করোনা ভ্যাক্সিনের উপর ভাইরাসের ভ্যারিয়েন্টের প্রভাব

করোনা ভ্যাক্সিনের উপর ভাইরাসের ভ্যারিয়েন্টের প্রভাব

কল ভাইরাসই বিবর্তিত হয় সার্স থেকে কোভিড-১৯। যখন ভাইরাস নিজেকে রেপ্লিকেট করে বা নিজের কপি তৈরি করে এটি মাঝেমাঝে খুব সামান্যই পরিবর্তিত হয় যেটি ভাইরাসের জন্য নরমাল। আর এটাকেই বলে মিউটেশন। যখন একটি ভাইরাসের মধ্যে এক বা একাধিক নতুন মিউটেশন ঘটে তখন আমরা এটাকে বলি ভেরিয়েন্ট বা অর্জিনিয়াল ভাইরাসের একটি বিকল্প ভার্সন। অনেকে মনে করেন, মিউটেশন মানেই ভাইরাসকে আরো ক্ষমতাবান করে তোলা আর ভাইরাসের মধ্যে বড় মাপের মিউটেশন তাকে আরো ক্ষমতাবান ও হিংস্র করে তুলবে। কিন্তু কথাটা আসলে সঠিক নয়।

ভাইরাসের মধ্যে আকস্মিক এমন কোন পরিবর্তন ঘটবেনা যে পরিবর্তনের সাথে সে নিজেই অভিযোজিত হতে সক্ষম নয় আর যদি ঘটেও তবে সেটা তার উপর নেগেটিভ প্রভাব বিস্তার করবে। যেমন- আকস্মিক বড় মাপের একটি মিউটেশনের কারণে যদি সিংহের সামনের পা দুটো বড় হয়ে যায় তবে সে আগের মতো দ্রুতগতিতে দৌঁড়াতে পারবেনা, সে পঙ্গু হয়ে যাবে বা শিকার ধরার সময় তার পা মচকে ভেঙে যাবে। তারমানে দেখা যাচ্ছে, জিনের মধ্যে মিউটেশন ঘটে একেবারে মাইক্রোস্কোপিক স্তরে, এর প্রভাব এতটাই ক্ষুদ্র যে কোন সার্ভাইভাল মেশিন আকস্মিক এর প্রভাব অনুভবই করতে পারবেনা। এর মানে আমি বলতে চাইছি, মিউটেশন হতে হয় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নয়তো সেটা করোনা ভাইরাসের অস্তিত্বের উপর নেগেটিভ প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে। করোনা নিজেই জিনের নেগেটিভ প্রভাবে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাবে! আর এ জন্য World Health Organizations বলছে, When a Virus replicate or make copies of itself, it sometimes Change little bit, Which is normal for a Virus.

আপনি নিশ্চয় বুঝতে পারছেন, কেনো আপনাকে করোনার ভ্যাক্সিন নিতে হবে? আপনি যদি মনে করেন করোনার নতুন নতুন ভ্যারিয়েন্টের সাথে একটি নির্দিষ্ট ভেক্সিন যুদ্ধ করে ঠিকে উঠতে পারবেনা তবে আপনাকে এটাও মনে রাখতে হবে, করোনার জিনোমে এত বড় কোন মিউটেশন ঘটেনা যা তার নিজের জন্যই নেগেটিভ। অতএব আপনার ভেক্সিন নতুন নতুন ভ্যারিয়েন্টের সাথে লড়াই করে টিকে থাকতে পারবেনা এটা পুরোপুরি সত্য নয়।

WHO

কী হবে যদি ভাইরাস নতুন ভ্যারিয়েন্টের জন্ম দেয়?

যখন একটি ভাইরাস সুবিস্তৃতভাবে পপুলেশনের মধ্যে আবর্তিত হতে থাকে এবং অজস্র ইনফেকশন ঘটায় তখন ভাইরাসের মিউটেশনের গতি দ্রুততর হয়ে উঠে। টিকে থাকার ক্ষেত্রে যখনই সে কোন উপযোগীতা পায় তখনই সে নিজেকে সম্প্রসারিত করে, ততবেশি অনুলিপি সে তৈরি করতে থাকে এবং পরিবর্তিত হতে তত বেশি সুযোগ পায়।

World Health organization পহেলা মার্চ ২০২১ সালে প্রকাশিত The Effect of Virus Variant on Covid-19 Vaccines নামক একটি প্রতিবেদনে লিখেন , Most Viral Mutation have little to no Impact on the virus’s ability to cause infection and disease ; এর মানে হলো, অধিকাংশ ভাইরাল মিউটেশনের ভাইরাসের সংক্রমণ ও রোগ বিস্তার করার ক্ষমতায় খুব একটা প্রভাব বিস্তার করেনা! প্রশ্ন করতে পারেন, এর কারণ? রিচার্ড ডকিন্স তার Out Growing of God গ্রন্থে লিখেছেন, মিউটেশন একেবারে অতি-পারমাণিক স্কেলে ঘটে, এতটাই ক্ষুদ্র যে এটি ভাইরাস বা অন্যকোনো প্রাণী বুঝেই উঠতে পারবেনা আর নয়তোবা বনের রাজা সিংহের মতোই ভাইরাসও পা মচকে পড়ে যাবে! আর এ জন্যই একটি আদিম প্রাইমেটকে খাঁচায় বন্দী করে রাখলে সেটি মানুষে পরিণত হয়ে যায়না যে জন্য বিবর্তন বিরোধীরা বলেন, ম্যাক্রোস্তরে বিবর্তন সংঘটিত হয়না।

যাইহোক, WHO বলেন, মিউটেশন ভাইরাসের ইনফেকশনের ক্ষমতা বৃদ্ধি করেনা। বরং এটি নির্ভর করে ভাইরাসের জেনেটিক্যাল ম্যাটারিয়ালের ঠিক কোথায় এই পরিবর্তনটি সংঘটিত হয়েছে। মিউটেশন ভাইরাসের জেনেটিক্যাল ম্যাটারের প্রোপার্টিতে এফেক্ট করবে, যেমন- ট্রান্সমিশন ( উদাহরণস্বরূপ, হয়তো এটি অধিক দ্রুত বা ধীর গতিতে বিস্তারিত হবে)! হয়তো এটি রোগের মধ্যে কিছুটা তীব্রতা বৃদ্ধি বা হ্রাস করবে! কিন্তু তারমানে এই না যে আপনার ভ্যাক্সিনকে তারা অকার্যকর করে দেবে! অযথা কেউ ভ্যাক্সিন হেজিটেশন ছড়াবেন না! এমনিতেই এখন সমস্ত রাষ্ট্র অস্থিতিশীল ও সিদ্ধান্তহীন। আপনার কোন ভুল বক্তব্য এ সিদ্ধান্তহীন মানুষগুলোকে ভ্যাক্সিনের প্রতি উদাসীন করে তোলতে পারে!

কোভিড-১৯ এর নতুন ভ্যারিয়েন্টের ভ্যাক্সিনের উপর প্রভাব কেমন হতে পারে?

সাম্প্রতিক কোভিড-১৯ এর যে সকল ভ্যাক্সিন অনুমোদিত হয়েছে সেগুলো অন্তত নতুন ভাইরাসের ভ্যারিয়েন্টের বিপক্ষে কিছু প্রোটিন তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে বলে WHO প্রতিবেদন প্রকাশ করেন কারণ ভেক্সিন আপনার মধ্যে সুবিস্তৃত ইমিউন রেসপন্স স্টিমুলেট করবে যা এন্টিবডি ও সেলের একটি নির্দিষ্ট রেঞ্জ বা পরিসরের সাথে সম্পৃক্ত। আর এ জন্য ভাইরাস যদি মিউটেশনের মাধ্যমে পরিবর্তনও হয়ে যায় সেটি ভ্যাক্সিনকে পুরোপুরিভাবে ডিএকটিভেট করে দিতে পারবেনা। যদি কোথাও এমন দেখা যায় যে , কোন একটি ভ্যাক্সিন একটি বিশেষ ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে টিকে উঠতে পারছেনা তবে সেক্ষেত্রে শুধুমাত্র ভ্যাক্সিনের কম্পোজিশন পরিবর্তন করতে হবে। আর আপনার কি মনে হয়, ভাইরাস ভ্যারিয়েন্ট পরিবর্তন করবে আর WHO বসে থাকবে? প্রতিনিয়তই WHO ডেটা সংগ্রহ করছে এবং সেটা এনালাইসিস করছে। ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের গবেষক, স্বাস্থকর্মী এবং সারা বিশ্বের বিজ্ঞানীরা প্রতিনিয়ত ভাইরাসদের পর্যবেক্ষণ করছে এবং নতুন ভ্যারিয়েন্টদের ভাইরাসের আচরণের উপর প্রভাব কেমন তা বোঝার চেষ্টা করছে, এমনকি তারা ভ্যাক্সিনের কার্যকারীতার উপর ভ্যারিয়েন্টদের প্রভাবকেও কিন্ত তাদের সতর্ক পর্যবেক্ষণ থেকে বাদ দিচ্ছেনা।

আপনি গুগলে যদি WHO Disease Outbreak News লিখে অনুসন্ধান করেন তবে আপনি যেকোনো মুহূর্তেই ভাইরাসের আপডেট জানতে পারবেন অথবা WHO Coronavirus (COVID-19) Dashboard এ ক্লিক করে সমস্ত বিশ্বের করোনা পরিস্থিতির লাইভ দেখুন। ডিজিজ আউটব্রেকিং এরিয়া হলো এমন একটি এরিয়া যেখানে প্রাথমিক প্রমাণ সংগ্রহ করা হয় এবং খুব দ্রুত ডেভেলপ করা হয়। WHO বলেন, We need to do Everything to stop the spread of the virus in order to prevent mutation that may reduce the Efficacy of Existing Vaccine.

ভবিষ্যতে আমরা কিভাবে Covid-19 এর বিপক্ষে যুদ্ধ করবো?

একটা কথা আছে, Stopping the spread at the source remain key। সাম্প্রতিক আমাদের যা করা উচিত তা হল, বারবার হাত ধোয়া, মাস্ক পরিধান করা, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা, গুড ভেন্টিলেশন, ভীড় ও ক্লোজড সেটিংস এড়িয়ে চলা। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা ভাইরাসকে হ্রাস করতে পারি এবং তাদের মিউটেট হওয়ার সুযোগকে সাসপেন্ড করে দিতে পারি। এটা ঠিক যে নতুন নতুন ভ্যাক্সিনের সাথে ভাইরাসও হয়তো নিজেদের অভিযোজিত করে তুলতে পারে এবং তারা আর স্থিতিশীল উপায়ে আমাদের দেহকে তাদের টিকে থাকার স্বার্থে দখল করে নিতে পারে। কিন্তু আমরা যদি আমাদের সচেতনতার পরিপূর্ণ ব্যবহারের মাধ্যমে ভাইরাসকে পপুলেশনের মধ্যে ভাইরাল হওয়ার সকল পথই অবরুদ্ধ করে দেই তবে হয়তোবা আমরা ভবিষ্যতে এমন কোন ভ্যারিয়েন্টের মুখোমুখি হবো না যারা সুপারম্যানের মতোই আমাদের বিলুপ্ত করে দিতে সক্ষম।। আর এছাড়া ভ্যাক্সিন উৎপাদন বৃদ্ধি ও দ্রুত সরবরাহের মাধ্যমে আমরা ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার পূর্বেই এবং কোন প্রকার নতুন ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতিতে ঝুঁকিগ্রস্ত না হয়ে নিজেদের নিরাপদ রাখতে পারি।

মনে রাখতে হবে যে, করোনা কোন স্বতন্ত্র ব্যক্তির রোগ না। বিশ্বের আট বিলিয়ন মানুষ যদি একটি শরীর হয় তবে প্রতিটি আলাদা আলাদা মানুষ সে শরীরের এক একটি সেল, শরীরের একটি সেল করোনা আক্রান্ত হলে, সেটিকে যদি আমরা সুরক্ষিত করতে না পারি তবে সেই সেল গ্লোবাল বডিতে Consequences তৈরি করবে। আর এ জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থ্যা বলছে, আমাদের গ্লোবাল ইমিউন সিস্টেমকে যদি আমরা সর্বপ্রথম সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান গুলোতে ভ্যাক্সিনেশনের মাধ্যমে একটিভেট করে তুলি বা High Risk গ্রুপের উপর যদি গ্লোবাল প্রোটেকশন সর্বোচ্চ হয় তবে আমরা নতুন নতুন ভ্যারিয়েন্টগুলোর বিপক্ষে বৈশ্বিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারবো এবং এ প্রক্রিয়ায় করোনার ট্রান্সমিশনকে সর্বনিন্মস্তরে নামিয়ে আনতে পারবো। Evolving Pandemic মোকাবিলা করার জন্য আমাদেরকে কোভিড-১৯ এর ইকুইটেবল এক্সেসও সুনিশ্চিত করা উচিত। যদি সকল মানুষই ভ্যাক্সিনেটেড হয়, তবে পপুলেশনের মধ্যে ভাইরাসের আবর্তন হ্রাস পাবে, আর এভাবেই মিউটেশনের হার হ্রাস করা যাবে।

কেনো আপনার জন্য ভেক্সিন নেয়াটা গুরুত্বপূর্ণ যদিও এখানে ভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট বিবর্তিত হচ্ছে?

কোভিড-১৯ এর বিপক্ষে ভ্যাক্সিন একটি ক্রিটিক্যাল টুলস। ভ্যাক্সিনের মধ্যে পাবলিক হেলথ ও লাইফ সেভিং ভেনিফিট রয়েছে। WHO বলেন, We must not put off getting vaccinated of our concern about new variants ; মানে, নতুন ভ্যারিয়েন্টের প্রতি উদ্বিগ্ন হয়ে কোভিড-১৯ এর ভ্যাক্সিন নেয়া থেকে বিরত থাকা যাবেনা। এমনকি যদিও কোভিড-১৯ এর বিপক্ষে আপনার ভ্যাক্সিনটি খুব একটা কাজ নাও করে তবুও আপনাকে ভ্যাক্সিন নিতে হবে। কারণ আমরা টুলস উন্নত করার জন্য ক্রমাগত কাজ করে যাচ্ছি, আর তাই এখন আপনার কাছে যা আছে তা দিয়েই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। আপনাকে আপনার সামর্থ থেকে চেষ্টা করে যেতে হবে। আপনার যা আছে তা। যদি আমরা নিরাপদ থাকি তবে সবাই নিরাপদ থাকবে।

আরো দেখুন- মানব মস্তিষ্কের বিবর্তনে ইন্টারনেট

hsbd bg