মূলপাতা বিজ্ঞান পোগ্রাম্যাবল ম্যাটার

পোগ্রাম্যাবল ম্যাটার

লিখেছেন অ্যান্ড্রোস লিহন
236 বার পঠিত হয়েছে

পোগ্রাম্যাবল ম্যাটার; আমরা আমাদের ব্রেন সিগনালের মাধ্যমে ইউনিভার্সকে কন্ট্রোল করতে পারবো?

𝐇𝐢𝐠𝐡 𝐓𝐞𝐜 𝐌𝐢𝐧𝐝:ᵖʳᵒᵍʳᵃᵐᵐᵃᵇˡᵉ ᵐᵃᵗᵗᵉʳ

 

গ্যালাক্সি আমাদের মস্তিষ্কের নিউরাল নেটেই প্রকাশিত কিন্ত আমরা আমাদের মস্তিষ্ক দিয়ে গ্যালাক্সির গ্রহ নক্ষত্রকে Control করতে পারিনা।

এ জন্যে এন্ড্রোসের মন খারাপ।তার ইচ্ছে করে সম্পূর্ণ ইউনিভার্সকে নিউরাল পালস দিয়ে কন্ট্রোল করতে, সে ইচ্ছে করলেই সেলফোন কম্পিউটারে পরিণত হয়ে যাবে, সে মনেমনে কল্পনা করলেই কম্পিউটার পরিণত হবে সুরোগেট অথবা হেলিকপ্টারে!চেতনা ছাড়া আমরা মহাবিশ্বের মডেল তৈরি করতে পারিনা আবার চেতনা দিয়ে আমরা মহাবিশ্বকে কন্ট্রোল করতে পারিনা!

কিন্তু বর্তমান প্রযুক্তি হয়তোবা এন্ড্রোসের স্বপ্নকে পূরণ করতে চলেছে।আমরা চিন্তার মাধ্যমেই ফিজিক্যাল বাস্তবতাকে প্রভাবিত করতে পারবো।আমরা জানি আমাদের মস্তিষ্কের প্রতিটি চিন্তাই এক একটি নিউরাল পালস তৈরি করে, এম আর আই সেন্সরের মাধ্যমে আমাদের ব্রেন পালস গুলি অন্যদের মস্তিষ্কে সেন্ড করা যায়, ডঃনিকোলিস যেটা প্রমাণ করেছিলেন।আমরা আমাদের স্বপ্ন,কল্পনা,আবেগ,অনুভূতি সকল কিছু এম আর আই অথবা ECOG প্রযুক্তি ব্যাবহার করে ফোর্স ফিল্ডের ভেতর দিয়ে একে অপরের কাছে সেন্ড করতে পারি!আমরা আমাদের ব্রেন পালস এর ব্যাবহার করে EEG সেন্সরের মাধ্যমে কম্পিউটার গেমস প্লে করতে পারি, টিভি অন করতে পারি, জানলা বন্ধ করতে পারি, আমরা আমাদের নিউরাল পালস দিয়ে রোবট এবং সুরোগেটদের আচার আচরণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারি!শুধু তাই নয় হ্যাপ্টিক প্রযুক্তির মাধ্যমে শুধুমাত্র একটি লেন্স পরিধাণ করে আমরা আমাদের ব্রেনকে ফোর্স ফিল্ডের সাথে কানেক্ট করতে পারি, ইন্টারনেটের ভেতর দিয়ে সেই ল্যান্স আমাদের মস্তিষ্কে একটি ভার্চুয়াল মহাবিশ্ব তৈরি করে, ইন্টারনেট সরাসরি আমাদের মস্তিষ্কের ভেতর স্বপ্নের মতো একটি জগত তৈরি করে যে জগতের বাস্তব পৃথিবীতে কোনো অস্তিত্ব নেই।কিন্তু আমরা দেখেছি ডঃ নিকোলা ভার্চুয়াল জগতকেও রিয়েল জগতের মতো সলিড রিয়েলিটিতে পরিণত করেছিলেন।আমরা একটি দেয়ালকে স্পর্শ করলে সেটিকে আমাদের নিকট শক্ত মনে হয় কিন্তু হ্যাপ্টিক প্রযুক্তির মাধ্যমে আমাদের মস্তিষ্ক ইন্টারনেটের ভেতর যে ভার্চুয়াল জগত তৈরি হয় সে জগতের বিল্ডিং গুলিকেও কী দেয়ালের মতো শক্ত মনে হবে?পানিকে তরল মনে হবে?ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে কোনো এক নারীর তরঙ্গের শরীর স্পর্শ করে কী আমরা উত্তেজিত হয়ে উঠবো, তার সাথে কী আমরা বায়োলজিক্যাল সেক্স করতে পারবো?উত্তর হলো, হ্যা!যদি তাদের শরীরের সেন্সেশন আমাদের ব্রেন তৈরি করতে পারে তবে আমরা ইন্টারনেটের ভেতরেই শারীরিকভাবে সেক্স করতে পারবো!মূলত আমরা মহাবিশ্বকে অনুভব করি ফিফথ সেন্সের মাধ্যমে, নাক,কান,চোখ,ত্বক এবং জিহবা দিয়ে। হ্যাপ্টিক প্রযুক্তি মস্তিষ্কে ইলেক্ট্রিক্যাল ফিডব্যাক তৈরির মাধ্যমে ইতমধ্যে সেন্স অব টাচ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।আপনি ইন্টারনেটের ভেতর যখন কোন একজন ভার্চুয়াল নারীকে দেখবেন এবং মনে মনে হাত না নাড়িয়েই তাকে স্পর্শ করার কথা কল্পনা করবেন,সাথে সাথে আপনার ব্রেন আপনার হাতে একটি ইলেক্ট্রিক্যাল পালস সেন্ড করবে এবং তারপর সেটি আবার মস্তিষ্কের সোমাটোসেন্সরি কর্টেক্সে ব্যাক করবে আর আপনি সত্যি সত্যি তাকে টাচ করার ফিলিংস পাবেন, এভাবে আমাদের ফিফথ সেন্সের প্রতিটি সেন্সেশনই তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন বলে ডঃ নিকোলা জানান।আমাদের মস্তিষ্ক তথ্য দ্বারা পরিচালিত সে প্রকৃত বাস্তবতাকে আলাদা করে জানেনা।(পোগ্রাম্যাবল ম্যাটার)

এন্ড্রোস ভাবে যদি আমরা মনের ক্ষমতা দিয়ে সমস্ত ইউনিভার্সকে প্রভাবিত করতে পারতাম, যদি ফিউচার ইউনিভার্স সম্পূর্ণ সাইকোলিজিক্যাল হয়ে যেতো?আমরা এখন ডিভাইসের মাধ্যমে একে অপরের কাছে ইনফরমেশন পাঠাই যদি এর সম্পূর্ণটা আমাদের মনের ভেতর ঘটতো, কোথাও মুভ না করেই যদি আমরা শুধুমাত্র চিন্তা ফ্রিকোয়েন্সী দিয়ে নিজেদের সকল প্রয়োজনীতা পূরণ করতে পারতাম, জীবনটা কতই না সহয হয়ে যেতো!বিজ্ঞানীরা ইতমধ্যে EEG প্রযুক্তির মাধ্যমে আমাদের ব্রেনকে কম্পিউটারের সাথে কানেক্ট করতে পেরেছেন এবং তারা মনে করেন তারা ভবিষ্যতে আমাদের মস্তিষ্ককে কম্পিউটার অপারেটিং সিষ্টেমের অংশে পরিণত করতে পারবেন।কিন্তু সমস্ত বিশ্বপ্রকৃতিতেই কী আমরা আমাদের থট ফ্রিকোয়েন্সী ছড়িয়ে দিতে পারিনা?

বিজ্ঞানীরা ইতমধ্যে বলছেন, ভবিষ্যতে এনভায়রণমেন্টের মধ্যে অতি-ক্ষুদ্র চিপ লুকায়িত থাকবে,আমরা শুধু মনে মনে কমান্ড করবো আর আমাদের চিন্তাগুলি এসব ন্যানোচিপের মাধ্যমে সমস্ত এনভায়রনমেন্টে ছড়িয়ে যাবে।আমাদের ব্রেন এসব হিডেন চিপের ভেতর নিরবিচ্ছিন্নভাবে ইন্টারেক্ট করবে।আমরা ফুড ফান্ডাতে খাবারের ম্যানু সিলেক্ট করতে পারবো, আমরা হেলিকপ্টার ভাড়া করতে পারবো এমনকী আমরা চাইলে চিন্তার মাধ্যমেই স্ট্যাডিয়ামে টিকেট কাটতে পারবো।

কিন্তু এন্ড্রোস ভাবে -X-Men: The Last stand মুভির কথা যেখানে সুপার ভিলেন ম্যাগনেটো তার হাতের আঙুলের ঈশারায় গোল্ডেন গেট ব্রীজ মুভ করতে পারেন।এন্ড্রোসের ম্যাগনেটোর মতো মাঝে মাঝে সোলার সিষ্টেমের গ্রহ নক্ষত্রগুলির কক্ষপথ পরিবর্তন করে দিতে ইচ্ছে করে, টেলিপ্যাথিক্যালি প্রাইমিনিস্টেরের ব্রেন ফাংশন পরিবর্তন করে দিতে ইচ্ছে করে।যদি ন্যানোচিপের মাধ্যমে তার ইচ্ছার নিউরাল সিগনালগুলিকে বাস্তব জগতে প্রয়োগ করা যেতো!Star Terk মুভির মতোই এন্ড্রোসের ইচ্ছে করে গ্যালাক্টিক এম্পায়ার তৈরি করতে!কিন্তু এটি কী আদৌ সম্ভব?এত এনার্জি আমরা পাবো কোথায় থেকে?

 

মিসিও কাকু বলছেন, এটা সম্ভব, এ জন্যে আমাদের ব্রেনকে Power Source এর সাথে Connect করতে হবে, আমরা যদি Bluetooth এর মতো আমাদের ব্রেনকে গোপন কোন Power Source এর সাথে কানেক্ট করে দিতে পারি তবে আমরা আমাদের চিন্তাকে হিডেন সোর্সের মাধ্যমে ম্যাগনিফাই করে এক্সট্রারনাল জগতের বিশাল বিশাল অবজেক্টকে মুভ করতে পারবো, আমরা ইচ্ছে করলে সুপারম্যানের মতো মহাকাশে উড়ে বেড়াতে পারবো!

 

The Star Wars Saga মুভিতে জেদি কিং যেমন Power Source কে ব্যাবহার করে গ্যালাক্সিজুড়ে আধিপত্য বিস্তার করেছিলো, সে অপরের মন পড়তে পারতো এবং লাইটবার্সকে গাইড করতে পারতো ঠিক তেমনি এন্ড্রোসেরও মহাবিশ্বকে মনের ভেতর ঢুকিয়ে ফেলতে ইচ্ছে করে!

X-men তার মনের ক্ষমতা দিয়ে হেভি মেশিনারী কে শূন্যে ঝুলিয়ে রাখতে পারে,বন্যা ঠেকাতে পারে এমনকি সে চাইলে এয়ারপ্লেনকে নামিয়ে ফেলতে পারে।বর্তমানে ট্যালিকেনেটিক ক্ষমতার মাধ্যমে আমরা হয়তোবা কফির মগ অথবা পেন্সির নাড়াতে পারি কিন্তু ভবিষ্যতের প্রযুক্তি মানুষকে গ্যালাক্সির দেবতায় পরিণত করবে।এন্ড্রোস সেদিনকে কল্পনা করতে চায় কিন্তু পারেনা।আমরা জানি ফান্ডামেন্টাল ফোর্সগুলি External Power Source ব্যাতীত কাজ করতে পারেনা।ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফোর্স শুধু প্লাস্টিক,পানি এবং কাঠের মতো ম্যাগনেটিক অবজেক্টগুলিকেই মুভ করতে পারে।

কিন্ত এন্ড্রোসের ল্যাপটপকে কী সে তার ব্রেন পালসের মাধ্যমে সেলফোনে পরিণত করতে পারবে?ট্রান্সফর্মেশন মুভিতে আমরা দেখেছি এমন এক রোবটিক কমিউনিটিকে যারা ইচ্ছে করলেই তাদের বডিকে ট্রান্সফর্ম করতে পারে!কিন্তু বর্তমান বিজ্ঞান আমাদের বলছে, আমরা আমাদের মনের চিন্তা দিয়ে টেলিকেনিক্যালি বিভিন্ন অবজেক্টকে ট্রান্সফর্ম করতে পারবো।তার মানে কী আমার ল্যাপটপ আমার মস্তিষ্কের চিন্তাকে রেসপন্স করবে?এন্ড্রোস উত্তেজিত হয়ে উঠে…!পিটার বার্গের কার্নিক মিলন ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা এই অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছেন তারা পিনপয়েন্ট আকৃতির কিছু কিছু চিপ তৈরি করেছেন যারা নিজেদেরকে নিজেরাই বিভিন্ন রুপে ট্রান্সফর্ম করতে পারে।

 

এই ট্যাকনোলজির নাম Programmable Matter।এটি ইন্টেল কোম্পানীর গবেষণার একটি কেন্দ্রীয় প্রযুক্তি।এই প্রযুক্তির পেছনের আইডিয়াটি হলো এমনকিছু অবজেক্ট তৈরি করা যা Catom এর তৈরি যেটাকে বলা হয় মাইক্রোস্কোপিক কম্পিউটার চিপ।এসব ক্যাটমকে তার ছাড়াই নিয়ন্ত্রণ করা যায়।ইলেক্ট্রিক চার্যকে একটি বিশেষ পদ্ধতিতে পোগ্রাম করে,ক্যাটমগুলি একে অপরের সাথে একটি বিশেষ ফর্মে আবদ্ধ হয়ে যায় যেমন-একটি সেলফোন।আপনি সুইচ অন করার সাথেসাথে এদের পোগ্রামিং চেঞ্জ হয়ে যাবে এবং তারা একে অপরের সাথে রি-রেঞ্জ হয়ে অন্য কোনো অবজেক্ট For Exmaple কম্পিউটারে পরিণত হয়ে যাবে।

 

এককথায় আমরা যেমন সফটওয়্যারকে বিশেষ টাস্ক পূরণ করার জন্যে পোগ্রাম করি, ক্যাটোমগুলিকেও পোগ্রাম করা যাবে।বিজ্ঞানীরা বলছেন, আপনি ক্যাটমকে চিন্তার মাধ্যমে শুধু সেলফোন থেকে ল্যাপটপে পরিণত হতে বলবেন সে ল্যাপটপে পরিণত হয়ে যাবে।এ জন্যে ক্যাটমকে ল্যাপটপ তৈরির প্রযুক্তি বলে দিতে হবেনা, কেননা ক্যাটমের মধ্যেই কম্পিউটার প্রযুক্তি পোগ্রাম করা আছে!এন্ড্রোস রাতের মহাকাশের গ্যালাক্সির নক্ষত্রের দিকে উদাস দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে, তার দু-চোখে গ্যালাক্টিক সিভিলাইজেশন ভেসে উঠে যেনো সে টাইম ট্রাভেল করে ভবিষ্যত মহাবিশ্বের নিউরাল পালসের ভেতর  দাঁড়িয়ে আছে..!

 

পোগ্রাম্যাবল ম্যাটার; তথ্যসুত্র

 

 

পোগ্রাম্যাবল ম্যাটার ছাড়াও আমাদের প্রাসঙ্গিক আর্টিকেলগুলি পড়ুন;

 

 

 

আরও পড়ুন

Leave A Comment...

হাইপারস্পেস
চিন্তা নয়, চিন্তার পদ্ধতি জানো...!