নারীবাদ ও পুরুষতন্ত্রের বিবর্তনীয় বিশ্লেষণ

নারীবাদ ও পুরুষতন্ত্রের বিবর্তনীয় বিশ্লেষণ

Last updated:

পশ্চিমাদের মধ্যে একটি বিশ্বাস প্রচলিত যে পুরুষরা নারীদের উপর এ জন্যই আধিপত্য বিস্তার করতে চায় কারণ এতে করে তারা পরবর্তী প্রজন্মে ধ্বংসাত্মক কিছু জিন রেখে যেতে পারে! কিন্তু আসলেই কী তাই? যদি এ ধারণা সত্য হয়ে থাকে তবে এটি একইভাবে সত্য হওয়া উচিত ছিল আজ থেকে ২ মিলিয়ন বছর পূর্বের মানুষের নিকটবর্তী পূর্বসূরী হোমো হ্যাবিলসদের ক্ষেত্রে, তাই নয় কী? আমরা যদি নারী, পুরুষ ও ক্ষমতার স্বরুপ উন্মোচন করতে চাই তবে আমাদেরকে ২ মিলিয়ন বছর পূর্বের টউগির সময়ে যেতে হবে। আসলেই কী পুরুষ নারীদের শাসন করতো তখন? তখনও কী এ সমাজ পুরুষের সমাজ ছিল?

৯৭০ সালে ইউরোপ ও আমেরিকায় নারী জাগরণের পূর্বে নৃ-তাত্বিকরা খুব সরলভাবে কল্পনা করেছিলেন যে, পুরুষ নারীদের তুলনায় অধিক ক্ষমতাবান। এবং তাদের গবেষণা তাদের দাবীর সত্যতা প্রমাণ করেছিল। অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসীরা তাদের কাজের সাপেক্ষে মারাত্মক সব প্রমাণ উপস্থাপন করেছিল। কিন্তু দুঃখ্যজনক হলেও সত্য যে এ সকল গবেষকদের বেশিরভাগই ছিল পুরুষ, তারা লিখেছেন আদিবাসীদের বিবাহের নিয়ম সম্পর্কে, যেখানে একজন শিশু বালিকা ত্রিশ বছর বয়সী একজন পুরুষকে বিয়ে করতো আর অন্যদিকে পুরুষদের ছিল কয়েকটি স্ত্রী! তাদের দৃষ্টিকোণ থেকে, আদিবাসী নারীরা ছিলেন বন্ধকী মাল, তারা ছিল পণ্যদ্রব্য, এরা ছিলো পুরুষদের ম্যারিজ ম্যানিপুলেশনের প্রচলিত মূদ্রা! (Elkin 1939; Hart and Pilling 1960; Rohelich-Leavitt et al. 1975; Berndt 1981)

তাদের গবেষণায় আরো জানা যায় আদিবাসীরা নারী ও পুরুষের ধর্মীয় অনুষ্ঠান পৃথক করে ফেলেছিল যা আবারও নারীদের অধীনতার একটি প্রমাণ। হেলেন ফিশার বলেন, তারা নারীকে গৃহপালিত গরুর তুলনায় বেশিকিছু মনে করেনি। আজ আমরা জানি যে, আদিবাসীদের এ জীবন বিকৃত। তাদের জীবনকে নৃতাত্ত্বিকরা বিকৃতভাবে উপস্থাপন করেছিলেন। সংশয়ের মিমাংসা করার জন্য নারী নৃতাত্বিকরাও অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে যান এবং নারীদের সাথে কথা বলেন। এবং জানতে পারেন আদিবাসী নারীরা বাগদানের এ খেলায় অনেক বেশি রাজনৈতিক এবং তারা মধ্য বয়সে নতুন করে তাদের স্বামী অনুসন্ধান করা শুরু করে। নারীরা নিয়মিত প্রেমিকের সাথে সম্পৃক্ত হয়। কিছু গোষ্ঠীর রয়েছে জিলেমি অথবা একক নারী ক্যাম্প। এ সকল ক্যাম্পে বিধবা, বিবাহিত নারী ও ভ্রমণরত মহিলারা বাস করতো পুরুষের কোন হস্তক্ষেপ ছাড়াই। কড়া স্ত্রী হওয়ার পরিবর্তে এ সকল নারীরা কখনো তাদের অলস স্বামীকে ফাইটিং স্টিক দিয়ে পেটাতো, নারীদেরও কিছু সংস্কৃতি ছিল যা পুরুষেরই কাছাকাছি। আর দৈনান্দিন জীবনে নারীদের অর্থনৈতিক অবদানও ছিলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সত্যি কথা বলতে কী, অস্ট্রেলিয়ার আদিম আদিবাসী নারীরা পুরুষের চাইতে কোন অংশেই দূর্বল ছিলনা। “কোন সেক্সই আসলে প্রভাবশালী ছিলোনা” এরকম একটি কনসেপ্ট পশ্চিমাদের কাছে ছিল সম্পূর্ণ এলিয়েন। বংশ পরম্পরার প্রতি পশ্চিমাদের আসক্তির ফলেই তাদের মস্তিষ্কের গভীরে লিঙ্গ বৈষ্যম্য গভীরভাবে প্রোথিত হয়ে গেছে আর এ অন্ধ বিশ্বাসই সায়েন্টিফিক এনালায়সিসের মধ্যে পুরুষতান্ত্রিকতার রঙ ছড়িয়েছে!

 ১৯৭০ থেকে ১৯৮০ সালের দিকে এ দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন হতে শুরু করে। মূলত কিছু নৃতাত্বিক নারীদের গৃহস্থালি কর্মকান্ড, তাদের অসাধারণ গল্প বলার ক্ষমতা, নারীর নিপুন শৈল্পিক গুণাবলি, অপবিত্র অবস্থায় আনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ ইত্যাদিকে উপেক্ষা করে পুরুষের শিকার, শিল্প, তাদের ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা, তাদের বক্তব্য  এবং পুরুষদের আরো অজস্র সাধনাকে অতিরঞ্জিত করে বিভ্রান্ত হয়েছিলেন।

এ ধরণের দাবি সম্পূর্ণভাবে সত্য নয়। একটি ক্লাসিক স্টাডিতে সমাজবিজ্ঞানী মার্টিন হোয়েট ৯৩ টি ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির উপর গবেষণা পরিচালনা করেছিলেন এবং তারা এমন একটি বিবৃত্তি উল্লেখ করেন সেখানে যে, মহিলাদের ভূমিকা সম্পর্কিত ডেটা ছিল অবহেলিত বা কমানো; অন্যদের মধ্যে পুরুষের শক্তির দিকগুলোতে অবহেলা করা হয়েছিল এবং কিছু ক্ষেত্রে পুরুষদের ভূমিকাকেও উপেক্ষা করা হয়েছিল। কিন্তু এ ধরণের অমিশান ছিলো বিশৃঙ্খল, নারীদের প্রতি প্রক্রিয়াগতভাবে কোনপ্রকার পক্ষপাত করার পরিবর্তে!

তবুও সাহিত্যের ক্যাজুয়াল পাঠকরাও মাঝেমাঝে নারীকে ফেচলেস ড্রোন মনে করতো। একটা সময় বলা হতো পুরুষ শিকারী আর এখন নারী সংগ্রাহকের মর্জাদা পেলো। নারীদের যুগ পরিবর্তন হয় এবং স্কলাররা নতুন লেন্স পরিধান করে পূনরায় ইনভেস্টিগেট করতে থাকে।

নারীদের জীবনের উপর নতুনভাবে দৃষ্টিপাত করে তাদের সম্পর্কে কিছু এক্সট্রিম রিয়েলিটি জানা যায়। ইউরোপের আগমনের পূর্বে নাইজেরিয়ার ইগোবো নারীদের মতো, ঐতিহ্যবাহী অনেক সংস্কৃতিতেই নারীরা তুলনামূলকভাবে ক্ষমতাশালী ছিল। কিছু সংখ্যক তাদের ক্ষমতাকে সতেজ রেখেই ওয়েস্টার্নদের প্রভাবে টিকে আছে।৷ Igbo এর মত আরো অনেকেই ইউরোপিয়ানদের শিকার হয়েছিল।

নৃতাত্বিক ইলানোর পূর্ব কানাডার নাসকাপি ইন্ডিয়ান- মন্টাগনিসদের উপর স্টাডি করে একটি উপসংহারে উপনিত হয়েছিলেন। তার জন্য সবচেয়ে ইনস্ট্রাক্টিভ জার্নালটি ছিল জেসুইট পল লি জিউন। কিউবেকে ১৬৩২ সালে লি জিউন তার পোস্টটি নিয়েছিল ফ্রান্স মিশনের সুপারিয়র হিসেবে। ভয়ানকভাবে তিনি দেখেন, অসংযত পিতামাতা, স্বাধীন নারী, ডিভোর্স পার্টনার, দুজন স্ত্রী একজন পুরুষ, আনুষ্ঠানিক নেতার অনপুস্থিতি একটি ভবঘুরে, শান্ত, সমমাত্রিক সংস্কৃতি যেখানে নারী উচ্চমাত্রিকভাবে অর্থনৈতিক ও সামাজিক মর্জাদা বহন করে।

লি জিউনের অবস্থা পরিবর্তন হয়েছে। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, শিশুদের শৃঙ্খলা, বৈবাহিক বিশ্বস্ততা, জীবনব্যাপী একগামীতা এসবকছুই মূলত পুরুষের আধিপত্য ও নারীদের আনুগত্য নির্ধারণ করে দেয় যা মুক্তির জন্য অপরিহার্য। তিনি বলেছিলেন, ফ্রান্সের নারীরা তাদের পুরুষ কতৃক শাসিত নয়। কয়েক মাসের ভেতর লি জিউনে এ সকল বর্বরতার কিছু অংশ প্রকাশিত হয়। দশ বছর পর, পুরুষরা নারীদের পেটাতে শুরু করে। (Leacock 1980,28)

কিভাবে নারীরা উপনিবেশবাদের দঁড়ি দ্বারা আবদ্ধ হয়েছিল? এটি বলা খুবই কঠিন। কিন্তু lgbo নারীদের ইতিহাসে কোন অপ্রত্যাশিত সাফল্য নেই। একজন বিজ্ঞানী বলেছিলেন, যেখানেই পশ্চিমা উপনিবেশ প্রবেশ করেছে, তাদের সংস্কৃতি ও মানসিকতা এ সব সমাজের নারীদের উপর ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেছে, আর এভাবে নারীর মর্জাদা ক্ষুন্ন হতে থাকে পৃথিবীর সর্বত্র! ( Sanday 1981,135.)

Igbo woman at a local market in eastern Nigeria. Photo: E. Ludwig, John  Hinde Studios. | African life, African people, African
lgbo Woman

নারীরা বিশ্বের অজস্র ঐতিহ্যেই ক্ষমতাবান ছিল। কিন্তু ইউরোপিয়ানদের প্রভাবে অজস্র সংস্কৃতি দূষিত হয়েছিল কিন্তু আমরা কী এমন কোন প্রাগৈতিহাসিক সমাজের অস্তিত্ব খুঁজে পেতে পারি যেখানে ইউরোপীয়রা প্রবেশ করেনি? তাদের বন্ধুক ও গল্প নারী- পুরুষের ক্ষমতার সম্পর্কে হস্তক্ষেপ করেনি? আমরা এ সম্পর্কে দুটি পথে অন্তঃদৃষ্টি লাভ করতে পারি, আধুনিক ঐতিহ্যবাহী সমাজগুলোর মানুষের প্রাত্যহিক জীবন পাঠ করার মধ্য দিয়ে এবং আমাদের নিকট আত্মীয় এপসদের সাথে ক্ষমতা ডাইসেক্ট করা দ্বারা। নৃতাত্বিকরা মনে করেন, ক্ষমতা নিয়মিতভাবে তাদের সাথেই থাকে যারা দ্রব্যের মূল্য ও সেবা নিয়ন্ত্রণ করে এবং ঘরের বাহিরে এগুলো ভাগ করার অধিকার রাখে।

ক্ষমতা:

আপনার যদি একটি ভূমি থাকে, আপনি যদি তার খাজনা আদায় করেন, কাউকে সেটি প্রদান করেন, সম্পত্তি বন্টন করেন, ওয়াটারহোল বা ফিশিং রাইটের মতো তবে আপনি ক্ষমতাবান। যদি আপনার বিশেষ সার্ভিস থাকে, ডাক্তারি অথবা আত্মার সাথে কানেকশন তৈরির মতো, তাহলে মনে করা হবে আপনার ক্ষমতা আছে। আপনি যদি একটি জিরাফ হত্যা করেন এবং তার মাংস প্রদান করেন অথবা বাস্কেট, বেড, ব্লাঙ্কেট অথবা অন্যান্য বাণিজ্যিক উপকরণ তৈরি করেন তবে আপনার ক্ষমতা আছে। অতএব আপনি যা সংগ্রহ করেন, যা অর্জন করেন, যা প্রদান করেন, খাজনা, বিক্রয় ও বাণিজ্য এটি দুটো সেক্সের মধ্যে ক্ষমতা নির্ণয় করে দেবে। ( Fisher, Anatomy of love)

ঐতিহ্যবাহী উত্তর আলাস্কান ইনুইটরা অর্থনৈতিক সম্পদ ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণের সম্পর্কের একটি ভালো উদাহরণ। বন্ধ্যা উত্তরে, যেখানে শুধু শৈবাল আর ঘাস জন্মে সেখানে সংগ্রহ করার মতো কোনোকিছু পাওয়া যায়না। আর এ জন্য ঐতিহ্যগতভাবেই নারীরা কাজের জন্য সংগ্রাহক হিসেবে ঘর থেকে বের হয়না, বাণিজ্যের জন্য মূল্যবান দ্রব্য সংগ্রহ করার উদ্দেশ্যে। পুরুষরাই সব ধরণের শিকার করতো। শীতকালব্যাপী পুরুষরাই সীল ও তিমির পেছনে ধাওয়া করতো এবং দীর্ঘ একটা সময় তারা ক্যারিবু শিকার করতো, আর্কটিক সামার ডে’তে।

The Inuit People | Mar's English Blog
চিত্রঃ আলাস্কার ইনুইট

দ্বীপের তেলের জন্য তারা ব্লাবার নিয়ে আসতো, চামড়া নিয়ে আসতো পার্কাস, ট্রাউজার, শার্ট ও জুতার জন্য, পেশিতন্ত্র নিয়ে আসতো কর্ডের জন্য, হাড় নিয়ে আসতো অলঙ্কার স্বরুপ, এবং খাদ্যের প্রতিটি স্ক্রেপ। নারীরা এ সকল সাপ্লাইয়ের উপর ডিপেন্ড করতো। এস্কিমো পুরুষরা নারীদের উপর ডিপেন্ড করতো চামড়া সংরক্ষণ করার জন্য, মাংস পান করার জন্য, ভারী পোশাক তৈরির জন্য। অতএব দেখা যাচ্ছে সার্ভাইভ করার জন্য সেক্সের( both sexes) প্রয়োজন আছে। কিন্তু মৌলিক সম্পত্তিগুলোর উপর এস্কিমো পুরুষদেরই আধিপত্য ছিল। বিশেষত শীতকালে বরফে আবৃত বিশাল প্রান্তরে নারীরা মূলত কিছুই করতে পারতোনা অল্পকিছু কাজ ছাড়া। আর এ জন্যই তারা পুরোপুরিভাবে পুরুষের উপর নির্ভরশীল হয়ে উঠেছিল এবং বিয়ে করাটাকেই নিজেদের জীবনের একমাত্র সফলতা বলে মেনে নেয়। তরুণ নারীদের সম্পদের উপর কোন আনুষ্ঠানিক অধিকার ছিলোনা। ( Friedl 1975)

Annual race aimed at reviving Inuit dog sledding tradition set to kick off  in Nunavik – Eye on the Arctic

অন্যদিকে কালাহারী মরুভূমির ঐতিহ্যবাহী কুং নারীরা অর্থনৈতিকভাবে আরো বেশি ক্ষমতাবান। তারা কেরিয়ার গঠন করার জন্য বিয়ে করেনা। ১৯৬০ সালে নৃতাত্বিকরা দেখেছেন, কুং নারীরা অধিকাংশ সময় কাজ করে এবং শুধুমাত্র বিকেলের খাবার গ্রহণ করার জন্যই ঘরে আসে।

PPT - Nisa: The Life and Words of a ǃKung Woman. PowerPoint Presentation -  ID:5606762

কুং নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতা ছিল, তাদের ছিল কন্ঠ।

কিন্ত কুং নারীরা তাদের স্বামীর মতো করে বিশাল গ্রুপে খাবার বন্টন করতোনা। এ স্বতন্ত্রতা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যখন পুরুষরা একটি সফল শিকার শেষে ঘরে ফিরে আসে তখন তারা নিয়ম অনুযায়ী সেটি বন্টন করতো। তীরের অধিকারী যে প্রাণীটি হত্যা করেছে সেটি বন্টণের এ মূল্যবান দায়িত্বটি পেতো। সর্বপ্রথম যে ব্যক্তি প্রাণীটিকে দেখেছে তার জন্যও নির্দিষ্ট একটি নির্বাচনের সেকশন থাকতো এবং যে ব্যক্তি এটিকে ট্র্যাক করেছে তার জন্যও আর এভাবে প্রত্যেকের অবদান অনুযায়ী প্রাণীটি বন্টিত হতো। প্রতিটি শিকারী মাংসের ফালি, পাজর ও মাংসের এক একটি অর্গান তাদের পরিবার ও আত্মীয়দের প্রদান করতো। এটি ছিলো বিনিয়োগ, কোনপ্রকার উপহার নয়। কুং শিকারীরা প্রতিদান প্রত্যাশা করতো। যখন একজন শিকারী তার প্রতিবেশীকে মাংসের ফালি প্রদান করতো সে সম্মান প্রাপ্ত হতো এবং আনুগত্য লাভ করতো___ আর এটাই ছিল তার ক্ষমতা! যদিও নারীদের ছিল দুর্দমনীয় স্বেচ্ছাচারীতা! কুং নারী ও পুরুষ উভয়েই মনে করে নারীরা একটু বেশি প্রভাবশালী! প্রাপ্তি গ্রহণের চেয়ে ভালো এ প্রবাদটিও এক্ষেত্রে টেকেনা। কুংদের অনেকেই এতে একমত হবেন, তাদের ইকোনোমিক ফর্মুলা বলে যে, প্রাচীন নারীরা পুরুষের মতোই, সামাজ পরিচালনায় ভালো অবদান রাখতো!

Pin on We Are The World!!
কুং নারী, কালাহারি মরুভূমি

ক্ষমতাই কী সব?

ক্ষমতা সবসময় অর্থনীতির মানদণ্ড নয়। এটা কী কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ একজন নারী অথবা পুরুষ শয়নকক্ষেও ক্ষমতাবান? একজন প্রাইমিনিস্টার কী তার শয়নকক্ষে স্ত্রীর উপর প্রভাব খাটাতে পারবে জনসিনা অথবা ‍র‍্যান্ডির মতো? অথবা শারীরিক ক্ষমতাসম্পন্ন একজন পুরুষ কী মানসিকভাবে তার প্রেমিকার সাথেও অনেক দৃঢ় ও নিষ্ঠুর?

ইনুইট নারীরা সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য বিয়ে করে কিন্তু তারমানে এই নয় যে তারা পুরুষের অধীনতা অনুভব করে। যদিও কুং পুরুষরাই সম্পত্তি তথা মাংস ভাগ করে! কিন্তু বিভিন্ন সময়ই তারা ঘরে ফেরে খালি হাতে। হয়তো সেদিন তারা কিছুই শিকার করতে পারেনা। কুং নারীরাই প্রাত্যহিক খাবারের বেশিরভাগ যোগান দেয়। কে বলতে পারে যে একজন কৃষক যিনি ডিনার টেবিলের সভাপতিত্ব করেন তিনি স্ত্রীর সাথে একটি প্রাইভেট কনভার্শেসনে ডোমিন্যাট করবে।।। এমনকি আজকের গ্রাম্য সমাজেও পুরুষ একচেটিয়াভাবে কতৃপক্ষের দায়িত্ব অধিকার করে এবং নারীরা পাবলিক প্লেসে পুরুষটির সাথে ভিন্নরকম কথাবার্তা বলে কিন্তু পুরুষের মনস্তত্বের উপর নারীদের একপ্রকার Informal Influence রয়েছে। যদি এ বিভিন্ন সংস্কৃতিতে পুরুষরাই সামাজিক কাঠামোতে আধিপত্য বিস্তার করে, কোন সেক্সই মনে করেনা যে পুরুষ নারীর উপর আধিপত্য বিস্তার করেছে। সুসান বলেন যে, উভয় সেক্সই মোটের উপর ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রেখেছে, অতএব পুরুষ আধিপত্যবাদী এটা একটা মিথ ছাড়া আর কিছুই নয়। ( Rogers1975)

নারী পুরুষের ভেতর ক্রিয়াশীল সুক্ষ্ম ক্ষমতাগুলো উন্মোচন করার জন্য মার্টিন হোয়েইট Human Relation Area File নামক একটি মডার্ন ডেটা ব্যাংক তৈরি করেন যা প্রায় ৮০০ সমাজ থেকে ইনফরমেশন রেকর্ড করেছেন। তিনি প্রায় ৯৩ টি প্রি-ইন্ডাস্ট্রিয়াল সমাজ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন; ১/৩ ছিলো যাযাবর সংগ্রাহক, ১/৩ অংশ ছিল গ্রাম্য কৃষক; ১/৩ অংশ মানুষ ছিল যারা ভেষজ/ বাগানের সাথে সম্পৃক্ত। ১৭৫০ সালের ব্যাবিলনীয়ন থেকে আজকের দিনের ঐতিহ্যবাহী কৃষক পর্যন্ত। অধিকাংশ নৃ-তাত্বিকরা গবেষণা করেছেন ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে। হোয়েট তারপর এই ডেটাগুলো সংগ্রহ করেন ও কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর দেন প্রতিটি সংস্কৃতি সম্পর্কে।

ঈশ্বরের সেক্স কোনটি? দাপনের সময় কোন লিঙ্গ অধিক আনুষ্ঠানিকতা অর্জন করে? লোকাল পলিটিক্যাল নেতা কে? ডিনার টেবিলে কার অবদান বেশি হবে? সন্তানের শৃঙ্খলার ব্যাপারে চুড়ান্ত কতৃত্ব কার? কে বিবাহের আয়োজন করে? কে মূল্যবান সম্পদ ইনহেরিট করে? কোন লিঙ্গ ব্যক্তিগতভাবে মনে করে তার হায়ার সেক্স ড্রাইভ রয়েছে? পুরুষ কি মনে করে নারীরা পুরুষ থেকে বেশি সংকীর্ণ? তিনি এমন অজস্র চলকের মধ্যে ক্রস- কোরিলেট করেছেন বিশ্বের সর্বত্র নারীদের স্ট্যাটাস নির্ধারণ করার জন্য।

হোয়েট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যাপার আবিষ্কার করেছেন। তিনি এমন কোন সোসাইটির অস্তিত্ব খুঁজে পাননি যেখানে নারীরা পুরুষদেরকে সামাজিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্র  শাসন করে। এমন কোন সমাজ নেই যেখানে নারীই শাসক।। এমাজনের নারীদের সম্পর্কে যে মিথ প্রচলিত ছিল এটি শুধুই একটি গল্প, ফিকশন , যার কোনো বাস্তব অস্তিত্ব নেই। ৬৭% সংস্কৃতিতে দেখা যায় পুরুষ নারীদের সামগ্রিক কর্মকান্ডেকেই নিয়ন্ত্রণ করে। একটি মেলায় নির্দিষ্ট সংখ্যক সমাজের ৩০% নারী ও পুরুষ সমান বলে বিবেচিত হয়েছিল। বিশেষ করে এটা শিকারী সংগ্রাহক ও গার্ডেনারদের মধ্যে প্রতিফলিত হয়েছিল। ৫০ শতাংশ সংস্কৃতিতে দেখা যায় নারীদের সামাজিক নিয়মের উর্ধ্বে অনেক বেশি Informal Influence রয়েছে!

হোয়েট এমন কোন সংস্কৃতির অস্তিত্ব খুঁজে পায়নি যেখানে নারী ও পুরুষের মর্জাদাকে একসাথে যোগ করা যায়। তার পরিবর্তে, প্রতিটি সংস্কৃতিতেই সামান্য +/- পরিলক্ষিত হয়। কিছু সংস্কৃতিতে, নারীরা বিশাল অর্থনৈতিক অবদান রাখেন কিন্তু ম্যারিটাল ও সেক্স লাইফের উপর তাদের ক্ষমতা খুবই কম। অন্যান্য ক্ষেত্রে, তারা খুব সহযভাবে ডিভোর্স করে দেয় কিন্তু ধর্মীয় ব্যাপারে খুব কমই কথা বলে এবং তাদের আনুষ্ঠানিক কোন পলিটিক্যাল অফিস নেই। এমনকি যেখানে নারী মূল্যবান সম্পদ অর্জন করে, তাদেরও রয়েছে বিবেচনা যোগ্য অর্থনৈতিক ক্ষমতা। তাদের অপরিহার্যভাবে সুবিস্তীর্ণ রাজনৈতিক অধিকার ও ধর্মীয় প্রভাব নেই। সমাজের একটি সেক্টরের ক্ষমতা অন্য সেক্টরে ট্রান্সলেট হয়না।

এটি এখন উইনাইটেড স্টেটে একদম পরিস্কার। ১৯২০ সালে তারা ভোট দেয়ার অধিকার লাভ করে। রাজনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধি পায় কিন্তু অফিশিয়ালি তারা সেকেন্ড ক্লাস সিটিজেনই রয়ে যায়। আজ কর্মক্ষেত্রে নারীদের ক্ষমতা বাড়ছে, অধিকাংশই উচ্চশিক্ষিত। বাড়ীতে বিবাহিত নারীরা রান্নাবান্না, কাপড়কাচা ও পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ করছে। কারণ আমেরিকানরা মনে করেন, মর্জাদা স্বতন্ত্র, কেউই জানেনা যে কেনো কর্মজীবী মহিলারা গৃহস্থালি কর্মকান্ডে জড়িত হচ্ছে! সমাজের একটি ক্ষেত্রের মর্জাদা অন্যক্ষেত্রে অবস্থান করতে কোন প্রভাব বিস্তার করেনা।

সম্ভবত টউগি ও তার অন্তরঙ্গ বন্ধু অর্থনৈতিকভাবে খুবই ক্ষমতাবান ছিল এবং ২ মিলিয়ন বছর পূর্বে তার সঙ্গীর উপর ব্যাপক Informal Influence ছিল এবং ছিলোনা কোন দলনেতা!

আমরা জর্জে, দুই মিলিয়ন বছর পূর্বের টউগির যে সকল হাঁড় খুঁজে পেয়েছি অলডুবাই নীল-সবুজ হ্রদের পাশে তার ব্যাপারে সত্যিকার অর্থে আমরা কী ধারণা করতে পারি?? সে সমাজে নারী ও পুরুষ কী ইকুয়াল ছিল? নিস্বঃন্দেহে এ প্রাক-মানবদের মধ্যে কোন ক্লাস বা নৈতিক স্বতন্ত্রতা ছিলোনা। এটিও শুনতে অদ্ভুত যে তাদের কোন সাংস্কৃতিক জীবন ছিলোনা ক্ষমতার রুপক সম্মেলন সহ। ফিশার বলেন,  আমরা টউগি ও তার সঙ্গীদের ব্যাপারে কিছু কথা একদম সুনির্দিষ্ট করেই বলতে পারি।

তারা অবশ্যই ইনুইটদের মতো ছিলোনা, যেখানে পুরুষ সকল প্রকার খাদ্য সংগ্রহ করে আর নারীরা ঘরে অবস্থান করে। তাদের আসলে পার্মানেন্ট কোন বাড়ী ছিলোনা। নারীরাও কাজ করতো। ডাবল ইনকামের পরিবারই ছিলো সে সময়ের নিয়ম। কিন্তু টউগি ও তার বন্ধু মাংস খেতো। গর্ভবতী মহিলাদের জন্য শিকার ও সংগ্রহ দুটোই বিপজ্জনক ছিল। আর এ জন্য টউগি সম্ভবত তার স্পেশাল ফ্রেন্ডকে মাংস সংগ্রহ করার জন্য পাঠাতো এবং মাংস পেশি এবং বিপজ্জন প্রাণীর মজ্জা আর অন্যদিকে সে ফল, শাকসবজি, বীজ ও তার অন্য মেয়ে বান্ধবীদের নিয়ে ছোটখাটো কিছু গেমিং করতো। ( Fisher, Anatomy of love)

সন্ধ্যার খাবারে টউগির হয়তো বিশাল অবদান ছিল। আর তাছাড়া সে ছিল অর্থনৈতিক ভাবে উন্নত এবং সেকচুয়ালি অনেক বেশি ক্ষমতাবান! কারণ তার অর্গাজম ছিল জটিল। এ জন্য সে অজস্র পুরুষের সাথে সহবাস করতে পারতো। অতএব তার মধ্যে একটা Hidden Power ছিল! আমরা প্রায়শ সেকচুয়াল ক্ষমতাকে আমাদের গণনা থেকে দূরে রাখি! কিন্তু এটা সঠিক নয়! খাবার বন্টন করার মাধ্যমে সমাজে যেমন প্রভাব বিস্তার করা যায়, সেকচুয়াল ক্ষমতার মাধ্যমেও সমাজে প্রভাব বিস্তার করা যায়। টউগি সেকচুয়ালি এক্সাইটিং হওয়ার কারণেই হয়তো সে বেশি বেশি পুরুষ আকৃষ্ট করতে পেরেছিল, তার সোশ্যাল ও ইকোনোমিক পাওয়ার দুর্দান্ত ছিল। সে গোপনে পুরুষের মস্তিষ্কের নিউরো-কেমিক্যাল প্রসেসকে ঠিকই ডোমিন্যাট করেছিল! কিন্তু কিভাবে আসলে তারা বাস করতো, কে কাকে নেতৃত্ব প্রদান করেছিল? আমরা টউগির সমাজ ও মনস্তত্ত্ব সম্পর্কে খুব একটা ধারণা রাখিনা আর তাই আমরা নিশ্চিতভাবে তাদের জীবন সম্পর্কে বেশি কিছু বলতে পারিনা  তবে হল্যান্ডের আর্নহেম চিড়িয়াখানার শিম্পাঞ্জিদের উপর গবেষণা করে টউগির দৈনান্দিন জীবনের ক্ষমতা সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা একটি অন্তঃদৃষ্টি লাভ করেছিলো!

শিম্পাঞ্জির আলফা পুরুষ পদবীর জন্য প্রতিনিয়ত আলোচনা করতো। একজন পুরুষ সবসময় আতঙ্ক প্রদর্শন করতো, তার চুলে ঝটকা মেরে, হাতের মধ্যে পাথর ধরে রেখে। সে তার প্রতিদ্বন্দ্বীকে সবেগে ধাক্কা দেয়, মাটিতে আঘাত করে এবং অহংকার প্রকাশ করে। প্রতিপক্ষকে স্থগিত করে রাখার জন্য এ আচরণটি যথেষ্ট। পশ্চাদপসরণ স্বতন্ত্র কিছু ঈশারার সাথে সম্পৃক্ত, অধীনস্তরা ধনুকের মতো তার কাছে গভীরভাবে অবনত হয় এবং চুলগুলোকে শরীরের বিরুদ্ধে সমান্তরাল করে নিজের আকার সংকোচিত করে ফেলে। এ ধরণের আগ্রাসনে মিত্রপক্ষও থাকে। ভীতি প্রদর্শনের পূর্বে একজন আক্রমণকারী তার পাশে একজন সঙ্গীকে রাখার চেষ্টা করে। একটি হাতকে মুঠো করে, তালু মুক্ত করে সে তার সম্ভাব্য বন্ধুকে আহবান করে। যদি সাপোর্টার নিযুক্ত করতে সমর্থ হয়, সে তার প্রতিযোগীকে আঘাত করতে চায়, তার দিকে পাথর ছুঁড়ে মারে, তাকে ঘুষি মারে, তাকে হাত, পা ও মাথা দিয়ে মার দেয়। কিন্তু সে আবার মিত্রপক্ষের দিকেও চোখ রাখে, যদি তার ডিপুটি আনুগত্যে দুলে উঠে তবে আগ্রাসী তার নিঃস্ব অঙ্গভঙ্গীর ঈশারাগুলোকে আবার জাগ্রত করে তোলে!

শিম্পাঞ্জিরাও হিউম্যান পলিটিশিয়ানদের মতো। একটি শিম্পাঞ্জি যখন অন্যটিকে ব্যাক আপ দেয় তখন সেও তার কাছ থেকে সেটা ফেরত পাওয়ার প্রত্যাশা করে। আর্নহেমে একবার একটি সেকেন্ড কমান্ডের পুরুষ শিম্পাঞ্জি তার পাশের একজন মহিলাকে গ্রুমিং বা যত্ন করতে থাকে, একে অন্যকে ঠাপ দিয়ে এবং সন্তানের সাথে খেলাধুলা করে। এই রাউন্ডটি শেষ হওয়ার পরই। তাৎক্ষণিক সে একজন আলফা মেলকে থ্রেট প্রদান করে! সে কী এখানে কোন পলিটিক্স করেছিল মূলত? সে কি ঐ মহিলাটিকে ঘুষ প্রদান করে তাকে সাপোর্ট করার জন্য মানসিক ভাবে স্টিমুলেট করেছিলো? একদম মানব পলিটিশিয়ানদের মত শিম্পাঞ্জিরাও শিশুদের কোলে তুলে নেয় এবং নারীদের সাথে বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে কথা বলে, পুরুষ শিম্পাঞ্জিরা এভাবে নারীকে চাষ করে। পুরুষদের কিছু জোট এক বছর স্থায়ী হয়; আর কিছুকিছু কয়েক মিনিট। মর্জাদার ক্ষুদায় আক্রান্ত পুরুষ ক্ষণস্থায়ী ও চঞ্চল বন্ধু তৈরি করে। সম্ভবত টউগি ও তার হোমিনিন কমরেড তাদের উচ্চমর্জাদায় নিমগ্ন ছিল, তারা তর্জনগর্জন করতো, ধিক্কার জানাতো, আক্রমণাত্মকভাবে এদিকওদিক দুলতো যতক্ষণনা তাদের অধীনস্তরা মাথানত করে। মাঝেমাঝে যুদ্ধ সম্ভবত ভেঙে যেতো। এবং পুরুষরা সম্ভবত টউগিকে চাষাবাদ করতো তার নিজের সমর্থনের জন্য এবং তার নারীসঙ্গী হিসেবে!

নারী পুরুষের ভেতর ক্রিয়াশীল সুক্ষ্ম ক্ষমতাগুলো উন্মোচন করার জন্য মার্টিন হোয়েইট Human Relation Area File নামক একটি মডার্ন ডেটা ব্যাংক তৈরি করেন যা প্রায় ৮০০ সমাজ থেকে ইনফরমেশন রেকর্ড করেছেন। এই ফাইল ও অন্যান্য নৃ-তাত্বিক প্রতিবেদন থেকে তিনি প্রায় ৯৩ টি প্রি-ইন্ডাস্ট্রিয়াল সমাজ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন; ১/৩ ছিলো যাযাবর সংগ্রাহক, ১/৩ অংশ ছিল গ্রাম্য কৃষক; ১/৩ অংশ মানুষ ছিল যারা ভেষজ/ বাগানের সাথে সম্পৃক্ত। ১৭৫০ সালের ব্যাবিলনীয়ন থেকে আজকের দিনের ঐতিহ্যবাহী কৃষক পর্যন্ত। অধিকাংশ নৃ-তাত্বিকরা গবেষণা করেছেন ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে। হোয়েট তারপর এই ডেটাগুলো সংগ্রহ করেন ও কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর দেন প্রতিটি সংস্কৃতি সম্পর্কে।

ঈশ্বরের সেক্স কোনটি? দাপনের সময় কোন লিঙ্গ অধিক আনুষ্ঠানিকতা অর্জন করে? লোকাল পলিটিক্যাল নেতা কে? ডিনার টেবিলে কার অবদান বেশি হবে? সন্তানের শৃঙ্খলার ব্যাপারে চুড়ান্ত কতৃত্ব কার? কে বিবাহের আয়োজন করে? কে মূল্যবান সম্পদ ইনহেরিট করে? কোন লিঙ্গ ব্যক্তিগতভাবে মনে করে তার হায়ার সেক্স ড্রাইভ রয়েছে? পুরুষ কি মনে করে নারীরা পুরুষ থেকে বেশি সংকীর্ণ? তিনি এমন অজস্র চলকের মধ্যে ক্রস- কোরিলেট করেছেন বিশ্বের সর্বত্র নারীদের স্ট্যাটাস নির্ধারণ করার জন্য।

হোয়েট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যাপার আবিষ্কার করেছেন। তিনি এমন কোন সোসাইটির অস্তিত্ব খুঁজে পাননি যেখানে নারীরা পুরুষদেরকে সামাজিক জীবনের প্রতিটি গোলকে শাসন করে। এমন কোন সমাজ নেই যেখানে নারী শাসক।। এমাজনের নারীদের সম্পর্কে যে মিথ প্রচলিত ছিল এটি শুধুই একটি গল্প, ফিকশন যার কোন বাস্তব অস্তিত্ব নেই। ৬৭% সংস্কৃতিতে দেখা যায় পুরুষ নারীদেরকে প্রায়শ সামগ্রিক কর্মকান্ডেকেই নিয়ন্ত্রণ করে। একটি মেলায় নির্দিষ্ট সংখ্যক সমাজের ৩০% নারী ও পুরুষ সমান বলে বিবেচিত হয়েছিল। বিশেষ করে এটা শিকারী সংগ্রাহক ও গার্ডেনারদের মধ্যে প্রতিফলিত হয়েছিল। ৫০ শতাংশ সংস্কৃতিতে দেখা যায় নারীদের সামাজিক নিয়মের উর্ধ্বে অনেক বেশি Informal Influence রয়েছে!

হোয়েট এমন কোন সংস্কৃতির অস্তিত্ব খুঁজে পায়নি যেখানে নারী ও পুরুষের মর্জাদাকে একসাথে যোগ করা যায়। তার পরিবর্তে, প্রতিটি সংস্কৃতিতেই সামান্য +/- পরিলক্ষিত হয়। কিছু সংস্কৃতিতে, নারীরা বিশাল অর্থনৈতিক অবদান রাখেন কিন্তু ম্যারিটাল ও সেক্স লাইফের উপর তাদের ক্ষমতা খুবই কম। অন্যান্য ক্ষেত্রে, তারা খুব সহযভাবে ডিভোর্স করে দেয় কিন্তু ধর্মীয় ব্যাপারে খুব কমই কথা বলে এবং তাদের আনুষ্ঠানিক কোন পলিটিক্যাল অফিস নেই। এমনকি যেখানে নারী মূল্যবান সম্পদ অর্জন করে, তাদেরও রয়েছে বিবেচনা যোগ্য অর্থনৈতিক ক্ষমতা। তাদের অপরিহার্যভাবে সুবিস্তীর্ণ রাজনৈতিক অধিকার ও ধর্মীয় প্রভাব নেই।

সমাজের একটি সেক্টরের ক্ষমতা অন্য সেক্টরে ট্রান্সলেট হয়না। এটি এখন উইনাইটেড স্টেটে একদম পরিস্কার। ১৯২০ সালে তারা ভোট দেয়ার অধিকার লাভ করে। রাজনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধি পায় কিন্তু অফিশিয়ালি তারা সেকেন্ড ক্লাস সিটিজেনই রয়ে যায়। আজ কর্মক্ষেত্রে নারীদের ক্ষমতা বাড়ছে, অধিকাংশই উচ্চশিক্ষিত। বাড়ীতে বিবাহিত নারীরা রান্নাবান্না, কাপড়কাচা ও পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ করছে। কারণ আমেরিকানরা মনে করেন, মর্জাদা স্বতন্ত্র, কেউই জানেনা যে কেনো কর্মজীবী মহিলারা গৃহস্থালি কর্মকান্ডে জড়িত হচ্ছে! সমাজের একটি ক্ষেত্রের মর্জাদা অন্যক্ষেত্রে অবস্থান করতে কোন প্রভাব বিস্তার করেনা। সম্ভবত টউগি ও তার অন্তরঙ্গ বন্ধু অর্থনৈতিকভাবে খুবই ক্ষমতাবান ছিল এবং ২ মিলিয়ন বছর পূর্বে তার সঙ্গীর উপর ব্যাপক Informal Influence ছিল এবং ছিলোনা কোন দলনেতা!

আমরা জর্জে, দুই মিলিয়ন বছর পূর্বের টউগির যে সকল হাঁড় খুঁজে পেয়েছি অলডুবাই নীল-সবুজ হ্রদের পাশে তার ব্যাপারে সত্যিকার অর্থে আমরা  কী ধারণা করতে পারি?? সে সমাজে নারী ও পুরুষ কী ইকুয়াল ছিল? নিস্বঃন্দেহে এ প্রাচীন মানবদের মধ্যে কোন ক্লাস বা নৈতিক স্বতন্ত্রতা ছিলোনা। এটিও শুনতে অদ্ভুত যে তাদের কোন সাংস্কৃতিক জীবন ছিল ক্ষমতার রুপক সম্মেলন সহ। কিন্তু আমরা টউগি ও তার সঙ্গীদের ব্যাপারে কিছু কথা একদম সুনির্দিষ্ট করেই বলতে পারি।

তারা অবশ্যই ইনুইটদের মতো ছিলোনা, যেখানে পুরুষ সকল প্রকার খাদ্য সংগ্রহ করে আর নারীরা ঘরে অবস্থান করে। তাদের আসলে পার্মানেন্ট কোন বাড়ী ছিলোনা। নারীরাও কাজ করতো। ডাবল ইনকামের পরিবারই ছিলো সে সময়ের নিয়ম। কিন্তু টউগি ও তার বন্ধু মাংস খেতো। গর্ভবতী মহিলাদের জন্য শিকার ও সংগ্রহ দুটোই বিপজ্জনক ছিল। আর এ জন্য টউগি সম্ভবত তার স্পেশাল ফ্রেন্ডকে মাংস সংগ্রহ করার জন্য পাঠাতো এবং মংস পেশি এবং বিপজ্জন প্রাণীর মজ্জা আর অন্যদিকে সে ফল, শাকসবজি, বীজ ও তার অন্য মেয়ে বান্ধবীদের নিয়ে ছোটখাটো কিছু গেমিং করতো।

সন্ধ্যার খাবারে টউগীর হয়তো বিশাল অবদান ছিল। আর তাছাড়া সে ছিল অর্থনৈতিক ভাবে উন্নত এবং সেকচুয়ালি অনেক বেশি ক্ষমতাবান! কারণ তার অর্গাজম ছিল জটিল। এ জন্য সে অজস্র পুরুষের সাথে সহবাস করতে পারতো। অতএব তার মধ্যে একটা Hidden Power ছিল! আমরা প্রায়শ সেকচুয়াল ক্ষমতাকে আমাদের গণনা থেকে দূরে রাখি! কিন্তু এটা সঠিক নয়! খাবার বন্টন করার মাধ্যমে সমাজে যেমন প্রভাব বিস্তার করা যায়, সেকচুয়াল ক্ষমতার মাধ্যমেও সমাজে প্রভাব বিস্তার করা যায়। টউগি সেকচুয়ালি এক্সাইটিং হওয়ার কারণেই হয়তো সে বেশি বেশি পুরুষ আকৃষ্ট করতে পেরেছিল, তার সোশ্যাল ও ইকোনোমিক পাওয়ার দুর্দান্ত ছিল। সে গোপনে পুরুষের মস্তিষ্কের নিউরো-কেমিক্যাল প্রসেসকে ঠিকই ডোমিন্যাট করেছিল! কিন্তু কিভাবে আসলে তারা বাস করতো, কে কাকে নেতৃত্ব প্রদান করতো? মূলত, আমরা টউগির সমাজ ও মনস্তত্ত্ব সম্পর্কে খুব একটা ধারণা রাখিনা তবে হল্যান্ডের আর্নহেম চিড়িয়াখানার শিম্পাঞ্জিদের উপর গবেষণা করে টউগির দৈনান্দিন জীবনের ক্ষমতা সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা একটি অন্তঃদৃষ্টি লাভ করেছিলো!

পুরুষ শিম্পঞ্জিরা একটি পরম্পরাগত আতঙ্কের জাল বজায় রাখে বন্ধু ও শত্রুদের সাথে আর তার মধ্যে রয়েছে একজন নমনীয় কতৃত্বশীল নেতা। এ পদবী পরিস্কার সীমা নির্দেশ করে যেকোন মুহূর্তে। কিন্তু পুরুষদের ঠিক যেমন অনেক বন্ধু থাকে ঠিক তেমনি তারা মগ্ন হয় বিভিন্ন খন্ডযুদ্ধে। কতৃত্বশীল নেতা ধীরে ধীরে পরিবর্তন হয়ে যায়। অবশেষে, পরম্পরা অনুযায়ী তারা কয়েকবার মুখোমুখি হয়, নৃশংস একটি যুদ্ধ হয় ও নতুন নেতার অনুপ্রবেশ ঘটে। শাসকের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ রয়েছে যেটিকে বলে শেরিফ। সে উচ্চশব্দে ঝগড়া করে, প্রতিদ্বন্দ্বীদের একে অপরের থেকে টেনে আনে। সে প্রত্যশা করে একজন নন-পার্টিশিয়ান রেফারি। যখন আলফা মেল কোন একজন দূর্বলের সাথে যুদ্ধ করে, তার আজ্ঞাবহ শিম্পাঞ্জিরা তাকে সম্মান প্রদর্শন করে, সাপোর্ট করে এবং আনুগত্য স্বীকার করে। তারা অবনত হয়, তাদের মাথা ও শরীরের উপরের অংশকে নিমগ্ন করে। তারা তার হাতে চুম্বন করে, চুম্বন করে পা, ঘাড় ও বুকে। নিন্মপদস্তরা এটা নিশ্চিত করে যে তারা নিন্মপদস্ত। কিন্তু যদি নেতা সঙ্গতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়, তার অধস্তন রা তাদের আনুগত্য সরিয়ে ফেলে, পরম্পরা ধীরে ধীরে পরিবর্তন হতে শুরু করে যতক্ষণ না শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। অধস্তনরা একজন প্রধানকে নির্বাচন করে!

নারী শিম্পাঞ্জিরা এ ধরণের ক্রমোন্বতি মেনে চলেনা। তারা উপদল গঠন করে। পার্শ্বত ব্যক্তিদের সাবগ্রুপে সংযুক্ত হয়। যারা একে অন্যের শিশুকে সামাজিক বিশৃঙ্খলার সময় নিরাপদে রাখে ও প্রতিপালন। নারীরা তেমন এগ্রেসিভ নয়। তাদের মধ্যে আধিপত্যবাদী মনোভাব দেখা যায়না। এবং এ নেটওয়ার্ক স্থিতিশীল থাকে, তুলনামূলকভাবে সমমাত্রিক __ এক বছরের জন্য । তাছাড়া প্রভাবশালী নারী সাধারণত এ পজিশন অর্জন করে তাদের বিশুদ্ধ ব্যক্তিত্ব দ্বারা, অনন্য সাধারণ প্রতিভা, বয়স,  তবে তারা ভয় ভীতি প্রদর্শন করে পদ মর্যাদা অর্জন করেনা!

নারী শিম্পাঞ্জি ঝগড়া করে, পুরুষের মতো তারা সমস্যা সমাধানের জন্য মিত্র তৈরি করে। একবার দেখা যায় বিপদজনক পরিস্থিতে পড়ে একজন মহিলা পুরুষকে ডাক দেয়। ভয়ানক চিতকারের সাথে শব্দ তৈরি করে, সে তার পুরো হাত আততায়ীর দিকে নির্দেশ করে এবং একইসময় সে পুরুষ মিত্রকে চুম্বন করে। যখন তার আবেদন সনির্বদ্ধ হয়ে উঠে তার পুরুষ বন্ধুটি শত্রুকে কাউন্টার এটাক করে যেখানে মহিলাটি দাঁড়িয়ে থাকে ও অনুমোদনের চোখে পর্যবেক্ষণ করে।

যেখানে পুরুষ পরম্পরা অনুযায়ী পদমর্জাদার স্তর তৈরি করে ও সে অনুযায়ী তাদের আনুগত্যের সীমা নির্ণয় করে তাদের উন্নততর অবস্থার জন্য । যেখানে নারীরা সমমাত্রিক গোষ্ঠী নির্মাণ করে। এবং বিপুল সংখ্যক ডেটা বলছে যে,  নারীরা আসলে এটাই করে। এছাড়া পুরুষের পদবীর জন্য সেনসিটিভিটি টেস্টোস্টারণের সাথে জড়িত, যেখানে নারীরা কো-অপারেশনের দিকে চালিত হয় এবং গ্রুপের সঙ্গতির উপর যা ইস্ট্রোজেনের সাথে সম্পৃক্ত। এ লিঙ্গ বৈষ্যমের পেছনে জীববিজ্ঞান সম্পৃক্ত রয়েছে!

আজ থেকে দুই মিলিয়ন বছর পূর্বের হোমো হ্যাবিলসদের মধ্যেও সম্ভবত পদবীর পরম্পরা ছিল আর নারীদের মধ্যে ছিল স্থিতিশীল সম্পর্ক। সম্ভবত টউগি ছিল নারীদের মধ্যকার মীমাংসাকারী। আর্নহেমে যে দায়িত্বটি বিগ মামা পালন করতো। সে তার চারপাশের তরুনীদের মধ্যে তর্কের মিমাংসা করতো। আরো কিছু শিম্পাঞ্জি নারী আছে যারা মধ্যস্ততাকারী। যখন যুদ্ধে একজন পুরুষ জয়ী হয় তখন সে পুরুষটিকে ধাক্কা দিয়ে তার শত্রুর পাশে বসায় এবং Grooming  Ceremony শুরু করে। এই গ্রুমিং রিচুয়ালের একটি প্যাটার্ন রয়েছে, এটি সম্ভবত আমাদের নির্দেশ দেয় ক্ষমতার সম্পর্ক সম্পর্কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়, শান্তি নির্মান তাদের দৈনান্দিন জীবনের প্রধানতম কাজ। অনেক তোলপাড়ের পর, শিম্পাঞ্জি কয়েক ঘন্টা পরই তার শত্রুর পাশাপাশি হাঁটে, কোমলস্বরে শব্দ করে, হাত ধরাধরি করে, বুকে নেয়, চুম্বন করে ও গভীর চোখে একে অন্যের দিকে তাকিয়ে থাকে। প্রতিদ্বন্দ্বী শিম্পঞ্জিও বিপুল শক্তি অপচয় করে তার বিদ্বেষকে অবদমন করতে। তারা একে অন্যকে উন্মত্ত হয়ে গ্রুমিং করে যখন তারা দু-শ্চিন্তায় থাকে। শিম্পাঞ্জি ও অন্যান্য প্রাইমেটরাও তাদের সঙ্গীকে শান্ত করার জন্য যথেষ্ট কর্ম করে। সংঘর্ষ হলো ব্যতিক্রম। শান্ত করার প্রক্রিয়াটা একটি নিয়ম। এটি সম্ভবত আমাদের পূর্বসূরীদের মধ্যেও ছিল টউগির সময়কালে!

শারীরিক দৃঢ়তা, আকার, গতি, তৎপরতা বা আগ্রাসনও কিন্তু আবার সবকিছু নয় এটা অনেক সময় বুদ্ধি, কাকে আপনি চেনেন এবং কিভাবে আপনি সামাজিক ঋণ পরিশোধ করেন তার উপরও নির্ভর করে। সর্বশেষ, ক্ষমতা ফর্মাল ও ইনফর্মাল হতে পারে। সমর্থক ও মধ্যস্থতাকারী, নারীরা ক্ষমতার এই খেলায় প্রধান প্লেয়ার। প্রাইমোটোলজিস্ট ফ্রান ডি ওয়াল বলেন, যদি আধিপত্যের কথা বলা হয় তবে পুরুষ শিম্পাঞ্জি আধিপত্যের দিক থেকে নারীদের ১০০ ভাগ ডোমিনেট করে। আপনি যদি গবেষণা করে দেখেন তবে দেখবেন এগ্রেসিভ ইন্টারেকশনে পুরুষ নারীর তুলনায় ৮০% জয় লাভ করে। কিন্তু আপনি যদি দেখেন কে কার কাছ থেকে ভালো খাবার পাবে এবং সে সর্বোচ্চ আসনে বসবে তবে ৮০% ক্ষেত্রে নারীরাই জয়ী হয়। নিক্কি নামক একটি পুরুষ শিম্পাঞ্জি আছে যে অনেক প্রতাপশালী কিন্তু Yeroen নামক আর একটি পুরুষের উপর ডিপেন্ড করে। লুইট ব্যক্তিগতভাবে খুবই ক্ষমতাবান কিন্ত কে কাকে পাশে ঠেলে দেবে সেক্ষেত্রে  সে পুরোপুরিভাবে একজন মামা বা নারীর উপর নির্ভরশীল। ডি ওয়াল দুটো জিনিস পর্যবেক্ষণ করেছেন, যা নৃতাত্বিকরা মানবীয় সংস্কৃতিতে পর্যবেক্ষণ করেছেন, স্ট্যাটাস আসলে স্বতন্ত্র ব্যাপার নয়, একক গুণ স্বতন্ত্র উপায়ে পরিমাপ করা হয়, পুরুষ আধিপত্যবাদী কিন্তু সে যদি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীর উপর আধিপত্য বিস্তার করে তবে জীবন একটি ফিকশন ছাড়া আর কিছুই নয়। (De Waal 1982,187)

শিম্পাঞ্জি ও প্রাচীন আদিবাসীদের সংস্কৃতি ও রাজনীতি বিশ্লেষণ করলে আমরা বুঝতে পারি অলডুবাই এর জর্জে কিভাবে আমাদের পূর্বসূরিরা মর্জাদার জন্য পরস্পর জীবযাপন করতো। টউগির জীবনে প্রথম স্মৃতি জন্মেছিলো হয়তো যখন সে তার মায়ের নিতম্বে ছড়ে তৃণভূমির দিকে তাকিয়ে ছিল। সে সময় তার বয়স ছিল তিন থেকে চার বছর। সে জানতে পেরেছিল কোথায় হিজলি বাদাম পাওয়া যায় আর কোথায় মূল খনন করতে হয়। টউগি সামাজিক নেটওয়ার্কে তার অবস্থান জেনেছিল এবং কিভাবে তাদের লিডারের হাত,পা ও কাধে চুম্বন করতে হয় সেটিও শিখে নিয়েছিলো। যখন টউগি তার সমবয়সী কারো সাথে যুদ্ধে নেমেছিল তার মা ও বাবা তার পক্ষে লড়াই করেছিল আর সে জয়ী হয়েছিল। টউগি ছেলেদের সাথে বন্ধুত্ব করেছিল ও মাংস ভাগ করেছিল।

বয়সন্ধীতে পৌঁছানোর পর টউগি পেয়ার-বন্ড গঠন করেছিল তার স্পেশাল ফ্রেন্ডের সাথে। হতে পারে সে তার ব্যান্ড থেকে আলাদা ব্যান্ডের কেউ ছিল। হয়তো বার্ষিক তীর্থে সেই ব্যান্ডটির পাশে তাদের গ্রুপ ক্যাম্প গড়েছিল। টউগি তার সাথে এক সাথে পথ চলেছে, এক সাথে খাবার ভাগ করেছে এবং এক সাথে সন্তান লালন পালন করেছে। যদি পার্টনারশিপ তিক্ত হয়ে উঠত সে সন্তানের দুধ পান শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতো আর ভিন্ন কোন গ্রুপে যোগ দিতো। ইকোনোমিক্যাল সমৃদ্ধির কারণে টউগি তার সঙ্গীকে খুব সহযে ডিভোর্স করতে পারতো আর তার সন্তান মাল্টি-এজ প্লে গ্রুপে যোগ দিতো।

টউগি জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রেও খুবই ক্ষমতাবান ছিল। সে নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে জানতো কোথায় মধু পাওয়া যায় এবং সবজি, সে প্রশংসিত হতো। সে হয়তো মধ্যস্থতাকারী ছিল। সে তার স্বামীর হাত থেকে পাথর বা স্টিক নিয়ে প্রতিযোগীর দিকে ছুড়ে মারতো এবং চিতকার করতো। সম্ভবত তার এক থেকে দুইজন গার্লফ্রেন্ড ছিল, তারাও ঝগড়ার সময় তার সঙ্গ দিতো। যেহেতু টউগি ক্যারিশম্যাটিক ছিল, সে ছিল উজ্জ্বল, শ্রদ্ধাভাজন ও চালাক বন্ধু সংরক্ষণে সে গ্রুপের লিডার হওয়ার ক্ষেত্রে খুবই যোগ্যতাসম্পন্ন ছিল। প্রাইমেটদের মধ্যে জঙ্গলে টিকে থাকার জন্য দৃঢ়তা নয় শুধু মাথাও প্রয়োজন। ( নারী ও পুরুষের মনস্তত্ব)

এই ব্রেন আগুন বের করে আনে, যন্ত্র ও অস্ত্র উদ্ভাবন করে। তারপর রকেটের মতোই আমাদের পূর্বসূরীরা মানব জীবনে ছড়িয়ে পড়ে।

কৃতজ্ঞতা- হেলেন ফিশার, এনাটমি অব লাভ

hsbd bg