পুরুষের পিরিয়ড ও মেনোপজ

পুরুষের পিরিয়ড ও মেনোপজ

Andropause is a condition that is associated with the decrease in the male hormone testosterone.

Last updated:

Do guys Have Period? আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল এসোসিয়েশনে প্রকাশিত একটি আর্টিকেলে বলা হয়, শুধুমাত্র নারী নয়, পুরুষেরও পিরিয়ড সংঘটিত হয় যদিও তারা কোনো রক্তপাতের (Bleeding) অভিজ্ঞতা লাভ করেনা। পুরুষের টেস্টোস্টেরন দিনের বিভিন্ন সময় আবর্তিত হয়, আবর্তিত হয় প্রতি মাস এবং এমনকি একটি ঋতু পর্যন্ত। এছাড়া বয়সের সাথে এ টেস্টোস্টেরন নিঃস্বরণের ফলে তাদের মধ্যে এমনকিছু ট্রিগার হয় যেটাকে বলে মেল মেনোপজ বা অ্যান্ড্রোপজ( andropause) ।

Andropause is a condition that is associated with the decrease in the male hormone testosterone.

কিন্তু নারী ও পুরুষ উভয়েই জানেনা, কিভাবে এই হর্মোনাল মেশিনেসন তাদের শরীরের উপর প্রভাব বিস্তার করে। কসমোপোলিটনে প্রকাশিত একটি আর্টিকেলে বলা হয়, পুরুষের পিরিয়ড জরায়ু এবং Egg Fertilization এর সাথে সম্পৃক্ত নয়। তবে পুরুষও নারীদের মতো তাদের হর্মোনাল শিপট ও পরিবর্তনের অভিজ্ঞতা লাভ করে।

প্রতিদিন সকালে পুরুষের টেস্টোস্টেরন লেভেল অনেক বেড়ে যায় এবং বিকেলের দিকে সেটা পতিত হয়। এক একদিন টেস্টোস্টেরন এক এক রকম হতে পারে। কেউ কেউ দাবী করেন, এই হর্মোনাল ফ্ল্যাকচুয়েশনের কারণে এক প্রকার উপসর্গ দেখা যায়, যেটা আসলে প্রি-মেনিস্ট্রুয়াল সিন্ড্রোমেরই একটি অনুকরণ (Mimic)!

যখনই এই হর্মোনাল বা বায়োকেমিক্যাল ফ্লাকচুয়েশন দেখা দেয় তখন পুরুষের মেজাজের মধ্যে বিভিন্ন তারতম্য দেখা যায়, যার মধ্যে ডিপ্রেসন, ক্লান্তি ও মুড সুইং অন্তর্ভুক্ত। অনেকে মনে করেন এ পর্যায়ে পুরুষ নারীদের PMS এর সময় যে উপলব্ধি হয় তা হয়তো অনুধাবন করতে পারেন।

কিন্তু আমরা এই মাসিক হর্মোনাল স্যুইং’ কে কী “মেল পিরিয়ড” বলতে পারবো?

সাইকোথেরাপিস্ট এবং লেখক জেড ডায়মন্ড এর উত্তরে ”হ্যাঁ” বলেছেন। তিনি Irritable Male Syndrome নামে একটি বইও লিখেন । তিনি বলেছেন, যে সকল হর্মোনাল ফ্ল্যাকচুয়েশন ও উপসর্গ দেখা যায় সেগুলোর আসলে সত্যিকার জৈবিক প্রমাণ রয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন,সাইজেন্ডাররা নারীদের মত হর্মোনাল সাইকেল অনুভব করেন যেটাকে বলে “Man Saturation”! নারী ও পুরুষের মেজাজের সাথে সম্পৃক্ত হর্মোন সম্পূর্ণ পৃথক। ইস্ট্রোজেন নারীর মেজাজ নির্ধারণ করে আর পুরুষের হর্মোন টেস্টোস্টেরন তাদের সেকচুয়াল তাড়না, উর্বরতা, মুড এবং বডি টাইপ তৈরির পেছনে ফুয়েল হিসেবে কাজ করে। টেস্টোস্টেরণের মাত্রা যে কোন উপায়ে পরিবর্তন হতে পারে। স্ট্রেস থেকে শুরু করে খাদ্যাভ্যাস। আর এর ফলেই পুরুষের PMS তৈরি হয়। ( হোমো এরেক্টাসের ভালোবাসা )

The Irritable Male Syndrome (Managing the 4 key causes of depression and  aggression): Jed Diamond: Amazon.com: Books
জেড ডায়মন্ডের বই

কেউ কেউ এটাকে সিম্পেথি পিএমএস ও বলে থাকেন। আসলে পুরুষের এ হর্মোনাল ফ্ল্যাকচুয়েশন নারীর হর্মোনাল ফ্ল্যকচুয়েশনের সাথে কিছু সিমিলারিটি প্রদর্শন করে আর এজন্য এটাকে আমরা Male Period বলতে পারি। এ সময় পুরুষের নিউরাল সার্কিটে নারীর মনস্তত্বের কিছু অংশ প্রবেশ করে যার ফলে পুরুষ নারীর ম্যানিউস্ট্রুয়াল সাইকেলের সময়কে উপলব্ধি করে তার মস্তিষ্কের ভেতরেই! হয়তোবা টিকে থাকার স্বার্থেই নারী ও পুরুষের মাঝে আন্ডারেস্টেন্ডিং প্রয়োজনীয় ছিল আর এ জন্য যে সকল আদিম পূর্বসূরি তার সঙ্গীনীর মনস্তত্ব অনুধাবন করতে পারদর্শী ছিল তারাই তাদের জিনকে ভবিষ্যত প্রজন্মে পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছিল। যেহেতু নারীদের মধ্যে আজ থেকে দুই মিলিয়ন বছর পূর্বেই সর্ব প্রথম মেনোপজ বিবর্তিত হয়েছিল, অতএব আমরা বলতে পারি যে হোমো এরেক্টাস পুরুষদের মাঝেও অ্যান্ড্রোপজ বিবর্তিত হয়েছিল ঠিক সে সময় আর এটা প্রায় নিশ্চিত করেই বলা যায় যে, হোমো এরেক্টাস পুরুষরা মুড স্যুইং ও ডিপ্রেসনে পতিত হয়েছিল বা তাদের মধ্যে হর্মোনাল রোটেশন কাজ করতো। IMS বা Irritable Male Syndrome কী? এটা মূলত টেস্টোস্টেরনের পরিবর্তনের কারণে হয়ে থাকে। যদিও আইএমএস এর কোন মেডিকাল প্রমাণ নেই। এটা সত্য যে টেস্টোস্টেরন শরীর ও মনের স্বাস্থ্যের উপর ভালো প্রভাব বিস্তার করে। এটি মানব দেহকে নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু IMS ফ্যাক্টর টেস্টোস্টেরনের হার পরিবর্তন করে দেয়। আর এর ফলে বিভিন্ন অস্বাভাবিকতা দেখা যায়।

এ হর্মোনাল লেভেল যে সব ফ্যাক্টর দ্বারা প্রভাবিত হয় তা হলঃ

  • বয়স
  • চাপ
  • ডায়েট ও ওজন
  • অসুস্থ্যতা
  • ঘুমের অভাব
  • ইটিং ডিসঅর্ডার

২০০১ সালে পাবমেডে The irritable male Syndrome শিরোনামে পুরুষের এ মানসিক অবস্থাকে প্রকাশ করা হয়। সেখানে বলা হয়, এটি মূলত নার্ভাসনেস, বিরক্তিকর অনুভূতি, অলসতা ও হতাশার সাথে জড়িত। টেস্টোস্টেরন প্রত্যাখ্যাত হয়ে যাওয়ার পর এটি সাধারণত প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ স্তন্যপায়ীদের মধ্যেই প্রথম দেখা দেয়। জেড ডায়মন্ডকে যখন এক সাক্ষাতকারে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তিনি বলেন, আমি ক্লিনিক্যাল গবেষণায় চল্লিশ বছর যাবত প্রায় ১০,০০০ মানুষের কাছ থেকে এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া পেয়েছি। আমরা আবিষ্কার করেছি, মিলিয়ন মিলিয়ন পুরুষ এ সময় রাগান্বিত হয়ে উঠে এবং ডিপ্রেসড হয় এবং কখনো কখনো তারা তাদের ফ্রাস্টেশনের প্রভাব নিজের পরম ভালোবাসার মানুষটির উপরও বিস্তার করে। IMS মূলত হাইপারসেনসিটিভিটি, ফ্রাস্টেশন, উত্তেজনা ও রাগের সাথে জড়িত যেগুলো সম্পৃক্ত পুরুষের বায়োকেমিক্যাল পরিবর্তন, হর্মোনাল ফ্ল্যাকচুয়েশন, চাপ ও আইডেন্টিটি হারিয়ে ফেলার সাথে। তিনি বলেন, আমরা অনেক সময় মনে করি যে পুরুষের তুলনায় নারীদের ডিপ্রেসনের মাত্রা বেশি কিন্তু এটা আসলে সঠিক নয়, আমরা গবেষণায় দেখেছি, পুরুষও ডিপ্রেসনের অভিজ্ঞতা লাভ করে তবে সেটা নারীদের থেকে কিছুটা ভিন্ন উপায়ে। আর তা হলো তারা খুবই বিরক্তিবোধ করে, অত্যাধিক সংবেদনশীলতা কাজ করে আর এটাই পুরুষের ডিপ্রেসন যা আসলে প্রায় অসনাক্তই থেকে যায়। সম্পূর্ণ কনভারসেশনটি এ লিংক থেকে পড়তে পারেন।

Moody man blame their hormone শিরোনামে ২০০২ সালে BBC তে একটি আর্টিকেল প্রকাশিত হয়। সেখানে বলা হয়, পুরুষের মুড সুইং হলো আকস্মিক টেস্টোস্টেরন পতিত হওয়া। আর এটা পুরুষের ব্রেন ও আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে। মেডিক্যাল রিসার্চ কাউন্সিলের গ্যারাল্ড লিঙ্কন বলেন, চাপ ও বয়সের কারণে যেকোন সময় পুরুষের টেস্টোস্টেরন হ্রাস পেতে পারে। যা তার মুডে এফেক্ট তৈরি করে। অজস্র প্রাণী, প্রাইমেটকে পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, যখন তাদের টেস্টোস্টেরন কমে যায় এবং স্ট্রেস বেড়ে যায় তাদের মস্তিষ্কে কোর্টিকোস্টারয়েড নামক একটি হর্মোনের বৃদ্ধি ত্বরাণ্বিত হয়। ড. লিঙ্কনের এ কাজকে নিউ সায়েন্টিস্টে ফিচার করা হয়েছিল। ভেড়াদের মধ্যে যখন টেস্টোস্টেরন বেড়ে যায় তখন তারা সঙ্গী খোঁজ করে। শীতকালে তাদের টেস্টোস্টারণ পতিত হয় আর তারা সেক্সে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। তিনি দেখেছেন টেস্টোস্টেরন এগ্রেসিভ আচরণ এর সাথে জড়িত।

লিঙ্কন টেস্টোস্টোরনের এই পতনকেই সর্বপ্রথম “irritable male syndrome” বলে চিহ্নিত করেছেন। তিনি বলেন, ডিভোর্স ও চাপের পরিস্থিতিতে পুরুষের টেস্টোস্টেরন পতিত হতে পারে। আর এর ফলে জীবনের ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। ড. রিচার্ড এন্ডারসন দেখেছেন, হর্মোন রিপ্লেসম্যান্ট থেরাপির মাধ্যমে যখন টেস্টোস্টেরন খসে পড়ে তারা বিরক্ত হয় ও ক্লান্তিবোধ করে। ড. আইয়ান , যিনি হেলথ ফোরামের একজন প্রেসিডেন্ট তিনি বলেন, টেস্টোস্টরনের প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পেলেও বিশ্বজনীনভাবে সবাই পুরুষের মেনোপজের ব্যাপারে একমত নয়। কিন্তু আমরা এটা সবাই জানি, ৪০-৫০ বছরের মধ্যে পুরুষের টেস্টোস্টেরন হ্রাস পায়। এ টেস্টোস্টেরন কমে যাওয়াকে আমেরিকান সাইকোলজিও মেনোপজ বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং বলা হচ্ছে, টেস্টোস্টেরন কমে যাওয়ার ফলে ৪০-৫০ বছর বয়সী পুরুষদের নিউরো-ডিজেনারটিভ ডিজিজ বৃদ্ধি পায় , যেটি আলজিমার রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে ডিপ্রেসন, সেকচুয়াল অনাগ্রহ, এরেক্টাল ডিসফাংশন এবং অন্যান্য ফিজিক্যাল ও ইমোশনাল উপসর্গ দেখা যায়।

সেলফিশ জিন তত্বের আলোকে দেখলে, বার্ধক্যে পুরুষের শরীরে এমন কিছু জিন (globulin gene) একটিভ হয় যা তার টেস্টোস্টেরন কমিয়ে দেয় আর এতে করে পরিবারে সদস্যদের মধ্যে প্রতিযোগিতা কমে যায়, যা তাদের পারিবারিক Gene ভবিষ্যত প্রজন্মে পৌঁছে দিতে সাহায্য করে। কারণ একটি পরিবারে বৃদ্ধ ও তরুণ সবাই যদি সন্তান জন্ম দেয় তবে সেক্ষেত্রে পরিবার পুষ্টির অভাবে পতিত হবে, কোন সন্তানই পরিপূর্ণ যত্ম পাবেনা, আর স্বার্থপর জিন টিকে থাকার পরিবর্তে বিলুপ্ত হয়ে যাবে। মূলত, আমরা বার্ধক্যে পুরুষের অ্যান্ড্রোপসের বিকাশকে হেল্পিং নেস্ট হাইপোথেসিসের আলোকে ব্যাখ্যা করতে পারি।

তথ্যসুত্রঃ

পুরুষের পিরিয়ড ও মেনোপজ পুরুষের পিরিয়ড ও মেনোপজ

hsbd bg