কোর্টশিপের বিশ্বজনীন এক্সপ্রেসন
মূলপাতা বিজ্ঞান কোর্টশিপের বিশ্বজনীন এক্সপ্রেসন

কোর্টশিপের বিশ্বজনীন এক্সপ্রেসন

লিখেছেন অ্যান্ড্রোস লিহন
37 বার পঠিত হয়েছে
কোর্টিং এর কী বিশ্বজনীন কোনো সংকেত আছে? শব্দ ছাড়াই ফেশিয়াল এক্সপ্রেসন, আই মুভমেন্ট অথবা বডি ল্যাঙ্গুয়েজের সাথে কী কোর্টিং এর কোন সম্পর্ক থাকতে পারে। হেলেন ফিশার তার ‘দি এনাটমি অব লাভ’  গ্রন্থটিতে Universal Courting Cues নামক একটি সেকশনে বলেন, প্রাণী ও মানুষের কোর্টিং এর সিগনালগুলোর মধ্যে সম্পর্ক আছে। গবেষণায় দেখা গেছে মানুষ কোর্টিং এর পূর্বে বিভিন্ন শব্দহীন সংকেত ব্যবহার করে। ডারউইন সর্বপ্রথম ফেসিয়াল এক্সপ্রেসনের উত্তরাধিকার নিয়ে বিস্মিত হয়েছিলেন। নারী ও পুরুষ একই সংকেত ও ভঙ্গি ব্যবহার করে কিনা, তার এ সন্দেহকে নিশ্চিত করার জন্য তিনি ১৮৮৭ সালে আফ্রিকা, আমেরিকা, এশিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ায়  তার সহকারীদের সংবাদ পাঠায়।


আদিম অসভ্যদের সম্পর্কে তার বিভিন্ন রকমের প্রশ্নের মধ্যে একটি ছিলো, যখন একজন মানুষ রাগান্বিত হয় এবং সে তিরস্কার করে তখন সে ভ্রুকুচি করে, তার শরীর সোজা হয়ে যায় ও মাথা খাড়া করে, তার কাধ বর্গাকার হয়ে যায় এবং হাত দুটো মুষ্ঠিবদ্ধ হয়ে উঠে। কিন্তু এই এক্সপ্রেসন দ্বারা আসলে সে কী বোঝাতে চায়? রাগান্বিত অবস্থায় নিচের ঠোঁট নিচের দিকে নেমে আসে আকষ্মিকভাবে। যখন একজন ভালো আত্মার চোখ জ্বলজ্বল করে, তার চামড়া সামান্য সংকোচিত হয়, চারপাশে ও সেগুলোর নিচে, মুখ কিছুটা কোনার দিকে চলে যায়।



বিজ্ঞানী, দার্শনিক, মিশনারীস এবং তার বন্ধুরা সবাই ডারউইনের সাথে “হ্যাঁ ” বলেন। তারা বুঝতে পারেন, আনন্দ, দুঃখ, সুখ, বিস্ময়, ভয় এবং অন্যান্য মানবীয় অনুভূতি আদিম পূর্বসূরীদের ঈশারার প্যাটার্নগুলোই প্রকাশ করে যা আমাদের আদিমতম সাধারণ অতীত থেকে এসেছে। এ শব্দহীন সংকেতগুলোর মধ্যে একটি হলো মানুষের হাসি যা তিনি ১৮৭২ সালে The Expression of Emotion in Man and Animal নামক গ্রন্থটিতে লিখেছিলেন। প্রায় একশত বছর পর সাইকোলজিস্ট পল একম্যান এবং তার সহকারী ডারউইনের দাবি নিশ্চিত করেন যে, বিশ্বব্যাপী মানুষ একই ফেসিয়াল এক্সপ্রেসন ব্যবহার করে। আমেরিকান নিউ গিনির ফোর উপজাতি, সাদাওয়াকের সাদং গ্রামবাসী, ব্রাজিলিয়ান ও জাপানিজদের বলা হয়েছিল তাদের এক্সপ্রেসন সনাক্ত করার জন্য, এ বিবিধ আদিবাসীরা খুব সহযেই দুঃখ, আনন্দ, বিস্ময়, আতঙ্ক ও রাগের অভিব্যক্তিগুলো সনাক্ত করতে পেরেছিলো ; এমনকি তারা হাসিও সনাক্ত করতে পেরেছিলো।


জন্মের পরপরই শিশুরা হাসে, কিছু শিশু জন্মের ৩৬ ঘন্টা পরপরই মায়ের হাসি নকল করে। সকল শিশুর মধ্যে সামাজিক হাসি দেখা যায় বলে হেলেন ফিশার মনে করেন। হাসির মতোই সিকোয়েন্সিয়াল ফ্লার্ট, লাজুক দৃষ্টি, মাথা স্পর্শ করা, বুকে আঘাত করা, স্থির চোখে তাকিয়ে থাকা এগুলো মানুষের স্ট্যান্ডার্ড সাংকেতিক গ্রন্থেরই ভাষা, এ সংকেতগুলো প্রসঙ্গক্রমে ব্যবহার করা হয়, যা বিবর্তিত হয়েছে সঙ্গীকে আকৃষ্ট করার জন্য।


কিন্তু প্রশ্ন হলো এগুলো কী আসলেই কোর্টিং এর বিশ্বজনীন অবিচ্ছেদ্য অংশ? এনথ্রোপোলোজিস্ট ও বায়োলজিস্ট টিমোথি পার্পার এটি প্রস্তাব করেন। উভয় বিজ্ঞানী আমেরিকান মদের আড্ডা পর্যবেক্ষণ করেছিলেন এবং তারা দেখেছিলেন নারী ও পুরুষের বিভিন্ন এক্সপ্রেসন। তার এ কাজগুলো ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনের আশেপাশের স্থানগুলোতেও প্রয়োগ করেন। পার্পার নিউ জার্সি, নিউইয়র্ক এবং ইস্টার্ন কানাডার বারগুলোও পর্যবেক্ষণ করেন ও রেকর্ড সংগ্রহ করেন। উভয় বিজ্ঞানীই কোর্টিং প্রসেসের একটি জেনারেল প্যাটার্ন খুঁজে পেয়েছিলেন।
অনুসন্ধানকারীদের মতে, তারা যখন আমেরিকার বারগুলো পর্যবেক্ষণ করছিলেন তারা দেখেছিলেন, আমেরিকার সিঙ্গেল বার কোর্টশিপের বিভিন্ন ধাপ আছে। প্রথমে যখন কোনো যুগল বারে প্রবেশ করে, তারা তাদের জন্য  একটি টেরিটোরি দখল করে, একটি বসার জায়গা, বারের পাশে একটি নির্দিষ্ট স্থান, দরজা অথবা ডান্স ফ্লোর। যখন একবার সম্পূর্ণ ব্যাপারটি মিমাংসা হয়ে যায় তারা একে অন্যের দিকে মনোযোগ আরোপ করে।


পুরুষরা তাদের কাঁধের উচ্চতা ও রোল প্রসারিত করে, সোজা হয়ে দাঁড়ায়। এবং দোলানো গতিতে পা থেকে পায়ে স্থানান্তরিত করে। তারা অতিরঞ্জিত শরীর নাড়াচাড়া করে। পানীয় পান করার সময় তারা শুধু কজিটি নিয়োগ না করে পুরো বাহুটি প্রসারিত করে, যেনো তারা কাদা ঘাটাঘাটি করছে। হাসির জন্য সমস্ত দেহ বিনিয়োগ করে__যথেষ্ট উচ্চস্বরে হাসে, তার পাশে যারা আছে তাদের আকৃষ্ট করার জন্য। এইভাবে সাধারণ অঙ্গভঙ্গিগুলো অলংকৃত ও হয়রান হয়।


তারপর পুরুষরা প্রায় একটা ভাব নিয়ে এদিক সেদিক ঘুরে বেড়ায়। পুরুষ বেবুনও সম্ভাব্য সঙ্গীকে আকৃষ্ট করার জন্য এ কাজটি করে থাকে।। পুরুষ গোরিলাও সামনে ও পেছনে কঠোরভাবে চলাচল করে যেনো সে তার চোখের কর্ণার দিয়ে কাউকে পর্যবেক্ষণ করে। এ ধরণের প্যারেডিং’ গুলোকে প্রাইমোটোলোজিস্টরা সাধারণত ”Bird-Dogging” বলেন। অন্যান্য প্রজাতিরাও আত্মগরিমা প্রদর্শন করে। মানব পুরুষরা তাদের চুলকে চাপ দেয়, তাদের জামাকাপড় এডজাস্ট করে, তাদের চিবুক স্পর্শ করে, অন্যান্য সেল্ফ ক্লাস্ফিং ও গ্রুমিং মুভমেন্ট সম্পাদন করেন যা তাদের নার্ভাস এনার্জি ডিফিউস করে এবং শরীরকে গতিশীল রাখে। আর এ সময় ডোপামিন, এসিটাইলকোলিন, গ্লটামেট এবং জেএবিএ এর মতো নিউরো-ট্রান্সমিটারগুলো রিলিজ হতে পারে।


এমনকি বৃদ্ধলোকরাও বিভিন্ন প্রপস ব্যবহার করে। তারা দামি জুয়েলারীর মাধ্যমে তাদের সক্ষমতার বিজ্ঞাপন দেয়। কিন্তু এসকল সিগনাল তিনটি বেসিক মেসেজের একটি অংশ প্রদান করে, ” আমি এখানে, আমি গুরুত্বপূর্ণ, আমি ক্ষতিহীন” যা ছিলো সিগনালের কঠিন মিশ্রণ যা সমসাময়িকভাবে প্রদান করা হয়। যদি পুরুষ নিজেকে প্রমাণ করতে সমর্থ হয় নারীরা তাদের সাথে নিয়মিত কোর্টশিপ করে।
মহিলারা অনেকের সাথে মনোযোগ আকর্ষণের পর্ব শুরু করেন। পুরুষরা একই কৌশলগুলো ব্যবহার করে, হাসি, দৃষ্টি, স্থানান্তর, দোল, প্রাইনিং , সোজা হওয়া, নিজের টেরিটোরিতে চলাচল করা দৃষ্টি আকর্ষণ করার উদ্দেশ্যে। কখনো তাদের এ আচরণ মেয়েদের গতিশীলতাকেও ইনকর্পোরেট করে, তারা মাঝেমাঝে তাদের চুল পাকায়, মাথা ঝুঁকায়, নিখুঁত ভাবে তাকায়, বকবক করে, হাত বাড়ায়, জিহবায় চাপ দেয়, লজ্জা পায়, তাদের মুখ মূলত সিগনাল দেয়- এই তো আমি আছি।


কিছু নারীর মধ্যেও কোর্টিং এর সময় বিশেষ কিছু চরিত্র দেখা যায়। তারা তাদের পেছনের দিক হেলান দেয়, তাদের স্তন থ্রাস্ট করে, তাদের নিতম্ব ও উরুতে কম্পন সৃষ্টি করে। এটা বিষ্ময়ের বিষয় নয় যে অনেক নারী High-Heeled Shoes পরিধান করে। একটি অদ্ভুত কাস্টম যা ক্যাথারিন ডি মেডিসি আবিষ্কার করেন ১৫০০s এ তে। তারা অস্বাভাবিকভাবে তাদের পেছনের দিক হেলান দেয়, নিতম্বের ঢাল বৃদ্ধি করে, বুকের অংশ দোলায়, High Heel এর শব্দগুলোও অন্যের মনোযোগ আকর্ষণ করতে সক্ষম করে তোলে।


এরপরই যেটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে সেটি হলো গ্রুমিং টক। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ কোর্টশিপ ও অন্যান্য সামাজিক সম্পর্কের জন্য। খুনসুটিমূলক কথাবার্তার সাথে কোর্টশিপের একটি গভীর সম্পর্ক আছে। বিবিসি ১৪ অক্টোবর ২০১৩ সালে Why Human and Animal rely on Social Touch নামক একটি আর্টিকেল প্রকাশিত হয় যেখানে বলা হয়, বানর থেকে মানুষ পর্যন্ত গ্রুমিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যাপার। এটি সাধারণত আনুকূল্যতা সৃষ্টির জন্য করা হয়ে থাকে। আমরা যখন আমাদের ভালোবাসার মানুষের চুলে বিলি কেটে দেই তখন হয়তো আমরা ব্যাপারটি খেয়াল করিনা। অনেক সময় দেখায় যায় আমরা আমাদের বন্ধুদের কাধে হাত রাখি, পিঠে থাপ্পড় মারি, তার সাথে আন্তরিকতা ও কৌতুকের ভঙ্গিতে কথা বলি, নরম কন্ঠে।


ন্যাচার জার্নালে নভেম্বর ২০২০ সালে Prefrontal- amygdala Circuit in Social Decision Making নামক একটি আর্টিকেল প্রকাশিত হয়। সেখানে সোশ্যাল ডিসিশন ম্যাকিং এর সাথে সম্পৃক্ত নিউরাল ম্যাকানিজমের কথা জানানো হয়। তারা নন হিউম্যান প্রাইমেট ও রোডেন্টদের মস্তিষ্কের এমিগডালা, মেডিয়াল ও অর্বিটাল প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্স ও তাদের ফাংশনাল ইন্টারেকশন পর্যবেক্ষণ করে সামাজিক সিদ্ধান্তের পদ্ধতি বুঝতে চেয়েছিলেন। তারা আলোচনা করেছেন কিভাবে নিউরো-পেপটাইব ও অক্সিটোসিন এ সার্কিটকে প্রভাবিত করে সামাজিক আচরণের সময়। সিদ্ধান্তে আসেন, নিয়ন্ত্রিত প্রি-ফ্রন্টাল এমিগডালার নিউরাল পথের একটিভিটি খুব সুক্ষ্মভাবে প্রাইমেট ও রোডেন্টদের সামাজিক সিদ্ধান্ত তৈরিতে অবদান রাখে। আপনি যখন আপনার কোন একজন বন্ধু ও সহকারীর পিঠে আলতো করে আঘাত করেন আসলে তখন আপনি তার মস্তিষ্কের কেমিক্যাল একটিভিটিকেই নিয়ন্ত্রণ করেন। এসকল সামাজিক রিচুয়াল যে শুধু আমাদের মধ্যে আজকেই প্রতিফলিত হচ্ছে তা নয়, এগুলো বিবর্তিত হয়েছিলো আমাদের প্রথম পূর্বসূরিদের সময়ে যাদেরকে আফ্রিকান সোভান্নাতে দেখা গিয়েছলো।’



মানুষের মধ্যে আমরা সে সকল শারীরিক সামাজিক একটিভিটি দেখতে পাই এটি অন্যান্য প্রজাতিগুলোর মধ্যে খুবই সাধারণ। বিশেষত রিসাস বানর ও শিম্পাঞ্জিদের মধ্যে তাদের পশম বাছাই করার প্রবণতা দেখা যায়। তারা শুধু এটা এ জন্য করছেনা যে যেনো কোনো আবর্জনা এবং কোন প্যারাসাইট প্রবেশ করতে পারে। এখানে নিঃ স্বন্দেহে হাইজিনিক ভেনিফিট ( Hygienic Benefit) রয়েছে কিন্তু এ রকম আচরণগুলোকে প্রাণী আচরণবিজ্ঞানীরা বলছেন “Allogrooming” , যার রয়েছে এর থেকে বড় মাপের তাৎপর্য। গেলাডা বেবুন প্রায় ১৭% সময় অপচয় করে এ কাজটি করার জন্য , যার মধ্যে শুধু এক শতাংশ হাইজিন সুবিধা প্রদান করে। এলোগ্রুমিং’ কে ফ্রান্স ডি ওয়াল শিম্পাঞ্জিদের জীবনের মার্কেটপ্লেস সার্ভিস বলেছেন যা মূলত খাদ্য, যৌনতা ও সামাজিক সাপোর্টের অগ্রাধিকারের চিত্রাংকন করে। যেমন- শিম্পাঞ্জি সেসকল শিম্পাঞ্জির সাথেই খাবার শেয়ার করে যে ইতোপূর্বে তাকে গ্রুমিং করেছিলো। এগ্রেসিভ সময়ে গ্রুমিং শিম্পাঞ্জিদের সেনাবাহিনির টেনশন মুছে দেয়। শিম্পাঞ্জিদের মধ্যে পূনর্মিলনের একটি খুবই জটিল রুপ রয়েছে। যখন দুজন প্রতিদ্বন্দ্বী শিম্পাঞ্জি একটি অচল অবস্থা সৃষ্টি করে, পিছুও হাঁটেনা অথবা এগ্রেসিভ ইন্টারেকশনও করেনা। মাঝেমাঝে নারীরা এ অচলাবস্থা ভেঙে দেয়, দুজন পুরুষ শিম্পাঞ্জির একজনকে গ্রুমিং এর মাধ্যমে টেনশন ডিফিউস করে দেয়,  আর তারপর অন্যজনকে। একটা সময় তাদের একে অপরের দিকে রাগান্বিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা চোখ দুটি শান্ত হয়। এনথ্রোপোলোজিস্ট Robin Dunbar এর মতে, এটি কাজ করে কারণ Grooming Stimulate the release of Endrophin __ এটি মস্তিষ্কে তৈরি হয় যা মস্তিষ্কের রিলাক্সেশনকে ট্রিগার করে, হার্টরেট হ্রাস করে, অতিরিক্ত উত্তেজনাময় আচরণ যেমন- টানাটানি কমিয়ে আনে, এবং ঘুম পাড়িয়ে দেয়। যে সকল নারী শিম্পাঞ্জি গ্রুমিং এর এ কাজটি করে তাদের মস্তিষ্কেও এন্ড্রোপিন নির্গত হয় ও তারাও একই সুবিধাগুলো ভোগ করে। কিন্তু মানুষের শরীরে কোনো পশম নেই। আর এ জন্য মানুষ গ্রুমিং এর জন্য বিভিন্ন রকম গল্প করে যা আমাদের সোশ্যাল হায়ার্কি নির্ধারণ করে দেয়। গ্রুমিং এর মতোই মানব সংস্কৃতিতে এ সকল সামাজিক ইনফরমেশন যা গল্প তৈরি করে তা সোশ্যাল কারেন্সিরই একটি রুপ। ডোনবার তার বই Grooming, Gossip and the Evolution of Language নামক একটি গ্রন্থে বলেন,ফ্যাকাল্টি ল্যাঙ্গুয়েজ প্রজাতির মধ্যে গ্রুমিং এর পরিবর্তে গল্পকে প্রতিস্থাপন করে।



এদিকে প্লেজার প্রিন্সিপ্যাল অনুসারে, মানুষের মাঝে গ্রুমিং এর ব্যাপারটি সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে যায়নি। মানুষের মধ্যে এমন কোনো অভ্যাসগত বৈশিষ্ট্য নেই যে তারা তাদের বন্ধুর চুলের মধ্য থেকে প্যারাসাইট খুঁজে বের করবে কিন্তু নার্সেরা গ্রীষ্মের শিবিরের প্রথম দিনে ঠিকই উকুন বের করার চেষ্টা করে। আমরা প্রায়শ গ্রামের মহিলাদের ভেতর গ্রুমিং এর এই ফিজিক্যাল ভার্সন দেখি। এ বৈশিষ্ট্যটি আমাদের প্রতিবেশি শিম্পাঞ্জি ও গরিলাদের মধ্যে দেখা যায়, তারা পশম থেকে প্যারাসাইট পরিস্কার করে। আমাদের সাধারণ পূর্বসূরিদের (Common Ancestor) মধ্যেও এ বৈশিষ্ট্যটি ছিলো কারণ তাদের পশম ছিলো। কিন্তু আজ আমাদের পশম নেই কিন্তু মাথায় চুল আছে। আর আমরা মিলিয়ন বছর পূর্বের সে আদিম বৈশিষ্ট্যটি এখনো চর্চা করি। BBC বলেন, আসলে সত্য হলো যে আমরা পুরোপুরিভাবে ফিজিক্যাল টাচের বিকল্প হিসেবে গল্পকে প্রতিস্থাপন করতে পারিনি, আসলে ভাষার মাধ্যমে আমরা সবসময় আমাদের ইমোশন ও অনুভূতি পুরোপুরিভাবে বোঝাতে পারিনা, আর এ জন্য আমরা বন্ধুকে বুকে জড়িয়ে ধরি , তার কাধে হাত রাখি। মূলত আমরা তার মস্তিষ্কের নিউরোট্রান্সমিটারে স্টিমুলেশন পাঠাই, যাতে শব্দ নয় স্পর্শের সিগনাল পাঠিয়ে তার ব্রেনকে আমি আমার মনের বার্তাটি সেন্ড করতে পারি। আমরা অত্যাধিক দুঃখ পেলে বুকে জড়িয়ে ধরি আমাদের বন্ধুদের আর এ সামান্যতেই সে আমার আবেগ বুঝে যায় যা ভাষা দিয়ে আমি তাকে শত চেষ্টাতেও বোঝাতে পারিনা।


এছাড়া আপনি যাকে ভালোবাসেন তাকে ভাষার পরিবর্তে Seductive Stroke এর মাধ্যমে আপনি খুব ভালোভাবে বোঝাতে পারবেন যে আমি তোমাকে চাই। ডানবারের প্লেজার থিওরি প্রয়োগ করে, পুরুষের থ্রাস্টিং এর মানসিকতাও ব্যাখ্যা করা যায়। সেক্সের সময় পুরুষরা মাঝেমাঝে অনেক আক্রোশ ও অভিমান নিয়ে একজন নারীর জেনিটালে স্ট্রোক করে। যাদের বলা হয় গ্রেট ফাকার! পরস্পরের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হলে সাধারণত তাদের মধ্যে যৌন তাড়না অনেক গভীর হয়ে উঠে। প্রেমিক প্রেমিকার বিচ্ছেদের পর বিশেষ করে যাকে ভুল বুঝে সম্পর্কে বিচ্ছেদ হয়েছে তার মধ্যে অনেক বেশি পেইন কাজ করে এবং পাশাপাশি যৌন তাড়না। পুরুষদের ক্ষেত্রে মিস আন্ডারেস্টেন্ডিং প্রচন্ড ও পাশবিক যৌন তাড়নায় পরিণত হয়। আর এ সময় পুরুষ নারীর শরীরের প্রতি অনেক আসক্ত হয়ে উঠে ও দুর্দমনীয় ইমোশন নিয়ে তার সাথে ফিজিক্যাল কোর্সে যায়। অনেক সময় তাদের চোখে বিন্দু বিন্দু করে পানি ঝরে। যদি গ্রুমিং ভাষার বিকল্প পদ্ধতি হয়, যার মাধ্যমে ব্রেনে ফিজিক্যাল সিগনাল সেন্ড করে যেকেউ সরাসরি তার সঙ্গীকে তার মনের আবেগ সেন্ড করতে চায় তবে আমি মনে করি, স্লাইডিং বা থ্রাস্টিং পুরুষের মনের একটি ভাষা, এটা আক্রোশ, অভিমান ও ভালোবাসার হতে পারে, এটা হতে পারে দেখো তোমাকে আমি পাগলের মতো ভালোবাসি। মানে হলো এই যে, আমি ফাকার সাইকোলজিকে ফিজিক্যাল গ্রুমিং এর Extended Version বলতে চাইছি।



BBC তে বলা হয়, The physical Stimulation of touch tells us More about the inner feelings of groomer, and in more direct way” than words are able। সবচেয়ে বিস্ময়ের ব্যাপার হলো কিছু বিজ্ঞানী আমাদের শরীরের স্কিনকে “সোশ্যাল অর্গান” বলছেন। এ ব্যাপারটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সুক্ষ্মভাবে চিন্তা করলে আসলেই স্কিন একটি পাবলিক অর্গান, এটি একটি পাবলিক প্রোপার্টি, আপনার ত্বকে আনন্দ পেলেই আপনি কারো সাথে বন্ধুত্ব করেন এবং আপনার স্কিনে যদি অসুখী কোনো সংকেত প্রদান করে কেউ তবে আপনি তাকে পরিত্যাগ করেন। একটি স্কিনটাচ মোবাইল অথবা কম্পিউটারকে যেমন গ্রহের যেকোনো মানুষের পক্ষে নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী ব্যাবহার করা সম্ভব ঠিক তেমনি আপনিও এক প্রকার সামাজিক স্কিনটাচ মোবাইল যেটি সামাজিক স্টিমুলেশন দ্বারা পরিচালিত। আমরা হ্যান্ডসেক ও আলিঙ্গনের মাধ্যমে সমাজের স্কিনের স্নায়ুর ভেতর দিয়ে আমাদের মস্তিষ্কে সিগনাল প্রেরণ করি। কিন্তু  শব্দের মাধ্যমে কানের অডিটরি স্নায়ুতে সিগনাল প্রেরণ করিনা, হিউম্যান স্ক্রিনকে টাচ করে আমরা তার ব্রেনে সংকেত সেন্ড করি। এক্ষেত্রে স্কিণ নিজেই কানের ভূমিকা পালন করে। সুইডেনের ইউনিভার্সিটি অব গোটবর্গ এ ধরণের আবিষ্কারের একটি Laundry List প্রকাশ করেন।



বিশেষ করে লাইব্রেরীয়ান ও বিক্রয়কর্মীদের স্পর্শগুলো তাদের দোকানগুলোর জন্য আরো অনুকূল হয়ে দেখা দিতে পারে। সরল ও অযৌন স্পর্শগুলি অন্যদের কাছে অনেক বেশি আকর্ষণীয় মনে হয় এবং এর ফলস্বরূপ তাদের সাথে পরার্থবাদী আচরণের প্রমাণ পাওয়া গেছে। যেমন- রেস্তোরাগুলোতে বড় কোন টিপস দিয়ে অথবা অপরিচিত কোনো ব্যক্তিকে সিগারেট উপহার দিয়ে। এ ধরণের স্পর্শগুলো প্রেমিক প্রেমিকার মধ্যে এবং শিশু ও মা-বাবার মধ্যেও প্রভাব বিস্তার করে। Mutual Grooming in Human Dyadic Relationship: An Ethological Perspective শিরোনামে ১৫ ই সেপ্টেম্বর ২০০৭ সালে একটি আর্টিকেল প্রকাশিত হয় সেখানে, রোমান্টিক সম্পর্কে পজেটিভ গ্রুমিং এর গুরুত্ব কত তার সাপেক্ষে বিভিন্ন প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সাইকোলজিস্টদের একটি দল গবেষণা করে দেখেছেন , আসলে কাদের সাথে মানুষের নিকটবর্তী সম্পর্ক তৈরি হয়, তো পার্টিশিপেন্টরা বিবৃত্তি দেয়, এটা হয়, অন্যের চুলে আঙুল চালনা করা, তাদের চোখের পানি মুছে দেয়া, তাদের পিঠে হাত বুলিয়ে দেয়ার মাধ্যমে এবং যেগুলো হবে অবশ্যই নন-সেকচুয়াল মেসেজ। তারা আবিষ্কার করেন সম্পর্ক ও বিশ্বাস Self Reported Grooming frequency এর সাথে জড়িত, বিশেষ করে রোমান্টিক পার্টনারদের মধ্যে। একটি গবেষণায় দেখা যায়, যে সকল ব্যক্তিরা তাদের সম্পর্ক নিয়ে আতঙ্কিত তারা অনেক বেশি গ্রুমিং করে, তাদের তুলনায় যারা সম্পর্কের ব্যাপারে অনেক বেশি নিরাপত্তা অনুভব করে। এর থেকে বোঝা যায় গ্রুমিং রিলেশনশিপের সাথে রিলেটেড উত্তেজনা হ্রাস করে এবং রোমান্টিক ভালোবাসা গড়ে তোলে। এ প্যাটার্নটি পুরুষ ও মহিলা উভয়ের জন্যই সত্য ছিলো। (শোকের বিবর্তনীয় ব্যাখ্যা)



সার্ভাভাইভাল প্রবণতাঃ

 

BBC তে বলা হয়, এমনকি শিশুরাও স্পর্শের অনুভূতি বুঝতে পারে। হ্যারি হার্লো রিসাস বানরের উপর ১৯৫০ সালে একটি গবেষণা করেছেন। মূলত তিনি এ বানরগুলোকে খুবই যন্ত্রদায়লভাবে তাদের মায়ের স্নেহ থেকে আইসোলেটেড করে রেখেছিলেন ,  যার কারণে বানরগুলো ছিলো উত্তেজিত ও আতঙ্কগ্রস্ত।।। একদিন তিনি একটি শিশু বানরকে দুজন ম্যাটালের তৈরি সুরোগেট মায়ের সংস্পর্শে নিয়ে আসেন। একটি সুরোগেট ছিলো নরম কাপড় পরিহিত আর অন্যটির কাছে ছিলো দুধের বোতল। দেখা গেলো রিসাস যখন মেটালের তৈরি মায়ের দুধ পান করছিলো তখনও সে কাপড়ে আবৃত নকল মাকে এক হাতে ধরে রেখেছিলো। এর কারণ বিবর্তনীয়ভাবে আমাদের ব্রেন মনে করে, নরম বা কোমলতার মধ্যেই স্নেহ ও মমতা কাজ করে, বিবর্তনীয়ভাবে নরমবস্তুগুলো ভাববাদের প্রতিনিধিত্ব করে। তার মানে শিশুরাও জন্মগতভাবে তাদের স্কিনে কোমল ও স্নেহের টাচ পেতে পছন্দ করে। Variation of maternal care differently influence “Fear” reactivity and Regional pattern of cFOs…নামক একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয় Sciencedirect জার্নালে, সেখানে কানাডিয়ান গবেষকগণ বলেন, শিশু ইঁদুরদের তাদের মা অনেক বেশি গ্রুমিং করে থাকে, আর এ জন্য তারা খুব সুসঙ্গতভাবে বিকশিত হয়, কিন্ত যারা মায়ের গ্রুমিং ছাড়াই বিকশিত হয়, হার্লোর বানরের মতোই তারা অনেক উত্তেজিত ও আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে উঠে।



World Health Organizations এর মতে প্রতি বছর, ২০ মিলিয়ন শিশু প্রাকমেয়াদে জন্মগ্রহণ করে যাদের ওজন 5lB 80Z বা ২.৫ কেজি থেকেও কম। প্রথম দু-সপ্তাহেই এ শিশুদের মৃত্যুহার সর্বোচ্চ থাকে। হসপিটালে এ সব শিশুদের কেয়ার করার জন্য অনেক দামি ও দক্ষ ব্যক্তিত্বের প্রয়োজন হয়। কিন্তু গবেষণায় দেখা যায় যে, ক্যাঙ্গারু কেয়ার থেরাপি যা খুবই স্বস্তা কিন্তু তাদের জন্য খুবই উপকারী। এ পদ্ধতিটি বোগোটা এবং কলোম্বিয়াতে উন্নত হয়, পদ্ধতিটি সহয, শিশুটিকে জনবহুল কোনো নার্সারিতে উষ্ণ পরিবেশে রাখা।
BBC তে বলা হয়, একটি মেটা এনালায়সিসে দেখা যায় কলোম্বিয়া, বাংলাদেশ, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মেক্সিকোতে যে সকল শিশু 4lb 60z (2kg) ওজন নিয়ে জন্মায়, যদি তাদেরকে প্রথম সপ্তাহে Kangaroo Care না দেয়া হয় তবে তাদের ৫২% মারা যায় জন্মের প্রথম চার সপ্তাহের মধ্যেই। সে সকল শিশুর তুলনায় , যারা স্ট্যান্ডার্ড কেয়ার পেয়েছে। আর একটি গবেষণায় দেখা যায় Kangaroo Care রক্তে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ করে যা পর্যাপ্ত ঘুম সৃষ্টি করে।



যাইহোক, বানর থেকে মানুষ পর্যন্ত সবাই সামাজিক স্পর্শ পছন্দ করে। তাদের স্কিন একটি সামাজিক অর্গান। গ্রুমিং এর মাধ্যমে আনুকূল্য তৈরি হয়, সামাজিক অবস্থান তৈরি করা যায় এবং সম্পদে অগ্রাধিকার তৈরি হয়। আমাদের পূর্বসূরিরা একে অন্যের পশম তুলে দিতো প্যারাসাইট নির্মুলের জন্য কিন্তু আমাদের কোনো পশম নেই, তাই আমরা পশম তুলিনা ঠিকই কিন্তু প্যারাসাইট নির্মুল করার উদ্দেশ্যে মিলিয়ন বছর পূর্বে আমাদের পূর্বসূরির মধ্যে বিবর্তিত গ্রুমিং এর মানসিকতা এখনো আমাদের রয়ে গেছে, এ জন্য আমরা একে অপরকে গল্প বলতে পছন্দ করি, আমরা মূলত গল্প বলে, প্যারাসাইট নির্মুলের উদ্দেশ্যে বিবর্তিত সেই আকাঙ্খার তৃষ্ণা নিবারণ করি, আর আমাদের স্কিনও মাঝেমধ্যে স্পর্শ পেতে চায় যার জন্য আমরা গল্প করতে করতে একে অন্যের মাথায় উকুন খুঁজি। শরীর স্পর্শ করি। কারণ স্পর্শ দেবা ও নেবার এই প্রবণতা আমাদের অবচেতন মনের একেবারে গভীরে গেঁথে গেছে, আমাদের জেনেটিক স্তরে। এ জন্য প্রিম্যাচিউরলি যে সব শিশু জন্ম নেয়, সামাজিক স্পর্শ তার জীবন ও মৃত্যুর মধ্যে পার্থক্য তৈরি করে দেয়। এমনকি প্রেমিক প্রেমিকাও তাদের কোর্টশিপের পূর্বে একে অপরের সাথে গল্প করে, যেটাকে বলে গ্রুমিং টক।



কোর্টশিপের দ্বিতীয় স্টেজকে বলা হয় রিকগনিশন স্টেজ;

যখন দুজনের চোখে চোখ পড়ে হাসি ও কিছুটা বডি শিপটের মাধ্যমে এবং দুজন কাপলের মধ্যে কথা শুরু হয়। এটি রোমান্সের শুরু। Smithsonian Magazine 2013 সালের ২৪ এ এপ্রিল Why Woman Like Deep Voices and Men Prefer High Ones নামক একটি আর্টিকেল প্রকাশিত হয় সেখানে বলা হয়, নারীরা পুরুষের গভীর কন্ঠস্বর পছন্দ করে। শুধু গ্রুমিং টক শুরু হলেই হবেনা, দুজনের ভয়েস ফ্রিকোয়েন্সীও তাদের ভেতরকার রোমান্টিক বন্ডিং তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। জোসেফ স্ট্রোমবার্গ বলেন, কন্ঠস্বরের সাথে ব্যক্তির শরীরের আকারের একটি সম্পর্ক আছে এবং যে সকল পুরুষের কন্ঠস্বরে তার নিঃশ্বাসের শব্দ মেশানো থাকে তারা অন্য পুরুষদের তুলনায় অনেক কম এগ্রেসিভ আর নারীরা এসব পুরুষদের পছন্দ করে। সাধারণত আমরা সিমেট্রিক ফেসকে অনেক বেশি আকর্ষণীয় মনে করি কারণ মসৃণ মুখের সাথে জিনোমের একটি সম্পর্ক আছে। যে সকল নারীদের মুখ মসৃন তাদের শরীরের জিন খুবই স্বাস্থ্যকর আর এ জন্য আমরা মসৃণ মুখের নারীদের প্রেমে পড়ি কারণ আমাদের মস্তিষ্ক অবচেতনভাবে এ ল্যাঙ্গুয়েজটি বুঝতে পারে। নারীরা সে সকল পুরুষদের পছন্দ করে যাদের চেহারা অনেক বেশি পুরুষালি কারণ পুরুষালী চেহারা উচ্চমাত্রিক টেস্টোটারোন লেভেল ও শারীরিক দৃঢ়তার প্রতিনিধিত্ব করে। পুরুষরা সবসময় সে সকল নারীকে পছন্দ করে যারা অনেক বেশি তরুণী! একজন পুরুষ একজন নারীর মসৃণ চেহারার প্রেমে পড়ার পেছনে যে নারীর দেহের স্বাস্থ্যকর জিন জড়িত যা শক্তিশালী সন্তান জন্ম দিতে পারে এ সত্যটি  সে সচেতনভাবে জানেনা আর এ জন্যই তার কাছে মনে হয় প্রেম স্বর্গ থেকে আসে, এটা ঈশ্বরের তৈরি, ঐ ছেলে অনেকটা স্প্রিচুয়াল হয়ে উঠে।


আবার একজন নারীও বুঝতে পারেনা কেনো একটি পুরুষালী চেহারা তার মস্তিষ্কের ভেতর ড্রিল করে ফেলেছে তারমধ্যেও একপ্রকার আধ্যাত্মিক ব্যাপার এসে উপস্থিত হয়। অধিকাংশ মুক্তমনাকেও দেখা যায় তারা প্রেমে পড়ে রহস্যবাদী ও স্প্রিচুয়ালিস্টদের দলে যোগ দিয়েছে! এরা অদ্ভুত, চুড়ান্তস্তরের সাইকো।


মূলত একজন ছেলের মস্তিষ্ক এমনভাবে প্রোগ্রামড যেনো সে কাঁচা ও তরুণী মেয়ের প্রতি আকৃষ্ট হয় কারণ এর সাথে তার প্রজননের কোনো উপকারীরা জড়িত রয়েছে। বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখেছেন, কেনো কিছু ব্যক্তির কন্ঠস্বর আকর্ষণীয় এবং কারো কারো আকর্ষণীয় নয়। বিশেষ করে কেনো মেয়েরা গভীর গলার পুরুষদের পছন্দ করে এবং পুরুষরা High Pith বা মিষ্টি গলার মেয়েদেরকে পছন্দ করে? মূলত,মিষ্টি গলা বলতে কিছু নেই, উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সীর শব্দ, যা তীক্ষ্ম সেটা পুরুষের মস্তিষ্কে মিষ্টি লাগে।


PlOS ONE JOURNAL এ একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ হয় Human Vocal Attractiveness as Signaled by body Size Projection শিরোনামে। এখানে বলা হয়, পুরুষের গভীর কন্ঠস্বর তাদের মেজাজ ও শরীরের আকারের প্রতিনিধিত্ব করে যেটি বয়সের সাথে জড়িত। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের একটি গবেষণা দেখিয়েছে, High-Pitched Female Voice এতটা আকর্ষণীয় কারণ এটি ইন্ডিকেট করে স্পিকারের শরীর খুবই কচি( Small body)। পুরুষের গভীর কন্ঠস্বর বলে দিচ্ছে, এ পুরুষটি বড় ফ্রেমের, কিন্তু সবচেয়ে আকর্ষণীয় পুরুষ হলেন তিনি যার কন্ঠে নিঃশ্বাসের উপস্থিতি থাকে, এর মানে হলো পুরুষটি যদিও প্রশস্ত ও বড় কিন্তু সে পুরুষটি আসলে এগ্রেসিভ না। National Library of Medicine এ ২০০৮ সালে একটি আর্টিকেল প্রকাশিত হয় , সেখানে কন্ঠস্বরের সাথে ব্যক্তির বয়স মিলিয়ে দেখা হয়। দেখা যায় , উচ্চকম্পন এর নারীর কন্ঠ তার তরুণ শরীরের প্রতিনিধিত্ব করে, গবেষণাপত্রটি Encoding Emotion in Speech with the size code. A perceptional investigation শিরোনামে প্রকাশিত হয়। যখন একজন পুরুষকে বলা হয়েছিলো, ১ থেকে ৫ স্কেলের মধ্যে আকর্ষণীয় কন্ঠস্বর নির্বাচন করার জন্, য তারা সব সময় ছোট মেয়েদের কন্ঠস্বর পছন্দ করেছে।


নারী পার্টিশিপেন্টদের উপর গবেষণা করেও একই ফলাফল পাওয়া গেছে। তারা এবারও গভীর কন্ঠ পছন্দ করেছে যা বড় শরীরের প্রতিনিধিত্ব করে কিন্তু আরো একটি বৈশিষ্ট্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ আর সেটা হলো নিশ্বাস। গবেষকরা হাইপোথিসাইজড করেন, পুরুষের শব্দে নিশ্বাসের উপস্থিতি নারীর ব্রেনকে বলে, এ ছেলেটি এগ্রেসিভ নয় এবং সে খুব একটা রাগ করেনা। যাদের এগ্রেসিভনেস কম তাদের যুদ্ধ বিগ্রহে প্রাণ হারাবার সম্ভাবনাও কমে যায়। আর নারীরা যদি এমন কোনো পুরুষকে পছন্দ করে যে বদমেজাজি ও রাগী তবে সে পুরুষটির বেশিদিন বেঁচে থাকার সম্ভাবনাও থাকেনা, সে হয়তো কাউকে মার্ডার করবে, র্যাপ করবে বা তার মৃত্যুদণ্ড হবে। জন্মগতভাবে কোনো সন্ত্রাসীর গলার মধ্যে নিঃশ্বাসের উপস্থিতি কাজ করবেনা। গবেষকরা বলেন, কোর্টশিপে গলার সাউন্ড এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে এমনকি পাখি ও মামেলরাও শব্দের মধ্য দিয়ে তাদের ফিজিক্যাল ক্যারেক্টারিস্টিক এর বিজ্ঞপ্তি দেয়। পুরুষরা কেনো ছোট মেয়েদের পছন্দ করে তার কারণ বিজ্ঞানীদের কাছে স্পষ্ট নয় বলে জানা যায় তবে এতে কোনো রিপ্রোডাক্টিভ ভ্যালু থাকতে পারে। গবেষকরা এ নিয়ে চিন্তিত নয়। তারা এ ডুয়ালিটিকে Sexual Dimorphism বলছেন, যা প্রজাতির অনেক প্রাণীর মধ্যেই উপস্থিত। এ পার্থক্য বিশেষ করে নির্গত হয় সেকচুয়াল সিলেকশন থেকে যা বিভিন্ন মেটিং স্ট্র্যাটেজিতে পুরস্কার প্রদান করে। বিবর্তনীয় দিক থেকে বড় মাপের কোনো পুরুষের সাথে মেটিং করা নারীদের জন্য খুবই ভেনিফিশিয়াল যদি তারা কম আগ্রাসী হয়, যেখানে পুরুষ উপকার পায় কম বয়সী নারীর মধ্যে।


অধিকাংশ প্রাণীর মধ্যেই নারীরা পুরুষের চেয়ে বড় হয়। কিন্তু স্তন্যপায়ীদের মধ্যে নারীদের তুলনায় পুরুষ আকারে বড়। Science Daily তে, Exploring why male are larger than female শিরোনামে একটি লেখা প্রকাশিত হয়, সেখানে বলা হয়, গবেষকরা মনে করছেন, এর কারণ সেকচুয়াল সিলেকশন, আমাদের পূর্বসূরীরা বনে জঙ্গলে শিকার করতো, যার ফলে তাদের শরীরের আকৃতি বিবর্তনীয়ভাবেই নারীর তুলনায় বড় হয়ে উঠেছিলো, আর নারীরাও সে সকল পুরুষকেই সেকচুয়ালি নির্বাচন করতো যাদের দেহের আকার অন্যদের চেয়ে বড় মাপের, যে সব পুরুষ খাদ্য সংগ্রহ করতে পারে ও শিকারী প্রাণী থেকে প্রতিরক্ষা করতে পারে। QuantaMagazine এ ক্রিস্টল উইলকক্স Males are the taller sex, Estrogen, Not Fight for Mate, May be why নামক একটি আর্টিকেল প্রকাশিত হয় সেখানে, Expanding are Evolutionary explanation for sex difference in The human Skeleton নামক একটি গবেষণাপত্রের রেফারেন্স দিয়ে বলা হয়, যে পুরুষ নারীদের তুলনায় এ জন্য লম্বা নয় যে তারা পূর্বে সঙ্গীর জন্য যুদ্ধ করেছে, বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞানী ডানসওয়ার্থ দেখান যে, পুরুষরা প্রতিযোগিতার কারণে বড় নয়, এর কারণ হাড়ের ডেভেলাপমেন্টের সাথে জড়িত যেটি আবার ইস্ট্রোজেন হর্মোনের কারণে ঘটে থাকে। তার মতে সেকচুয়াল ডিমরপিজম সেকচুয়াল সিলেকশনের পূর্বেই তৈরি হয়। তিনি বলেন, বয়সন্ধীর পূর্বে একজন নারী একজন পুরুষের চেয়ে আকারে লম্বা হয় কিন্তু বয়সন্ধির পর নারীদের শরীরের হাইট স্থির থাকে বরং এবার পুরুষের হাইট বেড়ে যায় এর কারণ এ সময় নারীদের শরীরে ডিম্বাশয় সহ আরো কিছু অর্গানের বিবর্তন ঘটে। তবে এ আর্টিকেলটি ত্রুটিপূর্ণ ছিলো। বা এখানে স্বয়ং বিবর্তন তত্বকেই প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। এ আর্টিকেলে বলা হয়, নারীর নিতম্বের কোনো রি-প্রোডাক্টিভ সাক্সেস নেই আর আসলে লম্বা পুরুষের বিবর্তনে সেকচুয়াল সিলেকশন এর কোনো ভূমিকাই ছিলোনা যদি এ দুটো ধারণা সত্য বলে মেনে নেই তবে মারাত্মকভাবে আমরা আরো অনেক সমস্যা ব্যাখ্যা করতে পারিনা।


সাইকোলজি টুডেতে বলা হয়, নারীরা সে সকল ছেলেকে পছন্দ করে যারা তার চেয়ে ৮ ইঞ্চি লম্বা এবং আর একটি গবেষণায় দেখা যায় ১৩.৫ শতাংশ নারী দেখায় যে পুরুষরা তাদের চেয়ে কমপক্ষে ৩ ইঞ্চি খাটো মেয়েদের সাথে সম্পর্ক করতে পছন্দ করে।। মানুষ খাটো নারী ও পুরুষকে কম আকর্ষণীয় মনে করে। ইউনিভার্সিটি অব শিকাগোর Stature and status : Hight, ability and Labor market Outcomes নামক একটি গবেষণাপত্রে বলেন, কারো হাইট যদি ১ ইঞ্চি বাড়ে তবে তার সাপ্তাহিক আয় 1.4-2.9 শতাংশ বেড়ে যায়। আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল এসোসিয়েশন Standing tall pay off, Study finds নামক একটি আর্টিকেল প্রকাশ করেন যেখানে বলা হয়, প্রতি ইঞ্চি উচ্চতা প্রতি বছর ৮০০ ডলার আয়ের সাথে জড়িত। এর মানে হলো যে ব্যক্তির উচ্চতা ৬ ফুট সে গড়ে ১৬০, ০০০ ইউএস ডলার উপার্জন করবে তার ৩০ বছরের কেরিয়ারে সে ব্যক্তির তুলনায় তার উচ্চতা ৫ ফুট।

যদি পুরুষের কন্ঠস্বর শুনেই তার শরীরের আকার ও উচ্চতা নির্ণয় করা যায়। তবে এটি নারীর জন্য খুবই লাভজনক হতে পারে। কন্ঠস্বরের সাথে শারীরিক আকার এর অবশ্যই একটা সম্পর্ক থাকে। তরুণী নারীর সন্তান  উতপাদন ক্ষমতা বেশি, বা তারা উর্বর আর এ জন্যই আমরা সে সকল নারীর কন্ঠস্বর পছন্দ করি যারা তরুণ।


আর তাই কোর্টিং এর সময় যখন গ্রুমিং টকের সময় আসে তখন পুরুষকে অনেক সতর্ক হতে হয়। এ ধরণের কথাবার্তা সাধারণত এলোমেলো ও নিরর্থক হয়, গলার স্বর কখনো বাড়ে আবার কখনো কমে , কখনো কখনো গলার স্বর শিশুদের মন ভোলানো কথাবার্তার পর্যায়ে চলে আসে। গ্রুমিং টক শুরু হয় অনেকটা এভাবে, আইফোন পছন্দ করো? তোমার পছন্দের খাবার কী? আপনি কী বলছেন সেটা কোনো ব্যাপার নয় কিভাবে বলছেন সেটাই মূল। আপনি যখনই মুখ খুলছেন তখনই আপনি আপনার আনতি ও স্বরভঙ্গি প্রকাশ করছেন।


একটি উচ্চ কম্পাঙ্কের, ভদ্র ও মসৃন “হেলো” মাঝেমাঝে সেকচুয়াল ও রোমান্টিক ইন্টারেস্টের প্রকাশ আর অন্যদিকে কাটাকাটা, নিচু, ভাসাভাসা “Hi” ভালোবাসার প্রকাশ। যদি দুজনের কেউ পরিস্থিতি থেকে বেশি হাসে তবে তাদের একজন ফ্লার্টারিং করছে।


হেলেন ফিশার বলেন, কথা বলাটা খুবই ডেঞ্জারাস গুরুত্বপূর্ণ কিছু কারণে। মানুষের শব্দ হলো দ্বিতীয় সিগনেচার যা শুধু আপনার ইনটেনশন নয়, আপনার ব্যাকগ্রাউন্ডও প্রকাশ করে। অভিনেতা, পাবলিক স্পিকার, অভ্যাসগত মিথ্যাবাদী ও কূটনীতিকরা এ ব্যাপারটি অত্যন্ত মারাত্মকভাবে জানে। তারা জানে শব্দ আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা ও আইডোসিনক্রেসিস,  মুহূর্তের মধ্যেই প্রকাশ করে যা সম্ভাব্য সঙ্গী আকৃষ্ট করার জন্য পরিচালিত। মুভি এক্টররা তাদের কন্ঠস্বরকে প্রায় অক্টেভ করে ফেলে সেটকে মিস্টি করে তোলার জন্য।



একজন ভালো মিথ্যাবাদী কখনো টেলিফোনে ফিবিং করেনা। ছোটকাল থেকেই আমাদেরকে ফেশিয়াল এক্সপ্রেসনের শিক্ষা দেয়া হয় যেমন- দাদুকে দেখলে হাসতে হয় কিন্তু শব্দের ক্ষমতা সম্পর্কে আমরা অজ্ঞতার ভেতর থেকে যাই। ২০১৩ সালে হেলেন ফিশার আমেরিকায় একটি স্টাডি পরিচালনা করেন। আপনি একটি পটেনশিয়াল ডেটকে নিচের কোন বিষয়গুলো দ্বারা বিচার করেন? ৫০০ হাজার ব্যক্তির মধ্যে এ পরিসংখ্যান চালানো হয়। তারা গ্রামারের প্রতি ৮৩% গুরুত্ব প্রদান করে, সেলফ কনফিডেন্টের প্রতি ৭৮ %, দাঁতের  প্রতি ৭৫%। গ্রামারের মাধ্যমে আপনি আপনার শিক্ষাদিক্ষার অবস্থা জানাতে পারেন, আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে আপনি আপনার মানসিক স্থিরতা প্রদর্শন করেন, দাঁতের মাধ্যমে আপনি আপনার বয়স ও স্বাস্থ্যের অবস্থা অবগত করতে পারেন। এটা বিস্ময়ের ব্যাপার নয় যে ভয়েস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এবং একটি আকর্ষণীয় স্বরের মূল্য হিসেবে অধিক সংখ্যক সেক্স পার্টনার পাওয়া যায় এবং অনেক বেশি সন্তান পাওয়া যায়।


আর এরপরই একে অপরকে স্পর্শ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। টেবিলের উপর একজন আর একজনের হাতে হাত রাখে, অন্যজন যদি নিজের হাত স্ট্রোক করে আর একজনও স্ট্রোক করে৷। তারপর ক্লাইম্যাক্স শুরু হয়, একে অপরের কাঁধ স্পর্শ করে, সামনের অংশ ও কজি এবং সামাজিকভাবে দেখা যায় এমন অঙ্গগুলো স্পর্শ করে। প্রার্থির চোখের দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকায় তবে খুবই ক্যালকুলেটিভ ভাবে। এই স্পর্শ খুবই গুরুত্বপূর্ণ, মানুষের স্কিন ঘাস ক্ষেতের মতো, প্রতিটি নার্ভ এতটাই সেনসেটিভ যে সামান্য স্পর্শ ঐ মুহূর্তটিকে মস্তিষ্কে খোদাই করে দিতে পারে। রিসিভার খুব দ্রুত মেসেজ গ্রহণ করে। যদি একবার প্রত্যাখ্যাত হয় তবে সেন্ডার আর স্পর্শ করার চেষ্টা করেনা। যদি সে বিদায় প্রস্তাব অস্বীকার করে, তবে মেয়েটি বারবার স্পর্শ করবে। যদি ছেলেটি তার দিকে হেলে পড়ে, হাসে, সংকেত ফিরিয়ে দেয়, তার সুনির্দিষ্ট স্পর্শ দিয়ে আর এভাবে তারা শেষ দেয়াল টপকে চলে যায়। অধিকাংশ মামেল কোর্টিং এর সময় একে অন্যের কেয়ার করে। নীল তিমি একে অপরকে তাদের ফ্লিপার দিয়ে ঘর্ষণ করে, পুরুষ বাটার ফ্লাই তার সাথীর পেটে ক্রমাগত ঘর্ষণ চালিয়ে যায়, ডলপিক মুখ দিয়ে ঠোকর দেয়। মোলস নাক ঘষে। কুকুর চাটে। শিম্পাঞ্জি চুমু খায়, আলিঙ্গন করে, বেড়াল হাত ধরে। স্তন্যপায়ীরা ঘর্ষণ করে, গ্রুমিং করে নাক দিয়ে চাপ দেয়, চোখে চোখ রাখে, ধবংস হয়ে যেতে চায় ক্যামিস্ট্রির জগতে।


হেলেন ফিশার বলেন, Touch Has been called the mother of the Sense। কোনো সন্দেহ নেই এটি সত্য। প্রতিটি মানব সংস্কৃতিতে কোড আছে কে কাকে স্পর্শ করবে ও কখন করবে, কোথাও ও কিভাবে। হিউম্যান কোর্টিং এর সময় Touching Game খুবই সাধারণ। কোর্টশিপ রিচুয়ালের শেষ ধাপ হলো “সিনক্রোনোসিটি”!


এক ঘন্টা কথা বলার পর তাদের উভয়ের মধ্যে একটি অদ্ভুত ব্যাপার ঘটে। তারা একে অপরকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হতে থাকে। নিজের অজান্তে একে অপরকে কপি করতে থাকে। একজন যখন তাদের মদের বোতল উঠায় অন্যজনও তাই করে। তারপর তারা ডি-সিনক্রোনাইজ হয়। এ সময় তারা নিজেদেরকে অধিক থেকে অধিকতরভাবে কপি করতে থাকে। একে অপরের মিরর ইমেজ হয়ে যায়। যখন সে পা ঘোরায় সেও ঘোরায়। যখন সে তার পা ক্রস করে, সেও করে। যখন সে বাম দিকে সরে আসে, সেও সরে আসে। তারা একে অপরের সাথে কোয়ান্টাম পার্টিকেলের মতোই এন্ট্যাংগেল হয়ে যায়, তারা এমন ভাবে একে অন্যকে কপি করে যেনো তারা একে অন্যের চোখে গভীরভাবে ডুবে গেছে। হেলেন ফিশার বলেন, This is of love, Of sex, of Eternal Human Reproduction! কিন্তু এটি যেকোন সময় ভেঙে চারখার হয়ে যেতে পারে। যদি তারা তাদের টেম্পো কন্ট্রোল করতে পারে , তবে তারা এ মেটিং ড্যান্স চালিয়ে যেতে পারবে।



কাপল যখন সম্পূর্ণভাবে বডি সিনক্রোনাইজেশনে চলে আসবে তারা হয়তো তখনই একসাথে বার ত্যাগ করবে…

আরও পড়ুন

Leave A Comment...

হাইপারস্পেস
চিন্তা নয়, চিন্তার পদ্ধতি জানো...!