জিন ও মস্তিষ্কের সম্পর্ক
মূলপাতা বিজ্ঞানজেনেটিক্স জিন ও মস্তিষ্কের সম্পর্ক

জিন ও মস্তিষ্কের সম্পর্ক

লিখেছেন অ্যান্ড্রোস লিহন
469 বার পঠিত হয়েছে

মস্তিষ্ক কেনো জিনের নির্দেশনা ভেঙে ফেলতে পারে?   

(জিন ও মস্তিষ্কের সম্পর্ক)

Is our brain directly controlled by genes? Does genes control the brain consciously? Does genes know that the brain they are creating is conscious? The universe and physics are coming to consciousness?

এ প্রশ্নগুলোর  অত্যন্ত চমৎকার উত্তর দিয়েছিলেন রিচার্ড ডকিন্স তার The Selfish Gene গ্রন্থে।প্রাণীদের দেহ হলো জিনের সার্ভাইভাল মেশিন।জিন এ সার্ভাইভাইল মেশিনটাকে যতো দক্ষতার সাথে ব্যাবহার করতে পারবে এ সার্ভাইভাল মেশিন ততো দক্ষতার সাথে পরিবেশের বিভিন্ন প্রতিকূলতাকে অতিক্রম করে টিকে থাকবে এবং জিনের সংখ্যা বৃদ্ধি করবে। মস্তিষ্ক হলো এ সার্ভাইভাল মেশিনের এতটাই শক্তিশালী একটি অংশ যেটি জিন কে দক্ষতার সাথে বৈচিত্রময় পরিবেশে টিকে থাকতে সাহায্য করে।উদ্ভিদের কোনো নিউরন সেল নেই কিন্তু প্রাণীদের নিউরল সেল আছে, এক্সটারনাল জগতের সাথে আমাদের পেশি সংকোচনের সময়কে সমন্বিত করার জন্যে বিবর্তনের একটি ধাপে মধ্যবর্তী কোনো যন্ত্রের প্রয়োজনীতা দেখা দেয় যার ফলশ্রুতিতে মস্তিষ্কের উদ্ভব ঘটে যেটি চিন্তা করতে সক্ষম এবং সার্ভাইভাল মেশিনকে নিজের সচেতন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিচালনা করতে পারে এবং বিশেষ ক্ষেত্রে এটি তৈরি করতে সক্ষম কোনো শক্তিশালী কম্পিউটারের মতোই ভবিষ্যতের সিমুলেশন!

জিন ও মস্তিষ্কের সম্পর্ককে বুঝানোর জন্যে একটি থট এক্সপেরিমেন্ট

(জিন ও মস্তিষ্কের সম্পর্ক) 

আমরা জিন এবং মস্তিষ্কের সম্পর্ক বুঝানোর জন্যে এখানে বরং একটি থট এক্সপেরিমেন্ট ব্যাবহার করবো।সূর্যের আলো আপনার শরীর ত্যাগ করে আয়নায় আঘাত করে, আয়না থেকে আলো প্রতিফলিত হয়ে আবার আপনার চোখের রেটিনায় প্রবেশ করে, ইলেক্ট্রিক্যাল পালস আকারে আপনার মস্তিষ্কে প্রবিষ্ট এ আনপ্রসেসড ডেটাকে আপনার মস্তিষ্কের কর্টেক্স বিভিন্ন ধাপে রিফাইন করে আর তারপর আয়নায় আপনার উপস্থিতির প্রতিবিম্ব আপনার মস্তিষ্কে তৈরি হয়, আপনার শরীর এবং আয়নার মাঝখানের এ দূরত্ব অতিক্রম করতে আলোর প্রয়োজন হয় এক সেকেন্ডের এক বিলিয়ন ভাগের এক ভাগ সময়।অতএব আপনি আপনাকে সেকেন্ডের বিলিয়ন্থ ভাগ অতীতের ওয়েভ ফাংশনে পর্যবেক্ষণ করছেন, আপনি ও আপনার প্রতিফলনের মধ্যবর্তী একটি টাইম ল্যাগ বা সময়গত দূরত্ব কাজ করছে যার জন্যে আপনি যাকে দেখছেন সে এবং আপনি সম্পূর্ণ ভিন্ন সময়ের অভিযাত্রী!এখানে মূলত কাজ করছে টাইম ল্যাগ!টাইম ল্যাগের এ ব্যাপারটি আমাদের জিন ও আমাদের মস্তিষ্কের উপরও প্রয়োগ করা যায়!

জিন যদি আমাদের মস্তিষ্ককে প্রতি পিকোসেকেন্ডে সচেতনভাবে নিয়ন্ত্রণ করে তবে আমাদের নিজেদের করার জন্যে অবশিষ্ট কোনোকিছু থাকেনা, কোনো পটেনশিয়ালিটিই থাকেনা যেখান থেকে আমরা কোনোপ্রকার অনুমান করতে পারি, কোনোকিছু প্রেডিকশন করতে পারি অথবা পারি কোনোরকম Future Simulation তৈরি করতে!

কিন্তু আমরা জিনের সরাসরি নির্দেশনা ছাড়া ফিউচার সিমুল্যাশন তৈরি করতে পারিনা বলেই কী আমাদের এমন কোনো তত্ব প্রতিষ্ঠা করা উচিত যেটি মস্তিষ্কের সাথে জিনের সম্পর্ক ছিন্ন করবে? না তা নয়!রিচার্ড ডকিন্স এক্ষেত্রে দাবা খেলায় পারদর্শী একটি কম্পিউটার এবং তার পোগ্রামারের সম্পর্ক তুলনা করেছেন!একজন প্রোগ্রামার যখন কম্পিউটারকে দাবা খেলার জন্যে প্রোগ্রাম করেন তখন তিনি কী কম্পিউটারকে দাবার সম্ভাব্য সকল চাল সম্পর্কে পূর্ব থেকেই প্রোগ্রাম করতে পারেন?

সারা গ্যালাক্সিতে যতসংখ্যক পরমাণু আছে একটি দাবার বোর্ডে তার থেকেও বেশি রয়েছে চালের সংখ্যা, একজন প্রোগ্রামার তো দূরের কথা, কোনো গ্রেন্ড মাস্টারের পক্ষেও পূর্ব থেকে এটা নির্দিষ্ট করে দেয়া সম্ভব নয় যে দাবার ভবিষ্যতের আসন্ন দান গুলি কেমন হতে পারে!অতএব কোনো প্রোগ্রামার কখনোই একটি কম্পিউটারে এমন কোন এলগোরিদম তৈরি করতে পারবেনা যেটি কম্পিউটারকে দাবা খেলার সম্ভাব্য মাল্টি ট্রিলিয়ন চাল সম্পর্কে পূর্ব থেকেই প্রোগ্রাম করে দেবে!এখন প্রশ্ন হলো কম্পিউটার তাহলে কিভাবে দাবা খেলে…?

একজন পিতা যখন তার সন্তানকে দাবা খেলা শেখায় তখন কী তিনি শিশুটির প্রতি মুহূর্তের প্রতিটি চাল কেমন হবে তার সবটা পূর্ব থেকে নির্দিষ্ট করে দেন?উত্তর হলো, না, তিনি শুধু দাবার বেসিক নিয়মটা শিশুটিকে শিখিয়ে দেন আর এরপর শিশুটির মস্তিষ্কের সাথে পিতার কোনো সম্পর্ক থাকেনা!ঠিক তেমনি একজন পোগ্রামার কম্পিউটারকে যেটা পোগ্রাম করেন সেটা হলো নিয়ম, গড়পড়তা কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম, এরবেশি কিছু নয়।আর এরপর কম্পিউটারের দাবা খেলার প্রকৃয়ার সাথে পোগ্রামারের আর কোনো প্রত্যক্ষ সম্পর্ক থাকেনা, থাকেনা সচেতন কোনো নিয়ন্ত্রণ প্রকৃয়ার সম্পর্ক!

অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন, তবুও তো দাবার প্রোগ্রাম কোনো এক প্রোগ্রামারে তৈরি, পোগ্রামার থেকে নিরপেক্ষ থেকে কোনো কম্পিউটারের পক্ষেই দাবা খেলা সম্ভন নয়!যারা সচেতন সত্তার হস্তক্ষেপ ব্যাতীত কম্পিউটারের এমন র‍্যান্ডমনেসকে অস্বীকার করেন তাদের জন্যে রিচার্ড ডকিন্স উপস্থাপন করেছিলেন ফ্রেড হয়েল ও জন এলিয়টের লেখা বিখ্যাত সায়েন্স ফিকশন A for Andromeda থেকে চমৎকার একটি ব্যাখ্যা!আমি আপনাদের বুঝার সুবিধার্থে এখানে সে ব্যাখ্যাটিকে অপেক্ষাকৃত সরলভাবে উপস্থাপন করছি!আমার এ অনেকটা নিজের মতো ব্যাখ্যার জন্যে ডকিন্স নিশ্চয়ই আমাকে তিরস্কার করবেন না!যাহোক, আমরা জানি যে এন্ড্রোমিডা গ্যালাক্সি থেকে পৃথিবীর দূরত্ব 2.5 Million আলোকবর্ষ কারণ সেখান থেকে পৃথিবীতে আলো প্রবেশ করতে 2.5 Million বছর সময় লাগে!

সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে আট মিনিট বিশ সেকেন্ড সময় প্রয়োজন হয়, আর তাই সেখান থেকে পৃথিবীত আসা প্রতিটি আলোক তরঙ্গ প্রায় আট মিনিট অতীতের!আমরা যদি এ মুহূর্তে হাবল টেলিস্কোপের ভেতর দিয়ে এন্ড্রোমিডা গ্যালাক্সির দিকে তাকাই তবে টেলিস্কোপ একটি স্বয়ংক্রিয় টাইম মেশিনের মতোই আমাদের মস্তিষ্কে 2.5 million  বছর অতীতের তথ্য প্রকাশ করবে!এখন আমি যদি এন্ড্রোমিডা গ্যালাক্সির কোনো এক অজানা সুন্দরীর সাথে প্রেম করতে চাই তাহলে আমার কী করা উচিত?আমি যদি তাকে এ মুহূর্তে মোর্স কোডের মাধ্যমে Hi লিখে পাঠাই তবে তার কাছ থেকে Hello শোনার জন্যে আমাকে 2.5 million বছর অপেক্ষা করতে হবে, এত বিরাট টাইম ল্যাগ নিয়ে হয়তোবা আমি I love You বলার আরো কয়েকশত মিলিয়ন পূর্বেই আমার মৃত্যু হবে!অতএব এটা মনের কথা প্রকাশ করার ভালো কোনো উপায় নয়! আমি যদি এন্ড্রোমিডার কোন এক নাগরিককে মেসেজ সেন্ড করতে চাই তবে আমাকে আমি যা বলবো তার সম্পূর্ণ মেসেজটা নিরবিচ্ছিন্নভাবে একসাথে বলে যেতে হবে বা একটি অখন্ড বার্তা সেন্ড করতে হবে নির্দিষ্ট সময়ের চক্রে যেনো তারা সেটি ক্রিপ্টোগ্রাফারের মাধ্যমে পরবর্তীতে একত্রে ও নিরবিচ্ছিন্নভাবে পাঠ করতে পারে(১)!

A For Andromeda ফিকশনে এন্ড্রোমিডাবাসী ঠিক এভাবেই একমাসব্যাপী পৃথিবীকে উদ্দেশ্য করে একটি অখন্ড বার্তা সেন্ড করেছিলো, যেটি আসতে সময় লেগেছিলো 2.5 million  বছর, মেসেজটি জর্ডেল ব্যাঙ্ক রেডিও টেলিস্কোপ সংগ্রহ করে। তারপর এটিকে ক্রিপ্টোগ্রাফের মাধ্যমে পাঠোদ্ধার করা হয় এবং সেখানে তাদের পাঠানো একটি কম্পিউটারের নকশা পাওয়া যায়।পৃথিবীর বিজ্ঞানীরা সে নকশা অনুযায়ী একটি কম্পিউটার তৈরি করে যেটি সমস্ত পৃথিবীতে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করে! অবশ্য গল্পের নায়ক একটি কুড়াল দিয়ে সেটি ভেঙে ফেলতে সক্ষম হয় যা আমাদের গ্রহকে  ঐ বারের মতো প্রাণে বাঁচিয়ে দেয়!

এন্ড্রোমিডার প্রোরামারদের এটা জানার কোনো উপায় ছিলো না যে তাদের মেসেজ আদৌ কেউ পাঠ করতে পেরেছে কি-না, আদৌ সে কম্পিউটারটি কেউ তৈরি করেছে কি-না অথবা কম্পিউটারটি আদৌ সেই গ্রহটিতে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিলো কি-না!এককথায় সে প্রোরামটির সাথে এন্ড্রোমিডা গ্যালাক্সির প্রোগ্রামারদের সরাসরি কোনো সম্পর্কই ছিলোনা, তাদের পোগ্রামটি ছিলো সম্পূর্ণভাবে তাদের সচেতনতার আড়ালে!হ্যা, হয়তোবা পৃথিবী কোন একদিন এন্ড্রোমিডাকে তাদের কম্পিউটারের তথ্য জানাতে পারতো তবে সে তথ্যটি তারা মুহূর্তে নয়!তথ্যটি জানার জন্যে তাদের অপেক্ষা করতে হতো প্রায় 2.5 million বছর!! (জিন ও মস্তিষ্কের সম্পর্ক)

এবার আমরা আমাদের জিনদের এন্ড্রোমিডা গ্যালাক্সির সে প্রোগ্রামারদের সাথে তুলনা করতে পারি আর আমাদের মস্তিষ্ককে তুলনা করতে পারি একটি সুপার কম্পিউটারের নকশার সাথে যে সুপার কম্পিউটারটি মোর্স কোডের মাধ্যমে এন্ড্রোমিডা গ্যালাক্সির প্রোগ্রামাররা একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্যে আমাদের গ্রহে প্রেরণ করেছিলো।

(এক্ষেত্রে বলে রাখা উচিত যে কম্পিউটার সেমিকন্ডাক্টর দিয়ে তৈরি যার একটি বহুল প্রচলিত রুপ ট্রান্সজিস্টর আর অপরদিকে মানব মস্তিষ্ক নিউরনের তৈরি, ট্রান্সজিস্টর একটির সাথে অন্যটি নির্দিষ্ট তিনটি তার দ্বারা সংযুক্ত, আর একটি নিউরনের সাথে অন্য আর একটি নিউরন হাজার হাজার উপায়ে সংযুক্ত হতে পারে, একজন ব্যাক্তির মস্তিষ্ক একশটি ট্রান্সজিস্টর রাখা যায় আর অন্যদিকে মস্তিষ্কে নিউরনের সংখ্যা দশ বিলিয়ন, কম্পিউটার আর মস্তিষ্কের সম্পর্ক শুধু একটি বিশেষ স্থানে আর আর তা হলো দুটো যন্ত্রই সিগনালের মাধ্যমে একে অপরের সাথে যোগাযোগ করে!(২)

তাহলে দেখা যাচ্ছে টাইম ল্যাগের কারণে এন্ড্রোমিডা গ্যালাক্সির জিনদের সাথে আমাদের মস্তিষ্কের দশ বিলিয়ন সেলের কোনো সচেতন যোগাযোগ নেই, আমাদের মস্তিষ্কের প্রতি মুহূর্তের চিন্তার সাথে আমাদের জিনের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই(এখানে আমি “আমাদের” বলতে শুধু সেপিয়েন্স নয়, সকল প্রাণীদের ইঙ্গিত করছি)।আমরা কখন ছবি আঁকবো, কখন কবিতা লিখবো, কখন পড়াশুনা করবো অথবা কখন পর্ণ ভিডিও দেখবো এসব সিদ্ধান্ত আমাদের প্রতি মুহূর্তের আর আমরা এসকল সিদ্ধান্ত খুব দ্রুতগতিতে গ্রহণ করি!রিচার্ড ডকিন্স তার Selfish Gene গ্রন্থের ১৯১ পৃষ্ঠায় লিখেছেন,

“আর যে কারণে তারা আমাদের সুতোয় বাধা কোনো পুতুলের মত সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনা সেটিও সেখানে একই: টাইম ল্যাগ বা কোনো কারণ ও তার ফলাফলের মধ্যবর্তী সময়ের ব্যবধান। জিন কাজ করে প্রোটিন সংশ্লেষণ নিয়ন্ত্রণ করার মাধ্যমে। পৃথিবীকে নিয়ন্ত্রণ করার এটি একটি শক্তিশালী উপায় কিন্তু এটি খুব মন্থর একটি প্রক্রিয়া। ধৈর্য সহকারে প্রোটিন সুতো নিয়ন্ত্রণ করে ভ্রূণ তৈরী করার জন্য বহু মাসের পরিশ্রম প্রয়োজন। কিন্তু অন্য দিকে, আচরণ সংক্রান্ত বিষয়টির মূল হচ্ছে এটি অত্যন্ত দ্রুত একটি প্রক্রিয়া। এটি যে সময়ের পরিমাপে কাজে করে সেটি মাস না বরং সেকেন্ড বা সেকেন্ড এর ভগ্নাংশ সময়ের মাত্রায়। কিছু ঘটলো আশে পাশে, মাথার উপর একটি পেঁচা বসে আছে। লম্বা ঘাসের নাড়াচাড়া শিকারে উপস্থিতি জানিয়ে দেয় এবং মাত্র কয়েক মিলি সেকেন্ডে পুরো স্নায়ুতন্ত্র সক্রিয় হয়ে ওঠে, মাংসপেশী লাফ দিয়ে ওঠে, কারো জীবন বাঁচে বা হারায়। জিনরা এধরনের কোনো প্রতিক্রিয়া করার সময় পায় না।”

আমরা জানি যে জিন সবসময় তার প্রতিলিপি তৈরি করতে ব্যাস্ত, সে অচেতনভাবে নিজের সংখ্যা বৃদ্ধি করছে এবং জিন তার প্রতিলিপি তৈরি করার জন্যেই আমাদের দেহকে সার্ভাইভাল মেশিন হিসেবে তৈরি করেছে এবং পোগ্রাম করেছে আমাদের মস্তিষ্কের।জিন পূর্ব থেকেই সিমুলেট করে দেখেছিলো আমাদের এ সার্ভাইভাল মেশিনকে ভবিষ্যতে কোন কোন পরিস্থিতিগুলির মুখোমুখি হতে হবে এবং সে অনুযায়ী এটিকে ডিজাইন করা হয়েছে।যেমন-পোলার ভালুকদের জিনরা যেমন বেশ নিরাপদের সাথে ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারে, এখনও জন্ম হয়নি তাদের সারভাইভাল মেশিনের জন্য আগামী ভবিষ্যৎ খুবই শীতল হবে। তারা এটিকে কোনো ভবিষ্যদ্বাণী বলে মনে করে না, তারা কোনো কিছুই চিন্তাই করে না: তারা শুধু মোটা পুরুত্বের চুলের একটি আস্তরণ তৈরী করে, কারণ তারা ঠিক সেই কাজটি করেছে আগে তাদের অতীত শরীরগুলোয় এবং সেকারণে এটি এখনও টিকে আছে তাদের জিনপুলে। তারা আরো ভবিষ্যদ্বাণী করে যে মাটিতে বরফ থাকবে এবং তাদের ভবিষ্যদ্বাণী রূপ নেয় শরীরের চুলের রং সাদা করার জন্য, যা সাদা বরফের সাথে সহজেই মিশে ক্যামোফ্ল্যাজ বা লুকিয়ে থাকার বেশ তৈরী করবে। যদি উত্তর মেরুর জলবায়ু দ্রুত বদলে যায় কোনো কারণে যে কোনো শিশু মেরু ভালুক নিজেকে জন্ম নিতে দেখবে ক্রান্তীয় কোনো মরুভূমিতে, তাহলে জিনদের ভবিষ্যদ্বাণী হবে ভুল এবং এর জন্য তাদের মূল্য পরিশোধ করতে হবে। শিশু সেই ভালুকটি মারা যাবে, যার ভিতরে সেই জিনগুলোর বাস।(৩)

কম্পিউটার সিমুলেশনগুলির কম্পিউটারের হার্ডওয়্যারের ভেতর কোনো লোকেশন নেই এবং আমরা যখন কোন Future simulation তৈরি করি যেমন- যুদ্ধের, তখন কল্পনায় আমরা অনেক মানুষ হত্যা করে ফেলি, যুদ্ধের প্লট পরিবর্তন করি কিন্তু তার প্রভাব বাস্তব পৃথিবীতে পড়েনা।কিন্তু জিনরা তাদের মিলিয়ন বছরের স্মৃতি থেকে শুধুমাত্র শরীরের কোনো একটি অঙ্গকে পূর্ব থেকে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্যে সিমুলেট করে দেয় কিন্তু জিন এটি বলেনা যে ভবিষ্যতে আপনি কোন কোন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন!টাইম ল্যাগের বা মধ্যবর্তী দূরত্বের কারণেই কম্পিউটারের মতোই আমাদের ব্রেন দাবার সম্ভ্যাব্য দান গুলি নিজে নিজেই চালতে পারে পোগ্রামারের সাথে কোনোপ্রকার সম্পর্ক না রেখেই!জিন শুধু আপনাকে ভবিষ্যত সম্পর্কে এতটুকু তথ্য দেবে যে, তুমি তোমার টিকে থাকার জন্যে যা ভালো তাই করো কিন্তু আপনার টিকে থাকার জন্যে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য অনেক বিকল্প আছে, আপনি ডাক্তার হতে পারেন, সমাজসেবক হতে পারেন, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হতে পারেন অথবা আপনি চাইলে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারও হতে পারেন।জিন আপনাকে নির্দিষ্ট করে বলবেনা যে তুমি ডাক্তার হও, সে শুধু আপনাকে এটা বলবে তোমার জন্যে যেটি ভালো ও সুবিধাজনক সেটাই করো।

ডকিন্স বলেছিলেন, কম্পিউটারকে দাবা খেলা প্রোগ্রাম করার সময় এলগোরিদমের পাশাপাশি একটি র‍্যান্ডমনেসও তৈরি করা থাকে!ব্যাপারটি অনেকের ভুল বুঝার সম্ভাবনা আছে!আসলে র‍্যান্ডমনেস পোগ্রামারের তৈরি নয়, পোগ্রামার কখনোই সুনির্দিষ্ট ভাবে দাবার সবগুলি চাল পূর্ব থেকে বলতে পারবেনা, তাই এটা পোগ্রামারের অক্ষমতা, র‍্যান্ডমনেস কম্পিউটার গেইমসের নিয়তি বলা যেতে পারে বা এটাই খেলার নিয়ম যা কম্পিউটারকে নিজের মতো স্বাধীনভাবে খেলার Room খুলে দেয়!

স্টিফেন হকিং তার একটি সাক্ষাতকারে একবার বলেছিলেন , the internal record of information, handed down to succeeding generations in DNA, has not changed significantly. But the external record, in books, and other long lasting forms of storage, has grown enormously. Some people would use the term, evolution, only for the internally transmitted genetic material, and would object to it being applied to information handed down externally. But I think that is too narrow a view. We are more than just our genes.

যদিও তার এ উক্তিটি এখানে অপ্রাসঙ্গিক কিন্তু তবুও একটি বিশেষ Significance রয়েছে এ বক্তব্যটিতে।হকিং বলেছিলেন, আমরা আমাদের জিন থেকে বেশিকিছু!হ্যা, এটি সত্য!

টাইম ল্যাগের কারণে আমাদের জিন আমাদের ব্রেনকে সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনা! আমরা ইচ্ছে করলে জিনের বিপক্ষে যেতে পারি, জিন সিকোয়েন্সিং করতে পারি, ডি এন এ কাটিং করতে পারি, আমরা চাইলে ক্যাথোলিক পোপদের মতো জেনেটিক্যালি সুইসাইড করতে পারি, সমকামীতার মতো একটি জেনেটিক্যাল প্রবণতাকে আমরা চাইলে অস্বীকার করতে পারি এবং আমরা এবরেশনের মাধ্যমে শিশু হত্যাও করতে পারি!! (জিন ও মস্তিষ্কের সম্পর্ক)

ইউভাল নোয়াহ হারারি তার সেপিয়েন্সে গ্রন্থে একাকীত্বের মনোবৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বলেছিলেন, আমাদের দেহ ও মন আজ থেকে ৭০ হাজার বছর পূর্বের শিকারি সংগ্রাহক হিসেবে অভিযোজিত হয়েছিলো, আর তার তুলনায় আমাদের আধুনিক জীবনের সময়কাল একটি মুহূর্ত মাত্র, যার জন্যে আমাদের জিন এ নতুন পরিবেশের সাথে এত ক্ষুদ্র সময়ে এখনো নিজেকে অভিযোজিত করার সময় পায়নি!তাই আমাদের ডি এন এ এখনো ৭০ হাজার বছর অতীতেই অবচেতনভাবে পড়ে থাকে যা আমাদের মাঝে তৈরি করে মানসিক অনিশ্চয়তা, চাপ আর একাকীত্ব!এন্ড্রোমিডা গ্যালাক্সির দুইশত বছর পূর্বের একটি পোগ্রামারের মতোই আমাদের বিদ্যমান সময়ের সাথে আমাদের জিনের কোনো সম্পর্ক নেই!

 একাকীত্বের বিবর্তনীয় ব্যাখ্যা

টিকাঃ এখানে জিনকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে শুনলে মনে হবে জিন সচেতনভাবে এ কাজগুলি কখনো না কখনো করেছে, জিন আসলে এন্ড্রোমিডাবাসীর মতো সচেতন কিছু নয়।প্রিজমের ভেতর আলো প্রবেশ করলে আলো বিভিন্ন রঙে বিভক্ত হয়ে যায়।এখন আমি বলার সুবিধার্থে এরকম বলতে পারি যে প্রিজম আলোকে সাতটি রঙে ভেঙে ফেলে!কিন্তু তার মানে কী প্রিজম আসলেই আলোকে সচেতন ভাবে ভাঙে?আমি যদি বলি গ্রেভিটি আমাকে টেনে ফেলে দিয়েছে তবে এর মাধ্যমে আমি এটাই বুঝাই যে আমার পড়ে যাওয়াটা গ্রেভেটির প্রভাব।এর পেছনে গ্রেভেটির সচেতন হস্তক্ষেপ নেই!ঠিক তেমনি আমি যখন বলি জিন নিজের অনুলিপি তৈরি করে তখন আমি এটা গ্রেভেটির সেন্স থেকেই বলি যে জিন তার অনুলিপি তৈরি করে!

জিন ও মস্তিষ্কের সম্পর্কঃ

তথ্যসুত্রঃ

১. The Selfish Gene, মুক্তমনা

২. The selfish Gene, Gene machine

৪.The Selfish Gene, Gene Machine,193-200

৫.  Scientific Amercian 

৬. The Conservation 

৭. ninds

৮. ইউভাল নোয়া হারারি, সেপিয়েন্স

আরও পড়ুন

1 মন্তব্য

Leave A Comment...

হাইপারস্পেস
চিন্তা নয়, চিন্তার পদ্ধতি জানো...!
%d bloggers like this: