জীব হলো এলগোরিদম
মূলপাতা কনসাসনেস জীব হলো এলগোরিদম

জীব হলো এলগোরিদম

লিখেছেন অ্যান্ড্রোস লিহন
396 বার পঠিত হয়েছে

একটি শিশু কেনো কান্না করে? এর দুটি উত্তর আছে। প্রথমত, একটি শিশু কান্নার মাধ্যমে তার পরিবেশের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চায়। আর দ্বিতীয় উত্তরটি হলো কান্নার মাধ্যমে শিশুটি তার অবচেতনেই টিকে থাকার সম্ভাবনা বাড়াতে চায়। আপনি বাঘের সম্মুখে পড়ার সাথেসাথে আতঙ্কিত হয়ে উঠেন কিন্তু একটি রোবট যদি কোনো মিসাইলের সম্মুখে পড়ে, সে ইকুয়েশন করে। আপনার আতঙ্কিত হয়ে উঠার পেছনে কোনো সচেতন পরিকল্পনা বা লজিক নেই আর রোবট লজিকের মাধ্যমে নির্ণয় করে এখানে তার জন্যে কোন কোন থ্রেট আছে! মনে করুন, আপনার হাতে একটি আপেল এবং সামনে বাঘ, আপনি চাইলে আপেল খেতে পারেন অথবা বাঘকে আপেলটি গিফট করতে পারেন, আপনার সামনে অসংখ্য বিকল্প রয়েছে। সে বিকল্পগুলির মধ্যে আপনি আপনার জন্যে উপযোগি বিকল্পটি নির্বাচন করতে পারেন। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো তখন আপনার ব্রেন কোন কিছু চিন্তা না করেই আতঙ্কিত হয়ে উঠে ও পালায়। কিন্তু সে কিভাবে জানে তার এ মুহূর্তে পালানো উচিত আপেল খাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পরিত্যাগ করে? কোন গণিত ছাড়াই আপনার সাব-কনশাস মাইন্ড কিভাবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে এবং মুহূর্তেই! রোবট মিসাইলের সম্মুখে প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে জটিল ইকুয়েশনের ভেতর দিয়ে, সে  বিভিন্ন ম্যাথ করে কিন্তু আপনি সচেতনভাবে কোনো ইকুয়েশন বা ম্যাথ করেন না আপনি কোনো এক রহস্যজনক উপায়ে অবচেতন স্তরেই বুঝে যান এখানে আপনার জন্যে এক প্রকার থ্রেট আছে। এর কারণ রোবট মিলিয়ন মিলিয়ন বছর ধরে বিবর্তিত হয়নি, রোবটের কোনো পূর্বসুরি কোটি কোটি বছর অতীতে মিসাইলের আঘাতে ক্ষত বিক্ষত হয়নি, প্রাকৃতিক নির্বাচন তার জেনেটিক স্তরে সংকেত হিসেবে মিসাইলের কোনো মেমোরি কোডিং করেনি, রোবটের মধ্যে কোনো অবচেতন মন নেই! কিন্ত আমরা বিবর্তিত হয়েছি, আমাদের পূর্বপুরুষরা লাখ লাখ বছর ধরে বনেজঙ্গলে ঘুরে বেড়িয়েছে, তারা ভয়ানক জন্তুর শিকার হয়েছে, আর তাই জেনেটিক স্তরে সে স্মৃতি এখনো সংকেত আকারে রয়ে গেছে, আমাদের অবচেতন মনে। এ জন্যেই রোবট মিসাইলকে সচেতনভাবে ভয় পায় আর আমরা বাঘকে ভয় পাই কোনোপ্রকার সচেতন পরিকল্পতা করার পূর্বেই বা আমাদের মস্তিষ্কে কনশাসনেস ইনপুট করার পূর্বেই আমরা জানি যে আমাদের সম্মুখে কোনো একটি বিপদ অপেক্ষা করছে! আমরা অতীতের সব স্মৃতি মনে রাখতে পারিনা, কারণ আমাদের জিন জানে একসাথে অজস্র স্মৃতি মনে রাখতে গেলে আমাদের মস্তিষ্কের জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়া ওভারলোড হবে, আমরা কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারবো না, ভয়ানক জন্তুর সামনে পড়লেও আমরা প্রেমিকার স্মৃতি স্মরণ করে কবিতা আবৃত্তি করবো যা আমাদের টিকে থাকার সম্ভাবনাই নষ্ট করে দেবে! ভাষার ক্ষেত্রেও আমরা ঠিক একই সুত্র প্রয়োগ করতে পারি! একটি শিশু অত্যন্ত দ্রুততার সাথে কোটি কোটি শব্দ আর জটিল গ্রামাটিক্যাল রুলসের সমন্বয়ে গঠিত একটি ভাষা অনায়াসে শিখে পেলে! কিন্তু বড় হওয়ার পর সামান্য ইংরেজি বা ফ্রান্স ভাষা শিখতেই আমাদের সারাজীবন কেটে যায়! কিন্তু কেনো? শিশুদের মধ্যে কী এমন বিষ্ময়কর ক্ষমতা আছে যা প্রাপ্ত বয়স্কদের নেই? মূলত, ঠিক যে জন্যে আমরা বাঘ দেখার পর কোনো যুক্তিতর্ক ও গাণিতিক জটিলতা ব্যতীতই আতঙ্কিত হয়ে উঠি ঠিক একই কারণে একজন শিশু জন্মের পর কোনোপ্রকার যুক্তি বা গাণিতিক জটিলতার সম্মুখ্যীন না হয়েই অবচেতন ভাবে বিপুল পরিমাণ শব্দ ও নিয়মে পরিপূর্ণ একটি ভাষা শিখে ফেলে, তার মস্তিষ্কের সচেতনতা উদয়ের পূর্বেই তার মধ্যে ভাষা শিক্ষা সংঘঠিত হয় কারণ জিন শিশুদের মস্তিষ্ককে এমনভাবে তৈরি করেছে। আদিম পূর্বসূরিরা জন্মের পর পরিবেশের তথ্য একে অপরকে আদান প্রদান করতে গিয়ে হাজার হাজার বছর ধরে যে প্রতিবন্ধকতা অনুভব করেছিলো তারই একটি অভিযোজন হিসেবে শিশুদের মস্তিষ্ক পরিবেশকে বুঝার ক্ষেত্রে অনেক বেশি দক্ষ থেকে দক্ষতর হয়ে উঠলো আর তাই তার ইচ্ছার অতীতেই তার মধ্যে তার ভেতরের জেনেটিক্যাল চাপ তাকে ভাষা শিখতে বাধ্য করে।আমাদের মস্তিষ্কে দুটো প্রসেস কাজ করে। একটি রিফ্লেক্সিভ আর অন্যটি রিপ্লেকটিভ। আমাদের মস্তিষ্ক যে সকল ক্ষেত্রে কনশাসনেস ইনপুট হওয়ার পূর্বেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে , যে সব ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্যে আমাদের সচেতন মনের কোনো ভূমিকা নেই বা আমরা বুঝতেই পারিনা যে আকষ্মিক কোথায় থেকে কী হয়ে যাচ্ছে আমরা শুধু ফলাফলটা অনুভব করি, এটাকেই বলে  রিপ্লেক্টিভ প্রসেস, এটি সম্পূর্ণ স্বতস্ফূর্ত। এ জন্যে আমাদের মস্তিষ্কের আতঙ্ক ও ক্রোধের মতো বিষয়গুলোতে সচেতন কোনো লজিক নেই, লজিক্যালি চিন্তা করার পূর্বেই আমরা আবেগগ্রস্ত হয়ে উঠি।


আমাদের মনের এ স্তরে কোনো যুক্তি বা গণিত নেই( সচেতন যুক্ত ও গণিত) , আমরা আলজেবরার মতো গণিতগুলো সমাধান করি আমাদের মস্তিষ্কের রিফ্লেক্সিভ স্তরে, সচেতন মন অনেকগুলি সম্ভাব্য বিকল্প নিয়ে আলাদা আলাদা করে ভাবতে পারে, আর ভাবতে পারে বলেই অনেকগুলো অলটারনেটিভের ভিত্তিতে সে অপেক্ষাকৃত কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে , যদি আমাদের সচেতন মন আমাদের আতঙ্ক ও ক্রোধের মতো রিপ্লেক্টিভ প্রসেস মেনে চলতো তবে পৃথিবীতে বিজ্ঞান,প্রযুক্তি, লজিক,গণিত কোনোকিছুই বিকশিত হতো না, উড়তোনা রকেট ও কৃত্রিম উপগ্রহ।

 

 

কিন্তু প্রশ্ন হলো প্রাণীদের কী কোনো আবেগ নেই? একটি শুকরের কী আবেগ আছে? আমরা যখন প্রাণীদের উপর অমানবিক আচরণ করি তখন কি আমাদের পাপবোধ করা উচিত নয়? আমাদের কী প্রাণীদেরকে অমানবিক সত্তা হিসেবে চিন্তা করা উচিত ঠিক যেমনি শিশুরা বিশ্বাস করে একটি পুতুল রাগ ও অভিমানবোধ করে? একটি শুকরের প্রতি আবেগ আরোপ করার অর্থ সে শুকরকে হিউম্যানাইজ করা নয়, এটি হলো তাদেরকে মামেলাইজ করা। আবেগ অনন্যভাবে মানবিক কোনো বৈশিষ্ট্য নয়, আবেগ সকল প্রাণীর মাঝেই সাধারণ (এমনকি পাখি, সরিসৃপ ও মাছদের মাঝেও)। সকল প্রাণী আবেগীয় ক্ষমতা ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিবর্তিত হয়েছে। আমরা একদম নিরাপত্তার সাথেই বলতে পারি শুকরদেরও আবেগ আছে!

সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় দেখা গেছে আবেগ কোনো রহস্যজনক আধ্যাত্মিক উপাদান নয় যা শুধুমাত্র কবিতা ও সিম্পোনি তৈরি করার জন্যে গুরুত্বপূর্ণ। বরং, আবেগ হলো জৈব রাসায়নিক এলগোরিদম যা সকল মামেলদের টিকে থাকা ও বংশবিস্তারের জন্যে জরুরি। এর মানে কী? এ জন্যে প্রথমত আমাকে এলগোরিদম সম্পর্কে ব্যখ্যা করতে হবে। এটি এ জন্যে গুরুত্বপূর্ণ নয় যে এর মাধ্যমে আমরা শুধুমাত্র আবেগকে ব্যাখ্যা করতে পারবো এর কারণ হলো একুশ শতক সম্পূর্ণ ভাবে এলগোরিদম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, এলগোরিদম স্বতন্ত্রভাবে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কনসেপ্ট। আমরা যদি জীবন ও ভবিষ্যতকে বুঝতে চাই তবে আমাদের অবশ্যই প্রতি নিয়ত এলগোরিদমকে বোঝার চেষ্টা করা উচিত এবং এটাও জানা উচিত কিভাবে এলগোরিদম আমাদের আবেগের সাথে সম্পৃক্ত! এলগোরিদম হলো পদ্ধতিগত প্রদক্ষেপের একটি সেট যা আমরা গণনার জন্যে ব্যবহার করি, যার মাধ্যমে আমরা সমস্যা সমাধান করি এবং সিদ্ধান্তে উপনিত হই। এলগোরিদম বিশেষ কোন গণনা নয়, এটি হলো এমন একটি পদ্ধতি যা গণনা করার সময় অনুসরণ করা হয়! উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি দুটি সংখ্যার ভেতর গড় নির্ণয় করতে চান তবে আপনাকে খুব সরল একটা এলগোরিদম ব্যবহার করতে হবে। প্রথমত, দুটি নাম্বারকে যোগ করা। দ্বিতীয়ত প্রদক্ষেপ, তাদের যোগফলকে দুই দ্বারা ভাগ করা। আপনি যখন ৪ এবং ৮ প্রবেশ করাবেন তখন আপনি ৬ পাবেন। আপনি যখন ১১৭ এবং ২৩১ এন্টার করবেন তখন আপনি ২৩৪ পাবেন। আর একটি জটিল উদাহরণ দেয়া যেতে পারে, একটি এলগোরিদম যা দিয়ে আপনি ভেজিটেবল স্যুপ প্রস্তুত করতে পারেন।

১. আধাকাপ তেল একটি পাত্রে গরম করুন।

২. অবশেষে চারটি পেঁয়াজ কাটুন।

৩. পেয়াজগুলিকে স্বর্ণালি হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত গরম করুন।

৪. তিনটি আলুকে খন্ড খন্ড করে কাটুন এবং পাত্রে যোগ করুন।

৫. একটি বাঁধাকপিকে স্ট্রাইপের মধ্যে কাটুন ও পাত্রে যোগ করুন।

 

আপনি এ একই এলগোরিদম আরো শত শত ক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে পারবেন আর এ জন্যে আপনি কিছুটা ভিন্ন রকমের স্যুপ পাবেন। কিন্তু এলগোরিদম একই রকম থেকে যাবে। ফিজিক্সের সুত্র মহাবিশ্বের সকল বস্তুর উপর কাজ করে কিন্তু বস্তুর আকার,আকৃতির ভিন্নতা যেমনিভাবে তাদের উপর প্রযোজ্য ফিজিক্সের সাধারণ সুত্রকে পরিবর্তন করেনা ঠিক তেমনি যে সকল সংখ্যা বা উপাদানের উপর এলগোরিদমের সার্বজনীন নীতি প্রযুক্ত হয়েছে সে সকল সংখ্যা বা উপাদানের পক্ষে এলগোরিদমের সাধারণ নিয়ম থেকে বের হওয়া সম্ভব না! গণিতের পদ্ধতি কখনো তার সংখ্যার পরিবর্তনের প্রভাবে পরিবর্তন হয়না! আমরা ১+১=২ পাবো আবার ২+২=৪ পাবো, আমরা বাইনারীতে ১+১=১০ পাবো এবং বাইনারীতে যেটাকে আমরা ১০ বলি সেটাকেই হেক্সাডেসিমালে A বলবো! কিন্ত কোনো ক্ষেত্রেই পদ্ধতি পরিবর্তন হবে না! বাইনারিতে 1 এবং 1 কখনো নিজে নিজে ১০ হয়ে যায় না ঠিক যেমনি রেসিপি নিজে নিজে কখনো স্যুপ হয়ে যায় না! আপনার একজন ব্যক্তি প্রয়োজন যে রেসিপি পড়বে এবং উপদেশমূলক প্রদক্ষেপগুলি অনুসরণ করবে। কিন্তু আপনি একটি মেশিন তৈরি করতে পারেন যা এলগোরিদম সংঘটিত করতে পারে এবং এটিকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অনুসরণ করতে পারে। এরপর আপনি মেশিনকে পানি, বিদ্যুৎ ও সবজি দেবেন আর এটি আপনাকে স্যুপ তৈরি করে দেবে। আমাদের চারপাশে তেমন স্যুপ মেশিন নেই কিন্তু আপনি নিশ্চয় বেভারেজ ভেন্ডিং মেশিনের সাথে পরিচিত। এ ধরণের মেশিনের একটি ছিদ্র থাকে কয়েন রাখার জন্যে, একটি কাফ উন্মোক্ত করার জন্যে এবং কতগুলি বাটনের সারি। প্রথম সারিতে কফি, চা ও কোকাকোলার জন্যে বাটন থাকে। দ্বিতীয় সারিতে থাকে চিনিমুক্ত, এক চা চামুচ চিনি, দু-চা চামুচ চিনি। তৃতীয় সারি নির্দেশ করছে মিল্ক, সয়ামিল্ক এবং নো-মিল্ক। এ মেশিনটি কার্যসম্পাদন করে একটি নির্দিষ্ট প্রদক্ষেপ অনুসরণের মধ্য দিয়ে! একজন ব্যক্তি মেশিনটিকে অনুসরণ করে, কয়েন ইনসার্ট করে এবং চিনি ও দুধের সাথে জড়িত বাটনগুলিতে প্রেস করে এক কাপ চা পাওয়ার জন্যে।মেশিনটি একের পর এক প্রদক্ষেপ অনুসরণ করে, এটি টি-ব্যাগ কাপের মধ্যে ছেড়ে দেয়, উত্তপ্ত পানি ঢেলে দেয়, চামুচ ভর্তি চিনি ও দুধ মেশায়। এক কাপ সুন্দর চা অথবা কফি বেরিয়ে আসে। আর এটাকেই বলে এলগোরিদম।


কিন্ত বিগত কয়েক দশক ধরে জীববিজ্ঞানীরা একটি প্রধান সিদ্ধান্তে উপনিত হয়েছে যে বাটনে প্রেস করা অথবা কফি পান করাও আসলে এলগোরিদম। ভেন্ডিং মেশিন থেকে আরো অধিক জটিল একটি এলগোরিদম। মানুষ এলগোরিদম যেটি কোনো চা বা কফি প্রস্তুত করেনা তবে মানুষ তার নিজের কপি তৈরি করে! ( এটি হলো সেই ভেন্ডিং মেশিনের মতো, যদি আপনি তার সঠিক বাটনের সমন্বয়ে ক্লিক করেন তবে সেখান থেকে আর একটি ভেন্ডিং মেশিন তৈরি হবে)। এলগোরিদম নিয়ন্ত্রিত ভেন্ডিং মেশিন কাজ করে মেকানিক্যাল গিয়ার এবং ইলেক্ট্রিক সার্কিটের মাধ্যমে। যে এলগোরিদম মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করে সেটি কাজ করে সেনশন, ইমোশন ও চিন্তার মাধ্যমে।। এবং পুরোপুরি একই এলগোরিদম নিয়ন্ত্রণ করে শুকর, বেবুন, ওটারস ও মোরগের ক্ষেত্রে।উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, একটি বেবুন দেখলো গাছে কলা ঝুলছে এবং সে একটুপর দেখলো সেখানে একটি সিংহ দাঁড়িয়ে আছে, বেবুনের এ মুহূর্তে কী করা উচিত? কলা খাওয়া..? এটি একপ্রকার গাণিতিক সমস্যা তৈরি করে সম্ভাবনাগুলো গণনা করার ক্ষেত্রে। একটি সম্ভাবনা আছে বেবুনটি না খেতে পেরে মৃত্যুবরণ করবে আবার বিপরীতক্রমে এমনও সম্ভাবনা আছে কলা খেতে গিয়ে সে নিজেই বাঘের খাবারে পরিণত হবে। বেবুনের জন্যে দুদিকেই মৃত্যু অপেক্ষা করছে, কোনোদিকেই তার জীবনের সম্ভাবনা নেই, আর এমন একটি গাণিতিক জটিলতার সমাধান করার জন্যে বেবুনকে বিপুল পরিমাণ ইনফরমেশন গণনার ভেতর নিতে হয়। কলাটি আমার থেকে কত দূরে? আমি সিংহ থেকে কত দূরে? আমি ঠিক কতটা দ্রুততার সাথে রেসিং করতে পারি? সিংহটি ঠিক কতটা দ্রুত গতিতে রেসিং করতে পারে? সিংহটি কি ক্ষুদার্থ? সেখানে ঠিক কতগুলো কলা আছে? সেগুলি কী ছোট নাকি বড়? হলুদ নাকি সবুজ? বেবুনটি তার নিজের শরীরের ভেতরের অবস্থা সম্পর্কেও ভাবতে পারে। সে যদি ক্ষুদার্থ হয় তবে সে কলার জন্যে যেকোনো রিস্ক নিতে পারবে কিন্তু সে যদি এ মাত্রই খেয়ে থাকে তবে কেনো সে অনর্থক এ ঝামেলার মধ্যে যাবে? এ সকল চলক ও সম্ভাবনাগুলোর মধ্যে যোগসুত্রতা ও ভারসাম্য রক্ষার জন্যে অটোম্যাটিক ভেন্ডিং মেশিন থেকেও একটি বেবুনের আরো অনেক বেশি জটিল এলগোরিদম প্রয়োজন হয় । একটি আতঙ্কগ্রস্ত বেবুন যার এলগোরিদম বিপদে অতিমাত্রায় প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে সে ক্ষুদার্থ অবস্থায় মারা যাবে এবং যে কাপুরুষ জিন যা তার এলগোরিদম তৈরি করেছে সেটি তার শরীরের সাথে সাথেই মৃত্যুবরণ করবে। আবার অনেক অস্থির বেবুন যে ভয়কে উপেক্ষা করে , সে সিংহের শিকারে পরিণত হবে এবং এ বেপরোয়া জিনও পরবর্তী প্রজন্মে নিজের অনুলিপি রেখে যেতে ব্যর্থ হবে। এ এলগোরিদম এক সময় কনস্ট্যান্ট কোয়ালিটি অর্জন করে যেটি প্রাকৃতিক নির্বাচন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত! যে সকল প্রাণী সম্ভাবনা গণনা করতে পারে শুধু তারাই সঠিকভাবে তাদের প্রজন্ম রেখে যেতে পারে। কিন্তু এ ব্যাপারটা সম্পূর্ণ এবস্ট্রাক্ট। প্রশ্ন হলো বেবুনটি ঠিক কিভাবে এ ক্যালকুলেশনগুলো করে! সে নিশ্চয় সচেতনভাবে তার কানের পেছনে লুকিয়ে থাকা কোনো পেন্সিল দিয়ে তার ব্যাক পকেটের কোনো নোটবুক খুলে লিখতে শুরু করেনা এবং কোনো গণনা যন্ত্রের মতো দ্রুততার সাথে গণনাও করে না! আসলে বেবুন সচেতনভাবে গণনা করেনা ঠিকই কিন্তু তার সম্পূর্ণ দেহটাই একটি ক্যালকুলেটর। আমরা সেনসেশন ও ইমোশন বলতে যা বুঝি সেটাই প্রকৃতপক্ষে এলগোরিদম।  বেবুন ক্ষুদাবোধ করে , সে আতঙ্কগ্রস্ত হয় , সে বাঘের ভয়ে কম্পিত হয় এবং কলা দেখলেই তার জিভে জল চলে আসে। সেকেন্ডের অতি-ক্ষুদ্র ভগ্নাংশের ভেতরেই সে সেনশেসনের একটি ঝড় অনুভব করে, আবেগ ও আকাঙ্ক্ষার যা আর কিছুই নয় এলগোরিদম ছাড়া। এর ফলাফল পাওয়া যায় অনুভূতিতে, বেবুন আকষ্মিক অনুভব করে তার স্প্রিট জাগ্রত হয়েছে , তার চুল দাঁড়িয়ে গেছে অবশেষে , তার মাসলে টেনশন কাজ করছে ,তার বুক ফুলে যাচ্ছে , সে বড় বড়  শ্বাস নিচ্ছে এবং সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে , হ্যা আমি এটা পেরেছি, আমি কলাগুলো পেয়েছি। অথবা সে আতঙ্কিত হতে পারে, তার পা কম্পন করা শুরু করতে পারে এবং তার ক্ষুদা উবে যেতে পারে এবং বাঁচাও বাঁচাও বলে সে সিংহের দৃষ্টিসীমা থেকে পালাতে পারে! বেবুন হয়তোবা কনফিউজড হতে পারে, হ্যা …না…হ্যা…না…হ্যা…না …দূর! আমি জানিনা যে আমি এখন কি করবো। জিন ট্রান্সমিট করার জন্যে বেবুনদের শুধুমাত্র সার্ভাইভাল প্রবলেম নিয়ে ভাবলেই হয়না , তাদেরকে রি-প্রোডাকশন প্রবলেম নিয়েও ভাবতে হয়, এবং এটি নির্ভর করে সম্ভাবনার গণনার উপর। প্রাকৃতিক নির্বাচন ভালোবাসা ও ঘৃণার একটি কুইক এলগোরিদম তৈরি করে দিয়েছে প্রজননের বৈষম্য মূল্যায়নের জন্যে। একজন নারী যখন একজন পুরুষকে দেখে তখন সে বলে, ওয়াও এটি গর্জিয়াস। যখন একটি ময়ুর ময়ুরীকে দেখে তখন বলে,  জেসাস! কী লম্বা লেজ! তারা ঠিক সে কাজটি করছে যা কোনো অটোমেটেড বেন্ডিং মেশিন করে। পুরুষের শরীর থেকে সূর্যের আলো নারীর রেটিনায় আঘাত করে এবং নারীর মস্তিষ্কের নিউরনে পুরুষটি ইলেক্ট্রিক্যাল পালস আকারে প্রবেশ করে আর মিলিয়ন মিলিয়ন বছরের বিবর্তনে গড়ে উঠা এলগোরিদম কয়েক মিলিসেকেন্ডেই জাগ্রত হয়ে যায়, এলগোরিদম পুরুষের এক্সটারনাল শরীরের অতি-ক্ষুদ্র কিছু চিহ্ন দেখে তার প্রজনন ক্ষমতা নির্ণয় করে ফেলে এবং সিদ্ধান্তে আসে, এটি স্বাস্থ্যকর ও উর্বর ছেলে, তার রয়েছে চমৎকার জিন, যদিও এ সিদ্ধান্তটি ওয়ার্ড অথবা সংখ্যায় উচ্চারণ করা হবেনা কিন্তু নৃশংস  যৌন উত্তেজনা অনুভব করবে। ময়ুরী সহ আরো অনেক নারী এ ধরণের গণনাকে কলম অথবা খাতায় অংকন করেনা। তারা শুধু ফিল করে!

এমনকি নোবেল বিজয়ী একজন পদার্থবিজ্ঞানীও তার সিদ্ধান্তের অতি-ক্ষুদ্র একটি ফ্র্যাকশন খাতা, কলম ও ক্যালকুলেটর ব্যবহারের মাধ্যমে নির্মান করে। আমাদের সিদ্ধান্তের ৯৯ ভাগ যার মধ্যে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পছন্দ, বন্ধুত্ব, কেরিয়ার ও অভ্যাস এগুলি তৈরি হয়েছিলো উচ্চমাত্রিকভাবে পরিশোধিত এলগোরিদম দ্বারা যেগুলিকে আমরা সংবেদন, আবেগ ও আকাঙ্ক্ষা বলি। কারণ এসব এলগোরিদম স্তন্যপায়ী ও পাখিদের নিয়ন্ত্রণ করে। সম্ভবত সরিসৃপ ও মাছদেরও । যখন মানুষ, বেবুন ও শুকর আতঙ্ক বোধ করে তাদের প্রত্যেকের মস্তিষ্কে একই নিউরোলজিক্যাল প্রসেস  সংঘঠিত হয় আর ঠিক একই এরিয়ায়। এর থেকে প্রতীয়মান হয়, মানুষের আতঙ্ক, বেবুনের আতঙ্ক আর শুকরের আতঙ্ক আসলে একই অভিজ্ঞতা যদিও মানুষ লাখ লাখ শুকরকে প্রতি বছর মারাত্মকভাবে শারীরীক ও মানসিক নির্যাতন ও হত্যা করে। তাদের মধ্যে অবশ্য পার্থক্যও আছে।  কোনো শুকর চুড়ান্তস্তরের সহানুভূতি ও উগ্রতা বোধ করেনা যা মানব হোমো সেপিয়েন্সকে ক্যারেক্টারাইজড করে। এমনও হতে পারে এর বিপরীত উদাহরণও আছে। সুইনিশ ইমোশন মানুষের কাছে অপরিচিত , এর আর কোনো ভালো নাম এ মুহূর্তে দেয়া যাচ্ছেনা। যা হোক একটি মূল আবেগ সকল স্তন্যপায়ীদের মধ্যে প্রচলিত আর সেটি হলো মা ও সন্তানের বন্ধন । মামেল মায়েরা সন্তানদের এতটাই ভালোবাসে যে তাদেরকে নিজেদের স্তন খেতে দেয়। মামেল শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ মামা থেকে যার অর্থ ব্রেস্ট।

আবার মামেল সন্তানদের দূর্দমনীয় ইচ্ছা কাজ করে তাদের মায়ের পাশাপাশি অবস্থান করতে! বন্য পিগলেল এবং কুকুরছানা যারা মায়ের সাথে ভালো সম্পর্ক তৈরি করতে পারেনা তাদের পক্ষে সার্ভাইভ করাটা কঠিন ও তারা বিলুপ্ত হয়ে যায়। এটি একইভাবে অতি-সম্প্রতি ব্যতীত মানব শিশুদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য ছিলো। বিপরীতভাবে গাভী এবং কুকুরীদের মধ্যে একটি দূর্লভ জেনেটিক্যাল মিউটেশনের ফলে নিজের সন্তানদের প্রতি যত্ন না নেয়ার একটি প্রবণতা আছে। এরা দীর্ঘকাল আরামদায়কভাবে বেঁচে থাকে ঠিকই কিন্তু তাদের জিন পরবর্তী প্রজন্মে হস্তান্তরিত হয় না। একই লজিক জিরাফ, তিমি ও পারকুপিনদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য । আমরা অন্যান্যদের ইমোশনের কথাও দাবি করতে পারি। কিন্তু মামেলদের তরুণ সন্তানরা তাদের ম্যাটারনাল কেয়ার ছাড়া টিকতে পারেনা , এর প্রমাণ হলো মায়ের ভালোবাসা এবং মা ও সন্তানের ভেতরের দৃঢ় বন্ধন যা সকল মামেলের মধ্যেই কমন। এ অতি সাধারণ ব্যাপারটিতে বিজ্ঞানীদের একমত হতে বহু বছর সময় লেগেছিলো। এইতো অল্পকিছু বছর পূর্বেও মনোবিজ্ঞানীরা মা ও সন্তানের সাথে ইমোশনাল বন্ধনের গুরুত্বের ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলো, এমনকি মানব শিশুদের ক্ষেত্রেও! বিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ফ্রয়েডিয়ান থিওরির প্রভাব থাকা সত্ত্বেও নেতৃত্বশীল আচরণবাদীরা দাবি করেন যে বাবা মায়ের সাথে সন্তান্মের সম্পর্ক গঠিত হয় ম্যাটারনাল ফিডব্যাক দ্বারা; শিশুদের প্রধানত প্রয়োজন খাদ্য, বাসস্থান ও মেডিকেল কেয়ার; মায়ের সাথে তাদের সম্পর্ক সাধারণত মাতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা মাত্র! যে সকল শিশু উষ্মতা, মায়ের বুকে আশ্রয় অথবা চুমু পেতে চায়  তাদেরকে মনে করা হতো নষ্ট বা ক্ষতিগ্রস্ত। চাইল্ডকেয়ার এক্সপার্টরা বলতো, যে সব শিশুদের বুকে নেয়া হয় অথবা চুমু খাওয়া হয় তারা অনেক অভাবী, ইগোটিস্টিক্যাল এবং অনিরাপদ হয় পরিণত বয়সে। জন ওয়াটসন , যিনি একজন নেতৃত্বশীল চাইল্ডকেয়ার অথোরিটি তিনি ১৯২০ সালে উপদেশ দেন, শিশুদের বুকে নেবেনা, তাদের চুমু খাবেনা এমনকি তাদেরকে তোমার ল্যাপে বসতেও দেবে না! যদি আপনি রাতে ঘুমানোর পূর্বে গুডনাইট বলার সময় তার কপালে চুমু দেন তবে সকালে তার সাথে হ্যান্ডসেক করুন। জনপ্রিয় ম্যাগাজিন ইনফ্যান্ট কেয়ারে একবার ব্যাখ্যা করা হয়েছিলো শিশুদের লালন পালনের গোপন পদ্ধতি এবং শিশুদের ম্যাটারিয়াল চাহিদাগুলো নির্ধারণ করা হয়েছে কঠিন দৈনিক রুটিন অনুযায়ী। ১৯২৯ সালের একটি আর্টিকেলে উপদেশ দেয়া হয়েছে যদি একজন শিশু খাবারের সময় উপস্থিত হওয়ার পূর্বেই খাওয়ার জন্যে কান্না করে তাকে শান্ত করার প্রয়োজন নেই অথবা আঘাত করারও প্রয়োজন নেই এবং খাবারের সঠিক সময় উপস্থিত হওয়ার পূর্বে তার যত্ম করারও প্রয়োজন নেই। এটি ছিলো শিশুদের আঘাত না করার পদ্ধতি, একেবারে ছোট শিশুর ক্ষেত্রেও! শুধুমাত্র ১৯৫০ থেকে ১৯৬০ খ্রিষ্ঠাব্দে বিশেষজ্ঞরা এ কঠিন আচরণবাদী থিওরিকে অমান্য করতে শুরু করলো। একটি বিখ্যাত এক্সপেরিমেন্টের সিরিজে দেখা গেছে, সাইকোলজিস্ট হেরি হার্লো  একটি বানরকে তার মায়ের কাছ থেকে পৃথক করেছিলেন, বানরটির জন্মের পরপরই, এবং তাকে একটি ছোট্ট খাঁচায় আইসোলেটেড করে রাখা হয়েছে। যখন তার সামনে একটি মেটালের নকল মাকে রাখা হয় যার হাতে একটি  দুধের বোতল আছে আর অন্যদিকে এবং সফট কাপড়ে আবৃত একটি নকলকে দুধ ছাড়া রাখা হয় তখন বানর ছানাটি সে সফট কাপড়ে আবৃত মায়ের মতো দেখতে নকল শরীরটির জামা নখ দিয়ে ধরে রেখেছিলো যদিও মেটালের তৈরি নকলের হাত থেকে সে দুধ পান করছিলো। বানরটি এমনকিছু জানতো যা ইনফ্যান্ট কেয়ারের এক্সপার্ট জন ওয়াটসন অনুভব করতে পারেনি। মামেলরা শুধু খাদ্যের জন্যে নয় , তাদের ইমোশনাল বন্ধনেরও  প্রয়োজন আছে। মিলিয়ন বছর ধরে বিবর্তন বানরদের পূর্বপ্রোগ্রাম করেছে ইমোশনাল বন্ডিং এর দূর্দমনীয় আকাঙ্খা দিয়ে।

বিবর্তন তাদের মস্তিষ্কে এমন একটি পূর্বধারণাও তৈরি করে দিয়েছে যে ইমোশন নরম কাপড় সদৃশ কোনোকিছুর মতো , এটি শক্ত কোনো ম্যাটালিক অবজেক্টের মতো নয়! ঠিক একই কারণে মানব শিশুরা পুতুল, কম্বল এবং দূর্গন্ধযুক্ত নেকড়ার প্রতি বেশি আকৃষ্ট , টেবিলে পড়ে থাকা কোনো ধারালো কাটার, পাথর অথবা কাঠের ব্লকের পরিবর্তে! কারণ নরম ও কৌমল জিনিসের ভেতর মমতা আছে এমন একটি প্রাক ধারণা বিবর্তন তাদের মস্তিষ্কে মিলিয়ন মিলিয়ন বছর ধরে প্রোগ্রাম করেছে!

 

 

 

ইমোশনাল বন্ধন এতটাই জরুরী যে হার্লোর বানররা মেটাল ডামির যত্মকে উপেক্ষা করলো তাদের আকর্ষণ ছিলো শুধু সে অবজেক্টের প্রতি যা তাদের প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম। কিন্তু দুর্ভাগ্যের ব্যাপার হলো কাপড় পরিহিত মা তাদের তাদের ভালোবাসার প্রতুত্তর দিতে পারতোনা এবং এ ক্ষুদ্র বানরগুলো সমসাময়িকভাবে জটিল মানসিক সমস্যায় ভুগেছিলো, এমনকি তারা বেড়ে উঠেছিলো নিউরোটিক বা বাতিকগ্রস্ত ও অসম্পূর্ণ এডাল্ট হিসেবে। আমরা যদি পেছনের দিকে তাকাই তবে আমরা বুঝতে পারি এমনকি বিশ শতকেও শিশু লালন পালনের পদ্ধতি ছিল ত্রুটিপূর্ণ । ভাবতে অবাক লাগে তারা  কেনো শিশুদের আবেগ বুঝতে পারেনি , আর কিভাবেই তারা বলতে পারলো শিশুদের দৈহিক ও  মানসিক স্বাস্থ্য শুধুমাত্র খাদ্য, আশ্রয় ও মেডিকেশনের উপর নির্ভর করে? কৃষকরা হাজার বছর ধরে শুকর, বাছুর আর বাচ্চাদের ম্যটারিয়াল প্রয়োজনীয়তা পূরণ করে এসেছে । মাংস ও দুধ উৎপন্ন ইন্ডাসট্রিজগুলো স্তন্যপায়ীদের মৌলিক আবেগের নিয়ম লঙ্গন করেছে। হার্লো হেনরি কয়েকশত বানরের উপর যে পরীক্ষাটি চালিয়েছিলেন , মিট এন্ড ডায়েরি ইন্ড্রাস্ট্রিগুলো প্রতিবছর বিলিয়ন বিলিয়ন প্রাণীর উপর একই কাজটিই করে!

 

 

 

তথ্যসুত্র-

 

আমাদের প্রাসঙ্গিক আর্টিকেলগুলো পড়ুন-

 

 

 

আরও পড়ুন

Leave A Comment...

হাইপারস্পেস
চিন্তা নয়, চিন্তার পদ্ধতি জানো...!