ওরাল সেক্সের সময় পুরুষ অন্য পুরুষের স্পার্ম টেস্ট করে?

ওরাল সেক্সের সময় পুরুষ অন্য পুরুষের স্পার্ম টেস্ট করে?

ওরাল সেক্স নারীর যোনিতে ব্যাক্টেরিয়াল ভ্যাজিনোসিস নামক একপ্রকার রোগ ছড়ায় বলে BBC একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এটা সেকচুয়ালি ট্রান্সমিটেট কোনো রোগ নয় নারীর যোনিতে যে সকল ব্যাক্টেরিয়া থাকে সেগুলোর মধ্যে যদি কোনো ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয় তবেই এ রোগ দেখা দেয়। (১) প্লস বায়োলজি জার্নালে এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। মানুষের মুখের যেসব ব্যাক্টেরিয়া থাকে তা নারীর যৌনাঙ্গে ছড়িয়ে পড়লে কী ধরণের প্রভাব পড়ে এ গবেষণাপত্রে তা দেখানো হয়। তবে এটা কোন সিরিয়াস অসুখ না। এ রোগে আক্রান্ত হলে অন্যান্য যৌন রোগে সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং তাদের ইউরেথ্রাতেও এক প্রকার সংক্রমণের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। (২) আমার এই লেখার উদ্দেশ্য মূলত, ওরাল সেক্সের ক্ষতির দিক বর্ণনা করা নয়! আমি শুধু একটা প্রশ্নই উপস্থাপন করতে চাইছি, কেনো ওরাল সেক্সে ক্ষতির সম্ভাবনা থাকার পরও আমাদের মধ্যে ওরাল সেক্স করার প্রবণতা তৈরি হলো? কেনো বিবর্তন আমাদের মস্তিষ্কে ওরাল সেক্সের প্রতি প্রবণতার জন্ম দিলো? বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞানীরা মাঝেমাঝে এ ধরণের প্রশ্নে বিভ্রান্ত হন কারণ তারা মনে করেননা, যে আমাদের সকল আচরণের পেছনে সরাসরি বিবর্তনীয় ভিত্তি থাকতে হবে! যেমন- আমাদের পায়ের বিবর্তন ঘটেছে থ্রি-ডায়মেনশনাল স্পেসে স্মুথলি মুভ করার মধ্য দিয়ে শিকার নিয়ন্ত্রণ ও শিকারী প্রাণীর কবল থেকে পালানোর জন্য কিন্তু আশ্চর্যজনক ভাবে আমরা সে “পা” দিয়ে ফুটবল খেলি! এখন কেউ যদি প্রশ্ন করে, ফুটবল খেলার মানসিকতা কেনো আমাদের মধ্যে বিবর্তিত হয়েছে? তারা বলতে পারে, আজ থেকে তিন মিলিয়ন বছর পূর্বে আমাদের পূর্বসূরিরা তো আর ম্যাক্সিকো সিটির এসটাডিয়ো আজটেকার মতো কোনো ফুটবল স্ট্যাডিয়ামে আফ্রিকার সাভান্নায় ফুটবল খেলতো না। এ ধরণের প্রশ্নের উত্তর আমাদের পায়ে নেই ! কিন্তু আমাদের মস্তিষ্কের বিবর্তন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করলে আমরা ঠিকই আমাদের ফুটবল খেলার মনস্তত্ব ব্যাখ্যা করতে পারি! পায়ের বিবর্তন দিয়ে তো আর সবসময় মনের বিবর্তন ব্যাখ্যা করা যায়না! মনের বিবর্তন ব্যাখ্যা করতে হলে কেনো মেসির বুটের তলায় আমাদের মস্তিষ্কের নিউরন ডুবে যায় তার কারণ জানতে হবে! কেনো ফুটবল দেখলেই পা শির শির করে, কেনো মুহূর্তেই আমাদের সম্পূর্ণ চেতনা খেলার মাঝে সম্পূর্ণ মগ্ন হয়ে যায়?

মূলত, শিকার করার জন্য আমাদেরকে ম্যাপ, ধাধাঁ ও থ্রিডায়নেমেনশনাল স্পেসের স্থানিক কর্মকান্ড বুঝতে হয় আমদের মধ্যে তখন কাজ করে আগ্রাসন। আর এ জন্য পুরুষের নিউরাল কর্টেক্সের ভেতরেই ম্যাপ, ইলুশন ও স্পেশিয়াল টাস্ক সমাধান করার প্রবণতা জিনগতভাবে গেঁথে যায়, তৈরি হয় স্থানিক কর্মকান্ডের সাথে সম্পৃক্ত কর্টেক্স। এই জন্য হেলেন ফিশার বলেন, টেলিভিশনে ফুটবল খেলা দেখা আর আফ্রিকার সমতল ভূমিতে একটি জেব্রা কোন রুটে পথ চলছে সেটি বিচার করা একই কথা! কারণ আমাদের মস্তিষ্ক আসলে খেলার জন্যই অভিযোজিত । আমরা ফুটবলও খেলতে পারি অথবা একটা জেব্রা বা বাইসনের জীবন নিয়েও খেলতে পারি কারণ উভয় ক্ষেত্রেই ম্যাপ, ইলুশন, স্পেসিয়াল টাস্ক ও আগ্রাসন কাজ করছে আর কাজ করছে একটি নির্দিষ্ট গোল । একটি গ্যাজেল শিকার করলে এক লক্ষ বছর পূর্বে আমাদের পূর্বসূরিদের মস্তিষ্কে যে পরিমাণ সেরেটোনিন নির্গত হতো , মেসি গোল পোস্ট বরাবর একুরেট এঙ্গেলে একুরেট টাইমিং-এর ভেতর শাঁ শাঁ করে বিপুল গতিতে গোল কিপারকে বিভ্রান্ত করে ফুটবলটি ঢুকিয়ে দিলেও আমাদের ব্রেন থেকে সেই একই সেরেটোনিন নির্গত হবে কারণ আমরা শিকারী সংগ্রাহকের নিউরাল সার্কিট নিয়েই আধুনিক সভ্যতা গড়েছি! অতএব আমরা কেনো ফুটবল খেলি, তা ব্যাখ্যা করার জন্য দুই মিলিয়ন বছর পূর্বের হোমো হ্যাবিলসদের সময়ে ফুটবল থাকার প্রয়োজন নেই। আর এ জন্য আমাদেরকে অবশ্যই পায়ের দিকে না তাকিয়ে মস্তিষ্কের কর্টেক্সের ভেতর তাকাতে হয়! (৩) ___মানব মনের ফসিল

আমাদের মুখ নারীর যোনি সাক করার জন্য বিবর্তিত হয়েছে কিনা সেটা মূখ্য বিষয় নয়, মূখ্য বিষয় হলো কেনো আমরা সুন্দরী নারীদের যোনি সাক করতে এতটাই উৎসুক হয়ে যাই! মূলত, যে কারণে আমরা বিশ থেকে ত্রিশ মিনিট নারীর যোনিতে স্ট্রোক করি ঠিক একই কারণেই আমরা নারীর যোনি সাক করতে পছন্দ করি বলেই বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞানীরা মনে করছেন! ডারউইন বলেছিলেন, সেক্সের উদ্দেশ্য সন্তান উৎপাদন, সন্তান তৈরি করাই যদি সেক্সের উদ্দেশ্য হয়, তবে পুরুষরা কেনো দীর্ঘক্ষণ স্লাইডিং করা নিয়ে আতঙ্কিত থাকে? কেন তারা স্লাইডিং করতে চায়? এর উত্তর পেতে আমাদের বুঝতে হবে স্পার্মওয়্যার! আমাদের পূর্বসুরি নারীরা হারেম ও হর্ডে বাস করতো, সে সময় তারা অনেক পুরুষের সাথেই সঙ্গম করতো! আর এ জন্য তাদের যৌনিতে অন্য পুরুষের স্পার্ম আটকে থাকার সম্ভাবনা ছিল শতভাগ। যে সব পুরুষের পেনিস অপেক্ষাকৃত মোটা ছিল, আর যারা দীর্ঘক্ষণ স্ট্রোক করতে পারতো, তারা ফ্রিকশনের মাধ্যমে নারীর যোনি থেকে অন্য পুরুষের সিমেন্স বের করে নিয়ে আসতে পারতো আর যখন নারী অর্গাজম প্রাপ্ত হতো তখন স্বতস্ফূর্তভাবেই নারীর জরায়ু পুরুষের সিমেন গুলোকে পাম্পিং- এর মাধ্যকে সাক করে খেয়ে নিতো যা জিনকে ভবিষ্যত প্রজন্মে পৌছানোর অনুমোদন প্রদান করে ! আর এ জন্যই পুরুষরা এখনো বেশিক্ষণ সেক্স করতে চায়, তারা তাদের পেনিসের আকার নিয়ে ভীতসন্ত্রস্ত থাকে! মিলিয়ন মিলিয়ন বছর পূর্বের সেই আদিম ভয় এখনো তাদের ডিএনএ-তে স্মৃতি সংকেত হয়ে রয়ে গেছে! স্পার্মওয়্যার এন্ড অর্গাজম

আমাদের পূর্বসূরিরা কখন ওরাল সেক্স শুরু করেছে সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়! কুং সম্প্রদায়ও ওরাল সেক্স করেনা কিন্তু আমরা যদি পুরুষের মনস্তত্বের গভীরে প্রবেশ করি তবে ওরাল সেক্সের প্রবণতা বোঝাটা আমাদের জন্য মোটেও কষ্টকর না! আমরা জানি যে, আমাদের জিন স্বার্থপর, আর তাই আমরা অধিক সংখ্যক নারীর সাথে সেক্স করতে চাই যেনো আমরা আমাদের জিনের অধিক অনুলিপি তৈরি করতে পারি। কিন্তু সেই আমরাই আজ থেকে ৩.২ মিলিয়ন বছর অতীতে অস্ট্রোলোপিথদের সময়ে বৃক্ষ থেকে মাটিতে নেমে যাওয়ার ফলে যে বিবর্তনীয় চাপের মুখোমুখি হয়েছিলাম সেই বিবর্তনীয় চাপকে অতিক্রম করতে গিয়ে একগামিতার ব্রেন সার্কিট প্রাপ্ত হই! কারণ একজন নারী এখন সিংহের খপ্পড়ে পড়ে চাইলেই লাফিয়ে গাছে উঠে যেতে পারেনা যার ফলে সবসময় স্বামীকে তার কাছাকাছি থাকতে হয়। আর এভাবেই সর্বপ্রথম আমাদের পূর্বসুরিদের মধ্যে একগামীতার ব্রেন সার্কিটের বিবর্তন ঘটে।( অস্ট্রোলোপিথের ভালোবাসার সন্তান) অন্যদিকে আজ থেকে এক লাখ বছর পূর্বে অপেক্ষাকৃত বড় মস্তিষ্কের সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে হাজার হাজার নারীর মৃত্যু হয়। প্রাকৃতিক নির্বাচন শুধু সে সকল শিশুদের প্রতি আনুকূল্যতা প্রদর্শন করতো যারা অপেক্ষাকৃত নরম মস্তিষ্ক নিয়ে জন্ম নেয় আর এ নরম মস্তিষ্কের সন্তানের ভরণ পোষণের জন্য নারী ও পুরুষের মধ্যে একগামীতা ও রোম্যান্টিক ভালোবাসার বন্ধন অপরিহার্য হয়ে উঠে আর এভাবেই তাদের মস্তিষ্কের ভেসোপ্রোসিন ও অক্সিটোসিন সার্কিট যা পেয়ার বন্ডিং-এর সাথে সম্পৃক্ত তা আরো জটিল থেকে জটিলতর হয়ে উঠে। আর এইভাবে মানব সভ্যতা ধীরে ধীরে একটি একগামী প্রজাতিতে পরিণত হয় কিন্তু দুঃখনক হলেও সত্য যে তাদের মস্তিষ্কের এই নিউরাল সিস্টেম যা একগামীতার সাথে সম্পৃক্ত তা বিবর্তনের মাধ্যমে পরিপূর্ণভাবে বিবর্তিত হয়নি, মানুষের ব্রেন সিস্টেম কমপ্লিট নয়। যার ফলে সে একদিকে নিজের প্রেমিকাকে অন্য কারো সাথে শেয়ার করতে জেলাস অনুভব করে,পুড়ে চারখার হয়ে যায় ,আর অন্যদিকে সে নিজেই নতুন নতুন নারী ও পুরুষের শরীর খোঁজ করে! আর এ দুটি অবস্থার সাথে সমন্বয় সৃষ্টির জন্য আধুনিক মানুষদের মধ্যে থ্রিসাম সাইকোলজির বিবর্তন ঘটে! ___এডাল্ট্রির বিবর্তনীয় বিশ্লেষণ

কেনো আমরা ওরাল সেক্স করি? ২০১৩ সালে এ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলেন, Pham and Shackleford তাদের প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে, তারা বলেন, আমরা ওরাল সেক্স লরি Sexual Infidelity ডিটেক্ট করার জন্য, বা নারীর যোনিতে অন্য কোনো পুরুষের সিমেন্স আটকে আছে কিনা সেটা টেস্ট করার জন্য। মূলত, প্রকৃতিতে যে সেকচুয়াল কম্পিটিশন কাজ করছে, সেই সেকচুয়াল কম্পিটিশনের মনোভাব থেকেই আমরা নারীর যোনি সাক করি! নারীর যোনিতে যদি অন্য কোনো পুরুষের সিমেন থাকে তবে আমাদের সামনে দুটোই পথ খোলা থাকে, হয়তো আমরা বেশি পরিমাণ সিমেন প্রদান করতে পারি অথবা ওরাল সেক্সের মাধ্যমে আমরা টেস্ট করে দেখতে পারি! ২০০৬ সালে এ বিষয়টির উপর গুরুত্ব দিয়ে একটা বই লেখাও হয়! সে বইতে বলা হয়, সুন্দরী নারীর যোনি স্পার্ম কম্পিটিশনের ঝুঁকিতে থাকে আর এ জন্যই আমরা সেটা সাক করি, এটা আমরা জেনেশুনে করিনা, আমরা এটা সাবকনশাসলি করি। এতে করে দুটো উপকার হয় বলে Scott A. mcGreal জানান, তার মতে, যে সকল পুরুষ নারীকে অর্গাজম দিতে পারে সেই সকল পুরুষের সিমেন নারীর জরায়ু স্বতঃস্ফূর্তভাবেই সাক করে নেয়! সেক্স কম্পিটিশনের ঝুঁকি থেকে আপনি যদি ওরাল সেক্স করেন তবে আপনি টেস্টের মাধ্যমে অবচেতনেই সেটা ফিল করতে পারবেন আর আপনার ওরাল সেক্সের প্রবণতা আরো বেড়ে যাবে, এতে করে নারী অর্গাজম ত্বরাণ্বিত হবে আর আপনার সিমেন্স ভবিষ্যত প্রজন্মে হস্তান্তরিত হবে ! যদিও এই সব প্রস্তাবনার কোনোটাই আসলে সর্বজন স্বীকৃত নয় কিন্তু ভবিষ্যতের গবেষণা আমাদেরকে হয়তো এ প্রশ্নের আরও বোধগম্য কোনো উত্তর দেবে!

তথ্যসূত্রঃ

ওরাল সেক্সের সময় পুরুষ অন্য পুরুষের স্পার্ম টেস্ট করে?

ওরাল সেক্সের সময় পুরুষ অন্য পুরুষের স্পার্ম টেস্ট করে?

hsbd bg