টেলিপ্যাথিকেল রোবটিক
মূলপাতা কনসাসনেস টেলিপ্যাথিকেল রোবট

টেলিপ্যাথিকেল রোবট

লিখেছেন অ্যান্ড্রোস লিহন
124 বার পঠিত হয়েছে

 

টেলিপ্যাথিকেল রোবটিক (𝑆𝑢𝑟𝑜𝑔𝑎𝑡𝑒 𝑎𝑛𝑑 𝑎𝑣𝑎𝑖𝑡𝑜𝑟, 𝑡𝑒𝑙𝑒𝑝𝑡ℎ𝑖𝑐𝑎𝑙 𝑟𝑜𝑏𝑜𝑡 𝑎𝑛𝑑 𝑚𝑖𝑐𝑟𝑜𝑠𝑐𝑜𝑝𝑖𝑐 𝑛𝑎𝑛𝑜𝑝𝑟𝑜𝑏𝑒)

 

মানুষের পক্ষে কী রোবটের মেকানিক্যাল শরীরে সারভাইভ করা সম্ভব?টেলিপ্যাথিক্যালি রোবটের সাথে যোগোযোগ করা সম্ভব?মাইক্রোস্কপিক সাব-মেরিনের মাধ্যমে ডাক্তারের মস্তিষ্কের পালস দিয়ে সার্জারী করা সম্ভব?এমন কয়েকটি যুগান্তরকারী প্রশ্নের উত্তর নিয়েই আমাদের আজকের প্রচেষ্ঠা।আমরা দেখেছিলাম,বানরের মস্তিষ্কে ন্যানোচিপ ইনপুট করে ডঃনিকোলিস তার মস্তিষ্কের সাথে ইন্টারনেট কানেক্ট করে দিতে সক্ষম হয়েছিলেন যার মাধ্যমে সে তার ব্রেন পালস দিয়ে জাপানের একটি রোবটকে নির্দেশনা পাঠিয়েছিলো।

 

১৯৬৪ সালে ইসহাক অসিমভ The Human Brain নামক একটি গ্রন্থ লিখেছিলেন কিন্তু তিনি বোঝাতে সক্ষম হননি কিভাবে মস্তিষ্কের একটি অংশ অন্য আর একটি অংশের সাথে ইন্টারেক্ট করে মন তৈরি করে।আর নিকোলিস এখান থেকেই তার জীবনের লক্ষ স্থির করেন মানব মস্তিষ্ক।

 

তিনি  দুটি ইঁদুরের মস্তিষ্কে ইলেক্ট্রিক্যাল সিগনাল সেন্ড করতে সক্ষম হয়েছিলেন যারা তাদের রঙের অনুভূতি একে অপরের সাথে শেয়ার করেছিলো।তিনি প্রাণীদের মস্তিষ্কের সাথে মেশিনকে কানেক্ট করে দিতে পারতেন যার মাধ্যমে তারা ফিজিক্যালি স্থির থেকেই মানসিকভাবে ডিভাইস ইউজ করতে পারতো।সাম্প্রতিক তিনি বানরের মস্তিষ্কের প্রায় এক হাজার নিউরন সনাক্ত করেছেন যে নিউরনগুলি শরীরের বিভিন্ন একটিভিটিজের জন্যে দায়ী।বর্তমানে বানরের পক্ষেও মেকানিক্যাল আর্ম এবং সাইভার স্পেসের ভার্চুয়াল ইমেজ কন্ট্রোল করা সম্ভব।নিকোলিস বলেছিলেন, বানরের পক্ষে Monkey Aviator নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব কোনপ্রকার ফিজিক্যাম মুভমেন্ট ব্যাতীতই।

 

   কিভাবে কাজ করে এই টেলিপ্যাথিকেল রোবট? 

 

মনে করুন, বানর একটি মুভি দেখছে, যেখানে সে Avaitor তথা মুভিটি তাকেই রিপ্রেজেন্ট করছে, সে মেন্টালি মুভিটিকে দিকনির্দেশনা দিতে পারবে, মুভিটি তার মস্তিষ্কের সিগনাল দ্বারাই পরিচালিত হবে।নিকোলিসের পরের কাজ ছিলো স্কেলিটন তৈরি করা।প্রশ্ন হলো স্কেলিটন কী?এটি হলো রোবটিক বডি যেটি মানুষের মন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে।রোবটটির আর্ম এবং লেগ মোটর দ্বারা মুভ করবে।এই প্রযুক্তির মাধ্যমে প্যারালাইজড রোগীরা তাদের ব্রেন সিগনাল বা চিন্তার মাধ্যমেই হাঁটতে পারবে।তিনি মানব মস্তিষ্কের প্রায় ৩০০০০ হাজার নিউরন পাঠ করতে পেরেছেন যেগুলি সম্পূর্ণ রোবটিক বডিকে হাঁটতে,মুভ করতে এবং ফিজিক্যাল অবজেক্ট নাড়াচাড়া করতে সহযোগিতা করবে।এবং এটি একটি তারবিহীন প্রযুক্তি।

এ জন্যে সর্বপ্রথম মাইক্রোচিপ তৈরি করতে হবে।তারবিহীন সেন্সর তৈরি করতে হবে যার মাধ্যমে স্কেলিটন স্বাধীনভাবে মুভ করতে পারে।এই সিগনালগুলি সেলফোন সাইজের একটি ফোন

সংগ্রহ করবে যেটি থাকবে আপনার বেল্টের সাথে আটকানো।এমন একটি প্রযুক্তি এক্সপ্লোর করতে হবে যার মাধ্যমে মস্তিষ্কের সিগনালকে কম্পিউটার ইন্টারপ্রেট করতে পারে।বানরের জন্যে ম্যাকানিকাল আর্ম কন্ট্রল করতে একশত নিউরন সেল প্রয়োজন।এক হাজার নিউরন প্রয়োজন পায়ের মুভমেন্টকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্যে।এভাবে আমরা নিউরাল সিগনাল দিয়ে

রোবটিক দেহের ভেতর সারভাইভ করতে পারি স্বাধীনভাবে।

তারমানে সহয ভাষায়, স্কেলিটন হলো কৃত্রিম দেহ যেগুলি আমাদের রক্ত-মাংসের শরীরে প্রতিস্থাপন করা হবে এবং আমরা আমাদের ব্রেন নিউরাল সিগনাল দিয়ে এই মেকানিক্যাল বডিকে নিয়ন্ত্রণ করবো।সুরোগেট মুভিতে ব্রুস উইলস ছিলেন FBI এর একজন প্রতিনিধি যিনি একটি রহস্যজনক খুনের সিক্রেট উন্মোচন করছিলেন।সে মুভিতে দেখানো হয়েছিলো বিজ্ঞানীরা স্কেলিটন প্রযুক্তিকে এমন একটি পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন যে তারা মানুষ থেকেও অনেক বেশি ক্ষমতাবান ছিলো।যাদেরকে বলা হতো সুরোগেট।এরা এতটাই যথাযথ ছিলো যে সম্পূর্ণ মানব সভ্যতা এদের উপর নির্ভরশীল হয়ে উঠেছিলো।মানুষ শরীরের পরিবর্তে রোবটিক শরীর ধারণ করে, যেটাকে বলা হয় পড এবং নিউরাল সিগনালের মাধ্যমে সেই পডের ভেতর থেকে ফিজিক্যাল জগতের সাথে কন্ট্রাক্ট করে।

ব্লকবাস্টার এভায়েটর মুভিতে দেখা যায় ২১৫৪ সালে সমস্ত পৃথিবী মিনারেলের সংকটে পড়ে।

তখন মানব সভ্যতা আলফা সেন্টরি স্টার সিষ্টেমের নিকটবর্তী একটি চাঁদে ভ্রমণ করে যার নাম প্যান্ডোরা।প্রতিবেশি গ্রহের মানুষের সাথে যোগাযোগের জন্যে বিশেষ করে ট্রেনিং প্রাপ্ত স্কেলিটনকে সেখানে পাঠানো হয় যাদের বলা হয় POD।সেখানকার পয়জনিয়াস পরিবেশেও তারা এটমোস্ফিয়ার দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি,তারা খুব সুন্দরভাবেই ভ্রমণ করেছিলো।

এভায়টের এবং সুরোগেট সায়েন্স ফিকশন মুভির প্রধান স্টাফ।মানুষের শরীর খুবই ভঙ্গুর এবং দূর্বল।ইন্টারস্টেলার বা ইন্টারগ্যালাক্টিক ট্রাভেল করার জন্যে মানুষের দেহ উপযুক্ত নয়।যদিও সায়েন্স ফিকশন মুভি গুলিতে দেখানো হয় অনেক প্লানেটারি হিরো দুঃসাহসিক সব মিশন সম্পাদন করে কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ আলাদা।গভীর স্পেসে রেডিয়েশনের ঘণত্ব এত বেশি যে ট্রাভেলরা অল্পবয়সেই বৃদ্ধ হয়ে যাবে, রেডিয়েশন সিকনেস এবং ক্যান্সার দেখা দেবে।

এছাড়া রয়েছে মাইক্রোমেটারাইট,ওজনহীনতা এবং পরিবর্তিত গ্রেভিটির সাথে এস্ট্রোনাটদের ভারসাম্যহীনতা।দীর্ঘদিনের ওজনহীনতার কারণে শরীরের অধিকাংশ কেলসিয়াম ও মিনারেল চলে যায়, এস্ট্রোনাট দূর্বল হয়ে উঠে।চাঁদের মাইক্রোমেটোরাইট এবং  রেডিয়েশন এতটাই প্রকট যেবিজ্ঞানীরা এস্ট্রোনাটদেরকে রক্ষা করার জন্যে পার্মানেন্ট আন্ডারগ্রাউন্ড কেভ ব্যাবহার করতে বলেন।আর অন্যদিকে যদি আমরা রোবটিক বডির ভেতর বাস করি তবে, সুরোগেটের মাধ্যমেই আমরা স্পেস ট্রাভেলের এসব জটিলতা দূর করতে পারবো।

হোন্ডা কর্পোরেশন এমন কিছু রোবট তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে যারা রেডিও একটিভ এনভায়রনমেন্টে প্রবেশ করতে পারে।হোন্ডা সায়েন্টিস্টরা ওয়ার্কারদের মস্তিষ্কের ভেতর একটি EEG সেন্সর বসিয়ে দেয় যেটি কম্পিউটারের সাথে কানেক্টেড।কম্পিউটার ব্রেন ওয়েভ এনালাইসিস করে রোবটের মস্তিষ্কে পাঠায় যাদেরকে বলা হয় ASIMO!

মেন্টালি কন্ট্রোল করা যায় এমন রোবটের আর একটি দৃষ্টান্ত ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনে পাওয়া যায়।ডঃরাজেশ রায় এমন এক ধরণের রোবট তৈরি করেছেন যেগুলিকে মস্তিষ্কের সিগনাল সেন্ড করে EEG সেন্সরের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।এ জন্যে আপনাকে একটি EEG হেলমেট পড়তে হবে।এই ক্ষুদ্র মানব সদৃশ রোবট দুই ফুট লম্বা যাদের বলা হয় মর্পিয়াস।একজন ছাত্র তার মস্তিষ্কে EEG হেলমেট পড়বে, এবং হাত অথবা পা দিয়ে ঈশারা করবে যা EEG সিগনাল তৈরি করবে যা কম্পিউটারের মাধ্যমে রেকর্ড করা হবে।কম্পিউটারের ভেতর রয়েছে EEG সিগনালের লাইব্রেরী যেটি লাইম্বের এক একটি মোশনের প্রতিনিধিত্ব করে।আপনি যদি হাত নাড়ান তবে রোবটের কাছে একটি EEG সিগনাল যাবে এবং সেও হাত নাড়াবে।আপনি সামনের দিকে গেলে মর্পিয়াস সামনের দিকে যাবে এবং আপনি পেছনের দিকে গেলে মর্পিয়াসও পেছনের দিকে যাবে।

সুইজারল্যান্ডের বিজ্ঞানীরা এমন একধরণের রোবট(টেলিপ্যাথিকেল রোবট) তৈরি করেছে যাদেরকে কয়েক মাইল দূর থেকে ট্যালিপেথিক্যালি নিয়ন্ত্রণ করা যায়, এ রোবটগুলিকে বলা হয় ভ্যাকুয়াম ক্লিনার রোবট, এরা ঘর পরিস্কার করে।একজন প্যারালাইজড পারসন, কম্পিউটার স্কিনের দিকে তাকাবে যেটি  কয়েক মাইল দূরের রোবটের চোখের সাথে সংশ্লিষ্ট ভিডিও ক্যামেরার সাথে কানেক্টেড।ভিডিও ক্যামেরাটির মাধ্যমে আপনি কয়েক মাইল দূর থেকে সম্পূর্ণ ঘরটি পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন এবং EEG সেন্সরের মাধ্যমে রোবটকে দিক নির্দেশনা দিতে পারবেন!

সুরোগেট বা টেলিপ্যাথিকেল রোবট এর আর একটি সম্ভাবনা হলো সুরোগেট সাব-মেরিন।যেটি মানুষের রক্তের মধ্যে প্রবেশ করবে এবং ডাক্তারের ব্রেন পালস অনুযায়ী সে শরীরের ভেতর জটিল সকল সার্জারি সম্পাদন করবে।এই আইডিয়াটি সর্বপ্রথম পাওয়া যায় ফ্যান্টাস্টিক ভয়েজার মুভি থেকে।এসব সাব মেরিন ব্লাড সেলের সমান যেগুলি ব্লাডের মধ্যে সংকুচিত হয়ে যায়।কিন্তু এই সংকুচিত এটম কোয়ান্টাম ফিজিক্সকে ভায়োলেট করে আর তাই আমাদের এমন MEMS[(micro-electrical-mechanical systems) তৈরি করতে হবে যেগুলি সেলের সমান এবং রক্ত প্রবাহের মধ্যে প্রবেশ করতে সক্ষম।

মিমস ট্যাকনোলজি মেডিসিনের জগতে নতুন একটি সম্ভাবনা উন্মোচন করবে।মানুষের রক্তের মধ্যে মাইক্রোস্কোপিক মেশিন প্রবেশ করবে,মস্তিষ্কে ন্যানোপ্রুভ পাঠানো যাবে, তারা ইচ্ছেমতো ব্রেন নিউরনকে কানেক্ট করতে পারবে, মানুষের মনসিক এবং শারীরিক আবেগ অনুভূতি তারা পরিবর্তন করে দিতে পারবে এবং বিষ্ময়করভাবে সম্পূর্ণ প্রকৃয়াটি ঘটবে টেলিপেথিক্যালি।

 

টেলিপ্যাথিকেল রোবট ছাড়াও আমাদের প্রাসঙ্গিক আর্টিকেলগুলি পড়ুনঃ

 

টেলিপ্যাথিকেল রোবট; তথ্যসুত্রঃ

 

আরও পড়ুন

Leave A Comment...

হাইপারস্পেস
চিন্তা নয়, চিন্তার পদ্ধতি জানো...!