জেমস বি ওয়েভার,PHD,MPH, সার্জেন্ট ওয়েভার, ডারেন মায়াস গ্যারি হোপকিন, ওয়েন্ডি ক্যানেনভার্গ ও ডুয়ান ম্যাকব্রিজ দ্যা জার্নাল অব সেকচুয়াল মেডিসিনে
মূলপাতা বিজ্ঞান পর্ণ মস্তিষ্ককে রিওয়্যার করে?

পর্ণ মস্তিষ্ককে রিওয়্যার করে?

লিখেছেন অ্যান্ড্রোস লিহন
101 বার পঠিত হয়েছে
সংরক্ষিত ইতিহাসের সর্বত্র পর্ণগ্রাফির অস্তিত্ব পাওয়া যায়। আবার নতুন নতুন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম উদ্ভাবনের সাথে তার বিবর্তনও ঘটে। পম্পেইয়ের মাউন্ট ভেসুভিয়াস ধ্বংসাবশেষে শত শত ফ্রেসকো ও ভাস্কর্য পাওয়া যায় যা সুস্পষ্ট যৌনতার প্রকাশ। মধ্য ভারতের চান্দেলা প্রদেশে ৯৫০ থেকে ১০৫০ খ্রিষ্টাব্দে পর্ণের অস্তিত্ব পাওয়া যায়, ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যপূর্ণ স্থান খাজুরাহের মন্দিরে। এশিয়ান দেশগুলোর মধ্যে ইন্ডিয়া, নেপাল, শ্রিলংকা, জাপান ও চায়নায় এরোটিক আর্টের অস্তিত্ব পাওয়া যায়।
 
 
 
 
 
 
Erotic art of the east, The Sexual theme in orientation and Sculpture নামক একটি প্রবন্ধে রওসন ও ফিলিপ বলেন, গ্রীক ও রোমানরাও পর্নগ্রাফির সাথে সম্পৃক্ত ছবি অংকন করতো। ফ্রান্সের চোভেট গুহায় University of Southern Queensland এর আর্কিওলজিস্ট প্রফেসর ব্রাইস বার্কার ৩০,০০০ থেকে ৪০,০০০ বছর পূর্বের পাথরের উপর অংকিত পর্ণগ্রাফির অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছিলেন। প্যালিওলিথিক গুহায় আমাদের আদিম শিকারী সংগ্রাহকদের কিছু এরোটিক ডেফিকশনের ছবি পাওয়া যায় যার মধ্যে কিছু ছিলো প্রাণী শিকার ও মানুষের যৌনাঙ্গের। এরপর ইংল্যান্ডের ক্রেসওয়েল ক্রেগসেও আবিষ্কার করা হয় ১২,০০০ বছর পূর্বের কিছু চিহ্ন এবং নারীদের যৌনির স্টাইলিশ ভার্সন। এমন কোনো প্রমাণ নেই যে এগুলো ধর্মীয় উদ্দেশ্যে তৈরি। ২০০৫ সালে আর্কিওলজিস্টরা ৭২০০ বছর পূর্বের সেকচুয়াল ইন্টারকোর্সের নিদর্শন খুঁজে পান। সুমেরীয়ান আর্ট আদিম ডায়নেস্টিক সময়ের এমনকিছু স্কিন প্রদর্শন করে যা মিশনারী পজিশনের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
 
 
 
 
ইন্টারনেট উদ্ভাবনের পর পর্ণের প্রতি মানুষের আকাঙ্খা হতবুদ্ধিকরভাবে চুড়ান্ত শিখরে আরোহন করেছে। PornHub, বিশ্বের বৃহত্তর ফ্রি-পর্ণ সাইট কেবলমাত্র ২০১৮ সালে ৩৩.৫ বিলিয়নেরও বেশি ভিজিট পেয়েছিলো। বিজ্ঞান সবেমাত্র পর্ণ ব্যবহারের স্নায়বিক ক্ষতিগুলো সম্পর্কে সচেতন হয়ে উঠেছে। কিন্তু এখন এটা সুস্পষ্ট যে মানসিক সুস্থ্যতা ও সেক্স লাইফ পর্ণের কারণে দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে পতিত হয়েছে। ডিপ্রেসন থেকে শুরু করে এরোটিক ডিসফাংশন, পর্ণ মানুষের মস্তিষ্কের নিউরাল কানেকশন হাইজ্যাক করেছে মারাত্মক প্রভাব সৃষ্টির মাধ্যমে। নভেম্বর ২০১৯ সালে দি কনভারসেশনে প্রকাশিত Watching Pornography Rewire the brain to a more Juvenile State নামক একটি আর্টিকেলে বলা হয়, আমরা শেখা ও স্মরণের সাথে সম্পৃক্ত নিউরাল ওয়্যারিংগুলো অধ্যায়ন করে দেখি যে, পর্ণ মস্তিষ্কের পরিবর্তন ও মানিয়ে নেয়ার ক্ষমতাকে অত্যন্ত শক্তিশালীভাবে ট্রিগার করে। দীর্ঘস্থায়ীভাবে, এটি সেকচুয়াল ডিসফাংশন তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে রিয়েল লাইফে পুরুষের এরেকশন ও নারীদের অর্গাজম অর্জনের অক্ষমতা।
 
 
 
 
 
বৈবাহিক গুণমান ও রোমান্টিক পার্টনারদের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধতাও এক্ষেত্রে আপোষজনক বলে দেখা গেছে। বিবর্তনীয়ভাবে আমাদের মস্তিষ্ক সেকচুয়াল স্টিমুলেশনের সময় ডোপামিন প্রবাহের মাধ্যমে রেসপন্স করে। এ নিউরোট্রান্সমিটার বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পুরস্কার প্রাপ্তির সাথে জড়িত, এছাড়া এটি আমাদের মেমোরি প্রোগ্রাম ও ইনফরমেশনের সাথে সম্পৃক্ত। এ অভিযোজনের অর্থ হলো, যখন শরীরের কিছু প্রয়োজন হবে, ব্রেন স্মরণ করবে যে একইপ্রকার আনন্দের অভিজ্ঞতার জন্য আমাদের কোথায় ফিরে যাওয়া উচিত।
 
 

 

 
লাখ লাখ বছর ধরে সেপিয়েন্সরা এ ধরণের পুরস্কার প্রাপ্তির জন্য অতীতের মেমরি স্মরণ রাখতো, এবং পূর্বে যেখানে সে আনন্দ পেয়েছিলো, আনন্দের সে সোর্সের কাছেই তারা একই স্টিমুলেশন পাওয়ার জন্য ফিরে যেতো। যেমন- একজন আদিম শিকারী,  অতীতে তার কোনো এক স্যাপি প্রেমিকাকে কিস করার ফলে তার মস্তিষ্কে হয়তো ডোপামিন তৈরি হয়েছিলো,  আর যার ফলে তার ব্রেন ইমোশনালি চার্জ হয় এবং প্রেমিকার স্মৃতি তার ব্রেনে গেঁথে যায়, আর সে বারবার একই স্টিমুলেশন পাওয়ার জন্য গোপনে তার সাথে সময়ে অসময়ে দেখা করতে চলে যেতো। কিন্তু ইন্টারনেট উদ্ভাবনের ফলে আমরা এখন মস্তিষ্ককে স্টিমুলেট করার জন্য প্রেমিকার কাছে যাইনা। আমরা এখন সেক্স করার জন্য নারী শরীরের সংস্পর্শে না এসে ফোন ও কম্পিউটারের সাথে দেখা করি। পূর্বে যেখানে একজন নারীর সংস্পর্শ পেতে আমাদের অনেক সময় ও শক্তি অপচয় করতে হতো। একটি সুন্দর নারীর সঙ্গে প্রেম করার জন্য অজস্র পুরুষের সাথে যুদ্ধ বিগ্রহ করতে হতো। সামাজিকভাবে অনেক অপমান ও অপদস্ত হতে হতো- এখন সেটা আর নেই বললেই চলে।
 
 
 
 
লিয়া, এলেক্সিস, ম্যালভোনা, রাহোডেস, ডেনি ডেনিয়েলের মতো এক একজন নারীর সংস্পর্শ পাওয়ার জন্য বাস্তব জীবনে আপনাকে বিলিয়ন ডলারের অধিকারী হতে হবে, আপনাকে শিক্ষা, সংস্কৃতি, সামাজিক স্ট্যাটাসের দিক থেকে চুড়ান্ত মর্জাদা অর্জন করতে হবে। আপনার ব্রেন নিউরন হয়তো তাদেরকে ইমাজিন করে পর্ণ ভিডিও তৈরি করতে পারে এবং মাস্টারবেট করতে পারে কিন্তু বাস্তব জীবনে আপনার আশেপাশের কয়েকশত এলাকা ঘুরেও আপনি এমন হাই- প্রোফাইলের নারীর অস্তিত্ব খুঁজে পাবেননা আর পেলেও আপনাকে তাদের থেকে কয়েক লাখ মাইল দূরে থাকতে হবে আপনার মর্জাদা, অর্থ ও খারাপ চেহারার কারণে। আর অথচ এখন আপনি এডিটরের মাধ্যমে পৃথিবীর যেকোনো নারীর চেহারার অংশটুকু কেটে দিয়ে অন্য কোনো পর্ণস্টারের সাথে সম্পৃক্ত করে দিতে পারেন। আপনার কল্পনার জগত এখন আপনার হাতের নাগালে। ইন্টারনেটে একটা সিঙ্গেল ক্লিক করে, কয়েক সেকেন্ডের ভেতরেই আপনি বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দরী ও প্রভাবশালী নারীর যৌনি পরিদর্শন করতে পারেন। যেখানে একজন নারীর চুলের ঘ্রাণ পাওয়ার জন্য ইন্টারনেট আবিষ্কারের পূর্বে একটা পুরুষকে ব্যাপক সময় ও শক্তি অপচয় করতে হতো আজ সেখানে তার থেকে কয়েক কোটি গুণ সুন্দরী নারী স্বয়ং নগ্ন হয়ে তার চোখের রেটিনায় প্রকাশিত হয়। এ কথাগুলো কিছুটা ভিন্নভাবে একজন নারীর জন্যও প্রযোজ্য।
 
 
 
 
 
আমরা এখন দেহ পাওয়ার জন্য কোনো সম্ভাব্য নারীর/ পুরুষের খোঁজ করিনা, আমাদের জন্য এখন ফোন ও কম্পিউটারই যথেষ্ট! পূর্বে যেখানে আমাদের ব্রেন এমন স্টিমুলেশন পাওয়ার জন্য ব্যাপক সময় ও শক্তি খরচ করতো এখন কোনো শক্তি খরচ না করেই আমরা কম্পিউটারে যৌনতার স্বাদ নিচ্ছি। ব্রেনকে অস্বাভাবিকভাবে স্টিমুলেট করা হচ্ছে, পুরস্কার প্রাপ্তির সাথে জড়িত ডোপামিন খুব দ্রুত প্রডিউস হচ্ছে এবং অমানবিকভাবে। সাইকিয়াট্রিস্ট নরম্যান ডোজে বলেন- “পর্নোগ্রাফি নিউরোপ্লাস্টিক পরিবর্তনের জন্য পূর্বশর্তকে সন্তুষ্ট করে, পর্নোগ্রাফাররা নতুন ও আরো শক্তিশালী থিম তৈরি করে মস্তিষ্কের উপর চাপ দেয়, এবং আগ্রহ ধরে রাখার জন্য তাদের এটাই করা উচিত, তারা গ্রাহকদের মধ্যে সহনশীলতা বাড়িতে তুলছে। “
 
 
 
 
 
পর্ণ দেখার ফলে মস্তিষ্কে নতুন নতুন নিউরাল কানেকশন তৈরি হয়, এবং মস্তিষ্ক এ জগতের সাথে নিজেকে সমন্বিত করে নেয়, আর এতে করে তার জন্য আরো নতুন নতুন পর্ণ তৈরি করতে হয়, কারণ আমাদের মস্তিষ্কের পুরস্কার প্রাপ্তির সাথে জড়িত সিষ্টেমটি তখনই ট্রিগার হয়,  যখন আমরা নতুন নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করি, নয়তো আমাদের ব্রেনে আর ডোপামিন তৈরি হতে চায়না। এ জন্য দেখবেন পুরোনো পর্ণগুলো যেগুলো কোনো একদিন আপনাকে পাগল করে ফেলতো এখন সেগুলোর প্রতি আপনার কোনো এডিকশন কাজ করছেনা। আর নতুন নতুন স্টাফ পাওয়ার জন্য আমরা মনস্তাত্বিকভাবে অনেকটা বিকৃত হয়ে উঠছি। প্রতিনিয়ত অজানা ও কঠিন মাত্রার পর্ণ ভিডিও চাচ্ছি কারণ নয়তো ব্রেনে স্যাঁতস্যাঁতে একটা ভাব তৈরি হয়! আনন্দ কাজ করেনা! গবেষকরা বলছেন, নেশাদ্রব্যের মতোই পর্ণের প্রতিও আমাদের এডিকশন কাজ করে, আর আমরা হাইপার স্টিমুলেশন পেতে চাই যা অপ্রাকৃতিকভাবে উচ্চমাত্রার ডোপামিন সিক্রেশনের নেতৃত্ব দেয়।
 
 
 
 
আগে আমরা প্রাকৃতিক ব্যাপারগুলোর ভেতর আনন্দ পেতাম। কিন্তু এখন আমাদের  আর কোনোকিছু ভালোলাগেনা। কবিতা,গান, সাহিত্য বা বিজ্ঞান সবকিছু থেকে যেনো মন উঠে যায়। সবকিছু কেমন তিক্ত লাগে। কারণ এখন আর স্বাভাবিক বিষয়গুলো আপনার মস্তিষ্ককে আর আগের মতো ট্রিগার করেনা, আপনার জন্য হাইপার- স্টিমুলেশন প্রয়োজন। আপনি সবকিছুকে উদাসীনভাবে দেখেন, আন্তরিকতা কমে যায়, কেমন একটা ছাড়াছাড়া ভাব, এমনকি আপনি আর বন্ধুদের সাথেও সঠিক মাত্রার আগ্রহ নিয়ে কথা বলতে পারেননা। কারণ আপনার মধ্যে ক্যামিস্ট্রি নেই।
 
 
 
 
 
মোটকথা, আপনার Dopamine Reward System ডেমেজ হয়ে যায় এবং আনন্দের ন্যাচরাল সোর্সগুলোর প্রতি প্রতিক্রিয়াহীন থাকে। এ ধরণের মানুষগুলোর মধ্যে সম্পর্কের কোনো মর্জাদা নেই, এরা বিচ্ছেদের যন্ত্রণাভোগ করেনা বা এদের ইমোশন হ্রাস পায়, এরা পুরোপুরিভাবে হাইপার স্টিমুলেশন পাওয়ার জন্য সাইকো হয়ে উঠে এবং অনেক বেশি রুক্ষ ও কট্টর হয়ে যায়। এবং তারা সবাই মিলে নতুন ধরণের এক প্রকার যৌনতার দর্শন তৈরি করে। কিন্তু সবচেয়ে বড় কথা হলো, VR আপনাকে যে হাইপার স্টিমুলেশন প্রদান করে তার ফলে রিয়েল ওয়ার্ল্ডে আপনার সঙ্গীর প্রতি আপনার কোনো আকর্ষণ কাজ করবেনা এবং অনেক্ষেত্রে সে আপনাকে যতই আদর ও অনুভূতি প্রদান করুক আপনার ব্রেন প্রতিক্রিয়াহীন থাকবে যা পরকীয়াকেও পরোক্ষভাবে অনুমোদন প্রদান করবে।
 
 
 
 
 
 

ডিসফাংশন ছাড়াও পর্ণ আপনার ব্রেনকে যেভাবে প্রভাবিত করতে পারে?

 

 
 
আমাদের পুরস্কার প্রাপ্তির সাথে সম্পৃক্ত সার্কিটের ডিসেনসিটিয়াইজেশন যৌন কর্মহীনতা বা সেকচুয়াল ডিসফাংশনের মঞ্চ নির্ধারণ করে, কিন্তু এ ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়াগুলো এখানেই শেষ হয়ে যায়না। ইউরোপ পিএমসি জার্নালে ২০০৪ সালের ১ অক্টোবর Dynamic Change of brain Serotonin and dopaminergic activities during development of anxious depression : Experimental study নামক একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়, সেখানে বলা হয়, ডোপামিনের ট্রান্সমিশন পরিবর্তনের ফলে ডিপ্রেসন ও উত্তেজনা বেড়ে যায়। এ পর্যবেক্ষণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে পর্ণের ভোক্তারা জানান যে, তাদের মধ্যে খুবই উচ্চমাত্রিক ডিপ্রেসন দেখা যায়, তাদের জীবনের মান খুবই নিন্মমানের, মানসিক স্বাস্থ্য খুবই দারিদ্র্য সে সকল ব্যক্তিদের তাদের তুলনায় যারা পর্ণ দেখেনা বা পর্ণ দেখতে অভ্যস্ত নয়।
 
 
 
 
 
 
 
জেমস বি ওয়েভার,PHD,MPH, সার্জেন্ট ওয়েভার, ডারেন মায়াস গ্যারি হোপকিন, ওয়েন্ডি ক্যানেনভার্গ ও ডুয়ান ম্যাকব্রিজ দ্যা জার্নাল অব সেকচুয়াল মেডিসিনে Mental – and Physical Health individual and Sexualize Explicit Media use Behaviour by Adult নামক একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন, সেখানে বলা হয়, সেকচুয়াল মিডিয়া আসক্তদের স্বাস্থ্য ঝুকিপূর্ণ, এটি তাদের সংবেদন ও আচরণের উপর প্রভাব বিস্তার করে এবং তাদের HIV/ STD এ রোগগুলো হওয়ার উচ্চমাত্রিক সম্ভাবনা তৈরি হয়। তাদের এ গবেষণার প্রধান গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিলো, যারা পর্ণগ্রাফিতে আসক্ত তাদের ডিপ্রেসিভ সিন্ড্রোম, জীবন যাপনের মান, শরীরের ওজন ক্রমবর্ধমান ভাবে কমে যায়।
 
 
 
 
আরো একটি গবেষণায় দেখা গেছে, বাধ্যতামূলক অশ্লীল গ্রাহকরা আরো বশি পরিমাণ পর্ণের প্রতি আগ্রহ খুঁজে পায়। যদিও তারা সেটি পছন্দ করেনা। আর এর ফলে তাদের মস্তিষ্কের চাওয়া ও পছন্দের ভেতরকার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় যা Reward Circuitry Dysergulation এর একটি হলমার্ক ফিচার। জার্মানির, বার্লিন, ম্যাক্সপ্লাঙ্ক ইনস্টিটিউট এর একটি গবেষণা অনুসন্ধানের ঠিক একই দিকে পরিচালিত হয়েছিলো। তারা দেখতে পান, উচ্চমাত্রিকহারে পর্ণের ব্যাবহার মস্তিষ্কের কার্যকারীতা কমিয়ে দেয়। আর এই একটিভিটি কমে যাওয়ার ফলে আমরা এ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারি যে কেনো, প্রচলিত পর্ণগুলো আমাদের মস্তিষ্কে আগের মতো প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে না। JAMA সাইকিয়াট্রি জার্নালে প্রকাশিত Brain Structure and Functional Connectivity Associated with Pornography Consumption নামক একটি আর্টিকেলে বলা হয়, পর্ণগ্রাফির প্রতি এডিকশন মস্তিষ্কের কেউডিক নিউক্লিয়াসের রাইট স্ট্রিয়াটামের আয়তন, লেফট স্ট্রিয়াটামের ( Putamen) একটিভেশনের উপর নেগেটিভ প্রভাব ফেলে। রাইট কেউডিক ও লেফট ডর্সোল্যাটারিয়াল প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্সে কার্যকারীতা কমিয়ে দেয় এবং নিউরোপ্লাস্টিসিটি পরিবর্তন প্রতিফলিত হয় পুরস্কার প্রাপ্তির সাথে সম্পৃক্ত কর্টেক্সের ওভার স্টিমুলেশনের কারণে এবং সাথেসাথে ফ্রন্টাল কর্টিয়াল এরিয়ায়ও নেগেটিভ প্রভাব পড়ে। তারা দেখেন প্রতি সপ্তাহে এক ঘন্টা পর্ন ভিডিও দেখলে, মস্তিষ্কের রাইট কেউডিকের গ্রে- ম্যাটারে ভলিউম কমে যায় এবং একইসাথে লেফট পুটামেনের ফাংশনাল একটিভিটি। তারমানে, দেখা যাচ্ছে, পর্ণ আপনার ব্রেনকে ক্রমশ ছোট করে ফেলে।
 
 
 
 
 
 
Pornhub এন্যালিক্টিকরা প্রকাশ করেছেন যে, সেক্স ক্রমশ ব্যাবহারকারীদের মধ্যে আগ্রহ হারাচ্ছে এবং তাদের মস্তিষ্কে ইনচেস্ট ও সাংঘর্ষিকতামূলক মনোভাব তৈরি করছে। আমাদের মস্তিষ্কে মিরর নিউরন নামক একপ্রকার নিউরন আছে। এ নিউরনগুলো তখনই লাইট আপ হয় যখন আমরা যা করি বা করতে চাই তা অন্য কেউ আমাদের সামনে করে। যেমন আমি মনে মনে যে কবিতা লিখতে চাই সে কবিতাটি যখন অন্যকেউ লিখে ফেলে তখন মিরর নিউরন লাইট আপ হবে, আর আমি অবচেতনে সে কবিতাটিকেই আমার নিজের কবিতা মনে করতে শুরু করবো। আর এ জন্যই একজন অন্য জনের গবেষণাপত্র চুরি করতে দেখা যায়। কপি রাইট এর ব্যাপারটি সম্ভবত এখান থেকেই এসেছে। একইভাবে কেউ যখন আমাদের সামনে সেক্স করে তখন, মিরর নিউরন লাইট আপ হয়, আর আমরা সে ব্যক্তির জায়গায় নিজেকে কল্পনা করতে শুরু করি, যেন আমি নিজেই পর্ণ ভিডিওতে সে ছেলে/মেয়েটির সেক্স পার্টনার।
 
 
 
 
 
 
ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া লস এঞ্জেলসের Marco Lacoboni সন্দেহ করেছেন, এ সিষ্টেমটি আমাদের মধ্যে পটেনশিয়ালি সাংঘর্ষিক আচরণ তৈরি করতে পারে। এ সম্পর্কে NCBI এ মার্কো ল্যাকবোনি The Potential Role of mirror Neurons in thr Contagion of Violence নামক একটি আর্টিকেল প্রকাশ করেন। এ থেকে আমরা পর্ণ, মিরর নিউরন ও সেকচুয়াল ভায়োলেন্সের মধ্যে একটা সম্পর্ক তৈরি করতে পারি। আপনি যখন পর্ণ দেখবেন তখন আপনার মধ্যে একটি কনসেপ্ট তৈরি হবে এবং বাস্তব জগত ও VR জগতের কনসেপ্টের ভেতর আপনি মিল খুঁজে পাবেন না, যেমন- আপনার গার্লফ্রেন্ড হয়তো পেনিস সাক করে দেবেনা, আপনাকে এনাল সেক্স করতে দেবেনা, আপনার সিমেন্স গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানাতে পারে, স্ট্রোক করার সময় সে পর্ণস্টারের মতো Fuck Me বলে শিৎকার নাও করতে পারে। আর এর ফলশ্রুতিতে আপনার ব্রেনের VR কনসেপ্টের সাথে আপনার রিয়েল ওয়ার্ল্ড সংঘর্ষ করবে । যার ফলে আপনার মিরর নিউরনের ভেতর একপ্রকার সংঘর্ষমূলক পরিস্থিতি তৈরি হবে, পরিবর্তন হবে আপনার আচরণ!
 
 
 
 
 
Surgical Neurology international (SNI) ২০১০ সালে একটি আর্টিকেল প্রকাশ করে সেখানে বলা হয়, পর্নের সাথে মস্তিষ্কের প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্সের একটি সম্পর্ক আছে, এটি ব্রেনের এমন একটি অংশ যাকে বলা হয় হোম অব এক্সিকিউটিভ ফাংশন যেটি নৈতিকতা, ইচ্ছার ক্ষমতা ও ইমপালস কন্ট্রোলের সাথে জড়িত। যদি প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্স ডেমেজ হয়ে যায় তবে একজন ব্যক্তি বাধ্যতামূলক আচরণ করবে এবং তার সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা দূর্বল হয়ে যাবে।  মস্তিষ্কের এই স্ট্রাকচারটি শিশুদের মধ্যে অনুন্নত থাকে, সেটি ধীরে ধীরে ডেভেলপ হয়। আর এজন্য শিশুরা তাদের আবেগ ও ইমপালস নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনা। তারা রীতিমতো যুদ্ধ করে। প্রাপ্তবয়স্ক কারো প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্স নষ্ট হয়ে গেলে সেটাকে বলা হয় হাইপারফ্রন্টালিটি। আর এ জন্য যারা অতিরিক্ত পর্ণ দেখে তাদের মস্তিষ্ক অনেকটা শিশুসুলভ আচরণ করে বা তারা অধিক তারুণ্যে ফিরে যায়। ২৪ শে মে আমরা হ্যালিক্সে একটি পোল গঠন করি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উপর। প্রশ্নটি  ছিলো পর্ণ আপনাদের মস্তিষ্কের মোরালিটির কর্টেক্স প্রি-ফ্রন্টাল ও ডিসিশন মেকিং প্রসেসে কোনো প্রভাব ফেলে কিনা, মোরালিটির ব্যাপারে তারা তেমন কোনো কিছু না বললেও  প্রায় ১২০ জনের মধ্যে ৪৫ জন বলেছে পর্ণ তাদের ডিসিশন মেকিং প্রসেসে হস্তক্ষেপ করেছে, ২৬ জন বলেছে তারা পর্ণ দেখেনা আর এ ব্যাপারে কোনো গবেষণাপত্রও পড়তে চায়না এবং ১৫ জন বলেছে তারা ৬ মাস পর্ণ দেখে কিন্তু তাদের সেন্স অব মোরালিটি ও ডিসিশন মেকিং প্রসেস ডেমেজ হয়নি, ১৪ জন বলেছে, তারা নিয়মিত পর্ণ দেখে তাদের কোনো সমস্যা হয়নি। এটি আমাদের পরিচালিত একটি ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান যেটি অপরিশোধিত, তবে একটা মজার ব্যাপার হলো অনেকেই পর্ণ দেখে ও তাদের ব্রেনে ডেমেজও হয়েছে কিন্তু তারা নিজেদের সুস্থ্য প্রমাণ করতে চায় এবং ব্যাপারটিকে  সচেতনভাবেই উপেক্ষা করার চেষ্টা করে।
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
পর্ণ মস্তিষ্ককে রিওইয়্যার করে? পর্ণ মস্তিষ্ককে রিওইয়্যার করে? পর্ণ মস্তিষ্ককে রিওইয়্যার করে? পর্ণ মস্তিষ্ককে রিওইয়্যার করে? পর্ণ মস্তিষ্ককে রিওইয়্যার করে?
 

আরও পড়ুন

Leave A Comment...

হাইপারস্পেস
চিন্তা নয়, চিন্তার পদ্ধতি জানো...!