পাবলো পিকাসোর চিত্রকর্ম ডিস্লেক্সিয়া আক্রান্ত?

দি ইকোনোমিক্স টাইমে বলা হয়েছে বিশ্বের মধ্যে দুজন বিখ্যাত আর্টিস্ট ডিস্লেক্সিয়া আক্রান্ত ছিলেন , পাবলো পিকাসোলিওনার্দো দা ভিঞ্চি যে মানসিক সমস্যাটিকে “Word Blindness” বলা হয়। আর যখনই তারা এ সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছিলেন তখন তাদের স্থানিক সচেতনতা বৃদ্ধি পায় যা একজন পেইন্টার এবং মাস্টার অব আর্টের সাথে তারতম্য সৃষ্টি করে দিতে পারে।

ডেইলি মেইলের ২০১০ সালের প্রতিবেদন অনুসারে, Middlesex University থেকে সাইকোলজিস্টদের একটি দল ৪১ জন নারী ও পুরুষকে এনালায়সিস করেন এবং তাদের Visuo-Spatial বা স্থানিক দৃষ্টি পরীক্ষা করা হয় যাদের অর্ধেকই ছিলো ডিস্লেক্সিস আর এ জন্য তারা বানান, পড়া ও লেখায় সংকটবোধ করতেন।একজন ডিস্লেক্সিস পুরুষ অন্যান্য পুরুষের তুলনায় অনেকগুলো টেস্টে বেশ ভালোই করেছিল যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিলো ডাকটিকিটে অংকিত রানীর মাথার ডিরেকশন এবং তারা পরবর্তীতে কালার ব্লকের মাধ্যমে এ চিত্রটিকে পুনরুদ্ধার করতে পারে। এবং তারা কম্পিউটার স্ক্রিনের “ভার্চুয়াল টাউনে” নেভিগেট করার ক্ষেত্রে অনেক বেশি যথাযথ। বিজ্ঞানীরা বলছেন যে, এরকম অজস্র প্রমাণ আছে ডিস্লেক্সিয়া সেন্স অব স্পেস বাড়িয়ে দেয় ভাষার জটিলতার ক্ষতিপূরণ দিতে গিয়ে।

ড. নিকোলা ব্রুনসউইক, দলের একজন নেতৃত্বশীল ব্যক্তি বলেন, ডিস্লেক্সিক মানুষ চিন্তা ও কর্মের মধ্য দিয়ে কাজ করতে পছন্দ করে কথা বলা বন্ধ করে দিয়ে । আর কথা না বলার ফলে ডিস্লেক্সিসদের মস্তিষ্কে এমন একটি ক্ষমতা জন্ম হয় যা তাদেরকে আর্টিস্টিক ও ক্রিয়েটিভ বিশ্বে সফল করার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। যাইহোক, একজন ডিস্লেক্সিস নারীর অন্য নারীদের তুলনায় অধিক সেন্স অব স্পেস নেই। 3D ইমেজ ম্যানিপুলেট করার ক্ষমতা পুরুষদের মধ্যেই অনেক বেশি প্রতিফলিত হয়। পাবলো পিকোসো নিজেও ডিস্লেক্সিয়া আক্রান্ত ছিলো যা তার শাব্দিক ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে সেন্স অব স্পেস বা থ্রিডি ইমেজ ম্যানিপুলেট করার ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে যা তাকে বিশ্বের শ্রেষ্ঠতম একজন চিত্রশিল্পিতে পরিণত করে।

পাবলো পিকাসো ঠিক মতো কথা বলতে বা লিখতে পারতেন না। আর এর মাধ্যমে তার ‘’Cubic Pieces’’  আর্টগুলো ব্যাখ্যা করা যায়। পিকোসো এমন সব জিনিস অংকন করতেন যেগুলোকে তিনি কালের তীরের বিপক্ষে দেখতেন, অথবা ভুল শৃঙ্খলায়, মাঝমাঝে তিনি কোনোকিছুকে সময়ের পেছনের দিকে দেখতেন আবার কখনো কখনো তিনি একটি বস্তুকে আপসাইড ডাউন দেখতেন। মোটকথা তার মস্তিষ্কের ভেতর সবকিছু উল্টাপাল্টা হয়ে যেতো, Raw-ম্যাটারিয়ালসে পরিণত হত আর এই ক্ষমতাই তাকে অদ্ভুত এক কল্পনাশক্তি দিয়েছে এবং মানব মনের সৃজনশীলতা। পিকোসো রিডিং ব্লাইন্ড ছিলেন, তিনি লেটারের সঠিক অরিয়েন্টেশন বুঝতে ব্যর্থ হতেন।। Meredith Campbell যিনি একজন নারী ডিস্লেক্সিয়া আক্রান্ত তিনি তার অংকিত একটি ছবি পোস্ট করে বলেন, আমি ডিস্লেক্সিয়া আক্রান্ত৷ আমি ডান ও বামকে একসাথে মিশিয়ে ফেলি, আমি এঙ্গেলগুলো দেখি ঠিক যেভাবে মিররে দেখা যায়, আমি কোনো একটি বস্তুকে মস্তিষ্কের ভেতর বিভিন্ন এঙ্গেলে ঘোরাতে পারি আর এজন্য কোন কোন সময় আমার অংকনে এঙ্গেল অফ হয়ে যায়। ডিস্লেক্সিয়ার প্রতিটি কেসই ইউনিক।

পাবলো পিকাসোর কিউবিজমের উপর অংকন করা “Three Musician” যদি আপনি লক্ষ্য করেন সেখানে আপনি তিনজন মিউজিশিয়ানকে আলাদা করতে কষ্ট হয়ে যাবে কারণ পিকোসো ডান-বাম-সামনে-পেছনে সবকিছু একাকার করে মিশিয়ে ফেলতে চাইতেন । অথবা আপনি Femme Se Coiffant নামক বিখ্যাত চিত্রকর্মটিও পর্যবেক্ষণ করতে পারেন যেখানে একটি নারীর মুখ সামনে ও পেছনে একাকার হয়ে আছে, আকস্মিক দেখলে মনে হবে যেনো দুজন আলাদা মানুষ! বিজ্ঞানীদের মস্তিষ্কের স্ট্রাকচার আলাদা?

Pablo Picasso: Three Musicians, oil on canvas, 2.01×2.23 m, 1921 (New York, Museum of Modern Art); © 2007 Estate of Pablo Picasso/Artists Rights Society (ARS), New York, photo © Museum of Modern Art/Licensed by SCALA/Art Resource, NY

তথ্যসূত্রঃ


hsbd bg