প্রযুক্তি কি আমাদের নির্বোধ এইপে পরিণত করবে?

Last updated:

প্রযুক্তির সাথে ভাবুন

Thinking with Technology

মানব সভ্যতার বিবর্তনের সাথে সাথে প্রযুক্তিও হাতে হাত রেখে উন্নত হতে থাকে। আমেরিকার মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রির আয়ান ট্যাটারসাল বলেন, জ্ঞানীয় ক্ষমতা ও প্রযুক্তি একে অন্যকে জাগ্রত করতে পারে। জেনেটিক ইভোলিউশন এবং টেকনোলজিক্যাল পরিবর্তন বিবর্তনীয় ইতিহাসে ক্রমবর্ধমান ভাবে একটি অন্যটিকে পশ্চাতে ফেলে এগিয়ে যাচ্ছে। যখন আদিম পূর্বসূরিদের থেকে আমাদের মস্তিষ্ক আকারে বড় হয়ে উঠেছিল, আর এতে করে যন্ত্র আরও জটিল থেকে জটিলতর হয়ে উঠে এবং সাধারণ। একটা সময় আমাদের আদিম পুরুষরা শক্ত ও ধারালো পাথর ব্যবহার করতে শুরু করে । পরবর্তী প্রজন্ম আগুন, পাথরের কুড়াল, ছুরি এবং তা অনুসরণ করে হার্পুন এবং বর্শা তৈরি করে , তারপর জাল, ফাঁদ, ধনুক ও তীর এবং অবশেষে কৃষিকাজ। এ সকল প্রযুক্তিগত পরিবর্তন অন্যান্য প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সাথে সম্পৃক্ত ছিল যা নেতৃত্ব প্রদান করেছিল আধুনিক মানব সভ্যতার; সংস্কৃতি, আচরণ এবং জেনেটিক্স। প্রতিটি পদক্ষেপে, যন্ত্র , সংস্কৃতি, জ্ঞান এবং জিন পরস্পর পরিবর্তিত হয়  যা নতুন ভারসাম্য তৈরি করে  আর  আমাদের পূর্বসূরিদের প্রদান করে আরো অধিক ক্ষমতা, পরিবেশকে তাদের নিজস্ব পছন্দ অনুযায়ী পরিবর্তন করার জন্য। নতুন প্রযুক্তি সেচ, খাল আধুনিক সভ্যতার অস্তিত্বকে সম্ভব করে তোলে। সভ্যতা বৈচিত্র্যময় যন্ত্রের দিকে ধাবিত হয় এবং অবশেষে সাম্প্রতিক সময়ের উদয় হয় যা ইনফরমেশন টেকনোলজির বিস্ফোরণ ঘটায় আর যার মাধ্যমে বিশ শতকের মধ্যভাগ তৈরি হয়। ভালোর জন্য হোক অথবা মন্দ___  প্রযুক্তি ও সমাজ সবসময় একে অন্যের দ্বারা রুপান্তরিত হয়েছিল। 

মানুষ প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের জন্যই প্রস্তুত। আমাদের দেহ ও মন ডিজাইন করা হয়েছে নতুন নতুন কর্মতৎপরতার ভেতর দিয়ে নতুন নতুন যন্ত্র উন্মোচন করার জন্য যেনো প্রযুক্তি আমাদের শরীরেরই একটি সম্প্রসারণ( Extended Phenotype) । আমরা খুব দ্রুত স্ক্রিনের মধ্যে মাউস দিয়ে কার্সর ঘোরাতে পারি। আপনি যখন কলম অথবা পেন্সিল দিয়ে লেখেন, আপনার মধ্যে কাগজের সেন্স অব সারফেস কাজ করে, আপনি এটা অনুভব করেন না যে আপনার আঙুল আসলে কী অনুভব করছে__ লেখার যন্ত্রের প্রেসার। এটি হলো তা যার মাধ্যমে একজন মাইক্রো সার্জন রোবট ব্যবহার করে যা মাইক্রোসার্জারির অনুমোদন দেয়। ঠিক একইভাবে আমরা খুব দ্রুত ঝাড়ুর সাথে অভিযোজিত হয়ে যাই যখন আমরা ফ্লোর ক্লিন করি। আমরা এমনভাবে ঝাড়ু দিয়ে ফ্লোর ক্লিন করি যেন এটি আমাদের শরীরেরই একটি সম্প্রসারণ। সুসি রাধুনিদের বহু বছর প্রশিক্ষণ দেয়া হয় যেনো তারা হাত দিয়ে চাকুটাকে এমনভাবে ব্যবহার করতে পারে যেনো তারা তাদের হাতকেই ব্যবহার করছে। এ উদাহরণগুলো প্রদান করার কারণ হলো আমাদের ব্রেন যখন কোনো যন্ত্র ব্যবহার করে তখন সে মনে করে যে, সে তার দেহের কোনো একটি অর্গানকেই ব্যবহার করছে। আর এ জন্য প্রযুক্তির মধ্যে অপ্রাকৃতিক কিছু নেই। বরং প্রযুক্তির ব্যবহারই মানুষকে সত্যিকার মানুষে পরিণত করেছে। 

বিগত কয়েক বছরে যে বিষয়টি পরিবর্তিত হয়েছে এবং সম্ভবত ব্যাখ্যা করছে কেনো মানুষ প্রযুক্তিকে শুধুমাত্র যন্ত্র মনে করছেনা যা ব্যবহারকারীর নিজের নিয়ন্ত্রণে। আমাদের প্রযুক্তি আমাদের থেকে অনেক দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে, প্রযুক্তি এতটাই অগ্রগতি লাভ করেছে যে, এটাকে এখন একটি লিভিং অর্গানিজম মনে হয়। আমাদের মধ্যে বিশ্বাসের একটি আর্টিকেল জন্ম হয়েছিল, কম্পিউটার একই পরিস্থিতিতে সবসময় একইরকমের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে কারণ যাইহোক না কেনো এটি শুধুমাত্র একটি মেশিন। 

কিন্ত এ কথাটি এখন আর সত্য নয়। বর্তমানে একটি জীবিত সত্তার মতোই, আমরা এখনো জানিনা যে,  একটি কম্পিউটার আমাদের সাথে ঠিক কোন ধরণের আচরণ করবে। আপনি হয়তো ভাবছেন, আপনি আপনার ফোনটি এ মুহূর্তে বন্ধ করেছেন কিন্তু ফোনের স্ক্রিনই শুধুমাত্র অন্ধকার হয়েছে, তারপর আপনি যখন এটিকে পকেটে রাখবেন, সামান্য একটু আঁচড়ে এটি আপনার এক্স-গার্লফ্রেন্ডকে কল দিয়ে সর্বনাশ ডেকে আনবে।  একটি কারণ হলো এই যে এক্সটারনাল ইভেন্ট মেশিনের উপর খুবই অপ্রত্যাশিত ভাবে এফেক্ট করবে। জীবিত শরীরের মত, ইন্টারনেট ধারাবাহিকভাবে এমন একটি পদ্ধতিতে পরিবর্তন হয়ে যায় আপনার এ ব্যাপারে কোনো দূরদর্শিতা অথবা নিয়ন্ত্রণ নেই। আজকের দিনে মেশিন নিজেই তার অপারেটিং সিস্টেম এবং এপ্লিকেশনগুলো ডেভেলপ করতে পারে। আর তাই যখন আপনি আপনার মেশিনকে টার্ন অন করবেন, আপনি এটা নিশ্চিত হতে পারবেন না যে এটি সেই একই মেশিন যে মেশিনটি আপনি গতকাল ব্যবহার করেছেন। যে ওয়ার্ডপ্রসেসর অথবা ইমেইল প্রোগ্রাম যার সাথে আপনি বার ঘন্টা অতিবাহিত করেছেন ষোল বছর বয়সী একজন শিশু যখন তার কোনো বন্ধুর বাসায় গিয়ে হুট করে অনির্ণেয় হয়ে উঠে ঠিক তেমনি আপনার কম্পিউটারও আপনার সাথে অচেনা আচরণ করবে যেনো শিশুটির মতো সে স্বঘোষিত হেয়ার স্টাইলিশ! 

আমাদের মেশিনকে প্রেডিক্ট করাও অত্যন্ত কঠিন কারণ তাদের অপারেশন ইন্টারনেটে ট্রাফিকের এমাউন্টের উপর ডিপেন্ড করে, আমাদের সাধারণত ধারণা নেই যে এখানে সত্যিকার অর্থে কী পরিমাণ ট্রাফিক রয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে, নেটওয়ার্ক ট্রাফিক খুব সিম্পলি আমাদের ইন্টারনেট কানেকশন শাটডাউন করে দিতে পারে। একজন শিশু তারুণ্যে পা রাখার পর যেমন অনিশ্চিত আচরণ করে ঠিক তেমনি আমাদের মেশিনও দিন দিন অবিশ্বস্ত হয়ে উঠছে। আমরা পুরোপুরিভাবে নিশ্চিত করে বলতে পারিনা, তারা আসলে কী করতে যাচ্ছে! 

একটি পদ্ধতিতে কম্পিউটার মানুষের মত হয়ে উঠতে পারে আর তা হলো আমাদের প্রতারিত করে এবং এক্ষেত্রে সে সফল। যেমন একটি ওয়েব লিংক দেখলেন যেটি আপনাকে কোন একটি মজার ভিডিওর কথা বলছে কিন্তু যখন আপনি একবার ক্লিক করবেন তখন দেখা যাবে সে আপনাকে এমন একটি কোম্পানির তথ্য দিচ্ছে যে আপনার হার্ড ড্রাইভ পরিস্কার করে দেবে। মাঝেমাঝে আমরা ওয়েবসাইট ভিজিট করার সময় মেলওয়্যার ডাউনলোড করে ফেলি। এ সকল কাজ অবশ্যই খারাপ লোকদের করা কিন্ত আমাদের প্রযুক্তির জটিলতার কারণেই তারা এ কাজটি করতে পারছে। 

কিন্তু  এর একটি পজেটিভ দিকও আছে। প্রযুক্তি অধিক থেকে অধিকতরভাবে জীবিত সত্তার মতো পরিণত হলে এটি নিজেই নিজের সমস্যা সমাধান করতে পারবে। যেমন যখন আপনার শরীরের কোন একটি অংশ কেটে যায় তখন আপনি ব্যান্ড এইড ব্যবহার করেন এবং ওয়েট করতে থাকেন কখন ক্ষতটি সেরে উঠবে। আজ সফটওয়্যার বাগ তাদের নিজস্ব ভালোর জন্য  অদৃশ্য হয়ে যায়। এ ধরণের অটোমেটিক আপডেট খুবই হেল্পফুল। কিন্তু নেক্সট জেনারেশনের হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার এতটাই ভিন্নতর হবে যে আপনি এখন যে সব সমস্যা দেখেন সেগুলোর কোনো অস্তিত্বই থাকবেনা। এটাই হলো অজ্ঞতার সৌন্দর্য। আমরা এটা জানিনা যে কী ঘটছে কিন্ত আমরা যদি ভাগ্যবান হই তবে ভালো কিছুও ঘটতে পারে। আমরা কমিউনিটির উপর নির্ভর করি আমাদের সহযোগিতা ছাড়া এ ধরণের উন্নতি তৈরি করার জন্য, এমনকি এখানে আমাদের সচেতনতার কোনো প্রয়োজন নেই। 

এ উন্নতির একটি প্রভাব হলো, আমরা প্রযুক্তিকে ক্রমশ অধিক থেকে অধিকতর মানুষের মত ভাবতে শুরু করেছি। ইন্টারনেট হলো উল্লেখযোগ্য একটি উদাহরণ। আমরা যেমন অন্যান্য মানুষের মাঝে আমাদের বোধ স্টোর করতে পারি আমরা হয়তো ইন্টারনেটের মধ্যেও আমাদের বোধ স্টোর করতে পারবো। আমরা দেখেছি অন্য কোনো মানুষের মস্তিষ্কে উপস্থিত জ্ঞানকে আমরা আমাদের আন্ডারেস্টেন্ডিং মনে করি, আমরা এ পার্থক্য নির্ণয় করতে ব্যর্থ হই যে জ্ঞান আমাদের মস্তিষ্কে সংরক্ষিত হয় নাকি অন্য কারো! আর এটি আমাদের মধ্যে ইলিউশনস অব এক্সপ্ল্যাইনেটরি ডেপথ তৈরি করে: আমি মনে করি যে আমি একটি ব্যাপার যতটা বুঝি তার থেকেও বেশি বুঝি কারণ আমরা অন্য মানুষের বোধকে ব্যবহার করি আমাদের নিজস্ব বোধ সম্পর্কে মূল্যায়ন করার ক্ষেত্রে! 

দুটি স্বাধীন গবেষণা প্রমাণ করেছে যে, সীমান্তে আমাদের একই ধরণের কনফিউশান কাজ করে যখন আমরা ইন্টারনেটে কোনোকিছু অনুসন্ধান করি। ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসের আর্ডিয়ান ওয়ার্ড যিনি একজন মনোবিজ্ঞানী, একটি পরীক্ষা পরিচালনা করে দেখেন যে, ইন্টারনেট সার্চ মানুষের জ্ঞানগত আত্মমর্জাদা বৃদ্ধি করে। তারা মনে করে যে, তারা যতটা স্মরণ ও ইনফরমেশন প্রসেস করতে পারে তারচেয়েও বেশি ক্ষমতা প্রকৃতপক্ষে তাদের মধ্যে কাজ করে। আর তাছাড়া যে সকল ব্যক্তি কোন একটি সত্য জানার জন্য ইন্টারনেট সার্চ করে তারা জানেনা যখন তাদের পরবর্তীতে জিজ্ঞেস করা হয় তারা ইনফরমেশনটি কোথায় খুঁজে পাবে, মাঝেমাঝে তাদের স্মৃতিভ্রম হয় এবং বিবৃতি প্রদান করে,  তারা এগুলো অনেক আগে থেকেই জানে। তাদের অনেকেই ভুলে গেছে তারা কোথায় অনুসন্ধান করেছে বরং ইন্টারনেটের পরিবর্তে তারা এ ইনফরমেশন জানার ক্রেডিট নিজের উপরই প্রদান করে । এ পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণিত হয়, আমরা আজ ইন্টারনেটের কল্যাণে হাজার হাজার ইনফরমেশন জানি কিন্ত ঠিক কোনো সোর্স থেকে আমি ইনফরমেশনগুলো সংগ্রহ করেছি সে সম্পর্কে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই, আমাদের মনে এমন একটা ভাব কাজ করে, আরেহ! এসব তথ্যও তো আমি অনেক অনেক পূর্ব থেকেই জানি! আর এভাবে আমরা গুগলকে ক্রেডিট না দিয়ে আমাদেরকেই আমরা ‘বাহবা’’ দেই। 

মেট ফিশার এবং ইয়েলের একজন পিএইচডি স্টুডেন্ট ফ্রাংক কেইল একটি স্টাডি সেট করেন যেখানে একদল অংশগ্রহণকারীকে সাধারণ জ্ঞানের কিছু প্রশ্ন করা হয় যেমন- কিভাবে একটি জিপার কাজ করে?” তারা অংশগ্রহণকারীদের দুটি গ্রুপে বিভক্ত করেন। একটি গ্রুপকে প্রক্রিয়াটি ব্যাখ্যা করার জন্য ইন্টারনেট সার্চ করতে বলা হয় আর অন্যদলকে বলা হয় কোনোপ্রকার আউটসাইড সোর্সের সহযোগিতা ছাড়াই প্রশ্নের উত্তর প্রদান করার জন্য। তারপর অংশগ্রহণকারীদের বলা হয় তাদের যে প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হয়েছে সে প্রসঙ্গের বাহিরে যদি তাদেরকে ভিন্ন রকম কোনো প্রশ্ন করা হয় তবে সেক্ষেত্রে তাদের উত্তর কেমন হবে। যেমন তাদেরকে প্রশ্ন করা হয়, কেনো সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরেই আটলান্টিকে বেশি হারিকেন দেখা দেয়। এ প্রশ্নটি জিপার কিভাবে কাজ করে তার সাথে সম্পর্কহীন। তারা যেটা আবিষ্কার করেছিল তা হলো যে সকল অংশগ্রহকারী ইন্টারনেটে সার্চ করেছিল তারা অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্নের উত্তর দেয়ার ক্ষেত্রে অন্যদের চেয়ে অগ্রগামী ছিল। ইন্টারনেট সার্চ করে এক সেট প্রশ্নের উত্তর খোঁজার ফলে তাদের মধ্যে এমন একটি সেন্স তৈরি হয়েছিল যে , তারা সকল প্রশ্নের উত্তর জানে এবং তার মধ্যে সে সব প্রশ্নও অন্তর্ভুক্ত যে প্রশ্নগুলো তারা গবেষণা করেনি। 

আপনি কতটুকু জানেন আর কতটুকু ইন্টারনেট জানে এ ব্যাপারে সংশয় একটি বিকৃত উপায়ে সেন্স তৈরি করতে পারে। ইন্টারনেট হলো একটি মাল্টিপারপাস টুলস যা আমাদের জন্য আজ অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। আমরা যদি মানুষ ও মেশিনকে একটি একক সত্তা হিসেবে ধরে নেই যা ইউনিট হিসেবে কাজ করে, তাহলে কর্মের দায়বদ্ধতা মানুষ অথবা মেশিন কারো উপরেই পড়েনা, এটি একটি কম্বিনেশন। আমি যদি একটি ট্রিপ সম্পর্কে কতগুলো ওয়েবসাইটের কাছে পরামর্শ চাই, তবে কিছু ওয়েবসাইট আমাকে ভ্রমণপথ সম্পর্কে বলবে, কিছু বলবে রিজার্ভেশন সম্পর্কে__ প্রশ্ন হলো ফাইনাল প্লানের জন্য কে দায়ী? যদি আমরা সবাই কন্ট্রিবিউশান তৈরি করি?  যদি আমি সেখানে না থাকি, তবে কিছুই ঘটবেনা৷ কিন্তু কিছু ওয়েবসাইট যা আমাকে পরামর্শ দিয়েছে তারা ভিন্ন ভিন্ন কিছু করতো। আমরা প্রত্যেকেই এখানে দায়িত্ব শেয়ার করছি। 

আপনি যদি খুব সাম্প্রতিক কোনো একটি টাস্ক নিয়ে কাজ করেন, আপনি দেখতে পাবেন আপনার সক্ষমতা মূল্যায়ন করাটা খুবই কঠিন যেহেতু ইন্টারনেট ও আপনি অবদানের দিক থেকে সম্পর্কযুক্ত। সকল প্রমাণ দলের সাথে সম্পৃক্ত, আপনি ও কম্পিউটার একসাথে অপারেট করছেন। একটি দল সবসময় ব্যক্তি থেকে ভালো, অতএব প্রমাণ বলছে যে, আপনি কাজের দিক থেকে তার চেয়ে ভালো যার কাছে ইন্টারনেটের কোনো উপকারীতা নেই। কারণ চিন্তা সম্প্রসারিত হয়ে আছে আপনার খুলির বাহিরে এবং দখল করে আছে সকল টুলস যা লক্ষ্য অর্জনের সাথে সম্পর্কযুক্ত, সেখানে এটা নির্ণয় করা কঠিন যে,  ব্যক্তির অবদান আসলে কী ! এটা অনেকটা এমন আমরা যদি একটি দলে থাকি এবং দল যদি জয়লাভ করে তবে আমরা জয়লাভ করবো সেখানে আমার ব্যক্তিগত অবদান যতই ক্ষুদ্র হোক অথবা বিরাট। 

 একটি দুশ্চিন্তার ব্যাপার আছে এখানে। ইন্টারনেটের জ্ঞান এতটাই এক্সেসবল ও বিশাল যে, আমরা হয়তো এমন একটি সোসাইটি তৈরি করতে পারি যেখানে সবার স্মার্টফোন এবং ওয়াইফাই কানেকশন মাল্টিপল ডোমেইনের উপর আত্ম নিয়োগকৃত বিশেষজ্ঞে পরিণত হয়েছে। আর একটি স্টাডিতে আড্রিয়ান ওয়ার্ড ও তার দল ডাক্তার ও নার্সকে রেডিড ওয়েবসাইটে প্রশ্ন করে, পেশেন্ট সম্পর্কে তাদের এক্সপেরিয়েন্স সম্পর্কে যারা যোগোযোগের পূর্বে WebMD তে তাদের রোগের ব্যাপারে প্রশ্ন করে। মেডিক্যাল প্রফেশনালরা তাদেরকে জানায় যে, ঐ ধরণের পেশেন্টরা প্রশংসাযোগ্যভাবে যারা ইন্টারনেটকে প্রশ্ন করেনি তাদের থেকে বেশিকিছু জানেনা। কিন্তু তাদের মধ্যে একটা আত্মবিশ্বাস কাজ করে যে তারা মেডিক্যাল নলেজ সম্পর্কে অনেক বেশি জানে। আর এ কারণে তারা প্রফেশনালদের উপেক্ষা করে, বিকল্প কোন চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসন্ধান করে। আরও একটি স্টাডিতে অংশগ্রহণকারীদের বলা হয় ইন্টারনেটে কোনো একটি বিশেষ প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধান করতে, যেমন- স্টক শেয়ার কী? আর তারপর তাদেরকে একটি ইনভেস্টমেন্ট গেম খেলতে বলা হয় যা ছিল অপ্রাসঙ্গিক। তাদেরকে একে অপরের সাথে বেট ধরারও সুযোগ দেয়া হয়। যে সকল লোক ইন্টারনেট সার্চ করেছে তারা তাদের পারফর্মেন্সের উপর প্রচুর বেট ধরে তাদের তুলনায় যারা ইন্টারনেট অনুসন্ধান করেনি। কিন্তু তারা খেলায় তেমন ভালো করেনি এবং খুব অল্প পরিমাণ অর্থ উপার্জনের ভেতর দিয়েই তারা এ খেলা শেষ করে। 

সমস্যা হলো, WebMD ‘তে কয়েক মিনিট ঘুরাঘুরি করে সে ব্যক্তির বিকল্প হওয়া যায়না যিনি বছরের পর বছর গবেষণা করেছেন বিশেষজ্ঞ হওয়ার জন্য যে সে মেডিক্যাল ডায়াগনোসিস বুঝবে। কয়েকমিনিট ফাইন্যান্সিয়াল ওয়েবসাইটে ঘুরলেই বিনিয়োগের নুইস্যান্স বোঝা যায়না। কিন্তু যখন জ্ঞানের সমস্ত বিশ্ব আমাদের ফিঙ্গার প্রিন্টের মধ্যে, আমাদের মধ্যে এমন একটা অনুভূতি জন্ম হয়েছে, এটা আসলে আমার মাথার ভেতর!

এ পর্যন্ত টেকনোলজি আগ্রহ ভাগ করেনি 

আমরা অনেক বিখ্যাত একটি আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্সের কথা জানি যে একজন GPS( গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম) ম্যাপিং সফটওয়্যার। GPS যন্ত্র সর্বপ্রথম শুরু হয়েছে ১৯৯০ থেকে ২০০০ সালের প্রারম্ভে ; আর এটি স্মার্টফোনের সাথে সম্পৃক্ত হয় ২০০৭ সালে। আপনি যদি একা একা ড্রাইভ করেন, এ অত্যন্ত ক্ষুদ্র সিস্টেমটি আপনার জন্য অপটিম্যাল রুট ঠিক করে দেবে, সেগুলোকে ভিজুয়ালি প্রদর্শন করবে, সাম্প্রতিক ট্রাফিক কন্ডিশনের উপর ভিত্তি করে সে তাদের উপরোধ ( সুপারিশ) আপডেট করবে এবং আপনার সাথে কথাও বলবে। তাদের ক্যাপাসিটি ও পাওয়ার অসাধারণ, এতটাই অসাধারণ যে তারা মাঝেমাঝে আমাদের ভ্রমণের পথও পরিবর্তন করে দেয়, এমনকি তারা রিলেশনশিপও পরিবর্তন করে দেয়, অধিকাংশ  ক্ষেত্রেই ভালোর জন্য, এখন আর গার্লফ্রেন্ড বয়ফ্রেন্ডের সাথে গাড়ি থামিয়ে পথের ডিরেকশন জানার জন্য ঝগড়াঝাটি করেনা। 

কিন্তু এ অত্যাশ্চর্য মেশিনটি কী করতে পারে না একবার খেয়াল করুন; তারা কখনোই দীর্ঘ পথ গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেবে না যেহেতু আপনি আপনার মা-বাবার বাড়ির পাশে আছেন এবং আপনি বিলম্ব করতে চাইছেন। তারা লেকের পাশের কোনো রাস্তা গ্রহণ করবে না সেখানে অতি সুন্দর কোনো সূর্যাস্ত দেখা দিয়েছে বলে। তারা আপনাকে বলবেনা আজকের ট্রাফিক খুবই খারাপ, আপনার বাসায় অবস্থান করা উচিত। তারা এগুলোর কোনোটাই করবে না। এবং যদি এসব করেও তবে তার জন্য তাকে প্রোগ্রাম করতে হবে। তারা আপনার মন পড়তে পারে না, আপনার ইনটেনশন খুঁজে বের করতে পারে না __ আপনার লক্ষ্য ও আকাঙ্খা এবং আপনি তাদেরকে কিভাবে সন্তুষ্ট করবেন সে বোধ __ আর তারপর তারা সে সকল ইনটেনশনকে তাদের মত করে সাজাতে পারে না, কোনো একটি মহান সাজেশনে উপনীত হওয়ার জন্য। তারা আপনার সাথে ইনটেনশন শেয়ার করে না কোনো একটি যৌথ লক্ষ্য বাস্তবায়ন করার জন্য। 

আমরা প্রযুক্তির সাথে কোনো কমন গ্রাউন্ড শেয়ার করিনা এ সেন্স থেকে যে মেশিন ও ইউজারের মধ্যে কোনো মিউচুয়াল এগ্রিমেন্ট নেই এবং আমরা যা করতে পারি আমরা যা জানি সে বিষয়ে এবং আমরা যা করি সবচেয়ে প্রিমিটিভ সেন্স থেকে। মেশিন আপনাকে প্রশ্ন করতে পারে আপনার লক্ষ্য  A,B অথবা C এবং প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করতে পারে অত্যন্ত যথাযথভাবে। কিন্তু এটি কখনো আপনার সাথে তার লক্ষ্য শেয়ার করতে পারে না। আপনার শুধু মেশিনের সাথে একটি পরোক্ষ যোগাযোগ হয় যা মেশিনকে বলে সে যা পারে তা করার জন্য আপনাকে লক্ষ্য বাস্তবায়নে সাহায্য করার জন্য। কিন্তু আপনাকে এটা নিশ্চিত করতে হবে যে আপনি তাকে আপনার লক্ষ্যের কথা জানিয়েছেন। মেশিন কখনোই সহযোগী নয়; এটি একটি টুলস। আর এ সেন্স থেকে একটি আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স মানুষের চেয়ে অনেক বেশি মাইক্রোওয়েভ ওভেন সদৃশ। 

প্রযুক্তি সম্ভবত কমিউনিটি নলেজের অনেক বিরাট একটি অংশ যা আপনাকে ইনফরমেশন প্রদান করে এবং ইনস্ট্রুমেন্টস কিন্তু এটি কমিউনিটি মেম্বার নয় ঠিক একইভাবে যেভাবে একজন মানুষ। আমরা মেশিনের সাথে ঠিক তেমনিভাবে কোনো কোলাবোরেট করতে পারিনা ঠিক যেমনিভাবে আমরা কোলাবোরেট করতে পারিনা আমাদের জাহাজের সাথে; আমরা সেগুলোকে ইউজ করি। 

কোনো একটি বুদ্ধিমান এজেন্টের জন্য ইনটেনশন শেয়ার করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভাষা ও কনসেপচুয়ালাইজেশনের মত কেন্দ্রীয় মানবীয় ফাংশন এর উপর নির্ভর করে, কারণ আমরা দেখেছি এগুলোর দুটোরই কোলাভোরেটিভ একটিভিটিজ রয়েছে। আমরা সন্দেহ করছি যে, কম্পিউটারকে এমন কোনো প্রোগ্রাম করা কঠিন যে ইনটেনশনালিটি শেয়ার করে কারণ আমরা যদি এটি করতে চাই তবে আমাদের এমন একটি কম্পিউটার প্রয়োজন,  যে অন্যদের সাথে কো-অর্ডিনেট করে; এ সম্পর্কে সচেতন হওয়ার জন্য যে আপনি কী জানেন এবং অন্যরা কী জানে। যদি কেউ এটি করতে পারে, আমরা বুঝতে পারব যে কনশাসনেস বলতে কী  বোঝায়। কিন্তু আমরা এমনকিছু এখনো দেখিনি। 

আমরা প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত ভয়াবহ একটি সময়ে বাস করছি৷। আমরা যা কিছু করতে পারি তা অবশ্যই একটি ইন্টিলিজেন্ট মেশিন করতে পারবে। মেশিন এতই বুদ্ধিমান যে আমরা তাদের উপর নির্ভর করি আমাদের কমিউনিটি নলেজের একটি কেন্দ্রীয় অংশ হিসেবে। এখনো পর্যন্ত এমন কোনো মেশিন নেই যার রয়েছে স্বতন্ত্র মানুষের কেন্দ্রীয় কর্মক্ষমতা। কোনো মেশিন ইনটেনশনালিটি শেয়ার করতে পারেনা। আর এর রয়েছে একটি প্রভাব কীভাবে মানুষ ও মেশিন একসাথে কাজ করবে।  

আজকের হিউম্যান মেশিনের অত্যন্ত ক্রিটিক্যাল একটি ফাংশন হলো, হিউম্যান মেশিন সিস্টেম জীবন রক্ষা করে এবং তারা এটি খুব ভালোভাবেই করতে পারে, বিশেষ করে যখন তারা আমাদের হত্যা করে না। এটা কোনো প্রতারণা নয় যে, এয়ারপ্লেনের হেল্ম, ট্রেন অথবা ইন্ডাস্ট্রিয়াল মেশিনারীর ভেতর মানুষ সম্পূর্ণ একা। তারা এমন সব জটিল যন্ত্রের চারপাশে অবস্থান করছে যা তারা কী  কী  করতে সক্ষম সেটি নির্ধারণ করে দেয়। মানুষ যে গাড়িটি ব্যবহার করে তার উপরও তার যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণ নেই। অটোমেশনের বিপ্লব মাত্র শুরু হয়েছে। সম্পূর্ণ অটোমেটেট কার এখন আর সায়েন্স ফিকশান নয়। ২০১৫ সালে, এলন মাস্ক, যিনি টেসলা মোটরের CEO বলেন যে, দুই বছরের মধ্যে সম্পূর্ণ অটোমেটেট কার পাওয়া যাবে। যদিও সরকারি বাধ্যবাধকতার কারণে হয়তো এর কিছুটা দেরি হতে পারে। 

বিশাল যন্ত্রগুলোর ক্ষেত্রে, প্রযুক্তি ইতোমধ্যে তার কতৃত্বশীল ফিল্ডে পরিবর্তিত হয়ে যাচ্ছে। আধুনিক এয়ারপ্লেনগুলো খুব সিম্পলি উড়তে পারে না অটোমেশনের সহযোগিতা ব্যতীত। অত্যাধুনিক মিলিটারি জেটস হলো Fly-by-Wire ; এগুলো এতটাই অস্থিতিশীল যে এগুলোর জন্য অটোমেটেড সিস্টেম প্রয়োজন, যে সেন্স তৈরি করতে পারে এবং মানব অপারেটর থেকে অনেক দ্রুতগতিতে কাজ করতে পারে। স্মার্ট টেকনোলজির উপর আমাদের নির্ভরশীলতা একটি প্যারাডক্সের জন্ম দিয়েছে। যদি প্রযুক্তি উন্নত হয়, তবে এটি অনেক বেশি বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠবে এবং অধিক কার্যকরী। আর যখন প্রযুক্তি অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য ও কার্যকরী মানব অপারেটর প্রযুক্তির উপর আরও অধিক থেকে অধিক নির্ভর হতে থাকবে। একটা সময় আসবে মানুষ নিজের ফোকাস হারিয়ে ফেলবে, খুবই বিক্ষিপ্ত এবং অনিয়ন্ত্রিত উঠবে। সিস্টেমকে তার নিজের প্রকৌশলের উপর ছেড়ে দিয়ে। সবচেয়ে চুড়ান্ত একটি ক্ষেত্রে, বিশাল এয়ারপ্লেনের পাইলটরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে অটোমেশনের উপর নির্ভর করবে বা প্যাসিভ অপারেটর। টিভিতে আমরা যখন মুভি দেখি তখন আমরা যেমন সেখানে পরোক্ষ অংশগ্রহণকারী হিসেবে উপস্থিত থাকি, বিশাল বিশাল বিমানের পাইলটরা অনেকটা সেরকম হয়ে উঠবে, এটা যেনো এমন যে তারা অটোমেশনের মুভি দেখছে। এটি ততক্ষণ পর্যন্ত ঠিক যতক্ষণ পর্যন্ত না অপ্রত্যাশিত কোনোকিছু সংঘটিত হয়। আর এ অপ্রত্যাশিত ঘটনাগুলোই মানুষের মূল্য বুঝিয়ে দেবে; নতুন পরিস্থিতিকে মোকাবিলা করার জন্য আমাদের টেবিলে কী নিয়ে আসা উচিত। কোনো মেশিন যৌথভাবে লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য কোলাবোরেট করতে পারে না, তারা খুব তুচ্ছভাবে একটি যন্ত্র হিসেবে সেবা দেয়। আর এজন্য হিউম্যান অপারেটর যখন ইচ্ছাকৃত কোনো ভুল করে, সিস্টেম অনেক বড় মাপের এক্সিডেন্ট ঘটাতে পারে। 

অটোমেশন প্যারাডক্সের মূল কথা হলো যে, অটোমশন যত ইফেক্টিভ হবে হিউম্যান অপারেটর তার উপর ততই নির্ভরশীল হয়ে উঠবে। আর এ নির্ভরশীলতার ফলে হিউম্যান অপারেটরের যেটুকু করণীয় ছিল সে সেটাও করবেনা, আর এর ফলে বড় মাপের বিপর্যয় ঘটতে পারে। আধুনিক প্রযুক্তি মারাত্মকভাবে জটিল এবং আরও বেশি জটিলতর হচ্ছে। অটোম্যাটেড সেফটি আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তারা এর চেয়েও বেশি জটিল হচ্ছে এডিশনাল বেল, হুইসেল ও ব্যাকাপ সিস্টেম যোগ করার মাধ্যমে, আর তারা এগুলো করার জন্য আরও বেশি নিয়োজিত হচ্ছে। যখন তারা ব্যর্থ হয় তখন বিপর্যয় হয় অত্যন্ত ভয়াভহ। অটোমেটেট সিস্টেমের সবচেয়ে দুঃখের দিক হলো এটি সামগ্রিক নিরাপত্তার সাথে কম্প্রোমাইজ করে। কারণ প্রযুক্তি জানে না যে সিস্টেম কী সম্পাদন করছে__ কারণ এটি হিউম্যান ইনটেনশনালিটি শেয়ার করেনা__ এখানে সবসময় এমন কিছু বিপর্যয় থাকে যে ক্ষতিকর কোনোকিছু ঘটতে যাচ্ছে। আর যখন মানুষ যারা সিস্টেমের অংশ তারা প্রযুক্তির জন্য অপ্রস্তুত হয় তখন প্রযুক্তি ব্যর্থ হয় এবং দুর্যোগ ঘটে। 

এখানে তেমন একটি ঘটনা বর্ণনা করছিঃ একটি এয়ারপ্লেন তখনই থেমে যায় যখন ক্রাফটের এয়ারস্পিড যথেষ্ট না হয় যথেষ্ট লিফট তৈরি করার জন্য যা প্লেনটিকে ফ্লাইটে রাখে। যদি এটি স্টল করে, তাহলে প্লেনটি অপরিহার্যভাবে আকাশ থেকে পড়ে যাবে। প্লেনকে এই থেমে যাওয়া থেকে রক্ষা করার জন্য সবচেয়ে ভালো উপায় হলো প্লেনের নাকটিকে নিচের দিকে তাক করে রাখা এবং ইঞ্জিনের পাওয়ার বৃদ্ধি করা যতক্ষণ না প্লেনের এয়ারস্পিড যথাযথ লিফট উৎপাদন না করে এটিকে শূন্যে ভাসিয়ে রাখার জন্য। ফ্লাইটস্কুলগুলোতে প্রতিটি পাইলটকেই স্টল রিকোভারি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। আর এ জন্যই এয়ার ফ্রান্স ফ্লাইট ৪৪৭ যখন ২০০৯ সালে ক্র্যাশ করেছিল তখন এর অনুসন্ধানকারীরা ব্ল্যাক বক্স দেখে বিস্মিত হয়েছিল। একটি Airbus A330 স্টলে প্রবেশ করে এবং আকাশ থেকে পতিত হয়। একজন কো-পাইলট অবর্ণনীয়ভাবে চেষ্টা করছিলো বিমানের নাকটিকে নিচের দিকে না ধরে রেখে উপরের দিকে ধরে রাখার জন্য। কিভাবে এটি ঘটেছিল? Fedaral Administration 2013 সালে একটি রিপোর্ট  উপস্থাপন করেন, তারা বলেন, পাইলট অটোম্যাশনের উপর এত বেশি নির্ভরশীল হয়ে উঠেছিল যে তার ব্যাসিক ম্যানুয়াল স্কিলও ছিলোনা আর এর ফলে সে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়েছিল। এ ঘটনাটির ক্ষেত্রে, হতে পারে যে ফ্লাইট ক্রু জানতোনা প্লেনের পক্ষে স্টল বা থেমে যাওয়া সম্ভব এবং সে যন্ত্র থেকে যে সিগনাল এসেছিলো সেগুলোকে যথাযথভাবে ইন্টারপ্রিট করতে পারেনি। এটি হলো অটোমেশন প্যারাডক্সের অত্যন্ত যথাযথ একটি উদাহরণ। প্লেন অটোমেশন প্রযুক্তি এতটাই উন্নত ছিলো যে যখন এটি ফেইল করে, পাইলট এবং গ্রুপ বুঝতেই পারেনি যে তাদের আসলে কি করা উচিত! 

আপনি হয়তো ইতোমধ্যেই অটোমেশন প্যারাডক্স সম্পর্কে বুঝতে পেরেছেন, জিপিএস এর বিস্তারকে ধন্যবাদ জানানো উচিত। কিছু মানুষের এর সাথে এত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক যে, GPS তাদেরকে যা বলে তারা ঠিক তাই করে। কিন্তু আপনার এটা মনে রাখা উচিত যে আপনার GPS ডিভাইস জানে না আপনি কি অর্জন করতে চাইছেন। এমন অনেক গল্প আছে অনেক ড্রাইভার GPS কে অন্ধভাবে অনুসরণ করতে গিয়ে পানির উপর দিয়ে গাড়ি চালিয়েছে অথবা খাড়া বাধে।

১৯৯৫ সালে নান্টকেটের কাছাকাছি স্থানে রয়েল মেজেস্ট্রির একটি ক্রুজ শিপ ভ্রমণ করছিলো। একটি আইল্যান্ড যেটি ম্যাসাচুসেটস উপত্যকায় অবস্থিত। জাহাজের একটি  ক্যাবল শিপের GPS ‘কে এর এন্টেনার সাথে সংযুক্ত করেছিল যা দুর্দান্ত বাতাসে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। নাবিকদল দুর্ভাগ্যবশত এ ব্যাপারটি বুঝতে পারেনি। GPS একপ্রকার Error Message প্রদান করেছিল কিন্তু এটি নাবিকদলের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য যথেষ্ট নয়। স্যাটেলাইট ডেটার অনপুস্থিতিতে GPS সিস্টেম খুব শীঘ্রই তাই করতে থাকে তাকে যা করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছেঃ এটি মৃত গণনাকার্য চালু করে দেয় ( সে অনুমানিক স্পিড, টাইমস ও ডিরেকশনের উপর ভর করে পূর্ববর্তী অবস্থানের ভিত্তিতে বর্তমান অবস্থান অনুমান করার চেষ্টা করে)। এমনকি এটি Chirping ও বন্ধ করে দেয়। নাবিকদল ডিসপ্লে’তে প্রদর্শিত ক্ষুদ্র সংকেতগুলোর অর্থ বুঝতে পারেনি যা এ উভয়ের পরিবর্তন (“DR”) এবং ইনপুট লস( “SOL” _ সোল মানে সলিউশনের সংক্ষিপ্ত রুপ, এর মানে হলো কম্পিউটার যথাযথ পজিশনের সমাধান বের করতে পারছেনা) নির্দেশ করছে। ডেড রিকোনিং বা মৃত হিসেব একটি এডুকেটেড অনুমান, এটি বাতাস এবং স্রোতের জন্য সঠিক নয়। জাহাজের নাবিকদল যৌক্তিক ও আনুমানিক কিন্তু ভুল একটি অনুমানের উপর অপারেট করেছিল। নাবিকদল রাডারের ম্যাপ পর্যবেক্ষণ করতে পারতো কিন্তু এটি এমন একটি রুটের ইনফরমেশন প্রদর্শন করতো যা ছিল জিপিএস-এর আনুমানিক হিসেব যা শিপের প্রকৃত অবস্থান প্রদর্শন করছে না। নাবিকদল এছাড়া এটাও পর্যবেক্ষণ করেনি যেটি ছিল দ্বিতীয় বিদ্যমান সোর্স, এটি ছিল সেই নেভিগেশনাল সিস্টেম যা কীনারা থেকে রেডিও সিগনাল ট্রায়েঙ্গুলেট করে। একটি দুর্ভাগ্যজনক কাকতালীয় ঘটনা অবশেষে জাহাজটির ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। একটি নোঙ্গর নান্টাকেটের ক্ষতিকর পানির একটি আনুমানিক লোকেশনের কথা সতর্ক করছে যেখানে GPS সিস্টেম প্রত্যাশা করছে একটি নোঙ্গর যা পুরোপুরিভাবে নির্দেশ করছে বোস্টন হার্বর লেন। রাডার এটা ডিটেক্ট করতে পেরেছে কিন্তু নাবিকদল এখনো নিরবিচ্ছন্নভাবে ভাবছে সবকিছু এখনো পরিকল্পনামাফিকই সংঘটিত হচ্ছে। তারা তখনো কোনো বিচ্যুতি বুঝতে পারেনি, তারা সমূদ্রের পানির রঙের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করার পর বুঝতে পারে এটি অপরিচ্ছন্ন পানির নির্দেশক। ততক্ষণে অনেক দেরী হয়ে গেছে। 32,000 টন ওজনের একটি জাহাজ নান্টকেট উপত্যকা থেকে দশ মাইল দূরে একটি অগভীর জায়গায় আঘাত করে। সৌভাগ্যবশত, এ গল্পের একটি হ্যাপি এন্ডিং ছিল। জাহাজটি আহত হওয়ার ২৪ ঘন্টার ভেতর রয়েল ম্যাজেস্ট্রি ৫ টি টাগবোট মুক্ত করে দেয়। পরবর্তীতে অবশ্য এ জাহাজটিকে সমূদ্র উপযোগী করে তোলার জন্য তাদের ২ মিলিয়ন ডলার খরচ হয়। 

এ ট্র্যাজেডি থেকে আমরা কী শিখতে পারি? একটি মেশিন তাই করে যা করার জন্য সে প্রস্তুত। সকল ব্যাকাপ সিস্টেম তাদের অভিপ্রেত উদ্দেশ্যে কাজ করে।  এটা সত্য যে মেশিন তার ভেতর কী ঘটছে সে ব্যাপারে সবসময় ইউজারকে সতর্ক করেনা। আর এজন্য মেশিনের প্রয়োজন এটা জানা যে মানুষের কী জানা প্রয়োজন, এবং তার এ বোধও প্রয়োজন মানুষ কী করতে চাইছে। যেমনটি আমরা ইতোমধ্যে দেখেছি মেশিন এটা করতে পারেনা। মেশিন শুধুই টুলস, তারা একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নির্মিত, মানুষের প্রকৃত সহযোগী নয়। 

এ বিরাট জাহাজটির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভুল যেটি ছিল সেটি হলো মানুষ খুব কঠিনভাবে তাদের GPS সিস্টেমকে বিশ্বাস করে। এবং এটা আসলে অযৌক্তিক নয়। মেশিন এর পূর্বে শুদ্ধতার প্যারাগন ছিল। আর এ জন্য অফিসার তাদের ইলিউশন অব আন্ডারেস্টেন্ডিং দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছিল। তারা মনে করেছিল, তাদের ডিভাইস তাদেরকে যা বলছে তারা তা বুঝতে পারছে, তারা মনিটরে প্রদর্শিত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিকগুলো মিস্টেক করেছে( ক্ষুদ্র “DR” এন্ড “SOL”!) কারণ তারা আসলে জানেইনা যে কিভাবে GPS ডিভাইস কাজ করে। তারা এটাও জানতোনা যে,  এ প্রতিকগুলোর অর্থ কীভাবে বের করতে হয় আর এটা কোনো একটা ভুলের কথা ইঙ্গিত করছে। তাদের বহু বছরের সফল নেভিগেশন তাদের মধ্যে এমন একটি আত্মবিশ্বাসের জন্ম দিয়েছে ,  তারা তাদের ইলিউশন অব আন্ডারেস্টেন্ডিং- এর উপর মাস্ক পরিধান করে দিয়েছে। 

একটি দক্ষতা যা সাধারণত আসে একজন ব্যক্তির সচেতনতা থেকে আর তা হলো তাদের রিফ্লেক্ট করার ক্ষমতার উপর নির্ভরশীল। মানুষ সবসময় তার নিজের আচরণ পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করে। তারা কিছুটা পিছিয়ে আসে এবং তারা যা করবে সে সম্পর্কে সচেতন হয় এবং তাদের উপস্থিত পরিবেশে যা সংঘটিত হচ্ছে। এমনকি তারা তাদের থট প্রসেসও পর্যবেক্ষণ করে ( যা অনুধ্যানের সাথে সম্পৃক্ত, সচেতন অংশ)। যদি তারা যা দেখছে তা পছন্দ না করে, তারা কিছু প্রভাব যোগ করে এটাকে পরিবর্তন করার জন্য। আর এ প্রভাব অবশ্যই সীমিত। আপনি যদি কোনো আতঙ্ক বা প্রত্যাশায় থাকেন আপনি হয়তো এটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না। অন্তত আমাদের ক্যাপাসিটি আছে __যখন আমরা সচেতন ও জাগ্রত থাকি__ কী ঘটবে সে ব্যাপারে সচেতন হওয়ার মাধ্যমে। কিছু মাত্রায় আমাদের নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ আছে। আমরা আমাদের সামনে বিরাট একটি চকলেট ফেলে দেয়ার পূর্বে আমাদের নিয়ন্ত্রণ করি। আর অন্যদিকে মেশিন সবসময় তার প্রোগ্রাম অনুসরণ করে। তাদের প্রোগ্রাম সম্ভবত জটিল এবং পরিবর্তনশীল পরিবেশের সাথে হয়তো এটাকে অভিযোজিত করা যায়। কিন্ত যদি পোগ্রামের ডিজাইনার কোনো একটি পরিস্থিতি সম্পর্কে চিন্তা না করে মেশিন বুঝতে পারবেনা কিভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে, আর প্রকৃতপক্ষে এ ধরণের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় এবং মেশিন ভুল কাজ করে। কিন্তু সমস্যা হলো যে, আধুনিক জটিল প্রযুক্তি বোঝার জ্ঞান আমাদের কারো কাছেই নেই। আর প্রযুক্তি দিন দিন আমাদের মস্তিষ্ক থেকেও জটিল থেকে জটিলতর হয়ে উঠছে। এ বিষয়টি আসলে দুশ্চিন্তাজনক!

রিয়েল সুপার ইন্টিলিজেন্ট 

কম্পিউটারের এ পর্যন্ত কোনো ইনটেনশনালিটি নেই এবং আমরা এটাও নিশ্চিত নই যে তারা ইনটেনশনালিটি অর্জনের পথেই আছে, আমরা এ ব্যাপারে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত নই যে কোনো একটি খারাপ বুদ্ধিমত্তার জন্ম হবে আর মানব সভ্যতাকে ধবংস করে দেবে। মূলত, আমরা এখনো কাছাকাছি কোনো সুপারইন্টিলিজেন্ট সত্তা দেখছি না। যে মেশিন ইনটেনশনালিটি ও গোল শেয়ার করতে পারে না সেটি কখনোই ভালো কোনো মেশিন নয় এবং এটি আপনার মন পাঠ করতেও অক্ষম এবং তারা অবশ্যই আমাদের থেকে স্মার্ট নয় কারণ তারা আমাদের বুঝতেই পারে না। 

কিন্তু এখানে আরও একটি সেন্স আছে কীভাবে প্রযুক্তি সুপার ইন্টিলিজেন্সে পরিণত হবে। ওয়েব আমাদের জন্য জিপিএস-এর মতোই নতুন কিছু টুলস প্রদান করেছে, জিপিএস -এর মতো যে অপারেটিং সিস্টেম আমাদের সাথে কথা বলতে পারে। কিন্তু ওয়েব এপ্লিকেশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এটি মানুষকেই টুলসে পরিণত করে। আমরা এক্ষেত্রে ক্রাউডসোর্সিং এপ্লিকেশনের কথা বলতে পারি যেটি অনেক বিশাল ও গতিশীল কমিউনিটি অব নলেজ তৈরি করতে পারে প্রথমে বিপুল সংখ্যক মানুষের জ্ঞান ও দক্ষতাকে সম্মিলিত করার মাধ্যমে। ক্রাউডসোর্সিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহকারী সাইট ও এপস যে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ, লোকেশন এবং নলেজ বেস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে। Yelp এবং Amazon এর ক্রাউডসোর্সিং সার্ভিস ও প্রোডাক্টের জন্য রিভিউ করে। Waze Crowdsource রাস্তায় ড্রাইভারদের ট্রাফিক কন্ডিশনের ইনপুট থেকে ম্যাপ করে। এছাড়া Reddit এর মতো সাইট আছে যেগুলো ব্যবহারকারীকে প্রশ্ন করার সুযোগ দেয় এবং যে কাউকে উত্তর প্রদান করার জন্য অনুপ্রাণিত করে। 

এখানে ভালো ব্যাপার হলো, ক্রাউডসোর্সিং একটি বিশেষজ্ঞ কমিউনিটি থেকে উপযোগিতা গ্রহণ করার ক্ষেত্রে সেরা একটি উপায়। এটি তার লক্ষ্য বাস্তবায়ন করার জন্য অজস্র মানুষকে একত্রিত করে। এর মানে হলো বিশেষজ্ঞরা খুব সম্ভবত তাদের ইনপুট অফার করবে। অবশেষে, কোন একটি অবজেক্টিভ অর্জনে এটা ভালো একটি উপায়ঃ বিশেষজ্ঞদের ব্যবহার করে। Yelp রেস্টুরেন্ট ভ্রমণকারীদের থেকে রেস্টুরেন্ট সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে আর Reddit দেখে কোন ব্যক্তি কোনো একটি উত্তর দেয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি বিশেষজ্ঞ। আর এ জন্য ক্রাউডসোর্সিং খুবই ভালো কাজ করে যেখানে অতিরিক্ত বিশেষজ্ঞের অংশগ্রহণকারীদের জন্য পর্যাপ্ত পুরস্কার রয়েছে। 

ক্রাউডসোর্সিং একটি ইন্টিলিজেন্ট মেশিন তৈরি করেছে কিন্তু AI Wizardy এর ভেতর নয়। তাদের বুদ্ধিমত্তা কোনো গভীর আন্ডারেস্টেন্ডিং থেকে নির্গত হচ্ছেনা অথবা কম্পিউটারের বিপুল ক্ষমতাকে ব্যবহার করেও নয়। তাদের ইন্টিলিজেন্ট নির্গত হচ্ছে কমিউনিটিকে ব্যবহার করে। Waze আপনাকে ট্রাফিকের ভেতর গাইড করবে হাজার হাজার মানুষের রিপোর্ট পুঞ্জিভূত করে যারা ট্রাফিক কন্ডিশন সম্পর্কে ভালো জ্ঞান রাখে। এখানকার উন্নতি, বুদ্ধিমত্তার প্রচলিত সেন্স থেকে নয়। এটি হলো মানুষকে কানেক্ট করার ক্ষমতা। ক্রাউডসোর্সিং এর সবচেয়ে বড় একটি সমস্যা হলো তারা কীভাবে এক্সপার্টের কন্ট্রিবিউশনকে পুরস্কার প্রদান করবে। টাকা হলো একমাত্র পুরস্কার। বিশেষজ্ঞরা এ জন্য সঠিক হওয়ার চেষ্টা করে এবং মাঝেমাঝে ফাইনেন্সিয়াল ইনসেন্টিভ থেকেও বেশি। উইকিপিডিয়ার বিস্ফোরণ একটি সাক্ষী। এটি তার কন্ট্রিবিউটরদের এক পয়সাও প্রদান করেনা। অক্সফোর্ড ইংলিশ ডিকশনারীর কথা যদি বলি তবে তারাও এটি করেনা। অধিকাংশ এক্সপার্ট তাদের বিশেষজ্ঞ জ্ঞান প্রকাশ করতে নিজে থেকেই আগ্রহী, তারা এটা ভালোবাসে। আর এর কারণ হলো, Contributing to the Community Knowledge is our Collaborative Nature! 

এ বিশ্বে আমাদের সবারই ক্ষুদ্র একটি জানলা আছে, ক্ষুদ্র কিছু জ্ঞান যার উপর আছে আমাদের প্রবেশাধিকার। ক্রাউডসোর্সিং হলো একসাথে দশ, একশ ও এক হাজার জানালার ভেতর দিয়ে একসাথে তাকানোর সূযোগ। কিন্ত ক্রাউডসোর্সিং তখনই কাজ করে যখন এটি বিশেষজ্ঞদের উপর গুরুত্ব প্রদান করে। বিশেষজ্ঞ ছাড়া, এটি ব্যবহার অনুপযোগী ও ক্ষতিকর হয়ে উঠে। এক্ষেত্রে আমরা Pallokerho-35 (PK-35) এর কথা বলতে পারি, একটি Finnish Soccer Club । কয়েক বছর পূর্বে, একটি দল ফ্যানদের ইনভাইট করলো নিয়োগ, প্রশিক্ষণ ও খেলার কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহযোগিতা করার জন্য। ভোট গ্রহণ হয়েছিল সেলফোনে। ফলাফল এসেছিলো ভয়াভহ। টিম খুব খারপই করেছিল, কোচকে ফায়ার করা হয়েছিল এবং এক্সপেরিমেন্ট অত্যন্ত বিক্ষিপ্তভাবে শেষ হয়েছিল। এ থেকে প্রমাণিত হয়, ক্রাউডসোর্সিং কাজ করার জন্য শুধু একটি বিশাল দল থাকলেই হয়না, সে দলের প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ থাকতে হবে।

 

মাঝেমাঝে বিশেষজ্ঞ শুধু একটি আবরণ মাত্র। Amazon.com যারা রেটিং করে তারা সবসময় বিশেষজ্ঞ হয়না। রেটিং জিনিসটা আসলে সত্যিকার এক্সপার্টের সাথে সম্পৃক্ত না অথবা এটা এমনও না যে কোন একজন একটি নির্দিষ্ট প্রোডাক্ট খুব ভালোবাসে এবং এটির মূল্য অনেক বেশি। অধিকাংশ ভোক্তাই ডিজিটাল ক্যামেরা অথবা রান্নার আসবাবপত্র সম্পর্কে জ্ঞানই রাখেনা। 

কিন্তু ক্রাউডসোর্সিং খুবই ইফেক্টিভ। এটি সর্বপ্রথম আবিষ্কার করেন ফ্রান্সিস গ্যাল্টন ১৯০৭ সালে একটি পেপারে যার নাম Vox Populi( The wisdom of Crowd)। গ্যাল্টন একটি এক্সপেরিমেন্টের মাধ্যমে বুঝতে পেরেছিলেন, আমরা ব্যক্তিগতভাবে জ্ঞানের ইলিউশনে আক্রান্ত কিন্তু দলের মধ্যে যদি কোনো বিশেষজ্ঞ উপস্থিত থাকে তবে আমরা আমাদের ব্যক্তিগত পক্ষপাত অতিক্রম করতে পারি। 

ব্যবহারিক জগতে ক্রাউডসোর্সিং এখনো বাল্যকালে অবস্থান করছে। এটি সাধারণত উইকিপিডিয়ার সফলতা ব্যাখ্যা করার জন্য  জাগ্রত হয়। একদল অর্থনীতিবিদ ক্রাউডসোর্সিং এর প্রশংসা করেছেন যাকে বলে প্রেডিকশন মার্কেট। প্রেডিকশন মার্কেটে মানুষের মধ্যে বেট সংঘটিত হয় ভবিষ্যতে কোন ঘটনা সংঘটিত হবে তা নির্ণয় করার জন্য। কোনো একটি ফলাফলের সাপেক্ষে লোকজন তার সম্ভাবনার উপর ভর করে বেট ধরে। তারা বেট ধরে কারণ সবচেয়ে ভালো প্রেডিক্টর পুরস্কার প্রাপ্ত হবে, সেটা টাকাও হতে পারে আবার হতে পারে প্রেস্টিজ। বিশেষজ্ঞরা সাধারণত অনুপ্রাণিত হয় কারণ তারা সাধারণদের থেকে ভালো করে, আর এ জন্য মার্কেটে বিশেষজ্ঞদের প্রভাব বেড়ে যায়। অধিকাংশ সরকারি এজেন্সি এবং প্রাইভেট কোম্পানি প্রেডিকশন মার্কেট ব্যবহার করে কোনো একটি ডোমিস্টিক ইলেকশনে কী ঘটবে সেটি জানার জন্য, অথবা ইন্টারন্যাশনাল এফেয়ার্স এবং ব্যবসায়িক পরিবেশ। তারা গতানুগতিক ভবিষ্যত জানার পদ্ধতি থেকে অনেক ভালো ফলাফল পেতে দেখা যায়। 

ক্রাউডসোর্সিং আসলে অনেক আদিম একটি পদ্ধতি যেখানে দিগন্তে কী ঘটছে তার সাথে তুলনা করে আমরা কমিউনিটির জ্ঞানকে নিয়োগ করতে পারি। ওয়েব ডেভেলপাররা মাত্র এপ্লিকেশন ডেভেলপ করা শুরু করেছে যা কমিউনিটিকে অত্যন্ত গতিশীলতার সাথে কোনো একটি সমস্যা সমাধান করতে সাহায্য করে। এ এপ্লিকেশনের ধারণা হলো কোলাবোরেশান তৈরি করা বিশ্বের বিভিন্ন  প্রান্তের বিশেষজ্ঞদের অনুমোদন প্রদান করার মাধ্যমে, যারা সাময়িকভাবে পরস্পর পরস্পরের কাছাকাছি আসে কোনো একটি নির্দিষ্ট সমস্যা সমাধান করার জন্য। মেইনস্ট্রিমে যাওয়ার পূর্বেই এ সকল এপ্লিকেশন নির্দিষ্ট সংখ্যক সমস্যা সমাধান করে ফেলে; বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণ করার জন্য অনুপ্রেরণা দেয়া হয়; পদ্ধতি এমনভাবে সেট করা হয় যেনো সঠিক বিশেষজ্ঞকে কোনো একটি সমস্যা সমাধান করার জন্য নিয়োগ করা যায়; জ্ঞানীয় শ্রম কার্যকরীভাবে ভাগ করে দেয়া হয় ; এবং পদ্ধতিটি এমনভাবে সেট করা হয় যেনো অত্যন্ত বিশুদ্ধভাবে ঝুঁকি ও পুরস্কার ভাগ করে দেয়া যায়। এই এপ্লিকেশনের সফলতা হলো কতটা ভালোভাবে সমস্যাগুলো সমাধান করা হচ্ছে। 

এ ধরণের বিকেন্দ্রীভূত সহযোগী কার্যক্রমকে সমর্থন করার জন্য ন্যায্য হলো ইথেরিয়াম, সেন্সরিকা এবং  কলোনি যেগুলো ভবিষ্যত নাম নিয়ে অস্তিত্বে আসছে। ইথেরিয়াম অনুপ্রাণিত হয়েছে বিটকয়েনের সফলতা থেকে, একটি বিকেন্দ্রীভূত ইন্টারনেট কারেন্সি যা কোনো সিঙ্গেল এন্টিটি দ্বারা পরিচালিত হয়না। কে কতটুকু বিটকয়েন অর্জন করবে তার তথ্য একটি পাবলিক লেনদেনের খতিয়ানে সংরক্ষণ করা হতো যেটাকে বলে ব্লকচেইন। ব্লকচেইন হলো অত্যন্ত জটিল একটি প্রযুক্তি যেটি সকল লেনদেনের রেকর্ড ম্যানটেইন করে যা বিটকয়েন ইউজারদের ইন্টারনেটে আপডেট ও স্টোর হয়। লেনদেনের খতিয়ান নেটওয়ার্কে ডিস্ট্রিবিউট করে দেয়ার মাধ্যমে ভুল ও প্রতারণার সম্ভাবনা কমে যায়। ইথেরিয়াম ব্লকচেইন ব্যবহার করে যে পদ্ধতি প্রত্যেকের মতামতকে বিকেন্দ্রীকরণ করার মাধ্যমে প্রজেক্টের সাথে জড়িত সবার সহযোগিতা নিশ্চিত করে। এর সুবিধা হলো যে যদি ইনফরমেশন সবার মধ্যে ভাগ করে দেয়া হয় তবে তথ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়, যার ফলে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির তথ্যের উপর অত্যধিক এক্সেস থাকেনা। ইনফরমেশনের উপর এক্সেস নিয়ন্ত্রিত হয় ; এবং এ সহযোগিতার লক্ষ্য হলো সমতাকে ত্বরাণ্বিত করা; যেনো সবাই তাদের সক্ষমতার প্রমাণ দিতে পারে এবং যোগ্যতা অনুযায়ী পুরস্কার প্রাপ্ত হয়। কমিউনিটির মধ্যে জ্ঞানগত শ্রম ভাগ করে দেয়ার মানে হলো নিরাপত্তা ও নিশ্চয়তা। একবার যখন এ প্ল্যাটফর্মগুলো জনপ্রিয় হয়ে যায়, এটি ব্যবসা করার জন্য সম্পূর্ণ নতুন একটি উপায় উন্মোচন করে। যদি দলবদ্ধতার সাথে ব্যবসা করার এ বিষয়টি রীতি হয়ে যায় যেখানে বিশেষজ্ঞের দল পরিবর্তন হতেই থাকে তবে আমাদেরকে কোম্পনির ডেফিনিশন আবার নতুন করে তৈরি করতে হবে। এটি সম্পূর্ণ ভিন্নরকম এক কোম্পানির নেতৃত্ব প্রদান করবে।

ফিউচার প্রেডিক্টিং 

ক্রাউডসোর্সিং এর ক্ষমতা এবং কোলাবরেট প্লাটফর্মের প্রতিশ্রুতিবদ্ধতা আমাদের বলছে যে নতুন সুপার ইন্টিলিজেন্স আসলে কোনো ফিউচারিস্টিক মেশিন নয় যারা মানুষের থেকে অনেক বেশি স্মার্ট। যে সুপার ইন্টিলিজেন্স বিশ্বকে পরিবর্তন করছে তা হলো কমিউনিটি অব নলেজ। প্রযুক্তির মহান কোনো উন্নতি আসলে সুপার হিউম্যানের ক্ষমতা সম্পর্ন কোনো মেশিন দিয়ে আসেনা; তার পরিবর্তে এটি আসে সহযোগী ইনফরমেশন থেকে যেটি এর চেয়েও বিশাল কমিউনিটি অব নলেজে প্রবাহিত হচ্ছে এবং এটি আমাদের মধ্যকার কোলাবোরেশনকে সহজতর করে তুলেছে। ইন্টিলিজেন্ট টেকনোলজি মানুষের বিকল্প হতে পারেনা যতক্ষণ না  তাদের সংযুক্ত করা হয়। ওয়েব আমাদের বর্ণনা করছে যে, রিয়েল সুপার ইন্টিলিজেন্স আসলে কমিউনিটির মধ্যেই অবস্থান করে। মানুষ ও মেশিন সিস্টেমের কমিউনিটি ক্রমবর্ধমানভাবে বিবর্তিত হচ্ছে। বিস্ময়কর হারে প্রযুক্তি জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে, এবং আমাদের কমিউনিটিতে এখন সে যে দায়িত্ব পালন করে তা অনেক বিশাল। কিন্তু এটা ভাবা ভুল হবে যে প্রযুক্তি ক্রমবর্ধমানভাবে এতটাই উন্নত হবে যে এটি তার ইচ্ছা আমাদের উপর চাপিয়ে দেবে। ভবিষ্যতের প্রযুক্তি মানুষের সফল হওয়ার পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়কে এড়িয়ে যাবে আর তা হলো হিউম্যান ইনটেনশনালিটি। অতএব প্রযুক্তি কখনোই কমিউনিটি অব নলেজের সমান অংশীদার নয়; এটি পরাধীন একটি টুলসই থেকে গেলো। আমরা তার পরিবর্তে দেখছি যে প্রযুক্তির উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি হচ্ছে কমিউনিটিকে বিশাল করে তোলা ক্রাউডসোর্সিং ও কোলাবোরেশান এর মাধ্যমে। ক্রাউড মানুষের তৈরি, অতএব এটা যত বড় হবে তা মানুষেরই অবদান। ইতিহাস ও প্রাগৈতিহাসিক ধারাবাহিকতায়, বিবর্তনের মূল উন্নয়ন মানুষ ও প্রযুক্তির ইন্টারেকশনেই সংঘটিত হয়। কিন্তু টেকনোলজি অনেক অনেক জটিল হয়ে উঠছে। এবং এ সেন্স থেকে এটি ব্যবহারকারীর ব্রেন সার্কিট থেকে দূর থেকে দূরে আপসারিত হচ্ছে। আমাদের মধ্যে অনেকেই আছে এখনো টয়লেট সম্পর্কেও ভালো জ্ঞান রাখেনা।একবার চিন্তা করে দেখুন বৈচিত্র্যময় ইলেক্ট্রনিক্স ও ইন্টারনেট সাইট যা আজ সমস্ত পৃথিবীতে ছড়িয়ে আছে তা সম্পর্কে আমরা ঠিক কতটা কম জানি। যন্ত্র যত জটিল হবে ভবিষ্যতে তাদের ক্রিয়াকলাপ সম্পর্কে আমাদের জ্ঞানও ক্রমবর্ধমানভাবে কমতে থাকবে। আমরা ভবিষ্যতে আরও গভীর অজ্ঞতায় পর্যবসিত হবো। তবে ভাগ্যের নির্মম পরিহাস যে, একটি সফল প্রযুক্তি ব্যবহার করা সবসময় সহজ ; এটি সবসময় পরিচিত মনে হয়! আর এর ফলে সেন্স অব আন্ডারেস্টেন্ডিং সম্পর্কে আমাদের অনুভূতি ক্রমশ বৃদ্ধি পেতেই থাকবে যদিও এ সীমাহীন জটিল প্রযুক্তি সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান অত্যন্ত দূর্বল। আমাদের ইলিউশন অব আন্ডারেস্টেন্ডিং কঠিন থেকে কঠিন হয়ে উঠবে। জীবন ও ব্যবসা পরিচালনার জন্য আমাদের এখনো মেশিনের উপর ধারাবাহিক এক্সেস প্রয়োজন হয়। প্রযুক্তি যত জটিল হবে এর অধীনে কী আছে সে সম্পর্কে আমরা আরও অজ্ঞ হয়ে যাব। আমরা আরও অধিক থেকে অধিক হারে বিশেষজ্ঞের উপর নির্ভরশীল হয়ে উঠবো। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি ঠিক আছে। সমস্যা উপস্থিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত। যখন প্রযুক্তি উপেক্ষা, যুদ্ধ ও প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারণে ব্যর্থ হবে, আমাদের জ্ঞানগত ইলিউশন থেকে সৃষ্ট সন্তুষ্টি আমাদের কামড়ানোর জন্য ফিরে আসবে। আমরা ব্যর্থ হবো। সম্পূর্ণ প্রদর্শনীজুড়ে শুধু বিশেষজ্ঞরাই দাঁড়িয়ে থাকবে। আমরা সম্ভবত আমাদের ডোমেইনে খুব বেশিদিন প্রধান থাকতে পারবো না,  আমরা অনেকটা কুকুরের মতো হয়ে যাবো, যারা সিস্টেমের সাথে কাজ করে, আমরা কোনোকিছুই পরিপূর্ণভাবে বুঝবোনা এবং এজন্য আমাদের পরিপূর্ণ কোনো নিয়ন্ত্রণও থাকবেনা। এর মানে হলো, আমাদের আরো সচেতন হতে হবে এবং আমাদের মনে করিয়ে দিতে হবে যে আমরা কী জানি আর সত্যিকার অর্থে কী হচ্ছে। কিন্তু ভালো সংবাদ হলো যে, প্রযুক্তির গণনাতীত সুবিধা আছে, নিরাপত্তা বৃদ্ধি, পরিশ্রম কমানো এবং কার্যদক্ষতার উন্নতি। আর এছাড়া আমরা সুবিধা পেতে পারি অধিক থেকে অধিকতর ওয়ার্ল্ড এক্সপার্ট বন্দোবস্তের মাধ্যমে যেনো আমরা আমাদের কমিউনিটি নলেজ থেকে সর্বোচ্চ সুবিধা ভোগ করতে পারি।

তথ্যসূত্রঃ

আরও আর্টিকেল পড়ুন-

লিখেছেন: লিহন

সম্পাদনায়: ফাতিমা আক্তার পাপিয়া

hsbd bg