টাইম মেশিন ও এক্সোটিক ম্যাটার

Last updated:

ভ্যান স্টোকুম’স টাইম মেশিন

Van Stockum’s Time Machines

আইনস্টাইনের থিওরি স্পেস এবং টাইমকে অবিভাজ্য ঐক্য হিসেবে দেখিয়েছেন, যেকোনো ওয়ার্মহোল যা স্পেসের দুটি বিন্দুকে কানেক্ট করতে পারে, অবশ্যই সময়ের দুটি বিন্দুকেও কানেক্ট করতে পারে। অন্যকথায়, আইনস্টাইনের থিওরি, টাইম ট্রাভেলের সম্ভাবনাকে উন্মোক্ত করে। সময়ের কনসেপ্ট বিবর্তিত হয়েছে এক শতাব্দী ধরে। নিউটনের মতে সময় তীরের মতো, একবার নিক্ষেপ করার পর, এটি কখনো তার গতিহ্রাস করেনা, এটি অক্লান্ত ও অভিন্নভাবে তার লক্ষ্যের দিকে ছুটতে থাকে। আইনস্টাইন তারপর বক্রস্থানের ধারণা উন্নত করেন, অতএব সময় অনেকটা নদীর মতো, এটি ভদ্রভাবে গতিবৃদ্ধি করে এবং ধীর হয়ে যায়।। কিন্তু আইনস্টাইম দুশ্চিন্তা করলেন, নদী হয়তো তার নিজের উপর বক্র হয়ে যায়। সম্ভবত মাঝেমাঝে সময়ের নদীতে ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়। সময় সেখানে থেমে যায়!

Gamma-Magnetic Field Time Travel


১৯৩৭ সালে, এ সম্ভাবনা বুঝতে পারে W.J স্টোকুম, আইনস্টাইনের সমীকরণের একটি সমাধান বের করে, তিনি টাইম ট্রাভেলের অনুমোদন প্রদান করেন। তিনি একটি অসীম ঘূর্ণায়মান নল বা সিলিল্ডার দিয়ে শুরু করেছিলেন। যদিও এটি ফিজিক্যালি সম্ভব নয় কোন অসীম বস্তু তৈরি করা, তিনি গণনা করেন যে, যদি এ ধরণের সিলিল্ডার তার চারপাশে আবর্তিত হতে থাকে এটি তার চারপাশের ফেব্রিক অব স্পেস-টাইম খনন করতে পারবে! ঠিক যেমনি ব্লেন্ডারের ব্লেড মিঠাই কেটে ফেলে। ( এটাকে বলে ফ্রেম ড্র‍্যাগিং, এটিকে এখন পরীক্ষামূলকভাবে বিস্তারিত দেখা যায় ঘুর্ণায়মান ব্লাকহোলের ফটোগ্রাফে। যে ব্যাক্তি সিলিন্ডারের চারপাশে ভ্রমণ করার মতো যথেষ্ট সাহসী একমাত্র সে সুইপ্ট করবে, এ দুর্দান্ত গতি প্রাপ্ত হয়ে। প্রকৃতপক্ষে দূরের কোন পর্যবেক্ষকের নিকট মনে হবে সে আলোর গতি অতিক্রম করেছে। কিন্তু ভান স্টোকুম নিজে বুঝতে পারবেনা যে এটা সময়, সিলিল্ডারের চারপাশে ভ্রমণ করার পর দেখবে, সে আসলে সময়ের অতীতে চলে এসেছে, তার যাত্রা শুরু করার পূর্বের সময়ে! ( এর একটি সীমাবদ্ধতা হলো আপনি সময়ের সে অতীতে যেতে পারবেন না যেখানে সিলিল্ডার স্বয়ং তৈরি হয়েছে)।

The heroic death of W.J. van Stockum, time travel pioneer

যেহেতু সিলিল্ডারটি দেখতে মেয়পোলের মতো (শিশু পার্কে এটি দেখতে পাওয়া যায়, বৃত্তাকার মেয়পোল, যেখানে দড়িতে ঘোড়া বাধা থাকে, শিশুদের নিয়ে ঘুরতে থাকে) প্রতিবার আপনি মেরুতে নৃত্ত করতে থাকবেন, আপনি সময়ের গভীর থেকে গভীর অতীতে চলে যাবেন। অবশ্য, যে কেউ এমন সমাধানকে প্রত্যাখ্যান করবে কারণ কোন সিলিল্ডারই অসীম লম্বা হয়না, যদি এমন সিলিল্ডার তৈরি করাও যায়, এর সেন্ট্রিফিউগাল সিলিল্ডারের উপর বল প্রয়োগ করবে, এটি আলোর বেগে ঘুরতে থাকবে, বিশাল হয়ে উঠবে, এবং সিলিল্ডারটি যে ম্যাটারিয়ালসের তৈরি সেগুলো  দূরে ছিটকে পড়ে যাবে!

 

গোডেল ইউনিভার্স

Godel Universe

1949 সালে, কার্ল গোডেল, মহান গণিতজ্ঞ, আইনস্টাইনের সলিউশনের আরো অদ্ভুত এক সমাধান বের করেন। তিনি কল্পনা করেন যে, সম্পূর্ণ মহাবিশ্ব ঘুরছে। ভ্যান স্টোকাম সিলিল্ডারের মতো, যে কেউ মোলাসিসের মতো স্পেস-টাইমের প্রকৃতির দ্বারা সুইপ্ট করবে। আপনি যদি একটি রকেটশিপ নিয়ে গোডেলের মহাবিশ্বের চারপাশে ঘুরেন, আপনি আপনার শুরুর বিন্দুতে চলে আসবেন।


গোডেলের মহাবিশ্বে, প্রিন্সিপাল অনুসারে, একজন ব্যক্তি মহাবিশ্বের স্পেস-টাইমের দুটো বিন্দুর মাঝে ট্রাভেল করতে পারেন। সময়ের যে কোন মুহুর্তে, যেকোনো ইভেন্টে, ভ্রমণ করা যায়, কোন ব্যাপারই না যত অতীতেই হোক না কেনো! কারণ গোডেলের মহাবিশ্বে গ্রেভিটির নিজের উপর কলাপ্স করার একটি প্রবণতা থাকে। আর এভাবে সেন্ট্রিফিউগাল ফোর্স গ্রেভিটেশনাল ফোর্সকে ব্যালান্স করে দেয়। তারমানে, মহাবিশ্ব নির্দিষ্ট স্পিডে স্পিন করে। মহাবিশ্ব যত বিশাল হবে এর কলাপ্স করার প্রবণতাও তত বেশি হবে। এবং মহাবিশ্ব আরো দ্রুত স্পিন করবে এ সংঘর্ষ অতিক্রম করার জন্য। আমাদের মহাবিশ্বের আকারের একটি মহাবিশ্বের জন্য, উদাহরণস্বরূপ, এটি সত্তর মিলিয়ন বছরে একবার রোটেট করে এবং এ ভ্রমণের নূন্যতম রেডিয়াস ১৬ বিলিয়ন লাইট ইয়ার্স। সময়ের অতীতে ফিরে আসার জন্য, যাহোক, আপনার উচিত আলোর গতির কাছাকাছি গতিতে ভ্রমণ করা! গোডেল তার সলিউশন থেকে জাগ্রত প্যারাডক্স সম্পর্কে খুব ভালোভাবেই জানতেন- অতীতের আপনার সাথে দেখা হওয়ার সম্ভাবনা যা ইতিহাসকেই বিকৃত করে দেবে, রকেট শিপের মাধ্যমে বৃত্তাকার ভ্রমণও যথার্থভাবে একটি প্রশস্ত কোর্স! এ মহাবিশ্বে অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের যে কোনো বিন্দুতে ভ্রমণই সম্ভব ছিল এবং ফিরে আসা সম্ভব ছিলো যথার্থভাবে! ঠিক যেনো এটি সম্ভাব্য অন্যজগতে স্পেসের দূরবর্তী কোন অংশ ভ্রমণের জন্য; তিনি লিখেন।


এ অবস্থাটিকে একটি অযৌক্তিকতা বলে মনে হয়। কারণ এটি একজন ব্যক্তিকে সে অতীতেও যাওয়ার অনুমোদন দেয় যেখানে সে নিজেই বাস করে। সে এমন একজনকে দেখবে যে দেখতে তারই মতো, যে তার জীবনের অতীতের অংশ। আর সে তার সাথে কিছু একটা করবে, তার স্মৃতিতে, সে বুঝতে পারবে এর কোনো মেমোরিই নেই! আইনস্টাইন এ সলিউশন দ্বারা খুবই বিরক্ত ছিলেন যেটি আবিষ্কার করেছেন প্রিন্সটন ইনস্টিটিউট ফর এডভ্যান্স স্টাডির একজন, যিনি ছিলেন তারই বন্ধু ও প্রতিবেশী, আইনস্টাইনের প্রতিক্রিয়ার কিছু অংশ এখানে দেয়া হলো- ” কার্ট গোডেলের রচনাটি, আমার মতে জেনারেল থিওরি অব রিলেটিভিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান। এখানে এমন একটি সমস্যা জড়িত যা আমাকে বিরক্ত করেছে এ তত্বটি গঠিত হওয়ার শুরু থেকে, আমার এটি পরিস্কার করার ব্যর্থতা…. পূর্বের পার্থক্যটি পরিত্যাজ্য বিশ্ব-বিন্দুগুলোর জন্য যা কসমোলজিক্যাল সেন্স থেকে অনেক দূরে এবং সে প্যারাডক্স যা কারণের সম্পর্কযুক্ততার প্যারাডক্সের সাথে জড়িত যেটির জন্যে মিঃ গোডেল কথা বলছেন.. এটিকে মূল্যায়ন করাটা খুবই মজার যদিনা ফিজিক্যাল গ্রাউন্ড থেকে এটি বাতিল হয়ে যায়!”


আইনস্টাইনের এ প্রতিক্রিয়া দুটো কারণে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। প্রথমত, তিনি টাইম ট্রাভেলের সম্ভাবনাকে এডমিট করেছেন যা তাকে বিরক্ত করতো যখন তিনি জেনারেল থিওরি অব রিলেটিভিটিকে প্রথম প্রস্তুত করেছেন! যেহেতু স্থান ও কালকে রাবার হিসেবে ভাবা হয়েছিলো যেটি এতটাই বক্র হয়ে যায় যে সময় ভ্রমণ সম্ভবত সম্ভব। দ্বিতীয়ত, তিনি গোডেলের সলিউশনকে ফিজিক্যাল গ্রাউন্ড থেকে বহিস্কার করেছেন, এ জন্যই যে মহাবিশ্ব স্পিন করছেনা, এটি সম্প্রসারিত হচ্ছে। আইনস্টাইন যখন মৃত্যুবরণ করেন, এটি সুবিস্তৃতভাবে প্রচারিত ছিলো যে তার ইকুয়েশন একটি অদ্ভুত ঘটনার অনুমোদন দেয়। (টাইম ট্রাভেল, ওয়ার্মহোল)। কিন্তু কেউই এ ব্যাপারে অধিকতর চিন্তা দিতে পারেনি কারণ বিজ্ঞানীরা মনে করতেন যে তাদের পক্ষে প্রকৃতিকে বোঝা সম্ভব নয়! ঐক্যমত ছিল যে এ সমাধানের ফিজিক্যাল জগতে কোন বেসিস নেই; আপনি যদি প্যারালাল ইউনিভার্সে প্রবেশ করতে চান ব্লাকহোল আপনাকে হত্যা করবে; মহাবিশ্ব স্পিন করবে না, আপনি অসীম সিলিল্ডার তৈরি করতে পারবেন না, সময় ভ্রমণ একটি একাডেমিক প্রশ্ন।

Gödel's universe in co-rotating cylindric-polar coordinates t, r, ϕ.... | Download Scientific Diagram

 

 

থ্রোন টাইম ট্রাভেল

Throne Time Travel

Kip Thorne - Is Time Travel Possible? - YouTube

35 বছর পর্যন্ত সময় ভ্রমণের ইস্যুটি সুপ্ত ছিল। ১৯৮৫ সালের পূর্ব পর্যন্ত। যখন কার্ল স্যাগান তার উপন্যাস কন্ট্যাক্ট লিখেছিলেন এবং উন্মোক্ত করতে চেয়েছিলেন একটি পথ যা নায়িকাকে ভেগা নক্ষত্র ভ্রমণ করতে সক্ষম করে তুলেছিল। এর জন্য প্রয়োজন ছিল, টু- ওয়ে জার্নি। প্রথমত নায়িকা ভেগাতে ভ্রমণ করবে এবং তারপর পৃথিবীতে ফিরে আসবে। এমনকিছু যা ব্লাকহোলের মতো ওয়ার্মহোলগুলো অনুমোদন দেয় না। তিনি পদার্থবিজ্ঞানী কিপ থ্রোনকে উপদেশ গ্রহণের জন্য ডেকে আনেন। থ্রোন আইনস্টাইনের সমীকরণের নতুন এক সমাধান উদ্ভাবন করে , সমস্ত বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন যা টাইম ট্রাভেলের অনুমোদন দেয়, পূর্বের কোনপ্রকার সমস্যা ছাড়াই। ১৯৯৮ সালে থ্রোন তার সহযোগী মাইকেল মোরিস ও উলভি ইউরস্টিভারকে নিয়ে দেখান যে টাইম মেশিন তৈরি করা সম্ভব, যদি কেউ ম্যাটার ও এনার্জির অদ্ভুত কাঠামো অর্জন করে। যেমন- Exotic Negative Matter” ও “Negative Energy”। পদার্থবিজ্ঞানীরা এ নতুন সমাধান দেখে সর্বপ্রথম অবাক হয়েছিলেন। কেনোনা ইতপূর্বে আর কেউই Exotic Matter দেখেনি এবং নেগেটিভ এনার্জি শুধুমাত্র মিনিট পরিমাণে বিদ্যমান। কিন্ত এটি সময় ভ্রমণকে বোঝার ক্ষেত্রে আর একটি প্রদক্ষেপের প্রতিনিধিত্ব করে।

Time Travel and Wormholes: Kip Thorne's Wildest Theories | Space


নেগেটিভ ম্যাটার ও এনার্জির একটি বড় সুবিধা হলো এরা ওয়ার্মহোলকে স্থানান্তরযোগ্য করে তোলে। অতএব আপনি একটি টু-ওয়ে ট্রিপ তৈরি করতে পারবেন। প্রকৃতপক্ষে, থ্রোনের গ্রুপ আবিষ্কার করেছেন টাইম মেশিন সম্ভবত খুব হালকা, কমার্শিয়াল এয়ার লাইনের চাপের তুলনায়। একটি সমস্যা হলো, নেগেটিভ ম্যাটার তার প্রাচুর্যতার দিক থেকে খুব এক্সট্রা-অর্ডিনারী! এন্টিম্যাটারের সাথে বৈশাদৃশ্যতামূলক ভাবে ( যেগুলো অস্তিত্বশীল সম্ভবত তবে পৃথিবীর গ্রেভিটেশনাল ফিল্ডের নিচে পতিত হয়েছে)। কিন্তু নেগেটিভ ম্যাটার উপরের দিকে ধাবমান, তাই এটি পৃথিবীর গ্রেভিটির উপরের দিকে ভাসতে থাকে কারণ এটি এন্টিগ্রেভেটি ধারণ করে। অর্ডিনারী ম্যাটার এটাকে আকর্ষণ করেনা,দূরে ঠেলে দেয় এবং অন্যান্য নেগেটিভ ম্যাটারও। এর মানে হলো এই Exotic Matter কে প্রকৃতিতে খুঁজে পাওয়া খুবই দুস্কর। যখন পৃথিবী প্রথম প্রস্তুত হয়েছে ৪.৫ বিলিয়ন বছর আগে, পৃথিবীর যেকোনো নেগেটিভ ম্যাটার হয়তো গভীর স্পেসে তলিয়ে যায়। অতএব নেগেটিভ ম্যাটার সম্ভবত স্পেসে ভাসমান, পৃথিবী থেকে অনেক দূরে। (নেগেটিভ ম্যাটার সম্ভবত কোন ধাবমান গ্রহ নক্ষত্র দ্বারা আহত হয়না কারণ তারা অর্ডিনারী ম্যাটার দ্বারা বাতিল হয়ে যায়)

যদিও নেগেটিভ ম্যাটারকে এখনো পাওয়া যায়না ( এবং খুব সম্ভব অস্তিত্ব নেই), নেগেটিভ এনার্জি ফিজিক্যালি বাস্তব কিন্তু খুবই দূর্লভ। ১৯৩৩ সালে হ্যানরিক কাসিমির দেখিয়েছেন যে, দুটি অনাহিত প্যারালাল মেটাল প্লেট নেগেটিভ এনার্জি তৈরি করতে পারে। সাধারণত যে কেউ চিন্তা করতে পারে যে দুটি প্লেট স্থির থাকবে কারণ তারা অনাহিত। ১৯৪৮ সালে এ অতি-ক্ষুদ্র ফোর্স মাপা হয়, দেখানো হয় যে নেগেটিভ এনার্জি একটি বাস্তব সম্ভাবনা। কাসিমির ইফেক্ট শূন্যতার অদ্ভুত ফিচারটিকে কাজে লাগায়। কোয়ান্টাম থিওরি অনুসারে, এম্পটি স্পেস ভার্চুয়াল পার্টিকেলে পরিপূর্ণ। পার্টিকেল একেবারে শূন্য থেকে নৃত্ত করে! এনার্জি কনজারভেশনের নীতি লঙ্গন সম্ভব কারণ হাইসেনবার্গের অনিশ্চয়তার নীতি কাজ করে। এটি বিখ্যাত ক্লাসিক্যাল আইনকে লঙ্গন করে যতক্ষণ না তারা সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য সংঘটিত হয়। উদাহরণস্বরুপ, ইলেক্ট্রন ও এন্টি ইলেক্ট্রন, অনিশ্চয়তার কারণে নিশ্চিত সম্ভাবনা আছে যে শূন্য থেকে তৈরি হবে এবং তারপর একে অপরকে ধবংস করে দেবে। যখন প্যারালাল প্লেট একে অপরের খুব কাছাকাছি, ভার্চুয়াল পার্টিকেলরা খুব সহজে দুটি প্লেটের মাঝামাঝি আসতে পারে না, এর কারণ প্লেটের চারপাশে আরো অজস্র ভার্চুয়াল পার্টিকেল রয়েছে যতটা না তারা উভয়ের মাঝে আছে। এটি বাহির থেকে একপ্রকার ইন-ওয়ার্ড ফোর্স তৈরি করে। যা প্যারালাল প্লেটগুলোকে কিছুটা ধাক্কা দেয়।

scene2 – The Froarty Blog

এ ইফেক্ট যথাযথভাবে ১৯৯৬ সালে লস আলামস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির, স্টিভেন ল্যামোরিয়াক্স দ্বারা মাপা হয়। (আকর্ষণ ফোর্স ছিল ক্ষুদ্র ৩০, ০০০০ পতঙ্গের মতো পিঁপড়ার মাঝে একটির সমান।) দুটি প্লেটের মধ্যে দূরত্ব যত বেশি হয়, ফোর্সের আকর্ষণ তত বেড়ে যায়! আর এভাবেই থ্রোন স্বপ্ন দেখেছিলেন, টাইম মেশিন কাজ করবে। একটি উন্নত সভ্যতা দুটি প্যারালাল প্লেট দিয়ে শুরু করতে পারে, যেগুলো এক্সট্রিমলি ক্ষুদ্র দূরত্বে অবস্থিত। এ প্যারালাল প্লেটকে তারপর গোলকেও পরিণত করা যাবে, গোলকের ভেতর ও বাহিরে সেল থাকবে। তারা দুটি গোলক তৈরি করবে এবং যেকোনোভাবে তাদের মাঝে একটি ওয়ার্মহোল জুড়ে দেবে, স্পেসের একটি টানেল দুটি গোলককে কানেক্ট করবে। দুটি গোলক এখন একটি ওয়ার্মহোলের মুখ দ্বারা আবদ্ধ। সাধারণত , দুটি গোলকে সময় সিনক্রোনাইজেশনে আছে। এবার আমরা যদি একটি গোলককে রকেট শিপে রাখি যেটি আলোর গতির কাছাকাছি ভ্রমণ করে, রকেট শিপের জন্য সময় ধীর হয়ে যাবে, তাহলে এ দুটি গোলকের মাঝে আর সময়ের সমন্বয় থাকবে না, রকেটের ঘড়ি খুব ধীরে বিট করবে পৃথিবীর ঘড়ির তুলনায়।। এবার যদি কেউ পৃথিবীর গোলকের ভেতর ঝাপ দেয়, তাকে হয়তো দুটি গোলকের মাঝখানের ওয়ার্মহোল গিলে ফেলবে এবং অন্য রকেটশিপটিতে নিয়ে যাবে, অতীতের কোন সময়ে। ( কিন্তু এ টাইম মেশিন আপনাকে এমন কোন সময়ে নিয়ে যেতে পারে না যে সময় টাইম মেশিন নিজেই তৈরি হয় নি )

নেগেটিভ এনার্জির সমস্যা

Problem with Negative Energy

যদিও থ্রোনের সমাধানটা ছিলো খুবই সেনসেশনাল, তবে এটি তৈরি করার ক্ষেত্রে রয়েছে কিছু প্রতিবন্ধকতা, এমনকি উন্নত সভ্যতার জন্যও। প্রথমত কেউ হয়তো বড় মাপের নেগেটিভ এনার্জি অর্জন করবে যা দূর্লভ।। এ ধরণের ওয়ার্মহোল নির্ভর করে বিপুল পরিমাণ নেগেটিভ এনার্জির উপর ওয়ার্মহোলের মুখ খোলা রাখার জন্য। যদি কেউ কাসিমির ইফেক্টের মাধ্যমে নেগেটিভ এনার্জি তৈরি করে, যা খুবই ক্ষুদ্র তবে ওয়ার্মহোলের আকার হবে এটম থেকেও ক্ষুদ্র। ওয়ার্মহোলের ভেতর টাইম ট্রাভেল প্রাক্টিক্যাল নয়। কাসিমির ইফেক্ট ছাড়াও নেগেটিভ এনার্জির আরো একটি সোর্স আছে কিন্তু সেগুলো ম্যানিপুলেট করা খুব কঠিন। উদাহরণস্বরূপ- পদার্থবিজ্ঞানী পল ডেভিস ও স্টিফেন ফুলিং দেখিয়েছেন, দ্রুত গতিশীল একটি আয়না নেগেটিভ এনার্জি তৈরি করতে পারে, যেটি সে আয়নাটির সামনে একত্রিত হয় যেটি ঘুরছে। দূর্ভাগ্যবশত, আপনাকে প্রায় আলোর গতিতে আয়না মুভ করতে হবে, নেগেটিভ এনার্জি অর্জন করার জন্য। এবং কাসিমির ইফেক্টের মতোই নেগেটিভ এনার্জি খুব অল্প পরিমাণ তৈরি হয়।


নেগেটিভ এনার্জি তৈরির আর একটি উপায় হলো উচ্চ ক্ষমতার লেজার রশ্নি। লেজারের এনার্জি স্টেটের মধ্যে রয়েছে “সংকোচিত” একটি দশা যেখানে পজেটিভ ও নেগেটিভ এনার্জি একসাথে বাস করে। যাহোক, এ ইফেক্ট নিপুনভাবে পরিচালনা করাটাও অনেক কঠিন। পজেটিভ এনার্জির একটি কম্পনকে অনুসরণ করে নেগেটিভ এনার্জির একটি সাধারণ পালস ১০-১৫ সেকেন্ড সময় নেয়। পজেটিভ এনার্জি স্টেট থেকে নেগেটিভ এনার্জি স্টেট পৃথক করা সম্ভব যদিও চূড়ান্তভাবে কঠিন। আর অবশেষে ব্লাকহোলকেও নেগেটিভ এনার্জিতে পরিণত করা যায় ঘটনা দিগন্তের কাছাকাছি। যেমনটি স্টিফেন হকিং ও জ্যাকোভ বেকেস্টাইন এবং  দেখিয়েছেন, ব্লাকহোল সম্পূর্ণ ব্লাক নয় কারণ এটি খুব ধীরে ধীরে এনার্জি এভাপোরেট করছে। এর কারণ হলো অনিশ্চয়তার নীতি এটাকে সম্ভবপর করে তুলেছে, যে জন্য ব্লাকহোলের বিপুল গ্রেভেটিকে উপেক্ষা করে টানেলিং এর মাধ্যমে রেডিয়েশন বেরিয়ে আসে। কিন্তু যেহেতু ব্লাকহোল বাষ্পীভূত হচ্ছে, ক্রমাগত ঘটনা দিগন্ত ছোট হচ্ছে।

সাধারণত যদি ব্লাকহোলে নক্ষত্রের মতো পজেটিভ ম্যাটার নিক্ষেপ করা হয় ঘটনা দিগন্ত প্রশস্ত হবে কিন্তু যদি নেগেটিভ ম্যাটার নিক্ষেপ করা হয় ঘটনা দিগন্ত সংকোচিত হবে। ব্লাকহোলের বাষ্পীভবন ঘটনা দিগন্তের কাছাকাছি নেগেটিভ এনার্জি তৈরি করছে। (অনেকে বলে থাকেন ওয়ার্মহোলের মুখ ঘটনা দিগন্তের ভেতর ঢুকিয়ে দিতে যাতে করে নেগেটিভ এনার্জি সংগ্রহ করা যায়। যাইহোক নেগেটিভ এনার্জি সংগ্রহ করা খুবই কঠিন ব্যাপার, যেহেতু আপনি চরম চূড়ান্তভাবে ঘটনা দিগন্তের কাছাকাছি থাকবেন।)

হকিং দেখান যে, ওয়ার্মহোল সলিউশনকে স্থির করার জন্য নেগেটিভ এনার্জি দরকার। এ যুক্তি খুবই সরল। সাধারণত, পজেটিভ এনার্জি একটি উন্মোক্ত ওয়ার্মহোল তৈরি করতে পারে যেটি ম্যাটার ও এনার্জ ঘনীভূত করে রাখতে পারে। এভাবে, আলোক রশ্নি একত্রিত হয় যখন তারা ব্লাকহোলের মুখে প্রবেশ করে। যাহোক, যদি এ আলোক রশ্নি অন্য দিক থেকে নির্গত হয় তবে কোনো না কোন ভাবে গ্যালাক্সির কেন্দ্রে আলোকরশ্মির অবশ্যই লক্ষ্যচ্যুত হওয়ার কথা ছিল। এটি একমাত্র সম্ভব যদি নেগেটিভ এনার্জি উপস্থিত থাকে। এছাড়া নেগেটিভ এনার্জি রিপুলসিভ যেটি ব্লাকহোলকে গ্রেভেটির প্রতাপে পতন হতে দেয় না। অতএব টাইম মেশিন অথবা ওয়ার্মহোল তৈরির জন্য পর্যাপ্ত নেগেটিভ এনার্জি প্রয়োজন, এর মুখ খোলা ও স্থির রাখার জন্য!

( কিছু সংখ্যক পদার্থবিজ্ঞানী দেখিয়েছেন যে, বিশাল গ্রেভিটেশনাল ফিল্ডের উপস্থিতিতে, নেগেটিভ এনার্জি ফিল্ডও অত্যন্ত সাধারণ, হয়তোবা কোন একদিন সময় ভ্রমণে গ্রেভিটেশনাল নেগেটিভ এনার্জি ব্যবহার করা হবে)

সময় ভ্রমণের আর একটি সমস্যা হলো – আমরা ওয়ার্মহোল কোথায় পাবো? থ্রোন জবাব দেন ওয়ার্মহোল প্রাকৃতিকভাবেই ঘটে, যেটাকে স্পেস-টাইম ফোম বলে। এ থেকে একটি প্রশ্নের জন্ম হয় , যেটি গ্রীক দার্শনিক জেনোও দুই হাজার বছর পূর্বে করেছিলেন; একজন ব্যক্তির ভ্রমণের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম ডিস্টেন্স কত? জেনো গাণিতিকভাবে প্রমাণ করেন যে, একটি নদী অতিক্রম করা অসম্ভব। তিনি সর্বপ্রথম পর্যবেক্ষণ করেন যে নদীর দূরত্বকে অসীম বিন্দুতে ভাগ করা যায়। অতএব অসীম বিন্দু পাড়ি দেয়ার জন্য অসীম সময় প্রয়োজন যেটি অসম্ভব । অথবা, এ জন্য, কোনকিছুর পক্ষে আসলে মুভ করাই অসম্ভব।( এটি সমাধান করাতে ২০০০ বছর সময় লেগেছিল এবং ক্যালকুলাস আসে তারপর এ বিভ্রম থেকে বের হওয়া সম্ভব হয়। এটি দেখেয়েছে যে, অসীম বিন্দুকে সসীম সময়ে অতিক্রম করা যায়, গতিকে গাণিতিকভাবে সম্ভবপর করে তুলে)

প্রিন্সটনের ইউনিভার্সিটির জন হুইলার এ ক্ষুদ্র দূরত্ব জানার জন্য আইনস্টাইনের ইকুয়েশন বিশ্লেষণ করেছিলেন। হুইলার দেখতে পান যে, এটি অবিশ্বাসযোগ্যভাবে খুবই ক্ষুদ্র দূরত্ব, প্লাঙ্ক ল্যাংথের (১০-৩৩ cm) জন্য, আইনস্টাইনের থিওরি প্রেডিক্ট করেছেন যে, এখানে স্থানকালের বক্রতা অনেক বেশি। অন্য কথায় প্লাঙ্ক ল্যাংথে স্পেস মোটেও স্মুথ নয়, স্পেস পিন্ড এবং ফেনার মতো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বাবল নিয়ে গঠিত  যারা শূন্য থেকে সবেগে বেরিয়ে আসছে। এমনকি শূন্যস্থান, সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম দূরত্ব, প্রতিনিয়ত ছোট ছোট বাবল দ্বারা উত্তপ্ত হচ্ছে, যা আসলে ক্ষুদ্র ওয়ার্মহোল এবং শিশু মহাবিশ্ব।

সাধারণত ভার্চুয়াল পার্টিকেল ইলেক্ট্রন ও এন্টি ইলেক্ট্রনের জোড়া ধারণ করে যারা ক্ষণস্থায়ী ভাবে অস্তিত্বে আসে একে অপরকে ধবংস করে দেয়ার পূর্বে। কিন্তু প্লাঙ্ক স্কেলে একটি ক্ষুদ্র বাবল সম্পূর্ণ মহাবিশ্বকে নির্দেশ করে, ওয়ার্মহোল সম্ভবত অস্তিত্বে আসে শুধুমাত্র শূন্যতায় আবার মিশে যাওয়ার জন্য। আমাদের মহাবিশ্ব ঐ সকল ক্ষুদ্র বাবল থেকেই এসেছে, যেগুলো আকস্মিক ইনফ্লেট হয়ে যায়।

যেহেতু ফোমের ভেতর ওয়ার্মহোল প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া যায়, থ্রোন মনে করতেন কোন উন্নত সভ্যতা কোনো ভাবে সেখান থেকে একটি ওয়ার্মহোল বের করতেন এবং নেগেটিভ এনার্জি দ্বারা সেটাকে সম্প্রসারিত করতেন। যদিও এটি খুবই কঠিন প্রসেস। পদার্থবিজ্ঞানের জগতে। যাই হোক, থ্রোনের টাইম মেশিন তাত্বিকভাবে সম্ভব। এখানে রয়েছে একটি তৃতীয় বিরক্তিকর  প্রশ্ন- টাইম ট্রাভেল কী ফিজিক্সের সূত্রকে লঙ্গন করে?

প্যারালাল ওয়ার্ল্ড, মিচিও কাকু

hsbd bg