মূলপাতা বিজ্ঞান কার্য-কারণের ফিজিক্স ও বিবর্তনীয় ব্যাখ্যা

কার্য-কারণের ফিজিক্স ও বিবর্তনীয় ব্যাখ্যা

লিখেছেন অ্যান্ড্রোস লিহন
84 বার পঠিত হয়েছে

ময়ের তীর শুধু একটি মেকানিক্যাল প্রসেসই নয়, আমাদের জীবনের অস্তিত্বের জন্য কালের তীর অপরিহার্য। আমরা চেতনাশীল ব্যক্তি বলতে যে বৈশিষ্ট্যটিকে বুঝি তার জন্য কালের তীরই দায়ী; এ জন্যই আমাদের চেতনা অতীত স্মরণ করতে পারে কিন্তু ভবিষ্যৎ নয়। ফান্ডামেন্টাল পদার্থবিজ্ঞানের সূত্র অনুসারে, অতীত ও ভবিষ্যতকে সমান বিবেচনা করা হয়। কিন্তু যখনই আমরা কিভাবে জগতকে অনুভব করবো সে প্রশ্নটি আসে তাদের উচিত ছিলোনা যে খুব বেশি পার্থক্য তৈরি করা। আমরা আমাদের মস্তিষ্কে অতীতের রিপ্রেজেন্টেশন বহন করি মেমরি রুপে। আমরা ভবিষ্যত সম্পর্কে প্রেডিকশন করি কিন্তু এই প্রেডিকশন আমাদের অতীত মেমরির নির্ভরযোগ্যতার উপর। কিন্তু যখন প্রশ্ন করা হবে, কেনো আমাদের মস্তিষ্ক অতীতের মেমরির উপর নির্ভরশীল তবে বলতে হয় , সে সময় এন্ট্রপি কম ছিলো। আমাদের মহাবিশ্বের মতো জটিল একটি সিস্টেমে আপনার অন্তর্নিহিত উপাদানগুলোকে অনন্ত উপায়ে সাজানো যায়, আপনার “Sense of self” গঠন করার জন্য, অতীত সম্পর্কে সুনিশ্চিত কিছু স্মৃতি নিয়ে, এমনকি সম্পূর্ণ ইউনিভার্সকে!

আপনি যা কিছু জানেন, তা কিছু নিয়ে এ মুহূর্তে আপনি অস্তিত্বশীল, আপনার মস্তিষ্কে সেই মেমরিও কাজ করছে যখন আপনি সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণীতে থাকাকালীন সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে গিয়েছিলেন ___ কিন্তু তারপরেও আপনার কাছে যথেষ্ট ইনফরমেশন নেই বিশ্বাসযোগ্যভাবে এ সিদ্ধান্তে উপনিত হতে যে আপনি আসলেই সেখানে গিয়েছিলেন। আর এখান থেকেই বুঝতে পারা যায়, আপনার মস্তিষ্কের মেমরি উঠানামা করছে, আপনার মেমরি আসলে রেন্ডম ফ্ল্যাকচুয়েশন, ঠিক যেমনি একটি কক্ষের বাতাস স্বতঃস্ফূর্তভাবেই একজায়গায় জমায়েত হয়! আপনার মেমরির সেন্স তৈরি করার জন্য, আপনাকে এটাও মনে রাখতে হবে, মহাবিশ্ব একটি সুনির্দিষ্ট উপায়ে শৃঙ্খলা প্রাপ্ত হচ্ছে __আর এ জন্য অতীতে ছিলো নিন্মমাত্রিক এন্ট্রপি। কল্পনা করুন যে, আপনি রাস্তায় হাঁটছেন, ফুটপাতে একটি ভাঙা ডিম লক্ষ্য করেছেন যেটি দেখে মনে হচ্ছে এটি আর বেশিক্ষণ বাহিরে বসে নেই। অতীতের নিন্মমাত্রিক এন্ট্রপি সম্পর্কে আমাদের যে অনুমান তা আমাদেরকে চুড়ান্ত উচ্চমাত্রিক নিশ্চয়তার সাথে অনুমোদন প্রদান করে, খুব বেশি দেরী হচ্ছেনা কিছুক্ষণ পূর্বেই এখানে একটি ভালো ডিম ছিলো( Unbroken Egg) যেটিকে কেউ একজন ফেলে দিয়েছে ।

কার্য-কারণের ফিজিক্স ও বিবর্তনীয় ব্যাখ্যা

কিন্ত আপনি যখন ডিমটির ফিউচার নিয়ে কল্পনা করবেন, আপনার এটা সন্দেহ করার কারণ নেই যে এন্ট্রপি কমছে, আমরা আসলে ডিমটির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আর তেমন কিছু বলতে পারিনা, বিপুল ও চূড়ান্ত সংখ্যক সম্ভাবনার দরজা তখন খুলে যায়! সম্ভবত এটি এখানে থাকবে এবং ধীরে ধীরে গলে যাবে। হয়তো কেউ এটিকে পরিস্কার করে ফেলবে, অথবা একটি কুকুরও আসতে পারে যে এটিকে এক কামড়ে খেয়ে ফেলবে (এটি পূনরায় একটি অবিচ্ছিন্ন ডিমের মতো নিজেকে সুসজ্জিত করবে এমন কোনো সম্ভাবনা নেই, কিন্ত সুকঠিনভাবে বলছি সম্ভাবনার মধ্যে)। এ ফুটপাতের ডিমটি হলো একদম তোমার মস্তিষ্কের মেমরির মতো__ এটি পূর্ববর্তী ইভেন্ট ডিটেক্ট করে, কিন্তু এটি তখনই বোঝা যায় যদি না আমরা অতীতে একটি “Low Entropy Boundary” চিন্তা করি।আমরা এছাড়াও অতীত ও ভবিষ্যতের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করি কার্য ও কারণের প্রতি সম্পর্কের ভিত্তিতে। যেমন, কারণ প্রথমে আর তারপর ফলাফল আসে। আর এ জন্যই আমাদের কাছে হোয়াইট কুইনকে অশ্লীল মনে হয়- কিভাবে তাকে খোঁচা দেয়ার আগেই সে চিৎকার করে উঠে ( মূলত, সে জগতে কারণেই পূর্বেই ফলাফল চলে আসে, যে জন্য খোঁচা দেয়ার পূর্বেই তারা ব্যাথা পায়)

কার্য-কারণের ফিজিক্স ও বিবর্তনীয় ব্যাখ্যা

! আবারও এন্ট্রপিকেই দোষারোপ করা হয়। চিন্তা করুন, একজন ডুবুরির কথা যে পানিতে ঝাপ দিয়েছে, আমরা জানি ঝাপ দেয়ার পরেই পানির প্রচন্ড ঝাপটা( Splash) আসে। কিন্তু মাইক্রোস্কোপিক ফিজিক্স অনুসারে, পানির অণুরগুলোর অসীম সংখ্যক উপায়ের মধ্যে এমনভাবেও সাজানো সম্ভব যেভাবে সাজালে পানির ঝাপটাকে সে আনফ্লাশ করে দেবে এবং ডুবুরিকে পানি থেকে দূরে নিক্ষেপ করবে। আর এটি করার জন্য আপনার উচিত, সে সকল এটমের প্রতিটির পজিশন ও ভেলোসিটি পূঙ্খানুপুঙ্খভাবে জানা __আপনি যদি একটি বিশৃঙ্খল “Splashy Configuration” গ্রহণ করেন, তবে কোন সম্ভাবনা নেই যে মাইক্রোস্কোপিক ফোর্স ঐ ডুবুরিকে পানি থেকে ছুঁড়ে ফেলে দেয়ার জন্য সঠিকভাবে ষড়যন্ত্র করতে পারবে। ( কোয়ান্টাম অনিশ্চয়তার কারণে)

কার্য-কারণের ফিজিক্স ও বিবর্তনীয় ব্যাখ্যা

অন্যকথায়, আমরা কজ এন্ড ইফেক্টের মধ্যে যে পার্থক্যের সীমারেখা টানি এই প্রভাব সাধারণত এন্ট্রপির বৃদ্ধির সাথে জড়িত। যদি দুটি বিলিয়ার্ড বল একে অপরের সাথে সংঘর্ষ করে দুজন দু-দিকে পৃথক হয়ে যায়, এন্ট্রপি একইরকম থেকে যাবে কিন্ত কোনো বলই পৃথক ভাবে কোনো “কারণ” পৃথক করতে পারেনা। কিন্তু আপনি যখন কিউ বল দিয়ে, একদল স্থির রেকেড বলকে আঘাত করেন আমরা দুজনই বলতে পারবো যে কিউ বলই স্টেশনারি বা স্থির বলগুলোর স্থিতিশীলতা ভেঙে দেয়ার “কারণ”____ এমনকি যদিও পদার্থ বিজ্ঞানের আইন বলগুলোকে একেবারে নিখুঁতভাবে সমান মনে করে।।। কারণ এমন নয় যে ফিজিক্সের আইনগুলো সক্রেটিসের সময় একরকম ছিলো আর আইনস্টাইনের সময়ে অন্যরুপ আথবা আজ থেকে কয়েক বিলিয়ন বছর পর অন্যরকম হয়ে উঠবে কোয়ান্টাম ফিজিক্স অথবা এমনও নয় যে, বৃহস্পতি পৃথিবীর ফিজিক্স ছেড়ে অন্য কোনো পদার্থ বিজ্ঞানের সূত্র মেনে চলছে।

Billiards and Collisions | Let's Talk Science

____শন ক্যারল

সাইকোলজিক্যাল প্রমাণঃ

আমার একটা কুকুর আছে যার নাম রাখা হয়েছিলো জাকারবার্গ। আমার ও তার মাঝে একটি ব্যাপার অত্যন্ত কমন । আর সেটা হলো আমাদের ফুড এটিটিউড। আমরা দুজনই খেতে খুব পছন্দ করি। যখন ডিনারের সময় উপস্থিত তখন আমরা দুজনই ক্ষুদায় পাগলপ্রায় হয়ে যাই। তখন দুজনেই সমাধান খুঁজি কি করা যায়। কিন্ত একদিন আমি আকস্মিক একটা ব্যাপার খেয়াল করলাম, জাকারবার্গ সবসময় একটা সলিউশনই ব্যবহার করে, আর তা হলো সে তার খাবারের ডিসের কাছে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। এভাবে প্রতিরাতেই সে তার খাবারের ডিসের কাছে চলে যায় এবং খুব সুন্দরভাবেই খাবার গ্রহণ করে। কিন্তু যদি কিচেনে আমি বা এরিকা কেউই না থাকি তবে সে ডিসের পাশে উপোস দাঁড়িয়ে থাকে, যতক্ষণ আমাদের দুজনের কেউই সেখানে উপস্থিত হবোনা ততক্ষণ তার ভাগ্য প্রতিকূল।

আমি তার থেকে একটু স্মার্ট। আমি ফুড লোকেশনে না গিয়ে সোজা খাবারের মূল সোর্সের কাছে চলে যাই। যখনই আমার ক্ষুদা বেড়ে যায়, আমি এরিকাকে নিয়ে ঝুলে থাকি এবং তাকে খাবার তৈরি করে দেয়ার জন্য অনুরোধ করি। তার পেছন পেছন যাই এবং একসাথে ডিনারে যোগ দেই। আমার এ সলিউশন কিচেনে কেউ থাকুক বা না থাকুক সুন্দর কাজে লাগে। আমার সলিউশন রান্না ঘরে কারো উপস্থিতির উপর নির্ভর করেনা, নির্ভর করে আমার প্রেমিকার উপস্থিতির উপর। আসলে আমার সলিউশনটা খুব একটা পারফেক্ট না কারণ এরিকা যখন দূরে কোথাও বেড়াতে চলে যায় তখন আমার এই পরজীবি স্বভাব আমাকে বিরক্ত করে! যেমন এখন সে নেই। তাই এখন আমাকে অন্য কারো উপর নির্ভর করতে হচ্ছে অথবা নিজের উপর। জাকারবার্গ তার খাবারের লোকেশনের সাথে তার মনের স্ট্রং একটা কানেকশন তৈরি করেছিল, যে লিংক তার আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করতো। কিন্তু আমি সবসময় খাবারের “কজের” দিকে মনোযোগ প্রদান করি, এমন একটি স্ট্র‍্যাটেজি যা সবসময় কারণকেই ফোকাস করে। এদিকে আমার কুকুর “কজের'” সাথে নয় সে নিজেকে “ইফেক্টের” সাথে জড়িয়ে ফেলেছে। ইফেক্টকে টার্গেট না করে কজকে টার্গেট করাটা টিকে থাকার সমস্যাটিকে সমাধান করার জন্য অনেকটাই ইফেক্টিভ। আপনি যদি কোনো রোগে আক্রান্ত হন যেমন ক্যান্সার এবং আপনি যদি আমার কুকুরের মতো সুস্থ্য হওয়ার জন্য বিছানায় বসে থাকেন তবে আপনি কখনোই সুস্থ্য হবেননা। আপনি যদি এটা না চান, যে আপনার সমাজ না খেয়ে মরুক তবে আপনি অবশ্যই তাদেরকে খাবার পরিবেশন না করে বরং এমন একটি কন্ডিশন ক্রিয়েট করবেন, যা তাদের নিজেদেরকেই নিজেদের খাবার যোগাড় করার জন্য প্রস্তুত করে তোলে! আপনি তাদের মস্তিষ্ককে “কারণের” সাথে সম্পৃক্ত করে দেবেন “ইফেক্টের” সাথে নয়! আপনি যদি তাদেরকে ইফেক্টের সাথে জড়িয়ে দেন, তারা আমার প্রিয় কুকুর জাকারবার্গের মতো দলবেঁধে ডিসের পাশে এসে বসে থাকবে এবং আপনার অনপুস্থিতিতে তাদের গণমৃত্যু ঘটবে! জাকারবার্গের পক্ষে আমাদেরকে বোঝা খুবই কষ্টকর। ঐতিহাসিকভাবে সাইকোলজির একটি বড় ফিল্ড, বিশেষ করে বিখ্যাত মনোবিজ্ঞানী আইভান প্যাভলভ , ঊনিশ শতকে তার বিখ্যাত একটি এক্সপেরিমেন্ট দেখেছিলেন, কুকুরের সামনে খাবার রাখলেই তার লালা নিঃসৃত হয়। তারপর তিনি সেলিভারি গ্ল্যান্ডের লালার পরিমাণ পরিমাপ করে বের করেছিলেন আসলেই কি তারা খাবারের প্রত্যাশায় এমন করে কিনা। তিনি নিয়মিত একটি কুকুরকে খাবার পরিবেশন করার পূর্বে ঘন্টা বাজাতে থাকেন। তারপর তিনি পর্যবেক্ষণ করেন যে, একটা সময় ঘন্টা বাজালেই কুকুরের লালা নিঃসৃত হয়। তিনি দাবি করেন, কুকুর সাউন্ড ও ফুডের মধ্যে একটি কার্যকারণগত সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। যার কারণে শব্দ খাদ্যের মতোই একই প্রতিক্রিয়া তৈরি করছে। ঘন্টা ছিল একটি যাদৃচ্ছিক স্টিমুলেশন কিন্তু খাবার মোটেও যাদৃচ্ছিক স্টিমুলেশন ছিলোনা।। প্যাভলভ এটা পছন্দ করেছেন কারণ কুকুর এটাই চায়। এই কানেকশন ছিলো যাদৃচ্ছিক কারণ কুকুরের মেমরির ভেতর এর পূর্বে ঘন্টার কোনো মেমরি ছিলোনা।

কার্য-কারণের ফিজিক্স ও বিবর্তনীয় ব্যাখ্যা

১৯৫০ সালে জন গার্সিয়া নামক একজন সাইকোলজিস্ট দাবি করে বসলেন, আমরা চাইলে এমন যাদৃচ্ছিক যেকোনো কার্যকারণ সম্পর্কই তৈরি করে দিতে পারি। এবার গার্সিয়া তার দাবির সত্যতা প্রমাণ করার জন্য ইঁদুরের উপর একটি এক্সপেরিমেন্ট করলেন। তার উপর বিভিন্ন স্টিমুলেশন প্রদানের মধ্য দিয়ে। প্রথমে তিনি ইঁদুরকে বিরক্তিকর, উজ্জ্বল আলো দিয়ে টর্চার করলেন অথবা অস্বাভাবিক স্বাদের চিনির স্বাদ যুক্ত পানি দিলেন। তারপর আবারও তিনি ইঁদুরটিকে ইলেক্ট্রিক্যাল শক দিলেন অথবা পানির মধ্যে এমন কিছু মিশিয়ে দিলেন যেনো তার পেটে ব্যাথা হয়। বিস্ময়করভাবে ইঁদুরটি একটা সময় বিরক্তিকর আলো ও ইলেক্ট্রিক শকের ভেতর একটি এসোসিয়েশন বা কার্যকারণ সম্পর্ক তৈরি করা শিখে গেলো এবং অস্বাভাবিক স্বাদের পানির সাথে প্রতিবারই সে পেটের ব্যাথার সম্পর্ক তৈরি করলো। কিন্তু তারা অন্যান্য এসোসিয়েশনগুলো বুঝতে পারেনি, ফ্ল্যাশিং লাইটের সাথে যে পেটে ব্যাথার একটা সম্পর্ক ছিলো অথবা মিস্টি পানির সাথে যে ইলেক্ট্রিক শকের একটি সম্পর্ক ছিলো, তারা এ সম্পর্কগুলো তৈরি করতে পারেনি। এর কারণ হলো ফ্ল্যাশিং-লাইটের ম্যাকানিজমের পেছনে যে কজ কাজ করে একই কজ কাজ করে ইলেক্ট্রিক শকের পেছনেও। দুটো ক্ষেত্রেই বিদ্যুৎ একমাত্র কারণ। এবং অতিরিক্ত পানি পান করা, অথবা অতিরিক্ত চিনি খাওয়া এগুলো পেটে ব্যাথার পটেনশিয়াল “কজ”!

এই দুই জোড়া আমাদের মধ্যে কজাল সেন্স তৈরি করে। এর বিপরীতটা নয়। আমাদের পক্ষে এটা কল্পনা করা অত্যন্ত কঠিন যে চিনিযুক্ত পানি ইলেক্ট্রিক শক তৈরি করতে পারে অথবা ফ্ল্যাশিং-লাইট পেটে ব্যাথা তৈরি করতে পারে।। এ থেকে প্রমাণিত হয় যে ইঁদুররা নিজের অজান্তেই সে সকল বিষয়ের মধ্যেই এসোসিয়েশন বা সম্পর্ক তৈরি করে যেগুলোর মধ্যে কার্যকারণগত সম্পর্ক আছে, তারা যাদৃচ্ছিক কোনো এসোসিয়েশন তৈরি করতে পারেনা। গার্সিয়ার এ এক্সপেরিমেন্ট প্রমাণ করে যে ইঁদুরের মস্তিষ্ক সহযাতভাবেই মিনিংফুল রিলেশনশিপ তৈরি করতে পারে, তারা যাদৃচ্ছিক কোনো লিংক তৈরি করেনা। এমনকি ইঁদুরদের মধ্যে রিজনিং তৈরি করারও প্রবণতা আছে, এটা উদগাটন করার মাধ্যমে যে কোন বিষয়টি তাদের চাপের কারণ। যদি ইঁদুর কার্যকারণ সম্পর্ক চিন্তা করতে পারে এবং তারা যদি সিম্পল এসোসিয়েশনের উপর নির্ভরশীল না হয় এটা একইভাবে কুকুরের ক্ষেত্রেও সত্য। প্যাভলভ- এর খাবার ও ঘন্টার এসোসিয়েশন যাদৃচ্ছিক ছিলোনা, ঘন্টার উদ্দীপনায় কুকুরের মধ্যে লালা নিঃসৃত হতো কারণ অবশ্যই এখানে হয়তো কোন না কোন কজাল সেন্সের সম্পর্ক ছিলো। অতএব আমার কুকুর জাকারবার্গকে অসম্মান করার কোনো কারণ নেই। জাকারবার্গের প্রতি হেইটস তার কজাল চিন্তার ক্ষমতার জন্য এবং আমাদের রয়েছে মানব সভ্যতার কার্যকারণবোধের প্রতি গভীরতম শ্রদ্ধা।

ফরোয়ার্ড ও ব্যাকওয়ার্ড রিজনিং

মানব সত্ত্বা বিশ্বের সেরা কজাল থিংকার। আমরা যখন একটি Raw Surface- এ কাঠি ঘর্ষণ করি আমরা প্রেডিকশন করতে পারি যে সেখানে কি ঘটবে। আপনি ছাতা ছাড়া বৃষ্টির মধ্যে বের হবেন কিনা, আপনি কোনো সেনসেটিভ সহযোগিকে ভুল কিছু বলবেন কিনা। এ সবকিছুর জন্য কজাল রিজনিং খুব প্রয়োজনীয়। প্রতিটি ক্ষেত্রে, আমরা বিশ্বকে একটি নির্দিষ্ট স্টেটে চিন্তা করি আর তারপর সেই প্রকৌশলের অপারেশন ইমাজিন করি যা সেই স্টেটকে পরিবর্তন করে। আমরা সেই ম্যাকানিজম সম্পর্কে যথেষ্ট পরিমাণ জানি যা স্পার্ক উৎপাদন করে এবং এ জন্য আমরা দাহক উপাদানকে আগুন সৃষ্টির জন্য দায়ী মনে করি। আমরা কল্পনা করি যে আমরা যদি ঘরে থাকি আমরা শুস্ক থাকবো আর এবং যদি বাহির হই আমরা ভিজে যাবো। তারপর আমরা সেই ম্যাকানিজমকে চিন্তা করি যা আমাদের জামা ও চুলের পানিকে শোষণ করবে এবং আমাদের স্কিনে প্রবেশ করবে। সংক্ষেপে, আমরা ভিজে যাবো। আমাদের কার্যকারণগত জ্ঞান ব্যবহার করা , এবং আমরা যে ম্যাকানিজম জানি তার জ্ঞান ব্যবহার করা প্রথমে মনে হতে পারে খুবই সহয কিন্তু এ জন্য আমাদের প্রচুর পরিমাণ প্রকৌশলের ফ্যামিলারিটি জানতে হয়; অমসৃন পৃষ্ঠে কাঠি ঘর্ষণ, পানির ফোটা দ্বারা আবৃত হয়ে যাওয়া, ঠান্ডা শরীরকে কম্বল দিয়ে আবৃত করা, তরুণ ছেলের সাথে চেচামেচি করা, ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রপাতির পাওয়ার বাটন প্রেস করা, বেসবল দিয়ে জানালায় হিটিং করা। জমিতে পানি দেয়া, ঘাড়ির এক্সিলারেটরে প্রেস করা__ এ তালিকা চলতেই থাকে। আমরা প্রচুর পরিমাণ মেকানিজমের সাথে পরিচিত যা ইফেক্ট উৎপাদন করে। আমরা শুধু সেগুলোর সাথে পরিচিতই নয়, আমরা বুঝতে পারি সেগুলো কিভাবে কাজ করে। আমরা জানি যে ম্যাচ ঘর্ষণের অমসৃণ কাগজ যদি ভেজা হয় তবে আমরা সফটলি ঘর্ষণ করবো নাকি হার্ডলি। আমরা এটাও জানি আমরা বৃষ্টি থেকে নিস্কৃতি লাভ করবো যদি আমরা রেইন গিয়ার পরিধান করি। আর প্রতিটি প্রকৌশলের সাথে আমরা পরিচিত, এটি কিভাবে কাজ করে সে সম্পর্কে আমরা যথেষ্ট জ্ঞান রাখি এবং আমরা যে ফলাফল প্রত্যাশা করি সেই ফলাফলের সাথে কোন ম্যাকানিজম জড়িত। কিন্তু এমন অনেক রিজনিং আছে যা অধিকাংশ মানুষের নিকট ন্যাচারাল মনে হয়না;এটা অত্যন্ত কঠিন Cube root of 8,743 সম্পর্কে রিজনিং করা, এটা খুব কঠিন কোয়ান্টাম ম্যাকানিক্স সম্পর্কে রিজন করা; এটা প্রেডিক্ট করা কঠিন জুয়াখেলায় রিনো ও নেভাডা পাওয়ার সম্ভাবনা। আমরা আসলে সবকিছুতে এত ভালো না। যার জন্য বিশ্ব কিভাবে কাজ করতে হয় সেখান থেকে আমরা যথেষ্ট দক্ষ। আমাদের জন্য সবচেয়ে উপকারী কি হতো যদি আমরা বিশ্বের সাথে অপারেট করার জন্য বিবর্তিত হতাম? আমরা অবশ্য পরে দেখবো, চিন্তার উদ্দেশ্য হলো আমাদের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির সবচেয়ে ইফেক্টিভ একশন নির্বাচন করা।। আর এ জন্য পরিস্থিতির সাথে নিরবিচ্ছিন্নভাবে সম্পৃক্ত বিষয়গুলোর প্রতি আমাদের থাকতে হয় গভীর বিচক্ষণতা। যা আমাদের মানুষ হিসেবে আলাদা করে তা হলো এ সকল অপরিবর্তনশীল বৈশিষ্ট্যগুলো খুঁজে বের করা। মানব প্রতিভার প্রয়োজন হয়, মূল বৈশিষ্ট্যগুলো চিহ্নিত করার জন্য, যখন কেউ আঘাত পায় অথবা সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয় অথবা একটি গাড়ির টায়ার পাম্প আপ করার সময় নির্ণয়। আমরা এটা বলছিনা যে, মানুষ একটি যুদ্ধ অথবা হেলথ অর্গানাইজেশন প্লানের ইফেক্ট কি হতে পারে তা প্রেডিক্ট করার ক্ষেত্রে খুবই ভালো, এমন কি মানুষ একটি টয়লেট সম্পর্কেও ভালো জ্ঞান রাখেনা। আমরা হয়তোবা অন্যান্য রিজনিং-এর তুলনায় কার্যকারণগত যুক্তিবিচারে খুবই ভালো কিন্ত আমাদের “Explanatory Depth” এর ইলুশন আমাদের নিকট প্রদর্শন করে যে, আমরা এখনো ব্যক্তি হিসেবে যথেষ্ট সীমাবদ্ধ আমরা এর ঠিক কতটা গভীরে প্রবেশ করতে পারবো।

এখানে কয়েকটি কজাল রিজনিং- এর উদাহরণ দেয়া হলো। যেমন ইভা বলল, আজ যদি শুক্রবার হতো তবে আলবি অফিসে যেতো আজ শুক্রবার, অতএব আলবি অফিসে। এ ধরণের যুক্তি সমাধান করা আমাদের নিকট একদম সহয। যেমন-

যদি A হয়, তবে B হবে

A

অতএব B

এটা অনেকটা এমন যে আপনি একই জিনিসকে টুইচ করে বলছেন। কিন্তু যদি ইভা মিথ্যা বলতো তবে ইফেক্ট ডিজেবল হয়ে যেতো। এ যুক্তিকে মোডাস পোনেস বলে এগুলো প্রকৃতিতে ন্যাচারাল। কিছুকিছু লজিক প্রাকৃতিকভাবেই ন্যাচারাল মনে হয়না, যেমন-

যদি আমার আন্ডারওয়্যার নীল হয় তবে আমার মোজা অবশ্যই সবুজ হবে।

আমার আন্ডারওয়্যার নীল।

অতএব আমার মোজা সবুজ।

এ অনুমানটি কী বৈধ। অধিকাংশ মানুষই তাই মনে করবে যদিও আমাদের টেক্সটবুক লজিক অনুযায়ী এটা বৈধ নয়। এ ধরণের লজিক্যাল ফ্যালাসিকে বলা হয় Affirmation of Consequent!

এবার আর একটি যুক্তি দেখুন যেখানে শুধু ঘটনা নয়, কারণ ও ফলাফলও সত্যঃ

যদি আমি নর্দমায় পড়ে যাই, আমার শাওয়ার গ্রহণ করা উচিত।

আমি শাওয়ার গ্রহণ করেছি।

অতএব আমি নর্দমায় পড়ে গেছি।

অধিকাংশ মানুষই এক্ষেত্রে বিভ্রান্ত হবেনা কারণ আমরা শুধুমাত্র নর্দমায় পড়ে গেলেই স্নান করিনা। কেউ স্নান করছে, তারমানে তো এই নয় যে, সে নর্দমায় পড়ে গেছে। আমরা কজালি রিজনিং করি। আমরা যদিও সে সব বিষয় সম্পর্কে পুরোপুরিভাবে সচেতন নয় যা আমাদেরকে সঠিক অনুমানে উপনিত হতে সাহায্য করে। আমরা এটা জানি যে নর্দমায় পড়ে গেলে স্নান করা ছাড়া আর উপায় নেই। আমরা সাময়িক সময়ের জন্য অন্যান্য সম্ভাবনাকেও গণনায় নিয়ে আসি আর সেগুলোকেও আমরা মূল্যায়ন করি। আমরা এগুলো সেকেন্ডেই করি। আমরা কজাল রিজনিং- এর ক্ষেত্র খুবই ন্যাচারাল। মানুষ শুধু এসোসিয়েটিভলি চিন্তাই করেনা যেমনটি প্যাভলভ বলেছিলেন, আমরা আসলে লজিক্যাল ডিডাকশনের মাধ্যমে যুক্তি তৈরি করিনা। আমরা যুক্তিবিচার করি কজাল রিজনিং এর মাধ্যমে। মানুষ অনুমান তৈরি করে বিশ্ব কিভাবে কাজ করে। আমরা চিন্তা করি কারণ কিভাবে ফলাফল তৈরি করে, কোন ধরণের বিষয় ইফেক্টকে নিষ্ক্রিয় করে দিতে পারে এবং কোন ফ্যাক্টরগুলো উচিত কজকে সক্রিয় রাখতে। আমরা প্রপোজিশনাল লজিকের পরিবর্তে, যে লজিক আমাদের বলে একটি বিবৃতি সত্য বা মিথ্যা, মানুষ চিন্তা করে কজাল লজিক। এটা হলো এমন এক যুক্তিবিচার যা আমাদের বলে কিভাবে একটি ঘটনা সজ্জিত হয় সিদ্ধান্তে উপনিত হতে।

15,356 Jungle Bridge Stock Photos, Pictures & Royalty-Free Images - iStock

আমাদের কার্যকারণগত যুক্তিবিচারের মাধ্যমে আমরা আমাদের জ্ঞানকে ব্যবহার করি পরিবর্তনশীলতা বোঝার জন্য। এটি আমাদেরকে বুঝতে সহুযোগীতা করে কি ঘটবে ভবিষ্যতে এটা রিজনিং- এর মাধ্যমে যে কিভাবে একটি ম্যাকানিজম কারণকে ফলাফলে রুপান্তরিত করে। আমরা এখন এমনকিছু যুক্তিবিচার দেখবো যেগুলো মানুষ খুব স্বাভাবিক ভাবে করে থাকে। যুক্তিবিচারের ক্ষমতা আমাদেরকে রিয়েল ওয়ার্ল্ডের অনেক সমস্যা সমাধান করতে সাহায্য করে। আমরা যখন স্পেসের কোথাও কোনো জলাশয় দেখি তখন সেটি অতিক্রম করার জন্য ব্রিজ তৈরি করাটা আমাদের যৌক্তিক কার্যকারীতারই ফসল।।। ব্রিজের ডিজাইনার অবশ্যই যুক্তিবিচার করবে ওজন সমর্থন করতে পারার ম্যাকানিজম নিয়ে যা কার ও ট্রাকের মত ভারী লোড বহন করতে পারবে একটি নিরাপদ ব্রিজ তৈরি করার জন্য। তারপর গাড়ির মধ্যে চাকা সংযুক্ত করা হবে যেটি গাড়িটিকে মুভ করতে সক্ষম করে তুলবে যার জন্য প্রয়োজন হয় বিভিন্ন রকমের যুক্তিবিচার। একটি ব্রিজের ধারণ ক্ষমতা চাকা তৈরির জন্য আসলে অপরিহার্য, আর এ ব্রিজ তৈরি ও চাকার মাধ্যমেই হিউম্যানিটি তাদের ভুখন্ডকে বিস্তারিত করেছে যা তাদেরকে শিকারী থেকে পালাতে সাহায্য করেছে এবং খুব সাধারণভাবে বলতে গেলে, এটি তাদেরকে সাহায্য করেছে, দুষ্প্রাপ্য সম্পত্তির জন্য প্রতিযোগিতায় জয়লাভ করতে।

ফরোয়ার্ড রিজনিং

আমাদের চিন্তাকে, দূরবর্তী ভবিষ্যতে প্রোজেক্ট করা আমাদের যুক্তিবিচারের আর একটি অংশ। এটি আমাদের সেই ম্যাকানিজম চিন্তার সাথে সম্পৃক্ত যা বিশ্বের দীর্ঘস্থায়ী অবস্থাকে প্রভাবিত করে। যেমন- আমাদের দীর্ঘস্থায়ী পরিকল্পনা প্রয়োজনীয় যা আমাদেরকে মোটিভেট করে বছর অপচয় করতে আমাদের জীবন সম্পর্কে শিক্ষার জন্য। শিক্ষা হলো এমন একটি ম্যাকানিজম যার মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের স্কিল উন্নত করতে পারি যার মূল্য কয়েক বছর পর স্পষ্ট হবে। একটি নৌকা তৈরি করার শিল্প শিখতে কয়েক বছর সময় লাগে। । কিন্তু অধিকাংশ মানুষই এ সব শিল্পের গুরুত্ব বোঝেনা, কোন একটি উপকারী শিল্প শেখার জন্য দীর্ঘকাল সময় অপচয় করার ব্যাপারটি তখনই সেন্স তৈরি করে যদি আপনি যুক্তিবিচার প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যথেষ্ট ভবিষ্যৎ দেখতে পারেন, সেই কজাল মেকানিজম বিচার করার মাধ্যমে যা সামাজিক পরিবর্তনকে পরিচালনা করে। আমরা শুধু ফিজিক্যাল অবজেক্ট এবং সোশ্যাল চেঞ্জ ডিল করার ক্ষেত্রে দক্ষ নই, আমরা যুক্তিবিচার করতে দক্ষ তখন যখন আমরা মানসিক কোনো সমস্যার সম্মুখ্যীন হই। আপনার প্রয়োজন যুক্তি বিচারে সম্পৃক্ত হওয়া সমস্যাকে খুঁজে বের করার জন্য এবং এটাও খুঁজে বের করা আপনার কি করা উচিত। সমস্যা সমাধান করার জন্য আপনাকে হিউম্যান রিএকশন ও ইমোশনকে বিচার করতে হবে। কোন কারণে কেউ একজন আপনার সাথে নেগেটিভলি রিয়েক্ট করলো? আপনার কি একজন মানুষকে ইনসাল্ট করা প্রয়োজন? আপনার কি তাকে অতীতের কোনো খারাপ আচরণ মনে করিয়ে দেয়া প্রয়োজন? আপনার কি ঐ ব্যক্তির মরাল সেনসিটিভিটিকে আক্রমণ করা প্রয়োজন? ফিজিক্যাল অবজেক্টের মতোই, এখানেও জটিল কার্যকারণগত বিশ্লেষণের প্রয়োজন আছে। এ জন্য আপনাকে মানুষের চিন্তা ও মোটিভেশন সম্পর্কে জানতে হবে এবং জানতে হবে কিভাবে সেগুলো তাদের কার্যকে প্রভাবিত করে? আপনাকে জানতে হবে কীসে মানুষ বিরক্ত হয় এবং আপনার জানতে হবে সে মানুষটির বিশ্বাস সম্পর্কেও। আপনাকে জানতে হবে সে ব্যক্তি আপনার অতীত সম্পর্কে কি জানে? তার মরাল ভ্যালু কেমন ও সে কেমন মরাল ভ্যালু তার প্রিয়জনদের নিকট প্রত্যাশা করে? আপনাকে সে ব্যক্তির আকাঙ্খা সম্পর্কেও জানতে হবে। আপনাকে এটাও জানতে হবে কোন বিষয়ে ঐ ব্যক্তি সেনসেটিভ। সে আপনাকে সাইলেন্ট ট্রিটমেন্ট দিয়ে মূলত কি জানতে চাইছে। অন্যকথায়, আপনাকে একজন ব্যক্তির কর্মের পেছনের প্রতিটি ইনটেনশন সনাক্ত করতে হবে এবং সনাক্ত করতে হবে সে সকল ফলাফল যা সে ব্যক্তি প্রত্যাশা করে। আমরা প্রতিটি সোশ্যাল এনকাউন্টারে এ ধরণের কজাল এনালায়সিসে সম্পৃক্ত হই, আর এক্ষেত্রে অধিকাংশ মানুষ খুবই ভালো করে। মানুষ যুক্তিবিচারে খুবই পারদর্শী। এটা শুধুমাত্র, ফিজিক্যাল বিষয়বস্তুর ক্ষেত্রে নয়, মানুষের আচরণের ক্ষেত্রেও। যুক্তিবিচার মানুষের জ্ঞানীয় ধারার একটি মৌলিক দিক; আমাদের মনের বিশাল একটি অংশজুড়ে এটাই ঘটে। যদিও আমরা সবকিছু এত সহযে যুক্তিসঙ্গতভাবে ব্যাখ্যা করতে পারিনা। আমরা সামনে ও পেছনে যুক্তি প্রদর্শন করতে পারি। ফরোয়ার্ড রিজনিং হলো এটা চিন্তা করা যে, কিভাবে কার্য ফলাফল তৈরি করতে পারে। আমরা এটাকে ব্যবহার করতে পারি ভবিষ্যতে প্রেডিক্ট করার জন্য , কিভাবে আজকের একটি কর্ম আগামীকালকে প্রভাবিত করে। আমরা এটাকে ব্যবহার করতে পারি, এটা খুঁজে বের করার জন্য যে, কিভাবে বস্তু কাজ করে, যেমন কিভাবে ঘড়িতে এলার্ম সেট করলে সেটি ভবিষ্যতে বেজে উঠে। মডাস পোনেস নামক যে যৌক্তিক পরিকল্পনার কথা আমরা জেনেছি, তা ফরোয়ার্ড রিজনিং-এর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যায়। আমরা অতীতের দিকেও যুক্তিবিচার করতে পারি কারণের ফলাফলের উপর ভর করে৷ ডাক্তারও কোন একটি রোগের উপসর্গ বোঝার জন্য এটি করে এবং ম্যাকানিক্স এটা করে তাদের গাড়ির সমস্যা নির্ধারণ করার জন্য।

ব্যাকওয়ার্ড রিজনিং সাধারণত এক্সপ্লেইনেশনের সাথে জড়িত, এটা বের করার জন্য যে, যা ঘটেছে তা কিভাবে ঘটেছে।ফরোয়ার্ড রিজনিং আমাদের জন্য খুবই সহয, কারণ থেকে ফলাফলের দিকে যাওয়া ডায়গনিস্টিক্যালি ফলাফল থেকে কারণের দিকে যাওয়ার চেয়ে। যেমন একজন ডাক্তার এটা খুব সহযে প্রেডিক্ট করতে পারবে যে কোন ব্যক্তির যদি পেপটিক আলসার থাকে তবে তার উদরে ব্যথা হবে আর এভাবে সে সিদ্ধান্তে আসবে কারো উদরে যদি ব্যাথা হয় তবে তার পেপটিক আলসার রয়েছে। ফরোয়ার্ড রিজনিং- এর চেয়ে ব্যাকওয়ার্ড রিজনিং অনেক বেশি সময় খরচ করে। ইফেক্ট থেকে কজের দিকে যাওয়া আসলেই খুবই কঠিন, কিন্তু আবার ঠিক এ কারণেই মানুষ স্পেশাল ; আমরা এখনো এটা সুনিশ্চিতভাবে জানিনা যে মানুষ ছাড়া আর কোনো প্রাণী ফলাফল থেকে “কারণ” খুঁজে বের করতে পারে। ভবিষ্যতের দিকে যুক্তিনির্মান করার জন্য আমাদের কিছু মেন্টাল সিমুলেশন প্রয়োজন হয়। যদি আমি আপনাকে প্রশ্ন করি, একটি অমলেট তৈরি করতে ঠিক কতক্ষণ সময় লাগবে। আপনি অনেকগুলো স্টেপ চিন্তা করবেন, এবং অনুমান করবেন প্রতিটি স্টেপে কি পরিমাণ সময় খরচ হবে, আর তারপর সেগুলোকে যোগ করবেন। আপনাকে যদি বলা হয় রাশিয়াতে যুদ্ধ সৃষ্টি হওয়ার ফলাফল কি? আপনি হয়তো ইন্টারকন্টিনেন্টাল বিস্ফোরক মিসাইলের কথা চিন্তা করবেন যেগুলো বাতাসে উড়ে বেড়াচ্ছে, রাডার সেগুলো সনাক্ত করছে আর অন্যান্য ইন্টারকন্টিনেন্টাল মিসাইলগুলিও প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করার জন্য ফায়ার করা শুরু করেছে। ফলাফল থেকে কারণ নির্ণয় করা এত সহয বিষয় নয়। যদি রাশিয়ায় কোনো যুদ্ধ হয় এবং প্রশ্ন করা হয় এ যুদ্ধের কারণ কি তবে আপনি অনেকগুলো সম্ভাব্য কারণ খুঁজে নিয়ে আসবেন আর এ প্রতিটি কারণের মধ্যে কোন কোন কারণ এমন একটি যুদ্ধ জন্ম দিতে পারে সে ব্যাপারে প্রেডিক্ট করবেন। দুর্ভাগ্যবশত, এই যে আমাদের পেছনের দিকে যুক্তি তৈরির ক্ষমতার চেয়ে সামনের দিকে যুক্তি তৈরির ক্ষমতা তা আমাদের ভবিষ্যতবানী করার ক্ষেত্রে কিছু ভুলের সৃষ্টি করে আর যা আমরা ডায়াগনোস্টিক্যাল যুক্তিবিচারের সময় করিনা।

মনে করুন যে, আপনি একজন মেল্টাল হেলথ কেয়ারের ডাক্তার। আপনার কাছে নিন্মোক্ত সমস্যাটি উপস্থাপন করা হলোঃ

  • মিঃ ওয়াই একজন ত্রিশ বছর বয়সী মহিলা যার মধ্যে ডিপ্রেসন কাজ করে। অনুগ্রহ করে সে সম্ভাবনাটি বলুন যা নির্দেশ করে অলসতা। অন্যকথায়, আপনি যদি একজন ব্যক্তি সম্পর্কে শুধু এতটুকুই জানেন যে তার বয়স ৩০ এবং সে ডিপ্রেসনে আছে তবে আপনি এখান থেকে কিভাবে বের করবেন যে ঐ ব্যক্তিটি কেনো আলস্যপ্রবণ?

আপনি যদি প্রাসঙ্গিক কোন পরিসংখ্যানই না জানেন এ প্রশ্নের উত্তর দেয়া খুব কঠিন। কিন্তু সুনির্দিষ্ট কিছু ব্যাপার আছে যা আপনি জানতে পারেন৷। আপনি জানতে পারেন, উদাহরণস্বরূপ- এই সম্ভাবনা যে, তার এ আলস্য কিছুটা কম হতো যদি না তার আলস্যের পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকে। এবার আপনি যদি প্রশ্ন করেন,মিঃ ওয়াই, একজন ত্রিশ বছর বয়সী নারী যার ডিপ্রেসন আছে। আপনার সম্পূর্ণ রোগ নির্ণয় প্রক্রিয়ায় ছিলো যে, তার মধ্যে অন্যকোনো মেডিক্যাল বা সাইকিয়াট্রিক ডিসওর্ডার নেই যা তার আলস্যের কারণ হতে পারে। এবার নির্ণয় করুন, খুব সম্ভব, কেনো তিনি অলস? এ জন্য হয়তো আপনি নিন্মমানের একটি সংখ্যা নির্ণয় করবেন, যেটা আসলে এতটা নিন্মমাপের নয় যার মাধ্যমে আপনি যুক্তিতে উপনিত হবেন ঠিক কেনো অলস হয়ে উঠে। স্টিভেন স্লোম্যান, হার্ভাড ইউনিভার্সিটির একটি স্পন্সর্ড ওয়ার্কশপে ভিন্ন দুটি গ্রুপে একই প্রশ্ন করেছিলেন, দুটো গ্রুপ যথাযথভাবে একই উত্তর দিয়েছিলো। কিন্তু একটা বিষয় তারা এড়িয়ে গেছে যা ছিল বিশাল বড়, আর তা হলো মানুষ সুনির্দিষ্ট কোনো কারণের ফলাফল খুঁজতে গিয়ে বিকল্প কোনো কারণের কথা চিন্তা করেনা। যেমন- একজন তরুণ মহিলা, সে ডিপ্রেসনে আক্রান্ত আর তাই তারা শুধু তার সাইকোলজিক্যাল পিকচারটাই বোঝার চেষ্টা করছে তার বাহিরে নয়।

কিন্তু সাইকোলজিক্যাল পিকচারের কোনো স্থানই থাকতোনা, সে যদি অন্য কোনো কারণে ডি-হাইড্রেশন, ক্লান্ত অথবা অলস হয়ে উঠতো। বিস্ময়করভাবে, তারপরও, ডায়াগনস্টিক যুক্তি এই সীমাবদ্ধতার কারণে দুর্ভোগ পোহায়না। স্লোম্যান বলেন, আমরা একটি ওয়ার্কশপে দুটি আলাদা গ্রুপকে একটি প্রশ্ন করি,

  • মিঃ ওয়াই ত্রিশ বছর বয়সী একজন নারী, অলসতায় ভুগছে, অনুগ্রহ করে তার সে সম্ভাবনা বলুন যার জন্য সে হতাশ। আমরা সে প্রশ্নটি এখানে উপস্থাপন করছি।

গবেষকরা এখানে প্রশ্নটি ঘুরিয়ে দিলেন। তারা নির্দিষ্ট কোনো কারণের ফলাফলের সম্ভাবনার পরিবর্তে তারা প্রশ্ন করেছিল, একটি কারণের সম্ভাবনা সুনির্দিষ্ট ফলাফলের ভিত্তিতে। আর এবার তারা অপেক্ষা করতে শুরু করলেন তারা কি বলেন- মিঃ ওয়াই, ৩২ বছর বয়সী একজন তরুণী, যার মধ্যে অলসতা কাজ করছে। অনুগ্রহ করে নির্দেশ করুন সে সম্ভাবনা যে, তার ডিপ্রেশন নির্ণয় করা হয়েছে যা একটি সম্পূর্ণ ওয়ার্ক-আপ প্রদান করে যেখানে প্রকাশ হয় তার অন্য কোনো মেডিক্যাল বা সাইকিয়াট্রিক ডিসওর্ডার নেই যা তার অলসতার কারণ হতে পারে। এই বার্তা থেকে আবারও এটা প্রমাণ হয় যে, মিসেস Y অলসতায় ভিন্ন কোনো কারণে ভুগছেননা

এক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, অলটারনেটিভ কজের অনপুস্থিতি মানুষের জাজমেন্টের ক্ষমতাকে বাড়িয়ে দিচ্ছে। আমি যদি আপনাকে বলি A সত্য এবং A হলো B-এর কারণ আর আপনি জানেন যে “B” নামক ঘটনাটি ঘটেছে তারপর আর কোনো কারণই অস্তিত্বশীল নয় যা B -নামক ঘটনাটিকে ঘটাতে পারবে, A হলো সর্বোচ্চ সম্ভাবনা। প্রকৃতপক্ষে, আপনি যদি বিশ্বাস করেন প্রতিটি ঘটনারই একটি কারণ আছে, তাহলে A কে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে, এটাই একমাত্র B- এর অস্তিত্বের কারণ। আর ঠিক এ কথাটি মেন্টাল হেলথ প্রফেশনালসরা বলেছিলেন, বিকল্প কারণের অনপুস্থিতিতেই তারা মিঃ ওয়াইকে বিচার করেছিলেন। Y খুব সম্ভবত ডিপ্রেসনে আক্রান্ত যেখানে অল্টারনেটিভ কজ সম্পর্কে আসলে কিছুই বলা হয়নি। আপনি যখন ডায়গনস্টিক্যালি ইফেক্ট থেকে কজের দিকে যাবেন । মানুষ অলটারনেটিভ কজকে অস্বীকার করে তখন যখন সে কারণ থেকে ফলাফলের দিকে যায় কারণ তাদের মেন্টাল সিমুলেশনে অল্টারনেটিভ কারণের জন্য কোনো রুম খোলা থাকেনা এবং এ কারণেই আমরা সময়ের পেছনে ফলাফল থেকে কারণের দিকে মেন্টাল সিমুলেশন চালিয়ে যেতে পারিনা। যদিও আমরা ডায়গনস্টিক রিজনিং- এ এতবেশি পারদর্শী না কিন্তু তারপরও আমরা এ কাজটি করতে পারি আর এ জন্যই মানুষ অন্য প্রাণীদের চেয়ে আলাদা। এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে কঠিন কোনো প্রমাণ নেই যে যার মাধ্যমে আমরা বুঝবো অন্য কোনো প্রাণী ইফেক্ট থেকে কজের দিকে যেতে পারে। প্রাণীরা পরিশীলতার সাথে তাদের পরিবেশের প্রতি রেসপন্স করে এবং আমরা পূর্বেই দেখেছি, ইঁদুদের মধ্যেও ক্যাজুয়াল কনসিডারেশন ( কারণিক বিচার) আছে কিন্তু কোনো প্রাণীর মধ্যেই এমন কোনো বৈশিষ্ট্য দেখা যায়নি যে তারা পেছনের দিকে যুক্তি তৈরি করতে পারে৷।। আমাদেরকে ভুল প্রমাণ করার জন্য এমন কোনো প্রাণীর খুঁজে বের করা উচিত যে পেছনের দিকে যুক্তি তৈরি করতে পারে, আপনি হয়তো শিম্পাঞ্জি, বনোবো অথবা ডলফিনের কথা বলতে পারেন কিন্তু তাদের স্টাডি করে এর প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে তারা ডায়গনিস্টিক্যালি যুক্তিবিচার করতে পারে। ডলফিন মানুষের পর সর্বোচ্চ বুদ্ধিমান এবং বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, মানুষের পর এই ডলফিনই পৃথিবীকে দখল করার জন্য অপেক্ষা করছে! তাদের যদিও হাত ও পা নেই, জানিনা তারা কিভাবে বুদ্ধি দিয়ে ওয়ার্মহোল তৈরি করবে।

আর কোনো প্রাণী নয়, একমাত্র যে প্রাণীটির যুক্তিবিচার বিজ্ঞানীদের প্রভাবিত করেছিলো সেটি ছিল একটি কাঁক। একটি স্টাডিতে, ছয়টি নতুন ক্যালডোনিয়ান কাককে স্বচ্ছ টিউবের মধ্যে সুস্বাদু খাবারের টুকরা দেয়া হয়েছিল। সে এক্সপেরিমেন্টে টিউবের মধ্যে একটি গর্ত ছিল, এজন্য হয়তো তারা গর্তের ভেতর দিয়ে কোন যন্ত্র দিয়ে এটাকে টানতে বা ঠেলতে পারে অথবা যখন মাংসটি গর্ত এড়িয়ে যায় তখন মাংসটি টেনে বের করে।এ কাকগুলো শুধু মূল টিউব থেকে কিভাবে খাদ্য বের করবে সে কৌশলটিই আবিষ্কার করেনি তারা একটি ক্যাজুয়াল স্ট্রাকচারও তৈরি করে ফেলেছিল, তারা অন্যান্য টিউব থেকে খাবার বের করতে শুরু করলো যে টিউবগুলোতে দুটি গর্ত ছিলো ভিন্ন ভিন্ন পজিশনে। ল্যাবে এটাই ছিলো মানুষ ছাড়া অন্য কোনো প্রাণীর কার্যকারণবোধের একটি প্রমাণ; এমনকি শিম্পাঞ্জির পক্ষেও যেটি সম্ভব হয়নি। কিন্তু মানুষের তুলনায় তাদের যুক্তিবিচার এখনো ছায়ামাত্র। এখনো পর্যন্ত কোনো কাক অসুস্থ্য কাকের বাচ্চার ক্রোমোসোম্যাল এবনরমালিটি সনাক্ত করতে পারেনি। আর এখান থেকে আমরা বলতে পারি যে, মানুষই সত্যিকার ডায়াগনোসিস রিজনিং নিয়ে জন্মায়__ কার্যকারণ বিচার__ফলাফল থেকে কারণে__এখনো মানুষ অপ্রতিরোধ্য। কিন্তু কাকও খুবই অনুপ্রেরণাদায়ক একটি প্রাণী।

গল্পবলা

গল্প বলার জন্য মানুষের মোটিভেশন অত্যন্ত সাধারণ। আর গল্পের মধ্যে সে সব বিষয়ও থাকে কিভাবে আমাদের এ বিশ্ব কাজ করে এবং কিভাবে আমাদের আচরণ করা উচিত। বাইবেলের অনেক গল্প আমাদের কর্মের পরিণতি সম্পর্কে বলে, কিছু কর্ম ভালো ও কিছু মন্দ। এড্যাম ও ইভের গল্প আমাদের শিক্ষা দেয় ঈশ্বর যা বর্ণনা করেছেন। কেইন ও এবেলের গল্প আমাদের বলে কেনো আমাদের উচিত ভাইকে ভালোবাসা। আরবানের পরীর গল্প আমাদের বলে আমাদের কি পরিত্যাগ করা উচিত, কিভাবে আমরা নির্ধারণ করতে পারি কাকে আমরা ভালোবাসবো ও বিশ্বাস। হিরোয়িক গল্পগুলো আমাদের বলে আমাদের নিজেদের ভেতরের সম্ভাবনার কথা। স্টোরি-টেলিং আমাদের ক্যাজুয়াল ওয়ে অব সিকোয়েন্স তৈরি করার জন্য একটি প্রাকৃতিক উপায়। আর এ জন্য আমরা সর্বত্র গল্প খুঁজে পাই। ১৯৪০ সালে সোশ্যাল সাইকোলজির একটি পরীক্ষা সেটি Fritz Heider and Marianne Simmel পরিচালনা করেছিলেন, সেখানে দেখানো হয়, একটি খুব সাধারণ এনিমেটেড মুভি যেখানে বিভিন্ন বৃত্ত ও ত্রিভুজ কম্পন করছে, সমস্ত স্ক্রিনে ঘুরছে। যেখানে কোন সাউন্ড বা টেক্সট কিছুই ছিলোনা। কখনো দুটি জিওমেট্রিক ফিগার একে অন্যের কাছাকাছি এসেছে, আঘাত করেছে, মাঝেমাঝে তারা যুদ্ধ করেছে। মানুষ অপরিহার্যভাবে, সেখানে সার্কেল ও ট্রায়াঙ্গেল থেকে বেশিকিছু দেখেছিল; তারা সেখানে দেখেছিল একটি রোম্যান্টিক ড্রামা। আর এখান থেকে প্রমাণ হয় যে মানুষ সর্বত্র গল্প দেখে।

একটি ভালো গল্প যা ঘটেছে তার থেকে বেশিকিছু। এ ধরণের গল্প বিশ্ব কিভাবে কাজ করে তার সম্পর্কে আরো বেশিকিছু বলে, এমনকি যদিও সে গল্পের বিষয়বস্তু সত্যিকার অর্থে না ঘটেও থাকে, এমনকি কখনোই ঘটবেনা। যখন শেক্সপিয়ারের ল্যাডি মেকব্যাথ সম্রাট ডুচানকে হত্যা করার পর, তার হাত বারবার ধোয়ার প্রবণতা থেকে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছিলেন না এবং চিৎকার করে বলছিলেন, “Out, Damned Spot! Out I say! One: two: Why, then ’tis time to do’t __ Hell is murky!” আমরা শুধু একটি ফিকশনাল চরিত্রের আর্তনাদই শুনিনি, আমরা ঐ হত্যাকান্ডের ইমোশনাল প্রভাবও দেখেছি। আমরা কজাল রুলস দেখেছি, কাউকে হত্যা করলে আসলে অনুশোচনা ভোগ করতে হয়, আর এটাকে কিছুতেই দূর করা যায়না।একটি ভালো গল্পের কিছু মরাল আছে যা শুধু আমাদের বিশ্বে নয়, অন্য কোনো বিশ্বেও প্রয়োগ করা যায় যেখানে আমরা নিজেদের খুঁজে পাই। আব্রাহাম ও আইস্যাকের গল্পে আমরা শুধুমাত্র আব্রাহাম ও তার পরিবারের উৎসর্গই দেখিনা, আমরা দেখি নীতি ও জীবনের যে কোনো পরিস্থিতিতে ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস। গল্পের মাধ্যমে আমরা এমনকিছু করি যা অন্য কোনো প্রাণীর পক্ষে একেবারেই অসম্ভব। আমরা বিশ্ব সম্পর্কে আমাদের কার্যকারণ মেকানিজমের বোধ একটি বিকল্প মহাবিশ্বকে চিন্তা করার জন্য ব্যবহার করতে পারি। সায়েন্স ফিকশন হলো যার প্রমাণ। যার মাধ্যমে লেখক অন্যরকম এক জগতের স্বপ্ন দেখায় যেখানে অন্য একটি প্লানেট ও জীবন আছে, অথবা এমন কোন ড্রাগ যা মানুষের সুখকে সুনিশ্চিত করে অথবা এমন কোনো রোবট যা সমস্ত বিশ্বের উপর আধিপত্য বিস্তার করে। আমরা এ কার্যকারণ সম্পর্কগুলোর ভিত্তিতে আমাদের নিজেদের জন্যও বিকল্প মহাবিশ্ব তৈরি করি, আমরা হয়তো এমন একটি জগতের কথা কল্পনা করি যেখানে আমি রকস্টার, আপনি এভাবে আপনার বোধকে কনসাল্ট করতে পারেন কিভাবে জগত কাজ করে, যে জগতের কারণ রকস্টার। সে জগতে আপনি হয়তো ফেন্সিয়ার হোটেলে জীবনযাপন করবেন, মহা শোরগোলে গাড়ী চালাবেন, অটোগ্রাফ সাইন করতে করতেই আপনার জীবন থেকে অজস্র সময় চলে যাবে। অলটারনেটিভ ওয়ার্ল্ড সম্পর্কে চিন্তা করাটা মানুষের থিংকিং প্রসেসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। এটাকে মূলত বলা হয় “কাউন্টারফ্যাকচুয়াল থট”, আপনি দেখতে পাবেন যে, এটি নির্ভর করে, আপনার ক্যাজুয়াল সম্পর্ক নির্ণয়ের ক্ষমতার উপর। কেনো আমরা এটা করি? কেনো আমরা প্রাকৃতিকভাবে সে সব গল্প বলি যেখানে কাউন্টার ফ্যাকচুয়াল জগত সম্পর্কে যুক্তিবিচার করতে হয়? সম্ভবত, এর প্রধান মোটিভেশান হলো, এটি আমাদেরকে Alternative Course of Action- এর অনুমোদন দেয়। আমরা সবসময় এভাবে চিন্তা করতে অভ্যস্ত যে, বিশ্ব দেখতে কেমন হবে, আমরা যদি কোনোকিছু ভিন্নভাবে করি__ আমরা যদি আমাদের হেয়ার স্টাইল চেঞ্জ করি, যদি নতুন একটা লোন নেই, আমাদের বাড়ি বিক্রি করে দেই অথবা একটা গাড়ী ক্রয় করি? আমরা যেহেতু সবসময় হাইপোথেটিক্যাল একশনের কথাই চিন্তা করি সেজন্য মাঝেমাঝে আমরা সেরকমই অভিনয় করি। একজন চিন্তাশীল যিনি নতুন হেয়ার স্টাইলের কথা কল্পনা করেনা সে কখনো বাহিরে গিয়ে নতুন হেয়ার স্টাইল তৈরি করেনা আর একজন চিন্তাশীল যে বিল অব রাইট অথবা ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের কথা কল্পনা করেনা সে কখনো সেগুলো সংগ্রহ করেনা। আমাদের কাউন্টারফ্যাকচুয়াল চিন্তার কারণেই আমরা যতসব অর্ডিনারী ও এক্সট্রা-অর্ডিনারী কর্মকাণ্ড সম্পাদন করতে পারি। মানব সভ্যতার সবচেয়ে যুগান্তরকারী কিছু আবিষ্কার সম্পর্ন হয়েছে শুধুমাত্র কাউন্টার ফ্যাকচুয়াল চিন্তার কারণে। এটি আমরা খুব ভালোভাবে জানি যে, গ্যালেলিও পিসার একটি ঢালু টাওয়ার থেকে ভিন্ন ভিন্ন ভারী বস্তু ছেড়ে দিয়েছিলেন। ঐতিহাসিকরা এটা নিশ্চিত না যে এ এক্সপেরিমেন্টটি আসলেই তিনি করেছিলেন কিনা, কিন্তু অনেক পূর্ব থেকেই এটা দাবী করা হয়েছিল, গ্যালেলিও জানতো কিভাবে এক্সপেরিমেন্ট করলে এর ফলাফল বেরিয়ে আসবে যা মূলত তার মাথার ভেতরেই সংঘটিত হয়েছিল। তিনি তার গ্রন্থ “মোশনে” লিখেছিলেন, তিনি ভিন্ন ভিন্ন ভরের এমন দুটি বস্তুর কথা কল্পনা করেছিলেন যেগুলো একসাথে পতিত হয়েছিল। আর এখান থেকে তিনি একদম যথাযথভাবে কল্পনা করতে পেরেছিলেন যে, দুটি অবজেক্ট একইসাথে পতিত হবে তাদের ভর যাই হোক না কেনো। আমাদের প্রাইভেট ইমাজিনেশনগুলো হয়তো গ্যালেলিওর মতো এত গভীর হয়না, কিন্তু আমরা প্রায় প্রতিদিনই কোন না কোনো ভার্সনের চিন্তা করি। অনেক সিদ্ধান্ত স্বল্প সময়ের মেন্টাল সিমুলেশন থেকেই আমরা গ্রহণ করি যেনো আমরা ভিন্ন ভিন্ন কর্মক্ষেত্রে সম্ভাব্য ফলাফল খুঁজে বের করতে পারি, আর এটা করি কার্যকারণগত আইনের বোধ থেকে যা সে পরিস্থিতিকে পরিচালনা করে। যখন ট্রাফিক অনেক হেভি হয়, আমরা ভিন্ন কোনো পথের কথা চিন্তা করি, এমন একটি পথের কথা চিন্তা করি যে পথ অন্তত এর চেয়ে কম জটিলতাপূর্ণ। আমরা যখন লাঞ্চের জন্য কি ক্রয় করবো তা চিন্তা করি, আমাদের মধ্যে অনেকে চিন্তা করে সেগুলোর টেস্ট কেমন হবে এবং এটাও চিন্তা করে ঐ মুহূর্তে আমরা এই টেস্ট প্রত্যাশা করবো কিনা। মাইক্রোস্টোরির এই সব সিমুলেশন যা আমরা নিজেকে বা অন্যদের বলি। এগুলোর উদ্দেশ্য হলো, কার্যকারণগত বিকল্পপথগুলোকে বিবেচনা করা যেখানে আমরা অবস্থান করি। সাইকোলজিস্টরা প্রস্তাব করেন যে, গল্প আমাদের আইডেন্টিটি তৈরি করে, আমাদের ইন্ডিভিজুয়াল আইডেন্টিটি এবং গ্রুপ আইডেন্টিটি আমরা যেখানকার একটি অংশ। আমরা অতীতের গল্প বলি__ আমরা স্মৃতিচারণ করি ও রোম্যান্টিক হয়ে উঠি। আমরা গল্প বলি, ভবিষ্যৎ প্রেডিক্ট করে বা ফ্যান্টাসাইজ হয়ে। আমরা আমাদের বর্তমান সম্পর্কে গল্প বলি, আমরা দিবাস্বপ্নে আমাদেরকে তৈরি করি। আর এ সবকিছু করি কারণ ও ফলাফল বোঝার জন্য। আমরা কিভাবে এসেছি? আমরা কোথায় যাচ্ছি? আমার এ মুহূর্তে কি করা উচিত? গল্প ক্যাজুয়াল ইনফরমেশন বহন করে এবং মানুষকে শিক্ষা দেয়। গল্পের মাধ্যমে আমরা অভিজ্ঞতা শেয়ার করি, গল্পের মাধ্যমে আমরা কালেক্টিভ মেমরি তৈরি করে মানুষকে সংঘটিত করি। যখন একটি কমিউনিটি কোনো একটি বিশেষ গল্প কিনতে চায় তখন তারা সেই গল্পের এটিটিউট দেখে। গল্প সাধারণত কমিউনিটিতে বাস করে, ব্যক্তিতে নয়, আর সেগুলো কমিউনিটির বিলিফ সিস্টেমের সাথে জড়িয়ে যায়। গল্প যদিও একটি কমিউনাল এন্টিটি কিন্তু এটি বলার জন্য ব্যক্তি মস্তিষ্কই প্রয়োজন হয়। আমরা দেখেছি যে, আমাদের জ্ঞানীয় প্রক্রিয়া যা যুক্তি ও কার্যকারণ পদ্ধতি বোঝে সেটির সীমাবদ্ধতা আছে, ব্যক্তি হিসেবে আমরা বিশ্বের জটিলতাকে ডিল করতে পারিনা। আর এ জন্যই আমরা গল্পগুলোকে মাঝেমাঝে শুধু সিমপ্লিফ্লাই করি না, সেগুলোকে অনেক সময় ওভার সিমপ্লিফ্লাই করে ফেলি। যেমন খুব কম মানুষই হেনরি VIII সম্পর্কে জানে কিন্তু তাদের ক্ষুদা অনেক বেশি কারণ হেনরির ছয় জন স্ত্রীর একজনও টিকে থাকতে পারেনি। আমরা শুধু গল্প স্মরণ করতে ও প্রচার করতে পারিনা সে সব গল্প যার জটিলতা রিয়েল লাইফকে স্পর্শ করে। গল্প হলো বিশ্বজগতের কার্যকারণগত সম্পর্ক, যদিও আমরা এগুলোকে অনেক বেশি সিম্পল করে ফেলি। এ জন্য একজন ব্যক্তির এমন একটি কগনিটিভ সিস্টেম প্রয়োজন যার মাধ্যমে সে সব গল্পের ভেতরকার কার্যকারণ সম্পর্ক বোঝা যায় সে গল্পটি যেভাবেই উপস্থাপন করা হোক না কেনো। এটি আসলে দৈবাৎ কিছু নয় যে গল্প বলাটাই মানুষের বক্তব্যের প্রাকৃতিক মুড, এটি ঠিক একইভাবে আমাদের __কজাল নলেজের উপর নির্ভর করে__ যা আমাদের চিন্তাকে অনুমোদন দেয় আরো অধিক ইফেক্টিভ একশন গ্রহণ করার জন্য।

তথ্যসূত্রঃ

প্রাসঙ্গিক লেখাঃ

”থট” কেনো?

কেনো আমরা ভুলে যাই?

আরও পড়ুন

Leave A Comment...

হাইপারস্পেস
চিন্তা নয়, চিন্তার পদ্ধতি জানো...!