দেহ শূন্য মন
মূলপাতা কনসাসনেস দেহ শূন্য মন

দেহ শূন্য মন

লিখেছেন অ্যান্ড্রোস লিহন
293 বার পঠিত হয়েছে

আমাদের কনসাসনেসকে কী ট্যাকনোলজিক্যালি দেহের বাহিরে অস্তিত্বশীল করা যাবে?

..পর্ব-১

 

এমন কোনো “ল” অফ ফিজিক্সের অস্তিত্ব আছে কী যা দেহহীন শুধু শক্তির তৈরি মনকে সমর্থন করবে Interstellar অথবা Startark মুভিতে যেমনটা দেখা যায় ?মিসিও কাকু বলেছেন,যদি মানব চেতনা বলতে আমরা এমন একটি ডিভাইসকে বুঝি যা বিশ্বের মডেল তৈরি করে এবং সেগুলিকে ভবিষ্যতে সিমুলেট করে তবে এমন কোনো মেশিন কী তৈরি করা সম্ভব যেটি সম্পূর্ণ প্রকৃয়াটিকে সিমুলেট করতে পারবে?মানুষ কী আত্মার মতো ইউনিভার্সে সারভাইভ করতে পারে?স্টারটার্ক মুভিতে এমন একটি সুপারহিউম্যানের প্রজাতিকে দেখা যায় যারা পিউর এনার্জি হিসেবে মহাবিশ্বে সারভাইভ করে এবং একটা পর্যায়ে তাদের মানুষের শরীরে নতুন করে প্রবেশ করার ইচ্ছে জন্ম হয়।surrogate মুভিতে দেখা যায়, বিজ্ঞানীরা মানুষের মনকে রোবটের মাঝে রিপ্লেস করেছেন এবং যে মন রোবটকে পরিচালনা করে!

দেহের বাহিরে চেতনার উপস্থিতি সম্পর্কে বলতে গেলে প্রথমত বলতে হয় Out Of Body Experience এর কথা!এটি অনেক প্রাচীন একটি ব্যাপার যেটি ধর্মীয় মিথ,লোকসংস্কৃতি,স্বপ্ন এমনকি আমাদের জিনের সাথে বিজড়িত…!এমন অনেক মানুষ আছেন যারা মনে করে তাদের শরীরের ভেতর এক্সট্রা ডায়মেনশনাল কোনো সত্ত্বার অস্তিত্ব রয়েছে।বিশেষ করে সিজোফ্রেনীয়া আক্রান্তরা যারা তাদের মস্তিষ্কে বিভিন্ন শব্দ শুনে, তারা মনে করে যে এই শব্দগুলি এক্সটারনাল কোন সোর্স থেকে তৈরি হচ্ছে।ঈশ্বরের মেসেজ।১৯৯২ সালে অনেক দূর্লভ একটি জেনেটিক্যাল কন্ডিশন পাওয়া যায় যাকে বলে হান্টিংটন ডিজিজ।যে রোগের কারণে মানুষ তার লাইম্বের উপর তার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে!কিছু মানুষ দাবী করেন যে তারা তাদের দেহ থেকে বের হওয়ার ক্ষমতা রাখেন এবং তাদের কনসাসনেস দেহ থেকে মুক্ত হয়ে স্পেসের সর্বত্র ছড়িয়ে থাকে।এমনকি তারা তাদের মৃত দেহের দিকে তাকিয়েও থাকতে পারেন।ইউরোপের একটি পোলে একবার দেখা যায় ৫.৮ পার্সেন্ট মানুষ  Out of Body অভিজ্ঞতাকে সমর্থন করেছেন!(দেহ শূন্য মন)

 

নোবেল বিজয়ী পদার্থ বিজ্ঞানী রিচার্ড ফাইনম্যানের কথা হয়তোবা শুনে থাকবেন!তিনি অনেক ব্যাতিক্রমধর্মী একজন মানুষ।যখন জানতে পারলেন যে দেহের বাহিরে চেতনার পক্ষে অবস্থান করা সম্ভব তখন তিনি একবার নিজেকে Sensory Deprivations Trank এ প্রবেশ করান এবং সফলভাবে দেহ থেকে বেরিয়ে পড়েন।তিনি দেখতে পেয়েছিলেন তার চেতনা স্পেসে প্রসারিত হয়ে আছে এবং তিনি তার চেতনার পরিত্যাক্ত  দেহ দেখতে পেয়েছিলেন।অবশ্য পরে তিনি স্বীকার করেছেন যে হয়তো সম্পূর্ণ ব্যাপারটাই তার ইমাজিনেশন ছিলো।

নিউরোলজিস্ট olaf Blank এবং তার সহকারীরা সুইজারল্যান্ডে তার পেশেন্টদের উপর গবেষণা করে বের করেছিলেন মস্তিষ্কের ঠিক কোনো অংশটি আমাদের মাঝে out of body experience তৈরি করে।তার একজন পেশেন্ট ছিলো যে সিজারে আক্রান্ত।তখন তিনি তার মস্তিষ্কে  ১০০টি ইলেক্ট্রোড স্থাপন করেন যার মাধ্যমে এক্সপেরিমেন্ট করে দেখছিলেন যে তার ব্রেনের ঠিক কোন অংশটি সিজারের সাথে জড়িত।ইলেক্ট্রোড গুলি যখন তার মস্তিষ্কের পেরিটিয়াল এবং টেম্পোরাল লোবের মাঝামাঝি অংশ স্টিমুলেট করছিলো ঠিক তখনই সে Out of body স্টেটে চলে গেলো।সে দেখলো সে ছয়ফুট উচু একটি স্থানে ভেসে ভেড়াচ্ছে।এরপর যখন তিনি ইলেক্ট্রোড সরিয়ে ফেললেন তখন মহিলাটি আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসে।ড.ব্লাঙ্ক এরপর দেখেছিলেন, ইলেক্ট্রোডের মাধ্যমে লাইটের মতোই কারো মস্তিষ্কে out of body experience অফ অন করা যায়।এতদিন আমরা জানতাম ভূতেরা দেহের বাহিরে এবং ভেতরে নিজদের ইচ্ছামতো যাতায়াত করতে পারে।কিন্তু এবার প্রমাণিত হলো সে ভূতের গল্প মূলত আমাদের ব্রেনের টেম্পোরাল লোব থেকেই জন্ম হয়েছে, মানুষের ব্রেনের টেম্পোরাল লোব Out of body experience তৈরি করে।আমাদের মস্তিষ্কের টেম্পোরাল এপিলেপ্সির কারণেই আমাদের মনে হয় সবকিছুর পেছনে একটি আত্মার ভূমিকা আছে।অতএব আত্মার দেহ থেকে বের হয়ে যাওয়ার ঘটনাটি অন্যকিছু নয় এটি আমাদের মস্তিষ্কেরই একটি নিউরাল মেক-আপ। (দেহ শূন্য মন)

আরো পড়ুন মস্তিষ্কের প্রযুক্তি ও ভবিষ্যৎ

 

ব্লেক তার ২০ বছর বয়সি একজন পেশেন্টের মস্তিষ্কের temporoparietal lob স্টিমুলেট করে দেখেছেন সে তার চারপাশে একজন ছায়ামানবের উপস্থিতি অনুভব করছে।তার কাছে মনে হচ্ছিলো তার চারপাশে কোনো একজন মানুষ চলাচল করছে।সম্ভবত এখান থেকেই মানুষের মস্তিষ্কে supernatural Being এর ধারণা জন্ম হয়, ফেরেস্তা বা এঞ্জেলের ধারণার বিবর্তনে টেম্পোপরোপেরিটাল কর্টেক্স স্টিমুলেশনের একটি ভূমিকা আছে।হতে পারে জিন,ভূত,আত্মা সবকিছু আমাদের নিউরাল মেক-আপ।আমাদেরকেই জেনেটিক্যালি এদের অস্তিত্বকে ফিল করার মতো উপযুক্ত করে পোগ্রামড করা হয়েছে..!

কিন্তু প্রশ্ন হলো কেনো আমরা মাঝেমাঝে পথ ভুলে যাই?মিসিও কাকু বলেছেন,আমাদের কনসাসনেস হলো এমন একটি প্রকৃয়া যেটি প্রতিনিয়ত মহাবিশ্বের মডেল তৈরি করছে,আমাদের মস্তিষ্ক আমাদের চোখ এবং আভ্যন্তরিন কানের মাধ্যমে বুঝতে পারে আমরা স্পেসের কোথায় অবস্থান করছি।যদি কখনো ব্রেন এ দুটো সিগনালকে ম্যাচ করতে না পারে তবে আমরা কনফিউজড হই এবং পথ হারিয়ে ফেলি।আমাদের চোখ এবং কানের মেসেজকে ইলেক্ট্রিক্যালিও বিক্ষিপ্ত করে দেয়া যায়!এখন হয়তো অনেকে চিন্তার বিলাসিতায় প্রশ্ন করতে পারেন, ঈশ্বরই কী তবে আমাদের জিনের সাথে খেলছেন!যাইহোক এবার আসি NED বা Near death Experience এর আলোচনায়।

কার্ডিয়াক এরেস্টে আক্রান্ত দশ থেকে বার পার্সেন্ট মানুষ নিয়ার ডেথের অভিজ্ঞতা লাভ করে।Near death Experience এর উপর গবেষণা করে দেখা গেছে এদের চেতনা দেহ থেকে বের হয়ে যায় এবং একটি আলোকিত টানেলের ভেতর প্রবেশ করে, যেটাকে তারা “After life Vision” বলে আখ্যায়িত করে।মিডিয়া এই ধারণাটাকে লুপে নিয়েছিলো এবং এই ধারণার উপর ভিত্তি করে অসংখ্য বেস্ট সেলার এবং টিভি ডকুমেন্টারি তৈরি হয়।৪২ ভাগ মানুষ মনে করতো যে Near death হলো স্প্রিচুয়াল জগতের প্রমাণ যা মৃত্যুর অনেক উদ্ধে…!কার্ল স্যাগান সন্দেহ করেছিলেন, হতে পারে এটি জন্মগত ট্রামা…!নিউরোলজিস্টরা দেখেছেন মস্তিষ্কে রক্ত চলাচলের পরিমাণ কমে গেলে নিয়ার ডেথ এক্সপেরিয়েন্স তৈরি হয়।Dr.Thomas Lempert যিনি Castle Park Clinic in Berlin এর একজন নিউরোলজিস্ট তিনি সুস্থ্য মানুষকে অজ্ঞান করে নিয়ন্ত্রিত ল্যাবটরিতে একটি এক্সপেরিমেন্ট পরিচালনা করে দেখেছেন ১৬ পার্সেন্ট ভিজুয়াল হেলোচিনেশন অনুভব করছে যারা উজ্জ্বল আলো এবং কালার দেখছে, ৪৭ পার্সেন্ট অনুভব করেছে তারা ভিন্ন কোন জগতে প্রবেশ করেছে এবং ২০ পার্সেন্ট অতি-মানবিক কোন সত্তার দেখা পেয়েছে..!ইউ এস পাইলটদের একটি দলের উপর গবেষণা করে দেখা গেছে Near death Experience এর সময় চোখের রক্ত প্রবাহ কমে যায় যার কারণে টানেল ইফেক্ট তৈরি হয়।(দেহ শূন্য মন)

 

Reference Book:

1.Future of the Mind

 

আরও পড়ুন

Leave A Comment...

হাইপারস্পেস
চিন্তা নয়, চিন্তার পদ্ধতি জানো...!