ডায়মেনশনাল পোর্টাল এন্ড টাইম ট্রাভেল
মূলপাতা বিজ্ঞানতাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞান ডায়মেনশনাল পোর্টাল এন্ড টাইম ট্রাভেল

ডায়মেনশনাল পোর্টাল এন্ড টাইম ট্রাভেল

লিখেছেন অ্যান্ড্রোস লিহন
99 বার পঠিত হয়েছে

ডায়মেনশনাল পোর্টাল এন্ড টাইম ট্রাভেল

 
Inside every black hole that collapses may lie the seeds
of a new expanding universe.
—Sir Martin Rees
 
Black holes may be apertures to elsewhen. Were we to plunge down a black hole, we would re-emerge, it is conjectured,in a different part of the universe and in another epoch in time . . . Black holes may be entrances to Wonderlands. But are there Alices or white rabbits?
—Carl Sagan
 
পার্ট-5( A)
জেনারেল রিয়েলিটিভিটি টার্জেনের ঘোড়ার মতো। উপরের দিকে এটি চমৎকার। কিছু সরল অনুমান নিয়ে যে কেউ মহাবিশ্বের সাধারণ ফিচার অর্জন করতে পারে, নক্ষত্রের আলোর বক্রতা থেকে শুরু করে, মহাবিস্ফোরণ এবং এদের সবগুলোই বিষ্ময়কর যথার্থতার সাথে পরিমাপ করা যায়, এমনকি ইনফ্লেশনকেও অন্তর্ভুক্ত করা যায় যদি আমরা প্রাচীন মহাবিশ্বে কসমোলজিক্যাল কনস্ট্যান্ট সংযুক্ত করি। এ সমাধান আমাদের মহাবিশ্বের জন্ম ও মৃত্যু সম্পর্কে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য তত্ব প্রদান করে!
কিন্তু এ ঘোড়াটির অন্তরালে, আমরা দৈত্য ও অপদেবতা খুঁজে পাই, ব্লাকহোল, ওয়ার্মহোল, হোয়াইট হোল এবং টাইম মেশিন, যা কমনসেন্সকে পরাজিত করে। এ ব্যতিক্রমসমূহকে এতটাই অদ্ভুত বিবেচনা করা হয় আইনস্টাইন নিজেই বলেছেন এগুলোকে কখনো প্রকৃতিতে খুঁজে পাওয়া যাবে না। কয়েক বছর তিনি শ্রমসাধ্যভাবে এ অদ্ভুত সমাধানগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন। আজ, আমরা জানি যে এ ব্যাতিক্রমগুলোকে খুব সহযে প্রত্যাখ্যান করা যায় না। তারা জেনারেল থিওরি অব রিলেটিভিটির ইন্টেগ্রাল পার্ট। এবং প্রকৃতপক্ষে, যেকোনো বুদ্ধিমান সত্ত্বাকে এরা মহাবিশ্বের মহাশীতলতা থেকে উদ্ধার করতে পারে!
 
সম্ভবত, সবচেয়ে অদ্ভুদ, ব্যাতিক্রম হলো, প্যারালাল ইউনিভার্সের সম্ভাবনা এবং তাদেরকে সংযুক্ত করার গেটওয়ে। আমরা যদি শেক্সপিয়ারের সে রুপক ব্যবহার করি, বিশ্ব একটি রঙ্গমঞ্চ, তবে জেনারেল রিয়েলিটিভিটি এ রঙ্গমঞ্চ থেকে পালানোর জন্য ছাদের দরজা খুলে দিয়েছে। জীবনের এমন একটি মঞ্চের কথা চিন্তা করুন যেখানে রয়েছে মাল্টিপল স্ট্রেজ, একটির উপর অন্যটি। প্রতিটি স্ট্রেজে , অভিনেতারা শুধুমাত্র তাদের লাইন পড়ে এবং তার কাছাকাছি ঘুরে বেড়ায়, তারা মনে করে যে তাদের মঞ্চই একমাত্র, অন্যান্য সম্ভাব্য মঞ্চগুলো থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত থেকে। যাহোক, যদি কোনদিন তারা গুপ্ত দরজায় পড়ে যায়, তারা নিজেদের সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি পর্যায়ে খুঁজে পায়, নতুন আইন, নতুন নিয়ম এবং নতুন স্ক্রিপ্ট। কিন্তু যদি অসীম সংখ্যক মহাবিশ্ব অস্তিত্বশীল হয়, তবে জীবন এসব মহাবিশ্বের কোন একটিতে কী থাকতে পারে ফিজিক্সের সম্পূর্ণ ভিন্ন কোন নিয়মে? এটি ছিল এমন একটি প্রশ্ন যা আইজ্যাক আসিমভ উপস্থাপন করেন তার “The Gods Themselves” নামক একটি সায়েন্স ফিকশনে, যেখানে তিনি এমন একটি প্যারালাল ইউনিভার্স তৈরি করেন যে মহাবিশ্বটির নিউক্লিয়ার ফোর্স আমাদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। একটি ভয়ানক সম্ভাবনা জাগ্রত হয় যখন প্রচলিত ফিজিক্সের সুত্র বাতিল হয়ে যায় এবং সম্পূর্ণ নতুন এক মহাবিশ্বের ফিজিক্সের সূচনা ঘটে!
 
 
 
 
গল্পের শুরু হয় ২০৭০ সালে, যখন বিজ্ঞানী ফ্রেডরিক হ্যালাম, লক্ষ্য করেন যে, সাধারণ Tungsten-186 আকষ্মিকভাবে রহস্যজনক Plutonium-186 তে পরিণত হয়ে গেছে, যার রয়েছে অসংখ্য প্রোটন এবং এ জন্য তাদের রয়েছে অস্থিতিশীলতা। হ্যালাম থিওরাইজ করেন, এ বিষ্ময়কর প্লুটোনিয়াম-১৮৬ প্যারালাল মহাবিশ্ব থেকে এসেছে যেখানকার নিউক্লিয়ার ফোর্স অনেক বেশি শক্তিশালী, অতএব এটি প্রোটনের রিপুলসান অতিক্রম করতে পারে। যেহেতু অদ্ভুত প্লুটোনিয়াম-১৮৬ ইলেক্ট্রন আকারে বিশাল মাপের শক্তি প্রদান করে, এটি হতে পারে প্রভূত মুক্তশক্তি বর্ষণ করতে পারে। যার বলে বিজ্ঞানী হ্যালামের ইলেক্ট্রন পাম্প তৈরি করা সম্ভবপর হয় যা এনার্জি ক্রায়সিস সমাধান করে তাকে সম্পদশালী একজন ব্যক্তিতে পরিণত করে। কিন্তু এ জন্য তাকে একটি মূল্য পরিশোধ করতে হয়। যদি যথেষ্ট এলিয়েন প্লুটোনিয়াম-১৮৬ আমাদের মহাবিশ্বে প্রবেশ করে তবে সাধারণত নিউক্লিয়ার ফোর্সের তীব্রতা বৃদ্ধি পাবে। এর মানে ফিউশন প্রসেস থেকে আরো অধিক শক্তি নির্গত হবে, সূর্য উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর হতে শুরু করবে এবং একটা সময় বিস্ফোরিত হবে, ধবংস হয়ে যাবে সমস্ত সোলার সিষ্টেম!
 
ইতমধ্যে এলিয়েন প্যারালাল ইউনিভার্সের ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন দৃষ্টিকোণ। তাদের মহাবিশ্ব মৃত্যুবরণ করছে। নিউক্লিয়ার ফোর্স তাদের মহাবিশ্বে  খুবই দানবীয় , যার অর্থ হলো নক্ষত্র অতিদ্রুত হাইড্রোজেন শোষণ করছে এবং মারা যাচ্ছে। তারা একটি বিনিময় চালু করে, তারা অপ্রয়োজনীয় প্লুটোনিয়াম-১৮৬ আমাদের মহাবিশ্বে পাঠিয়ে দেয় এবং টাংগেস্টেন-১৮৬ নিয়ে যায়, যা তাদেরকে পোজিট্রন পাম্প তৈরিতে সাহায্য করে, যা তাদের মৃত বিশ্বকে উদ্ধার করে। যদিও তারা অনুভব করছিলো আমাদের মহাবিশ্বের নিউক্লিয়ার ফোর্সের দৃঢ়তা বেড়ে যাবে এবং এটি আমাদের নক্ষত্রগুলোর বিস্ফোরণের কারণ হবে, তারা বিষয়টি সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেছে।
 
 
 
 
পৃথিবী সম্ভবত, মহাবিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে যায়, মানব সভ্যতা হ্যালামের মুক্ত শক্তি দ্বারা আক্রান্ত হয়, তারা অস্বীকার করে এটা ভাবতে যে সূর্য বিস্ফোরিত হবে। মহাবিশ্বের এ মহাসংকটে আর একজন বিজ্ঞানী উদ্ভাবনী এক সমাধান নিয়ে এলো।। তিনি বুঝতে পারেন প্যারালাল মহাবিশ্ব অবশ্যই অস্তিত্বশীল। তিনি সফলতার সাথে শক্তিশালী এক পরমাণু চুর্ণকারী যন্ত্র তৈরি করে যার মাধ্যমে সে আমাদের মহাবিশ্বের স্পেস ফুটো করে এটিকে অন্যান্য মহাবিশ্বগুলোর সাথে সংযুক্ত করে দেয়! অনেকগুলো মহাবিশ্ব অনুসন্ধান করে সে এমন একটি মহাবিশ্ব খুঁজে পেলো সেটি সম্পূর্ণ শূন্যস্থান কিন্তু এর মধ্যে আছে এক মহাজাগতিক ডিম যে ডিমটির ভেতর অসীম শক্তি এবং দূর্বল নিউক্লিয়ার ফোর্স! এ মহাজাগতিক ডিম থেকে শক্তি আমদানি করে সে একটি নতুন এনার্জি পাম্প তৈরি করে এবং একইসময় আমাদের মহাবিশ্বের নিউক্লিয়ার ফোর্সকে দূর্বল করে দেয় যা সূর্যকে মহাবিস্ফোরণ থেকে রক্ষা করে। আর এ জন্যেও এবার আমাদের মহাবিশ্বকে মূল্য পরিশোধ করতে হয় ; নতুন এ প্যারালাল মহাবিশ্বের নিউক্লিয়ার ফোর্স শক্তিশালী হয় যার,  ফলে বিস্ফোরণ ঘটে! কিন্তু তিনি যুক্তি প্রদর্শন করেন, এ বিস্ফোরণ শুধুমাত্র মহাজাগতিক ডিমটিকে সম্প্রসারিত করবে, সৃষ্টি হবে এক নতুন বিগব্যাং! যার ফলশ্রুতিতে, তিনি হবেন নতুন এক মহাবিশ্বের ধাত্রী! আসিমভের সায়েন্স ফিকশন গল্পগুলো ছিলো অন্যতম যা নিউক্লিয়ার ফিজিক্সকে মানুষের লোভ, ষড়যন্ত্র ও মুক্তির গল্প বুনতে সাহায্য করে!
 
 
পূর্বের অংশগুলো পড়তে ক্লিক করুন-

প্যারালাল ওয়ার্ল্ড-মিচিও কাকু

প্যারাডক্সিক্যাল ইউনিভার্স- মিচিও কাকু

বিগ ব্যাং- মিচিও কাকু

ইনফ্লেইশন এন্ড প্যারালাল ইউনিভার্স

 

 

 
 
 

ব্লাকহোল

BlackHole

 

1783 সালে, ব্রিটিশ এস্ট্রোনোমার জন মিশেল সর্বপ্রথম কল্পনা করেন কী ঘটবে যদি নক্ষত্রগুলো বিশাল হয়ে ওঠে যে আলো নিজেই সেখানে অবরুদ্ধ হয়ে যায়? তিনি জানতেন, যেকোনো বস্তুর একটি মুক্তিবেগ আছে, সেই বেগ যার মাধ্যমে সে গ্রেভিটিকে অতিক্রম করে। (যেমন- পৃথিবীর মুক্তিবেগ ২৫,০০০ মাইল,যদি কোন রকেট পৃথিবীকে অতিক্রম করতে চায় তবে তাকে এ মুক্তিবেগ অর্জন করতে হবে)
 
মিশেল বিষ্মিত হন, কী ঘটবে যদি নক্ষত্র এতটাই ভরসম্পন্ন হয়ে উঠে যে তাকে অতিক্রম করার জন্য আলোর আলোর গতির সমান মুক্তিবেগ অর্জন করতে হয়? এর গ্রেভেটি এতটাই প্রবল হয়ে উঠবে যে কোনকিছুই এটিকে অতিক্রম করতে পারবে না, এমনকি আলো নিজেও এখান থেকে বের হতে পারবে না, আর এ জন্য আমাদের বিশ্ব থেকে এটিকে অন্ধকার মনে হবে। আর মহাকাশে এমন কোন বস্ত খুঁজে পাওয়া অসম্ভব কারণ এটি অদৃশ্য! প্রায় একশত বছর মিশেলের এ আবিষ্কার স্মৃতির অন্তরালে লুকিয়ে ছিল। ১৯১৬ সালে এ বিষয়টি আবার বিশ্বের মনে ভেসে ওঠে যখন জার্মান পদার্থ বিজ্ঞানী কার্ল শোয়ার্যচাইল্ড যিনি জার্মান আর্মির একজন ছিলেন, তিনি আইনস্টাইনের ইকুয়েশন ব্যবহার করে বিশাল নক্ষত্রদের যথার্থ সমাধান বের করেন! এমনকি আজকে, শোয়ার্যচাইল্ডের সমাধানকে সবচেয়ে সরল ও নমনীয় ভাবা হয়। এমনকি আইনস্টাইন নিজেই বিষ্মিত হয়েছিলেন যে শোয়ার্যচাইল্ড তার জটিল টেন্সর থেকে আর্টিয়ালি শেল চালানোর সময় সমাধান বের করে এনেছেন!
 
 
শোয়ার্যচাইল্ডের সমাধান দূর থেকে খুব সাধারণ একটি নক্ষত্রের গ্রেভেটিকে প্রতিনিধিত্ব করে, আইনস্টাইন খুব দ্রুত এ সলিউশন ব্যবহার করেন, সূর্যের চারপাশের গ্রেভেটিকে হিসেব করার জন্য এবং তার প্রাচীন গণনার সাথে মিলিয়ে দেখেন যা তিনি অনুমান করেছিলেন। এ জন্য তিনি শোয়ার্যচাইল্ডের কাছে অসীম কৃতজ্ঞ ছিলেন। কিন্তু শোয়ার্যচাইল্ডের সেকেন্ড ইকুয়েশন দেখিয়েছিলো যে বিশাল নক্ষত্রের চারপাশে একটি কাল্পনিক যাদু গোলক থাকে অদ্ভুত কিছু প্রোপার্টি নিয়ে। এ যাদু গোলক ছিলো পয়েন্ট অব নো রিটার্ন!
 
 
 
যেকেউ এ যাদু গোলকের ভেতর প্রবেশ করবে, গ্রেভিটি তাকে চুষে ফেলবে, এ মহাবিশ্বের কেউ আর তাকে দেখবেনা! এমনকি আলোর পক্ষেও এ যাদু গোলক থেকে মুক্তি লাভ করা সম্ভব না। শোয়ার্যচাইল্ড জানতেন না যে তিনি আইনস্টাইনের ইকুয়েশনের ভেতর মিশেলের ডার্কস্টারদের পূনরায় আবিষ্কার করেছেন। তারপর তিনি এ যাদু গোলকের রেডিয়াস পরিমাপ করেন( যেটিকে শোয়ার্যচাইল্ড রেডিয়াস বলে)। আমাদের সূর্যের সমান নক্ষত্রের জন্য এ রেডিয়াস ৩ কিলোমিটার (মোটের উপর ২ মাইল)! পৃথিবীর জন্য, শোয়ার্যচাইল্ডের রেডিয়াস ছিল, এক সেন্টিমিটার)। এরমানে হলো কেউ যদি সূর্যকে ২ মাইলে সংকোচিত করতে পারে তবে এটি ডার্কস্টারে পরিণত হবে এবং যে কোন বস্তুকে খেয়ে ফেলবে যেটি এই “পয়েন্ট অব নো রিটার্ন “, এ প্রবেশ করবে!
 
 
 
পরীক্ষামূলকভাবে এ ম্যাজিক স্পিয়ারের অস্তিত্ব কোন সমস্যা তৈরি করেনা , কিন্তু সূর্যকে ২ মাইলের ভেতর সীমাবদ্ধ করা ছিল অসম্ভব। কোন ম্যাকানিজমই জানা ছিলো না যার মাধ্যমে এ দুর্দান্ত নক্ষত্রগুলো তৈরি করতে পারে। কিন্তু থিওরিটিক্যালি এটি ছিল একটি দূর্যোগ। যদিও  আইনস্টাইনের জেনারেল রিলিটিভিটি দুর্দান্ত ফলাফল তৈরি করে, স্টারলাইট বক্র করে দেয়ার মতো, এ থিওরি যাদু গোলকে কোনো সেন্স তৈরি করেনা, যেখানে গ্রেভিটি সীমাহীন। ডাচ ফিজিসিস্ট, জোহান ড্রোস্ট, একটি সলিউশন প্রদান করেন যেটি ছিল এর চেয়েও দুর্দান্ত । রিলেটিভিটি অনুসারে, আলোকতরঙ্গ মারাত্মকভাবে বস্তুর চারপাশে বক্র হয়ে যায়,  যেনো এটি বেত্রাঘাত করে। প্রকৃতপক্ষে, শোয়ার্যচাইল্ড রেডিয়াসের ১.৫ গুণ। আলোকতরঙ্গ আসলে নক্ষত্রের চারপাশে বৃত্তাকারে ঘুরতে থাকে। ড্রোস্ট দেখান যে, বিশাল নক্ষত্রের ক্ষেত্রে আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতা সময়ের যে বিকৃতি প্রদর্শন করে তা ছিলো তা স্পেশাল রিলেটিভিটি থেকেও ভয়ানক! তিনি বলেন, আপনি যদি ম্যাজিক স্পিয়ারে প্রবেশ করেন, আপনার থেকে দূরের কেউ দেখবে আপনার ঘড়ি ধীর থেকে ধীরতর হচ্ছে, একটা সময় গ্রেভেটি আপনাকে গিলে ফেলবে, সময় সম্পূর্ণ স্তব্দ হয়ে যাবে, যে কেউ গোলকের বাহির থেকে দেখবে, আপনি সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ হিমায়িত হয়ে গেছেন। এ অদ্ভুত বিন্দুতে সময় যখন নিজেই স্তব্দ হয়ে যায় অতএব পদার্থবিজ্ঞানীরা মনে করেন এমন বস্তু মহাবিশ্বে নেই। এ ব্যাপারটি আরো মজাদার করে তোলার জন্য হার্মান ওয়েইল দেখান যে, যেকেউ যখন যাদু গোলকের ভেতর প্রবেশ করবে তখন সে এর বিপরীতে আর একটি মহাবিশ্ব দেখবে।
 
 
 
 
 
 
নক্ষত্রের আলোর বক্রতা
 
 
 
 
 
 
 
এটি এতটাই দুর্দান্ত ছিল যে আইনস্টাইন নিজেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। প্যারিসের এক কনফারেন্সে, গণিতবিদ জ্যাক হাদারমার্ড আইনস্টাইনকে প্রশ্ন করেন, কী ঘটবে যদি এ সিঙ্গুলারিটি সত্য হয়, মানে, যদি শোয়ার্যচাইল্ড রেডিয়াসে গ্রেভিটি অসীম হয়? আইনস্টাইন উত্তর দেন, এটি এ তত্বের জন্য একটি বিপর্যয়, পূর্ব থেকে এটা বলা অসম্ভব যে সেখানে কী ঘটবে কারণ সেখানে ফর্মুলা আর প্রয়োগ করা যায় না। আইনস্টাইন পরে এটিকে বলেন, হ্যাডামার্ড ডাইজেস্টার”! কিন্তু তিনি মনে করেন ডার্কস্টার নিয়ে সকল বিতর্ক বিশুদ্ধ অনুমান। প্রথমত, কেউই এ অদ্ভুত বস্তুর কাছে যেতে পারবেনা এবং সম্ভবত তাদের অস্তিত্ব নেই, এ জন্য তারা ফিজিক্যাল না। তাছাড়া, হয়তো মৃত্যু আপনাকে চুর্ণ করে দেবে। এবং যেহেতু এর ভেতরে কেউই প্রবেশ করতে পারবেনা, কেউ কখনো কোনভাবেই প্যারালাল ইউনিভার্সে প্রবেশ করতে পারবেনা!
 
১৯২০ সালে, পদার্থবিজ্ঞানী সামগ্রিকভাবে এ ব্যাপারে বিভ্রান্ত ছিলেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুমান তৈরি করেন জার্জ লামেত্রি যিনি মহাবিস্ফোরণের পিতা। তিনি বলেন, যাদু গোলকের মধ্যে আসলে কোন সিঙ্গুলারিটি নেই সেখানে গ্রেভেটি অসীম; এটি শুধুমাত্র একটি গাণিতিক প্রবঞ্চনা দূর্ভাগ্যজনক গাণিতিক সেট নির্বাচনের কারণে! ( যদি কেউ ভিন্ন রকম কো-অর্ডিনেট অথবা ভেরিয়েবল সেট করে এ যাদু গোলককে পরীক্ষা করার জন্য, সিঙ্গুলারিটি অদৃশ্য হয়ে যায়) এ ফলাফলকে বিবেচনায় নিয়ে, কসমোলজিস্ট, এইচ পি, রবার্টসন ড্রোস্টের মূল ফলাফল রি-এক্সামিন করেন, যে যাদু গোলকে সময় থেমে যায়। তিনি আবিষ্কার করেন, সময় শুধুমাত্র পর্যবেক্ষকের সুবিধাজনক বিন্দুতেই থেমে যায় , যিনি দেখছেন রকেটশিপটি যাদু গোলকে প্রবেশ করছেন। রকেটের নিজস্ব সুবিধাজনক বিন্দু থেকে সময়ের অতি-ক্ষুদ্র ভগ্নাংশের ভেতরেই আপনাকে যাদু গোলক খেয়ে ফেলবে! অন্যকথায়, একজন স্পেস ট্রাভেলার্স যাদু গোলকের ভেতর প্রবেশ করার পর মৃত্যু তাকে মুহূর্তে চুর্ণ করে ফেলবে,  সে যাদু গোলক অতিক্রম করার সময় পাবেনা! কিন্তু বাহিরের একজন পর্যবেক্ষল দেখবে, হাজার হাজার বছর অতিবাহিত হয়ে গেছে!
 
 
 
 
 
 
গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল ছিলো এটি। এর মানে হলো আপনি যাদু গোলকে প্রবেশ করতে পারবেন, গাণিতিক দৈত্য আপনাকে কোনভাবেই পথরোধ করতে পারবে না! যে কেউ তীব্রভাবে বিবেচনা করতে পারে কী ঘটবে যদি কেউ একজন যাদু গোলকে প্রবেশ করে? পদার্থ বিজ্ঞানীরা তারপর গণনা করেন, এ যাদু গোলকের ভেতর ভ্রমণ করলে একে দেখতে ঠিক কেমন লাগবে।
(বর্তমানে এ যাদু গোলককে বলা হয় ঘটনা দিগন্ত, দিগন্ত হলো আমাদের দৃষ্টির সবচেয়ে দূরবর্তী বিন্দু, কিন্তু এখানে বোঝাচ্ছে সে দূরবর্তী বিন্দুকে যার অতীতে আলো ভ্রমণ করতে পারে না, ঘটনা দিগন্তের রেডিয়াসকে বলা হয় শোয়ার্যচাইল্ড রেডিয়াস)
 
আপনি যদি রকেটশিপের মাধ্যমে ব্লাকহোলে প্রবেশ করেন, আপনার সে সব আলো দেখা উচিত যেগুলো ব্লাকহোল বিলিয়ন বছর পূর্বে ক্যাপচার করেছে, সে সময় যখন ব্লাকহোলটি নিজে গঠিত হয়েছে! অন্য কথায়, ব্লাকহোলের জীবনের ইতিহাস আপনার সামনে প্রকাশিত হবে! ( মনে করুন, আপনার গার্লফ্রেন্ডের শরীর থেকে আলোক রশ্নি নির্গত হয়ে আপনার চোখের রেটিনায় প্রবেশ করছে, আর ঠিক ঐ মুহূর্তেই ব্লাক হোলের দানবীয় গ্রেভেটি আলোকরশ্মি চুষে নিলো , এক বিলিয়ন বছর পর যখন কোন এস্ট্রোনাট রকেটশিপ নিয়ে ব্লাকহোলে প্রবেশ করবে, তখন সে অবিশ্বাস্যভাবে দেখবে কোন এক অচেনা সুন্দরী তরুণী ব্লাকহোলের ঘটনা দিগন্তে! তার হয়তো বিশ্বাস করতে কষ্ট হবে এটি স্বপ্ন নাকি স্বর্গ! কিন্তু তাত্বিকভাবে, ব্লাকহোলের ভেতর বিলিয়ন বিলিয়ন বছর পূর্বের মহাবিশ্বের আলো বক্র হয়ে ঢুকে গেছে,আর আলোক তরঙ্গের ভেতর ছিলো অতীত মহাবিশ্বের তথ্য, এক দৃষ্টিতে ব্লাকহোল মহাবিশ্বের প্রাকৃতিক মেমরি; বিঃদ্র- বোঝানোর স্বার্থে সরল একটি কৌতুক করেছি মাত্র, Don’t Take it Seriously)
 
 
 
যাইহোক, আপনি যত নিকটবর্তী হবেন, স্রোতস্বিনী ফোর্স আপনার শরীরের এটমগুলো ছিড়ে ফেলবে, যতক্ষণনা আপনার এটমের নিউক্লি সেমাইয়ে পরিণত হচ্ছে। ঘটনা দিগন্তে ভ্রমণ ওয়ান ওয়ে ট্রিপ, কারণ গ্রেভেটি সেখানে এতটাই শক্তিশালী যে সবকিছু চুষে নেয়, মৃত্যু চুর্ণ করে, একবার ঘটনা দিগন্তে প্রবেশের পর আপনি আর ফিরে আসতে পারবেন না! ( ঘটনা দিগন্তকে অতিক্রম করার জন্য একজনকে আলোর থেকেও দ্রুত গতিতে ভ্রমণ করতে হবে যা অসম্ভব)
 
 
 
১৯৩৯ সালে, আইনস্টাইন একটি পেপার লিখেন।  যার মাধ্যমে তিনি ব্লাকহোলের অস্তিত্বকে প্রত্যাখ্যান করার চেষ্টা করেন, দাবি করেন যে, ব্লাকহোল প্রাকৃতিকভাবে গঠিত হতে পারে না। এটা শুরু করেন এ অনুমান নিয়ে যে, নক্ষত্ররা ঘূর্ণায়মান ধুলিকণা, গ্যাস ও ধ্বংসাবশেষ এর তৈরি যারা ধীরে ধীরে গ্রেভিটির আকর্ষণে নিকটে আসে। তিনি বলেন, এ ঘূর্ণায়মান পার্টিকেলগুলো কখনো শোয়ার্যচাইল্ডের রেডিয়াসের ভেতর আসবে না, আর এভাবে কখনোই ব্লাকহোল গঠিত হবে না। (শোয়ার্য চাইল্ডের রেডিয়াস ১.৫ এর নিচে যেতে হলে আলোর গতির চেয়ে দ্রুতগতিতে পথ চলতে হবে যা অসম্ভব)। এ অনুসন্ধানের ফলাফল সুস্পষ্ট যে কেনো শোয়ার্যচাইল্ডের রেডিয়াসের কোন ফিজিক্যাল রিয়েলিটি নেই,” আইনস্টাইন লেখেন। আর্থার এডিংটন, নিজেও, ব্লাকহোলের ব্যাপারে রক্ষণশীল ছিলেন, এবং জীবনভর সন্দেহ প্রকাশ করেন। একবার তিনি বলেন, নিশ্চয় এমন কোন ফিজিক্সের নিয়ম থাকবে যা নক্ষত্রদের এমন হাস্যকর পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার করবে! দূর্ভাগ্যবশত একই বছর, ওপেনহেইমার (যিনি পারমাণবিক বোমা তৈরি করেন) ও তার ছাত্র দেখান, ব্লাকহোল মূলত গঠিত হয়, অন্য একটি ম্যাকানিজমে। ব্লাকহোল, গ্রেভেটির অধীনে ঘূর্ণায়মান এটমের সমবেত সংঘর্ষ থেকে জন্ম হয়, এমনটি ভাবার পরিবর্তে তারা শুরু করেন একটি বিরাট বৃদ্ধ নক্ষত্রকে দিয়ে, যেটি তার নিউক্লিয়ার ফুয়েল জ্বালিয়ে ফেলেছে , যার কারণে এটি গ্রেভেটির প্রভাবে কেন্দ্রীভূত হয়,শোয়ার্যচাইল্ডের ৮০ মাইল রেডিয়াসের ভেতরে, যে জন্য এটি অবশ্যম্ভাবীভাবে ব্লাকহোলে কলাপ্স করে। তারা মত প্রকাশ করেন, ব্লাকহোল, শুধুমাত্র সম্ভব নয়, এটি মহাকাশের অসংখ্য মৃত্যুপথযাত্রী নক্ষত্রের প্রাকৃতিক শেষ বিন্দু। (সম্ভবত, ১৯৩৯ সালে, ওপেনহেইমার, এ ইমপ্লোসনের ধারণা দ্বারা প্রভাবিত হয়, যা তাকে ইমপ্লোসন ম্যাকানিজমকে এটম বোমার উপর প্রয়োগ করার অনুপ্রেরণা দেয়)
 
 
 

Could a Human Enter a Black Hole to Study It – And Survive the Event Horizon?

 
 
 

 

 

 

আইনস্টাইন- রোজেন ব্রিজ

Einstein’s Rosen Bridge

যদিও আইনস্টাইন ভেবেছিলেন, প্রকৃতিতে ব্লাকহোলের অস্তিত্ব অবিশ্বাস্য, তিনি তারপর দেখান যে এর চেয়েও আরো অদ্ভুত কিছু আছে যা এর পূর্বে কেউ চিন্তা করেন নি ; তিনি ওয়ার্মহোলের অস্তিত্বের সম্ভাবনার কথা বলেন,  যা ব্লাকহোলের অন্তরে ঘুমিয়ে আছে! গণিতবিদরা এগুলোকে মাল্টিপ্লাই কানেক্টেড স্পেস বলেন। পদার্থবিজ্ঞানীরা এগুলোকে ওয়ার্মহোল বলেন, কারণ ওয়ার্ম যেরকম পৃথিবীকে ছিদ্র করে,  ঠিক তেমনি এগুলো দুটি পয়েন্টের মধ্যে একটি বিকল্প শর্টকাট তৈরি করেন। এগুলোকে মাঝেমধ্যে ডায়মেনশমাল পোর্টাল বা গেটওয়ে বলা হয়। আপনি যা’ ই ডাকেন না কেনো, একদিন হয়তো এগুলো ইন্টারডায়মেনশনাল ট্রাভেলের চুড়ান্ত অর্থ প্রদান করবে! প্রথম যিনি ওয়ার্মহোলের ধারণাকে জনপ্রিয় করেন তিনি ছিলেন চার্লস ডডসন, যিনি লুইস ক্যারল পেন নেমে লিখতেন। লুকিং গ্লাসের মাধ্যমে, তিনি ওয়ার্মহোলকে লুকিং গ্লাস হিসেবে শুরু করেছিলেন, যা অক্সফোর্ড এর গ্রাম্য এলাকাকে ওয়ান্ডার্যান্ডের সাথে যুক্ত করে। একজন প্রফেশনাল গণিতবিদ ও অক্সফোর্ড ডন, ডডসন, পরিচিত ছিলেন, তার মাল্টিপাই কানেক্টেড স্পেসের জন্য। ডেফিনিশন অনুসারে, ওয়ার্মহোল হলো এমন একটি স্পেস যেখানে ল্যাসোকে ( ছবি দেখুন) বিন্দুতে সংকোচিত করা যায় না।
 
 
 
 
 
Kyoto HIV and STD Testing - Japan All Over Travel Guide
 
 চিত্র- ল্যাসো
 
 
 
 
 
 
 
 
 
সাধারণ, যেকোনো লুপ খুব সহযেই ( বাঁধন) সেখানে কলাপ্স করে! আপনি যদি একটি ডোনাটকে এনালাইজ করেন (ছবি দেখুন) তারপর এটি সম্ভব এর পৃষ্ঠে একটি ল্যাসো( দড়ির গিট) স্থাপন করা যাতে এটি ডোনাটের মাঝখানের গর্তটিকে ঘিরে রাখে। আমরা যদি লুপটি কলাপ্স করি , তবে আমরা দেখবো যে আমরা এটিকে বিন্দুতে সংকোচন করতে পারছি না। যতদূর্ধ্ব সম্ভব, এটাকে, গর্তের পরিধি পর্যন্ত সংকোচিত করা যায়। ম্যাথমেটিশিয়ানরা একটি ব্যাপারে আনন্দিত হয় যে তারা এমন একটি অবজেক্ট খুঁজে পেয়েছে যেটিকে স্পেসে ব্যাখ্যা করাটা সম্পূর্ণ অসম্ভব। কিন্তু ১৯৩৫ সালে আইনস্টাইন ও তার ছাত্র, নাথান রোজেন, পদার্থবিদ্যার জগতে একটি ওয়ার্মহোল সূচনা করেন। তারা প্রাথমিক পার্টিকেলের মডেল হিসেবে ব্লাকহোলের সলিউশন ব্যাবহার করেন।
 
 
 
 
ডায়মেনশনাল পোর্টাল এন্ড টাইম ট্রাভেল
 
         চিত্র- ডোনাট
 
 
 
 
 
 
 
আইনস্টাইন নিউটনের সময়কার আইডিয়া পছন্দ করেননি, আপনার কাছে যাওয়ার সাথেসাথেই পার্টিকেলের গ্রাভিটি অসীম হতে পারে। এ সিঙ্গুলারিটি আইনস্টাইন চিন্তা করলেন, পরিহার করা উচিত কারণ এটি কোন সেন্স তৈরি করে না। আইনস্টাইন ও রোজেনের একটি মহান ধারণা ছিলো যে,  একটি ইলেক্ট্রনকে ব্লাকহোল হিসেবে উপস্থাপন করার ( যেটিকে সাধারণত ভাবা হয়েছিল একটি ক্ষুদ্র বিন্দু যার কোন স্ট্রাকচার নেই) । এ পদ্ধতিতে, আইনস্টাইন রহস্যজনক, জেনারেল থিওরি অব রিলেটিভিটিকে কোয়ান্টাম জগতের রহস্যজনক ইউনিফায়েড ফিল্ড থিওরি এক্সপ্লেইন করতে ইউজ করেন । তারা শুরু করেছিলেন, স্ট্যান্ডার্ড ব্লাকহোল থিওরি দ্বারা, যা ছিলো বৃহৎ গলার একটি ফুলদানি সদৃশ। তারা গলাটি কেটে ফেলে, তারপর এটাকে উল্টানো আরো একটি ব্লাকহোল সলিউশনের সাথে একীভূত করে। আইনস্টাইনের মতে, এ অদ্ভুত কিন্তু মসৃন কনফিগারেশন সিঙ্গুলারিটি থেকে উন্মোক্ত হবে এবং সম্ভবত একটি ইলেক্ট্রনের মতো আচরণ করবে! (প্রিয় পাঠকগণ, অনুগ্রহ করে বিরক্ত হবেন না, ধৈর্য রেখে পড়ুন, বুঝতে পারবেন) দূর্ভাগজনকভাবে, আইনস্টাইনের, ব্লাকহোলকে ইলেক্ট্রন হিসেবে রিপ্রেজেন্ট করার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। কিন্তু আজ, বিশ্বতত্ববিদরা মনে করেন, আইনস্টাইন ও রোজেন ব্রিজ দুটো মহাবিশ্বের মাঝখানে গেটওয়ে হিসেবে কাজ করবে! আমরা মুক্তভাবে একটি মহাবিশ্বে ঘুরে বেড়াবো যতক্ষণ না আমরা এক্সিডেন্সিয়ালি ব্লাকহোলে পতিত হচ্ছিনা, যেখানে আমরা আকষ্মিক ব্লাকহোল দ্বারা শোষিত হবো এবং অন্যদিক দিয়ে বের হবো ( হোয়াইট হোলের ভেতর দিয়ে)। আইনস্টাইনের মতে, যদি তার ইকুয়েশনের কোন সলিউশন, ফিজিক্যাল সম্ভাব্যতা নিয়ে শুরু হয়, তবে এটি ফিজিক্যালি সম্ভব অবজেক্টের প্রতিনিধিত্ব করে! কিন্তু তার কোন দুশ্চিন্তা নেই যে কেউ ব্লাকহোলে পতিত হবে এবং প্যারালাল ইউনিভার্সে প্রবেশ করবে। কেন্দ্রে হয়তো ফোর্সের জ্বলোচ্ছাস অসীম হবে এবং যে কেউ দূর্ভাগ্যজনকভাবে ব্লাকহোলে পতিত হবে, গ্রেভিটেশনাল ফিল্ড তার শরীরের এটমগুলোকে টেনে ছিড়ে ফেলবে! ( আইনস্টাইন রোজেন ব্রিজ, কিছুক্ষণের জন্য খুলতে পারে কিন্তু এটি এত দ্রুত বন্ধ হয়ে যায় যে, কোন অবজেক্টই এর ভেতর দিয়ে পাড়ি অন্যদিকে পাড়ি দিতে পারেনা) আইনস্টাইনের মানসিকতা এমন ছিল যে, যদিও ওয়ার্মহোল সম্ভবত অস্তিত্বশীল, কোন জীবিত প্রাণী এর ভেতর দিয়ে অতিক্রম করতে পারবেনা এবং জীবিত থেকে এটি সম্পর্কে কিছু বলতে পারবে না!
 
 
 
 

ডায়মেনশনাল পোর্টাল এন্ড টাইম ট্রাভেল

ব্লাকহোলের ঘূর্ণন

Rotation of Blackhole

1963 সালে, যাহোক, এ দৃষ্টিকোণ পরিবর্তন হতে থাকে, যখন নিউজিল্যান্ডের গণিতবিদ, রয় কের, আইনস্টাইনের ইকুয়েশনের যথার্থ সলিউশন পেয়েছিলেন যা সম্ভবত মরণশীল নক্ষত্রের ব্লাকহোলের সবচেয়ে রিয়ালিস্টিক বর্ণনা দেয়। কোণিক গতি সংরক্ষণশীলতার ( Conservation of angular Momentum) কারণে যে সকল নক্ষত্রের উপর গ্রেভেটি প্রবল হয় তারা প্রচন্ড বেগে ঘুরতে থাকে। ( ঠিক একই কারণে গ্যালাক্সি পিনহুইলের মতো ঘুরতে থাকে, স্ক্যাটার দ্রুতগতিতে স্পিন করে যখন তারা বাহুকে ভেতরে নিয়ে আসে)। একটি ঘুর্ণায়মান নক্ষত্রের নিউট্রনের রিঙের মধ্যে কলাপ্স করার কথা ছিল, যেটি তারপরও স্থির থাকে কারণ সেন্ট্রিফিউগাল ফোর্স বাহিরের দিকে বলপ্রয়োগ করে, গ্রেভেটির আভ্যন্তরীণ বল( Inwards force of Gravity) ক্যান্সেল করে দেয়। এসব ব্লাকহোলের একটি বিষ্ময়কর ফিচার ছিল যে , যদি আপনি কের ব্লাকহোলে পতিত হন, মৃত্যু আপনাকে চুর্ণ করবেনা। তার পরিবর্তে আপনাকে আইনস্টাইন রোজেন ব্রিজ প্যারালাল ইউনিভার্সে গিলে ফেলবে! “Pass Through this Magic ring and__presto!__You are in Completely different Universe where radius and mass are Negative! কের তার এক সহকর্মীর কাছে বিষ্ময় প্রকাশ করেছিলেন যখন তিনি এটি আবিষ্কার করেছিলেন।
এলিসের লুকিং গ্লাসের ফ্রেম, অন্যকথায়, ছিলো অনেকটা কেরের স্পিনিং রিঙ এর মতো। কিন্তু কের রিঙ এর ভেতর যেকোনো ভ্রমণ ছিল ওয়ান ওয়ে ট্রিপ। আপনি যদি কের রিঙ এর চারপাশের ঘটনা দিগন্ত অতিক্রম করেন, সেখানকার গ্রেভিটি যথেষ্ট নয় আপনাকে গ্রাস করার জন্য কিন্তু এটি ছিল যথেষ্ট প্রতিবন্ধকতা ঘটনা দিগন্তের ভেতর দিয়ে ফিরে আসা! কেউ কেউ ধারণা করেন আপনার সম্ভবত  দ্বিতীয় কের রিঙ প্রয়োজন, প্যারালাল ইউনিভার্সগুলোকে জোড়া লাগিয়ে আমাদের মহাবিশ্ব ফিরে আসার জন্য। একটি দৃষ্টিকোণ থেকে, কের ব্লাকহোলকে স্কাইক্রেপারের এলাভেটরের সাথে তুলনা করা উচিত। এলেভেটর আইনস্টাইন ও রোজেন ব্রিজকে রিপ্রেজেন্ট করে, যা দুটো ফ্লোরকে সংযুক্ত করে, যেখানে প্রতিটি ফ্লোর আলাদা আলাদা মহাবিশ্ব। প্রকৃতপক্ষে, এই স্কাইক্রেপারে অসীম সংখ্যক ফ্লোর আছে, প্রতিটি একটি অন্যটি থেকে আলাদা। কিন্তু এলিভেটর কখনো নিচে যেতে পারেনা। এটি শুধু উপরে যেতে পারে, একবার যখন আপনি ফ্লোরটি ত্যাগ করবেন, আপনার পক্ষে আর ফিরে আসা সম্ভব নয়, কারণ আপনি ঘটনা দিগন্ত অতিক্রম করেছেন।
 
 
 
 
 
ডায়মেনশনাল পোর্টাল এন্ড টাইম ট্রাভেল
 
 
 
 
 
 
 
 
 
পদার্থবিজ্ঞানীরা বিভক্ত হয়ে যান, কের রিঙ কতটা স্থির হবে। কিছু গণনা নির্দেশ করছে, যদি কেউ কের রিঙ অতিক্রম করতে চায় তবে ঐ ব্যক্তির উপস্থিতি কের রিঙকে বক্র করে দেবে। এবং গেটওয়ে সম্ভবত বন্ধ হয়ে যাবে। যদি লাইট বিম, উদাহরণস্বরূপ, কের ব্লাকহোলের ভেতর দিয়ে ভ্রমণ করে, এর মধ্যে ব্যাপক এনার্জি তৈরি হবে এবং এটি কেন্দ্রের দিকে পতিত হবে, এর নীল বর্ণালী তৈরি হবে- তারমানে এটি ফ্রিকোয়েন্সী ও এনার্জি বৃদ্ধি করবে। যখন এটি ঘটনা দিগন্ত এপ্রোচ করবে, এর শক্তি এতটাই বেড়ে যাবে যে এটি যে কাউকে হত্যা করবে,  যখনই সে আইনস্টাইন রোজেন ব্রিজ অতিক্রম করতে চাইবে। এছাড়াও আলো তার নিজের গ্রেভিটেশনাল ফিল্ড তৈরি করতে পারে যা মূল ব্লাকহোলে ইন্টারফেয়ার করবে এবং সম্ভবত দরজাটি বন্ধ করে দেবে! অন্যকথায়, যদিও কিছু পদার্থবিজ্ঞানী বিশ্বাস করেন, কের ব্লাকহোল, সবচেয়ে রিয়ালিস্টিক ব্লাকহোল। এবং মূলত, প্যারালাল ইউনিভার্সদের সংযুক্ত করতে পারে। এটি পরিস্কার নয় যে এ ব্রিজের ভেতর প্রবেশ করা ঠিক কতটা নিরাপদ, আর এ দ্বার কতটাই বা স্টাবল!
 
 
 
 
 

ব্লাকহোল পর্যবেক্ষণ

Observing Black-hole

 

ব্লাকহোলের অদ্ভুত বৈশিষ্ট্যের কারণে ১৯৯০ সালের দিকেও এটিকে সায়েন্স ফিকশন মনে করা হত।। দশ বছর পূর্বে, আপনি যদি এমন কোন অবজেক্ট খুঁজে পান যেটিকে আপনি ব্লাকহোল ভাবছেন, অর্ধেক মানুষ ভাবতো আপনার মাথায় হালকা মুন্ডু আছে,” ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের জ্যোতির্বিদ ডগলাস রিচস্টোন ১৯৯৮ সালে মন্তব্য করেন। তারপর থেকে জোতির্বিদরা হাবল স্পেস টেলিস্কোপ, চন্দ্র এক্স-রে টেলিস্কোপ ( যেটি শক্তিশালী স্টেলার ও গ্যালাক্টিক সোর্স থেকে নির্গত এক্স-রে শনাক্ত করেন) এবং Large Array Radio Telescope দ্বারা ( যার মধ্যে আছে নিউ ম্যাক্সিকোর ক্ষমতাশালী টেলিস্কোপ) প্রায় শতাধিক ব্লাকহোল সনাক্ত করে । অনেক জোতির্বিদ বিশ্বাস করেন, প্রকৃতপক্ষে, স্বর্গের ( যার ডিস্কের কেন্দ্রে রয়েছে কেন্দ্রীয় স্ফিতি) অনেক গ্যালাক্সির প্রকৃতপক্ষে ব্লাকহোল আছে! ভবিষ্যতবাণী অনুসারে, প্রতিটি ব্লাকহোলকেই স্পেসে পাওয়া গেছে খুব দ্রুত ঘূর্ণন করছে। কিছুকিছু ব্লাকহোলের ঘূর্ণনের সময় হাবল টেলিস্কোপ লিপিবদ্ধ করেছে। তারা প্রতি ঘন্টায় মিলিয়ন মাইল বেগে ঘূর্ণন করে। একেবারে কেন্দ্রে যে কেউ দেখবে, সমান্তরাল, বৃত্তাকার কোর অনেক সময় লাইট ইয়ার্স বিস্তৃত। সে কোরের ভেতরে ঘটনা দিগন্ত শুয়ে আছে এবং ব্লাকহোল নিজে। যেহেতু ব্লাকহোল অদৃশ্য, জ্যোতির্বিদরা এর অস্তিত্বকে পরোক্ষভাবে সনাক্ত করেছেন। একটি ফটোগ্রাফে, তারা ব্লাকহোলের চারপাশে ঘূর্ণায়মান গ্যাসের এক্রিশন ডিস্ক আইডেন্টিফাই করার চেষ্টা করেন। (এ ডিস্কটিকে বিশ্বজনীনভাবে মহাবিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত ঘূর্ণনশীল বস্তু হিসেবে পাওয়া যায়, এমনকি আমাদের সূর্যেরও এ ডিস্ক ছিল যখন এটি ৪.৫ বিলিয়ন বছর পূর্বে গঠিত হয়েছিল, যেটি পরে গ্রহতে ঘনীভূত হয়। যে কারণে এ ডিস্কগুলো গঠিত হয় তা হলো, তারা দ্রুত ঘূর্ণনশীল বস্তুর লোয়ার এনার্জি স্টেট প্রদর্শন করে।) নিউটনের গতির সুত্র ব্যবহার করে, জ্যোতির্বিদরা কেন্দ্রীয় বস্তুর ভর নির্ণয় করে তার চারপাশের নক্ষত্রগুলোর ঘূর্ণনের গতি পরিমাপ করার মাধ্যমে। যদি কেন্দ্রীয় বস্তুর মুক্তিবেগ আলোর গতির সমান হয়, তবে আলো এর ভেতর থেকে বের হতে পারবেনা, যা পরোক্ষভাবে ব্লাকহোলের অস্তিত্বের প্রমাণ দেয়!
 
 
 
ঘটনা দিগন্ত, এক্রিশন ডিস্কের কেন্দ্রে অবস্থান করে ( এটি দূর্ভাগ্যবশত এতটাই ক্ষুদ্র যে বর্তমান প্রযুক্তি দিয়ে না একে সনাক্ত করা যাবে।) জোতির্বিদ ফুলভিয়া মেলিয়া দাবি করেন, ব্লাকহোলের ঘটনা দিগন্তকে ফিল্মে বন্দী করাটা ছিল ব্লাকহোল সায়েন্সের পরম আকাঙখিত বস্তু।) যে সকল গ্যাস ব্লাকহোলের ভেতর পতিত হয় সেগুলো ঘটনা দিগন্ত অতিক্রম করতে পারে না! এদের কিছুকিছু ঘটনাদিগন্তকে বাইপাস করে, প্রচন্ড বেগে এটাকে পেছনে ফেলে এবং স্পেসে ইজেক্ট হয়, নতুন দুটি গ্যাস জেট তৈরি করে, যা ব্লাকহোলের নর্থ ও সাউথপোল থেকে নির্গত হয়। নক্ষত্রের পতন অব্যাহত থাকায়, এটি ব্লাকহোলকে এমন একটি প্রতিভাস প্রদান করে যেনো এটি উপরের দিকে স্পিন করছে।।( যে কারণে জেট এভাবে ইজেক্ট হয় তার কারণ সম্ভবত পতনশীল নক্ষত্রদের ম্যাগনেটিক ফিল্ড লাইন, যার জন্য তারা অনেক বেশি তীব্র হয়ে ওঠে এবং নর্থ ও সাউথপোলের দিকে ঘনীভূত হয়। যেহেতু নক্ষত্ররা প্রতিনিয়ত পতিত হচ্ছে , এদের ম্যাগনেটিক ফিল্ড লাইন নর্থ ও সাউথপোল থেকে নির্গত,দুটি টিউবে ঘনীভূত হয়। যেমন, আয়নযুক্ত পার্টিকেল পতনশীল নক্ষত্রে পড়ে, তারা ফোর্সের সংকীর্ণ ম্যাগনেটিক লাইন অনুসরণ করে ও উত্তর ও দক্ষিণ মেরু থেকে(north and south pole) জেট হিসেবে নির্গত হয়।
 
 
 
 
 
V404 Cygni [image] | EurekAlert! Science News
 
 
 
 
 
দ্বিতীয় ধরণের ব্লাকহোলও সনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। প্রথমটি স্টেলার ব্লাকহোল, যেখানে গ্রেভিটি একটি মরণশীল নক্ষত্রকে চুর্ণ করে যতক্ষণ না এটি কেন্দ্রীভূত হয়। দ্বিতীয়টি, যাই হোক, খুব সহযে সনাক্ত করা যায়, এটি গ্যালাক্টিক ব্লাকহোল, যেটি বিশাল গ্যালাক্সি ও কোয়েসারের কেন্দ্রে লুকিয়ে থাকে, যার ওজন মিলিয়ন থেকে বিলিয়ন সোলার ম্যাস। সাম্প্রতিক, অবশেষে একটি গ্যালাক্সি আমাদের মিল্কিওয়ের কেন্দ্রে সনাক্ত করা হয়। দূর্ভাগ্যক্রমে ধুলোর মেঘগুলো গ্যালাক্সির কেন্দ্রকে অস্পষ্ট করে রাখে; যদি এটি সেজন্য না ঘটতো, তবে কনস্টেলেশন স্যাগিটারিয়াস থেকে প্রতিরাতে আমাদের কাছে বিপুল অগ্নিগোলক প্রকাশিত হতো, ধুলো ছাড়া সম্ভবত মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি চন্দ্রকে উজ্জ্বল করবে যেটিকে রাতের আকাশে সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তুতে পরিণত করবে! গ্যালাক্টিক নিউক্লিয়াসের অভ্যন্তরে একটি ব্লাকহোল রয়েছে যার ওজন ২.৫ মিলিয়ন সোলার ম্যাস। আকারের ক্ষেত্রে এটি বুধ গ্রহের কক্ষপথের ব্যাসার্ধের এক দশমাংশ। গ্যালাক্টিক স্ট্যান্ডার্ড থেকে এটি বিশাল কোন ব্লাকহোল নয়, কোয়েসারের সম্ভবত ব্লাকহোল আছে যার ওজন কয়েক বিলিয়ন সোলার ম্যাস। আমাদের উঠোনের এ ব্লাকহোলটি আজ বরং শান্ত। পরবর্তী গ্যালাক্টিক ব্লাকহোলটি, এন্ড্রোমিডা গ্যালাক্সির কেন্দ্রে অবস্থিত। পৃথিবীর সবচেয়ে নিকটবর্তী গ্যালাক্সি। যার ওজন ৩০ মিলিয়ন সোলার ম্যাস এবং এর শোয়ার্যচাইল্ড রেডিয়াস ৬০ মিলিয়ন মাইল। ( এন্ড্রোমিডা গ্যালাক্সির কেন্দ্রে রয়েছে অন্তত দুটি ম্যাসিভ অবজেক্ট, সম্ভবত বিলিয়ন বছর অতীতে পূর্ববর্তী কোন গ্যালাক্সির রেখে যাওয়া উচ্ছিষ্ট এন্ড্রোমিডা খেয়ে ফেলেছে। যদি মিল্কিওয়ে এন্ড্রোমিডার সাথে আজ থেকে বিলিয়ন বছর পর সংঘর্ষ করে, তবে এটি প্রতীয়মান হয় যে, আমাদের গ্যালাক্সি এন্ড্রোমিডার পেটে বাতাসে গড়িয়ে যাবে!) ডায়মেনশনাল পোর্টাল এন্ড টাইম ট্রাভেল
 
 
 
 
Supermassive Black Holes May Eventually Sterilize Galaxies - ExtremeTech
 
 
 
 
 
 
 
গ্যালাক্টিক ব্লাকহোলের NGC4262 এর অত্যন্ত সুন্দর একটি ছবি ধারণ করেছে হাবল স্পেস টেলিস্কোপ।অতীতে, রেডিও টেলিস্কোপের ছবি দেখিয়েছিলো দুটি মহান জেট গ্যালাক্সির উত্তর ও দক্ষিণ মেরু থেকে নির্গত হচ্ছে কিন্তু কেউই জানতোনা এর ইঞ্জিন কী। হাবল টেলিস্কোপ গ্যালাক্সির গভীর কেন্দ্রের ফটোগ্রাফ সংগ্রহ করেছে, যা ৪০০ লাইট ইয়ার্স পূর্বের সুন্দর ডিস্ক প্রকাশ করে, এর একেবারে গভীর কেন্দ্রে ছিলো ক্ষুদ্র বিন্দু, যা এক্রিশন ডিস্ক বহন করে, আলোকবর্ষ জুড়ে।কেন্দ্রের ব্লাকহোলে, যা হাবল টেলিস্কোপ দেখেনি, ওজন সম্ভবত ১.৩ বিলিয়ন সোলার ম্যাস। ডায়মেনশনাল পোর্টাল এন্ড টাইম ট্রাভেল
 
 
 
 
গ্যালাক্টিক ব্লাকহোল এতটাই ক্ষমতাবান যে তারা সমস্ত নক্ষত্রকে গিলে খেতে পারে। ২০০৪ সালে, নাসা এবং ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি ঘোষণা করেন যে তারা দূরবর্তী গ্যালাক্সিতে একটি হিউজ ব্লাকহোল  সনাক্ত করেছেন যেটি এক গ্রাসে একটি নক্ষত্র খায়। চন্দ্র এক্স-রে টেলিস্কোপ এবং ইউরোপিয়ান XMM-Newton স্যাটেলাইট উভয়েই একই ইভেন্ট পর্যবেক্ষণ করে। RX J1242 -11 এক্স-রে’ র একটি বিস্ফোরণ নির্গত করে, যেটি সিগনাল দিচ্ছে যে একটি নক্ষত্র কেন্দ্রের কোন নক্ষত্রে আছড়ে পড়েছে। এ সকল গ্যালাক্সির ম্যাস ভবিষ্যতবাণী করা হয়েছে সূর্য থেকে ১০০ মিলিয়ন গুণ ওজনসম্পন্ন। গণনা বলছে যে, একটি নক্ষত্র বিপজ্জনকভাবে ঘটনা দিগন্তের কাছে চলে আসে, বিশাল গ্রেভিটি তারকাদের বিকৃত ও সোজা করে ফেলে যতক্ষণ না এটি ভেঙে পড়ে ও এক্স- রশ্নির কিরণে ফেটে পড়ে । এ নক্ষত্র প্রসারিত হয় এর ব্রেকিং পয়েন্টের উদ্ধে! এ হতভাগ্য নক্ষত্র ভুল প্রতিবেশির দিকে ভ্রমণ করেছিল যা জার্মানির ম্যাক্স প্লাঙ্ক ইনস্টিটিউটের জ্যোতির্বিদ স্টিফোনি কোমোসা পর্যবেক্ষণ করেন। ডায়মেনশনাল পোর্টাল এন্ড টাইম ট্রাভেল
 
ব্লাকহোলের অস্তিত্ব অনেক প্রাচীন সমস্যা সমাধান করতে সাহায্য করে। M-87 এর একটি গ্যালাক্সিতে, উদাহরণস্বরূপ, যা ছিল জ্যোতির্বিদদের কৌতুহল কারণ এটি দেখতে নক্ষত্রের বিরাট বলের মতো যার রয়েছে অদ্ভুত লেজ। কারণ এটি প্রচুর পরিমাণ রেডিয়েশন নির্গত করে, একটি বিন্দুতে এস্ট্রোনোমার ভাবেন যে, এ লেজ এন্টি ম্যাটারের স্রোত । কিন্তু আজ জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানেন, এটি তিন বিলিয়ন সোলার ম্যাস ওজনের একটি ব্লাকহোল থেকে বিপুল শক্তি প্রাপ্ত! এবং এ অদ্ভুত লেজকে বর্তমানে মনে করা হয় দৈত্যাকার জেট প্লাজমা, এটি বাহিরে থেকে প্রবাহিত হচ্ছে, গ্যালাক্সি থেকে নয়। সবচেয়ে অদ্ভুত আবিষ্কার ছিল সে উদ্বেগজনক ব্লাকহোল আবিষ্কৃত হয় যখন চন্দ্র এক্স-রে টেলিস্কোপ আউটার স্পেসের ধুলিকণার ক্ষুদ্র ছিদ্র দিয়ে ব্লাকহোলের এক সমারোহ আবিষ্কার করেছিলেন, আমাদের দৃশ্যমান মহাবিশ্বের কিনারায়। সব মিলিয়ে, ৬০০ ব্লাকহোল আবিষ্কৃত হয়েছে। পূর্বের এ ধারণা থেকে , জোতির্বিদরা অনুমান করেন, রাতের সম্পূর্ণ মহাকাশে ৩০০ মিলিয়ন ব্লাকহোল আছে!
 
 
 
 
 

গামা রশ্নি ব্রাস্টার

Gamma Ray Buster

 

আমরা যে সকল ব্লাকহোলের কথা বলছি , সেগুলো সম্ভবত বিলিয়ন বছর পূর্বের! কিন্তু জ্যোতির্বিদদের বর্তমানে দূর্লভ সুযোগ রয়েছে চোখের সামনে ব্লাকহোলের গঠন দেখার জন্য। এদের কোন কোনটি হয়তোবা রহস্যজনক গামা-রশ্নি ব্রাস্টার যেটি মহাবিশ্বে বিপুল পরিমাণ শক্তি মুক্ত করে। গামা-রশ্নি ব্রাস্টারের রয়েছে কৌতুহল উদ্দীপক ইতিহাস, প্রাচীন স্মায়ুবিক যুদ্ধের। ইউনাইটেড স্টেট দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ছিল যে সৌভিয়েত ইউনিয়ন অথবা অন্য কোন রাষ্ট্র হয়তো গোপনভাবে কোন নিউক্লিয়ার বোমা নিয়োগ করেছে, সম্ভবত পৃথিবীর কোন মরুভূমি অথবা চাঁদে,  বিদ্যমান চুক্তিলঙ্গন করে। অতএব ইউনাইটেড স্টেট ভেলা স্যাটেলাইট প্রেরণ করলো বিশেষ করে নিউকফ্ল্যাশ অথবা নিউক্লিয়ার বোমার অননুমোদিত বিস্ফোরণ। কারণ একটি নিউক্লিয়ার বিস্ফোরণ পর্যায়ক্রমে প্রকাশ হয়, মাইক্রোসেকেন্ড থেকে মাইক্রোসেকেন্ড, প্রতিটি নিউক ফ্ল্যাশ ডাবল ফ্ল্যাশ লাইটের চরিত্র প্রদান করবে যা স্যাটালাইট দ্বারা দেখা হবে। ( ভেলা স্যাটেলাইট ১৯৭০ সালে দুটি নিউক ফ্ল্যাশ সনাক্ত করেছেন, সাউথ আফ্রিকার প্রিন্স এডওয়ার্ড আইল্যান্ডের কাছাকাছি কোন জায়গায়, ইসরায়েল যুদ্ধ জাহাজের উপস্থিতিতে, যদিও বুদ্ধিমান সম্প্রদায়ে এ নিয়ে বিতর্ক আছে) ডায়মেনশনাল পোর্টাল এন্ড টাইম ট্রাভেল
 
 
 
তবে প্যান্টাগনকে যা চমকে দিয়েছে তা ছিল যে ভেলা স্যাটেলাইট ব্যাপক নিউক্লিয়ার ফিউশনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছে। সোভিয়ের ইউনিয়ন কি তবে ডিপ স্পেসে হাইড্রোজেন বোমা বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছে? কোন উন্নত অজানা প্রযুক্তি ব্যবহার করে? সৌভিয়েত ইউনিয়ন ইউ এস এর উপর প্রযুক্তিতে সহসা ব্যাঙের মতো লাফিয়ে উঠলো কি না এমন উদ্বেগ থেকে ইউ এস ওয়েপন টেকনোলজি উচ্চস্তরের বিজ্ঞানীদের ডেকে নিয়ে আসেন ব্যাপারটি বিশ্লেষণ করার জন্য। সৌভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর এ ইনফরমেশন ক্লাসিফাই করা প্রয়োজনীয় ছিলোনা। অতএব প্যান্টাগন জোতির্বিদ্যা তথ্যের এক পাহাড় পেলে দেয় এস্ট্রোনমির জগতে, যা ছিল অপ্রতিরোধ্য। প্রায় এক দশক পর বিপুল ক্ষমতা ও সুযোগের নতুন ধরণের এক এস্ট্রোনোমিক্যাল ব্যাপার প্রকাশিত হয়। জ্যোতির্বিদরা বুঝতে পারেন এগুলো গামা-রে ব্রাস্টার, তারা যেগুলোকে ক্ষমতার টাইটানিক বলেন। তারা মুহূর্তে যে পরিমাণ শক্তি নিস্বঃরণ করে তা আমাদের সূর্যের সম্পূর্ণ জীবনকালের সমান। ( প্রায় দশ বিলিয়ন বছর)। কিন্তু এ ঘটনা ছিল ক্ষণস্থায়ী, একবার ভেলা স্যাটেলাইট দ্বারা সনাক্ত হয়,তারপর তারা এতটাই ম্লান হয়ে গিয়েছিল যে গ্রাউন্ড টেলিস্কোপ তাদের দিক নির্দেশিত হয়েছিল, তাদের মধ্যে কিছুই দেখা যায় নি। (অধিকাংশ বিস্ফোরণ ২ এবং ১০ সেকেন্ড স্থায়ী ছিল কিন্তু সবচেয়ে সংক্ষিপ্তটি স্থির ছিল ০.০১ সেকেন্ড এবং কিছুকিছু স্থির ছিল এক মিনিট পর্যন্ত)
 
 
 
 
আজ স্পেস টেলিস্কোপ, কম্পিউটার ও র্যাপিড রেসপন্স টিম গামা ব্রাস্টারের অবস্থান সনাক্ত করার ক্ষমতা বদলে দিয়েছে। দিনে প্রায় তিনবার, গামা রশ্নি ব্রাস্টার ডিটেক্ট করা হয়, যা কমপ্লেক্স চেইন অব ইভেন্ট তৈরি করে। যত দ্রুত একজন স্যাটেলাইট দ্বারা এনার্জি ডিটেক্ট করে, এস্ট্রোনোমাররা খুব দ্রুত কম্পিউটার দিয়ে তাদের কো-অর্ডিনেট লোকেট করে এবং আরো অধিক টেলিস্কোপ ও সেন্সর তাদের উদ্দেশ্য বসানো হয় , যথার্থ দিক নির্দেশ করার জন্য। এসব যন্ত্র যে ডাটা প্রকাশ করেছে তা ছিল বিষ্ময়কর। গামা-রশ্নির ব্রাস্টারের কেন্দ্রে এমন একটি বস্তু রয়েছে যা অনেক সময় দশ মাইল বিস্তৃত। অন্যকথায়, অকল্পনীয় মহাজাগতিক শক্তি গামা রশ্নি ব্রাস্টার সে নির্দিষ্ট এরিকায় পুঞ্জিভূত করে, নিউইর্য়ক সিটির সমান। বহু বছরের জন্য এ ধরণের ঘটনার নেতৃত্বশীল প্রতিযোগি ছিল বাইনারী স্টার সিষ্টেম। এ থিওরি অনুসারে,এ সকল নিউট্রন স্টার এর অরবিট খুব দ্রুত ক্ষয় হয় এবং তারা একটি সর্পিল মৃত্যু অনুসরণ করছে, তারা আল্টিমেটলি কোলাইড করবে, এবং বিশাল এনার্জি মুক্ত করবে। এ ধরণের ইভেন্ট চরমভাবে দূর্লভ কিন্তু যেহেতু মহাবিশ্ব অনেক বড় এবং এ ব্রাস্টার সমগ্র মহাবিশ্বকে আলোকিত করে, তাদেরকে দিনে কয়েকবার দেখা উচিত। কিন্তু ২০০৩ সালে, বিজ্ঞানীরা নতুন প্রমাণ সংগ্রহ করেন , গামা-রশ্নি বিস্ফোরণ আসলে ” হাইপারনোভার” ফলাফল যা বিরাট ব্লাকহোল তৈরি করে। গামা রশ্নি বিস্ফোরকের দিকে টেলিস্কোপ ও স্যাটেলাইট ফোকাসের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেন যে, তারা বিশাল সুপারনোভা সদৃশ। যেহেতু বিস্ফোরক নক্ষত্রের বিরাট ম্যাগনেটিক ফিল্ড রয়েছে এবং উত্তর ও দক্ষিণ মেরু থেকে রেডিয়েশন নির্গত হয়, এটি সম্ভবত মনে হয় আরো বেশি শক্তিশালী সুপারনোভা একে দেখলে ঠিক যেমন মনে  হয়- এর অর্থ হল আমরা এ ব্রাস্টারকে শুধু তখনই সনাক্ত করতে পারবো যদি আমরা পৃথিবী থেকে সরাসরি একে সনাক্ত করতে পারি, এটি আমাদের একটি ফলস ইম্পপ্রেসন প্রদান করে যে তারা তার চেয়েও বেশি শক্তিশালী তাদেরকে দেখলে ঠিক যতটুকু শক্তিশালী মনে হয়। যদি তথ্য অনুযায়ী গামা-রে ব্রাস্টার ব্লাকহোল হয়। তবে পরবর্তী প্রজন্মের টেলিস্কোপ অবশ্যই তাদের এনালাইজ করতে পারবে বিশদ বিস্তারিত সহকারে এবং সম্ভবত স্পেস- টাইম সম্পর্কে গভীর কিছু প্রশ্নের উত্তর দেবে। বিশেষ করে, যদি ব্লাকহোল, স্পেসকে প্রেটসেলের (জিলিপি সদৃশ একপ্রকার পেস্ট্রি) মতো বাঁকিয়ে দেয়, তারা কী সময়কেও বক্র করে দিতে পারে?
 
 
 
 
 
 

অনুবাদ-

প্যারালাল ওয়ার্ল্ড, মিচিও কাকু
ডায়মেনশনাল পোর্টাল এন্ড টাইম ট্রাভেল   ডায়মেনশনাল পোর্টাল এন্ড টাইম ট্রাভেল ডায়মেনশনাল পোর্টাল এন্ড টাইম ট্রাভেল
 
ডায়মেনশনাল পোর্টাল এন্ড টাইম ট্রাভেল  ডায়মেনশনাল পোর্টাল এন্ড টাইম ট্রাভেল ডায়মেনশনাল পোর্টাল এন্ড টাইম ট্রাভেলডায়মেনশনাল পোর্টাল এন্ড টাইম ট্রাভেল
 
 
 
 
 

আরও পড়ুন

Leave A Comment...

হাইপারস্পেস
চিন্তা নয়, চিন্তার পদ্ধতি জানো...!