পরকীয়া ও ডিভোর্সের জিন

পরকীয়া ও ডিভোর্সের জিন

AVPRA1A জিনটি ৫৫২ জন সুইডিশ ব্যক্তির ভালোবাসার সম্পর্কে এফেক্ট করেছে। যারা ছিলো বিবাহিত এবং এ জিনটির কারণে তাদের মধ্যে প্রায় ৫ বছর সুন্দর রোম্যান্টিক সম্পর্ক বিদ্যমান ছিলো।

Last updated:

মানুষ কেনো পরকীয়া করে? উত্তর সহজ। যে কারণে মানুষ ডিভোর্স করে ঠিক একই কারণে তারা পরকীয়াও করে। আপনি প্রশ্ন করতে পারেন! মানেটা কি! হ্যাঁ! ডারউইন তাই মনে করতেন, পুরুষ একজন নারীকে ডিভোর্স করে সন্তানের সংখ্যা বৃদ্ধি করার জন্য! বলতে পারেন, ডিভোর্স করলে তো সেক্সই হবেনা, সন্তান বাড়বে কীভাবে? আর এখানেই পরকীয়ার সাথে ডিভোর্সের সম্পর্ক৷ ডিভোর্সের মাধ্যমে একজন পুরুষ নতুন কোনো নারীর সাথে সেক্স করার সুযোগ পাবে আর এতে করে সন্তানের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে ! কারণ নারীরা যদিও আনলিমিটেড সন্তান গর্ভধারণ করতে পারেনা কিন্তু পুরুষ অজস্র নারীকে প্র‍্যাগনেন্ট করতে পারে। নারীরা ডিভোর্স করে জিনের ভেরিয়েশন বাড়ানোর জন্য কারণ অধিক পুরুষের সাথে সেক্স হলে জিনের ভেরিয়েশন বাড়বে আর এতে করে টিকে থাকার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। অতএব ডিভোর্সের মাধ্যমেও সন্তানের সংখ্যা ও জিনের কোয়ালিটি বৃদ্ধি পাবে, তাই নয় কি?

ডিভোর্সের যদিও অনেক আর্থ সামাজিক ও মনস্তাত্বিক কারণ আছে কিন্তু জিনগত কারণ এটাই! ডিভোর্স ও পরকীয়া দুটোই মূলত, অধিক সংখ্যক সন্তান তৈরির জন্য জিনের কারসাজি! যা আমরা সচেতনভাবে অনুধাবন করতে পারিনা! প্রশ্ন হলো, পরকীয়ার কি কোনো জিন আছে? পরকীয়ার বায়োলজিক্যাল ব্যাখ্যা কি? আমরা জেনেটিক্স ও নিউরোসায়েন্স থেকে প্রাপ্ত ডেটা দিয়ে এখন পরকীয়ার বায়োলজিক্যাল ম্যাকানিজম ব্যাখ্যা করতে পারি যা ওয়ার্ল্ডওয়াইড পরকীয়ার ফ্রিকোয়েন্সী ও দৃঢ়তাকে সমুন্নত রাখতে অবদান রেখে যাচ্ছে। একবার প্রিরি ভোলের কথা ভাবুন। এটি একপ্রকার ইঁদুর। এরা তারুণ্যের পর থেকে আজীবন গভীর ভালোবাসার জুটি বেধে বসবাস করে। আর তাদের এই ভালোবসার গভীর বন্ধনের পাছনে সরাসরি মস্তিষ্কের নিউরোকেমিক্যাল একটিভিটি জড়িত। যখন প্রিরি ভোল প্রথম সেক্স করে, সহবাসের ফলে, তাদের নারীদের মস্তিষ্কের অক্সিটোসিন রিসেপ্টর ট্রিগার হয় (In Nucleus Accumbens) এবং ভ্যাসোপ্রেসিন (In ventral Pallidun) ট্রিগার হয় পুরুষদের মস্তিষ্কে। এটি মস্তিষ্কের কয়েকটি অংশে ডোপামিন রিলিজ করে যা আকাঙ্খা, অনুসন্ধান, মনোযোগ, শক্তি, আনন্দ, অনুপ্রেরণা তৈরি করে এবং এর ফলে তারা নির্দিষ্ট করে একজন সঙ্গীর প্রতি আকৃষ্ট হয়, পেয়ার-বন্ড তৈরি করে এবং তারা দীর্ঘস্থায়ী গ্রেভিটেশনাল পুলে আটকে যায়।

পরকীয়া ও ডিভোর্সের জিন

কিন্তু বিস্ময়কর ব্যাপার হলো ভ্যাসোপ্রেসিন সিস্টেমের সাথে জড়িত নির্দিষ্ট কিছু জিনের ভেরিয়েশন প্রিরি ভোলের পেয়ার-বন্ডিং এর উপর একপ্রকার বৈচিত্রতা প্রদান করে। এই জিন নির্ধারণ করে দেয় তারা তাদের সঙ্গীকে কেমন ভালোবাসবে এবং তার গভীরতা ঠিক কেমন। প্রশ্ন হলো, এ ধরণের কোনো জিন কি পরকীয়ার সাথে জড়িত? Genetic Variation in the Vasopressin Receptor 1A gene (AVPRA1A) Associate with pair-bonding Behaviour শিরোনামে ওয়ালামের একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয় ২০০৮ সালে, সেখানে বলা হয়, AVPRA1A জিনটি ৫৫২ জন সুইডিশ ব্যক্তির ভালোবাসার সম্পর্কে এফেক্ট করেছে। যারা ছিলো বিবাহিত এবং এ জিনটির কারণে তাদের মধ্যে প্রায় ৫ বছর সুন্দর রোম্যান্টিক সম্পর্ক বিদ্যমান ছিলো।

কিন্তু গবেষণা থেকে একটি অত্যাশ্চর্য বিষয় বেরিয়ে আসে, যে সকল ব্যক্তির মধ্যে এ জিনটির দুটো কপি আছে তাদের মধ্যে প্রেমময় বন্ধন খুবই দূর্বল, যারা এ জিনের একটি কপি বহন করে তারা একে অপরের প্রতি অনেক বেশি আকর্ষণ প্রকাশ করে। আর যাদের মধ্যে এ জিনটির কোনো কপিই নেই, তারা প্রেমিকার প্রতি সম্পূর্ণ সমর্পিত। যে সকল ব্যক্তিদের মধ্যে ভ্যাসোপ্রেসিন জিন থাকে তাদের মধ্যে অনেক বৈবাহিক জটিলতা দেখা যায় এবং সবসময় ডিভোর্সের থ্রেট কাজ করে। যে সকল ব্যক্তির মধ্যে এ জিনের এক বা দুটি কপি থাকে তাদের ম্যারিটাল স্যাটিসফেকশন নেই বললেই চলে। এ গবেষণা বিশ্বাসঘাতকতাকে প্রত্যক্ষভাবে পরিমাপ করেনি কিন্তু এটি আমাদের বলছে যে, আমাদের বায়োলজিক্যাল সিস্টেম প্রতারণার ক্ষেত্রে অবদান রাখতে পারে। Read more: The Anatomy Of Love,Helen fisher.

পারকীয়ার সাথে আরো কিছু জিনের সম্পর্ক আছে বলে বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেন। PLOS ONE জার্নালে ৩০ শে নভেম্বর ২০১০ সালে Association Between Dopamine D4 Receptor Gene Variation with both Infidelity and Sexual promiscuity শিরোনামে জাস্টিন আর. গার্সিয়া, জেমস ম্যাককিলোর, এলার ও ডেভিড স্লোয়ান একটি পেপার প্রকাশ করেন, যেখানে বলা হয়, ডোপামিন সিস্টেমের D4 রিসেপ্টর জিন অপ্রতিজ্ঞাবদ্ধ সেকচুয়াল ইন্টারকোর্সে জড়ানোর ক্ষেত্রে অনেক বড় একটি ফ্রিকোয়েন্সী এবং এ জিনের বাহক সেকচুয়াল ক্ষেত্রে অত্যন্ত বিশ্বাসঘাতক হয়।

আরও পড়ুন; এডাল্ট্রির বিবর্তনীয় বিশ্লেষণ

hsbd bg