গড ভাইরাস

লিখেছেন অ্যান্ড্রোস লিহন
256 বার পঠিত হয়েছে

Scientific ideas also infect minds but with one caveat: those ideas have to create a link to objective reality in order to survive.

Ideas Darrel W. Ray, The God Virus: How religion infects our lives and culture

সায়েন্স ফিকশন এমন সব এলিয়েনের গল্পে পরিপূর্ণ যেখানে এলিয়েন মানুষের দেহ ও মন দখল করে। কিন্তু তারা  এসব চিন্তা কোথায় থেকে পেয়েছে? বাস্তবতা সায়েন্স ফিকশন থেকেও ভয়ানক। জীববিজ্ঞানে এমন অনেক প্যারাসাইট প্যাথোজেন ও ভাইরাস আছে যারা হোস্টের ব্রেনে ইনফেক্ট হয় ও প্রাণীদের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে। আমরা যদি ধর্মের ভাইরাল মডেল বুঝতে চাই তবে সেক্ষেত্রে কিছু উদাহরণের দিকে চোখ দিতে হবে-

১.গ্রাসহোপ্পারের মস্তিষ্ক হেয়ারওয়ার্ম প্যারাসাইট দ্বারা সংক্রমিত হয় । আর গ্রাসহোপ্পার সুইসাইডিয়াল হয়ে উঠে । কারণ হেয়ারওয়ার্ম এর প্রজননের জন্যে পানি প্রয়োজন। প্যারাসাইট হোপ্পারকে তাই পানিতে ঝাঁপ দিতে ফোর্স করে। এটি তার নিজের অজান্তেই হয়, হোপ্পার জানেনা যে সে আসলে প্যারাসাইটের নির্দেশ পালন করছে। ভূত কারো সেলে ইনফেক্ট হোক বা না হোক হেয়ারওয়ার্ম এটি করে। কিছুকিছু  ঝিঁঝিঁ ঠিক একই পক্রিয়ায় সুইসাইড করে। ফিতাকৃমি তাদের দেহে সংক্রমিত হয় , ক্রমাগত বড় হয়, একটা সময় সে  ঝিঁঝিঁর বায়োলজিক্যাল ফাংশন নিজের দখলে নিয়ে আসে। একপ্রকার প্রোটিনের মাধ্যমে জোসনা আলোকিত রাতে সে তার ব্রেনকে পানিতে লাফ দিয়ে নির্দেশ দেয়, ঝিঁঝিঁ মারা যায় , আর কৃমি তার দেহ ছিঁড়ে বেরিয়ে আসে। আমাদের জিনও একটি ভাইরাস। করোনা অথবা এইসআইভি ভাইরাসের মতো এটিও একপ্রকার ভাইরাস । আমাদের শরীরের প্রতিটি সেলেই এরা বাস করে, আমাদের দেহ ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ভাইরাসের মেগাপোল। কিন্তু অন্যান্য ভাইরাসের সাথে জিন নামক ভাইরাসের তারতম্য হলো, জিন নামক এ ভাইরাসগুলো অন্য ভাইরাসের সাথে পারস্পরিক মিথোজিবিতার ভিত্তিতে দেহ গঠন করে,   যৌন প্রজননের মাধ্যমে এক দেহ থেকে অন্য দেহে ভ্রমণ করে ও নতুন দেহ নির্মান করে , এরা বিদ্রোহী  নয়, এরা দেহে স্থিতিশীল থাকে। আর অন্যদিকে সার্চ ,ফক্স অথবা করোনা এরা বিদ্রোহী, এরা দেহ থেকে দেহে লাফিয়ে বেড়ায়, নিশ্বাস, থুথুঃ আর বাতাসে! জিন ভাইরাস যখন সেক্সের মাধ্যমে  নারীর ডিম্বাণুতে প্রবেশ করে,  করোনা তখন হোইয়াট হাউজে গিয়ে বাইডডেনের সাথে হ্যান্ডসেক করে। বিদ্রোহী হোক আর হোক ভদ্র,  জিন নামক এ ভাইরাসগুলো সেলফিশ। কারণ জিন সবসময় তার নিজেকে কপি করার উদ্দেশ্যে কাজ করে। একটি ভেন্ডিং মেশিন যেমন কোন সচেতনতা ছাড়াই  এলগোরিদম অনুসরণ করে  চা, চিনি, দুধ মিশিয়ে এক কাপ কফি তৈরি করে ঠিক তেমনি জিনও তার ভেতর থাকা এলগোরিদম অনুসরণ করে নিজের কপি তৈরি করে, এ কপি করাটাই তার এলোগোরিদম, সে জানেনা সে কি করে , সে শুধু কপি করে, আর কপি করতে গিয়ে সে অনেক সময় এমন কিছু করে ফেলে যার জন্যে তাকে সেলফিশ মনে  হয়। যেমন- কেনিভাল মাকড়সা যখন সেক্স করে, স্ত্রী মাকড়সা তাকে জীবন্ত কামড়ে খেয়ে পেলে কিন্তু মৃত্যু নিশ্চিত জানার পরও সে নিজেকে প্রজনের ইচ্ছে থেকে  মুক্ত করতে পারেনা ,  তার শরীর খেয়ে স্ত্রী দেহ যে উপাদান পায় সেগুলো ব্যবহার করে স্ত্রী কেনিভালটি পুরুষের জিনগুলোকে আরো ভালোভাবে কপি হওয়ার সুযোগ দিতে পারে, যেহেতু জিন একটি এলোগোরিদম, আর সে তার অধিক সংখ্যক কপি তৈরি করতেই প্রোগ্রাম , অতএব জিন কেনিভাল পুরুষের দেহকে নতুন নতুন অনুলিপি উৎপাদনের  কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করে! করোনা ভাইরাস যেমন মানব সভ্যতার শরীরের বায়োকেমিক্যাল প্রসেস , নিজেকে বিস্তার করার জন্যে ইউজ করে, জিনও ঠিক একই কাজ করে , সে একটি দেহ গড়ে, দেহটিতে একটি নির্দিষ্ট সময় তারা সার্ভাইভ করে, নতুন দেহে প্রবেশ করে, সে দেহে আর একটি দেহ গড়ে আর এভাবেই সে তার অনুলিপি বৃদ্ধি করতে থাকে। নিজেকে কপি করে সে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন সেল তৈরি করে, সে সেলগুলির ভেতর জিনগুলো মিথোজিবিতা বা পারস্পরিক স্বার্থের সম্পর্কের ভিত্তিতে বসবাস করে, যখন পারস্পরিক স্বার্থ পূরণের উদ্দেশ্যে তারা এক জায়গায় দলবদ্ধ হয় তখন তাদের সে দলবদ্ধ অবস্থাকে আমরা শরীর বলি যে শরীরটির ভেতর একটি মন থাকে, যদিও জিন জানে না যে, তাদের পারস্পরিক মিথোজীবীতার ভিত্তিতে দলবদ্ধ হয়ে থ্রি-ডায়মেনশনে স্থির হওয়ার কারণে একটি প্রাণী তৈরি হয়েছে, যার একটি মন আছে ও যে চিন্তা করতে পারে! জিন নাসার একটি সায়ত্বশাসিত রোবার পার্সেভিয়ানের মতো, যে নিজের অনুলিপি তৈরি করে যায়, তার তৈরি দেহটি থেকে সে অন্য দেহে প্রবেশ করে এবং পূর্বের দেহটি একসময় দূর্বল হয়ে মারা যায়, দেহটি মারা গেলেও তার দেহের জিনগুলো এখনো নতুন কোনো শরীরে বাস করছে,  সেখানে তারা পারস্পরিক মিথোজিবিতার ভিত্তিতে নতুন কোনো দেহে দলবদ্ধ হয়েছে এবং সেখানেও জন্ম হয়েছে একটি চেতনা কিন্তু জিন জানেনা যে সেখানে কোনো চেতনা আছে, জিন  একটি প্রোগ্রাম, একটি এলগোরিদম, যেটি প্রোগ্রাম্যাবল ম্যাটারের মতোই নিজের অনুলিপি তৈরি করতে সক্ষম! আর এ জন্যে জিনের কাছে কেনিভাল মাকড়সার শরীর গুরুত্বপূর্ণ নয়, গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রজনন ও নিজেকে অন্য কোনো শরীরে সংক্রমণ । ঠিক যেমনটি গ্রাসহোপ্পারের ব্রেনে হেয়ারওয়ার্ম করে থাকে! আমি ভাইরাস, প্যারাসাইট ও প্যাথোজেনদের সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে কেনো জিনের প্রসঙ্গ এনেছি? কেনো জিনকে আলাদা করে এক্ষেত্রে বর্ণনা করার প্রয়োজনীয়তা বোধ করেছি? এ উত্তরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আমাদেরকে সাধারণ ভাইরাস ও জিন ভাইরাসের পার্থক্য বুঝতে হবে। সাধারণ ভাইরাসরা বিদ্রোহী, তাদের মধ্যে মিথোজীবী সম্পর্ক নেই, তারা একা থাকতে চায়, তাদের মধ্যে  সংঘঠিত হওয়ার কোন প্রবণতা নেই, তারা স্থিতিশীল হতে চায়না, একত্রিত কোন সংঘবদ্ধ দেহে থেকে তারা নিজেদেরকে যৌন প্রজনন পদ্ধতিতে ছড়াতে প্রোগ্রাম নয়।  আমাদের জিনগুলো একে অপরের সাথে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম স্বার্থের সম্পর্কে জড়িত, এজন্য তারা দলবদ্ধ হয় যা শরীর ও ব্রেনের মতো একটি সংঘঠন তৈরি করে, সেখানে চেতনা ও বুদ্ধির বিকাশ ঘটে,  আর সে বুদ্ধিমান মস্তিষ্ক থেকে রকেট,বিমান ও কম্পিউটার বেরিয়ে আসে! আর অন্যদিকে করোনা, সার্চ অথবা এইসআইভি ভাইরাস এর মতো প্যারাসাইটরা কোনো বড় সংঘঠন তৈরি করেনা, তারা বিচ্ছিন্ন, বিদ্রোহী তাই তারা দেহ ছেড়ে অন্য দেহে পালায়, সে দেহ থেকে আবার অন্য কোনো দেহে, এ ভাইরাসগুলো অন্য ভাইরাসের সাথে কোনো সম্পর্কই করেনা, এরা টেরোরিস্ট, আতঙ্ক সৃষ্টিকারী, এদের কাজ শরীরের সেল ও জিনের মধ্যে সংঘাত তৈরি করা। কয়েক ট্রিলিয়ন করোনা দলবদ্ধ হয়ে শিম্পাঞ্জি, হোমো ইরেক্টাস, নিয়ান্ডারথালদের মতো একটি জটিল যন্ত্র তৈরি করেনা অথবা তৈরি করেনা সেপিয়েন্স, যারা মহাবিশ্বকে জানে এবং জানে তাদের জিনকেও । এবং তারা চাইলে জিনের কর্মকান্ডে হস্তক্ষেপ করতে পারে, বিদ্রোহী ভাইরাসগুলো কোথাও একত্র হয়ে নাসায় রোবার পার্ভেসিয়ান পাঠানোর মতো কোন বুদ্ধিমান কনশাসনেস তৈরি করতে পারে না! এ প্যারাসাইটগুলো সাম্প্রতিক মিথোজীবী জিনের তৈরি মস্তিষ্ক থেকে জন্ম নেয়া রকেট, বিমান অথবা জাহাজে ছড়ে এক দেশ থেকে অন্য দেশে চলে যায়, মুহূর্তেই সমস্ত পৃথিবীতে আতঙ্ক তৈরি করে, মানুষ খুন করে, এ স্বার্থপর ভাইরাসগুলো পুরোপুরিভাবে অস্থির তাই এরা প্রাণীদের টিকে থাকা ও বিকাশের জন্যে ভয়ানকভাবে ক্ষতিকর।  মিথোজিবী জিনগুলো এদেরকে অনেক সময় বুঝতে পারেনা বা তাদের সাথে ভয়ানক কোন  যুদ্ধ তৈরি হয়। এরা সেই স্থিতিশীল বা ভালো জিনগুলোর তৈরি শরীরকে হত্যা করে ও তাদের প্রজনন ও টিকে থাকার পথে হস্তক্ষেপ করে!

আমি এখন ডেরেল’ রে রচিত  GOD VIRUS  গ্রন্থটি থেকে এমন আরো কিছু প্যারাসাইট সম্পর্কে আলোচনা করবো যারা ঠিক এ পদ্ধতিতেই কাজ করে, অন্যের দেহকে ব্যবহার করে তারা নিজেদের স্বার্থপর উদ্দেশ্য পূরণ করে। এটি যে সবসময় জিন বা ভাইরাস হতে হবে তা নয়, অনেক সময় এটি কোকিল বা কৃমির মতো জটিল সংঘঠনও হতে পারে! তবে অবশ্যই তাদের রয়েছে জিন যা স্বার্থপর!

২. র‍্যাবিস ভাইরাস স্তন্যপায়ীদের মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট কিছু নিউরন দখল করে। তারপর ভাইরাস সে প্রাণীটিকে এমনভাবে প্রভাবিত করে যেনো সে অন্য প্রাণীদের আক্রমণ করে অথবা কামড় দেয়। আইনের ভাষায় এটাকে এবেট বলে। এবেট হলো কাউকে অন্য কারো উপর হামলা করার জন্যে প্ররোচিত করা। ক্রিমিনাল এক্ট অনুসারে, আপনি যদি কাউকে এবেট করেন অন্য কারো জীবন কেড়ে নেয়ার জন্যে তবে যে খুনি তার ও আপনার জন্যে শাস্তি একই হবে। কিন্তু এ ভাইরাসটি স্তন্যপায়ীর ব্রেনটিকে কোনোপ্রকার মঙ্গলজনক উদ্দেশ্য ছাড়াই দখল করে, তাকে টেরোরিস্টে পরিণত করে, সে অন্য প্রাণীদের হামলা করে, অন্যদের উপেক্ষা করে, ঘৃণা করে এবং অবশেষে একটা সময় সে নিজেই মারা যায়।

৩. ল্যাংসেক ফ্লুক বা ডিক্রোকোলিয়াম পীপিলিকার মস্তিষ্কে ইনফেক্টেট হয়। এবং তাদেরকে ঘাসের ঢগায় আরোহন করতে পরিচালনা করে। গরু ঘাস খায় আর তারা গরুর অন্ত্রে চলে যায়, সেখানে তারা ডিম পাড়ে, তারপর ডিমগুলো গরুর শরীর অতিক্রম করে। ক্ষুদার্থ শামুক গোবর খায়, ডিক্রোকোলিয়াম  শামুকের ডাইজেস্টিভ গ্ল্যান্ডে প্রবেশ করে, তারপর তারা মলত্যাগ করে যা ময়েশ্চার এর সোর্স হিসেবে পিঁপড়ারা সেবন করে। আর এ প্রক্রিয়ায় ল্যাংসেক তার বংশবিস্তার করতে থাকে..!হোমো ডিউস কনশাসনেস

এ ধরণের আরো বহু উদাহরণ আছে, আমরা জানি যে প্যারাসাইট, ভাইরাস এবং আরো অজস্র প্যাথোজেন আক্ষরিক অর্থে একটি বাহকের মস্তিষ্ককে তার নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। তারা শরীরগুলোকে পুনরায় পোগ্রাম করতে পারে যা বাহকের জন্যে অত্যন্ত ক্ষতিকর। একটি বিশেষ মজার উদাহরণ হলো টক্সিপ্লাজমা। এই প্রোটোজোয়া ইঁদুরদের সংক্রমিত করে। এবং এই ইঁদুররা বিড়ালের ঘ্রাণ অনুভব করার জন্মগত সহজাত বিদ্বেষ হারিয়ে ফেলে। এই আচরণটি টক্সিপ্লাজমার জন্য উপকারী কারণ এটি সেই সকল বিড়ালের শরীরের ভেতর দিয়ে প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি করতে পারে,  যারা ইঁদুর অথবা মুষিক খেতে ভালোবাসে। আক্রান্ত বিড়ালরা ড্রপিং এর মাধ্যমে টক্সোপ্লাজমাকে ছড়াতে থাকে। রবার্ট সেপেলোস্কি 2003 সালে সায়েন্টিফ আমেরিকান এর একটি এডিশনে বলেন আক্রান্ত ইঁদুররা তখনো অন্য সকল ঘ্রাণের মধ্যে পার্থক্য তৈরী করতে পারে কিন্তু বিশেষভাবে তারা বেড়ালের পেরোমোনের প্রতি ভয় হারিয়ে ফেলে যে জন্যে তারা খুব সহযেই বেড়ালদের নাগালে চলে যায় ও মৃত্যু হয়। এটা অনেকটা এরকম যে একজন ব্যাক্তি ব্রেন প্যারাসাইটে আক্রান্ত হলো কিন্ত ইঁদুর যেমন বেড়ালের ফেরোমন ছাড়া আর সকল ঘ্রাণ সনাক্ত করতে পারে, ঠিক তেমনি, প্যারাসাইট ঐ ব্যক্তির চিন্তা,আবেগ, সেট স্কোর অথবা টেলিভিশন প্রেফারেন্স এসবের মাঝে কোনো প্রভাব সৃষ্টি করেনা, প্যারাসাইট শুধুমাত্র নির্দিষ্ট করে বাহকের মস্তিষ্কে চিড়িয়াখানা যাওয়ার জন্যে দুর্দমনীয় ইচ্ছে তৈরি করে, একপ্রকার মানসিক বন্ধন তৈরি করে এবং সে মায়াময় কোনো পোলার বিয়ারকে ফেন্স কিস করতে চায়। আমরা বায়োলজির এ সুপ্রতিষ্ঠিত কৌশলকে গ্রহণ করতে পারি ধর্মের ভাইরাল কনসেপ্টের উপর। যেমনিভাবে একটি প্যারাসাইট পিঁপড়াদের  পারসেপশন অধিকার করে নেয়, ধর্মও একজন আক্রান্ত ব্যাক্তির মস্তিষ্কের পারসেপশন কেড়ে নেয়। ভাবুন ধর্মও একটি ভাইরাস ৷ তার অনন্য কিছু মিশ্র পোপার্টি নিয়ে, দুটোই সংক্রমিত হয় এবং শরীরের ম্যাকানিজমের উপর দখল নিয়ে যায়, যার মাধ্যমে তারা নিজেদের বংশবৃদ্ধি করে। ধর্মের রয়েছে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ সম্পত্তি বিভিন্ন মাত্রায়। তার মধ্যে রয়েছেঃ

১. সংক্রমণ।
২. অন্য ভাইরাসদের বিপক্ষে এন্টিবডি বা প্রতিরোধ তৈরি।
৩.নির্দিষ্ট কিছু মানসিক ও শারীরিক ফাংশনকে নিজের দখলে নিয়ে আসা।
৪. ভাইরাস ছড়ানোর জন্যে নির্দিষ্ট কিছু পদ্ধতি ব্যবহার করা।
৫. হোস্টকে ভাইরাসের বংশবৃদ্ধি করার জন্যে প্রোগ্রাম করা।

প্রতিটি ধর্মে কম অথবা বেশি এ ব্যাপারগুলি রয়েছে।  আমরা এখন এগুলোর বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেবো। মূলত আমার এ আর্টকেলটি রিচার্ড ডকিন্সের মিম তত্বের আলোকে লেখা। মিম তত্বটি নিয়ে ইতমধ্যে বিশ্বের বহু বিজ্ঞানী বহু গ্রন্থ লিখেছেন তার মধ্যে ডেনিয়েল ডেনেট এবং রিচার্ড ব্রডি উল্লেখযোগ্য। রিচার্ড ডকিন্স তার সেলফিশ জিন গ্রন্থে মিম তত্বটি প্রস্তাব করেছিলেন। আউটগ্রোয়িং গড

আমাদের জিন যেমন নিজের সংখ্যাবৃদ্ধির জন্যে নিজেকে কপি করে ঠিক তেমনি রিচার্ড ডকিন্স মনে করেন সংস্কৃতিও এক মস্তিষ্ক থেকে অন্য আর একটি মস্তিষ্কে ছড়িয়ে যায়। জিন যেমন প্রাকৃতিক নির্বাচনের অতিক্ষুদ্রতম একক ঠিক তেমনি মিমও সাংস্কৃতিক নির্বাচনের অতিক্ষুদ্রতম একক। আমরা জানি জিন হলো অনুলিপিকারক অনু যাদেরকে রিচার্ড ডকিন্স ভাইরাস বলে অভিহিত করেছেন। এ অনুলিপিকারক অনুরা প্রোগ্রামেবল ম্যাটারের মতো , তারা নিজেদের অনুলিপি তৈরি করতে পারে, আদিম প্রি-মর্ডিয়াল সুপে এরা নিজেদের অনুলিপি তৈরি করতো এবং তাদের ভেতর তীব্র প্রতিযোগিতা বিদ্যমান ছিলো, অনুলিপি তৈরি করার জন্যে তাদের প্রয়োজন ছিলো উপাদান, যে জন্যে তারা একটা সময় অন্য অনুলিপিকারক অনুদের একপ্রকার জৈব রাসায়নিক পদার্থ নিস্বরণের ভেতর দিয়ে ভেঙে ফেলতে সক্ষম হয়ে উঠেছিলো , আর তাদের উপাদানগুলো এ অনুলিপিকারকরা তাদের নিজেদের অনুলিপির  জন্যে ব্যবহার করতো। বিপরীতক্রমে যাদের এ ক্ষমতা ছিলোনা তারা স্বার্থপর অনুলিপিকারকদের থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্যে তাদের বাহিরের দিকে এক প্রকার আবরণ বা ঢাল তৈরি করতে শেখে ,  যাকে আমরা এখন সেল বলি। আর এ প্রক্রিয়া মিলিয়ন মিলিয়ন বছর পর্যন্ত নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে অব্যাহত ছিলো। একটা সময় এ স্বার্থপর অনুলিপিকারকরা ছোট ছোট দল গঠন করে, তারা পারস্পরিক সহযোগীতার ভিত্তিতে দলবদ্ধ হয়ে বসবাস করতে শুরু করে, যেটাকে বলা হয় মিথোজীবীতার সম্পর্ক যা আমরা সামাজিক কীট পতঙ্গের মধ্যে পর্যবেক্ষণ করি। এ ধরণের সামাজিক কীট পতঙ্গের মধ্যে একটি হলো নিউ ওয়ার্ল্ডের প্যারাসল পিঁপড়া। একটি কলোনিতে একসাথে প্রায় দুই মিলিয়ন প্যারাসল বাস করে। এরা মাটির দশ ফুট নিচে বসবাস করে অথবা মাটির আরো গভীরে সুড়ঙ্গ তৈরি করে আর খোলা জায়গায় একটি আন্তসংযোগ সুবিশাল জালের মতো ছড়িয়ে থাকে।  যা তৈরি করতে তাদের প্রায় চল্লিশ টন পর্যন্ত মাটি খুঁড়তে হয়েছে। এ পিঁপড়ারা মাটির নিচের কিছু কক্ষে পরিকল্পিত উপায়ে এক ধরণের বিশেষ ছত্রাক চাষ করে। মানুষ কৃষিকাজ শুরু করেছিলো আজ থেকে দশ হাজার বছর পূর্বে। মানুষ থেকেও লাখ লাখ বছর পূর্বে প্যারাসলরা ছত্রাক চাষ করা শুরু করে। ছত্রাক চাষের জমিগুলো ছিলো বৈজ্ঞানিক। কারণ সে মাঠগুলোতে তারা একপ্রকার কম্পোস্ট ব্যবহার করতো , এ জন্যে পিঁপড়ারা কোটি কোটি গাছের পাতা সংগ্রহ করতো ও সেগুলোকে মুখ দিয়ে চিপিয়ে কম্পোস্ট করতো। পাতার জন্যে প্যারাসলদের ক্ষুদা ছিলো দানব সদৃশ। ছত্রাক চাষ করে সে ছত্রাক তারা তাদের সন্তানদের দিতো ও নিজেরা খেতো। মূলত, পাতা খাওয়ার পর এর উপাদানগুলো প্যারাসলরা ভাঙতে পারতোনা আর ছত্রাক খেলে তাদের এ হজম প্রক্রিয়া দ্রুততর হতো। ঠিক এ কারণেই তারা ছত্রাক চাষ করতে বাধ্য হয়েছিলো। অন্যদিকে ছত্রাকরাও এতে লাভবান হয় কারণ তারা নিজেদের স্পোর বিস্তার করে যত দ্রুত বংশবিস্তার করতো প্যারাসলরা তাদেরকে এর থেকেও সফলভাবে প্রজনন করার সুযোগ দেয়।

প্যারাসল পিঁপড়ারা তাদের আগাছা পরিস্কার করছে, অন্য কোন প্রজাতির ছত্রাক সেখানে যেনো জন্ম নিতে না পারে সেদিকে দৃষ্টি রাখছে। প্যারাসলরা যেভাবে ছত্রাক দ্বারা উপকৃত হয়েছিলো, ছত্রাকরাও প্যারাসলদের ব্যাবহার করে নিজেদের সফলতার সাথে বংশবৃদ্ধি করতে থাকে। ছত্রাকরা ছিলো প্যারাসলদের গৃহপালিত ফসল। আবার দেখা যাচ্ছে,  পিঁপড়ারা কখনো ছত্রাকের মাঠ  ত্যাগ করে অন্য কোথাও যেতোনা, ছত্রাক চাষ করার জন্যেই তারা দশফুট মাটির নিচে বাস করতো, ছত্রাক ক্ষেত ত্যাগ করে অন্য কোথাও যাওয়ার কোনো সুযোগই ছিলোনা প্যারাসলদের। সে দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে ছত্রাকরা পিঁপড়াদের মাটির দশফুট নিচে  বাস করতে বাধ্য করেছিলো বা প্যারাসলদেরকেই ছত্রাকররা গৃহপালিত প্রাণীতে পরিণত করেছিলো।

যাই হোক, সেসময় প্যারাসল পিঁপড়ারা শুধুমাত্র ছত্রাকই চাষ করতোনা, একইসাথে তাদের গৃহপালিত পশুও ছিলো। সে প্রাণীটির নাম ছিলো এফিড- গ্রীনফ্লাই, এটি একপ্রকার পোকা। এরা যতো দক্ষতার সাথে উদ্ভিদের রসনালী শোষণ করতে পারে তত দক্ষতার সাথে এগুলো পরিপাক করতে পারে না। যার ফলে তারা যে তরল নিস্বঃরণ করে তার খুব অল্প পুষ্টিগুণই তাদের শরীরে শোষিত হয়েছে। আর এ শর্করা সমৃদ্ধ “হানিডিউ” এফিডদের পেছন দিক থেকে দ্রুতহারে বের হতে থাকে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ঘন্টায় পতঙ্গটির নিজেদের শরীরের ওজন থেকেও অনেক বেশি তরল নিঃস্বরণ করে। হানিডিউ বৃষ্টির মতো ঝরে পড়ে যাকে বলা যায় ওল্ড টেস্টামেন্টের মান্না।

কিছুকিছু পিঁপড়া এ প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করে। তারা এফিডের পেছনে এসে গরুর দুধের মতো পা দিয়ে টোকা দিয়ে এগুলো  বের করে আনে, এপিডরা এটাকে সাড়া দেয়, এমনকি কিছুকিছু হানিডিউ এ রসগুলি আটকে রাখে যতক্ষন না পিঁপড়া তাদের পেছনে টোকা দেয় এবং অনেক সময় ফোটাটি সরিয়ে নেয় যদি পিঁপড়ারা এটি গ্রহণ করতে প্রস্তুত না থাকে! প্রস্তাব করা হয়েছে যে, কিছু এফিড তাদের পেছনের অংশ এমনভাবে বিবর্তিত করেছে দেখতে এবং অনুভব করতে পিঁপড়ার মুখের মত মনে হয়, পিঁপড়াদের আরো ভালো করে আকর্ষণ করার জন্য। এফিডরা এই সম্পর্ক থেকে যা অর্জন করে সেটি হচ্ছে আপাতদৃষ্টিতে তারা তাদের প্রাকৃতিক শত্রুর হাত থেকে সুরক্ষা পায়। আমাদের গবাদী পশুদের মত তারাও একটি সুরক্ষিত জীবন কাটায়। যে সকল এফিড প্রজাতিদের বিশেষভাবে প্রতিপালন করে পিঁপড়ারা, এবং তারা তাদের স্বাভাবিক প্রতিরোধ ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পিঁপড়া এমনকি এফিডদের ডিমও দেখাশোনা করে মাটির নিচে তাদের ঘরে, বাচ্চা এফিডদের তারা খাওয়ায় এবং অবশেষে যখন তারা পূর্ণবয়স্ক হয়, সুরক্ষিত কোনো গাছের কাণ্ডে রস শুষে খাবার জন্য তাদেরকে সাবধানে সেখানে তুলে নিয়ে যায়, অনেকটা চরে বেড়াবার জন্য তার চারণ ভূমিতে। পারস্পরিক উপকার করার এ সম্পর্ক যা ভিন্ন ভিন্ন প্রাণীদের মাঝে দেখা যায় এটাকে বলে মিথোজীবীতা বা সিমবায়োসিস অথবা মিউচালিজম।

  • আমাদের প্রত্যেকের শরীরে প্রতিটি কোষের মধ্যে অসংখ্য ক্ষুদ্র অঙ্গাণু থাকে, যাদের ‘মাইটোকন্ড্রিয়া’ বলা হয়। মাইটোকন্ড্রিয়ারা হচ্ছে রাসায়নিক কারখানা, আমাদের শরীরের প্রয়োজনীয় শক্তির বেশীর ভাগ অংশের যোগান দেবার দায়িত্ব তারা পালন করে থাকে। কোনোভাবে যদি আমরা আমাদের মাইটোকন্ড্রিয়াদের হারাই তাহলে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই আমরা মারা যাবো। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তিগ্রাহ্যভাবে প্রস্তাব করা হয়েছে যে, মাইটোকন্ড্রিয়া হচ্ছে, এর উৎসে, মূলত মিথোজীবী ব্যাকটেরিয়া, যারা আমাদের কোষের সাথে জোড় বেঁধেছিল বিবর্তনের প্রায় শুরুর দিকে একই ধরনের প্রস্তাব করা হয়েছে আমাদের কোষের ভিতরের থাকা অন্যান্য অঙ্গাণুদের ক্ষেত্রেও। মূলত সবচেয়ে বৈপ্লাবিক ধারণা যা রিচার্ড ডকিন্স প্রস্তাব করেছেন তা হলো প্যারাসাল পিঁপড়া, এপিড, ছত্রাকদের মধ্যে যে মিউচালিজম কাজ করছে ঠিক একই মিউচালিজম তৈরি করেছিলো সে আদিম অনুলিপিকারক অনুরা, প্রিমর্ডিয়াল স্যুপে  নিজেদের অনুলিপি তৈরি করতে গিয়ে একটা সময় প্যারাসল ও এফিডদের মতো তারা অন্য অনুলিপিকারকদের সাথে দলবদ্ধ হয়, আর এতে করে তৈরি হয় কমপ্লেক্স শরীর, ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন অনুলিপিকারক একত্রিত হয়,  বড় বড় সংঘটন তৈরি করে যেখানে বিকাশিত হয় কনশাসনেস ও ইন্টিলিজেন্স। আমরা এক্ষেত্রে সামাজিক পতঙ্গ মৌমাছির কথা বলতে পারি, ৯৯ ভাগ নারী মৌমাছি সন্তান জন্ম দেয়না , তারা রানীকে প্রজনন ও বংশবিস্তার করতে সাহায্য করে, কারণ মায়ের থেকেও রানীর  সাথে তাদের জিনগত সম্পর্ক বেশি। কর্মী মৌমাছিদের আপনি দল থেকে আলাদা করে ফেললে তাদের চেতনা হারিয়ে যাবে, তাদের মধ্যে কোনো চেতনা কাজ করবেনা ঠিক যেমনি মস্তিষ্ক থেকে একটা সেল তুলে ফেললে সেখানে কোনো বুদ্ধিমত্তা কাজ করেনা।  মূলত, মৌমাছিদের কানশাসনেস ও বুদ্ধিমত্তা সামাজিক, তারা একটি কালেকটিভ কনশাসনেস হিসেবে কাজ করে। আমাদের লিভার, ফুসফুস, চোখ এবং দাত সম্পূর্ণ শরীরে জিন থাকলেও আমাদের সম্পূর্ণ শরীর যেমন সন্তান জন্মদানে যোগ দেয়না ঠিক তেমনি মৌমাছিদেরকেও একটি শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ হিসেবে ভাবতে হবে আর তাদের রানীকে ভাবতে হবে তাদের শরীরের যৌনযন্ত্র  হিসেবে, তারা শরীরের মত জৈব রাসায়নিক সিগনালের মাধ্যমে একে অন্যের সাথে যোগাযোগ করে। সত্যিকার অর্থে রানী হলো কর্মী মৌমাছিদের যমজ বোন, যার শরীরে কর্মীদের মতোই একইরকম জিন থাকে কিন্তু জন্মের পর রানী মৌমাছির লালন পালন ও খাদ্যের বিশেষ ভিন্নতার করণেই তার মধ্যে রানীত্বের বিকাশ ঘটে যদিও একই জিন বাকি ৯৯ ভাগ কর্মীর মধ্যেও বিদ্যমান ছিলো! মৌমাছিদের মধ্যকার সামষ্টিক সম্পর্ক যেমন তাদের ভেতর কনশাসনেস ও বুদ্ধিমত্তা জন্ম দেয় ঠিক তেমনি আমাদের শরীরের ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন জিন সম্মিলিত ভাবে পারস্পরিক মিথোজিবিতার ভিত্তিতে  আমাদের মস্তিষ্ক ও কনশাস জন্ম দেয়। যদিও পৃথক কোনো জিনের মধ্যে কনশাসনেস পাওয়া যাবেনা আর স্বতন্ত্র কোনো জিন জানেওনা যে তাদের সম্মিলিত একটি কাঠামোর ভেতর চেতনা ও বুদ্ধি তৈরি হয়েছে এবং সে মস্তিষ্ক মহাবিশ্বকে জানে, সে চেতনার মাঝে কাজ করে রেডিও, টেলিভিশন ও কোয়ান্টাম কম্পিউটার এবং সেখানে তৈরি হয় ধর্মীয় ভাইরাস।এক্ষেত্রে সেলফিশ জিন গ্রন্থ থেকে একটি উদাহরণ দেয়া যেতে পারে। আমরা জানি, এন্ড্রোমিডা গ্যালাক্সি থেকে আমাদের পৃথিবীর দূরত্ব ১.৫ মিলিয়ন আলোকবর্ষ, যদি মোর্স কোডের মাধ্যমে এন্ড্রোমিডা থেকে কোনো প্রোগ্রামার কোনো একটি প্রোগ্রাম সেন্ড করে তবে সেটি আমাদের গ্রহে এসে পৌঁছাতে সময় লাগবে ১৫০ মিলিয়ন বছর। A for Andromeda মুভিতে দেখানো হয়, একবার এন্ড্রোমিডা থেকে এলিয়েনরা পৃথিবীতে একটি কম্পিউটারের নকশা সেন্ড করে, তারা টানা একমাস ব্যাপী অখন্ডভাবে সে মেসেজটি তৈরি করেছিলো কারণ ভেঙে ভেঙে মেসেজ সেন্ড করলে সে মেসেজটি ভেঙে ভেঙে আসবে আর এতে মিলিয়ন মিলিয়ন বছর কেটে যাবে সে মেসেজটি সম্পূর্ণ রুপে পেতে। যেমন আপনি এন্ড্রোমিডা আছেন আর আমি পৃথিবীতে, আমি আপনাকে যদি “Hello” বলি তবে সেটি আপনার কাছে যাবে ২.৫ মিলিয়ন বছর পর আর তখন নিশ্চয় আপনি এন্ড্রোমিডাতে থাকবেন না! হয়তো অন্য কেউ ক্রিপ্টাগ্রাফারের মাধ্যমে আমার মেসেজটি পড়বে এবং আমাকে “HI” লিখে সেন্ড করবে সে মেসেজ আমার কাছে আসতে আসতে ইতমধ্যে পৃথিবীতে চার মিলিয়ন বছর সময় চলে গেছে। আসলে এভাবে ভেঙে ভেঙে মেসেজটি মাঝখানে ২.৫ মিলিয়ন বছর গ্যাপ দিয়ে আসলে লক্ষ লক্ষ জেনারেশন পৃথিবীতে বিলুপ্ত হয়ে যাবে কিন্তু কারো কাছেই মেসেজটি পরিপূর্ণ ভাবে আসবেনা আর কম্পিউটারটিও তৈরি হবে না..! এ জন্য বার্তাটি পাঠাতে হবে একসাথে ও অখন্ডভাবে।

এন্ড্রোমিডাবাসীও ঠিক এ প্রক্রিয়ায় একটি কম্পিউটার ডিজাইন সেন্ড করেছিলো,  পৃথিবীতে এক নায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠার করার উদ্দেশ্যে। কম্পিউটারটি পৃথিবীর বিজ্ঞানীরা তৈরিও করেছিলো। কিন্তু এন্ড্রোমিডার সাথে পৃথিবীর বিশাল দূরত্বের কারণে এলিয়েনরা জানতোনা যে তাদের প্রোগ্রামটি আমাদের গ্রহে বাস্তবায়িত হয়েছিল কিনা । ঠিক তেমনি জিনও আমাদের মস্তিষ্ককে প্রোগ্রাম করেছিলো মিলিয়ন মিলিয়ন বছর পূর্বে একসাথে ও অখন্ডভাবে, তারপর আবার  মিলিয়ন মিলিয়ন বছরের বিভিন্ন পরিবেশগত পরিবর্তন জিনের মধ্যে ছোট ছোট মিউটেশন ঘটায় এবং তাদের ভেতরের সাংঘঠনিক রুপ পরিবর্তন হয় যেমন- ডায়নোসর পরিবর্তিত হয়েছে পাখিতে, জলচর প্রাণীরা পরিণত হয়েছিলো সরিসৃপে, প্রাইমেটরা পরিবর্তিত হয়েছিলো হোমো এরেক্টাস, নিয়ান্ডার ও সেপিয়েন্সে! এন্ড্রোমিডার এলিয়েন প্রোগ্রামাররা  টাইম ল্যাগের কারণে যেমনিভাবে তাৎক্ষণিক তাদের পাঠানো নকশাটির সফলতা ও পরিবর্তন সম্পর্কে কিছু জানতে পারেনা অথবা  নতুন কোনো পরিবর্তন সাধন করতে পারেনা ঠিক তেমনি জিনও আমাদের মস্তিষ্কের কনশাসনেস তৈরি হয়েছে কি না অথবা আমরা কোন পদ্ধতিতে চিন্তা করি, আমাদের ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি তা জানেনা কারণ জিনের সাথে মস্তিষ্কের কার্যকারণ ও সময়গত দূরত্ব আছে! আর জিনগুলো পারস্পরিক মিউচালিজমের মাধ্যমে যে জটিল সংঘটন তৈরি করেছে সে সংঘঠনের বাহিরে জিনদের কোনো বুদ্ধি বা কনশাসনেস নেই,  ঠিক যেমনি কলোনির বাহিরে মৌমাছিদের কোন বুদ্ধমত্তা নেই। মানুষের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে এ জিনদের জটিল এ সংঘঠনের মধ্যে, বা ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন জিনের কলোনির ভেতর যে কনশাসনেস তৈরি হয়েছে সেটির ভেতরেই চিন্তা, কল্পনা, আইডিয়া ও সংস্কৃতি তৈরি হয় , তাই মিউচুয়াল সম্পর্ক বা কলোনির বাহিরে জিনদের কাছে ব্যক্তিগতভাবে কোনো চেতনা, চিন্তা, কল্পনা, আইডিয়া অথবা সংস্কৃতি নেই। আর ঠিক এ সামষ্টিক চেতনার ভেতরেই নতুন একপ্রকার অনুলিপিকারক জন্ম নিয়েছে। রিচার্ড ডকিন্স  selfish  Gene গ্রন্থে যা বলেছেন তার বিশ্লেষণ করলে দাঁড়ায়,  এন্ড্রোমিডা গ্যালাক্সি থেকে কোনো প্রোগ্রামার যদি পৃথিবীতে কোনো কম্পিউটারের নকশা সেন্ড করে তবে মধ্যবর্তী দূরত্বের কারণে ২.৫ মিলিয়ন বছর পূর্ণ হওয়ার পূর্বে যেমন তারা পৃথিবীতে কম্পিউটারটি তৈরি হয়েছে কী না জানতে পারেনা ঠিক তেমনি জিন ও মস্তিষ্কের মাঝখানে সময় ও কার্যকারণগত পার্থক্যের কারণে জিনও জানেনা তার তৈরি সার্ভাইভাল মেশিনের ভেতর কনসাসনেস আছে এবং এটি চিন্তা করতে পারে, এবং তার তৈরি সেপিয়েন্সরা তার প্রোগ্রামকে অস্বীকার করে কোনো এক ঈশ্বরের ধারণার জন্ম দিয়েছে , তারা বিশ্বাস করে ঈশ্বরই তাদের অস্তিত্বের কারণ! অনুলিপিকারক জিনরা মিলিয়ন মিলিয়ন বছরের বিবর্তনে যে মস্তিষ্কটি তৈরি করেছে , সে মস্তিষ্কের স্নায়ুতন্ত্রের ভেতর নতুন একটি অনুলিপিকারক অনুর জন্ম হয়েছে, তবে সেটি জিনের মতো  কোনো ম্যাটারিয়ালসের তৈরি নয়, সেটি সংস্কৃতির তৈরি, এটিও অনুলিপি তৈরি করে, এ বিবর্তিত অনুলিপিকারক বিভিন্ন ধরণের তথ্য বা ধারণা অনুলিপি করে এবং সেগুলিকে এক মস্তিষ্ক থেকে অন্য মস্তিষ্কে ছড়িয়ে দেয়। এন্ড্রোমিডা গ্যালাক্সি থেকে কোনো প্রোগ্রামার পৃথিবীতে কোনো একটি কম্পিউটার প্রোগ্রাম সেন্ড করলে সেটি কার্যকর হয়েছে কিনা সে তথ্য যেমন ২.৫ মিলিয়ন বছর আগে এন্ড্রোমিডাবাসী জানতে পারেনা,  ঠিক তেমনি জিনও জানেনা তার তৈরি মস্তিষ্কের ভেতর আরো এক ধরণের অনুলিপিকারক অনু তৈরি হয়েছে এবং সে অনুগুলো বিভিন্ন রকম অদ্ভুত ও অবান্তর ধারণা অনুলিপি করে! নতুন এ অনুলিপিকারক অনুগুলোকে রিচার্ড ডকিন্স মিম বলে দাবি করেছেন এবং তিনি মনে করেন প্রকৌশলগত দিক থেকে মিমও জিনের মতো জীবিত, তারাও বায়োলজিক্যাল কারণ তারা মস্তিষ্কের  স্নায়ুতন্ত্রে বাস করে এবং জৈব রাসায়নিক উপাদানগুলোর সাথে জটিল মিথস্ক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে, তারা জিনের মতোই নিজের অনুলিপি তৈরি করে ও এক মস্তিষ্ক থেকে অন্য মস্তিষ্কে ঘুরে বেড়ায়। ঈশ্বর ও অবিনশ্বর আত্মাও এমন একটি মিম, কোন ব্যাক্তির মস্তিষ্ক ধবংস হয়ে গেলেও তার মস্তিষ্কের এ ধারণাগুলো ভবিষ্যত প্রজন্মের মস্তিষ্কে টিকে থাকে আর এ অর্থে মিম জৈবিক শরীরেই অবস্থান করে এবং এটি জিনের মতোই প্রাণময়!  ঈশ্বর ও আত্মার অস্তিত্ব আছে  , তবে সেটি আমরা যে অর্থে ভাবি সে অর্থে নয় , ঈশ্বরের অস্তিত্ব আছে আমাদের ডিএনএ ভাইরাসের মতোই কিছুটা ভিন্ন এক ধরণের  নতুন অনুলিপিকারক অনু হিসেবে, সে অনুটি মস্তিষ্কের জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়াকে ব্যবহার করে, তার অনুলিপি তৈরি করে এবং ছড়িয়ে পড়ে মানব সভ্যতার সামগ্রিক স্নায়ুতন্ত্রে! রিচার্ড ডকিন্স বলেছেন, ফিজিক্সের সুত্রগুলি যেমন মহাবিশ্বের সকল বস্তুর উপর সমানভাবে প্রযোজ্য, ফিজিক্সের সুত্রগুলোর মধ্যে যেমন একপ্রকার বিশ্বজনীনতা আছে ঠিক তেমনি জীববিজ্ঞানেরও এমন একটি বিশ্বজনীন মূলনীতি থাকা সম্ভব! আপনি টাইম ট্রাভেল করে এক মিলিয়ন বছর অতীতে চলে গেলেও দেয়ালে ধাক্কা খাবেন কারণ দেয়ালের পরমাণুগুলো শূন্যস্থানের তৈরি হলেও সেগুলোর ভেতর তখনও কাজ করে ফোর্সফিল্ড , আপনি উপরের দিক লাফ দিলে নিচে পড়ে যাবেন কারণ পৃথিবীর কেন্দ্রে কাজ করে গ্রেভিটি। ঠিক তেমনি মহাবিশ্বে যদি কার্বনভিত্তিক জীবনের পরিবর্তে সিলিকন বেস জীবনেরও অস্তিত্ব থাকে, যদি জীবন শরীরের তৈরি না হয়ে কম্পমান ইলেক্ট্রিক্যাল সার্কিটের তৈরিও হয়,  তবুও তাদের মধ্যে নিজেদের অনুলিপি করার সার্বজনীন একটি নীতি কার্যকর থাকবে, তিনি চ্যালেঞ্জ করে বলেছেন, অনুলিপিকারক অনুগুলো আমাদের ডিএনএ হোক অথবা হোক কোনো কম্পিউটার প্রোগ্রাম তাদের প্রত্যেকের মধ্যে নিজেদের অনুলিপি করার বৈশিষ্ট্যটি উপস্থিত থাকবে , আর এ ধরণের অনুলিপিকারক অনুদেরকে আবিষ্কার করার জন্যে নাসার কোনো বিজ্ঞানীকে মিল্কিওয়ের অন্য কোনো গ্রহে ভ্রমণ করার প্রয়োজন নেই, এমন অনুলিপিকারক অনু  আমাদের পৃথিবীতেই জন্ম নিয়েছে, আমাজন জঙ্গলে নয়, নয় কোনো মহাসমূদ্র অথবা কম্পিউটারে , সেগুলোকে পাওয়া যাবে সরাসরি বিজ্ঞানীর মস্তিষ্কের নিউরাল নেটওয়ার্কে, যদি সে একবারের জন্যে সচেতন হয়! যা হোক, আমরা এখনে মিমকে প্যারাসাইটের রূপকে প্রকাশ করছি , আমরা দেখতে পেয়েছি যে আমাদের জিন নিজের অনুলিপিকৃত মস্তিষ্কটির ভেতর আরো একটি অনুলিপিকারক জন্ম দিয়েছে। এ দুটি অনুলিপিকারকের ভেতর সচেতন কোন যোগাযোগ নেই, জিন জানে না যে মিম নামক কিছু একটা আমাদের চেতনায় আছে। এবং মিম জিনের মতোই এক মস্তিষ্ক থেকে অন্য মস্তিষ্কে সংক্রমিত হয় এবং ভাইরাস, ব্যাক্টেরিয়া ও প্যাথোজেনের মতো একজন হোস্টের দেহ ও মনকে নিজের স্বার্থপর উদ্দেশ্যে পরিচালনা করে এবং অনেক সময় হোস্টকে হত্যা করে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, মিম কতটা ক্ষুদ্র, যে জন্যে এটাকে ক্ষুদ্রতম একক বলা হয় আর সংস্কৃতি কেনো স্বার্থপর হবে? এক্ষেত্রে একটা উদাহরণ দেয়া যাক, আমরা একটি গানের সকল লাইন মনে রাখতে পারিনা, আমরা সে গানটির মাত্র কিছু অংশ মনে রাখতে পারি যে অংশগুলি আমাদের ব্রেনকে প্রভাবিত করে এবং আমাদের শরীরের মৃত্যু পর্যন্ত সেটি টিকে থাকে। আমরা কী এখন বলবো গান বা কবিতার ঐ লাইনটি স্বার্থপর? মূলত, মিমকে আমরা স্বার্থপর বলছি ঠিক এ অর্থে যে সংস্কৃতির কিছু একক আছে যেগুলো আমাদের মস্তিষ্কে অখন্ডভাবে টিকে যায় এবং জিনের মতোই এটি অনেক সময় ছোটখাটো কিছু ভুল করে এবং সেখান থেকে নতুন কোনো বৈশিষ্ট্য তৈরি হয়,  যেটাকে বলা হয় মিউটেশন। যেমন- আপনি আপনার ছাত্রদের সাথে কোয়ান্টাম ফিজিক্স নিয়ে আলোচনা করলেন, তারা সে জনপ্রিয় শ্রডিঙ্গার কেট দ্বারা প্রভাবিত হবে এবং সেগুলো আরো অনেকের মাঝে ছড়িয়ে দেবে, তাদের বর্ণনা ও উপস্থাপনার ভঙ্গি পরিবর্তন হবে ঠিকই কিন্ত তাদের প্রত্যেকের মাঝেই শ্রডিঙ্গার কেট থট এক্সপেরিমেন্টের মূলনীতিটি টিকে থাকবে! ডারউনের প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্বকে অনেকে অনেকভাবে এক্সপ্লেইন করেন, তাদের বর্ণনা ও প্রকাশভঙ্গীতে বিভিন্ন রকমের অভিনবত্ব যুক্ত হয় কিন্তু তবুও  প্রাকৃতিক নির্বাচন নামক সাধারণত একটি মূলনীতির ভেতর থেকেই তারা তাদের গল্প উপস্থাপন করে। ঠিক একই মূলনীতির উপর রিচার্ড ডকিন্স মিম তত্ব প্রদান করেছেন, আজ যদি ডারউইন বেচে থাকতেন এবং শুনতেন, ঈশ্বর একটি মিম তখন নিশ্চয় তিনি এর কোনো অর্থ বুঝতে পারতেন না যদিও এ তত্বটি প্রাকৃতিক নির্বাচনের মূলনীতি অনুসরণ করেই গৃহিত হয়েছে! আজ আপনার সাথে কেউ ইন্দোইউরোপীয় ভাষায় কথা বললে আপনি তার কথা বুঝবেন? নিশ্চয়ই নয়! কারণ যদিও বাংলা ভাষা ইন্দোইউরোপীয় ভাষা থেকেই এসেছে কিন্ত এটি বিবর্তিত হয়েছে, তাই বাংলা ভাষা আর ইন্দোইউরোপীয় ভাষার মূলনীতি অখন্ডভাবে পরবর্তী প্রজন্মে স্থানান্তরিত হলেও ইন্দোরোপিয় ভাষা এখন আর টিকে নেই! আমরা এক্ষেত্রে মূলনীতিগুলিকেই সংস্কৃতির অখন্ড একক বলতে পারি, সংস্কৃতি এ অর্থেই স্বার্থপর আর এটি বিবর্তিত হয় আর এক মস্তিষ্ক থেকে অন্য মস্তিষ্কে নিজের অনুলিপি তৈরি করে। আমরা এখন জানবো কিভাবে গড ভাইরাস  আমাদের মস্তিষ্কে কাজ করে, আমাদের মস্তিষ্ক ও শরীরকে নিজের দখলে এনে এটি আমাদেরকে তার বাহক হিসেবে ব্যবহার করে । আমরা জানি,  মিম জিনের মতোই এক মস্তিষ্ক থেকে অন্য মস্তিষ্কে সংক্রমিত হয় এবং ভাইরাস, ব্যাক্টেরিয়া ও প্যাথোজেনের মতো একজন হোস্টের দেহ ও মনকে নিজের স্বার্থপর উদ্দেশ্যে পরিচালনা করে এবং অনেক সময় হোস্টকে হত্যা করে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, মিম কতটা ক্ষুদ্র, যে জন্যে এটাকে ক্ষুদ্রতম একক বলা হয়?  আর সংস্কৃতি কেনো স্বার্থপর হবে? এক্ষেত্রে একটা উদাহরণ দেয়া যাক, আমরা একটা গানের সকল লাইন মনে রাখতে পারিনা, আমরা সে গানটির মাত্র কিছু অংশ মনে রাখতে পারি, যে অংশগুলি আমাদের ব্রেনকে প্রভাবিত করে এবং আমাদের শরীরের মৃত্যু পর্যন্ত সেটি টিকে থাকে। আমরা কী এখন বলবো গান বা কবিতার ঐ লাইনটি স্বার্থপর? মূলত, মিমকে আমরা স্বার্থপর বলছি ঠিক এ অর্থেই যে সংস্কৃতির একটি একক আছে যেটি আমাদের মস্তিষ্কে অখন্ডভাবে টিকে যায় এবং জিনের মতোই এটি অনেক সময় ছোটখাটো কিছু ভুল করে এবং সেখান থেকে নতুন কোনো বৈশিষ্ট্য তৈরি হয়, যেটাকে বলা যায় মিউটেশন। যেমন- আপনি আপনার ছাত্রদের সাথে কোয়ান্টাম ফিজিক্স নিয়ে আলোচনা করলেন, তারা অবশ্যই  জনপ্রিয় শ্রডিঙ্গার কেট দ্বারা প্রভাবিত হবে এবং সেগুলো আরো অনেকের মাঝে ছড়িয়ে দেবে। এতে করে তাদের বর্ণনা ও উপস্থাপনার ভঙ্গি পরিবর্তন হবে ঠিকই কিন্ত তাদের প্রত্যেকের মাঝেই শ্রডিঙ্গার কেট থট এক্সপেরিমেন্টের মূলনীতিটি টিকে থাকবে! ডারউনের প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্বকে অনেকে অনেকভাবে এক্সপ্লেইন করেন, তাদের বর্ণনা ও প্রকাশভঙ্গীতে  বিভিন্ন রকমের অভিনবত্ব যুক্ত হয় কিন্তু প্রাকৃতিক নির্বাচন নামক সাধারণত একটি মূলনীতির ভেতর থেকেই তারা তাদের গল্প উপস্থাপন করেন। বিবর্তনের মূলনীতির উপর রিচার্ড ডকিন্স মিম তত্ব প্রদান করেছেন। আজ যদি ডারউইন বেচে থাকতেন এবং শুনতেন, ঈশ্বর একটি মিম তখন নিশ্চয় তিনি এর কোনো অর্থ বুঝতে পারতেন না যদিও এ তত্বটি প্রাকৃতিক নির্বাচনের মূলনীতি অনুসরণ করেই গৃহিত হয়েছে যা তারই আবিষ্কার ! আজ আপনার সাথে কেউ ইন্দোইউরোপীয় ভাষায় কথা বললে আপনি কি তার কথা বুঝবেন? নিশ্চয়ই নয়, কারণ যদিও বাংলা ভাষা ইন্দো ইউরোপীয় ভাষা থেকেই এসেছে কিন্ত এটি বিবর্তিত হয়েছে, তাই বাংলা  আর ইন্দোইউরোপীয় ভাষার মূলনীতি অখন্ডভাবে পরবর্তী প্রজন্মে স্থানান্তরিত হলেও ইন্দোরোপিয় ভাষা এখন আর টিকে নেই! আমরা এক্ষেত্রে মূলনীতিগুলোকেই সংস্কৃতির অখন্ড একক বলতে পারি, সংস্কৃতি এ অর্থেই স্বার্থপর। এটি বিবর্তিত হয় আর এক মস্তিষ্ক থেকে অন্য মস্তিষ্কে নিজের অনুলিপি তৈরি করে। আমরা এখন জানবো কিভাবে গড ভাইরাসটি আমাদের মস্তিষ্কে কাজ করে, আমাদের মস্তিষ্ক ও শরীরকে নিজের দখলে এনে এটি আমাদেরকে তার বাহক হিসেবে ব্যবহার করে এবং অন্যান্য মস্তিষ্কগুলোতে সংক্রমিত হয়। অনেকে বলেন, ঈশ্বর ও ধর্ম যদি ভাইরাস হয় তবে বিজ্ঞান ও দর্শন কেনো ভাইরাস নয়? তাদের ধারণা সঠিক, আসলেই তো বিজ্ঞান,প্রযুক্তি, দর্শন অথবা আর্ট সবকিছুই তো নিজেদের কপি করছে, তাহলে আমরা এগুলোকে কেনো ভাইরাস বলবো না? এ অতি সংবেদনশীল ব্যাপারটি পরিচ্ছন্ন করার জন্যে  প্রথমেই আমি প্যারাসাইট ও জিনের মধ্যে পার্থক্যটি দেখিয়েছি। প্যারাসাইট বিদ্রোহী, এদের মধ্যে কোনোপ্রকার মিউচালিজম বা মিথোজীবীতা নেই, তারা কোনো দেহ কাঠামোয় স্থির থাকে না, তারা শরীরের কোনো উপকারে আসেনা, আর কোনো দৈহিক সংঘঠন তৈরি না করার কারণে, এ জিনগুলো কখনো কনশাসনেস ও বুদ্ধিমত্তার জন্ম দিতে পারেনা। মিথোজীবী জিনরা একটি বিশেষায়িত উপায়ে কাজ করে, তারা একে অপরকে সহযোগিতা করে, তারা পারস্পরিক সমন্বয় রক্ষা করে আর এতে করে কোন একক শরীর তাদের দ্বারা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়না। অন্যদিকে করোনা অথবা এইস আইভির মতো ভাইরাসরা বিদ্রোহী, এদের মধ্যে কোনো স্থিরতা নেই, এরা কোনো সৃজনশীল ও বুদ্ধিমান সত্ত্বা তৈরি করে না। বিজ্ঞানও একটি ভাইরাস তবে এটি একটি বিশেষায়িত প্রক্রিয়ায় কাজ করে, এর কর্ম পদ্ধতি স্থিতিশীল ও সুশৃঙ্খল আর এ স্থিতিশীলতা ও শৃঙ্খলা আছে বলেই আমরা আজকের এ আধুনিক সভ্যতা পেয়েছি আমরা পেয়েছি, আমরা ফিজিক্সের নিয়মগুলোর মাঝে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়ে উঠেছি, আমরা মানব সভ্যতার মন থেকে সকল দুঃখ, দূর্দশা আর হতাশা মোছন করে পৃথিবীকে পরিণত করতে যাচ্ছি প্রকোশলগত স্বর্গে!__ কিভাবে ফসিলের বয়স নির্ণয় করা হয়?

 (চলবে)

তথ্যসূত্র-

আরও পড়ুন

1 মন্তব্য

Abul Hasnat Badhon April 15, 2021 - 8:07 pm

ভালো লিখেছেন।

প্রতিউত্তর

Leave A Comment...

হাইপারস্পেস
চিন্তা নয়, চিন্তার পদ্ধতি জানো...!
%d bloggers like this: