The telegram

ফটোগ্রাফিক মেমরি

লিখেছেন অ্যান্ড্রোস লিহন
166 বার পঠিত হয়েছে

ফটোগ্রাফিক মেমরি আপনি কী একই সময় একইসাথে দুটো গ্রন্থ পড়ে মনে রাখতে পারবেন ? কোনো ব্যক্তির পক্ষে কী অতীত ভবিষ্যত দুটোকে একসাথে দেখা সম্ভব  ?

                           

 

আপনি কী একইসাথে  দুটি পেজে সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি টপিক একইসময় লিখতে পারবেন  ? অথবা ফিজিক্স ও ম্যাথমেটিক্সের দুটি আলাদা গ্রন্থ চোখের সামনে রেখে একইসময় ও একইসাথে স্মরণে রাখতে পারবেন  ? MRI স্ক্যানের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন মানুষের মস্তিষ্কের লেফট হেমিস্ফিয়ার এবং রাইট হেমিস্ফিয়ার যে কার্পাস কলোসামের মাধ্যমে একে অপরের সাথে সংযুক্ত থাকে সে’ ই কার্পাস কলোসামগুলোর কানেক্টিভিটি যদি কোনো কারণে দূর্বল হয়ে যায় তবে এমন অসাধারণ বিষ্ময়কর মানসিক ক্ষমতা তৈরি হতে পারে। মানুষের মস্তিষ্কের দুটি হেমিস্ফিয়ারে আলাদা আলাদা কনশাসনেস বিদ্যমান। তাদের মাঝে সবসময় প্রতিযোগিতা হচ্ছে। তার উপর যদি এদের উভয়ের কানেকশন দূর্বল হয়ে যায় তবে এগুলো একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্নভাবে বাস্তবতার মডেল তৈরি করতে থাকবে। একইসময় দুটো হেমিস্ফিয়ার আলাদা আলাদা ইনফরমেশন নিয়ে কাজ করবে আর এজন্যই যাদের ব্রেনের কার্পাস কলোমাসের কানেকশনের অভাব আছে তাদের মধ্যে একইসাথে এবং একই সময় দুটি আলাদা গ্রন্থ পড়ে মনে রাখার ক্ষমতা জন্ম হয়। আপনার ডান চোখ যদি ফিজিক্স পড়ে একইসময় আপনার বাম চোখ ম্যাথমেটিক্স পড়তে পারবে। তথা দুটো হেমিস্ফিয়ারের যোগাযোগ দূর্বল হয়ে যাওয়ার কারণে একই খুলির ভেতর একই সময় ফিজিক্স ও ম্যাথমেটিক্স দুটোই কাজ করবে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে MRI স্ক্যান তাদের ফটোগ্রাফিক মেমরির রহস্য উন্মোচন করতে পারেনি ! বিজ্ঞানীরা মনে করেন, বিশেষ করে লেফট ব্রেনে আঘাতের কারণে এ ধরণের ফটোগ্রাফিক মেমোরি জন্ম নিতে পারে।

 

অধিকাংশ বিজ্ঞানী মানুষের মস্তিষ্কের লেফট এন্টারিয়র টেম্পোরাল এবং অর্বিটোফ্রন্টাল কর্টেক্সের প্রতি আকর্ষণ প্রকাশ করেন, তাদের মতে অটিস্টিক এবং এসপার্গার রোগীরা মস্তিষ্কের লেফট টেম্পোরাল লোবের এই সুনির্দিষ্ট অংশগুলো ডেমেজ হওয়ার কারণে এক্সট্রা অর্ডিনারী ক্ষমতা লাভ করেন। ব্রেনের এই এরিয়াটি Censor এর মতো কাজ করে, নির্দিষ্ট সময় পরপর মস্তিষ্কের অপ্রাসঙ্গিক মেমোরি ফ্ল্যাশ করে। কিন্তু যখন লেফট ব্রেন ডেমেজ হয়ে যায় তখন সম্পূর্ণ দায়িত্ব রাইট ব্রেনের কাছে চলে যায়। রাইট ব্রেন লেফট ব্রেনের চেয়ে অনেক বেশি নির্দিষ্ট যা অনেক সময় রিয়েলিটিকে বিকৃত এবং গল্পগুজব পরিণত করে। প্রকৃতপক্ষে এটা মনে করা হয় যে লেফট ব্রেন ডেমেজ হয়ে যাওয়ার পর রাইট ব্রেন আলাদা হার্ড জব করতে বাধ্য হয় যে জন্য একজন ব্যক্তির মধ্যে বিষ্ময়কর এক্সট্রা ডায়মেনশনাল মেন্টাল ক্ষমতা প্রকাশিত হতে দেখা যায়।

 

উদাহরণস্বরূপ, আমাদের রাইট ব্রেন অনেক বেশি আর্টিস্টিক লেফট ব্রেন থেকে,  কিন্তু সাধারণত লেফট ব্রেন এই আর্টিস্টিক ক্ষমতাকে সবসময় অবদমন করে রাখে। কোনো কারণে যদি লেফট ব্রেন ডেমেজ হয়ে যায় তবে সে আর রাইট ব্রেনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনা আর এতে করে সেই সুপ্ত আর্টিস্টিক ক্ষমতার প্রকাশ ঘটতে থাকে, এতে করে একজন ব্যক্তির মধ্যে আকষ্মিক আর্টিস্টিক ক্ষমতার মহাবিস্ফোরণ ঘটতে পারে ! যেটাকে অনেকের কাছে অতিমানবিক মনে হয়.. ! অতএব বলা যায় এক্সট্রা টেরিস্টিয়াল ক্ষমতা তখনই দেখা দেয় যখন লেফট ব্রেন ডাম্পেন হয়ে যায়,  যার কারণে এটি রাইট ব্রেনকে কন্ট্রোল করতে পারেনা এবং এতে করে রাইট ব্রেনের নিজের প্রাকৃতিক ক্ষমতা প্রকাশ হতে থাকে ! এটাকে অনেক সময় বলা হয়, “left brain injury, right brain compensation.”

 

ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া সানফ্রান্সিসকোর ড.ব্রুস মিলার ১৯৯৮ সালে একটি স্টাডি চালিয়েছিলেন যা এই ধারণাটিকে আরও সমৃদ্ধ করে। তিনি ৫ জন সাধারণ ব্যক্তির উপর গবেষণা করেছেন যারা ফ্রন্টোটেম্পোরাল ডেমেন্টিয়ায় আক্রান্ত [FTD]। কিছুদিন পরই তাদের মধ্যে এক্সট্রা ডায়মেনশনাল সেভেন্ট ক্যাপাসিটি প্রকাশ হতে থাকে। তাদের আর্টিস্টিক ক্ষমতা চোখের পলকে বেড়ে যায়। ড.মিলার স্টাডি করে দেখেন এন্টারিয়র টেম্পোরাল এবং অর্বিটোফ্রন্টাল কর্টেক্স রাইট হেমিস্ফিয়ারের ভিজুয়াল সিষ্টেমকে ডেমেজ করে দেয় আর এ জন্যেই আর্টিস্টিক ক্ষমতা বেড়ে যায়।

 

সেভেন্টদের উপর MRI (MRI প্রযুক্তি ) করে দেখা গেছে, তাদের মধ্যে কিছু সংখ্যক হাইপারথিমেস্টিক সিন্ড্রোমে (hyperthymestic syndrome) আক্রান্ত যাদের মধ্যে রয়েছে ফটোগ্রাফিক মেমরি। এ ধরণের লোকের মাঝে অটিজম বা কোনো প্রকার মেন্টাল ডিজ-অর্ডার নিই,  কিন্তু তাদের রয়েছে ফটোগ্রাফিক মেমরি। পৃথিবীর আট বিলিয়ন মানুষের মাঝে ফটোগ্রাফিক মেমোরি সম্পূর্ণ চারজন লোকের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে এ পর্যন্ত। তাদের একজনের নাম জিল প্রিস। লস এঞ্জেলসের স্কুল এডমিনেস্ট্রেটর। সে এক যুগ পূর্বের ঘটনার স্মৃতিও দিন তারিখ এবং মিনিট সহকারে পরিপূর্ণভাবে মনে রাখতে পারে। সে নিজেই তার ব্রেনকে Split Screen এর সাথে তুলনা করেছে যেখানে অতীত ও বর্তমান একসাথে তার মনোযোগ আকর্ষণ করার জন্য প্রতিযোগিতা করছে। ২০০০ সালে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া আর্ভাইনের বিজ্ঞানীরা তার মস্তিষ্কে স্ক্যান করে, তার মস্তিষ্কের কিছু এলাকা অন্যদের চেয়ে অস্বাভাবিক ছিলো যেমন কেওডিক নিওক্লি (caudate nuclei যেটি স্বভাব তৈরি করে) এবং টেম্পোরাল লোব (ফ্যাক্ট ও ফিগার স্টোর করে)। এটি বিশ্বাস করা হয় যে তার মস্তিষ্কের এ দুটো এরিয়া ফটোগ্রাফিক মেমরির জন্য দায়ী। তার মস্তিষ্ক সে সকল ব্যক্তিদের চেয়ে আলাদা যাদের লেফট টেম্পোরাল লোবে আঘাতের কারণে বিভিন্ন মানসিক রোগে ভুগে। মিচিও কাকু বলেন, এর কারণ অজানা, কিন্তু এ পদ্ধতিতে যে কেউ অসাধারণ মানসিক ক্ষমতা অর্জন করে। ( ফটোগ্রাফিক মেমরি)

 

ফটোগ্রাফিক মেমরি

                                                    Nikola Tesla in his Colorado lab, 1899.
By Dickenson V. Alley, photographer, Century Magazine [Public domain], via Wikimedia Commons

 

 



TMS প্রযুক্তির মাধ্যমে আপনি কী মিচিও কাকুর মতো ইন্টেলেকচুয়াল হতে পারবেন ? ?

 

আপনি কী মিচিও কাকু বা আইনস্টাইনের মতো শ্রেষ্ঠতম বিজ্ঞানী হতে পারবেন ? আপনার পক্ষে কী সম্ভব একইসাথে এবং একইসময় দুটো পেপার একসাথে পড়া ? আপনি কী ইচ্ছে করলেই অতীত এবং বর্তমানকে একসাথে স্মরণ করতে পারবেন ?

ম্যাথ, ফিজিক্স, আর্ট এবং মিউজিকে এক্সিডেন্সিয়ালি মাস্টার হওয়া কী সম্ভব আপনার পক্ষে ? আমরা জানি যে মানুষের মস্তিষ্কের লেফট হেমিস্ফিয়ারের কিছু অংশ ডি-একটিভেট হয়ে গেলে, রাইট হেমিস্ফিয়ার মস্তিষ্ককে ডোমিনেট করে আর ঠিক তখনই যে কেউ একজনের মস্তিষ্কে এক্সট্রা টেরিস্টিয়াল ক্ষমতা দেখা দিতে পারে। কিন্তু কীভাবে সম্ভব মস্তিষ্কের অন্য কোনো অংশের ক্ষতি না করে স্পেসিফিক্যালি লেফট ব্রেনকে সাইলেন্ট করে দেয়া ? হ্যা সম্ভব ! আমি প্রথমেই আলোচনা করেছিলাম TMS  ( বিস্তারিত পড়ুন ”মস্তিষ্কের প্রযুক্তি ও ভবিষ্যৎ )    প্রযুক্তির কথা যেটার পূর্ণরূপ Transcranial Magnetic Stimulation। ট্রান্সক্রেনাল ম্যাগনেটিক সিমুলেশনের মাধ্যমে মস্তিষ্কের লেফট এন্টারিয়র ট্রম্পোরাল এবং অর্বিটোফ্রন্টাল কর্টেক্স সাইলেন্স করে দিলেই আপনার মাঝে অতিমানবিক ক্ষমতা দেখা দিতে পারে। ইউনিভার্সিটি অব সিডনি, অস্ট্রেলিয়ার বিজ্ঞানী ড.এলান স্নিডার TMS প্রযুক্তির মাধ্যমে তার কয়েকজন সাবজেক্টের লেফট ব্রেনের কিছু অংশকে সাইলেন্ট করে দিয়েছিলেন,  যার ফলশ্রুতিতে তাদের মধ্যে সেভেন্ট লাইক ক্ষমতা দেখা দেয়। ড.স্নিডার ও তার সহকারীরা এগারজন ব্যক্তির মস্তিষ্কে TMS করেন এবং দুইজনের মধ্যে সেভেন্ট লাইক ক্ষমতা তৈরি করতে সক্ষম হয়। আর অন্যদিকে ড.আর এল ইয়াং সতেরজন ব্যক্তির উপর TMS করেন এবং আশানুরূপভাবে ৫ জনের মধ্যে এক্সট্রা টেরিস্টিয়াল মেন্টাল এবিলিটির দেখা পান। ড.স্নিডার বলেন, কেউ জানেনা কেনো ম্যাগনেট কাজ করে, যখনই মস্তিষ্কের ফ্রন্টো-টেম্পোরাল এরিয়া সাইলেন্ট করা হয় তখনই সেভেন্ট ক্ষমতা দেখা দেয়।

 

মস্তিষ্ককে সাইলেন্ট করার জন্য TMS খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রযুক্তি। এটি মস্তিষ্কের যে কোনো স্থানকে অন্যকোনো স্থানের ক্ষতি করা ব্যতীত ই সাইলেন্ট করে দিতে পারে কিন্তু মিচিও কাকু বলেন, আমাদের এটাও মনে রাখতে হবে TMS প্রযুক্তির কিছু সীমাবদ্ধতা আছে, এটি একসাথে মিলিয়ন মিলিয়ন নিউরনকে সাইলেন্ট করে দেয়। তিনি বলেন, ইলেক্ট্রিক ফিল্ড ম্যাগনেটিক ফিল্ডের মতো এত যথাযথ নয়, এটি নির্দিষ্ট স্থানের বাহিরে কয়েক সেন্টিমিটার ছড়িয়ে যেতে পারে। আমরা জানি যে লেফট এন্টারিয়র টেম্পোরাল এবং অর্বিটোফ্রন্টাল কর্টেক্স সেভেন্টদের মধ্যে ডেমেজ হয়ে যায়। অন্তত কিছু অংশ যেটা সেভেন্ট ক্ষমতার জন্য জরুরি। TMS এমনকিছু অতিক্ষুদ্র অংশ বন্ধ করে দিয়ে এক্সট্রা টেরিস্টিয়াল মেন্টাল ক্ষমতা জন্ম দিতে পেরেছে। তার মানে সুদূর ভবিষ্যতে আমরা টেকনোলজিকালি ইন্টিলিজেন্ট হতে পারবো ! হতে পারে ভবিষ্যত পৃথিবীতে TMS প্রযুক্তির মাধ্যমে আইনস্টাইনকেও  তৈরি করা যাবে ? (গড ভাইরাস )

 

আমাদের মস্তিষ্ক কোন পদ্ধতিতে অতীতকে ভুলে যায় ? টেকনোলজিক্যালি আমাদের মস্তিষ্কের ভেতর থেকে ভুলে যাওয়ার প্রবণতাকে ভুলিয়ে দেয়া সম্ভব ?

 

যদিও বিজ্ঞানীরা ফটোগ্রাফিক মেমরির উপর গবেষণা করে এর রহস্য উন্মোচন করতে পারেননি , কিন্তু তারা বুঝার চেষ্টা করেছেন কীভাবে কিছু এক্সট্রা অর্ডিনারী ব্রেন অতীতের সকল মেমোরিকে নির্ভুলভাবে স্মরণ করতে পারে, এটা কীভাবে সম্ভব যে ত্রিশ বছর পূর্বের প্রত্যেকটি ঘটনার পরিপূর্ণ বিবরণ উপস্থাপন ? আমাদের মস্তিষ্ক অতীতকে ভুলে যায়, শুধুমাত্র সে সকল অতীত মানুষের মস্তিষ্কের হিপ্পোক্যাম্পাসে জমা থাকে , যেটা তাকে ইমোশনালি চার্জ করে কিন্তু বিজ্ঞানীরা এমনকিছু মানুষকে আবিষ্কার করেছেন যাদের কাছে অতীত বর্তমানের মতোই পরিচ্ছন্ন। আমরা পূর্বে এমন একজন ব্যক্তির কথা আলোচনা করেছিলাম যিনি মনে করতেন, তার মাথার খুলির ভেতর অতীত এবং বর্তমান একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করে তার মনোযোগ আকর্ষণের জন্য। বিজ্ঞানীরা প্রথমে মনে করেছিলেন এর কারণ ফটোগ্রাফিক মেমোরি। কিন্তু এ ফটোগ্রাফিক মেমোরি মস্তিষ্কের নিউরাল ম্যাকানিজম কীভাবে রহস্যজনকভাবে তৈরি করে সেটা তাদের জানা ছিলোনা। বিজ্ঞানীরা মনে করেছিলো এ ফটোগ্রাফিক মেমোরি হয়তো মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট কোনো অংশ থেকে তৈরি হয় । যা হোক , ২০১২ সালে বিজ্ঞানীরা স্টাডি করে সম্পূর্ণ ভিন্ন কিছু খুঁজে পেলেন !

 

বিজ্ঞানীরা আগে মনে করতেন ফটোগ্রাফিক মেমোরি মস্তিষ্কের অবিশ্বাস্য শেখার ক্ষমতা কিন্তু ২০১২ সালে তারা বুঝতে পারে এটা আসলে তাদের ভুলে যাওয়ার অক্ষমতা। যদি ভুলে যাওয়ার অক্ষমতাই তাদের সুপারন্যাচারাল স্মরণ শক্তির কারণ হয় তবে ফটোগ্রাফিক মেমোরি হয়তোবা খুব একটা রহস্যজনক ব্যাপার নয়। আমাদের মস্তিষ্কের স্মরণ এবং ভুলে যাওয়ার প্রক্রিয়াটি জানতে পারলেই আমরা ফটোগ্রাফিক মেমরির রহস্য উন্মোচন করতে পারবো।( ফটোগ্রাফিক মেমরি)  প্রশ্ন হলো, আমরা কীভাবে মস্তিষ্কে কোনো স্মৃতি মনে রাখি আর কীভাবে আমাদের মস্তিষ্ক অজস্র স্মৃতি ভুলে যায় ? এমনকি হতে পারতোনা যে আমাদের ব্রেন অতীতকে ভুলে যাওয়ার কথাটাই ভুলে গেছে ?

 

ফ্লোরিডার Scrips Research Institute ফ্রুট ফ্লাইসের উপর একটি গবেষণা পরিচালনা করেন তাদের মস্তিষ্কের ভুলে যাওয়ার ম্যাকানিজমকে বোঝার জন্য। তারা ফ্রুট ফ্লাইসের ব্রেনের স্মরণ ও ভুলে যাওয়ার প্রসেস পর্যবেক্ষণ করেন। কিন্ত কীভাবে ? বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, ফ্রুট ফ্লাইসরা যখন কোনো একটি সুন্দর ঘ্রাণ পায় তখন তারা পজেটিভ রিয়েকশন দেয় কিন্ত যখন তাদের ইলেক্ট্রিক শক দেয়া হয় তখন তারা নেগেটিভলি রিয়েক্ট করে। বিজ্ঞানীরা জানেন আমাদের মস্তিষ্কের নিউরোট্রান্সমিটার ডোপামিন আমাদের মেমোরি ফর্মেশনের জন্য দায়ী। তারা বিষ্ময়ের সাথে লক্ষ্য করেন ফ্রুট ফ্লাইসদের ডোপামিন তাদের মেমোরি এবং ভুলে যাওয়া দুটোকেই রেগুলেট করে। তারা যখন কোনো কিছু শিখে বা যখন কোনো নতুন মেমোরি তৈরি হয় তখন dCA1 একটিভেট হয় আবার তাদের ভুলে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে DAMB receptor।

 

একটা সময় মনে করা হতো ভুলে যাওয়াটা হলো সময়ের সাথে আমাদের মেমরির ডিগ্রেসন যেটি পরোক্ষভাবে মেমোরি নিজেই করে। কিন্তু এখন বিজ্ঞানীরা বুঝতে পেরেছে Forgetting আমাদের মস্তিষ্কের একটিভ প্রসেস যেটার জন্য ডোপামিনের ইন্টারভেনশন প্রয়োজন। তারা দেখিয়েছে dCA1 and DAMB রিসেপ্টরের ইন্টারফেয়ারেন্সের কারণেই ফ্রুট ফ্লাইদের মস্তিষ্কে মেমোরি এবং ফরগেটিং তৈরি হয়। উদাহরণস্বরুপ, dCA1 রিসেপ্টরের মিউটেশনের কারণে ফ্রুট ফ্লাইসদের স্মরণ করার ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায় এবং অন্যদিকে DAMB রিসেপ্টরের মিউটেশনের কারণে ফ্রুট ফ্লাইদের ভুলে যাওয়ার ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। তার মানে যদি আমাদের মধ্যে DAMB রিসেপ্টরের মতো কোনো রিসেপ্টর থাকে তবে তার মিউটেশনের অভাবে মানুষ মেমোরিকে ভুলে যাওয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে যার জন্য যুগ যুগ আগের স্মৃতিও তার মস্তিষ্কে জাগ্রত থেকে যাবে, যাদেরকে আমরা সুপারম্যান বলি বা সেভেন্ট। বিজ্ঞানীরা বর্তমানে এমনকিছু ড্রাগ আবিষ্কার করছেন যা DAMB রিসেপ্টরের মিউটেশনকে থামিয়ে দিতে পারে যা সিলেক্টিভলি ফটোগ্রাফিক মেমোরি তৈরি করবে, যদি তারা এটা সফলতার সাথে করতে সক্ষম হয় তবে এক্সট্রা টেরিস্টিয়াল মেমোরি অর্জন করা সম্ভব যেখানে কোনো তথ্যই মুছে না বা ড্রাগের মাধ্যমেই মহাজ্ঞানী তৈরি করা সম্ভব !

 

ফটোগ্রাফিক মেমোরি নিয়ে ইতোমধ্যে BRAIN প্রজেক্ট কাজ করছে যেটি ওবামা এডমিনেস্ট্রেশনে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, যারা মস্তিষ্কের মহাপান্ডিত্য বা সেভেন্ট ক্ষমতার সাথে জড়িত নিউরাল পথগুলো আবিষ্কার করার চেষ্টা করছেন। ব্রেন প্রজেক্ট একদিন আমাদের মস্তিষ্কের ফটোগ্রাফিক মেমরির নিউরাল পথগুলোকে যথাযথভাবে আবিষ্কার করবে। ট্রানস্ক্রেনাল ম্যাগনেটিক ফিল্ড মানুষের মস্তিষ্কের ভুলে যাওয়ার প্রক্রিয়ার সাথে রিলেটেড নিউরন সেলগুলোকে ডেমেজ করে দিয়ে তার ভুলে যাওয়ার ক্ষমতাকে নষ্ট করে দেয়ার সক্ষমতা এখনো অর্জন করেনি কারণ এর কিছু সীমাবদ্ধতা আছে, এটি মস্তিষ্কের গভীরে যেতে পারেনা। আর একটি উপায় হলো ন্যানোপ্রোব বা ন্যানো রোবট। ন্যানোপ্রোবের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা হয়তো আমাদের মস্তিষ্কের ভুলে যাওয়ার প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত নিউরাল পথগুলোকে আলাদা করে ফেলবে এবং অবিশ্বাস্য কম্পিউটেশনাল ক্ষমতার জন্ম দেবে যার কারণে আপনি অনেক বিরাট মাপের সুরকার বা চিত্রশিল্পীতেও পরিণত হতে পারবেন ! ফটোগ্রাফিক মেমরি , ছাড়াও-

ব্রেনগেট

হোমো ডিউস কনশাসনেস

আউটগ্রোয়িং গড

বর্তমানে এ ক্ষেত্রটিতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হচ্ছে। বিশেষ করে মানুষের মানসিক রোগ এবং সেভেন্ট ক্ষমতা  বোঝার জন্য। মিচিও কাকু মনে করেন, আমরা সবাই ভবিষ্যতের মহাপন্ডিত, আমাদের নিউরাল সার্কিট অল্টার করে হয়তোবা আমরা সবাই ভবিষ্যতে সেভেন্ট হতে পারবো।

 

 

তথ্যসুত্রঃ

1 “got caught up in the moment”:


2 “I have always maintained that”: Gould, p. 109.

 

3 “The human brain remains ‘plastic’ ”: www.sciencedaily.com/

releases/2011/12/111208257120.htm.

 

4 “The emerging picture from such studies”: Gladwell, p. 40.

 

5 Five years later, Terman started: See C. K. Holahan and R.R. Sears,

The Gifted Group in Later Maturity (Stanford, CA: Stanford University

Press, 1995).

 

6 “Your grades in school”: Boleyn-Fitzgerald, p. 48.

7 “Tests don’t measure motivation”: Sweeney, p. 26.

 

8 The pilots who scored highest: Bloom, p. 12.

 

 

9 “The left hemisphere is responsible”: Ibid., p. 15.

 

10 Dr. Darold Treffert, a Wisconsin physician: http://www.darold

treffert.com.

 

11 It took him just forty-five seconds: Tammet, p. 4.

 

12 I had the pleasure of interviewing: Interview with Mr. Daniel

Tammet in October 2007 for Science Fantastic national radio broadcast.

 

13 “Our study confirms”: Science Daily, March 2012, http://www.

sciencedaily.com/releases/2012/03/120322100313.htm.

 

14 Kim Peek’s brain: AP wire story, November 8, 2004, http://www.

Space.com.

 

15 In 1998, Dr. Bruce Miller: Neurology 51 (October 1998): pp. 978–

82. See also http://www.wisconsinmedicalsociety.org/savant_

 

16 In addition to the savants: Sweeney, p. 252.

 

 

17 This idea has actually been tried: Center of the Mind, Sydney,

Australia, http://www.centerofthemind.com.

 

18 In another experiment, Dr. R. L. Young: R. L. Young, M. C.

Ridding, and T. L. Morrell, “Switching Skills on by Turning Off Part of

 

19 “When applied to the prefrontal lobes”: Sweeney, p. 311.

 

20 Until recently, it was thought: Science Daily, May 2012, http://


21 “Savants have a high capacity”: Ibid. ফটোগ্রাফিক মেমরি

 

22 In 2007, a breakthrough occurred: Sweeney, p. 294.

 

23 “Stem cell research and regenerative medicine”: Sweeney, p. 295.

 

24 Scientists have focused on a few genes: Katherine S. Pollard,

“What Makes Us Different, ” Scientific American Special Collectors Edition

(Winter 2013): 31–35.

 

 

25 “I jumped at the opportunity”: Ibid. ফটোগ্রাফিক মেমরি

 

26 “With my mentor David Haussler”: Ibid

27 One such gene was discovered: TG Daily, November 15, 2012.

http://www.tgdaily.com/general-sciences…/ HYPERLINK “http://www.tgdaily.com/general-sciences…/67503-new-found”67503 HYPERLINK “http://www.tgdaily.com/general-sciences…/67503-new-found”-new-found

gene-separates-man-from-apes. ফটোগ্রাফিক মেমরি

 

28 Many theories have been proposed: See, for example, Gazzaniga,

Human: The Science Behind What Makes Us Unique.

 

29 “For the first few hundred million years”: Gilbert, p. 15.

 

30 “Cortical gray matter neurons are working”: Douglas Fox, “The

Limits of Intelligence, ” Scientific American, July 2011, p. 43.  ফটোগ্রাফিক মেমরি

 

31 “You might call it the mother”: Ibid., p. 4 ফটোগ্রাফিক মেমরি

 

 

আরও পড়ুন

Leave A Comment...

হাইপারস্পেস
চিন্তা নয়, চিন্তার পদ্ধতি জানো...!