সিগনাল পাঠাতে সহযোগিতা করবে কারণ যুদ্ধ ক্ষেত্রে আমরা ভার্বাল কমিনিকেশন করতে পারিনা।টেলিপ্যাথি হেলমেটের মাধ্যমে খুব সহযে আমরা একে অপরের কাছে আমাদের চিন্তা সেন্ড করতে পারবো।ইউ এস আর্মি Dr. Gerwin Schalk কে টেলিপ্যাথি হেলমেটের জন্যে ৬.৩ মিলিয়ন ডলার দিয়েছিলো কিন্তু সম্পূর্ণ ফাংশনাল টেলিপ্যাথি হেলমেট এখনো আবিষ্কার করা সম্ভব হয়নি।আমরা ECOG প্রযুক্তি সম্পর্কে জেনেছি যেখানে মাথার খুলির কিছু অংশ কেটে একটি ইলেক্ট্রোডের মেস ঢুকাতে হয়।যদিও মাথার খুলি কাটতে হবে কিন্তু ECOG এক্সপেরিমেন্টালি যুদ্ধ ক্ষেত্রের জন্যে কার্যকরী প্রমাণ হয়েছে!!

ফিউচার অব দ্যা মাইন্ড; টেলিপ্যাথি সেলফোন

 

বর্তমানে 𝑀𝑅𝐼 মেশিনগুলি অনেক বিশাল কারণ ভালো রি-সলিউশন পাওয়ার জন্যে ম্যাগনেটিক ফিল্ডকে অনেক বেশি ইউনিফর্ম হতে হয়!ম্যাগনেট যত বড় হবে,ততই ফিল্ডকে ইউনিফর্ম করা যাবে এবং চুড়ান্ত ছবিতে আপনি ভালো যথার্থতা পাবেন।কিন্তু পদার্থবিজ্ঞানীরা ম্যাগনেটিক ফিল্ডের প্রকৃত ম্যাথমেটিক্যাল প্রপার্টি জানে!১৯৯৩ সালে জার্মানে Dr. Bernhard Blümich এবং তার সহকর্মীরা বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষুদ্র এম আর আই মেশিন তৈরি করতে সক্ষম হয় যেটি ব্রিফকেস আকারের।এটি খুব দূর্বল এবং বিকৃত ম্যাগনেটিক ফিল্ড ব্যাবহার করে কিন্তু সুপার কম্পিউটার ম্যাগনেটিক ফিল্ডকে এনালায়সিস করতে পারে এবং এর নির্ভুল এবং উন্নত ভার্সনের থ্রিডি পিকচার তৈরি করে।আমরা জানি প্রতি দু-বছরেই কম্পিউটার উন্নতির শিখরে যাচ্ছে, ভবিষ্যতে আমরা কম্পিউটারের মাধ্যমে এই ম্যাগনেটিক ফিল্ডকে আরো ভালোভাবে এনালায়সিস করতে পারবো এবং ব্রিফকেস সাইজ 𝑀𝑅𝐼 মেশিনের বিকৃতির ক্ষতিপূরণ দিতে পারবো!

 

কিন্তু প্রশ্ন হলো কী হবে এই 𝑀𝑅𝐼 𝑚𝑎𝑐ℎ𝑖𝑛𝑒 দিয়ে?2006সালে Dr. Blümich এম আর আই যন্ত্র দিয়ে ৫৩০০ বছর পূর্বের বরফ যুগের একজন আইসম্যানের শরীর স্ক্যান করেছিলেন।যদিও দেহটি ছিলো বিকৃত কিন্তু এম আর আই মেশিনের মাধ্যমে খুব সহয ভাবে এর ছবি নিতে পেরেছিলেন!!ভবিষ্যতে সুপার কম্পিউটারকে আরো উন্নত করে 𝑀𝑅𝐼 মেশিনকে আমরা সেলফোন সাইজে নিয়ে আসতে পারবো, তারবিহীনভাবে আমরা 𝑅𝑎𝑤 𝐷𝑎𝑡𝑎 গুলি সুপারকম্পিউটারকে সেন্ড করবো।সুপার কম্পিউটার এই উইক ম্যাগনেটিক ফিল্ডকে এনালায়সিস করে থ্রি-ডি ইমেজ তৈরি করতে পারবে!ভবিষ্যতে মেডিক্যাল কেবিনেটেই আমরা ব্যাপক কম্পিউটার ক্ষমতা পাবো যেটা বর্তমানে বড় বড় হসপিটাল গুলোতেও নেই।

 

একসময় হসপিটালের এক্সপেন্সিভ এম আর আই প্রযুক্তি ব্যাবহার না করেই আমরা আমাদের নিজের ব্রেনকে স্ক্যান করে কম্পিউটার ল্যাবে সমস্ত ডাটা ইমেইল করে দিতে পারবো।

 

ভবিষ্যতে আমরা হয়তো 𝑀𝑅𝐼 𝑇𝐸𝐿𝐸𝑃𝐻𝐴𝑇𝑌 𝐻𝐸𝐿𝑀𝐸𝑇 ব্যাবহার করবো,যেটি 𝐸𝐸𝐺 𝑠𝑐𝑎𝑛 থেকে ভালো রি-সলিউশন দেবে!হেলমেটের ভেতরে থাকবে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক কয়েল যেটি উইক ম্যাগনেটিক ফিল্ড এবং রেডিও পালস তৈরি করবে ব্রেনকে তদন্ত করার জন্যে।তারপর এই 𝑟𝑎𝑤 𝑀𝑅𝐼 সিগনাল আপনার পকেট সাইজ কম্পিউটারে পাঠানো হবে যেটি আপনার বেল্টের মধ্যে আটকানো, তারপর ডাটাগুলি দূরের কোনো সুপারকম্পিউটার ফাইনালি প্রসেস করবে এবং যুদ্ধক্ষেত্রে সৈনিকদের কাছে পাঠাবে, তারা এই সিগনাল সাউন্ড স্পিকার অথবা তাদের মস্তিষ্কের অডিটরি কর্টেক্সে স্থাপিত ইলেক্ট্রোডের মাধ্যমে পড়তে পারবে!

 

ন্যানোপ্রুভ, টেলিপ্যাথি, প্রাইভেসি ইস্যু এবং মডার্ন জুরিসডিকশন।

 

আমরা যখন 𝑀𝑖𝑛𝑑 𝑟𝑒𝑎𝑑𝑖𝑛𝑔 𝑚𝑎𝑐ℎ𝑖𝑛𝑒 নিয়ে ভাবি তখন প্রাইভেসি ইস্যু নিয়েই আমরা সর্বপ্রথম উদ্বেগ প্রকাশ করি।আমাদের মস্তিষ্কের চিন্তা আমাদের পারমিশন ছাড়া অন্য কেউ চুরি করে নিয়ে যাবে এটা কোনোভাবেই মানা যায়না।𝑀𝑖𝑛𝑑 𝑟𝑒𝑎𝑑𝑖𝑛𝑔 𝑚𝑎𝑐ℎ𝑖𝑛𝑒 এর মাধ্যমে বিজ্ঞানী অথবা গবেষকদের মস্তিষ্কের চিন্তা কিডন্যাপ করা সম্ভব, যার কারণে তাদের গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারগুলি নিরাপত্তাহীন হয়ে যাবে।এছাড়া আমরা প্রতিনিয়ত ভবিষ্যতকে সিমুলেট করি।একমাত্র মানুষই “𝐶𝑜𝑛𝑐𝑒𝑝𝑡 𝑜𝑓 𝑇𝑜𝑚𝑜𝑟𝑟𝑜𝑤” এর ভিত্তিতে নিরবিচ্ছিন্নভাবে ফিউচারের সম্ভাব্য রিয়েল্মগুলিকে সিমুলেট করতে পারে, অনেক সময় আমরা অনৈতিক এবং ইলিগ্যাল চিন্তাও করে ফেলি।আমাদের ব্রেন ফিউচারকে সিমুলেট করতে না পারলে অনৈতিক এবং ইলিগ্যাল কোনোকিছু ইমাজিন করতে পারেনা।যদি কেউ আমাদের মস্তিষ্ককে দূর থেকেই পোর্টেবল মেশিনের মাধ্যমে পাঠ করতে সক্ষম হয় তবে তবে চিন্তার প্রাইভেসি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাবে।মিসিও কাকু যখন Dr. Nishimoto কে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করেছিলেন তিনি হেসে উত্তর দিয়েছিলেন, মস্তিষ্ক থেকে নির্ঘত রেডিও পালস গুলি এতটাই দূর্বল যে কয়েক ফুট দূর থেকেই এই সিগনালগুলি থেকে কোনো সেন্স তৈরি করা যায়না।নিউটনের গ্রেভিটি দূরত্বের সাথে স্কয়ার হিসেবে হ্রাস পায়,অতএব আপনি যদি একটি নক্ষত্র থেকে আপনার দূরত্ব দ্বিগুণ করেন তবে গ্রেভিটি চারগুণ কমে যাবে।কিন্ত ব্রেন সিগনাল দূরত্বের সাথে কিউব না কোয়ার্টিক হিসেবে হ্রাস পায় তাই এম আর আই মেশিনের দূরত্ব যদি দ্বিগুণ করেন তব ম্যাগনেটিক ফিল্ড আট গুণ দূর্বল হয়ে যাবে।

 

এছাড়া এক্সটারনাল ওয়াল্ড থেকে ইন্টারফেয়ার করেও এই দূর্বল সিগনালটাকে আটকানো যায়।এ জন্যে বিজ্ঞানীদের ল্যাবের পরিবেশকে আরো কঠিন করতে হবে।আর তাছাড়া একজন বিজ্ঞানী একটি নির্দিষ্ট সময়ে দুই একটি শব্দ এবং ইমেজ চিন্তা করতে পারে।অতএব সায়েন্স ফিকশন মুভিতে যেমনটা আমরা দেখি তেমন 𝑀𝑖𝑛𝑑 𝑟𝑒𝑎𝑑𝑖𝑛𝑔 হয়তোবা এখন আর সম্ভব নয়!(ফিউচার অব দ্যা মাইন্ড)

 

মিসিও কাকু আশাবাদী যে ভবিষ্যতে এমন মেশিন আবিষ্কার করা সম্ভব যার মাধ্যমে অনেক দূর থেকেই আমার থট মেজার করা যাবে।এ জন্যে হয়তো আপনাকে কাউন্টার মেজার ব্যাবহার করতে হবে।আপনার প্রাইভেট চিন্তাগুলি যেনো অন্যকেউ পড়তে না পারে এ জন্যে আপনি আপনার চিন্তার ওয়েভকে শিল্ড বা ঢালের মাধ্যমে ব্লক করে রাখতে পারেন।১৮৩৬ সালে ব্রিটিশ ফিজিসিস্ট মাইকেল ফ্যারাডে 𝐹𝑎𝑟𝑎𝑑𝑦 𝐶𝑎𝑔𝑒 নামক এমন একটি ঢাল আবিষ্কার করেন।

 

ন্যানোপ্রুবের মাধ্যমেও মস্তিষ্কের চিন্তার প্রাইভেসি নিশ্চিত করা যায়।প্রশ্ন হলো ন্যানোপ্রুব কী?আমাদের মস্তিষ্ককে 𝐸𝐶𝑂𝐺 মেশিনের মাধ্যমে পাঠ করতে হলে মাথার খুলির কিছু অংশ কেটে ফেলতে হয় এবং সেখানে যন্ত্রটি স্থাপন করতে হয়।ন্যানোপ্রুব এটমের তৈরি, মাইক্রো-সার্জারির মাধ্যমে এটিকে মস্তিষ্কের ভেতর স্থাপন করা যাবে যেটি আপনার মস্তিষ্কের চিন্তাকে ট্যাপ করবে।ন্যানোপ্রুব সাধারণ কার্বনের তৈরি, এটি অত্যন্ত ক্ষুদ্র মাপের ইলেক্ট্রিসিটি নিয়ে কাজ করে যতটা ক্ষুদ্রতাকে “ল” অব এটমিক ফিজিক্স সমর্থন করে।কার্বন ন্যানোটিউব কার্বন এটমের একটি সারি, যার পুরুত্ব কয়েকটি এটমের সমান।।

 

এই ন্যানোপ্রুব গুলি মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট কিছু স্থানে বসানো যাবে যে অংশগুলি নির্দিষ্ট কিছু একটিভিটিজের জন্যে দায়ী।কথা এবং ভাষাকে পরিবহণ করার জন্যে এসব ন্যানোটিউবকে মস্তিষ্কের টেম্পোরাল লোবে বসানো হবে।ভিজুয়াল ইমেজকে প্রসেস করার জন্যে ন্যানোপ্রুবকে থালামাস এবং ভিজুয়াল কর্টেক্সে সেন্ড করা হবে।তারপর ন্যানোপ্রুব থেকে পাওয়া এসব সিগনাল ছোট একটি কম্পিউটারে পাঠানো হবে, কম্পিউটার সেগুলিকে প্রসেস করে ওয়ারলেসলি সার্ভারে সেন্ড করবে এবং সার্ভার থেকে সরাসরি চলে যাবে ইন্টারনেটে!

 

প্রাইভেসি ইস্যু এখানে আংশিকভাবে সমাধান হয়ে যাবে কারণ আপনি আপনার চিন্তার মাধ্যমেই ন্যানোপ্রুবকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন যখন আপনার চিন্তা কেবল অথবা ইন্টারনেটের ভ্রমণ করবে।

 

ডঃব্রায়ান পেসলে বলেছেন,“There are

ethical concerns, not with the current research, but with the possible extensions of it।ন্যানোপ্রুবের মাধ্যমে আমরা আমাদের চিন্তাকে কেবল এবং ইন্টারনেটে পাঠাতে পারবো কিন্তু যদি আমাদের চিন্তার ফাইল গুলি অন্য কেউ পড়ে ফেলে?আমাদের অনিচ্ছাসত্ত্বেও অন্য কেউ আমাদের চিন্তা পড়ে ফেললে তবে সেক্ষেত্রে কিছু নৈতিক এবং লিগ্যাল ইস্যু জন্ম নেয়।আমরা ন্যানোপ্রুবের মাধ্যমে বাকপ্রতিবন্ধীদের চিন্তা পড়তে পারবো, লাইফ সাপোর্টের মধ্যে থাকা রোগীরা যদি তাদের সম্পত্তি উইল করতে চায় তবে ন্যানোপ্রুভের মাধ্যমে আমরা তার চিন্তা রিড করতে পারবো,মৃত্যুপথযাত্রী ব্যাক্তি বা কথা বলতে অক্ষম এমন অনেক মানুষের মনের ইচ্ছা বুঝতে পারবো কিন্তু একইসাথে বিজ্ঞানী ও গবেষকদের চিন্তা বা গবেষণাপত্র চুরি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে আর এ জন্যে কপিরাইটের আইন নতুন করে লিখতে হবে, আইনের অনেক ধারাই তখন পরিবর্তন হয়ে যাবে!

 

এ প্রযুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের সরকার রাষ্ট্রের সকল মানুষের মস্তিষ্কের চিন্তাকে তার নিজের পর্যবেক্ষণে রাখবে, প্রাইমিনিস্টার যেকোনো মুহূর্তে যেকোনো ব্যাক্তির চিন্তার এক্সেস নিতে পারবে, কোনোপ্রকার প্রি-কনসেন্ট ছাড়াই।পুলিস আপনার ব্রেন ওয়েভকে রিড করতে পারবে।আদালতে আপনাকে কোনোকিছুই জিজ্ঞাসা করবেনা,ন্যানোটিউবের মাধ্যমে আপনার ব্রেন থেকে তারা সমস্ত চিন্তা পদ্ধতি জেনে ফেলবে!কিন্তু এটা আমাদের জন্যে ঠিক কতটা উপযোগী!সরকার আমাদের সাথে ঠিক কতটা সততা প্রদর্শন করবে?(ফিউচার অব দ্যা মাইন্ড)

 

এম আর আই মেশিনের মাধ্যমে আমরা যখন মস্তিষ্কের মিথ্যা সনাক্ত করি তখন এম আর আই শুধু মস্তিষ্কের ইলেক্টিক্যাল এক্টিভিটিজের বৃদ্ধি হয়ে যাওয়াটাকে গণনা করে।কিন্তু খুনের চিন্তা করা আর খুন করা সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়।এক্ষেত্রে একজন এডভোকেট হয়তো এটাকে ডিফেন্স হিসেবে ব্যাবহার করতে পারবে!

 

মিসিও কাকু বলেছেন, এমন কোনো “ল” অব ফিজিক্স নেই যা আমাদেরকে এই ইথিক্যাল প্রশ্ন থেকে মুক্তি দিতে পারে!ভবিষ্যতে আমাদের কোর্ট,জুরিস এবং জাজদের এই লিগ্যাল ইস্যু মাথায় নিতে হবে!

 

বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রের প্রাইমিনিস্টার এবং কর্পোরেটররা মাল্টি বিলিয়ন ডলার খরচ করে Safe Room করছে।কিন্তু ভবিষ্যতে Safe Room গুলি এমন ভাবে তৈরি করতে হবে যেনো আমাদের ব্রেন ওয়েভকে কক্ষের বাহিরে থেকে কেউ ডিটেক্ট করতে না পারে।এ জন্যে আমাদেরকে মেটালিস্টিক ওয়াল তৈরি করতে হবে যেটাকে বলা যায় ফ্যারেডে কেজ!

 

খুব সাম্প্রতিকই টেলিপ্যাথি মানব জীবনের অপরিহার্য অংশে পরিণত হবে।কিন্তু আমাদেরকে তার বাহিরে যেতে হবে।বিজ্ঞানীরা শুধুমাত্র চিন্তা পড়েই সন্তুষ্ট থাকতে ইচ্ছুক নয়, তারা চিন্তার মাধ্যমে ম্যাটারিয়াল ওয়ার্ল্ডকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়, অবজেক্ট মুভ করতে চায়!হয়তোবা একদিন সেটি আমাদের পক্ষে সম্ভবপর হয়ে উঠবে সেদিন আর বেশি দূরে নয়।

আমাদের অন্যান্য আর্টিকেলগুলি পড়তে ক্লিক করুন;

 

 

ফিউচার অব দ্যা মাইন্ড; তথ্যসুত্রঃ

 

 

 

আরও পড়ুন

Leave A Comment...

হাইপারস্পেস
চিন্তা নয়, চিন্তার পদ্ধতি জানো...!