প্যারাডক্সিক্যাল ইউনিভার্স-মিচিও কাকু
মূলপাতা প্রকাশনাঅনুবাদ গ্রন্থ প্যারাডক্সিক্যাল ইউনিভার্স- মিচিও কাকু

প্যারাডক্সিক্যাল ইউনিভার্স- মিচিও কাকু

লিখেছেন অ্যান্ড্রোস লিহন
121 বার পঠিত হয়েছে

প্যারাডক্সিক্যাল ইউনিভার্স


মধ্যযুগে, বিশ্ব ছিলো একটি মঞ্চ, কিন্তু এটি ছিলো ক্ষুদ্র, স্থির এবং স্থিতিশীল একটি ছোট ও সমতল গ্রহ, যার স্বর্গীয় শরীরগুলো রহস্যজনক ও যথাযথভাবে তাদের পরিপূর্ণ স্বর্গীর বৃত্তের চারপাশে আবর্তিত হয়। যখন ১০৬৬ সালে ইংল্যান্ডের উপর দিয়ে বিরাট ধুমকেতু উড়ে গিয়েছিলো তখন, এটি সেক্সনকে আতঙ্কিত করে যারা ছিলো হ্যারল্ডের সৈন্য, দ্রুত তার অবনতি ঘটে, উইলিয়ামের সৈন্যরা বিজিত হয়, যারা আধুনিক ইংল্যান্ড গড়ে তোলে। একই কমেট পূনরায় ইংল্যান্ডে ভ্রমণ করেছিলো ১৬৮২ সালে। প্রত্যেকে, এই অপ্রত্যাশিত স্বর্গীয় পরিভ্রাজককে দেখে মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে ছিলো। এ কমেট কোথায় থেকে এসেছে? এটি কোথায় যাবে? এবং এর মানে কী? একজন সম্পদশালী ভদ্রলোক, এডমুন্ড হ্যালি, একজন অপেশাদারি এস্ট্রোনামোর, এ কমেট দেখে আতঙ্কিত হয় এবং তিনি সে সময়ের শ্রেষ্ঠতম বিজ্ঞানী নিউটনের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চান। যখন তিনি নিউটনকে প্রশ্ন করলেন, কোন ফোর্স ধুমকেতুর গতি নিয়ন্ত্রণ করে, নিউটন শান্তস্বরে জবাব দিয়েছিলেন যে, ধুমকেতুটি একটি কক্ষপথে আবর্তিত হয় বলের সুত্রের বিপরিত বর্গ ক্ষেত্রের প্রভাবে (Inverse Squire of Force Law)! প্রকৃতপক্ষে, নিউটন বলেন, তিনি ধুমকেতুটিকে টেলিস্কোপ দিয়ে ট্র্যাকিং করেছিলেন ( যে টেলিস্কোপটি আজ বিশ্বের সকল জ্যোতির্বিজ্ঞানী ব্যবহার করেন) এবং এর পথ মহাকর্ষের সুত্র মেনে চলে যা তিনি ২০ বছর পূর্বেই আবিষ্কার করেছিলেন! হ্যালি আশ্চর্য হলেন, আপনি কিভাবে জানেন?হ্যালির কথাকে গুরুত্ব দিয়ে, নিউটন উত্তর দিলেন, কেনো, আমি এটাকে গণনা করেছি”। হ্যালির বুনো স্বপ্ন কখনোই প্রত্যাশা করেনি যে সে স্বর্গের গোপন রহস্য শুনবে যা মানব সভ্যতাকে রহস্যময় করে রেখেছিলো তখন থেকে যখন তারা সর্বপ্রথম স্বর্গের দিকে তাকিয়েছে, যাকে এখন ব্যাখ্যা করা যায় গ্রেভেটির নতুন সুত্র দিয়ে! এ স্মরণীয় অগ্রগতির তাৎপর্য নিয়ে স্তম্ভিত হ্যালি এ নতুন তত্ব প্রকাশের জন্য অর্থ প্রদানের প্রস্তাব করলেন। ১৬৮৭ সালে হ্যালির উৎসাহ এবং সহায়তা নিয়ে নিউটন তার যুগান্তরকারী কর্ম Philosophiae Natualis Principa Mathematica প্রকাশ করলেন। এটিকে স্মরণাতীতকালে প্রকাশিত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে প্রশংসা করা হয়। এক ঝাঁকুনিতে, যে সকল বিজ্ঞানী সোলার সিষ্টেমের বিশাল নিয়ম সম্পর্কে অজ্ঞাত ছিলো তারা ভবিষ্যৎবানী করতে সক্ষম হলো, একেবারে আলপিনের অগ্রভাগের সমান যথার্থতার সাথে, স্বর্গীয়বস্তুগুলোর গতি। সেলোনে, প্রিন্সিপিয়ার প্রভাব এত বেশি ছিলো যে, ইউরোপের কবি, আলেকজান্ডার পোপ লিখেছিলেন,

Nature and Nature’s Laws Lay hid in the night,
God said. Let, Newton Be! and all was light.

(হ্যালি বুঝতে পেরেছিলেন যে, ধুমকেতু যদি কক্ষপথে আবর্তিত হয়, যে কেউ এটিকে গণনা করতে পারবে কখন এটি আবার লন্ডনে দেখা দেবে। অতীতের রেকর্ড অনুসন্ধান করে, তিনি দেখতে পান যে ১৫৩১,১৬০৭ এবং ১৬৮২ সালে ঠিক একই কমেট এসেছিলো, যে ধুমকেতু আধুনিক ইংল্যান্ড তৈরির মূল কেন্দ্রবিন্দু ১০৬৬ সালে সেটিকে জুলিয়াস সিজার সহ ইতিহাসের অনেক ব্যক্তি দেখেছিলো। হ্যালি প্রেডিকশন করলেন এ ধূমকেতু সম্ভবত আবার ১৭৫৭ সালে ফিরে আসবে!) যখন ধুমকেতুটি ক্রিস্টমাস ডে’তে হ্যালির প্রেডিকশন অনুযায়ী ফিরে এলো, এটিকে হ্যালির ধুমকেতু হিসেবে উদযাপন করা হয়েছিলো! নিউটন, গ্রেভেটির ইউনিভার্সাল আইন বিশ বছর পূর্বেই আবিষ্কার করেছিলেন যখন ব্লাকপ্লেগ ক্রেম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়কে বন্ধ করে দিয়েছিলো এবং তাকে তার দেশের জমিদারি উলস্ট্রোর্পে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছিলো! তিনি স্নেহার্দ্রভাবে স্মরণ করতেন, যখন তিনি তার স্টেটে হাঁটছিলেন, তিনি দেখলেন একটি আপেল নিচে পড়েছে। তখন তিনি নিজেকে একটি প্রশ্ন করেন, আপেল যদি মাটিতে পতিত হয় চাঁদও কী তবে পতিত হবে? একটি সৃজনী প্রতিভার ঝাঁকুনিতে, নিউটন বুঝতে পারেন যে, আপেল ও চাঁদ এবং সকল গ্রহ একই গ্রেভিটেশনাল আইন মেনে চলে, তারা সবাই বিপরীতে বর্গক্ষেত্রের সূত্রানুযায়ী পতিত হয়। যখন তিনি বুঝতে পারলেন যে সতের শতকের গণিত এ বলকে ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে একেবারেই দূর্বল তখন তিনি গণিতের নতুন একটি শাখা আবিষ্কার করেন, ক্যালকুলাস, যার মাধ্যমে আপেল ও চাঁদের মোশন নির্ণয় করা যায়। প্রিন্সিপিয়াতে, নিউটন আরো লিখেন ম্যাকানিক্সের আইন, গতির সুত্র যা সকল টেরিস্টিয়াল ও সিলেস্টিয়াল বডির ট্রাজেক্টরি নির্ণয় করে। এ আইনগুলো মেশিনের নকশার ভিত্তি, স্টিপ পাওয়ারের সজ্জা এবং লকোমোটিভ তৈরি করে যা শিল্প বিপ্লব ও আধুনিক সভ্যতার পথ নির্দেশ করে। বর্তমানে স্কাইস্ক্রেপার, প্রতিটি ব্রিজ, প্রতিটি রকেট তৈরি করা হয় নিউটনের গতির সুত্র ব্যবহার করে! নিউটন শুধু শ্বাশত গতির সুত্রই দেয়নি; তিনি বিশ্বদৃষ্টিও ঘুরিয়ে দিয়েছেন, আমাদেরকে আমূলভাবে মহাবিশ্বের নতুন ছবি প্রদান করে! “The Stage of life was no longer Surrounded by terrifying Celestial Omens; the same laws that applied to the actors also applied to the Set.”

প্যারাডক্সিক্যাল ইউনিভার্স- মিচিও কাকু

বেন্টলি প্যারাডক্স

Bentley Paradox

প্রিন্সিপিয়া একটি বিলাসবহুল কর্ম হওয়া সত্ত্বেও এটি মহাবিশ্বের গঠনের ব্যাপারে প্রথম বিভ্রান্তিকর প্যারাডক্স তৈরি করে। যদি বিশ্ব একটি মঞ্চ হয়, এটি কত বড়? এটি কী অসীম নাকি সসীম? এটি একটি অতিপ্রাচীন প্রশ্ন। এমনকি রোমান দার্শনিক লুক্রেটিয়াস এটি দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন। “মহাবিশ্ব কোনো দিক দিয়েই সীমাবদ্ধ নয়, তিনি লিখেন! যদি এটি হতো, এর অবশ্যই কোথাও সীমা থাকার প্রয়োজন ছিলো। কিন্তু সুস্পষ্টভাবে কোন বস্তুর সীমা থাকতে পারে না, যদি বাহির থেকে এটিকে কেউ সীমাবদ্ধ না করে! সকল ডায়মেনশন সাদৃশ্যপূর্ণ, এ পাশ হোক বা ওপাশ, উপর হোক বা নিচে, সমগ্র মহাবিশ্বজুড়ে, কোন সীমা নেই! যেকোনো তত্বের মাঝে মহাবিশ্বের সসীমতা বা অসীমতা নিয়ে যে প্যারাডক্স লুকায়িত থাকে নিউটনের তত্বও সেই প্যারাডক্স প্রকাশ করে। একটি অত্যন্ত সহয প্রশ্ন ব্যাপক জটিলতা তৈরি করে। যদিও প্রিন্সিপিয়া তার সুখ্যাতি এনে দেয় কিন্তু তিনি বুঝতে পারেন তার প্রিন্সিপিয়া প্যারাডক্স দ্বারা আক্রান্ত। ১৬৯২ সালে একজন যাজক, রিচার্ড বেন্টলি, নিরানন্দের সাথে খুব সহয কিন্তু হতাশাজনক একটি চিঠি লিখেন। যেহেতু গ্রেভেটি সবসময় আকর্ষণীয় এটি কখনো বিকর্ষণ করেনা, বেন্টলি লিখেন, এর মানে হলো কিছু নক্ষত্র প্রাকৃতিকভাবেই একে অপরের সাথে কলাপ্স করবে। যদি মহাবিশ্ব সসীম হয়, তবে রাতের আকাশ শ্বাশ্বত ও স্থির হওয়ার পরিবর্তে ব্যাপক ধবংসযজ্ঞে পরিপূর্ণ হওয়া উচিত, নক্ষত্রগুলো একে অপরের উপর আছড়ে পড়বে এবং তারা একত্রিত হয়ে মহাতারকা তৈরি করবে (Superstar)! কিন্তু বেন্টলি বলেন, যদি রাতের মহাকাশ অসীম হয়, তাহলে যেকোনো বস্তুর উপর ক্রিয়াশীল বল যা এটিকে সামনে ও পেছনে টেনে ধরে সেগুলোকেও অসীম হওয়া উচিত আর এতে করে নক্ষত্রগুলো ছিড়ে টুকরো টুকরো হয়ে মহাপ্লাবনে পরিণত হতে পারে! প্রথমে মনে হবে, বেন্টলি নিউটনকে আবিষ্ট করেছে। মহাবিশ্ব হয়তো অসীম নতুবা সসীম। যাই হোক,  উভয় সম্ভাবনাই ছিলো নিউটনের প্রস্তাবিত এ তরুণ থিওরির জন্য ঘূর্ণিঝড়। এটি ইতিহাসে সর্বপ্রথম সমস্যা সৃষ্টি করে, যেটি সুক্ষ্ম ও সহযাত একটি প্যারাডক্স প্রকাশ করে যখন গ্রেভেটির যেকোনো সুত্রকে সম্পূর্ণ মহাবিশ্বের উপর প্রয়োগ করা হয়। সতর্ক চিন্তার পর, নিউটন লিখে পাঠান যে তিনি এ আর্গুমেন্টে একটি loophole পেয়েছেন। তিনি পছন্দ করলেন একটি অসীম মহাবিশ্ব, এমন একটি মহাবিশ্ব যেটি সামগ্রিকভাবে ইউনিফর্ম। যদি ডান পাশের নক্ষত্ররা একে অপরকে আকর্ষণ করে বিপরীতভাবে নক্ষত্রদের Infinite Sequence এর টান সে আকর্ষণকে ক্যান্সেল করে দেবে যা একটি সুস্থির মহাবিশ্বের জন্ম দেবে! সকল ফোর্স সকল ডিরেকশনে ব্যালান্স হয়ে যাবে, বেন্টলি প্যারাডক্সের একমাত্র সলিউশন হলো ইউনিফর্ম ও ইনফিনিট ইউনিভার্স! নিউটন মূলত, বেন্টলের আর্গুমেন্টে একটি লুপহোল পেয়েছিলেন কিন্তু তিনি তার নিজিস্ব প্রতিক্রিয়ার দূর্বলতা সম্পর্কেও সচেতন ছিলেন। নিউটনের অসীম ও ইউনিফর্ম মহাবিশ্ব একটি তাসের ঘরের মতো ; যেটিকে দেখলে স্থিতিশীল মনে হবে কিন্তু সামান্যতম ডিস্টার্বেন্সের জন্য এটি কলাপ্স করবে! যেকেউ গণনা করতে পারবে যে যদি শুধুমাত্র একটি পৃথক নক্ষত্রও অতিক্ষুদ্রমাত্রায় এদিকওদিক করে এটি চেইন রিয়েকশন তৈরি করবে এবং নক্ষত্রের ক্লাস্টার তাৎক্ষণিক কলাপ্স করতে শুরু করবে! নিউটনের দূর্বল প্রতিক্রিয়া স্বর্গীয় ক্ষমতার পক্ষে এতটাই আবেদনময় ছিলো যে এটি মহাবিশ্বকে সাংঘর্ষিকতা থেকে দূরে রাখতো। তিনি লিখেন একটি ধারাবাহিক মিরাকলের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে সূর্য ও নক্ষত্রকে গ্রেভেটির মাধ্যমে নির্দিষ্ট দূরত্বে রাখার জন্যে। নিউটনের মহাবিশ্ব ছিলো একটি বিশালাকার ঘড়ির মতো যেটি সৃষ্টির প্রারম্ভ থেকে স্পন্দিত হচ্ছে তার গতির তিনটি সুত্র অনুসারে, কোনপ্রকার স্বর্গীয় হস্তক্ষেপ ব্যতীত। কিন্তু একটা সময় ঈশ্বর মহাবিশ্বে সামান্যতম হস্তক্ষেপ করে ও চিমটি কাটে এটিকে সংঘর্ষমুক্ত রাখার জন্যে!

অলবার প্যারাডক্স

OlBERS PARADOX

বেন্টলি প্যারাডক্স ছাড়াও, অসীম মহাবিশ্বের সাথে সম্পৃক্ত আরো গভীর একটি প্যারাডক্স আছে। অলবার প্যারাডক্স শুরু হয় একটি প্রশ্নের মাধ্যমে, রাতের আকাশ কেনো অন্ধকার। জোতির্বিজ্ঞানী জোহান কেপলার সর্বপ্রথম অনুধাবন করেছিলেন যে যদি মহাবিশ্ব ইউনিফর্ম ও ইনফিনিট হয় তবে আমরা মহাবিশ্বের যেদিকে তাকাতাম সেদিকেই অন্ধকার দেখতাম না , আপনি অসীম সংখ্যক নক্ষত্রের আলো দেখতেন। আপনি মহাকাশের যে বিন্দুতেই তাকান আমাদের চোখের রেখা মূহুর্তেই অসীম সংখ্যক নক্ষত্র অতিবাহিত করতো এবং অসীম পরিমাণ আলো সংগ্রহ করতো। রাতের আকাশে আগুন লেগে যেতো! রাতের আকাশ কালো, সাদা নয়, এ প্যারাডক্স প্রায় এক শতাব্দী সময়কে দখল করে রেখেছিলো। অলবার প্যারাডক্স, বেন্টলে প্যারাডক্সের মতো, বিভ্রান্তিকর ভাবে সরল যা বহু প্রজন্মের দার্শনিক ও জোতির্বিদদের জর্জরিত করে রেখেছিলো, অসীম মহাবিশ্বে গ্রেভিটেশনাল ফোর্স এবং লাইট অসীম সংখ্যক রেজাল্ট প্রদর্শন করে যা অর্থহীন। একশত বছর ধরে অজস্র ভুল উত্তর প্রস্তাব করা হয়েছিলো। কেপলার নিজেই এই প্যারাডক্স দ্বারা বিভ্রান্ত হয়েছিলেন, তিনি খুব সাধারণভাবে দাবি করেন যে, মহাবিশ্ব সসীম। একটি শেলের মধ্যে আবদ্ধ যে জন্যে শুধু সসীম সংখ্যক তারকার আলো আমাদের চোখে প্রবেশ করে।
এই প্যারাডক্স এত বেশি বিভ্রান্তি তৈরি করে রেখেছিল যে ১৯৮৭ সালের একটি পরিসংখ্যানে দেখা যায় ৭০ ভাগ এস্ট্রোনোমির গ্রন্থ ছিলো ভুলে পরিপূর্ণ। প্রথমত যেকেউ চেষ্টা করবে অলবার প্যারাডক্স সমাধান করতে এটা বলে যে, মেঘের ধুলিকণা আলোকে শোষণ করে, আর এভাবে শুধু সসীম পরিমাণ আলো আমাদের চোখে প্রবেশ করে। এটি ছিলো হেনরিক উইলহেল্মের নিজের প্রদত্ত একটি উত্তর। অলবার লিখেছেন, কি সৌভাগ্য যে আমাদের পৃথিবী সিলেস্টিয়াল ভল্টের সকল বিন্দু থেকে আলোকে গ্রহণ করেনা! তবুও সে অকল্পনীয় আলোর উজ্জ্বলতা এবং তাপ, নির্ধারণ করা হয়েছে আমাদের অভিজ্ঞতালব্ধ তাপ থেকে ৯০ হাজার গুণ বেশি, ঈশ্বর সম্ভবত এমনকিছু জীবকে ডিজাইন করেছে যারা এত বিপুল তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে। প্যারাডক্সিক্যাল ইউনিভার্স- মিচিও কাকু 
অলিবার বলেন, আসলেই যদি সত্যিকার অর্থে এটি সত্য হতো তবে গ্যালাক্সির কেন্দ্র যা রাতের আকাশকে শাসন করে সেটি আসলে ধুলিকণার আড়ালে।আর এ জন্য আমরা যদি সেগেটারিয়াস কনস্টালেশনের দিকে তাকাতাম, যেখানে মিল্কিওয়ের কেন্দ্র অবস্থিত সেখানে আমরা কোনো উজ্জ্বল জ্বলন্ত গোলক দেখতাম না , অন্ধকার দেখতাম। ডাস্ট ক্লাউড সত্যিকার অর্থে অলিবার প্যারাডক্স সমাধান করতে পারেনি। অসীম বছর ধরে ডাস্ট ক্লাউড অসীম সংখ্যক নক্ষত্র থেকে আলো শোষণ করবে এবং আকষ্মিক সেগুলোও নক্ষত্রের সারপেজে পরিণত হবে। এবং এসব ধুলিকণা রাতের মহাকাশে নক্ষত্রের মতো জ্বল জ্বল করবে। ঠিক একইভাবে, যে কেউ প্রস্তাব করতে পারেন, নক্ষত্ররা যত দূরে এগুলোর আলো তত দূর্বল।এটি সত্য কিন্তু এটি কোনো উত্তর নয়। আমরা যদি আকাশের কোন একটি অংশের দিকে তাকাই , অনেক দূরের নক্ষত্রগুলো অবশ্যই দূর্বল কিন্তু আমাদের নিকট তো আরো অনেক নক্ষত্র আছে। এ দুটি ইফেক্ট অবশ্যই ইউনিফর্ম মহাবিশ্বকে ক্যান্সেল করে দেবে এবং রাতের আকাশকে সাদা করে রেখে যাবে। অদ্ভুত ব্যাপার হলো যে, ইতিহাসের প্রথম ব্যক্তি যিনি এ প্যারাডক্সটি সমাধান করেছিলেন তিনি হলেন, আমেরিকার রহস্যের লেখক Edgar Allan Poe, যার ছিলো এস্ট্রোনোমির প্রতি গভীর আগ্রহ। তার মৃত্যুর কিছুদিন পূর্বেই তিনি তার পর্যবেক্ষণগুলো অসংলগ্নভাবে প্রকাশ করে গিয়েছিলেন, তার একটি দার্শনিক কবিতা ছিলো যার নাম Eureka: A Prose Poem। এ উল্লেখযোগ্য রচনায় তিনি লেখেন,


Were the Succession of stars Endless, then the background of sky would present un an uniform luminosity, like that displayed by the Galaxy – Since there Could be absolutely no point, in all that background, at which would not exist star. The only mode, therefore, in which, Under such state of agfairs, we could comprehend the voids which our telescope find in innumerable direction, woluld be by supposing that the distance of the invisible background so immense that no ray from it has yet been able to reach us at all.


এটি ছিলো, সঠিক উত্তরের মূল চাবিকাঠি। মহাবিশ্ব অসীমভাবে বৃদ্ধ নয়। মহাবিশ্বের একটি শুরু আছে। যে নক্ষত্রগুলো আমাদের চোখে আছে তাদের একটি সসীম সংক্ষিপ্ততা আছে। অতি-দূরের নক্ষত্রগুলো থেকে আলো এখনো আমাদের চোখে এসে পৌঁছেনি। মহাবিশ্ববিদ, এডওয়ার্ড হ্যারিসন, যিনি প্রথম আবিষ্কার করেছিলেন যে পোই, অলবার প্যারাডক্স সমাধান করতে পেরেছেন, তিনি লিখেন, আমি যখন প্রথম পোই এর শব্দগুলো পড়লাম আমি খুব বিষ্মিত হয়েছিলাম, কীভাবে একজন কবি, খুব ভালো করে বললে একজন অপেশাদার বিজ্ঞানী, ১৪০ বছর পূর্বে সঠিক ব্যাখ্যাটি বুঝতে পেরেছিলেন, যা আমাদের কলেজগুলোতে এখনো ভুল ব্যাখ্যা পড়ানো হয়? ১৯৯১ সালে স্কটিস পদার্থবিজ্ঞানী লর্ড কেলভিন, সঠিক উত্তরটি আবিষ্কার করেন, তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে,  যখন আপনি রাতের মহাকাশের দিকে তাকান, আপনি দেখেন এর দিকে যা অতীতে ছিলো, বর্তমানে নেই, কারণ আলোর গতি, যদিও পৃথিবীর স্ট্রান্ডার্ড থেকে অনেক বিশাল (১৮৬,২৮২ মাইল প্রতি সেকেন্ডে), এটি তারপরও সসীম, আলোকে দূরবর্তী নক্ষত্র থেকে আমাদের গ্রহে আসতে সময় প্রয়োজন হয়। কেলভিন গণনা করে বলেন, রাতের আকাশ সাদা হওয়ার জন্যে, মহাবিশ্বকে ট্রিলিয়ন লাইট ইয়ার্স সুবিস্তৃত হওয়া প্রয়োজন। কিন্ত যেহেতু মহাবিশ্ব ট্রিলিয়ন আলোকবর্ষ পুরানো নয় রাতের আকাশ কালো! ( রাতের আকাশ কালো হওয়ার আরো একটি অবদানমূলক কারণ ছিলো,নক্ষত্রদের সীমিত জীবনকাল, যা বিলিয়ন বছরে পরিমাপ করা হয়)। বর্তমানে, চুড়ান্ত নিশ্চয়তার সাথে পোই সলিউশনের শুদ্ধতা যাচাই করা সম্ভব, হাবল স্পেস টেলিস্কোপের স্টেটলাইট ব্যবহার করে। এ শক্তিশালী টেলিস্কোপ, আমাদেরকে উত্তর দেয় একটি শিশুসুলভ প্রশ্নের- কোথায় দূরবর্তী নক্ষত্ররা? এবং সে সকল দূরবর্তী নক্ষত্রের অতীতে কী আছে? এ প্রশ্নের উত্তর দেবার জন্য এস্ট্রোনোমাররা হাবল স্পেস টেলিস্কোপকে প্রোগ্রাম করেন এ ঐতিহাসিক কার্য সম্পাদন করার জন্য। যেটি মহাবিশ্বের দূরবর্তী প্রান্ত থেকে স্ন্যাপসট গ্রহণ করে। যেটি স্পেসের একেবারে গভীর প্রান্ত থেকে দূর্বল চুড়ান্তভাবে দূর্বল এমিশন ক্যাপচার করে। এ প্রজেক্ট এতোটাই কঠিন ছিলো যে এ জন্যে প্রায় ৫ মাস খরচ হয়ে যায়। ২০০৪ সালে, একটি হতবুদ্ধিকর ফটোগ্রাফ প্রকাশিত হয়, যা বিশ্বের ফ্রন্টপেজ হেডলাইটে পরিণত হয়েছিলো। এটি দেখিয়েছিলো দশ হাজার গ্যালাক্সির একটি সংগ্রহ যারা ঘনীভূত হয়ে বের হয়ে এসেছিলো স্বয়ং মহাবিস্ফোরণের বিশৃঙ্খলা থেকে, আমরা সম্ভবত দেখেছিলাম সূচনার সমাপ্তি যা স্পেস টেলিস্কোপ সায়েন্স ইনস্টিটিউশনের এন্টন কোয়েকমার প্রদর্শন করেন। এ ফটোগ্রাফ প্রদর্শন করে দূর্বল গ্যালাক্সির স্তুপ যারা আমাদের পৃথিবী থেকে ১৩ বিলিয়ন বছর পুরাতন, এর মানে হলো এ গ্যালাক্সিগুলো গঠিত হয়েছিলো সৃষ্টির অর্ধ বিলিয়ন বছর পর, যখন প্রথম নক্ষত্র ও গ্যালাক্সি গ্যাসের সোপ থেকে ঘনীভূত হয়েছিলো যা মহাবিস্ফোরণ ত্যাগ করে। কিন্তু এবার একটি প্রশ্ন জাগ্রত হয়, দূরবর্তী গ্যালাক্সির অতীতে কী আছে? যখন এ ফটোগ্রাফটি সুক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ (Peering) করা হয়েছিলো তখন দেখা গেলো একমাত্র ”অন্ধকার”  এ গ্যালাক্সিগুলোর মাঝখানে অবস্থিত। কারণ দূরবর্তী নক্ষত্র থেকে আলো সংক্ষিপ্ত হয়ে যায়। যাই হোক অন্ধকার, পালাক্রমে ব্যাকগ্রাউন্ড মাইক্রোওয়েভ রেডিয়েশনও। অতএব চুড়ান্তভাবে যখন প্রশ্ন করা হবে রাতের আকাশ কেনো কালো তখন বলতে হবে রাতের মহাকাশ আসলে কালো নয়। ( আমরা যদি যেকোনোভাবে শুধুমাত্র দৃশ্যমান তরঙ্গের পরিবর্তে, মাইক্রোওয়েভ রেডিয়েশন দেখতে সক্ষম হতাম ,আমরা দেখতে পেতাম, মহাবিস্ফোরণের রেডিয়েশন নিজেই রাতের মহাকাশকে প্লাবিত করে রেখেছে। যদি আমাদের মাইক্রোওয়েভ দেখতে সক্ষম হতাম, আমরা দেখতে পেতাম যে,স্বয়ং দূরবর্তী নক্ষত্রের অতীতের সৃষ্টিকে!)


আইনস্টাইনের বিদ্রোহ

EINTIEN THE REBEL

নিউটনের আইন এতটাই সফল ছিলো যে প্রায় দুইশত বছর সময় লেগেছিলো বিজ্ঞানকে নতুন একটি প্রদক্ষেপ নিতে, আইনস্টাইনের কাজের ভেতর দিয়ে। আইনস্টাইন, এ বিপ্লবের একজন প্রতিযোগি হিসেবেই তার কেরিয়ার শুরু করেন। জুরির পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, সুইজারল্যান্ডের, ব্যাচেলর ডিগ্রি সমাপ্ত করার পর, ১৯০০ সালে, তিনি নিরাশভাবে নিজেকে কর্মহীন হিসেবে খুঁজে পান। তার কেরিয়ার ছিলো প্রফেসরের সাথে অন্তর্ঘাত, যিনি এ লজ্জাহীন, ধৃষ্ট ছাত্রকে অপছন্দ করতেন , যিনি মাঝেমধ্যে ক্লাশ কামাই করতেন! তার সনির্বদ্ধ, ও হতাশজনক পত্র প্রদর্শন করে এর গভীরতা যেখানে তিনি অবতীর্ণ হয়েছিলেন। তিনি নিজেকে ব্যার্থ ও পিতামাতার একটি অর্থনৈতিক বোঝা বলে বিবেচনা করতেন। একটি মর্মভেদী চিঠিতে, তিনি অনুতাপ করেছিলেন এবং এমনকি নিজের জীবন শেষ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন; আমার পিতামাতার দূর্ভাগ্যজনক দারিদ্রতা, যারা বহু বছর একটি সুখের মুহূর্ত পায়নি, এটি আমার ভেতরটা খুব ভারী করে তোলে……আমি কিছুই না কিন্তু পরিবারের একটি বোঝা….এটি খুব ভালো হতো যদি আমি জীবিত না থাকতাম,” যা তিনি বিষন্নভাবে লিখেছিলেন! হতাশা থেকে, তিনি চিন্তা করেন, কোন একটি ইনসুরেন্স কোম্পানিতে জয়েন করে নিজের কেরিয়ার শুরু করবেন। এমনকি তিনি বাচ্ছা পড়ানোর একটি জব নেয়ার চেষ্টা করেন কিন্তু তার মালিকের একটি অজুহাত শোনেন এবং রাগান্বিত হন। যখন তাঁর প্রেমিকা মিলিভা মেরিক, অপ্রত্যাশিতভাবে গর্ভবতী হয়ে যান, তিনি দুঃখের সাথে অনুধাবন করেন তার সন্তান অবৈধ কারণ তার কাছে বিয়ে করার জন্যে প্রয়োজনীয় সম্পদ ছিলোনা। এবং একটি গভীর ব্যক্তিগত আঘাত তিনি পেয়েছিলেন যখন তাঁর বাবা আকশষ্মিক মারা যান, তিনি আবেগীয়ভাবে এতটাই আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে উঠেছিলেন যে তা তিনি আর কোনদিন কাটিয়ে উঠতে পারেননি। তার বাবা এই ভেবে মৃত্যুবরণ করেন যে তার সন্তান বুঝি ব্যার্থ। যদিও ১৯০১-০২ সম্ভবত আইনস্টাইনের জীবনের সবচেয়ে খারাপ সময় ছিলো। তার ভবিষ্যতকে বিস্মৃতি থেকে রক্ষা করেছিলো মার্সেল গ্রোসম্যান, আইনস্টাইনের ক্লাসমেট, যিনি আইনস্টাইনকে সুইস প্যাটেন্ট অফিসে একটি কেরানীর চাকরির ব্যবস্থা করে দেন! প্যারাডক্সিক্যাল ইউনিভার্স- মিচিও কাকু


প্যারাডক্স অব রিলেটিভিটি

Paradox of Relativity

প্যাটেন্ট অফিসের ভূপৃষ্ঠে যেটি ছিলো একটি অস্বাভাবিক স্থান যা নিউটনের পর ফিজিক্সের ইতিহাসে এক নতুন বিপ্লব নিয়ে আসে। তার ডেস্কে পড়ে থাকা প্যাটেন্টের এপ্লিকেশনগুলি পূরণ করার পর আইনস্টাইন হেলান দিয়ে বসতেন এবং সেই স্বপ্নে ফিরে যেতেন, যখন তিনি শিশু ছিলেন। তারুণ্যে আইনস্টাইন Aaron Bernstein’s People’s Book on Natural Science নামক একটি বই পড়েছিলেন , ” একটি কর্ম যা আমি এক শ্বাসরুদ্ধকর মনোযোগ নিয়ে পড়েছিলাম, “তিনি স্মরণ করেন। বার্নেস্টাইন তার পাঠকদের প্রশ্ন করেছিলেন, কল্পনা করো তুমি ইলেক্ট্রিসিটির সাথে রাইডিং করছো যখন এটি টেলিগ্রাফের তারে ভ্রমণ করছে! আইনস্টাইন স্মরণ করেন, একটি প্রিন্সিপ্যাল যা প্যারাডক্স থেকে বেরিয়ে এসেছে যেটি আমাকে ইতমধ্যে ষোল বছর বয়সেই আঘাত করেছেঃ আমি যদি C ( Velocity of light in Vaccuum) বেগে আলোকে অনুসরণ করি, আমার উচিত ঐ আলোকরশ্মিকে স্থানিকভাবে দোদুল্যমান ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড হিসেবে দেখা। যাই হোক, এখানে মনে হয় সেরকম কিছু নেই, যদি ম্যাক্সওয়েলের ইকুয়েশন অনুসারে দেখা হয়। একজন শিশু হিসেবে আইনস্টাইন চিন্তা করেন যে, আপনি যদি একটি আলোকরশ্নিরকে অনুসরণ করে ছুটেন, এটিকে উচিত স্থির দেখা, অনেকটা গতিহীন তরঙ্গের মতো। যাইহোক, কেউই ফ্রোজেন লাইট দেখবেনা, অতএব হতে পারে ভয়ানকভাবে কোনোকিছু একটা ভুল। বিগত শতকের শেষের দিকে, ফিজিক্সের দুজন মহান স্তম্ভ ছিলো, যেখানে সবকিছু অবস্থান করেঃ নিউটনের থিওরি অব ম্যাকানিক্স ও গ্র্যাভিটি এবং ম্যাক্সওয়েলের থিওরি অব লাইট। ১৮৬০ সালে, স্কোটিস ফিজিসিস্ট জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল প্রদর্শন করেন, আলো বিদ্যমান থাকে কম্পমান ইলেক্ট্রিক ও ম্যাগনেটিক ফিল্ড হিসেবে যা কনস্ট্যান্টলি একে অপরের ভেতর চেব্জ হচ্ছে। আইনস্টাইন মর্মাহতভাবে যা আবিষ্কার করেছিলেন, এ দুটি স্তম্ভ একে অপরের সাথে কন্ট্রাডিক্ট করে এবং এদের যেকোনো একটি পতিত হয়! ম্যাক্সওয়েলের সমীকরণের মাধ্যমে, তিনি এমন একটি পাজলের সলিউশন পেয়েছিলেন যা তাকে দশ বছর পর্যন্ত শিকার করে রেখেছিলো। আইনস্টাইন এমন কিছু পেয়েছিলেন যা ম্যাক্সওয়েল মিস করেছিলেন, ম্যাক্সওয়েল দেখিয়েছেন আলো একটি ধ্রুবগতিতে পথ চলে, কোন ব্যাপারই না আপনি যত দ্রুত গতিতে এটিকে স্পর্শ করার চেষ্টা করেন। আলোর গতি সকল ইনার্শিয়াল ফ্রেমের ক্ষেত্রেই সমান, আপনি দাঁড়িয়ে থাকেন, অথবা ট্রেনে ভ্রমণ করেন অথবা একটি দ্রুতবেগে চলমান ধুমকেতুর উপর বশে থাকেন আপনি দেখবেন যে আলো ঠিক আগের মতোই একই গতিতে আপনার সামনে ছুটে চলছে! কোন ব্যাপারই না আপনি যত দ্রুত গতিতে ছোটেন , আপনি কখনো আলোকে স্পর্শ করতে পারবেন না! এটি মুহূর্তে একটি প্যারাডক্সের ঝড় তোলে। কল্পনা করুন, এক মুহূর্তের জন্য, একজন এস্ট্রোনাট তার রকেটের শিপের গতি ততক্ষণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করলো যতোক্ষণ না এটি লাইট বিমকে স্পর্শ করে। পৃথিবীর কোনো পথচারী দেখবে এস্ট্রোনাট ও আলোকরশ্মি পাশাপাশি হাঁটছে কিন্তু এস্ট্রোনাট দেখবে সম্পূর্ণ ভিন্নকিছু, সে দেখবে আলো আগের মতোই তার থেকে সমান দূরত্বে ছুটছে আর রকেট স্থির হয়ে আছে। আইনস্টাইন যে প্রশ্নটির মুখোমুখি হয়েছিলো সেটি ছিলো, কিভাবে দুজন ব্যাক্তির একটি ঘটনা সম্পর্কে সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি ব্যাখ্যা থাকে? নিউটনের থিওরিতে, একজন ব্যাক্তি আলোক রশ্নিকে ধরতে পারবে; আইনস্টাইনের জগতে যেটি অসম্ভব। তিনি ফিজিক্সের ফান্ডামেন্টাল ফাউন্ডেশনেই একটি ত্রুটি খুঁজে পেয়েছিলেন। 1905 সালের এক বসন্তে, আইনস্টাইন স্মরণ করেন, “একটি ঝড় আমার মনকে ভেঙে দিয়েছিলো।” তিনি অবশেষে সমাধান খুঁজে পেয়েছিলেন, সময় ভিন্ন ভিন্ন বিটে কম্পন করে, এটা নির্ভর করে আপনি কত দ্রুত গতিতে দোঁড়াতে পারেন। প্রকৃতপক্ষে, যত দ্রুত আপনি মুভ করবেন, সময়ের গতি ততো ধীর হয়ে যাবে। সময় এবসলিউট নয়, যা নিউটন একসময় ভাবতেন। নিউটনের মতে, সময় ইউনিফর্মলি সমস্ত মহাবিশ্বে বিট করে, অতএব পৃথিবীর এক সেকেন্ড মঙ্গলের এক সেকেন্ডের অনুরুপ। ঘড়ি সমস্ত মহাবিশ্বে অ্যাবসলিউট সিনক্রোনাইজেশন অনুসারে বিট করে। আইনস্টাইনের মতে, যাই হোক, সমস্ত মহাবিশ্বে ঘড়ি ভিন্ন ভিন্ন বিটে কাজ করে। যদি সময় ভেলোসিটির (গতির) উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়ে যায় তবে অন্যান্য পরিমাপ যেমন দৈর্ঘ, ম্যাটার, এনার্জিও পরিবর্তন হয়ে যাবে। আপনি যত দ্রুত মুভ করবেন তত দ্রুত দূরত্ব সংকোচিত হবে ( যেটাকে মাঝেমাঝে Lorenz- FitzGwrald contraction বলা হয়)! একইভাবে, আপনি যত দ্রুত মুভ করবেন, আপনি ততো ভারী হবেন। ( প্রকৃতপক্ষে, যদি আপনি আলোর গতির কাছাকাছি চলে যান, সময় থেমে যাওয়ার মতো ধীর হয়ে যাবে, দূরত্ব কোনোকিছুর সাথে সংকুচিত হবেনা এবং আপনার ভর অসীম হয়ে উঠবে যার সবটাই কিম্ভুতকিমাকার। ঠিক এ জন্যেই আপনি আলোর গতির সীমাকে অতিক্রম করতে পারবেন না, যা মহাবিশ্বের আল্টিমেট স্পিড লিমিট)। স্থান ও কালের এ অদ্ভুত বিকৃতি একজন কবিকে লিখতে প্রভাবিত করেছিলো-

There was a Young Fellow namwd Fisk
Whose fencing was exceedingly brisk.
So fast was his action,
The FithGerald contraction
Reduced rapier to a disk.


একইসময় নিউটনের, যুগান্তরকারী, Unified Earth bound Physics ছিলো স্বর্গীয় ফিজিক্স। আইনস্টাইন স্পেস ও টাইমকে ইউনিফাই করেছিলেন। তিনি আরো দেখিয়েছেন, ম্যাটার ও এনার্জি ঐক্যবদ্ধ এবং এ জন্যে এদের একটিকে অন্যটিতে রুপান্তর করা যায়। যদি একটি অবজেক্ট যত দ্রুত মুভ করে এটি ততো ভারী হতে থাকে , এর মানে হলো মোশন এনার্জি বা গতিশক্তি ম্যাটারে রুপান্তরিত হয়ে যায়। আইনস্টাইন গণনা করেছিলেন, কী পরিমাণ শক্তি ম্যাটারে কনভার্ট হয়েছিল, তিনি E=MC√ একটি ফর্মুলা তৈরি করেন, এর মানে হলো, যদি অতিক্ষুদ্র পরিমাণ ম্যাটারকেও বড় কোনো সংখ্যা দিয়ে মাল্টিপ্লাইড (the Squires of Speed of light) করা হয় যখন এটি শক্তিতে পরিণত হয়! এভাবে নক্ষত্রদের নিজেদেরই গোপন এনার্জি উৎস প্রকাশিত হয়, এ ইকুয়েশনের মাধ্যমে ম্যাটারকে এনার্জিতে পরিণত করা যায় , যেগুলো মহাবিশ্বকে আলোকিত করে। নক্ষত্রদের গোপনীয়তা খুব সরল একটি বিবৃত্তি থেকে নিসৃত হয়, আলোর গতি সকল স্থির কাঠামো সাপেক্ষে সমান। তার পূর্বে নিউটনের মতো, আইনস্টাইন আমাদের জীবন মঞ্চের দৃষ্টিকোণ বদলে দেয়। নিউটনের জগতে, সকল অভিনেতাই জানতো, সময় আসলে কত, তারা যত দূরত্ব থেকে পরিমাপ করুক না কেনো! সময়ের বিট ও ডায়মেনশন অব স্ট্রেজ পরিবর্তন হয়না। কিন্তু রিলেটিভিটি আমাদের স্পেস-টাইম বোধের অদ্ভুত এক ব্যখ্যা দেয়। আইনস্টাইনের জগতে কজিতে ঘড়ি পরিহিত সকল পর্যবেক্ষক ভিন্ন ভিন্ন সময় পাঠ করবে। এর অর্থ হলো মঞ্চের সকল ঘড়িকে সিনক্রোনাইজড করা অসম্ভব। দুপুরেই এক রিহার্সাল সময়কে এক একজন পর্যবেক্ষকের কাছে এক একরকম মনে হবে। প্রকৃতপক্ষে, খুবই বিষ্ময়কর ঘটনা ঘটে যখন অভিনেতা মঞ্চের মধ্যখানে দৌঁড়াতে থাকে। যত দ্রুত তারা মুভ করে, তার ঘড়ি ততই ধীর হয়ে যায়, আর ততই তাদের শরীর ভারী ও পাতলা হয়ে উঠে। আইনস্টাইনের এ অন্তঃ দৃষ্টি বিজ্ঞানমহলে গৃহিত হতে বহু সময় লেগে যায়। কিন্তু আইনস্টাইন তবুও স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন না, তিনি রিলেটিভিটির এ নতুন থিওরি স্বয়ং গ্রেভেটির উপর প্রয়োগ করলেন। তিনি অনুধাবন করলেন, এটা কত কঠিন হবে, তিনি তার সময়ের শ্রেষ্ঠতম থিওরি মিশ্রিত করেন। ম্যাক্সপ্লাঙ্ক যিনি কোয়ান্টাম ম্যাকানিক্সের প্রবক্তা তিনি তাকে সতর্ক করেন, একজন বৃদ্ধ বন্ধু হিসেবে, আমি আপনাকে এর বিপক্ষে উপদেশ দেবো, প্রথমত আপনি সফল হবেন না, এবং এমনকি যদিও আপনি সফল হন কেউ আপনাকে বিশ্বাস করবেনা! আইনস্টাইন বুঝতে পারলেন যে, তার গ্রেভেটির নতুন থিওরি, নিউটোনিয়ান থিওরি অব গ্রেভেটিকে লঙ্গন করে। নিউটনের মতে, গ্রেভেটি তাৎক্ষণিক সমস্ত মহাবিশ্বে ট্রাভেল করে। কিন্ত এটি একটি প্রশ্ন তৈরি করে যা বাচ্ছারাও মাঝেমধ্যে করতে পারে, কী ঘটবে যদি চাঁদ অদৃশ্য হয়ে যায়? নিউটনের মতে, সমস্ত মহাবিশ্ব একইসাথে চাঁদের অনপুস্থিতিতি তাৎক্ষণিক বুঝতে পারবে। কিন্তু স্পেশাল থিওরি অব রিলেটিভিটি অনুসারে, এটি অসম্ভব কেননা না তারকার অনপুস্থিতি আলোর গতি দ্বারা সীমাবদ্ধ। এ সমস্যাটি সমাধান করার জন্য আইনস্টাইন স্পেস-টাইমের সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি ছবি তৈরি করেন! প্যারালাল ওয়ার্ল্ড-মিচিও কাকু -১



বল হলো স্থানের বক্রতাঃ

Force as the Bending of Space

নিউটন স্পেস-টাইমকে বিশাল মাত্রায় আলিঙ্গন করেন, শূন্যস্থান যেখানে ঘটনা সংঘটিত হয়, গতির সুত্র অনুসারে। মঞ্চ ছিলো সম্পূর্ণ বিষ্ময় ও রহস্যে পরিপূর্ণ কিন্তু এটি ছিলো মৌলিকভাবে, জড় ও গতিহীন, প্রকৃতির নৃত্তের একটি পরোক্ষ সাক্ষী। আইনস্টাইন, যাই হোক তার ধারণাকে সম্পূর্ণ উলটে দেন। আইনস্টাইনের মতে, স্পেস নিজেই জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আইনস্টাইনের মহাবিশ্বে, স্পেস এবং টাইম স্থির কোনো এরেনা নয়, যা নিউটন অনুমান করেছিলেন কিন্তু এটি ছিলো গতিশীল ও বাকা, একটি অদ্ভুত উপায়ে বিকৃত। জীবনের মঞ্চের পরিবর্তে ট্রেম্পোলিন নেট রেখে কল্পনা করুন, এটির মতো অভিনেতা শান্তভাবে তার নিজস্ব ভরে বক্র হয়ে আছে। এ রঙ্গভূমিতে মঞ্চ নিজেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে অভিনেতার মতো! প্যারাডক্সিক্যাল ইউনিভার্স- মিচিও কাকু


একটি ক্রিকেট খেলার বলের কথা চিন্তা করুন, যেটিকে বেডের উপর রাখা হয়েছে, যেটি অত্যন্ত ভদ্রভাবে মেট্রেসের মধ্যে ডুবে আছে। এখন আপনি বক্রস্থান বরাবর একটি মার্বেল ছুড়ে দিন। একজন নিউটোনিয়ান দেখবে, মার্বেলটি ক্রিকেট বলকে ঘিরে বৃত্তাকারে আবর্তিত হচ্ছে এবং অবশ্যই যোগ করবে কোন এক রহস্যজনক শক্তি ক্রিকেট বলটি মার্বেলের উপর প্রয়োগ করছে! একজন নিউটোনিয়ান বলবে, ক্রিকেট বল মুহূর্তেই একটি টান আরোপ করবে যেটি মার্বেলকে কেন্দ্রের দিকে বল প্রয়োগ করবে! একজন রিলেটিভিস্টিকের মতে, যে ব্যক্তি অত্যন্ত কাছাকাছি এসে মার্বেলের মোশন দেখবে, তার কাছে এটি সুস্পষ্ট হয়ে যাবে যে, এখানে আসলে কোন ফোর্স নেই। এখানে শুধু রয়েছে বিছানার বক্রতা, যেটি মার্বেলটিকে বক্রস্থানে মুভ করতে ফোর্স করবে। রিলেটিভিস্টিকদের মতে, এখানে কোন টান নেই, এখানে শুধু রয়েছে ধাক্কা, যা মার্বেলের উপর স্থানের বক্রতা প্রয়োগ করে। এবার আপনি মার্বেলের স্থলে পৃথিবীকে প্রতিস্থাপন করুন এবং ক্রিকেট বল হিসেবে কল্পনা করুন সূর্যকে এবং বিছানা হলো শূন্য স্থান-কাল এবং আমরা দেখি যে পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয় এর কারণ গ্রেভেটির টান নয়, কারণ হলো পৃথিবীর চারপাশে সূর্যের স্থান- কালের বক্রতা যা ধাক্কা তৈরি করে এবং পৃথিবীকে তার চারপাশে বৃত্তাকারে আবর্তিত হতে বলপ্রয়োগ করে! আইনস্টাইন এভাবেই বিশ্বাস করতে প্রলুব্ধ হয় যে গ্রেভিটি অনেকটা ফেব্রিকের মতো, অদৃশ্য কোনো বলের পরিবর্তে যা মুহূর্তেই সমস্ত মহাবিশ্বে কাজ করে। কেউ যদি নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে এই ফেব্রিককে ঝাঁকাতে থাকে, সেখান থেকে তরঙ্গের উদ্ভব ঘটবে, যা সারপেসে নির্দিষ্ট গতিতে ভ্রমণ করতে থাকবে আর এর মাধ্যমেই সূর্যের অদৃশ্য হয়ে যাওয়াকে ব্যাখ্যা করা যায়। যদি গ্রেভেটি স্পেস-টাইম ফেব্রিকের বক্রতার একটি বাইপ্রোডাক্ট হয়, তবে সূর্যের অদৃশ্য হয়ে যাওয়াটাকে ব্যাখ্যা করা যায় আকষ্মিক ক্রিকেট বলটির বিছানা থেকে উত্তোলিত হওয়া!



ESA - Spacetime curvature



আর সাথেসাথেই বিছানা তার পূর্বের অবস্থায় বাউন্স করে, বেড শিটের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট গতিতে আলোকতরঙ্গ প্রবাহিত হয়। গ্রেভিটিকে স্পেস-টাইমের বক্রতা হিসেবে সঙ্গায়িত করে, আইনস্টাইন গ্রেভেটির সাথে রিলেটিভিটির পূণর্মিলন ঘটাতে সক্ষম হন। কল্পনা করুন, একটি পিঁপড়া কুচকানো(Crumpled) কাগজের শিটের মধ্যে হাঁটছে। সে একজন মাতাল নাবিকের মতো পথ চলছে, ডানে বামে হেলেদুলে যেহেতু সে কুচকানো একটি ভূখন্ডে হাঁটছে। পিঁপড়াটি হয়তো প্রোটেস্ট করতে পারে যে সে মাতাল নয়, কিন্তু সেই রহস্যজনক শক্তি তাকে টানছে। আপন বিষ্ময়ে, যখনই তিনি আরও এ ইকুয়েশন সমাধান করার চেষ্টা করলেন, তিনি দেখতে পেলেন মহাবিশ্ব গতিশীল হয়ে যাচ্ছে। আইনস্টাইন ঠিক একই সমস্যায় পড়লেন যা বেন্টলি ২০০ বছর পূর্বে সনাক্ত করেছিলেন। যেহেতু গ্রেভেটি সবসময় আকর্ষণীয়, এর কোনো বিকর্ষণ শক্তি নেই, অতএব সসীম সংগ্রহের নক্ষত্র একে অপরের সাথে সংঘর্ষ করবে একটি নিষ্ঠুর মহাপ্লাবনের ভেতর দিয়ে। যাইহোক, বিশ শতকের প্রজ্ঞার সাথে সংঘর্ষ করে। যা বলে যে, মহাবিশ্ব স্থির ও ইউনিফর্ম। আইনস্টাইন এতটাই বৈপ্লাবিক ছিলেন যে, তিনি বিশ্বাস করতেন না মহাবিশ্বের গতি আছে। নিউটন ও তার সৈন্যদের মতো, আইনস্টাইন বিশ্বাস করতেন মহাবিশ্ব স্থিতিশীল। অতএব ১৯১৭ সালে, আইনস্টাইন তার ইকুয়েশনে নতুন একটি টার্ম যুক্ত করতে বাধ্য হয়েছিলেন, “Fudge Factor ” যা তার তত্বে নতুন একটি ফোর্স তৈরি করে, এন্টিগ্রেভিটি ফোর্স যা নক্ষত্রকে দূরে সরিয়ে দেয়। আইনস্টাইন এটিকে বলেন, কসমোলিক্যাল কনস্ট্যান্ট। একটি বিশ্রি হংসশাবক যা আইনস্টাইনের থিওরি পরবর্তী চিন্তায় প্রতীয়মান হয়।



Crumpled Paper Ball Icons PNG - Free PNG and Icons Downloads




আইনস্টাইন তখন, ইচ্ছাকৃতভাবে একটি এন্টিগ্রেভিটি নির্বাচন করেন, যা যথাযথভাবে গ্রেভিটির আকর্ষণকে বাতিল করে দিতে পারে, যা মহাবিশ্বকে করে তোলে স্থিতিশীল। অন্যকথায়, মহাবিশ্ব সমান্তরালভাবে স্থির, গ্রেভেটির প্রভাবে যে আভ্যন্তরীণ সংকোচন( Inner Contraction) পরিস্থিতি তৈরি হয় একইসময় সেটিকে ডার্ক এনার্জির বহিমূর্খী বল (Outward Force of Dark Energy) ক্যান্সেল করে দেয়! (১৭বছর পর্যন্ত এ এন্টিগ্রেভিটি ফোর্সকে এতিম মনে করা হতো কয়েক বছর পূর্বে আবিষ্কার হওয়ার সময় ব্যতীত)। ১৯১৭ সালে, ডাচ ফিজিসিস্ট, উইলিয়াম ডি সিটার আর একটি সলিউশন বের করেন, তার মতে মহাবিশ্ব অসীম কিন্তু সম্পূর্ণভাবে ম্যাটার শূন্য, প্রকৃতপক্ষে এটি সেই শক্তি নিয়ে গঠিত যেটি শূন্যস্থান ধারণ করে,যাকে বলা হয় কসমোলজিক্যাল কনস্ট্যান্ট। এই বিশুদ্ধ এন্টিগ্রেভেটি ফোর্স পর্যাপ্ত ছিলো, মহাবিশ্বকে দ্রুত ও জ্যামিতিকভাবে সম্প্রসারণ করার ক্ষেত্রে। কোনপ্রকার ম্যাটার ছাড়াই, এ ডার্ক এনার্জি মহাসম্প্রসারণশীল জগত তৈরি করতে পারে! পদার্থবিজ্ঞানীরা এবার একটি উভয় সংকটে পড়ে যান, আইনস্টাইনের মহাবিশ্বে ম্যাটার ছিলো কিন্তু কোনো গতি ছিলো না কিন্তু ডি -সিটারের মহাবিশ্বে ম্যাটার নেই কিন্তু গতি আছে! আইনস্টাইনের মহাবিশ্বে কসমোলজিক্যাল কনস্ট্যান্ট গ্রেভেটির আকর্ষণকে অপরিহার্যভাবে নিউট্রালাইজ করে এবং একটি সুস্থির মহাবিশ্ব তৈরি করে। কিন্তু ডি- সিটারের মহাবিশ্বে, কসমোলিক্যাল কনস্ট্যান্ট একা নিজেই মহাসম্প্রসারিত মহাবিশ্ব তৈরি করার জন্যে যথেষ্ট! অবশেষে ১৯১৯ সালে, যখন ইউরোপ চেষ্টা করছিলো ধ্বংসযজ্ঞ ও হত্যাকান্ডে ভেতর দিয়ে তার নিজস্ব পথ তৈরি করতে, এস্ট্রোনোমারদের একটি দলকে বিশ্বের চারপাশে পাঠানো হয় আইনস্টাইনের নতুন থিওরি পরীক্ষা করার জন্য। আইনস্টাইম এর পূর্বেই প্রস্তাব করেছিলেন যে, সূর্যের স্পেস-টাইম বক্রতা যথেষ্ট নক্ষত্রকে বক্র করে দিতে যা শূন্যস্থানকে অতিবাহিত করে। নক্ষত্রের আলোরও উচিত সূর্যের চারপাশে বক্র হয়ে যাওয়া। কিন্তু যেহেতু সূর্যের আলোর উজ্জ্বলতা নক্ষত্রদের মুখোশ পরিয়ে রাখে বিজ্ঞানীরা অপেক্ষা করতে লাগলেন সূর্যগ্রহণের জন্যে এই পরীক্ষাটি পরিচালনা করার জন্য। ব্রিটিশ এস্ট্রোফিজিক্সদের একটি দল, গুয়েনার গাল্ফে প্রিন্সিপিতে একটি আইল্যান্ডে যান, ওয়েস্ট আফ্রিকার একটি উপকূল, সূর্যের চারপাশে বক্র হয়ে যাওয়া নক্ষত্রের আলোকে রেকর্ড করার জন্য। আরো একটি দল, এন্ড্রু ক্রোমেলিয়ান দ্বারা পরিচালিত, একটি জাহাজ সজ্জিত করেন, উত্তর ব্রাজিলের সোবরালের উদ্দেশ্যে। তারা যে ডাটা সংগ্রহ করে তা নির্দেশ করে যে, নক্ষত্রের আলোর গড় চ্ছুতি 1.79 arc সেকেন্ড যা আইনস্টাইনের 1.74 arc সেকেন্ডের প্রেডিকশনকে নিশ্চিত করে। অন্যকথায়, আলো সূর্যের কাছাকাছি বেঁকে যায়। এডিংটন পরবর্তীতে দাবি করেন যে, আইনস্টাইনের থিওরির সত্যায়ন ছিলো তার জীবনের শ্রেষ্ঠতম মুহূর্ত! নভেম্বর ৬, ১৯১৯ সালে, রয়েল সোসাইটির একটি জয়েন্ট মিটিং এবং এস্ট্রোনোমিকাল সোসাইটি অব লন্ডন, নোবেল বিজয়ী ও রয়েল সোসাইটি প্রেসিডেন্ট J.J গম্ভীরভাবে বলেন, One of the greatest achievements in the history of Human Thought। এটি কোন প্রত্যন্ত এলাকা আবিষ্কার নয়, এটি হলো বৈজ্ঞানিক ধারণার একটি মহাদেশ জয়। এটি ছিলো একটি মহান আবিষ্কার যা গ্রেভিটেশনের সাথে সম্পৃক্ত যখন থেকে নিউটন এটি ঘোষণা করেছিলেন! ( কিংবদন্তি অনুসারে, এডিংটনকে পরে জিজ্ঞেস করা হয়েছিলো, এমন একটি গুজব শোনা যায় যে সমগ্র বিশ্বের মাত্র তিনজন ব্যক্তি আইনস্টাইনের থিওরি বুঝতে পেরেছে, আপনি হয়তো, তাদের একজন।” এডিংটন নিস্তব্দ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন, তাই রিপোর্টার বললেন, বিনয়ী হওয়ার প্রয়োজন নেই এডিংটন।” এডিংটন কাঁধ ঝাকালেন এবং বললেন, পুরোপুরি না,আমি ভাবছি তৃতীয় ব্যক্তিটি সম্ভবত কে.”)
পরেরদিন লন্ডন টাইমস একটি হেডলাইন ছড়িয়ে দিলেন, Revolution in Science – New Theory of the Universe – Newton’s Ideas overthrown.”। এ হেডলাইন চিহ্নিত করেছিলো সে সময়টিকে যখন আইনস্টাইন বিশ্ববিখ্যাত ব্যক্তিত্বে পরিণত হন, a messenger from Stars! এই এনাউন্সমেন্ট এতটাই ক্ষমতাবান ছিলো এবং নিউটন থেকে আইনস্টাইনে প্রস্থান এতটাই ভিত্তিগত যে, এটি পৃথক হিসেবে একটি প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে যে সকল পদার্থবিজ্ঞানী ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী এর নিন্দা করেছিলেন! কলোম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে, চার্লস লেন পুওর, স্বর্গীয় ম্যাকানিক্সের প্রফেসর, আপেক্ষিকতার সমালোচনা করে বলেন, I feel as if i had been wandering Alice in Wonderland and had tea with the Mad Hatter! রিলেটিভিটি আমাদের কমনসেন্সকে ভায়োলেট করে তার মানে এই নয় যে রিলেটিভিটি ভুল। কিন্তু আমাদের কমনসেন্স রিয়েলিটিকে রিপ্রেজেন্ট করতে পারে না। আমরা মহাবিশ্বের অদ্ভুত কিছু বল। আমরা রিয়েল স্টেটের অস্বাভাবিক একটি অংশের বাসিন্দা যেখানে টেম্পারেচার, ঘণত্ব ও বেগ বেশ হালকা। যাই হোক, প্রকৃত মহাবিশ্বের (Real Universe) টেম্পারেচার হতে পারে নক্ষত্রের কেন্দ্রবিন্দুর মতো যন্ত্রণাদায়ক । অথবা আউটার স্পেসের মতো হিম শীতল। যেখানে সাব-এটমিক পার্টিকেলগুলো স্পেসের ভেতর দিয়ে Zipping করে। আলোর গতির কাছাকাছি ভ্রমণ করে! অন্যকথায়, আমাদের কমনসেন্স বিবর্তিত (Evolve) হয়েছে মহাবিশ্বের উচ্চমাত্রিকভাবে অস্বাভাবিক ও অপ্রচলিত একটি অংশে, পৃথিবীতে; এটি বিষ্ময়কর নয় যে আমাদের কমনসেন্স মহাবিশ্বকে বুঝতে ব্যর্থ হবে! সমস্যা রিলেটিভিটিতে নয়, এটা কল্পনা করা যে আমাদের কমন সেন্স বাস্তবতার প্রতিনিধিত্ব করে!



মহাবিশ্বের ভবিষ্যৎঃ

The Future of the Universe

 

যদিও আইনস্টাইনের থিওরি সফল ছিলো এস্ট্রোনোমিক্যাল পেনোমেনন যেমন- সূর্যের চারপাশে নক্ষত্রের আলো বক্র হয়ে যাওয়ার ঘটনা ব্যাখ্যা করতে পারে এবং বুধগ্রহের কক্ষপথের সামান্য বিচ্ছুতি কিন্তু এর মহাবিশ্বের ভবিষ্যত সংক্রান্ত প্রেডিকশনগুলো তখনও ছিলো বিভ্রান্তিকর! এ ব্যাপারটি রাশিয়ান ফিজিসিস্ট আলেক্সান্ডার ফ্রাইডম্যান গভীরভাবে পরিস্কার করেন। যিনি আইনস্টাইনের ইকুয়েশনের সবচেয়ে জেনারেল ও রিয়েলিস্টিক ইকুয়েশন পেয়েছিলেন। এমনকি বর্তমানেও, সেগুলো জেনারেল রিলেটিভিটির প্রতিটি গ্রেজুয়েট কোর্সে শেখানো হয়। সাধারণত, আইনস্টাইনের থিওরি, অসাধারণ কঠিন কিছু ইকুয়েশন ধারণ করে যেগুলো সমাধান করতে অনেক সময় কম্পিউটারও প্রয়োজন হয়। যাহোক, ফ্রাইডম্যান কল্পনা করেন যে, মহাবিশ্ব ডায়নামিক এবং তারপর দুটি সাধারণ অনুমানে উপনিত হন( যেটাকে কসমোলজিক্যাল প্রিন্সিপাল বলে); যে মহাবিশ্ব আইসোট্রোপিক ( এটিকে সমান মনে হবে কোনো ব্যাপারই না আপনি যে প্রদত্ত বিন্দু থেকে তাকান) এবং মহাবিশ্ব হোমোজিনিয়াস (এটি ইউনিফর্ম, কোন ব্যাপারই না, আপনি মহাবিশ্বের যেখানেই যান)। এই দুটি সরলীকৃত অনুমানের অধীনে আমরা দেখতে পাই যে মহাবিশ্ব কলাপ্স করে।( যদিও ফ্রাইডম্যানের অধিক সাধারণ দুটো কেসের মধ্যে আইনস্টাইন এবং ডি-সিটার সলিউশন বিশেষ)। উল্লেখযোগ্যভাবে তার সমাধান তিনটি প্যারামিটারের উপর ডিপেন্ড করেঃ
1. H, যেটি মহাবিশ্বের সম্প্রসারণকে নির্ধারণ করে ( বর্তমানে আমরা যেটাকে হাবলস কনস্ট্যান্ট বলি, যা জোতির্বিজ্ঞানী হাবলের নামানুসারে নামকরণ করা হয়, যেটি আসলে মহাবিশ্বের সম্প্রসারণকে পরিমাপ করে)
2. Omega, যেটি মহাবিশ্বের average Density পরিমাপ করে।
3. Lamda, যে এনার্জি এম্পটিস্পেসের সাথে জড়িত অথবা ডার্ক এনার্জি।



অনেক সায়েন্টিস্ট তাদের সমস্ত প্রফেশনাল কেরিয়ার অপচয় করেছেন সুস্পষ্টভাবে এ তিনটি সংখ্যার মূল্য নির্ধারণ করার জন্য। এ তিনটি প্যারামিটারের মধ্যে সুক্ষ্ম পারস্পরিক আন্তক্রিয়া মহাবিশ্বের ভবিষ্যত Evolution নির্ধারণ করে। উদাহরণস্বরুপ, যখন গ্রেভিটি আকর্ষণ করে, তখন মহাবিশ্বের ঘণত্ব বা ওমেগা একটি ব্রেকের মতো আচরণ করে, এটি মহাবিশ্বের সম্প্রসারণকে মন্থর করে দেয়। মহাবিস্ফোরণের ফলে যে সম্প্রসারণ তার কিছু প্রভাবকে এটি রিভার্স করে। মনে করুন, আপনি বাতাসে একটি পাথর ছুড়ে মেরেছেন। সাধারণt গ্রেভেটি যথেষ্ঠ শক্তিশালী পাথরের ডিরেকশনকে রিভার্স করার ক্ষেত্রে যা পরে পৃথিবীর দিকে গড়িয়ে পড়ে। যাই হোক, কেউ যদি পাথরটিকে যথেষ্ট জোরে ছুঁড়ে মারে, এটি আর্থ গ্রেভেটিকে এসকেপ করে এবং চিরকালের জন্যে আউটার স্পেসে হারিয়ে যায়। পাথরের মতো, মহাবিশ্ব মূলত সম্প্রসারিত হচ্ছে মহাবিস্ফোরণের কারণে কিন্তু ম্যাটার অথবা ওমেগা, মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের উপর ব্রেকের মতো আচরণ করে ঠিক যেমনি পৃথিবীর গ্রেভিটি একটি পাথরের উপর ব্রেকের মতো আচরণ করে! এক মুহূর্তের জন্য, অনুমান করুন, ল্যামডা, সেই শক্তি যা এম্পটিস্পেসের সাথে জড়িত, সমান শূন্য। আর ওমেগা হবে মহাবিশ্বের এমন একটি ঘণত্বের যেটি ক্রিটিক্যাল ডেনসিটি দ্বারা বিভক্ত। ( মহাবিশ্বের ক্রিটিক্যাল ডেনসিটি প্রতি কিউবিক সেঃমি এ আনুমানিক ১০ হাইড্রোজেন এটম। মহাবিশ্ব ঠিক কতটা এম্পটি,তা বোঝার জন্যে, মহাবিশ্বের ক্রিটিক্যাল ডেনসিটি প্রতিনিধিত্ব করে তিনটি বাস্কেট বলের ভলিউমে গড়ে একটি হাইড্রোজেন এটমকে খুঁজে পাওয়া)।
যদি ওমেগা ১ এর চেয়ে কম হয়, বিজ্ঞানীরা মনে করেন, মহাবিশ্বে পর্যাপ্ত পরিমাণ ম্যাটার থাকবেনা যেটি মহাবিস্ফোরণে মূল সম্প্রসারণের গতিকে রিভার্স করতে পারে। ( এটা ঠিক এমন যে আপনি বাতাসে একটি পাথর ছুড়ে মেরেছেন, যদি পৃথিবীর ভর খুব বেশি না হয় তবে, পাথরটি পৃথিবীকে ছেড়ে মহাশূন্যে চলে যাবে)। এর ফলাফলে, মহাবিশ্ব অনন্তকালের জন্য সম্প্রসারিত হতে থাকবে। অবশেষে, মহাবিশ্বে বিগ ফ্রিজে নিমজ্জিত হবে, যতক্ষণ না টেম্পারেচার পরম শূন্যে অবতীর্ণ না হয়! ( এ প্রযুক্তিটি রেফ্রিজারেটর এবং এয়ারকন্ডিশন মেনে চলে। যখন গ্যাস সম্প্রসারিত হয় তখন এটি ঠান্ডা হয়ে যায়। আপনার এয়ার কন্ডিশনাল, উদাহরণস্বরূপ, গ্যাস একটি পাইপের ভেতর আবর্তিত হতে হতে সম্প্রসারিত হয়, যা পাইপ ও আপনার ঘরকে ঠান্ডা রাখে)!
যদি ওমেগা, ১ এর চেয়ে বেশি হয়, তাহলে যথাযথ ম্যাটার থাকবে এবং মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ থেমে যাবে এবং মহাবিশ্ব। যার ফলাফলে, মহাবিশ্ব সংকুচিত হয়ে যাবে। ( ঠিক যেমন, আপনি যদি একটি পাথরকে উপরের দিকে ছুঁড়ে মারেন, এবং পৃথিবীর ভর যদি যথেষ্ট হয় , পাথরটি সর্বোচ্চ শিখরে যাবে, তারপর পৃথিবীতে গড়িয়ে পড়বে)। টেম্পারেচার বৃদ্ধি পেতে থাকবে, নক্ষত্র ও ছায়াপথ একে অপরের উপরে আছড়ে পড়বে। ( ঠিক যেমনি আপনি যদি একটি টায়ারকে ফোলান তবে গ্যাসের কপ্রেসন তাপমাত্রা তৈরি হয়, ঠিক তেমনি পাম্পিং বাতাসের ম্যাকানিকাল ওয়ার্ক তাপ শক্তিতে পরিণত হয়।)  মূহুর্তে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং সকল জীবন বিলুপ্ত হয়ে যায়। মহাবিশ্বের বিবর্তনের তিনটি সম্ভাব্য ইতিহাস আছে। যদি ওমেগা এক এর কম হয়, (এবং ল্যামডা ০), মহাবিশ্ব চিরকাল প্রসারিত হবে বিগ ফ্রিজ হওয়া পর্যন্ত। যদি ওমেগা ১ এর চেয়ে বেশি হয়, মহাবিশ্ব পূণরায় মহাসংকোচনে Recollaps করবে। যদি ওমেগা একের সমান হয় মহাবিশ্ব ফ্ল্যাট হবে এবং চিরকাল সম্প্রসারিত হবে। ( The WMAP Satellite data shows that omega plus lambda in equal to 1, meaning that the universe is flat. This is Consistent with the inflationary theory)।


No description available.


The evolution of the universe has three possible histories. If Omega is less than
1 (and Lambda is 0), the universe will expand forever into the big freeze. If
Omega is greater than 1, the universe will recollapse into the big crunch. If
Omega is equal to 1, then the universe is flat and will expand forever. (The
WMAP satellite data shows that Omega plus Lambda is equal to 1, meaning that
the universe is flat. This is consistent with the inflationary theory.)



No description available.




(যদি ওমেগা ১ এর চেয়ে কম হয় (ল্যামডা ০), তাহলে মহাবিশ্ব উন্মোক্ত হবে এবং এর বক্রতা হবে নেগেটিভ, যেটা অনেকটা গোড়ার জিনের মতো হবে।প্যারালাল লাইন মিট করবেনা। ত্রিভূজের কোণগুলো ১৮০ ডিগ্রির চেয়ে কম হয়।)
মহাবিশ্ব একটি নিষ্ঠুর মহাসংকোচনের দিকে এগিয়ে যাবে। তৃতীয় সম্ভাবনা হলো যে, মহাবিশ্ব ওমেগা ১ এর মধ্যে স্থির, মহাবিশ্বের ডেনসিটি ক্রিটিক্যাল ডেনসিটির কাছাকাছি, এ ক্ষেত্রে মহাবিশ্ব দুটি চুড়ান্ত পর্যায়ে ভেসে আছে কিন্তু চিরকাল প্রসারিত হচ্ছে। অবশেষে, একটি সম্ভাবনা আছে যে মহাবিশ্ব ভবিষ্যত ফলাফলে মহাসংকুচিত হবে, এবং পূনরায় নতুন একটি মহাবিস্ফোরণ দেখা দেবে। এ থিওরিকে Oscillating Universes তত্ব বল হয়। ফ্রাইডম্যান দেখিয়েছেন প্রতিটি দৃশ্যপট, পালাক্রমে, স্পেস- টাইমের বক্রতা প্রদর্শন করে। যদি ওমেগা ১ এর কম হয় তবে মহাবিশ্ব চিরকাল সম্প্রসারিত হবে, ফ্রাইডম্যান দেখিয়েছেন শুধুমাত্র স্থান অসীম নয়, কালও অসীম। ফ্রাইডম্যান যখন এ মহাবিশ্বের বক্রতা গণনা করেন, তিনি দেখেন এটি নেগেটিভ। ((This is like the surface of a saddle or a trumpet. If a bug lived on the surface of this surface, it would find that parallel lines never meet, and the interior angles of a triangle sum up to less than 180 degrees.))


No description available.



ওমেগা যদি ১ থেকে বেশি হয়, মহাবিশ্ব সাথেসাথে সংকুচিত হয়ে যাবে। স্থান ও কাল এখানে সসীম। ফ্রাইডম্যান দেখেন যে, মহাবিশ্বের বক্রতা পজেটিভ। অবশেষে ওমেগা যখন ১, তখন স্পেস ফ্ল্যাট এবং স্থান ও কাল অসীম। ফ্রাইডম্যান শুধুমাত্র আইনস্টাইনের কসমোলজিক্যাল কনস্ট্যান্টের বোধগম্যতাই প্রদান করেন নি, তিনি মহাবিশ্বের শেষদিনের সবচেয়ে বাস্তবসম্মত অনুমান দিয়েছেন, মহাবিশ্বের চুড়ান্ত ভাগ্য হলো একটি বিগ ফ্রিজে সমাপ্ত হওয়া, বিগ ক্রাঞ্চ অথবা অনন্তকাল দোদুল্যমান থাকা। এ উত্তরগুলো নির্ভর করে গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্যারামিটারের উপর; ডেনসিটি অব দ্যা ইউনিভার্স এবং এনার্জি অব দ্যা ভ্যাকুয়াম। কিন্ত ফ্রাইডম্যানের পিকচার একটি শূন্যস্থান রেখে গেছে, যদি মহাবিশ্ব সম্প্রসারিত হয়, তবে এর মানে হলো মহাবিশ্বের একটি শুরুও আছে। আইনস্টাইনের থিওরি এ শুরু সম্পর্কে কোনোকিছু বলেনা। সৃষ্টির শুরুর মুহূর্তের ঠিক যে বিষয়টি আমরা মিস করেছি তা হলো, বিগব্যাং। এবং তিনজন বিজ্ঞানী আমাদেরকে মহাবিস্ফোরণের সবচেয়ে উপযুক্ত ছবি প্রদান করেছেন!Click Here for Part One –প্যারালাল ওয়ার্ল্ড-মিচিও কাকু


তথ্যসুত্র-

আরও পড়ুন

Leave A Comment...

হাইপারস্পেস
চিন্তা নয়, চিন্তার পদ্ধতি জানো...!