Last updated:

Commonsense lets us down, because commonsense evolved in a world where nothing moves very fast, and nothing is very small or very large; the mundane world of the familiar.-Richard Dawkins  

   গল্পটা শুরু হয় ১৩.৫ বিলিয়ন বছর আগে । গল্পটা আমাদের এই মহাবিশ্বের! মহাবিস্ফোরণে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বন্ধ কারাগার থেকে বেরিয়ে  আসে বস্তু  (matter),শক্তি  (energy ), সময়  ( time) এবং স্থান (space) ।জন্ম হয় আমাদের এই মহাবিশ্বের। কিন্তু তখনও মহাশূন্য অস্তিত্বশীল নয়।মহাবিশ্বের তাপমাত্রা এত বেশি ছিলো যে যেকোনো সময় এটম উৎপন্ন হতে পারতো, এটি ছিড়ে দূরেও ছিটকে যেতো, আর এভাবে এখানে অসংখ্য স্বাধীন ইলেক্ট্রন পড়ে থাকতো যেগুলো আলো বিচ্ছুরণ করতে পারতো। এভাবে, মহাবিশ্ব ছিলো অস্পষ্ট, এটি স্বচ্ছ ছিলো না। যেকোনো লাইট বিম যা সুপার হট মহাবিশ্বে মুভ করতো তারা সামান্য দূরত্ব অতিক্রম করার সাথে সাথেই শোষণ হয়ে যেতো, মহাবিশ্বকে মনে হতো মেঘাচ্ছন্ন। ৩,৮০,০০০ বছর পর, যাহোক, তাপমাত্রা ৩০০০ ডিগ্রিতে পতিত হলো। এ তাপমাত্রার নিচে এটমরা একে অপরের সাথে কোলাইড করে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতোনা। যার ফলে, স্থিতিশীল এটম তৈরি হলো, আলোকতরঙ্গ এখন শোষিত না হয়ে, কোনোপ্রকার প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই বহু আলোকবর্ষ অতিক্রম করতে পারে, আর এভাবে সর্বপ্রথম শূন্যস্থান স্বচ্ছ বা ট্রান্সপারেন্ট হয়ে উঠলো।  কমনসেন্স ও মহাবিশ্ব
      The Big Bang was not a visionary explosion - Science And Technology Facts.      কিন্তু তখনও প্রাণের দেখা নেই! অবশ্য আজ এখানে প্রাণ বলতে আমি মূলত বোঝাতে চাইছি আমাদের এই পৃথিবীতে অস্তিত্বশীল প্রাণের কথা ! জীবনের কথা! ৪.৫ বিলিয়ন বছর আগে কেন্দ্রমুখী বলের প্রভাবে গ্যাস গোল খোলস হিসেবে তৈরি করে  অস্তিত্বশীল এই পৃথিবীকে!এরপর আরো  ৩.৮ বিলিয়ন বছর পর প্রাণ সঞ্চার হয়। কিন্তু পৃথিবী থেকে আরেকটু বাইরে এই আমাদের সৌরজগতের দিকে তাকালেও তো কোন গ্রহে প্রাণের দেখা মেলে না! শুধু আমাদের এই সৌরজগত নয় ,খুব কম সংখ্যক গ্যালাক্সির কম সংখ্যক জগতেই প্রাণ অস্তিত্বশীল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে! তাই পৃথিবীর এবং তার প্রাণ লটারির মাধ্যমে উঠে আসা একটি অনন্য ফল!     Earth 3D From Space UHD 8K Wallpaper | Pixelz       আজ সারা পৃথিবী জুড়ে প্রাণের বৈচিত্র্যময়তা। প্রাণের মূল সূত্র এক কিন্তু চলকের ভিন্নতায় বদলে গেছে গঠন ,জীবনপ্রণালি এবং মনস্তত্ত্ব!  এককোষী প্রাণি থেকে বহুকোষী হোমো সেপিয়েন্স অর্থাৎ এই আমরা সবাই আর কিছুই নই জিনের বাহকমাত্র। এই জিন বয়ে নিয়ে চলতে চলতে এককোষী জীব থেকে নানা বাঁক ঘুরে আজ হোমো সেপিয়েন্স হয়ে আমিই লিখছি আমার মনস্তত্ত্ব, আমার সাধারণ মনস্তত্ত্ব,  common sense!      Human Evolution in 12 Pictures | Bored Panda     একটু পিছন থেকে ঘুরে আসি।  সূর্য ও তার অন্যান্য গ্রহগুলো থেকে আনুপাতিক  দূরত্ব পৃথিবীকে প্রাণোপযোগী করেছে। এই জোনকে বলা হচ্ছে গোল্ডিলক্স জোন। পৃথিবী অনেকগুলো সম্ভাবনার অনন্য ফল হিসেবেই এখানে প্রাণের বিস্তার অবশ্যম্ভাবী ছিল ,গোল্ডিলক্স জোন ও তার ব্যতিক্রম ঘটায় নি।     কমনসেন্স ও মহাবিশ্ব      প্রাণ এখানে বিকশিত হয়েছে এবং বিবর্তনীয় ধারায় ape রাজ্য থেকে বেরিয়ে এসেছে মানুষের পূর্বপুরুষ । অস্ট্রালোপিথেকাস। ২.৫ মিলিয়ন বছর আগে আফ্রিকায় বিকাশ ঘটে এদের । এরা মূলত সেই ape দলেরই সদস্য ছিল। কিন্তু কিছু কাল পরে তারা গাছের ডাল ছেড়ে নেমে আসে মাটিতে ,তৃণভূমিতে!  তিন মিলিয়ন বছর আগে মানুষের আদিম পূর্বসূরীরা গাছ ছেড়ে নেমে আসল তৃণভূমিতে তখন দেখা দিল সংকট! তৃণভূমিতে ঝোপের আড়ালে লুকিয়ে থাকা আতঙ্কে তাদেরকে সতর্ক থাকতে হতো প্রতি মুহূর্তে। যারা সতর্ক না থেকে পাতার শব্দ আমলে নিত না তাদের ঘাড়ের ওপর এসে থাবা বসাত বন্য হিংস্র প্রাণী! তৎক্ষণাৎ মৃত্যু! তাই চারদিকে যাই দেখতো না কেন মনে করত এইতো এটাও আমার মৃত্যুর কারণ হতে পারে! চারিদিকে দেখতে শুরু করল “যা নেই” এমন কিছু । আমাদের আদিম পিতাগণ তাদের মস্তিষ্ক এই যে যা নেই তার প্রতি আতঙ্ক,সারাক্ষণ মৃত্যু ভয়ে থাকা ,জীবনসংশয়কারী এজেন্ড দেখা এই algorithm input করতে শুরু করল ,তা আজও “অবচেতনে “আমরা বয়ে বেড়াচ্ছি ।তার আগে একটু জিনের কথা জেনে আসি ।        কমনসেন্স ও মহাবিশ্ব চিত্রঃ বাঘ ও সিংহের ভয়েই আমাদের পূর্বসূরীরা চারদিকে প্যাটার্ন দেখতো। অতএব মানুষ নয়,  সিংহই আদিম প্রাইমেটদের  মস্তিষ্কে শিশু ঈশ্বরের সৃষ্টিকর্তা (__ লিহন)
        

প্রাণের একক হলো জিন। যার তেমন কোনো চাওয়া পাওয়া নেই শুধু টিকে থেকে নিজের অনুলিপি তৈরি করতে পারলেই সে সুখ বোধ করে। কিন্তু স্বভাবচরিত্রের দিক থেকে সে আপাদমস্তক স্বার্থপর। একবার অনুলিপি তৈরি করে দিতে পারলে তার বাহকের প্রতি তেমন কোনো গরজ থাকে না। শুধু একটাই স্লোগান-“টিকে থাকো,বংশবৃদ্ধি করো”  

 যদি আমাদের কথা বলি। বুদ্ধিমত্তা ,মনস্তত্ত্বের জটিলতার শীর্ষে থাকা আমরাও ভেতরে ভেতরে শুধুই টিকে থাকতে চাই,জিনকে টিকিয়ে রাখতে চাই। তাই যখন অস্ট্রালোপিথেকাস নেমে আসল তৃণভূমিতে সম্ভবত তখনই তার মস্তিষ্কে উন্মেষ ঘটে গেল pattern recognition এর মতো প্রাথমিক ম্যাকানিজমের। সন্দেহের বাতিক ঢুকিয়ে মস্তিষ্কে সিগন্যাল দেওয়া হলো -পালাও ,বিপদ! মস্তিষ্ক ,সে আবার জিনের সুদক্ষ এসিসট্যান্ট । পেশি সঞ্চালনের সাথে সময়ের সামঞ্জস্য ঘটাতে তার আবির্ভাব । অস্ট্রালোপিথরা মানুষের পূর্বপুরুষ হলেও বুদ্ধিমান ছিল না। আজকের মানুষের জটিল neural circuit ,জ্ঞান বিজ্ঞানের ধারণা এসবের কিছুই ছিল না। শুধু ছিল টিকে থাকার কিছু মূলমন্ত্র । এই বিষয়টি মনে রাখতে হবে।   যদি কালের দৈর্ঘ ধরে সম্মুখ পানে যাই। ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করল মস্তিষ্কের আয়তন । Ape থেকে ধীরে ধীরে সোজা হয়ে দাঁড়াতে শিখছে মানুষ । মস্তিষ্কের সাথে দূরত্ব বাড়ছে পৃথিবীর । ফলে neural circuit সূক্ষ্ম থেকে সূক্ষ্মতর হলো gravity প্রভাবে।যেই হাত ছিল হাঁটার অবলম্বন তা দিয়ে আঁকড়ে ধরতে শিখল “বাদাম”। পাথরের হাতিয়ার বানিয়ে ভেঙে ফেলল খোলস। আবার মনে করিয়ে দিচ্ছি এই সবটা কিন্তু শুধুই  “টিকে থাকো বংশবিস্তার কর” এই মূলমন্ত্রে। কিন্তু সবসময়ই যে যা হবার কথা তাই হবে এমন সত্য তো কোথাও বলা নেই! মানুষের পূর্বসূরিদের ক্ষেত্রেও তাই ঘটতে লাগল। ক্রমাগত হাতের ব্যবহার আরো বেশি সমৃদ্ধ করে তুলল নিউরাল সার্কিটকে। আর এর ফল হলো সুদূরপ্রসারী !    Pattern recognition এর সাথে যুক্ত হলো sense of tomorrow, sense of me এরকম ধারণাসমূহ। সমৃদ্ধ হতে লাগল prefrontal cortex।আগুন আবিষ্কার, রান্না করা খাবার খাওয়া আর অন্যদিকে অন্ত্রের চাপ কমে গিয়ে মস্তিষ্কের ওপর তার বাড়তি দেখাশোনা সবই  পরবর্তীতে বুদ্ধিভিত্তিক বিকাশে  প্রভাব বিস্তার করে মোড় ঘুরিয়ে দিল মানব মস্তিষ্কের প্রায়োগিক দিকের।  

এই ধারবাহিকতা কে খুব সূক্ষ্মতার সাথে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। এই যে অস্ট্রালোপিথেকাস থেকে ধীরে ধীরে মানুষ প্রজাতির দিকে যাত্রাপথে আমরা অনেক রকম algorithm দেখলাম। সবটাই শুধু জিনকে  পরবর্তী প্রজন্মে হস্তান্তরের জন্য মস্তিষ্ক কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্ত ।কিন্তু আজ মানব সভ্যতা যেখানে পৌঁছেছে ,সে যেভাবে গড়ে তুলছে রোবটিক সিভিলাইজেশন এটা কি কখনো উদ্দেশ্য ছিল স্বার্থপর জিনের কিংবা মস্তিষ্কের?

 ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস্ দ্বীপের lia buang এ সন্ধান মিলেছে মানুষেরই এমন এক প্রজাতির যাদের উচ্চতা ছিল ১.১  মিটার! এই বামন প্রজাতিটির নাম homo flurosuensis। সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে গেলে এই দ্বীপটি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে মূল ভূখণ্ড থেকে ! আটকে পড়ে সেই দ্বীপেই মানুষেরই আরেক প্রজাতি homo erectus। ছোট দ্বীপ, রয়েছে খাদ্য সংকট!অপেক্ষাকৃত লম্বা এবং স্বাস্থ্যবানেরা ঝড়ে পড়তে লাগল এক এক করে! আর বৃদ্ধি পেতে লাগল অপুষ্ট বামন শিশু! জিনপুলে এমন জিনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে পুরো দ্বীপটিই ছেয়ে গেল বামন মানবে । উদ্ভব হলো homo flurosuensis । Homo erectus এর sister gene এই বামন মানব কেন বিবর্তিত হলো তারা? আমরা আমাদের common sense দিয়ে বলতে পারি যে,বেঁচে থাকার জন্যই তারা এমন ছোট হয়ে গেল । কারণ তাতে করে  তারা কম খাবার খেয়েও বেঁচে থাকতে তো পারে!     

কিন্তু এমন নয় যে কোয়ান্টাম টানেলিং অথবা হাইজেনবার্গের অনিশ্চয়তার সাথে অভিযোজিত হতে গিয়ে হোমো ফ্লোরেনসিয়েসিস এক মিটার আকারের প্রাণীতে পরিণত হয়েছিলো। তারা খাদ্যের অভাবে ক্ষুদ্র মানবে পরিণত হয়েছে শ্রডিঙ্গারের বেড়ালের   প্রভাবে নয়  আর  মানব মস্তিষ্কের বিবর্তনও  কোয়ান্টাম ম্যাকানিক্স কিংবা E=mc^2 বোঝার জন্য নয় ঘটেনি , কারণ মিলিয়ন বছর পূর্বে শ্রডিঙ্গারের কেটস আমাদের পূর্বসূরী লুসিকে নিয়ে প্যারালাল ওয়ার্ল্ডে পালিয়ে যায়নি বা দুপুরের লান্সে খেয়ে ফেলেনি তার সঙ্গীকে  , তাদেরকে খেয়েছিলো বাঘ  বা ভয়ানক সিংহ । তাদের কমনসেন্স আজ বাঘ দেখলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভয় পায়।  কিন্তু স্বয়ংক্রিয়ভাবে তারা পার্টিকেলের অনিশ্চিত আচরণ বোঝেনা। যদি  তাদেরকে মিলিয়ন বছর পূর্বে কোয়ান্টাম জগত ডিস্টার্ব করতো, টিকে থাকার ক্ষেত্রে অবরোধ তৈরি করতো, তবে তারা কোয়ান্টাম জগতের জন্যই অভিযোজিত হতো। হয়তো একটি  শিশু জন্মের পর যে  এলগোরিদম থেকে খুব সহযে মায়ের দুধ পান করে ঠিক একই এলগোরিদম থেকে সহযাত ভাবেই তারা সমাধান করে ফেলতো শ্রডিঙ্গারের তরঙ্গ সমীকরণ । কিন্তু বাস্তবে তা ঘটেনা! কোয়ান্টাম ফিজিক্স বুঝতে হয় আমাদের সচেতন মনকে, এটি আমাদের অবচেতন প্রবণতার মধ্যে নেই। আমাদের প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্স যে অজস্র বিকল্প সম্ভাবনা সিমুলেট করে, তার জন্যই আমরা  ফিজিক্স নিয়ে ভাবতে পারি। আইনস্টাইনের সাথে রবীন্দ্রনাথ  কথোকপথনে রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন , উইপোকার নিকট বাইবেল আর সাধারণ কাগজ একই বস্তু ,  কারণ তার কমনসেন্স বাইবেল বোঝেনা , অন্য আট দশটা পেপারের মতো তেলাপোকার নিকট বাইবেলও একটি খাদ্য  আর এভাবেই একটি কনসাসনেস অন্য আর একটি থেকে আলাদা , তিনি মূলত  মহাজাগতিক কনসাসনেসের সাথে আমাদের কনসাসনেসের তারতম্য বোঝানোর জন্য এ ধরণের একটি কথা বলেছিলেন , মহাজাগতিক চেতনার নিকট যেটা একদম কিছুই না , মহাজাগতিক চেতনা যেখানে স্পেস-টাইম কিছুই দেখেনা, সেখানেই  হয়তো আমরা বিরাট এক মহাবিশ্বকে স্পেস-টাইম ফ্রেমওয়ার্কে পর্যবেক্ষণ করি  কারণ তেলাপোকার মতো এটাই আমাদের কমনসেন্স । আমি সে ধরণের কোনো কসমিক কনসাসনেসে বিশ্বাস বা অবিশ্বাস কিছুই করিনা কারণ সে ধরণের চেতনা থাকুক বা না থাকুক তাতে ফিজিক্সের সুত্র পরিবর্তিত হয়ে যায়না । আমি মূলত বোঝাতে চাইছি, নিউটনের কুকুর জানতোনা যে  প্রিন্সিপিয়া মানব সভ্যতার জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ , প্রিন্সিপিয়াই আধুনিক রোবটিক্স সভ্যতার ঈশ্বর, যদি তার মধ্যে সে কমনসেন্স থাকতো তবে সে মোমবাতির আগুনে  দিয়ে পুড়িয়ে দিতোনা নিউটনের সারাজীবনের সাধনা কিন্তু বিস্ময়ের ব্যাপার হলো চরম বদমেজাজি নিউটন এতে একটুও মনক্ষুন্ন হননি ! হিউম্যান কমন সেন্স আসলে টিকে থাকার উদ্দেশ্যে বিবর্তিত। আর এই common sense এর বিকাশ ঘটানোর স্বার্থেই মানব মস্তিষ্কের এতো এতো neural circuit সমন্বিত হয়েছে! মানুষ শুধু মাত্র তার জিনের বাহক । আর জিনের মূল উদ্দেশ্যেই হলো ,যে করেই হোক টিকে  থাকা আর টিকে থাকতে হলে মহাবিশ্বের তার চারপাশের বস্তুগুলোর সাথে তার সম্পর্কও নির্ণয় করতে হয়, নয়তো বাঘের তাড়া খেলে সে পালাবেই বা কোথায়? (  ১- এ অংশটি গবেষক এন্ড্রোস লিহন থেকে নেয়া হয়েছে)  

  তাহলে common sense কি? “তোমার  common sense টাও কি নেই?”প্রায়শই এমন কটুক্তি আমরা শুনে থাকি। কিন্তু সত্যিই কি common sense ছাড়া মানব মস্তিষ্কের কোন কার্যকারীতা আছে? !  না নেই! জন্মের পর শিশুরা কাঁদে,চিৎকার করে নিজের অস্তিত্বের জানান দেয়। বুঝিয়ে দেয় সে অসহায়। তার যত্ন দরকার । এটা কেউ শিশুটিকে শিখিয়ে দেয়নি। সব মানব শিশুর মধ্যেই এটি সাধারণ। তেমনি আমাদের অবচেতন মন ধারণ করে কিছু বহুপ্রাচীন সূত্রকে। তারাই common sense রূপে প্রতিফলিত হয় বহির্জগতে। পুরুষ যেমন সহজাতভাবে নারীকে তার প্রতি আকৃষ্ট করতে নানারকম কৌশল অবলম্বন করে ঠিক তেমনটি কিন্তু সে করতে পারে না কোয়ান্টাম ফিজিক্স  বা রিলেটিভিটি বোঝার ক্ষেত্রে। আইনস্টাইনের জেনারেল থিওরি অব রিলেটিভিটি যা স্পেস এবং টাইমের বক্রতাকে ব্যাখ্যা করে সেটি এ গ্রহের একজন হোমো সেপিয়েন্সেরও মাথায় কাজ করেনি ,কারণ এটি ছিলো সম্পূর্ণরুপে কমন সেন্সের বাহিরে! স্বভাবতই প্রশ্ন জাগতে পারে , সময় আবার কী করে বক্র হতে পারে? স্থান ও সময় কী কোনো বস্তু যে বক্র হবে? মানুষের কমনসেন্স অনুধাবন করতেই পারবেনা ঘড়ির কাটা আমাদের যে সময় বলছে সেটি আবার কীভাবে বক্র হয়? ”একটি ক্রিকেট খেলার বলের কথা চিন্তা করুন, যেটিকে বেডের উপর রাখা হয়েছে, যেটি অত্যন্ত ভদ্রভাবে মেট্রেসের মধ্যে ডুবে আছে। এখন আপনি বক্রস্থান বরাবর একটি মার্বেল ছুড়ে দিন। একজন নিউটোনিয়ান দেখবে, মার্বেলটি ক্রিকেট বলকে ঘিরে বৃত্তাকারে আবর্তিত হচ্ছে এবং অবশ্যই যোগ করবে কোন এক রহস্যজনক শক্তি ক্রিকেট বলটি মার্বেলের উপর প্রয়োগ করছে! একজন নিউটোনিয়ান বলবে, ক্রিকেট বল মুহূর্তেই একটি টান আরোপ করবে যেটি মার্বেলকে কেন্দ্রের দিকে বল প্রয়োগ করবে! একজন রিলেটিভিস্টিকের মতে, যে ব্যক্তি অত্যন্ত কাছাকাছি এসে মার্বেলের মোশন দেখবে, তার কাছে এটি সুস্পষ্ট হয়ে যাবে যে, এখানে আসলে কোন ফোর্স নেই। এখানে শুধু রয়েছে বিছানার বক্রতা, যেটি মার্বেলটিকে বক্রস্থানে মুভ করতে ফোর্স করবে। রিলেটিভিস্টিকদের মতে, এখানে কোন টান নেই, এখানে শুধু রয়েছে ধাক্কা, যা মার্বেলের উপর স্থানের বক্রতা প্রয়োগ করে। এবার আপনি মার্বেলের স্থলে পৃথিবীকে প্রতিস্থাপন করুন এবং ক্রিকেট বল হিসেবে কল্পনা করুন সূর্যকে এবং বিছানা হলো শূন্য স্থান-কাল এবং আমরা দেখি যে পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয় এর কারণ গ্রেভেটির টান নয়, কারণ হলো পৃথিবীর চারপাশে সূর্যের স্থান- কালের বক্রতা যা ধাক্কা তৈরি করে এবং পৃথিবীকে তার চারপাশে বৃত্তাকারে আবর্তিত হতে বলপ্রয়োগ করে! আইনস্টাইন এভাবেই বিশ্বাস করতে প্রলুব্ধ হয় যে গ্রেভিটি অনেকটা ফেব্রিকের মতো, অদৃশ্য কোনো বলের পরিবর্তে যা মুহূর্তেই সমস্ত মহাবিশ্বে কাজ করে। কেউ যদি নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে এই ফেব্রিককে ঝাঁকাতে থাকে, সেখান থেকে তরঙ্গের উদ্ভব ঘটবে, যা সারপেসে নির্দিষ্ট গতিতে ভ্রমণ করতে থাকবে আর এর মাধ্যমেই সূর্যের অদৃশ্য হয়ে যাওয়াকে ব্যাখ্যা করা যায়। যদি গ্রেভেটি স্পেস-টাইম ফেব্রিকের বক্রতার একটি বাইপ্রোডাক্ট হয়, তবে সূর্যের অদৃশ্য হয়ে যাওয়াটাকে ব্যাখ্যা করা যায় আকষ্মিক ক্রিকেট বলটির বিছানা থেকে উত্তোলিত হওয়া! আর সাথেসাথেই বিছানা তার পূর্বের অবস্থায় বাউন্স করে, বেড শিটের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট গতিতে আলোকতরঙ্গ প্রবাহিত হয়, নির্দিষ্ট সময়ে! মিচিও কাকু বলেন- 

The reason that relativity violates our common sense is not that relativity is wrong, but that our common sense does not represent reality. We are the oddballs of the universe. We inhabit an unusual piece of real estate, where temperatures, densities, and velocities are quite mild. However, in the “real universe,” temperatures can be blisteringly hot in the center of stars, or numbingly cold in outer space, and subatomic particles zipping through space regularly travel near light-speed. In other words, our common sense evolved in a highly unusual, obscure part of the universe, Earth; it is not sur- prising that our common sense fails to grasp the true universe. The problem lies not in relativity but in assuming that our common sense represents reality.

  Relativity on Behance    তাই আজো পদার্থবিজ্ঞানের জটিলতর শাখাসমূহে বিচরণ করার জন্য আমরা MSc PhD আরো কত কি করছি! কিন্তু বেঁচে থাকার জন্য কূটকৌশল সহজাতভাবে আমরা রপ্ত করতে শিখি। রপ্ত করতে শিখি সমাজের সকলের প্রতি ভালো ব্যবহার করতে,মাতা পিতার প্রতি সংবেদনশীল হতে কিংবা যৌন আকর্ষণের রহস্যময় সূত্রগুলো!  

The human mind has a desire to know its place in the universe and the role we play in the tapestry of life. This is actually hardwired into our brains, the desire the know our relationship to the universe. This was good for our evolution, since it enabled us to see our relationship to others and to nature which was good for our survival. And it is also what drives our curiosity to understand the universe.

Michio Kaku

 আজ থেকে সত্তর হাজার বছর আগে বিকাশ ঘটে বুদ্ধিমান মানুষের । তার আগে হোমো গ্রুপের প্রজাতিগণ তেমন আহামরি প্রাণি ছিল না!ভাষার আবিষ্কার এক ঝটকায় হোমো সেপিয়েন্সকে পৃথক করে দিল অন্য সকল প্রাণি থেকে।এমনকি তারই অন্য প্রজাতি থেকেও। গড়ে উঠতে লাগল ঈশ্বরকেন্দ্রিক কল্পকাহিনী । ধীরে ধীরে গড়ে উঠল সমাজ । আরও পরে নগর রাষ্ট্র কিংবা শহর!    

 

বোঝা না বোঝার দ্বন্দ্বে:

Nobody understands quantum mechanics.” Richard Feynman

 হ্যাঁ ,আমরা সত্যিই কোয়ান্টাম ফিজিক্স আমাদের সাধারণ মনস্তত্ত্ব দিয়ে বুঝতে পারি না। কোয়ান্টাম ম্যাকানিক্সের ব্যাপারে Wikipedia বলছে,“Quantum mechanics is a fundamental theory in physics  that provides a description of the physical properties of nature at the scale of atoms and subatomic particles.” মানবদেহ অনেক অণু পরমাণু এবং বহুকোষের সমন্বয়ে গঠিত একটি জটিল কাঠামো। আমাদের সাধারণ মনস্তত্ত্ব বা common sense ও গড়ে উঠেছে এই জটিল কাঠামো টিকিয়ে রাখার তাগিদেই।  মানবশরীর তার প্রাগৈতিহাসিক  এলগোরিদমের বহিঃপ্রকাশ । তাই সৃষ্টির একেবারে গোড়া থেকে পারিপার্শ্বিকের সাথে অভিযোজিত হতে তার মস্তিষ্কের যেমন বিকাশ ঘটেছে তেমনি একই এলগোরিদম ব্যবহার করে নানামুখী কাজে জড়িয়েছে মানুষ ।    যে হাত দিয়ে আমি টাইপ করছি এই লেখাগুলো ,আমারই আদিম এক অস্ট্রালোপিথ পিতামহ এই হাতে হাতিয়ার তৈরি করে ভেঙেছে বাদামের শক্ত খোলস । শুধু হাত নয়,মানবদেহের প্রতিটি অঙ্গ তন্ত্র এমনকি মানব মস্তিষ্ক গড়ে উঠেছে শারীরিকভাবে উপস্থিত জগতকে অনুভব করার জন্য । এর সাথে সূক্ষ্ম মিথস্ক্রিয়া ঘটানোর তাগিদে এক বুদ্ধিমত্তাসমপন্ন ম্যামেলের মনস্তত্ত্ব গড়ে উঠেছে। আর common sense ও  তাই বলছে। Common sense is sound, practical judgment concerning everyday matters, or a basic ability to perceiveunderstand, and judge in a manner that is shared by nearly all people.   মানবীয় বুদ্ধিমত্তার যেসব নমুনা প্রত্যক্ষ করা যায় তার সবটাই প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে common sense থেকে বাইরের কিছু নয়! এমনকি সংখ্যা জ্ঞান ,পদার্থবিজ্ঞানের সূত্র সব!   Pattern recognition ,  মানুষের পূর্বপুরুষেরা এই প্রবণতা তার মনস্তত্ত্বে গ্রথিত করেছে মূলত চারপাশে  অপ্রত্যাশিত আতঙ্ক থেকে নিজেদের রক্ষা করতে। কিন্তু এই মনস্তত্ত্ব একই সাথে যেমন জন্ম দিয়েছে সর্বপ্রাণবাদ ধারণাকে তেমনি এটি গাণিতিক অপারেশন ,জটিল সংখ্যার ধারণাকে promote করেছে। Predictions অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। predictions করে যেমন তারা বুঝতে পারত শিকারের জন্য ভালো জায়গা কোনটি কিংবা কোথায় আতঙ্ক ঠিক তেমনি গাণিতিক সংখ্যা সম্পর্কে ধারণার অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছে pattern recognition। গণিত শুধু একটি অনন্য ভাষা হিসেবে develop করল মানব মস্তিষ্কে। পদার্থবিজ্ঞানের যে সূত্র মিলিয়ন বিলিয়ন বছর ধরে চুপ করেছিল তা হঠাৎই মানব মস্তিষ্কে প্যাটার্ন আকারে ধরা পড়তে শুরু করল।তারা যা অনুমান করতো তার ভিত্তিতে তারা একটি ধারণা দাঁড় করাতো । এর সাথে সমন্বয় ঘটাতো পূর্ব অভিজ্ঞতার । এবং কখনো সেই ধারণা একেবারেই খাপখেয়ে যেত,আবার কখনো এরিস্টোটলের মতো পৃথিবীকেন্দ্রিক জগতকে সত্য বলে ধরে নিত । এখানে তৎসময়কার মানব মনস্তত্ত্বের একটি নমুনা দেখাতে এরিস্টটলের একটি উক্তি মনে পড়ে -বিশুদ্ধ  চিন্তার সাহায্যেই মহাবিশ্ব নিয়ন্ত্রণকারী সমস্ত বিধি গঠন করা সম্ভব ।পর্যবেক্ষণের সাহায্যে ব্যাপারটা মিলিয়ে দেখার কোনো প্রয়োজন নেই ! (?)   BBC একবার Ancient Babylonians first to use geometry শিরোনামে একটি আর্টিকেলে প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়েছে ,  ,বর্তমানে ধারণা করা হয় এ সময়কালেরও  ১৪০০ বছর আগে ভূমি সম্পর্কিত এই জ্ঞান তার বিকাশ লাভ করে। গবেষণা দেখাচ্ছে 350 BC তে প্রাচীন ব্যাবিলনে বৃহস্পতি গ্রহের রাতের আকাশে অবস্থান নির্ণয়ের জন্য তারা জ্যামিতির সাহায্য নিয়েছিল!তারা মূলত জ্যামিতির সাহায্যে চলমান বস্তুর অবস্থান ও বেগ নির্ণয় করতো।   ফ্রেঞ্চ গবেষক Pierre Pica   অ্যামাজনে একটি দল খুঁজে পেয়েছে যারা সহজাতভাবে জ্যামিতিক নিয়মগুলো জানে! যাদের গ্রামে একটিও স্কুল না থাকা সত্ত্বেও তারা জানে যে দুইটি সমান্তরাল রেখা কখনোই একে অপরকে ছেদ করে না। এছাড়াও সাধারণ গাণিতিক সংখ্যা বিন্যাস বা সাধারণ নিয়ম সম্পর্কে তারা সহজাত জ্ঞান রাখে। এর মাধ্যমে গবেষক বুঝতে পারেন জ্যামিতি ও গণিতের সাধারণ অপারেশন মানুষের মাঝে সহজাত । যার অর্থ এটা নতুন নয় আমাদের জন্য । আমাদের পূর্বসূরিরা  স্থানিক জ্ঞান রাখত ,এমনকি গ্রহ নক্ষত্রের অবস্থান হিসাব করতে জ্যামিতি ও গণিতের সাহায্য নিত,জ্যোতির্বিজ্ঞানের সাহায্যে কৃষির জন্য সঠিক সময় নির্বাচন করতো। মূলত বস্তুগত জগতের মধ্যকার সমন্বয় তাদের মস্তিষ্কে অনন্য প্যাটার্ন হয়ে ধরা পরত। কৌতুহল হলো আমাদের সার্ভাইভালের একটা টুলস, কৌতুহলের কারণেই আমরা নতুন কিছু জানতে পারি, নতুন নতুন দক্ষতা অর্জন করতে পারি। যখন  থেকে মানব মস্তিষ্কে “sense of me” এর জন্ম হলো তখন থেকে মানুষ তার অস্তিত্ব সম্পর্কে প্রশ্ন করতে শুরু করল। কে জানে হয়তোবা তার এই প্রশ্নই তাকে চালিত করেছে অস্তিত্বশীল জগত সম্পর্কে আরো গভীরভাবে জানতে।   তবে এতদিন পর্যন্ত মানুষের সব ধারণা ছিল বস্তুগত জগত কেন্দ্রিক। বা আরও সম্প্রসারিত করে বললে মানবশরীর মিথস্ক্রিয়া ঘটাতে পারে এমন জগতকেন্দ্রিক। ক্লাসিকাল ফিজিক্সে মানুষের Predictions এর অন্যতম নিদর্শন দেখতে পাওয়া যায়। Common sense এই ক্ষেত্রে সাংঘর্ষিক নয়। পাখি উড়তে পারে কিভাবে এই প্রশ্নের উত্তর common sense খাটিয়ে সূক্ষ্মতার সাথে না বলা গেলেও কাছাকাছি একটি উত্তর কমবেশি দেয়া সম্ভব । কিন্তু অণু পরমাণু এরা তো আর চাক্ষুষ জগতের অন্তর্গত নয়। এরা কাজ করছে micro level এ । যার কারণে macro level এ বসবাসকারী মানুষের সাথে এদের খুব কমই দেখা হয়। তাই যখন ইলেক্ট্রনের দ্বিত্বধর্ম সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মাঝে বক্তব্য দিতে যান তারা আপনার কথায় ভ্রুক্ষেপও করবে না!   

মানব মস্তিষ্ক এই ধারণা সহজভাবে গ্রহণ করতে পারে না । যেভাবে তারা গ্রহণ করতে পারে না বিবর্তনতত্ত্ব! অণু পরমাণুর পর্যায়ে এসে স্থান কালের কাঠামো ভেঙে পড়ে । লুপ্ত হয়ে যায় Predictions। common sense তখন এর সাথে সাংঘর্ষিক আচরণ শুরু করে। বিষয়টি শুধুই ধারণার মাঝেই থেকে যায় ,physically এর সাথে ধারণার কোন সামঞ্জস্য পাওয়া যায় না। singularity point এর মতোই সরল আচরণ করতে শুরু করে কণা।  প্লাঙ্ক টাইম  যেমন আমাদের টিকে থাকো বংশবৃদ্ধি করো মনস্তত্ত্বে ধরা পড়ে না তেমনি common sense  কোয়ান্টাম ফিজিক্সের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। স্বয়ং আইনস্টাইন মানতে পারেননি স্রোডিঞ্জারের বিড়ালের কথা!

 

আমাদের কমনসেন্স লঙ্ঘন করে এরকম কিছু রিয়েলিটির উদাহরণ দিতে চাই আমি:

 ১.পদার্থ অণু দিয়ে গঠিত ,আর অণু পরমাণু দিয়ে ।এই পরমাণুর মাঝে ৯৯ শতাংশ শূন্যস্থান থাকা সত্ত্বেও মানব মস্তিষ্ক একে সলিড রূপে দেখে,তাতে রঙের বৈচিত্র্য দেখে।একটি দেয়াল এই ৯৯ শতাংশ নিয়ে তৈরি হলেও আমাদের কমনসেন্সে এটি hard হয়ে ধরা পড়ে।  ২.অস্ট্রালোপিথেকাস যেমন হোমো সেপিয়েন্সের পূর্ব পুরুষ, তাই আমাদের কমনসেন্স অস্ট্রলোপিথেকাসের অস্তিত্বকে সর্বাগ্রে স্বীকার করে ,মানুষের পূর্বজ হিসেবে! ঠিক যেমনটি সন্তান ও মায়ের ব্যাপারে কমনসেন্স দ্বারা আমরা অনুভব করি।কিন্তু টাইম ট্রাভেলের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি বৈপরীত্য ঘটায়। তখন এটি কমনসেন্সের কাছে প্যারাডক্সিকাল হিসেবে ধরা পড়ে। মায়ের বয়স সন্তানের চেয়ে কম হওয়া অবশ্যই সম্ভব যদি মা সন্তানকে পৃথিবীতে রেখে আলোর গতিতে ভ্রমণ করে এক বছর পর আবার পৃথিবীতে ফিরে আসে,তখন দেখা যাবে সন্তান বৃদ্ধ হয়ে গেছে কিন্তু মা তখনও তার বয়সেই স্থির ।কিন্তু এটি আমাদের কমনসেন্সের কাছে প্যারাডক্সিকাল ।আপনি যদি মহাকাশে ৫ বছর অবস্থান করেন, আলোর গতির ৯৯.৫ ভাগ গতিতে পথ চলে তবে এই ৫ বছরে পৃথিবীতে সময় অতিক্রান্ত হবে ৫০ বছর। পাঁচ বছরে পৃথিবী চলে যাবে পঞ্চাশ বছর ভবিষ্যতে ।আপনার মা যদি আলোর গতিতে ৫ বছর ভ্রমণ করে আপনাকে পৃথিবীতে রেখে গিয়ে তবে আপনি তার থেকে ৫০ বছর বৃদ্ধ হয়ে যাবেন। আর ঠিক এভাবে আমাদের একটি কমন সেন্স ভেঙে যায় আর তা হলো মায়ের বয়স সন্তানের বয়স থেকে সবসময় বেশি হয়। আপনার জন্য যেটা ৫০ বছর একই ইউনিভার্সে আপনার মায়ের জন্য সেটা ৫ বছর। আর আপনার মা ৫ বছর পর যখন পৃথিবীতে আসবেন তখন তিনি আসলে পৃথিবীর ভবিষ্যতে চলে যাবেন। আর এভাবেই আলোর গতি সময়কে স্লো করে আমাদের ভবিষ্যতের মহাবিশ্বে নিয়ে যায়।মূলত তখন দুটি প্যারালাল ইউনিভার্স তৈরি হয়ে যায় আর এভাবেই একই মহাবিশ্বে ভিন্ন ভিন্ন টাইমলাইনের জগত দেখা দেয়। (২)
   ৩.একজন ব্যাক্তি একটা নির্দিষ্ট সময় শুধু একটা নির্দিষ্ট দিকে পথ চলে আর ডাবল স্লিট এক্সপেরিমেন্টে দেখা যায় একটা পার্টিকেল একইসাথে দুটো ছিদ্র দিয়ে একসাথে প্রবেশ করে ও নিজের সাথে নিজেই ইন্টারফেয়ার করে।    New Page 1    ৪.বিশ বছর আগে আপনার দেহে বিদ্যমান একটি পরমাণুও এখন বিদ্যমান নয়,শুধু আপনার মস্তিষ্কে বিশ বছর আগের পরমাণু তার মেমরি ছেড়ে গিয়েছে । যেটা আমাদের কমনসেন্সের সাথে সাংঘর্ষিক আচরণ করে,কারণ মানুষ তার জিনের শতভাগ দিয়ে নিজেকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেয় ,আর সে কখনোই নিজের ব্যাপারে ,নিজের দেহের অণু পরমাণুর ব্যাপারে কঠোর সত্যটি মানতে পারবে না।২০ বছর আগে যদি আপনি একটি ল্যাপটপ চুরি করে থাকেন তবে সমাজের চোখে অবশ্যই  আপনিই চুরি করেছেন। আরো স্পষ্ট করে একটি গোষ্ঠীগত কমনসেন্সের কাছে আপনিই চোর। কিন্তু বিষয়টি আসলে অসত্য, কারণ বিশ বছর আগে আপনার দেহে বিদ্যমান অণু পরমাণুর কোনোটাই এখন উপস্থিত নয়। তাই যখন বিশ বছর আগের দেহটাই নেই তাহলে চোর আপনি কোনোভাবেই না, আপনার কাছে যা থাকতে পারে তা হলো স্মৃতি । কিন্তু এই পরিবর্তন আমাদের কমনসেন্সে ধরা পড়ে না বরং বাহ্যিক কাঠামোর নিত্যতা সত্য হয়ে ধরা পড়ে। আর বিশ বছর আগের ল্যাপটপ চুরির দায়ে যার কারণে জেলও খাটতে হয়।   ৫.সময় যেহেতু লাফিয়ে লাফিয়ে পথ চলে তাই আমরা যদি প্লাঙ্ক ইন্টার্ভালে পড়ে যাই তাহলে আমাদের বয়স এক মূহুর্তে শিশু থেকে বৃদ্ধতে উন্নীত হতে পারে। ৬.আমরা নিজেদের কমনসেন্সের স্বার্থে সময়কে কন্টিনিউয়াস ধরে নিচ্ছি ।অপারেশনালি T=0 ধরে নিলেও আসলে সময় লাফিয়ে চলে ।কমনসেন্স একে প্রবাহমান নদী হিসেবে দেখে যা আসলে ঠিক নয়।ভিক্টর স্ট্যাংগার নিম্নোক্ত এই গ্রাফের মাধ্যমে 0 কে now এবং ফিউচারকে ধনাত্মক ও পাস্টকে দেখিয়েছে ঋণাত্মক সংখ্যা দ্বারা । কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সময় 0 থেকে শুরু হয় না। ক্ষুদ্র হলেও এখানে একটি ফাঁক রয়ে যায়। যার কারণে অতীত ও ভবিষ্যত ভাগ হয়ে গেছে । কিন্ত যদি প্রকৃতপক্ষেই 0 থেকে সময়কে ধরতে পারতাম তাহলে অন্ততকাল আমরা now তে বসে থাকতাম। এবং তখন একই সাথে সত্য হয়ে উঠত “here বা এখানে”!আসলে স্থান কাল ভিন্ন নয়। কিন্তু কমনসেন্সের কাছে এটি ভিন্ন কোণে ধরা পড়ে । (৩)   কমনসেন্স ও মহাবিশ্ব     ৭.কোয়ান্টাম এন্ট্যাংগেলমেন্টে একটি পার্টিকেল মিলিয়ন মিলিয়ন আলোকবর্ষ দূর থেকেও এমনভাবে একে অন্যের সাথে কমিউনিকেট করে যেনো তাদের মাঝখানে কোন স্পেস-টাইম নেই। তাত্বিকভাবে এন্ট্যাংগেল  পার্টিকেলদের একটিকে যদি পনের বিলিয়ন বছর অতীতে রেখে আসা হয় এবং অন্যটিকে বর্তমানে তবে পার্টিকেলরা একে অন্যের সাথে এতটাই দ্রুত গতিতে যোগাযোগ করবে যে একটির স্পিন যদি হয় ক্লক-ওয়াইজ অন্যটি স্পিড অব লাইট থেকেও দ্রুতগতিতে কাউন্টার ক্লকওয়াইজ হয়ে যাবে। তাদের মাঝখানে পনের বিলিয়ন বছর সময় কাজ করবেনা।  তারা Now থেকে একে অন্যের সাথে কমিউনিকেট করবে বা প্লাঙ্ক ল্যাংথে যেখান থেকে আমরা সময়ের গণনাকে T=0 দিয়ে শুরু করি। তার মানে এন্ট্যাংগেলমেন্ট সমস্ত মহাবিশ্বকে “Now” তে দেখে। আপনি যদি এ দুটি এন্ট্যাংগেল ফোটনকে এন্ড্রোমিডা গ্যালাক্সির ব্যাসার্ধ দিয়ে বিচ্ছিন্ন করে দেন,  তবুও তাদের সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হবেনা, মনে হবে যেনো তাদের মাঝখানে কোনো গ্যালাক্সিই নেই! তারা স্পেসের অতি-ক্ষুদ্রতর দূরত্বে কমিউনিকেট করে যেটাকে আমরা রিয়েল নাম্বার T=0 থেকে গণনা শুরু করি। (৪)
     কমনসেন্স ও মহাবিশ্ব     আমাদের কমনসেন্স স্পেস ও টাইম ছাড়া কোন কাজ করতে পারেনা! আর অথচ কোয়ান্টাম এন্ট্যাংগেলমেন্ট আমাদের কমনসেন্সকে ভেঙে টুকরো টুকরো করে দেয়। আমরা যদি এন্ট্যাংগেল পার্টিকেল হতাম তবে আমাদের কমনসেন্স কেমন হতো? আমরা সবকিছুকে বর্তমান মনে করতাম? আমাদের এ জগতের কমনসেন্স স্পেস-টাইম ফ্রেমওয়ার্ক ছাড়া কাজ করেনা আর আমাদের কমনসেন্স যদি কোয়ান্টাম ম্যাকানিক্যাল হতো তবে আমরা স্পেস-টাইম কি সেটাই বুঝতে পারতামনা। তার মানে দেখা যাচ্ছে, আমাদের কমনসেন্স সবজায়গায় খাটছেনা, এটি টিকে থাকার স্বার্থেই অভিযোজিত বা আমরা প্লেটোর গুহায় আটকে গেছি।
  যেই গল্প 13.5 billion বছর  আগে যাত্রা শুরু করেছে তার মহানায়ক এই হোমো সেপিয়েন্স নয়। কিংবা আমাদের এই মহাবিশ্বের সূচনালগ্নে কোনো জিন ছিল না যাকে কিনা ইলেকট্রনের এমন দ্বিত্ব আচরণের সাথে লড়াই করে টিকে থাকতে হতো কিংবা যে কিনা কোয়ান্টাম টানেলিংয়ের মাধ্যমে অন্য কোনো জগতে অস্তিত্বশীল হয়ে যেতো। এটমের আচরণ  মানব মস্তিষ্কে কোনো অনুরণন তৈরি করেনি ,যার কারণে আজ মানবসভ্যতা কোয়ান্টাম ফিজিক্স তাত্ত্বিকভাবে রপ্ত করতে পারলেও তার মস্তিষ্ক এই আনকোরা ব্যবস্থাকে কোনোভাবেই গ্রহণ করেনি। বরং তার মস্তিষ্ক এখনো মাংসলোভী ,এখনো রাতে ঘুম ভেঙে গেলে সে নানারকম অবয়ব দেখতে পায়। গাণিতিক সংখ্যা পদ্ধতি সহজাত ছিল মানবসভ্যতায়। এর নজির পাই আমরা ব্যাবিলনীয় সভ্যতা ,মিশরীয় সভ্যতা এমনকি ভারতীয় সভ্যতায়ও। parietal lobes আমাদের মনোযোগ ধরে রাখতে পারে ,তাই আমরা সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ফিবোনাক্কি সিরিজ বিশ্লেষণ করতে পারি। এই ক্ষমতা আমাদের পূর্বজদের মাঝে ছিল। তারা একে শিকার ধরার কাজে ব্যবহার করেছে,এরপর কৃষিতে উন্নতি ঘটাতেও এর সাহায্য নিয়েছে। যার কারণে স্বাভাবিকভাবেই আমাদের common sense এর সাথে জ্যোতির্বিজ্ঞান কিংবা জ্যামিতি ধাক্কা খায় না। এই ধারণা সমূহে আমরা গোষ্ঠীগত ভাবেই বিশ্বাস করতে শিখেছি।টিকে থাকার প্রতিযোগিতায় এরা সংযোজিত হয়ে গিয়েছিল । ব্যবহারিক কাজেও আমরা এই জ্ঞান প্রয়োগ করেছি। কিন্তু যখন কথা ওঠে atom কিংবা subatomic particles এর ব্যাপারে তখন এই ধারণা আত্মসমর্পণ করে ।  IAI news এ Quantum Theory and Common Sense :It’s Complicated শীর্ষক প্রতিবেদনে জানাচ্ছে,Common sense plays a dual and almost self-contradictory role in scientific practice. যখন আমরা এই জগতকে বুঝতে চেষ্টা করি তখন সবার আগে আমাদেরকে অতিক্রম করতে জানতে হয় মানবীয় সাধারণ জ্ঞানকেই বা common sense কে।নিলস বোর বলছেন ,“it is decisive to recognise that, however far the phenomena transcend the scope of classical physical explanation, the account of all evidence must be expressed in classical terms”. কোয়ান্টাম ম্যাকানিক্স কখনোই আমাদের মনস্তত্ত্বে ছিল না। তবে কখনো যদি মানবদেহের একটি অণুকে isolate করে ফেলা যায় তাৎক্ষণিক সে ইলেক্ট্রনের মতো ভেলকি দেখানো শুরু করবে।হয়তো যদি কোনোদিন মানুষ ওয়ার্মহোল তৈরি করতে পারে, সেদিন তার মনস্তত্ত্বের প্রাগৈতিহাসিক কাঠামো চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে বিবর্তনের পথ থেকে হারিয়ে যাবে ।ডেমোক্রিটাসকে স্মরণ করে বলতে পারি,  

 “Poor mind ,do you take your evidence from us and then try to overthrow us ?Our overthrow is your fall.”

  অণু পরমাণুর গতিশীলতায় গঠিত হয়নি এই মস্তিষ্ক। তার অনুলিপি গঠন প্রক্রিয়াতেও কখনো হস্তক্ষেপ করেনি কোপেনহেগেন ইন্টারপ্রিটিশন । তাই যখন রিচার্ড ডকিন্স Common sense নিয়ে মন্তব্য করেন তখন একই সাথে সময় ও কালের মাঝে ঘটে যাওয়া প্লাংক ইন্টার্ভাল নজরে চলে আসে। কিন্তু এতে মানবসভ্যতার কিই বা যায় আসে?গল্পের নায়ক কখনোই আমরা ছিলাম না।   একদিন সব লুপ্ত হবে কিন্তু পদার্থবিজ্ঞানের সূত্র তার চিরন্তন শাশ্বত রূপ নিয়ে বেঁচে থাকবে। হয়তো এই মহাবিশ্বে নয়। আর বিস্মিত হয়ে হয়তো কোনো প্রাণ আবার উচ্চারণ করবে,  “কাল -পারাবার করিতেছ পার কেহ নাহি জানে কেমনে!” 

 

 

কমনসেন্স ও মহাবিশ্ব

 

 

লেখিকা- মহাশ্বেতা চোধুরী , হলিক্রস কলেজ, একাদশ শ্রেণী, বিজ্ঞান  , লেখক ও গবেষক, হ্যালিক্স ইউনিভার্সিটি।

     তথ্যসুত্র-

hsbd bg