টেস প্রযুক্তি

টেস প্রযুক্তি

লিখেছেন অ্যান্ড্রোস লিহন
171 বার পঠিত হয়েছে

 মস্তিষ্কে ম্যাগনেটিক পালস সেন্ড করে কী আপনার স্বপ্ন দেখা অথবা কথা বলার ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়া সম্ভব? 

পার্ট-৪

এখন আমরা আলোচনা করবো transcranial electromagnetic Scanner বা টেস নিয়ে(TES)।এটি একটি বিষ্ময়কর প্রযুক্তি।এ প্রযুক্তি ব্যাবহার করে আপনার মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশকে ম্যাগনেটিক পালসের মাধ্যমে ডি একটিভেট করে দেয়া যায়।তাহলে চলুন আমরা টেস প্রযুক্তি নিয়ে একটু ব্রিফলি আলোচনা করি।বর্তমানে নিউরোসায়েন্টিস্টরা মানুষের মস্তিষ্ককে জানার জন্যে অনেক গুলি হায় টেক যন্ত্র ব্যাবহার করেন যার মধ্যে রয়েছে-

1.transcranial electromagnetic scanner (TES),

(MEG),

2.near-infrared spectroscopy (NIRS),

3. magnetoencephalograph

4. and optogenetics

আজ আমরা আপনাদেরকে জানাবো শুধুমাত্র টেস প্রযুক্তির ক্ষমতা ও কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে।বিশেষ করে, ম্যাগনেটিক ফিল্ডের মাধ্যমে কোনোপ্রকার অস্রপ্রচার ছাড়াই মস্তিষ্কের বিভিন্ন ফাংশন ডি-একটিভেট করা যায়।আপনারা জানেন, আমাদের মস্তিষ্ক একটি ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড।যখন মস্তিষ্কের ইলেক্ট্রিক্যাল ফিল্ড দ্রুত পরিবর্তিত হয় ঠিক তখন ম্যাগনেটিক এনার্জি তৈরি হতে থাকে।ফ্যারাডের কাছ থেকে এটা আমরা আরো পূর্বেই শুনেছি যে ইলেক্ট্রিসিটি ও ম্যাগনেটিজম একে অপরের পরিপুরক একটিকে ইনডিউসড করলে অন্যটি তৈরি হয়ে যায়। মেগ (MEG) যন্ত্রের মাধ্যমে আমরা মস্তিষ্কের ইলেক্ট্রিক্যাল ফিল্ড পরিবর্তনের ফলে যে ম্যাগনেটিক এনার্জি তৈরি হয় সেটাকে যথাযথভাবে পরিমাপ করতে পারি।নিউরন থেকে সৃষ্ট এই ম্যাগনেটিক ফিল্ড একেবারেই ক্ষুদ্র, আমাদের আর্থ ম্যাগনেটিক ফিল্ডের বিলিয়ন ভাগের এক ভাগ।EEG প্রযুক্তির মতোই মেগ এক সেকেন্ডের এক হাজার ভাগের এক ভাগ সময়ের মধ্যেই যেকোনো সমস্যা সামাধান করতে পারে এক কিউবিক সেঃ মি এর মধ্যেই।কিন্তু টেস প্রযুক্তি মেগ থেকে কিছুটা আলাদা।মেগ প্রযুক্তি পরোক্ষভাবে মস্তিষ্কের ইলেক্ট্রিক্যাল ফিল্ডকে টেস্ট করে আর অন্যদিকে টেস বা ট্রানস্ক্রেনিয়াল ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক স্ক্যানার একটি বড় মাপের ইলেক্ট্রিক্যাল পালস তৈরি করে যেটি ম্যাগনেটিক এনার্জিতে কনভার্ট হয়, এই কনভার্টেট ম্যাগনেটিক পালস খুলির ভেতর প্রবেশ করে এবং পূনরায় ইলেক্ট্রিক্যাল পালসে পরিণত হয়ে মস্তিষ্কের বিশেষ অংশে আঘাত করে এবং সেটিকে চিরতরে বন্ধ করে দেয়।বিজ্ঞানীরা জানেন যে স্ট্রোক ও টিউমার মস্তিষ্কের বিশেষ কিছু অংশের জন্যে হয়ে থাকে, তারা সেই বিশেষ অংশগুলিকে শনাক্ত করে এবং ইলেক্ট্রিক্যাল পালসের মাধ্যমে সেগুলিকে প্রতিহত করে।

 

বিজ্ঞানীরা টেসের মাধ্যমে মানুষের মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশে ম্যাগনেটিক পালস সেন্ড করে দেখেছেন কিভাবে মানুষের আচরণ পরিবর্তিত হয়, উদাহরণস্বরুপঃ একজন ব্যাক্তির মস্তিষ্কের টেম্পোরাল লোবে ম্যাগনেটিক পালস সেন্ড করে দেখা গেছে তার কথা বলার ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।যদি ম্যাগনেটিক পালসের মাধ্যমে মানুষের কথা বলার ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়া যায় তবে হয়তোবা আমাদের ইমাজিনেশন, স্বপ্ন এবং চিন্তাশক্তিকেও টেস প্রযুক্তির মাধ্যমে ডি একটিভেট করা সম্ভব অথবা অন্য কথায় বলতে গেলে আমাদের সমস্ত শরীরটাই আমাদের নিউরন সেলের ভেতরেই রয়েছে, টেসের মাধ্যমে মস্তিষ্কের ফাংশনগুলি অফ করে দিয়ে একজন ব্যাক্তির সমস্ত অঙ্গপ্রত্যঙ্গেই প্রভাব সৃষ্টি করা সম্ভব!কিন্তু ভাগ্যের ব্যাপার হল টেস এখনো এতটা উন্নত হয়নি।এটি আমাদের ব্রেনের গভীর স্তরে প্রবেশ করতে পারেনা কারণ এই ম্যাগনেটিক পালস গুলির স্থায়িত্ব খুবই কম, টেস শুধু খুলির নিচের অংশগুলিতেই ভালোভাবে কাজ কাজ করতে পারে!

রিলেটেড আরো কিছু আর্টিকেঃঃ

১.  মস্তিষ্কের MRI প্রযুক্তি

২.মিথ্যা সনাক্তকারী যন্ত্র

 

আরও পড়ুন

Leave A Comment...

হাইপারস্পেস
চিন্তা নয়, চিন্তার পদ্ধতি জানো...!