ঘুমের বিবর্তনীয় ব্যাখ্যা

ঘুমের বিবর্তনীয় ব্যাখ্যা

পনি কি মনে করেন গত সপ্তাহে আপনি পর্যাপ্ত ঘুমিয়েছেন? আপনার কি মনে পড়ে কখন আপনি শেষবারের মতো জাগ্রত হয়েছিলেন কোনোপ্রকার এলার্মের সহযোগীতা ছাড়া সতেজতা নিয়ে এবং আপনার কোনো ক্যাফেইন প্রয়োজন হয়নি? যদি উত্তর হয়ে থাকে- “না”, তবে আপনি একা নন। ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের তথ্যমতে, উন্নত বিশ্বের প্রায় ২/৩ মানুষ প্রতিদিন আট ঘন্টা ঘুমাতে ব্যর্থ হচ্ছে। আমি সন্দেহ প্রকাশ করছি যে , আপনি আমার কথা শুনে বিস্মিত হয়েছেন কিন্তু আপনি যদি এর প্রভাব সম্পর্কে জানেন তবে অবশ্যই বিস্মিত হবেন। আপনি যদি দৈনিক ৬-৭ ঘন্টা না ঘুমান তবে আপনার ইমিউন সিস্টেম ধবংস হয়ে যাবে এবং আপনার ক্যান্সারের সম্ভাবনা দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি পাবে। আপনার পর্যাপ্ত ঘুমের উপরই লাইফ স্টাইল নির্ভর করে , আপনার মস্তিষ্কে আলঝেইমার হবে কি হবেনা। পর্যান্ত ঘুমের অভাব মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই আপনার ব্লাডসুগার লেভেলকে বিরক্ত করবে যেটাকে প্রি-ডায়বেটিক্স দশা হিসেবে সনাক্ত করা হয়। সংক্ষিপ্ত ঘুমের কারণে আপনার করোনারি আর্টারি অবরুদ্ধ ও ভেঙে যাবে যা আপনাকে কার্ডিওভাস্কুলার, স্ট্রোক এবং কনজেস্টিভ হার্ট ফেইলরের সামনে বসিয়ে দেবে। ঘুমের অভাব থেকেই ডিপ্রেসন, অ্যাঞ্জাইটি ও সুইসাইডিয়াল মনোভাব তৈরি হয়।

আমরা যখন ক্লান্ত হয়ে যাই তখন আমাদের ক্ষুদা লাগে। এটা কাকতালীয় কোনো ব্যাপার নয়। অল্পঘুম আমাদের দেহের সে সকল হর্মোনকে আকৃষ্ট করে যেগুলো আমাদের মধ্যে ক্ষুদা বাড়িয়ে দেয় এবং তার সঙ্গী হর্মোনকে অবদমন করে রাখে যেটি আমাদের স্যাটিসফ্যাকশনের সিগনাল প্রদান করে। আপনার পেট পরিপূর্ণ থাকা সত্ত্বেও আপনার বার বার খেতে ইচ্ছে করবে। যে সকল শিশু ও বৃদ্ধের ঘুমে সমস্যা আছে তাদের ওজন ক্রমশ বৃদ্ধি পায়। স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি ছাড়াও একটি প্রমাণিত বাস্তবতা গ্রহণ করার জন্য প্রস্তুত হোনঃ আপনি যত কম ঘুমাবেন, আপনার জীবন তত সংক্ষিপ্ত হবে। আর এ জন্য সেই প্রাচীন ম্যাক্সিম , আমরা তো মৃত্যুর পর ঘুমিয়েই যাবো সেটি খুবই দূর্ভাগ্যজনক। মনে রাখবেন, মৃত্যুর পর আপনি ঘুমাবেন ঠিক আছে কিন্তু তার মাঝখানে আপনি সে জীবন অতিবাহিত করবেন সে জীবনের মান হবে খুব খারাপ। কিন্তু দূর্ভাগ্যজনকভাবে মানব প্রজাতি একমাত্র প্রজাতি যারা কোনো বৈধ উপকারিতা ছাড়াই নিজেদের ঘুম থেকে বঞ্চিত করে।

এটি এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছে গেছে যে ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন ঘুমহীনতাকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ন্যাশনের জন্য একটি এপিডেমিক হিসেবে ঘোষণা করেছেন। ইউএসএ, ইউকে, জাপান কোরিয়া এবং ওয়েস্টার্ন ইউরোপে বিগত শতাব্দী থেকেই ঘুম নেই, নাটকীয়ভাবে তাদের ঘুমের সময়সীমা কমে গেছে এবং তাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উপরে উল্লেখিত বিভিন্ন রকম শারীরিক ও মানসিক ব্যাধি। এদিকে মেডিকেল ডাক্তাররা ভুক্তভোগীদের বিভিন্ন স্লিপিং ড্রাগ অফার করতে শুরু করেছে এবং তারা এত বেশি ঘুমের ওষুধ সাজেস্ট করছে যে যা সম্পূর্ণ স্ববিরোধী যার প্রভাবে বিপুল সংখ্যক মানুষ শিকার হচ্ছে ভয়ানক শারীরিক ক্ষতির। আমরা কি আরো দূরে গিয়ে বলতে পারি যে ঘুমের অভাব আপনাকে খুন করতে পারে? একচুয়ালি “হ্যাঁ”__ অন্তত দুটি ক্ষেত্রে। প্রথমত, এখানে রয়েছে খুবই দূর্লভ জেনেটিক ডিসওর্ডার, যা ক্রমবর্ধমানভাবে মধ্যবয়সে ইনসোমনিয়া শুরু করে। এ রোগের এক পর্যায়ে রোগী এক নাগাড়ে কয়েকমাস ঘুমানো বন্ধ করে দেয়। আর এ সময়ের ভেতর তারা অজস্র বেসিক ব্রেন ও বডি ফাংশন হারিয়ে ফেলে। এ পর্যন্ত এমন কোনো ড্রাগ আবিষ্কৃত হয়নি যা এ রোগীদেরকে ঘুম ফিরিয়ে দিতে পারে। এভাবে বার থেকে আঠার মাস না ঘুমানোর পর, রোগী মারা যায়। যদিও খুবই দূর্লভ কিন্তু এ মানসিক বিশৃঙ্খলা আমাদের বলে যে, ঘুমের অভাব আমাদের মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

এছাড়া নিদ্রাহীন মস্তিষ্কে গাড়ী চালানোটা খুবই বিপদজনক। নিদ্রাহীন ড্রাইভিং এর কারণে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ এক্সিডেন্ট ঘটছে এবং প্রাণহানি ঘটছে বিপুল পরিমাণে। একজন নিদ্রাহীন ব্যক্তির মস্তিষ্ক শুধু তার নিজের জন্যই ক্ষতিকর নয়, সে তার চারপাশের মানুষদের জীবনের জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে। ব্যাথাদায়কভাবে, ইউনাইটেড স্টেটে এ পর্যন্ত যতগুলো এক্সিডেন্ট হয়েছে সবগুলো এক্সিডেন্ট ক্লান্তির সাথে জড়িত। এটা খুবই অস্বস্তিকর যে অধিকাংশ দূর্ঘটনা অ্যালকোহল ও অন্যান্য ড্রাগের একটি সংমিশ্রিত অবস্থা। ঘুমের প্রতি সমাজের উদাসীনতার কারণে ঐতিহাসিক ভাবে বিজ্ঞানীরা আজো মানুষের কাছে এটা ব্যাখ্যা করে বোঝাতে পারেনি যে , ঘুম আসলে কি আর কেনোই বা আমাদের জন্য ঘুম এত প্রয়োজনীয়। আজও ঘুম মানুষের কাছে সবচেয়ে বড় বায়োলজিক্যাল রহস্য। জেনেটিক্স, মলিকিউলার বায়োলজি এবং উচ্চ- ক্ষমতাসম্পন্ন ডিজিটাল টেকনোলজি এভাবে বিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় শাখাগুলো সম্মিলিতভাবে একত্রিত হয়েও ঘুমের এ শক্ত সিন্ধুক ভাঙতে পারেনি। ডিএনএ ডাবল হ্যালিক্সের আবিষ্কারক নোবেল বিজয়ী ফ্রান্সিস ক্রিক থেকে শুরু করে সিগমুন্ড ফ্রয়েড সবাই ঘুমের কোড বোঝার চেষ্টা করেছিলেন।

ঘুম সম্পর্কে তখনকার সময়ের অজ্ঞতা বোঝার জন্য কল্পনা করুন একটি শিশু জন্মগ্রহণ করেছে আর ডাক্তার এসে তাকে বলে, Congratulation, it’s Healthy baby boy. আর তারপর তিনি যখন কক্ষ ত্যাগ করছিলেন তিনি তার মাথাটি ঘোরান আর বলেন, আপনার সন্তান মৃত্যুর দিন পর্যন্ত আকস্মিক কোমায় চলে যাবে, তার দেহ শুয়ে থাকবে আর মনের মধ্যে কাজ করবে বিভিন্ন হেলোসিনেশন। তার জীবনের তিন ভাগের এক ভাগ সময় সে এভাবেই অতিবাহিত করবে কিন্তু আমি জানিনা যে তার এ আচরণের কারণ কি। Good Luck!

বিস্ময়করভাবে সাম্প্রতিক বিজ্ঞানীরা ঘুমের সঙ্গতিপূর্ণ ও পরিপূর্ণ ব্যাখ্যা প্রদান করতে শুরু করেছে। আমরা জানি যে আমাদের তিনটি বায়োলজিক্যাল ফাংশন আমাদের জীবনকে পরিচালনা করে আর তা হলো, খাবার, পানীয় ও প্রজনন __ আমাদের চতুর্থ বায়োলজিকাল ড্রাইভ ঘুম যা সমস্ত প্রাণীদের রাজত্বে উপস্থিত __ সেটিই হাজার হাজার বছর মানব সভ্যতাকে প্রতারিত করে গেছে। যদি প্রশ্ন করা হয়, কেনো ঘুম বিবর্তিত হয়েছে, ঘুমের কি এমন বিবর্তনীয় উপযোগীতা ছিল, আমাদের কাছে এর কোনো উত্তর নেই, ঘুম আমাদের কাছে এখনো সম্পূর্ণ রহস্যজনক। বিবর্তন কেনো বোকার মতো আমাদের মধ্যে এমন একটি বৈশিষ্ট্যের জন্ম দিয়েছে যখন আমাদের মস্তিষ্ক ডি-একটিভেট থাকে, আমাদের শরীর প্যারালাইসড হয়ে যায়, আমরা মহাবিশ্ব সম্পর্কে আমাদের সম্পূর্ণ সচেতনতাবোধ হারিয়ে ফেলি, যেনো ফিজিক্সের সূত্রের সাথে আমাদের চেতনা মিশে যায়, আমরা কোনোকিছু শিকার বা সংগ্রহ করতে পারিনা, প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি করতে পারিনা, যেকোনো মুহূর্তেই যখন আমাদের সিংহ অথবা হিংস্র কোনো জন্তুর শিকারে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে! কেনো বিবর্তন এত বিপুল পরিমাণ অনিশ্চয়তার মহাসমূদ্রে আজ থেকে তিন মিলিয়ন বছর পূর্বে আমাদের পূর্বসূরি অস্ট্রোলোপিথদের চোখের পাতায় ঘুম ঢেলে দিয়েছে?

কেনো শাটডাউন করে দিয়েছে মস্তিষ্কের অধিকাংশ কর্টেক্স? কেনো তাদের সম্পূর্ণ মস্তিষ্কের ভেতর শুধু চলাচল করেছে ইলেক্ট্রিক্যাল কারেন্ট আর র‍্যান্ডম ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফ্ল্যাকচুয়েশন? বিপদসংকুল পরিবেশে, যেখানে প্রতিটি পিকোসেকেন্ড ছিলো মৃত্যুর মতো ভয়ানক, সেখানে কেনো ন্যাচারাল সিলেকশন আমাদের মস্তিষ্কের ঘুমের নিউরোকেমিস্ট্রির বিবর্তন ঘটায়? আর বিবর্তনীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এত এত ক্ষতির সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও কেনো আমাদের মস্তিষ্কে ঘুম ঘুম ভাব কাজ করে? কেনো আমরা ঘুমিয়ে যাই? কেনো আমরা জীবনের শতকরা ২৫ বছর শারীরিকভাবে প্যারালাইজড ও মানসিকভাবে কোমায় থাকি?

যদি প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি আমাদের টিকে থাকার একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে থাকে তবে একজন হোমো হ্যাবিলসের জন্য এটা কি মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ ছিলো যে সে তার সন্তানকে সিংহের সম্ভাব্য উপস্থিতির হাতে ছেড়ে দিয়ে নিজেই ঘন্টার পর ঘন্টা ঘুমিয়ে থাকে? বিবর্তনের কি উচিত ছিলোনা, আমাদের পূর্বসুরিদের মস্তিষ্ক থেকে ঘুমকে উৎখাত করে দেয়া? কিন্তু আমরা সুস্পষ্টভাবে দেখতে পারছি বিবর্তন আমাদের ব্রেন থেকে ঘুমকে মুছে দেয়নি বরং আমাদের মস্তিষ্কের মধ্যে ঘুমকে প্রিজার্ভ করা হয়েছে! আর শুধু ঘুমের অভাবেই আমাদের মস্তিষ্ক সিজোফ্রেনিয়া ও আলঝেইমার সহ বিভিন্ন ধরণের শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়!

প্রশ্ন হলো কেনো বিবর্তন বোকার মতো এমন এক বৈশিষ্ট্য উন্মেষ ঘটালো টিকে থাকার ক্ষেত্রে যার কোনো উপযোগীতা তো নেই বরং যে বৈশিষ্ট্যটিকে উপেক্ষা করলে আমাদের প্রজাতি বিলুপ্তির শিকার হয়??? আপনি যে বিন্দু থেকেই দেখেননা কেনো বিবর্তনীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ঘুম কোনো সেন্সই তৈরি করেনা! আমরা যদি বিবর্তনের চোখে দেখি, তবে বলতে হয়, ঘুম বিবর্তনের সবচেয়ে বড় অসহাত্ব, সবচেয়ে বড় দূর্বলতা, আমরা যখন ঘুমাই তখন প্রতি সেকেন্ডেই বিবর্তন মিথ্যা প্রমাণিত হয়! কিন্তু আমরা এটা খুব ভালো করেই জানি যে বিবর্তন এমন কোনো বৈশিষ্ট্যের প্রতি আনুকূল্য প্রদর্শন করেনা যার কোনো উপযোগই নেই! প্রকৃতিতে শুধুমাত্র সে সকল বৈশিষ্ট্যই একটি পপুলেশনে টিকে থাকে যে বৈশিষ্ট্যটি সে প্রজাতিকে টিকে থাকার ক্ষেত্রে উপযোগীতা দেয়? মানুষ ৩২% সময় ঘুমায়, বাঘ ৬৫% সময় ঘুমায়, সিংহ ৫৬.৩% সময় ঘুমায়, চিতা ৫০.৬% সময় ঘুমায়, ব্রাউন বেট ৮২.৯ শতাংশ সময় ঘুমায়, আর্মাডিলো ৭৫.৪% সময় ঘুমায় এবং পাইথন ৭৫ শতাংশ সময় ঘুমায়। প্রকৃতিতে প্রায় প্রতিটি প্রাণীর মধ্যেই ঘুম উপস্থিত। যদি ঘুমের বিবর্তনীয় উপযোগীতা না থাকতো তবে প্রাকৃতিক নির্বাচন ঘুমের মতো একটি হেলোসিনেসনকে সমস্ত প্রাণী জগতে ছড়িয়ে দিতোনা। ( অন্যান্য হিংস্র প্রাণীরা বেশি ঘুমাতো বলেই মানুষ অপেক্ষাকৃত কম ঘুমায় বলে আমি মনে করি)

বিশ শতকের বৈজ্ঞানিক জ্ঞান দ্বারা আমরা জানতে পেরেছি ইভোলুশন আসলে অদ্ভুত কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি। ঘুম আপনাকে অযুত নিযুত স্বাস্থ্যগত সুবিধা প্রদান করে, সে প্রেসক্রিপশন আপনার প্রতি চব্বিশঘন্টায় গ্রহণ করা উচিত। ঘুম আপনার ব্রেনের বৈচিত্র্যময় ফাংশন উন্নত করে, স্মরণশক্তি বাড়ায়, যৌক্তিক সিদ্ধান্ত ও নির্বাচনে সাহায্য করে। এটি অত্যন্ত সহনশীলভাবে আমাদের মানসিক স্বাস্থসেবা নিশ্চিত করে, ঘুম আমাদের মস্তিষ্কের ইমোশনাল সার্কিটগুলো পুনরুদ্ধার করে, আমাদেরকে পরবর্তী দিনের সামাজিক ও মানসিক পরিস্থিতিগুলো নেভিগেট করার জন্য উপযোগী করে তোলে। এছাড়া আমরা এখন সবচেয়ে অভেদ্য একটি বিষয় বুঝতে পারছি যেটিকে বলে স্বপ্ন, আমাদের বিতর্কিত সকল সচেতন অভিজ্ঞতার মধ্যে এটি অন্যতম। স্বপ্ন সকল প্রজাতির প্রাণীর জন্যই উপযোগী একটি বৈশিষ্ট্য যার মধ্যে মানুষও অন্তর্ভুক্ত। ঘুমের সময় আমাদের মস্তিষ্ক নিউরোকেমিক্যালি স্নান করে যা তার ব্যাথাদায়ক স্মৃতিগুলো মুছে দেয় এবং এটি একটি ভার্চুয়াল রিয়েলিটি স্পেস যেটি অতীত ও ভবিষ্যতের জ্ঞানকে একত্রিত করে, যা অনুপ্রাণিত করে আমাদের সৃষ্টিশীলতাকে। ঘুম আমাদের ইমিউন সিস্টেমের অস্ত্রাগারকে পুনরুদ্ধার করে, আমাদের দেহের শত্রুদের বিপক্ষে যুদ্ধ করে, ইনফেকশন থেকে আমাদের দেহকে মুক্ত রাখে এবং প্রতিরোধ করে সকলপ্রকার অসুস্থ্যতা। জাগ্রত অবস্থায় আমাদের শরীর ও মস্তিষ্কের অজস্র শক্তি পরিবেশকে পর্যবেক্ষণ ও জটিল শারিরীক ও মানসিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার মধ্যেই ব্যয় হয়ে যায়, সে সময় আমাদের শরীরের কাছে যথেষ্ট পরিমাণ শক্তি থাকেনা রোগ ও ইনফেকশনের বিপক্ষে প্রতিরোধ গড়ে তোলার, ঘুম আমাদের ব্রেন ও বডি একটিভিটিজ বন্ধ করে দিয়ে জাগ্রত করে তোলে বিশেষ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা! ঘুম আমাদের দেহের মেটাবোলিক সিস্টেমকে ফাইন টিউন করে, ইনসুলিন ও গ্লুকোজের সার্কুলেশন ঠিক রাখে। ঘুম আমাদের ক্ষুদাকে নিয়মতান্ত্রিক করে, আমাদের দেহের ওজনকে নিয়ন্ত্রণ করে, এটি আমাদের পেটুক হওয়ার পরিবর্তে স্বাস্থ্যকর খাবার নির্বাচন করতে সাহায্য করে। প্রচুর পরিমাণ ঘুম আমাদের অন্ত্রে মাইক্রোবায়োম তৈরি করে যেখান থেকে আমাদের পুষ্টিকর স্বাস্থ্যের জন্ম হয়। পর্যাপ্ত ঘুম আমাদের কার্ডিওবাস্কুলার সিস্টেমকে ঠিক রাখে, এটি আমাদের ব্লাড প্রেসার কমিয়ে আমাদের হৃদপিন্ডকে সুস্থ্য রাখে। এখনো পর্যন্ত প্রাকৃতিকভাবে ও মেডিক্যালি শরীরের জন্য উপকারী কোনো ক্ষমতাবান প্রকৌশল পাওয়া যায়নি। বৈজ্ঞানিক উন্নয়নের সাথেসাথে আমরা এখন আর এটা বলিনা যে, কেনো ঘুম আমাদের কাছে এত গুরুত্বপূর্ণ বরং আমরা এমন কোনো বায়োলজিক্যাল ফাংশনের অস্তিত্ব আবিষ্কার করতে না পেরে বিস্মিত হয়েছি যা ঘুমের কারণে উপযোগীতা প্রাপ্ত হয়না।

তথ্যসূত্রঃ

hsbd bg