এলিয়েন হ্যান্ড সিন্ড্রোম
মূলপাতা কনসাসনেস এলিয়েন হ্যান্ড সিন্ড্রোম

এলিয়েন হ্যান্ড সিন্ড্রোম

লিখেছেন অ্যান্ড্রোস লিহন
155 বার পঠিত হয়েছে

 

এলিয়েন হ্যান্ড সিন্ড্রোম (Split brain Paradox)

       

(Part-8)

কর্পোরাল প্রতিষ্ঠানের একটি অংশকে যদি সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয় তবে সেটি কোনোভাবেই শুধুমাত্র তার অন্য আর একটি অংশ নিয়ে কাজ করতে পারবেনা।এমন কোনো সিষ্টেম নেই।আমরা অনেক সময় আমাদের সেলফোনে যৌথভাবে খেলায় অংশগ্রহণ করি।মনে করুন আমরা দুজন মোটর রেসিং প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবো, এ জন্যে  ইন্টারনেটের মাধ্যমে আমরা দুজন দুজনের ফোন থেকে একে অপরের সাথে কানেক্ট হতে পারবো এবং আমাদের দুজনের ফোন স্কিনে দুটি মোটর বাইক প্রদর্শন করবে।কিন্তু যদি আপনি আপনার ডিভাইসকে ডিসকানেক্ট করেন তবে আমার মোটর বাইকটি আপনার সেলফোনে প্রদর্শন করবেনা।একই এনালজিটি আমাদের মস্তিষ্কের উপরও প্রয়োগ করা যায়।আমাদের মস্তিষ্কের দুটি আলাদা হেমিস্ফিয়ার।এ দুটি হেমিস্ফিয়ার কার্পাস কলোসামের মাধ্যমে একে অপরের সাথে হটস্পোটের মতোই কানেক্টেড।দুটি আলাদা সেল ফোনের মতোই  তারা ইলেক্ট্রিক্যাল পালসের মাধ্যমে একে অপরের সাথে তথ্য আদান প্রদান করছে।এখন দুটি হেমিস্ফিয়ার যদি আপনার সেলফোনের মতোই মোটর বাইক রেসিং এ অংশগ্রহণ করে তবে ডান হেমিস্ফিয়ারের একটি বাইক এবং বাম হেমিস্পিয়ারের আর একটি বাইক দুটো হেমিস্ফিয়ারেই একসাথে দেখা যাবে।আমরা যদি যৌথভাবে পাবজি খেলি তবে দুজনের ফোনে তো একই ঘটনাগুলিই প্রদর্শন করবে কিন্তু একজন যদি আকষ্মিক খেলা থেকে সরে যায় সাথেসাথেই তার ফলাফলটা আপনার সেলফোন প্রদর্শন করবে।যৌথভাবে খেললে দুটি সেলফোনেই দুটো বাইক দেখবেন, একজন ডিসকানেক্ট করলে আপনি শুধু একটি বাইক দেখবেন।কিন্ত বিজ্ঞানীরা বিষ্ময়করভাবে দেখেছেন, আমাদের মস্তিষ্ক থেকে একটি হেমিস্ফিয়ার সম্পূর্ণভাবে পৃথক করে ফেললেও তখনও ফলাফল একই থেকে যায় বা তখনও দুটো বাইক আগের মতোই রেসিং করে!!!তার মানে দুটো হেমিস্ফিয়ারেরই আলাদা আলাদা কনসাসনেস আছে!!তারা পৃথক হওয়ার পরেও সামগ্রিক ব্রেনের Whole কনসাসনেসকে ধারণ করে!মিসিও কাকু ব্রেনকে কর্পোরেট কোম্পানীর সাথে তুলনা করেছেন, কোন কর্পোরেট কোম্পানীর পক্ষে তার প্রতিষ্ঠানের ৫০ ভাগ অফিস বন্ধ করে দিয়ে স্বাধীনভাবে ১০০ ভাগ কাজ করা সম্ভব না কিন্তু থিওরিটিক্যালি আমাদের ব্রেন ১০০ ভাগ কনসাসনেসকে ধারণ করছে!!!এটাকেই বলা হয় Split Brain Paradox!

 

 

 চিত্রঃ এলিয়েন হ্যান্ড সিন্ড্রোম, Split Brain Paradox 

 

 

ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব ট্যাকনোলজির Dr. Roger W. শপের্য যিনি ১৯৮১ সালে নোবেল প্রাইজ পেয়েছিলেন, তিনি বলেছেন, দুটি হেমিস্ফিয়ার একে অপরের এক্সেক্ট কার্বন কপি নয় এবং তারা সম্পূর্ণ ভিন্ন ভিন্ন ডিউটি পালন করছে!তিনি সিজারের পেশেন্টের উপর গবেষণা করে দেখেছেন, তাদের মস্তিষ্কের দুটি হেমস্ফিয়ারের ফিডব্যাক লুপের কারণে তারা অনিয়ন্ত্রিত হয়ে যাচ্ছে।কিন্তু যখনই তাদের দুটি হেমিস্ফিয়ারের মাঝখানের কার্পাস কলোসাম বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হলো তখন ফিডব্যাক লুপ বন্ধ হয়ে গেছে যার কারণে তারা সিজার থেকে আরোগ্য লাভ করে।প্রথমত সবকিছু স্বাভাবিকই মনে হয়েছিলো।

 

তারা একে অপরের সাথে ন্যাচরাল কনভারসেশনে অংশগ্রহণ করেছিলো যেনো তাদের কিছুই হয়নি।কিন্ত অতি-সুক্ষ্মভাবে দেখার পর তিনি বুঝতে পেরেছিলেন এদের আচার আচরণের মধ্যে অন্য রকম একটি প্যাটার্ন দেখা যাচ্ছে।

সাধারণ ভাবে দুটি হেমিস্ফিয়ার একে অপরের পরিপূরক, এরা এদের চিন্তাগুলি সামনে পেছনে একে অপরের সাথে( Keyword, এলিয়েন হ্যান্ড সিন্ড্রোম )  শেয়ার করে।আমাদের লেফট ব্রেন অধিক এনালিক্টিক্যাল এবং লজিক্যাল আর অন্যদিকে আমাদের রাইট ব্রেন হলিস্টিক এবং আর্টিস্টিক।যাইহোক, আমাদের লেফট ব্রেনই আমাদের মস্তিষ্ককে ডোমেইন করে, ব্রেনের সকল ডিসিশন আল্টিমেটলি লেফট ব্রেন গ্রহণ করে।কমান্ডগুলি লেফট ব্রেন থেকে রাইট ব্রেনে প্রবেশ করে কার্পাস কলোসামে মাধ্যমে।কিন্তু কার্পাস কলোসাম যদি বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয় তবে লেফট ব্রেনের আল্টিমেট ডিসিশনগুলি রাইট ব্রেনে যায়না।দেখা যায় যে রাইট ব্রেন তখন নিজেই নিজের মতো করে ডিসিশন গ্রহণ করে, তার মধ্যে

স্বতন্ত্র কিছু ইচ্ছাশক্তির প্রকাশ হয় যেটা লেফট ব্রেনের ডিসিশনের সাথে কন্ট্রাডিক্ট করে।!!একই মাথার খুলির ভেতরে দুটি আলাদা মানুষের ইচ্ছাশক্তি জন্ম হয়।এ কারণে একটি অস্বাভাবিক এবং অদ্ভুত পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটে।আপনার বাম হাত আপনার ইচ্ছাশক্তির বাহিরে গিয়েই নিজের মতো কাজ করে, সেটিকে আপনি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না, মনে হয় যেনো এটা এলিয়েন এপেন্ডেজ।এ ধরণের পেশেন্টদের কেস স্টাডি করে দেখা গেছে এরা এক হাতে স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরে আর অন্যহাত সম্পূর্ণ ভিন্ন এজেন্ডায় পরিচালিত হয়।কেউ কেউ তাদের শরীরের বিভিন্ন অংশে কম্পাস ঢুকিয়ে দেয় অথবা চুরি দিয়ে কেটে ফেলে।Split brain রোগীরা এমন কী রাতে ঘুমাতেও পারেনা, তাদের আতঙ্কের জন্ম হয় যে মস্তিষ্কের একটি অংশ যেকোনো সময় বিদ্রোহ করতে পারে!

তিনি লিখেছিলেন, এদের দুটো হেমিস্ফিয়ারের আলাদা কনসাস সিষ্টেম,চিন্তা,স্মরণ,যুক্তি ও ইচ্ছা আছে।উভয়ের কনসাসনেসই ক্যারেক্টারিস্টিক্যালি হিউম্যান লেবেলের।দুটো হেমিস্ফিয়ারে একইসাথে এবং একইসময় শ্রডিঙ্গারের কেটসের মতোই দুটো কনসাসনেস কাজ করে,দুটো হেমিস্ফিয়ার যেনো আলাদা প্যারালাল ইউনিভার্সের এবং তারা একই মস্তিষ্কে লোকেট করা সত্ত্বেও একে অপরের সাথে Conflict করে, এদের মেন্টাল এক্সপেরিয়েন্স আলাদা!

ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার Dr. Michael Gazzaniga বলেছিলেন,আপনি যদি দুটো হেমিস্ফিয়ারকে আলাদাভাবে প্রশ্ন করেন তবে রাইট হেমিস্ফিয়ার উত্তর দিতে পারবেনা কারণ Speech Center লেফট হেমিস্ফিয়ারে অবস্থান করে।কিন্তু সে লিখে উত্তর দিতে পারে।( এলিয়েন হ্যান্ড সিন্ড্রোম)

ডঃমাইকেল গাজানিয়া আরো গবেষণা করে দেখেছেন দুটি ব্রেনের জীবনের লক্ষ্যও আলাদা, দুটি হেমিস্ফিয়ার আলাদা আলাদা ফিউচার প্লান তৈরি করে।আপনি যদি লেফট ব্রেনকে প্রশ্ন করেন, তোমার জীবনের লক্ষ্য কী সে হয়তো বলবে, আমি জেনেটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হতে চাই কিন্তু রাইট ব্রেন উত্তর দেবে, সে সন্ন্যাসী হতে চায়!গাজানিয়া তার পেশেন্টদের উপর গবেষণা করে দেখেছিলেন রাইট ব্রেনের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অজ্ঞাত থেকেই সে তার নিজস্ব ভবিষ্যতে পরিকল্পনা তৈরি করে!আমাদের সকলের মাঝেই আমরা দুটি পারসোনালিটি পর্যবেক্ষণ করি।ডাবল আমি।এরা সবসময় একে অপরের কন্ট্রাডিক্টরি আচরণ করে।হতে পারে এটা লেফট ও রাইট ব্রেনের Inner Conversation।আমরা বিবেকের আদালত অথবা Self Conversation বলতে যা বুঝি তার সাথে Natural

Split brain এর সম্পর্ক আছে।সম্ভবত প্রকৃতি আমাদের মাঝে সীমিত মাত্রায় Split brain State কে পারমিট করে।রিতা কার্টাল বলেছেন,

 

It suggests that we might all be carrying around in our skulls a mute prisoner with a personality, ambition, and self-awareness quiteDifferent from the day-to-day entity we believe ourselves to be.”

 

নিউরোলজিস্ট VS রামচন্দ্র তার Split brain এর একজন পেশেন্টকে প্রশ্ন করেছিলেন, সে বিশ্বাসী অথবা অবিশ্বাসী।লেফট ব্রেন বলেছিলো, সে ঈশ্বরে বিশ্বাস করেনা কিন্তু রাইট ব্রেন সম্পূর্ণ বিপরীত।তিনি লিখেছিলেন, যদি ঐ ব্যাক্তি মৃত্যুবরণ করে তবে সে কোথায় যাবে?স্বর্গ অথবা নরক?

 

 

প্রাসঙ্গিক আর্টিকেলঃ

 

তথ্যসুত্রঃ

Wikipedia,  Alien Hand Syndrome

Split brain does not lead to Conscious

 

আরও পড়ুন

Leave A Comment...

হাইপারস্পেস
চিন্তা নয়, চিন্তার পদ্ধতি জানো...!