একগামীতার প্রথম ফসিল ''আর্ডি''

একগামীতার প্রথম ফসিল ”আর্ডি”

Last updated:
মেহগুনী, গ্রীস্মকালীন চিরসবুজ, বুনো নাশপাতি, লিচুর ফল, আম গাছ, রাবার গাছ, মরিচ গাছ, আবলুস গাছ- গাছ, গাছ এবং গাছ। এমন মিলিয়ন মিলিয়ন বৃক্ষ আফ্রিকার পূর্ব উপকূল থেকে আটলান্টিক মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত  ছিলো। বিশ মিলিয়ন বছর পূর্বে সমস্ত নিরক্ষীয় আফ্রিকা ছিলো অভেদ্য সবুজ এক গালিচা।
 
 
 
বনবিথী( Galade), জলাশয়, সমূদ্র স্রোত আরো উন্মোক্ত কাঠের জমি এবং ঘাসযুক্ত সমভূমি মাঝেমাঝে এই বনভূমিতে বাঁধা দিতো। কিন্তু ভিক্টোরিয়া লেকের রুসিৎ দ্বীপ খনন করে ফসিলাইজড বীজ ও বাদাম পাওয়া যায়। যা থেকে প্রমাণিত হয় যে পূর্ব আফ্রিকা খুব বড় মাপের একটি বাতাসহীন কাঠ ছিলো।
 
 
 
প্রজাপতি মৃদু অন্ধকার আলোতে নৃত্ত করতো যা গাছের পাতার ভেতর দিয়ে পরিশোধিত হয়। কাঠবিড়ালিগুলো ধনুকের মতো ঝাঁকুনি দিয়ে উড়ে বেড়ায় এবং বাদুড় অন্ধকার গর্তগুলোতে ঝুলতে থাকে। রাইনোস, হাতি, হিপ্পোস, ওয়ার্থোগস, ওকেপি, হরিণ এবং অন্যান্য বন জন্তুরা ফার্ন থেকে ভক্ষণ করে। গোল্ডেন মোলস, এলিফ্যান্ট স্ক্র , হামস্টার, হেজহোগস, ইঁদূর, জীবাণু এবং আরো অনেক ছোট প্রাণীরা পোকার লার্ভা, কেঁচো, গুল্ম এবং বেরিগুলিতে জড়ো হয়েছিলো স্যাঁতস্যাঁতে বন ও মেঝে। টেম্পারেচার ছিলো আজকের তুলনায় কিছুটা উচ্চমাত্রিক এবং প্রায় প্রতি অপরাহ্নে স্রোতস্বীনি জঙ্গলে বৃষ্টি হতো, যা ছিলো ঘন জঙ্গলের উপরে গল্পঘেরা ছাউনি। আমাদের পূর্বসূরি আত্মীয়রা এই বৃষ্টি ঘেরা বৃক্ষগুলোতে ঘুরে বেড়াত।
 
 
 
এদের একটি সায়েন্টিফিক নাম ছিলো কিন্তু এদেরকে ডাকা হতো প্রি-হোমিনোয়েড, যারা ছিলো প্রাচীন বিশ্বের বানরদের পূর্বসূরি। সবচেয়ে প্রাচীনরা বিশ  মিলিয়ন বছর পূর্বে পূর্ব আফ্রিকাতে বাস করেছিলো। তাদের মধ্যে এপ ও মাঙ্কি সদৃশ ফিচার ছিলো, এদের মধ্যে অনেকে ছিলো অনেক বেশি মাঙ্কি সদৃশ আবার কেউ কেউ ছিলো অত্যাধিক বানর সদৃশ। তাছাড়া এদের কারো কারো আকার ছিলো হাউস কেটের মতো আবার অন্যরা ছিলো বড় মাপের আধুনিক শিম্পাঞ্জি।
 
 
 
এদের কেউই মানব সদৃশ ছিলোনা কিন্তু এই আত্মীয়দের থেকেই আমাদের পূর্বসূরি ও অন্যান্য বানররা বেরিয়ে এসেছে। কিভাবে এই নারী ও পুরুষরা তাদের দিন ও রাত্রি কাটাতো এটা আমাদের পক্ষে জানাটা খুবই দুস্কর। সম্ভবত কেউ কেউ বৃক্ষের কান্ডে ঘুরে বেড়াতো যেমনটি বানররা করে থাকে, গাছের একটি শাখা থেকে অন্য আর একটি শাখায় লাফিয়ে এবং মাটির উপরের নিকটবর্তী হাইওয়ে অনুসরণ করে। আবার কেউকেউ ছিলো ঝুলে থাকতো এবং দুলতে থাকতো তারই নিচে। এই স্বতন্ত্রতা ছিলো হিউম্যান ইভোল্যুশনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ চারপাশে ঘোরার জন্য এটি ছিলো বিকল্প এক পদ্ধতি।
 
যখন পূর্বসূরি এপস ও হিউম্যান গাছের কেন্দ্রীয় শক্তিশালী কান্ডগুলো পরিত্যাগ করলো এবং ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শাখার মধ্যে ঝুলতে শুরু করলো, তারা বিবর্তনের মাধ্যমে হিউম্যান ফ্র্যামের বেসিক স্ট্রাকচার প্রাপ্ত হলো। আর ঠিক তখন তারা তাদের লেজ হারায়। এই মহান এপেনডেজ একসময় তাদের পূর্বসূরিদের, মেরুর ভারসাম্য করতে সাহায্য করেছিলো যখন তারা দাড় বাজিকরের মতো আচরণ করতো।
যখনই আমাদের পূর্বসূরিরা, গাছের শাখার নিচে ঝুলতে শুরু করেছিলো তখন তাদের লেজ অতিরঞ্জিত একটি বিষয়ে পরিণত হলো, আর ন্যাচার যেটিকে করেছিলো প্রত্যাখ্যান।
 
অন্যান্য প্রবাহরেখা বৈশিষ্ট্য গাছের শাখায় ঝুলে থাকার জন্য বিবর্তিত হয়েছিলো, বিশেষ করে কাঁধের সমন্বয়, বাহু ও ধড়। ভদ্রভাবে একটি বেড়ালকে তার অগ্রপদ দ্বারা তুলে নিন এবং দেখুন তার মাথা থাবার পেছনে ঝুলে গেছে। তারপর জঙ্গলের একটি প্লেগ্রাউন্ডে যান এবং আপনার হাত দ্বারা ঝুলে থাকুন। দেখুন আপনার কাধ আপনার মাথার সাথে সংঘর্ষ করছেনা। আপনি আপনার কুনুইয়ের ফাঁক দিয়ে দেখতে পারেন, যদি সন্দেহ হয়। মানুষের কন্ঠাস্থি, আপনার পেছনের দিকে কাঁধের ফলক ছড়ানো, আমাদের প্রশস্ত ব্রেস্টবোন, আমাদের অগভীর প্রশস্ত রিবক্যাজ এবং আমাদের সংকোচিত কোটিদেশের কশেরুকা, সবকিছু বিবর্তিত হয়েছে দেহকে উপরে ঝুলিয়ে রাখার জন্য, নিন্মদেশ থেকে সমর্থন করার পরিবর্তে।
 
সমান স্বতন্ত্রতার সাথে, মানুষ ও সকল এপ, তাদের কজি রোটেট করতে পারে ১৮০ ডিগ্রিতে। এজন্য আমি ও আপনি জঙ্গলের ক্রীড়াক্ষেত্রে লাফিয়ে বেড়াতে পারি, তালু খুলে ও ছড়িয়ে। আমাদের পূর্বসূরিরা তাদের বাহুতে এ সব বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছিলো এবং উর্ধ্ব শরীরে বহু পূর্বে__ গাছের কান্ডে ঝুলে থাকার জন্য এবং তাদের নিচে ফল ও ফুল খাওয়ার জন্য।
 
বহুদশক ধরে এটি একটি বিতর্কিত ব্যাপার যে কখন এ পরিবর্তন সংঘটিত হয়েছিলো। কিন্তু এই প্রি-হোমিনিড গাছের পাতায় বাস করতো। এবং কয়েক ডজন চোয়াল ও দাত তারা ত্যাগ করেছিলো, এটি পরিস্কার যে এ সকল হোমিনিড অধিকাংশ সময় ফল সংগ্রহ করতো।
 
 

 

জঙ্গলের ভালোবাসা

 
 
 
কোন সন্দেহ নেই যে প্রাক-মানুষদের মধ্যেও সেক্স ছিলো। সম্ভবত তারা ঘ্রাণ নিতো, স্ট্রোক করতো অথবা সহবাসের পূর্বে গ্রুমিং করতো তারা একপ্রকার সম্মোহন অনুভব করতো। কিন্তু তার মানে এই নয় যে সেই প্রাক- মানুষদের নিকট সেক্স একটি নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার ছিলো।
 
কিন্তু কেনো? কারণ মহিলারা ছাড়া সকল নারী প্রাইমেটদেরই ঋতুচক্র ও উত্তাপের একটি সময় ছিলো। কিছু নারী বানর বিশেষ ঋতুতে উত্তপ্ত হতো। অন্যান্য বানর ও এপদের প্রতিমাসে ঋতুচক্র হতো। কিন্তু এই ঘূর্ণনের মধ্যবর্তী পর্যায়ে, যা ২৮ দিন থেকে ৪০ দিন স্থায়ী থাকতো, তারা একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য উত্তাপের মধ্যে আসতো বিশদিনে যা নির্ভর করতো প্রজাতি ও ব্যক্তির উপর।
 
বেবুনদের মধ্যে সেকচুয়ালিটির একটি সাধারণ প্যাটার্ন দেখা যায় এবং তাদের সেক্স লাইফ সম্ভবত কয়েকটি বিষয় সম্পর্কে বলে একুশ মিলিয়ন বছর পূর্বের প্রাক-মানবদের সহবাস সম্পর্কে। ঋতুচক্রের শুরুতে নারী বেবুনের শরীরের ঘ্রাণ পরিবর্তন হয় এবং তাদের জননাঙ্গের সেক্স স্কিন স্ফিত হয়, যা পতাকার মতোই তার উর্বরতার ঘোষণা করে, সে উপস্থিত হতে শুরু করে, তার, তার নিতম্বে আলতো আঘাত করে, তার কাধের দিকে তাকায়, অবনত হয় এবং পুরুষের কাছে যেতে থাকে তাকে সহবাসের উদ্দেশ্যে ডেকে আনার জন্য।
যখনই উত্তাপ্ত সূর্য ডুবে যায়, ফিমেল বেবুল নিয়মিত সহবাস করতে অস্বীকৃতি জানায়, পরবর্তী মাস পর্যন্ত। নারীরা সাধারণত গর্ভবতী অবস্থায় সহবাস করতোনা এবং প্রসবের পর, তাদের এস্ট্রাস ও রেগুলার সেক্স একটিভিটি থেমে যেতো, যতক্ষণ না তাদের বাচ্ছা বিকশিত হচ্ছেনা__ এ সময়টা ছিলো ৫-২১ মাস।
 
 
আমাদের প্রাইমেটিভ এনসেস্টররা এর বেশি সেকচুয়ালি একটিভ ছিলোনা। কিছু এপের সেক্স লাইফ এটা কনফার্ম করেছে। নারী শিম্পাঞ্জির উত্তাপের সময় ছিল এক থেকে চারদিন; অরাংগুটানের উত্তাপের সময় ছিল ৫-৬ দিন। এ ধরণের জংলি রিলেটিভিদের মধ্যে অধিকাংশ সেক্সই হতো এস্ট্রাসের সময় যদিও অন্য সময়ও তারা সেক্স করতো। কিন্তু প্রেগনেন্সির সময় এই সব এপের চক্র বন্ধ হয়ে যেতো, নিয়মিত সেকচুয়াল একটিভিটি থেমে যেতো__ যতদিন সন্তান বড় হচ্ছেনা ততোদিন মা সেক্স করতোনা__ এ সময়ের দৈর্ঘ্য ছিলো তিন থেকে চার বছর যা শিম্পাঞ্জি ও গোরিলাদের মধ্যে কমন।
 
মূলত, আমাদের বৃক্ষবাসী পূর্বসূরিরা সম্ভবত সাধারণ প্রাইমেট ছিলো__ এবং তাদের সেক্স ছিলো পিরিয়োডিক। কিছু নারী ছিলো অন্যদের থেকে সেক্সি, আমাদের বর্তমান সময়কার এপ ও নারীদের মতো। কারো কারো হিট অনেক দীর্ঘ সময় পর্যন্ত অব্যাহত ছিল; কেউ ছিলো, পুরুষদের সাথে অধিক জনপ্রিয়। কিন্তু সহবাস এস্ট্রাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতো। প্লেকসিড দিনগুলো অনেক বেশি অর্গিয়াস্টিক ছিলো, কারণ নারী উত্তপ্ত ছিলো আর আমাদের পূর্বসূরিরা ডালে যুদ্ধ করতো তাদের উত্তাপ প্রশমিত করার জন্য।মাঝেমাঝে সাধারণ প্রাইমেটরাও ব্যতিক্রম আচরণ করতো। সামাজিক অভ্যুর্থান নারীদের বাধ্য করেছিলো অজস্র পুরুষের সাথে সহবাস করার জন্য। নতুন নেতা, নতুন সদস্য, অথবা বিশেষ খাদ্যের জন্য তারা এস্ট্রাসের বাহিরেও সেক্স করতো। নারীরা সম্ভবত সেক্স করতো খাদ্য ও বন্ধুত্বের জন্য।
 
 
নারীরা মাঝেমাঝে গর্ভবতী অবস্থায় অথবা নার্সিং এর সময় সামান্য সেক্স করে গোপনে। রিসাস, বানর ও গরিলা, মাঝেমাঝে সহবাস করে,  প্রেগন্যান্সির প্রথম মাসেই অথবা সন্তান বড় হওয়ার পূর্বেই। অতএব এটা যৌক্তিক এ পূর্বসূরিরাও করেছিলো। মাঝেমধ্যে তারা মাস্টারবেট করতো, যেমনটি গরিলা করে। হোমোসেকচুয়ালিটি নারীদের মধ্যে অধিক প্রচলিত ছিল নারী গরিলা, শিম্পাঞ্জি এবং আরো অনেক প্রজাতি এটা করতো। মাঝেমাঝে পুরুষ নারীকে সেক্স করতে বাধ্য করতো যখন তারা আনরিসেপ্টিভ ছিল।আমরা সেকচুয়ালিটি সম্পর্কে এর থেকে বেশিকিছু জানিনা এবং জানিনা সেই প্রাগৈতিহাসিক সময়ে মেটিং সিস্টেম কেমন ছিলো। একসময় পরিবেশ পরিবর্তন হয় __ মানব সভ্যতার বিকাশ ঘটে___ বিশ্বব্যাপি লুচ্ছামি ছড়িয়ে পড়ে, প্রেমে পড়ে, বিয়ে করে, কারো মধ্যে বিশ্বাসঘাতকতার জন্ম হয়, ডিভোর্স হয় আবার গড়ে তোলে ভালোবাসা।
 
 
 

সমূদ্রে তোলপাড়;

 
 
ত্রিশ মিলিয়ন বছর থেকেও আরো অনেক পূর্বে আফ্রিকা ও আরবিয়ান পেনিসুলা একটি একীভূত আইল্যান্ড গঠন করে যা তার বর্তমান অবস্থান থেকে কিছুটা দূরে অবস্থিত ছিলো। উত্তরে, একটি সমূদ্র শুয়ে ছিলো যার নাম তিথি ওসান, যেটি আটলান্টিক থেকে পশ্চিমে ও পেসিফিকের পূর্বে সম্প্রসারিত হয়েছিলো যা সংযুক্ত করেছিলো বিশ্বের পানিকে। এই প্রণালী ছিলো আর্থ রেডিয়েটর। তিথির উপরিভাগের উত্তপ্ত পানি সমস্ত বিশ্বে ছড়িয়ে পড়তো, স্রোত ও বাতাসকে উত্তপ্ত করতো, যা ওয়ার্ল্ড বিচকে (Beaches) উত্তপ্ত করে তুলতো, উত্তপ্ত তরঙ্গ দিয়ে এবং এর জঙ্গলগুলোতে দেখা দিতো উষ্ণ বৃষ্টি।
 
একদিন এই অগ্নিকুন্ড অদৃশ্য হয়ে যায়। ভূপৃষ্ঠের তলদেশের নিষ্ঠুর স্রোতের টানে, আফ্রিকা ও আরাবিয়ান প্লেট উত্তরের দিকে যাওয়ার জন্য সাহস করেছিলো। আজ থেকে ২০ মিলিয়ন বছর পূর্বে, এটি মিডল ইস্টে ধাক্কা দেয়, জ্যাগ্রোস, ট্যাউরুস ও ক্যাউক্যাসাসের মতো পর্বতের চুড়া গুলো তৈরি করার জন্য। খুব শীঘ্রই আফ্রিকা থেকে ইউরেশিয়ান বিরাট এক ভূমির করিডোর বেরিয়ে আসে যেটি প্রাচীন বিশ্বের বিরাট বিরাট জঙ্গলগুলোকে একসাথে একত্র করে দেয়।
 
আজ তিথি পশ্চিম দিক থেকে অর্ধেক সংকোচিত হয়ে গেছে যা পরিণত হয়েছে মেডিটেরিয়ান সমূদ্রে, যার উষ্ণ লবণাক্ত জল এখনো আটলান্টিক ওশানের ভেতর থেকে নির্গত হয়। কিন্তু ইস্টার্ন তিথি, যা পরে ইন্ডিয়ান ওশান হিসেবে বিবর্তিত হয় সেখানে আর  গ্রীষ্মকালীন স্রোত ছিলোনা। আটলান্টিক ও ইন্ডো- পেসিফিক সমূদ্র ডিসকানেক্ট হয়ে যায়। উষ্ণ স্রোত আর বিশ্বজুড়ে প্রবাহিত হয়না যা একসময় প্রাচীন জঙ্গলকে উত্তপ্ত করেছিলো।
 
এ সমস্ত বৃক্ষকে প্রতিস্থাপন করেছিলো দুটি পরিবেশগত পরিবর্তন ; বনভূমি ও স্যাভান্নাস। ২২ টি হ্রদ ও নদীর কূল, গাছগুলো এখনো আগের মতো জড়সড়। কিন্তু যেখানে মাটি বিকশিত হয়েছিলো, স্রোতদ্বারা পরিণত হয়েছে ক্ষুদ্র নির্ঝরে। বৃক্ষভূমি ছড়িয়ে পড়ে। এখান থেকে বৃক্ষদের স্বতন্ত্র গল্প রচিত হয়। এখন আর তাদের একটি ডাল অন্যটিকে স্পর্শ করেনা। তাদের নিচে ঘাসের বীথি বোনা এবং যেখানে জল আরো দূর্লভ, গুল্ম ও ঘাসগুলি টিকে থাকার লড়াই করেছিলো গাছের শাখাগুলোর এক একটি গম্ভুজের নিচে যা কাঠযুক্ত সাভানা সমভূমিতে মাইল থেকে মাইল সুবিস্তীর্ণ ছিলো। ষোল থেকে চৌদ্দ মিলিয়ন বছর পূর্বে প্রিহোমিনোয়াইডদের প্রতিরক্ষামূলক জগত শেষ হয়ে এলো। সর্বনাশের রাজত্ব শুরু হলো।
 
তাই সুযোগও ছিলো।
 
এ সময় জঙ্গলের অনেক প্রাণী মারা যায়। ঘোড়াদের ক্ষুদ্র প্রাচীন পূর্বসূরি ও অন্যান্য প্রাণীরা ক্ষীণ হয়ে যাওয়া অরন্যগুলো ছেড়ে আফ্রিকা থেকে চলে যায় ইউরেশিয়াতে। আরো অজস্র প্রাণী জঙ্গলের শূন্যস্থান থেকে নির্গত হয়েছিলো আরো বৃহত্তর দল গঠনের উদ্দেশ্যে এবং বিবর্তিত হয়েছিলো মহান প্রজাতি তৃণাচ্ছন্ন বৃক্ষভূমিতে।
 
এই অভিবাসীদের মধ্যে ছিলো আধুনিক গন্ডারের অগ্রদূত এবং জিরাফ, উটপাখি, অগণিত ধরণের হরিণ এবং অন্যরা ব্রাউজ ও গ্রেজিং করতো চারণভূমিতে যা আজ সেরেঙ্গেটি সমভূমিকে জলাবদ্ধ করে তোলে। সঙ্গে বিকশিত হয়েছিলো তাদের শিকারীরা, সিংহ, চিতা ও অন্যান্য মাংসাশীদের পূর্বসূরিরা। জ্যাকেল ও হায়না যারা ছিলো প্রাচীন বিশ্বের আবর্জনা সংগ্রহকারী।
 
মহাসমূদ্রে ছিলো অশান্তি আর কোলাহল, ইউরেশিয়ায় নতুন স্থলসেতু, ঋতু, ক্যানোপির হালকা জঙ্গল, প্রসারিত বৃক্ষভূমি, এবং তৃণযুক্ত সমভূমি। বিপুলভাবে আমাদের পূর্বসূরিদের উপর প্রভাব বিস্তার করেছিলো। নতুন মহাসড়কের জন্য সন্দেহাতীতভাবে, আফ্রিকার বাহিরে, উদাহরণস্বরূপ – ফ্রান্স, স্পেন , ইতালি, হাঙ্গেরি, গ্রিস এবং স্লোভাকিয়া। তারপর তুরস্ক, চীন এবং এশিয়ার অন্যান্য অংশ যখন আফ্রিকার ঘরগুলো ক্রমহ্রাসমান বনাঞ্চলে ছিলো আরও বেশি উন্মোক্ত বনভূমি এবং সুবিস্তীর্ণ ঘাস।
 
সমান গুরুত্বপূর্ণভাবে, এই প্রারম্ভিক এক্সপ্লোরারগুলির জীবিত এপের স্বতন্ত্র কিছু ফিজিক্যাল ফিচার দেখিয়েছিলো, এমনকি আমাদের প্রথম সত্য পূর্বসূরিদের কিছু বৈশিষ্ট্য___ ‌যারা ছিলেন আমার আর আপনার রেখা বরাবর। তাদেরকে বলা হতো হোমোইনয়েডস, মানুষের পূর্বসূরি হিসেবে পরিচিত মহান এপস ; ওরেঙ্গুটান, গরিলা এবং শিম্পাঞ্জির দুটি প্রজাতি। এই জেনারেল স্টোকের ভেতর থেকেই আমাদের প্রথম পূর্বসূরি উথিত হয়।
 
যে বন্ধুদের আপনি নির্বাচন করছেন, যে আত্মীয়দের সাথে আপনি আটকে গেছেন। সূতরাং যদিও আজকের আফ্রিকান এইপ নিশ্চিতভাবে কয়েক মিলিয়ন বছর পূর্বে বিবর্তিত হয়েছে, আধুনিক আফ্রিকান এইপ, যারা মানব সভ্যতার সাথে অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে সম্পর্কযুক্ত, তাদেরকে জীবন পূনর্গঠনের জন্য সবচেয়ে এপ্রোপিয়েট মডেল হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে ১৪ থেকে ৮ মিলিয়ন বছর পূর্বে__ ঠিক যখন মানব সভ্যতার পূর্বসূরিরা বেরিয়ে আসে। আর তাই আমরা নিশ্চিন্তে বলতে পারি যে,  আমাদের আদিম পূর্বসূরীদের মধ্যে আজ থেকে প্রায় ১৪ মিলিয়ন বছর পূর্বে ভালোবাসার বন্ধন, এডাল্ট্রি, ডিভোর্স ও রিম্যারেজ দেখা দিয়েছে, সম্ভবত এরই মধ্যে এগুলোর বিবর্তনও শুরু হয়ে গেছে।
 
 
 
 

গরিলা কৌশল

 
 
গরিলা হারেমে বাস করে। আজ এই লজ্জাজনক প্রাণীগুলো ঘুরে বেড়াচ্ছে  জাইরে, উগান্ডা ও রুয়ান্ডার সুপ্ত বিরুঙ্গা আগ্নেয়গিরির কাছে। ১৮৮৫ সালে তার খুনের পূর্ব পর্যন্ত এনথ্রোপোলোজিস্ট দিয়ান ফোসি এ ধরণের ৩৫ টি গোরিলা ব্যান্ডের উপর গবেষণা চালান। তাদের আঠার বছরের প্রাত্যহিক জীবন পর্যবেক্ষণ করেন।
 
প্রতিটি গোরিলা হারেমকে পরিচালিত করতো একজন সিঙ্গেল এডাল্ট সিলভারব্যাক পুরুষ। তার এ তথাকথিত নামের পেছনে কারণ হলো যে, তার জিনের মধ্যে ছিলো সিলভার রঙের চুল এবং তার ছিলো নূন্যতম দুজন স্ত্রী। আবার অনেকের পেছনের রঙ ছিলো কালো যারা এখনো সাব-এডাল্ট অথবা একেবারে তরুণরা গরিলা ব্যান্ডে নিন্মস্তরের পদ পেতো।
 
একজন নারী গোরিলা নয় বছর বয়স থেকেই সহবাস করা শুরু করতো। প্রতিমাসে ঋতুচক্রের এস্ট্রাস পিরিয়ডে, সে গ্রুপ সেক্স করতো, তাদের সাথে যারা অনেক উচ্চপদস্থ। গ্রুপ সেক্স করার সময় একটা ব্যাপারে তাদের মধ্যে সতর্কতা ছিলো আর তা হলো ঐ পুরুষটি তার বাবা অথবা ভাই ছিল কিনা। সে তার নিতম্ব দিয়ে ঠোক্কর দেয়, তার বাদামি চোখের দিকে তাকায় এবং উদ্দেশ্যমূলকভাবে তার দিকে ফিরে আসে, তার যৌনাঙ্গকে রিদমিক্যালি ঘর্ষণ করে অথবা তার ভাজে বসে পড়ে মুখোমুখি সহবাস করার জন্য। তারপর সে নরম, উচ্চ ও কৌতুহল উদ্দীপকভাবে ডাকে। যদি কোনো নমনীয় পুরুষ না পাওয়া যায়, সে তার জন্মগত ব্যান্ড ত্যাগ করে, অন্য একটি গ্রুপের সাথে যোগ দেয় যেখানে উপযোগী পুরুষ পাওয়া যায়। যদি কোনো পার্টনারই পাওয়া না যায়, সে নির্জন কোন ব্যাচেলরের সাথে যোগ দেয় এবং স্বাধীনভাবে তার সাথে ভ্রমণ করে। যদি তার সঙ্গী দ্বিতীয় কোন নারীকে তাদের সাথে যোগ দিতে প্ররোচিত করতে না পারে, যাহোক একজন নারী তার ভালোবাসাকে ত্যাগ করে এবং কোনো একটি হারেমে যোগ দেয়। নারী গরিলা একগামীতা একেবারেই সহ্য করতে পারেনা, হারেম ছাড়া তার জীবন অসম্ভব, সে হারেম জীবন ভালোবাসে।
 
তরুণ পুরুষ খুবই অস্থির ও গতিশীল। তারা সবসময় এদিক ওদিক ছোটাছুটি করে। কোনো শান্তি নেই। এক স্থান থেকে অন্যস্থানে। আপনার কাছে মনে হতে পারে যে এ তরুণটির হয়তো মাথা নষ্ট! সে কোথাও স্থির হয়ে বসে না কেনো? আবার যখন কালোপিঠে পুরুষরা কোনো একটি ব্যান্ডে বয়সন্ধীতে পৌঁছে, যেখানে এক বা একাধিক বয়স্ক নারী রয়েছে, সে তার জন্মগত গ্রুপেই থেকে যায়, শুধুমাত্র তাদেরকে ব্রিডিং করার জন্য। যদি ঐ গ্রুপে কোনো নারীই বয়সন্ধীতে না পৌঁছে অথবা যদি সবাই ভাইবোন হয় , তখন সে অন্য কোনো গ্রুপে চলে যায় অথবা একাকী যুবক হিসেবে ( Solitary) বাউন্ডেলের মতো ঘুরে বেড়ায় তার নিজস্ব হারেমের তৈরির জন্য নারীদেরকে আকৃষ্ট করতে।
 
যদি গরিলাদের মধ্যে তারুণ্যে গতিশীলতা ও অস্থিরতা কাজ না করতো তবে তারা তাদের দল ছাড়তে চাইতো না। আর যদি কোন কারণে তার জন্মগত দলে তার কোন সঙ্গী না’ই থাকতো তবে সে তার স্থবিরতার কারণে সম্ভাব্য নতুন কোনো দলও খুঁজে নিতে পারতোনা অথবা সন্নাসীর মতো এদিক ওদিক ঘুরে বেড়ানোর ইচ্ছে ও মানসিক ক্ষমতাও জন্ম নিতোনা তাদের মাঝে। আর এমতাবস্থায় তারা তাদের ভাইবোন ও পিতা মাতা বা তার জিনগত সম্পর্কের আত্মীয়দের সাথেই টিকে থাকার স্বার্থে সেক্স করতে বাধ্য হতো। অতএব দেখা যাচ্ছে, অস্থিরতা (Mobility) থেকেই গরিলারা ইনচেস্ট থেকে দূরে থাকে, জিন তার টিকে থাকার স্বার্থেই গরিলাদের ব্রেনকে এমনভাবে প্রোগ্রাম করে যেনো তারা অস্থিরতাবোধ করে কারণ নয়তো সেলফিশ জিন ক্ষতিগ্রস্ত হতো, সিমিলার জিন সম্পন্ন রিলেটিভদের সাথে সেক্স করলে জিনের মধ্যে কোনো বৈচিত্র্যতা থাকেনা, সন্তান শারীরিক ও মানসিকভাবে বিকালঙ্গ হয়ে জজন্মগ্রহণ করে। মানব সমাজেও আমরা এমন অনেক মানুষ দেখি যারা সাধু সন্নাসী পুরুষ! তাহলে কী তাদের মধ্যেও গরিলাদের মতো এমন কোনো অস্থিরতা কাজ করে যার জন্য তরুণ বয়সের ছেলেরা অস্থির হয়? ঘরে থাকতে চায়না? এদিক ওদিক ঘুরে বেড়ায়? বেশি বেশি বন্ধুবান্ধব নিয়ে ভ্রমণ করে? আর তারা এসব করে যেনো পরিবারের সদস্যদের সাথে সেক্স হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়? যেন তারা অজাচার মুক্ত থাকতে পারে? যেনো তাদের জিন ভেরিয়েবিলিটি পায়? সন্তান পিতামাতার অবাধ্য হওয়ার পেছনেও কী এ ধরণের গরিলা টাইপ মেন্টালিটি কাজ করে? আর কোন এক অজানা কারণে সন্তান বড় হওয়ার সাথেসাথে পিতামাতাও তাদের স্পর্শে আসতে চায়না! এর পেছনে কী জিনগতভাবেই ইনচেস্টের প্রতি কোনো পূর্ব সতর্কতা ছিলো? যাক, আমি গরিলার মনস্তত্বের মাধ্যমে মানব মনস্তত্ব বিশ্লেষণ করার পক্ষপাতী নই কিন্তু হিউম্যান সাইকোলজির পেছনেও ঠিক এ ধরণের কোনো বিবর্তনীয় প্রেসার ক্রিয়াশীল থাকতে পারে।
 
কিন্তু না! নৃতত্ববিদ Fossey সিলভার ব্যাক গরিলাদের মধ্যেও ইনচেস্টের প্রমাণ পেয়েছেন! একটি সিলভার ব্যাক তার কন্যার সাথে সহবাস করেছিলো। কিন্তু কৌতুহল উদ্দীপকভাবে কয়েকমাস পর সে একটি সন্তান জন্ম দেয়। যখনই সন্তানটি জন্মগ্রহণ করে তখন পরিবারের অন্য সদস্যরা সে সন্তানটিকে মেরে ফেলে। তাদের মলে হাড়ের ভাঙা টুকরার উপস্থিতি থেকে জানা যায়, তারা শুধু ইনসেস্ট থেকে জন্ম নেয়া শিশুটিকে হত্যা করেনি, তার শরীরের কিছু অংশ খেয়েও ফেলেছিলো। Hormone levels and overt social behaviors, including signed output, in a captive lowland gorilla নামে ১৯৭৫ সালে এম এ ওয়াটসন একটি আর্টিকেল প্রকাশ করেন যেখানে তিনি গরিলাদের মনস্তত্ব সুবিস্তৃতভাবে ব্যাখ্যা করেছিলেন।
 
একবার যখন হারেম প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। স্বামী ও উপপত্নী স্থিতিশীল হয়ে উঠে। সাধারণত তারা সারা জীবনের জন্য মেটিং করে। যখন মহাকাশে সূর্য উঠে ও রেডিয়েশন নেমে আসে উঠোনে তখন তারা সূর্যস্নান করে। রিদমিক্যালি তারা চলাচল করে এবং খেলে। মাঝেমাঝেই নারীরা তাদের স্পাউজকে ত্যাগ করে, নতুন কোনো সঙ্গীর সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে যেটাকে বলে ___সিরিয়াল মোনার্ডি। কিন্তু এটা খুবই দূর্লভ।
 
সঙ্গীরা অবশ্যম্ভাবী ভাবে একে অপরের প্রতি বিশ্বস্ত হয়না। এস্ট্রাসের সময় একজন নারী শুধু তার স্বামীর সাথেই মেলামেশা করে, যে অন্যান্য পুরুষদেরকে সে নারীর সঙ্গে সেক্স করতে ইন্টারাপ্ট করে। একবার প্রেগন্যান্ট হয়ে যাওয়ার পর, যাইহোক, নারীরা মাঝে মাঝে নিন্মপদস্থ পুরুষদের সাথেও সহবাস করতে শুরু করে__ সরাসরি তার স্বামীর নাকের তলাতেই। এবং সেক্স ছাড়া তারা অনেক বেশি তেজস্বীয় হয়ে যায়, তার স্পাউজ এই নির্দিষ্ট সাক্ষাতে কখনো হস্তক্ষেপ করেনা। গরিলা পিল্যান্ডার্স এবং সহ্য করে এডাল্ট্রি।

আমাদে আদিম বৃক্ষবাসী পূর্বসূরীরা আট মিলিয়ন বছর পূর্বে কী হারেমে ভ্রমণ করতো যেমনটি গরিলারা করে থাকে? নারী ও পুরুষরা কী সারাজীবনের জন্য একে অপরের সাথে মেটিং করতো? এবং তারপর মাঝেমাঝে অন্যান্য ব্যান্ডের সাথে সহবাস করতো? সম্ভবত। হিউম্যান সেকচুয়াল টেস্ট ও গরিলার রি-প্রডাক্টিভ হেবিটের মধ্যে পার্থক্য আছে, যাহোক। গরিলারা সবসময় পাবলিকে সহবাস করে যেখানে মানুষের সহবাসের হলমার্ক গোপনীয়।
 
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, পুরুষ গরিলারা সবসময় হারেম তৈরি করে। মানুষ সেটি করেনা।আপনি জানেন যে, অধিকাংশ মানব সমাজে অধিকাংশ পুরুষের শুধুমাত্র একজন স্ত্রী আছে। নারী গরিলা এবং হিউম্যান ফিমেইলদের এক্ষেত্রে রয়েছে কম। যদিও মহিলারা হারেমে যোগ দেয়, তারা তাদের Co-Wives বা সহ-স্ত্রীদের সবসময় গালিগালাজ করে, মাঝেমাঝে তারা একে অন্যের সন্তানকেও হত্যা করে।
 
মানুষের বহুগামী বিবাহের সাথে জেলাসিও ক্রমবর্ধমান ভাবে সম্প্রসারণশীল। নারীরা মানসিকভাবে সারাজীবনের জন্য হারেম লাইফ তৈরি করেনা। গরিলাদের সাথে মানুষের সবচেয়ে বড় পার্থক্যটি হলো আমাদের রিলেশনশিপের দৈর্ঘ্য। গরিলা প্রায় সবসময় সারাজীবন মেটিং করে। আর অন্যদিকে মানুষ, পার্টনার পরিবর্তন করার চেষ্টা করে _ মাঝেমাঝে বিভিন্ন সময়। আমাদের জন্য, দীর্ঘ বিবাহ অনেক সময় বিভিন্ন কাজ করায়।
 
 
 
 

প্রাইমাল হর্ড

 
 
ডারউইন, ফ্রয়েড, এঞ্জেল এবং অন্যান্য আরো অনেক চিন্তাশীল দাবি করেছেন যে, আমাদের প্রাচীন পূর্বসূরিরা “প্রাইমাল হর্ডে” বাস করতেন__ আর তা হলো নারী ও পুরুষরা তার সাথে সহবাস করতো যাকে তাদের পছন্দ হয় এবং যখন খুশি। প্রথম শতাব্দীতে রোমান দার্শনিক লুক্রেতিউস লিখেছিলেন, মানব সভ্যতা তখন মাঠে বাস করতো, যারা ছিলো অত্যন্ত কঠোর, যেনো পৃথিবীর কঠোরতা নির্মান করেছে তাদের। তারা সূর্যের অজস্র রিভোলুশনে বসবাস করেছিলো এবং ভ্রমণ করেছিলো বন্য জন্তুর মতো। ভেনাস যোগ দিয়েছিলো জঙ্গলের একদল প্রেমিকের সাথে। তারা পারস্পরিক কাছাকাছি এসেছিল ঘনিষ্ঠ আকাঙ্ক্ষার মাধ্যমে অথবা প্রমত্ত বল এবং পুরুষের বিধবংসী লালসা, অথবা ওক বৃক্ষের ফল, নাশপতি বা আর্বিউটবেরি যৌতুক হিসেবে প্রদান করে।
 
 
 
একগামীতার প্রথম ফসিল ''আর্ডি''
 
 
 
 
লুক্রেতিউস সম্ভবত সঠিক ছিলেন। সাধারণ শিম্পাঞ্জি ও বনোবো হর্ডে ( বড় একটি দল, যেখানে নারী পুরুষ স্বেচ্ছায় একত্রিত হয়ে বাস করতো এবং দলের আলফা পুরুষ সব নারীর উপর নিজের অধিকার খাটাতো) বাস করতো আর যৌতুক বা ঘুষ ছিলো অত্যন্ত সাধারণ একটি ঘটনা। তাছাড়া জেনেটিক রেকর্ড আমাদের বলছে যে, এই আফ্রিকান এপস আমাদের নিকটবর্তী রিলেটিভ। মূলত, আমরা জেনেটিক্যালি তাদের সমরূপ ঠিক যেমনি গৃহপালিত কুকুরের জিন সমরূপ নেকড়েদের। । এমনকি আজ থেকে ৭-৫ মিলিয়ন বছর পূর্বে আমাদের পূর্বসূরীরা তাদের থেকে বিভক্ত হওয়ার পূর্বে আমরা একটি সাধারণ উত্তরাধিকার শেয়ার করেছি। অতএব আমরা তাদের জীবনকে পরীক্ষা করে কিছু ব্যাসিক বিষয় আবিষ্কার করতে পারি।
 
 
আজকের বনোবস (প্যান প্যানিকাস) কয়েকটি জলাবদ্ধ জঙ্গলে রয়ে গেছে যা আলিঙ্গন করে জাইরে নদী। এখানে তারা দাড়বাজিকরদের কৃতিত্ব দেখায়, আর্ম সুইমিং করে, জলে ডুব দেয়, টাঙানো দড়ির শিল্পিদের মতো দুটি অঙ্গে পথ চলে, মাঝেমাঝে মাটি থেকে কয়েকশত ফুট উপরে। তারা তাদের সময় অপচয় করতো জঙ্গলের ফ্লোরে চলাচলের মধ্য দিয়ে, যাহোক, চারটি অঙ্গে পায়চারি করে, সরস ফল, বীজ, অঙ্কুর, পাতা, মধু, ওয়ার্ম, ক্যাটারপিলার, মাশরুম অথবা সুগারক্যান ও আনারস চুরি ও অনুসন্ধান করেই তারা তাদের সময় অপচয় করতো। তারা মাংসও খেতো।
 
এনথ্রোপোলোজিস্টরা দেখেছিলো মাঝেমাঝে একজন পুরুষ উড়ন্ত কাঠবিড়ালিকে অপ্রয়োজনে চুপিচুপি অনুসরণ করতো। আবার কখনোবা পুরুষরা নিস্তব্ধ ভাবে গোপনে এন্টিলোপ ধরতো ও খেয়ে ফেলতো। তারা স্রোতের কিনারায় মাটি খনন করতো ও মাছ শিকার করতো। সম্ভবত আমাদের প্রাক-মানুষরা এসব প্রাণী শিকার করেছিলো প্রোটিন কালেক্ট করার জন্য যা ছিলো তাদের খাবার ফল ও বাদামের পরিপূরক।
 
বনবো নারী, পুরুষ ও তরুণের মিশ্র গ্রুপে ভ্রমণ করে ; দুই থেকে আটজন ব্যক্তি মাঝেমাঝে স্থিতিশীল দলে ঘুরে বেড়ায়। এমনকি ১৫ থেকে ৩০ জন, আবার মাঝে মাঝে শতাধিক খাবারের জন্য একত্রিত হয়, রিলাক্স করে, ঘুমায়। ব্যক্তিরা এক দল থেকে অন্য দলে যাতায়াত করে আর এটি নির্ভর করে খাবারের যোগানের উপর। তারা একটি সুসঙ্গত কমিউনিটিতে যোগদান করে। যা ছিলো প্রাইমাল হর্ড।
সেক্স ছিলো প্রাত্যহিক বিনোদন। নারী বনবো প্রতি মাসে উত্তপ্ত হয়। কিন্তু সেক্স এস্ট্রাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনা। তারা তাদের ম্যানিউস্ট্রুয়াল সাইকেলের অধিকাংশ সময় মিলিত হয়__ যা ছিলো সে সকল নারীদের সহবাসের প্যাটার্ন।
 
নারীরা সবসময় তাদের বন্ধুকে ঘুষ হিসেবে যৌনি দিতো। একজন নারী সে পুরুষের সাথে পথ চলতো যে সুগারক্যান খায়। তার পাশে বসতো ও হাত পেতে চাইতো। সকরুণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতো তার দিকে। একটা সময় পুরুষটি তার দৃষ্টি বুঝতে পারে। তাকে সেবা দেয়, মেয়েটি তার নিতম্বে ঝাঁকুনি দেয় ও সহবাস করে; তারপর ক্যানটি হাতে তুলে নেয়।
 
মাঝেমাঝে বিস্ময়কর ঘটনা ঘটে। একজন নারী যখন দেখে অন্য কোন এক নারী সুগারক্যান খাচ্ছে সে তখন তার দিকে এগিয়ে যায়, পা দিয়ে তার কোমর পেছিয়ে ধরে, যৌনির সাথে যৌনি স্পর্শ করে ঘর্ষণ করতে শুরু করে। পুরুষরা হোমোসেকচুয়ালিটিতে জড়িত হয়।
বনবো টেনশন দূরীভূত করার জন্য সেক্স করতো, খাবার শেয়ার করার সময় স্টিমুলেট করতো, ভ্রমণের সময় মানসিক প্রেসার হ্রাস করার জন্য বা ভেঙে যাওয়া বন্ধুত্ব পূনরায় জোড়া লাগানোর জন্য, রি-ইউনিয়নের সময় সেক্স করতো। বনবোর একমাত্র স্লোগান ছিলো- Make Love, Not War.
 
 
আমাদের পূর্বসূরিরাও কী একই কাজ করেছিলো?
 
বনবো বিভিন্ন রকমের সেকচুয়াল আচরণ প্রদর্শন করেছিল যা লোকজন স্ট্রেটে প্রদর্শন করে, বার বা রেস্টুরেন্টে অথবা নিউইয়র্ক, প্যারিস, মস্কো এবং হংকং এর এপার্টম্যান্টের দরজার আড়ালে। আমরা আগেই জেনেছিলাম, চোখে চোখ রাখা কোর্টশিপের কেন্দ্রীয় উপাদান। বনবো হাত হাত রেখে পথ চলে, একে অপরকে কিস করে, জড়িয়ে ধরে দীর্ঘ সময় এবং জিহবা দিয়ে ফ্রেন্স কিস করে।
 
 
সান ডিগো চিড়িয়াখানার বনবোরা ৭০% সময় মিশনারী পজিশনে সেক্স করে। আফ্রিকাতে দেখা যায় ১০৬ এর মধ্যে ৪০ জন মুখোমুখি সেক্স করে। বনবো বৈচিত্র্যতা পছন্দ করে। বিনিত হয়ে বসে পড়ে যখন সঙ্গী দাঁড়ায় এবং ইন্টারকোর্স করে যখন দুজনেই দাঁড়ায়, দুজনে গাছের মধ্যে ঝুলতে থাকে। মাঝেমাঝে একে অন্যের যৌনাঙ্গের মধ্যে তারতম্য তৈরি করে। তাদের মধ্যে একে অপরের দিকে তাকানোর প্রবণতা আছে যেনো তারা “ভালোবাসে”!
 
আমাদের সর্বশেষ বৃক্ষচারী পূর্বসূরিরা সম্ভবত কিস ও হাগ করতো, সহবাসের পূর্বে, হয়তো একে অন্যের দিকে গভীরভাবে তাকিয়ে তারা সেক্স করতো। কারণ বনবো ছিলো খুবই স্মার্ট একটি এপস। তাদের সঙ্গম ছিলো নিপুন ও ছিলো ফ্রিকোয়েন্সী। কিছু নৃতত্ববিদ দাবি করেন যে, বনবো ছিলো আফ্রিকার প্রাক-মানবের আদিরুপ।
 
 
 
 
যাইহোক, বনবো তাদের আচরণে কিছু ফান্ডামেন্টাল তারতম্য প্রদর্শন করেছিলো। একটি হলো, তারা দীর্ঘ কালীন কোনো ভালোবাসার সম্পর্ক স্থাপন করতোনা। তারা তাদের তরুণ সন্তান ও স্ত্রীর দেখাশুনা করতোনা। পুরুষরা তাদের ভাইবোনের দেখাশুনা করতো। কিন্তু একগামীতা তাদের জীবন ছিলোনা।  তাদের যৌনি পরকিয়া করতো! পরকিয়া ছিলো তাদের ভাড়া। মানবীয় লুচ্ছামি, সম্ভবত, প্রি-হিউম্যান বিহেভিয়ার প্যাটার্ন!
 
 
 
বহুগামীতা শিম্পাঞ্জিদের সাধারণ বৈশিষ্ট্য। প্যান ট্রোগোডাইটস, যার নামকরণ করা হয় PAN থেকে, এ শব্দটি এসেছে, Mother of Nature থেকে এবং প্রাচীন গ্রীকের একজন ঈশ্বর। ১৯৬০ সালে জ্যান গুডেল, এ ধরণের সৃষ্টিগুলোকে দেখতে শুরু করেন, গোম্বি স্ট্রিম রিজার্ভের কাছে। যা তাকে আমাদের প্রাচীন বৃক্ষচারী পূর্বসূরীদের স্বভাব কল্পনা করতে সাহায্য করেছিলো।
 
এ শিম্পাঞ্জির দলে ১৫-৮০ জন ব্যক্তি থাকতো যারা টাঙ্গানিকা লেকের পূর্ব তীরে বসবাস করেছিল। তাদের ঘর ছিলো জঙ্গল থেকে উডল্যান্ডের দিকে সম্প্রসারিত, যেখানে ছিলো সাভান্নার তৃণভূমি ও বিক্ষিপ্ত গাছপালা কারণ তাদের খাদ্যের সরবরাহ ছিলো বিক্ষিপ্ত ও অসম, লোকজন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দলে ঘুরে বেড়াতো, ক্ষণস্থায়ী গ্রুপ।
 
পুরুষরা ভূমিতে ৪-৫ জন ঘুরে বেড়াতো। দুই বা ততোধিক মা মাঝেমাঝে তাদের সন্তানদের নিয়ে নার্সারিতে যোগ দিতো। লোকজন মাঝেমাঝে স্বতস্ফূর্তভাবে একে অপরের ভেতর ঘুরে বেড়াতো ও মাঝেমাঝে এক বা একাধিক বন্ধু ক্ষুদ্র সেক্স গ্রুপে যোগ দিতো। পার্টি ছিলো ফ্লেক্সিবল, ব্যাক্তিরা পানির মতো প্রবাহিত হতো। আসতো ও যেতো। যদি এক দলের সদস্যরা ডুমুর, নতুন কুঁড়ি বা অনান্য সুস্বাদু খাবার পেতো, তারা জঙ্গলের ভেতর দিয়ে চিৎকার করতো অথবা গাছে কিল দিয়ে ড্রাম বাজাতো। সবাই একত্রিত হতো আর খেতো।
নারীদের এস্ট্রাসের মিড সাইকেল ১০-১৬ দিন স্থায়ী ছিল। তাদের সেকচুয়ালিটির প্যাটার্নের সাথে আমাদের পূর্বসূরিদের মিল ছিলো।নারীরা যখন তাপমাত্রায় আসতো। তার যৌনির সেক্স স্কিন গোলাফি রঙের ফুলের মতো ফুলে উঠতো- যা ছিলো পুরুষের সেক্স পাসপোর্ট।
 
 
 
 
Chimpanzee Sex With Girl - XXX Video
 

মেয়েটি তার সন্তান আর ভাইবোন ছাড়া আর সমস্ত পুরুষের সাথে সহবাস করতো। মাঝেমাঝে আটজন পুরুষ সরল রেখার এক একটি বিন্দুতে দাড়াতো। এবার প্রতিটি বিন্দু থেকে একে একে পালাক্রমে এক একটি বিন্দু নারীটির গোলাফি রঙে রক্তিম যৌনিতে পেনিস প্রবিস্ট করতো, খুব জোরে থ্রাস্টিং করতো,  , তারপর বীর্যপাত হতো। আর এটি ঘটতো দশ থেকে পনের সেকেন্ডের ভেতর।

 
 
 
 
 
 
সবচেয়ে প্রভাবশালী পুরুষ নারীর উপর একচ্ছত্র অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তার দিকে উদ্দেশ্যমূলক ভাবে তাকায়। হাঁটু গেড়ে বসে পড়ে, তার বিদ্রোহী পেনিস প্রদর্শন করে, এটাকে ঝাঁকায়, এপাশ ওপাশ রক করে, তার বাহু প্রসারিত করে, গম্ভীরভাবে চলাচল করে, কুকুরের মতো অনুসরণ করে৷ একটি পুরুষ বৃষ্টিতে শুয়ে ছিল সারারাত। অপেক্ষা করছিলো এস্ট্রাস নারীটি কখন বাসা থেকে জাগ্রত হবে। যখন পুরুষটি তার দিক থেকে নারীটিকে আকৃষ্ট করতে সক্ষম হলো, সে তার নিকটবর্তী হলো এবং অন্যান্য পুরুষদেরকে সহবাস করতে বাধা দিতে শুরু করলো মাঝেমাঝে পুরুষরা অন্য পুরুষদের তাড়া করে, চার্জ ও এটাক করে।
 
কিন্তু এ ধরণের মুখোমুখি লড়াইয়ে মূল্যবান সময় প্রয়োজন। যখন পুরুষটি অন্যদের সাথে যুদ্ধ করছে নারীটিকে প্রোটেক্ট করার জন্য তখন নারীটি আরো তিন চার জনের সাথে মাঝামাঝি সময় নিজের উত্তক্ত যৌনিকে তৃপ্ত করে নেয়। নারী শিম্পাঞ্জিরা সেকচুয়ালি এগ্রেসিভ হয়। একটি অনুষ্ঠান উপলক্ষে, একজন নারী শিম্পাঞ্জি একইদিনে কয়েক ডজন বার সহবাস করে। হয়তো সেদিন তার যৌনির ভেতর বিভিন্ন আকারের কয়েক ডজন পেনিস টর্চার করতে থাকে অবিরাম।
 
 
 
 
 
একগামীতার প্রথম ফসিল ''আর্ডি''
 
 
 
 
কিশোরী মহিলাদের যৌনি মাঝে মাঝে এতটাই উত্তক্ত হয়ে উঠে যে তাদের স্নায়ুতন্ত্র গিটারের তারের মতো করুণ থেকে করুণ সিম্পোনি তৈরি করে, একপ্রকার সুকঠিন যন্ত্রণা, ভেতরে কিছু একটা প্রবিষ্ট করার অন্তহীন বাসনা, মাঝেমাঝে এতটাই অতৃপ্ত হয় যে, তারা একটা সময় সহ্য করতে না পেরে উদাসীন পুরুষদের শায়িত পেনিস মুঠোয় নিয়ে হেচকা টান দেয়। আর কিছু নারী যৌনির ভেতরের সেই সাইকো অনুরনন সহ্য করতে না পেরে, আঙুল ইনসার্ট করতে বাধ্য হয় ও মাস্টারবেট করে।
 
 
 
 
BBC - Earth - Do bonobos really spend all their time having sex?
 
 
মাঝেমাঝে মহিলা শিম্পাঞ্জি পিকি হতে পারে। তারা পছন্দের ক্ষেত্রে হায়ারার্কি দেখেনা, তারা আলফা মেল পছন্দ করার পরিবর্তে তাদেরকেই বেশি পছন্দ করে যারা তাদের খাবার দেয় ও গ্রুম করে। কাউকে সরাসরি নিষেধ করে, অন্যদের সাথে দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক রাখে। এবং তারা উভয়েই তাদের নিকটাত্মীয়ের সাথে সম্পর্ক করা থেকে বিরত থাকে। বিশেষ করে মা ও ভাইবোন।
 
তাছাড়া নারী শিম্পঞ্জি সেকচুয়াল এডভেঞ্চার পছন্দ করে। যুবতি নারীরা মাঝেমাঝে জন্মগত গ্রুপ ত্যাগ করে এবং এস্ট্রাসের সময় নিকটবর্তী কমিউনিটিতে যোগ দেয় , এ স্বভাবটি এডাল্টদের মধ্যেও স্থির থাকে। যখন নিকটবর্তী পুরুষ কোন এক অচেনা নারীকে দেখে, তারা ভালভার চারপাশের গোলাফি রঙে রক্তিম সে সেক্স স্কিন অনুসন্ধান করে যা এস্ট্রাসের সিগনাল। তারা আগন্তুকদের সাথে যুদ্ধ করার চেষ্টা না করেই সহবাস করে। মানুষ টিনেজারের মতো, শিম্পাঞ্জি নারী নিয়মিত ঘর ত্যাগ করে। কিছু ফিরে আসে, অন্যরা চিরস্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত হয়ে যায়।
 
 
 

মেকিং ডেট

 
 
মাঝেমাঝে সাধারণ শিম্পাঞ্জিদের এস্ট্রাস নারী এবং স্বতন্ত্র পুরুষ পাশাপাশি এবং শুনতে পাওয়ার মতো দূরত্বে সহবাস করতে অস্বীকার করে_ যেটাকে বলে সাফারিতে যাওয়া। এ প্রচেষ্টাগুলো প্রথম পুরুষ থেকেই শুরু হয় চুল ও লিঙ্গ দন্ডায়মান করে, সে ঈশারা দেয়, এক পাশ থেকে অন্য পাশে সরে যায়, সে গাছের ডাল নাড়ায়, সম্ভাব্য সঙ্গীর দিকে উদ্দেশ্যমূলক ভাবে তাকিয়ে থাকে। যখন সে তার দিকে মুভ করে, সেও ঘুরে তাকায় এবং হাটতে থাকে, আশা করে সে অনুসরণ করবে। এই ঈশারা অনেক তীব্র হয়, এ অঙ্গভঙ্গিগুলো তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে উঠে যতক্ষণ না সে আদেশ করছেনা। মাঝেমাঝে পুরুষ নারীর উপর আক্রমণ চালায়, না করা পর্যন্ত আক্রমণ করে।
 
 
এখানে তারপর, একগামীতার চিহ্ন আছে_প্রাইভেটলি সহবাস সম্পাদন করা। ক্ল্যান্ডেস্টাইন সম্পর্ক কয়েকদিন অব্যাহত থাকে; কিছুকিছু কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত স্থিতিশীল হয়। এবং সাফারিতে ভ্রমণের মধ্যে একটি প্রজনগত সুবিধা আছে। ১৯৭০ সালে প্রায় ১৪ টি প্রেগন্যান্সির ঘটনার রেকর্ড পাওয়া যায় যেখানে একজন নারী প্র্যাগনেন্ট হয় একজন স্বয়ন্ত্র পার্টনারের সাথে পথ চলার সময়।
 
 
 
একগামীতার প্রথম ফসিল ''আর্ডি''
 
 
 
সম্ভবত আমাদের বৃক্ষবাসী পূর্বসূরীরা মাঝেমাঝে এ ধরণের শর্টটার্ম যুগল ভালোবাসার সম্পর্কে জড়িত হয়েছিল। তারা বিলুপ্ত হয়েছিলো পাতার অন্তরালে মুখোমুখি সহবাস করে, বুকে জড়িয়ে, স্ট্রোক করে, একে অন্যের গালে, হাতে ও শরীরে চুমু খেয়ে, দুজন দুজনকে নিজ হাতে ফল খাইয়ে দিয়ে আর এভাবেই তরুণের জন্ম ঘটে।
 
কিন্তু আবারও এ শিম্পাঞ্জিরা আমার আর আপনার থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারে আলাদা। যখন নারী সাধারণ শিম্পাঞ্জিরা প্র্যাগন্যান্ট হয়, সে একা একা ভ্রমণ করে ও মা ও শিশুদের একটি গ্রুপে যোগদান করে, যেহেতু সে খুব শীঘ্রই প্রসব করবে, সে একটি ক্ষুদ্র ঘর গড়ে তোলে। কিছু নারী কমিউনিটির একেবারে কেন্দ্রের স্থানটি দখল করে, কেউ কেউ নিকটস্ত চৌহদ্দিতে বাড়ি তৈরি করে৷ সে একা একাই তার শিশুকে লালন পালন করে। শিম্পাঞ্জিরা সন্তান লালন পালন করার সময় যুগল বন্ধন গঠন করেনা। একজন শিম্পঞ্জির কাছে পিতৃত্ব মহাকাশের মতোই শূন্য, তারা জানেইনা যে পিতা বলতে এ মহাবিশ্বে কেউ আছে বা থাকতে পারে!
 
সাধারণ শিম্পাঞ্জি আরো অনেক সামাজিক আচরণ প্রদর্শন করে। যাইহোক, যা আমাদের পূর্বপুরুষদের মধ্যে অঙ্কুরিত, তারপর বিকশিত হয়েছিল মানব সভ্যতা। তাদের মধ্যেও যুদ্ধ ছিল। গোম্বের পুরুষরা তাদের তৃণাচ্ছাদিত জমি পাহারা দেয়। তিন বা ততোধিক পুরুষ একত্রিত হয়। মাঝেমাঝে তারা উচ্চস্বরে আওয়াজ করে, সম্ভবত, আগন্তুকদের ভয় দেখাতে। সাধারণত তারা শব্দহীন স্কাউট। কিছু অনুসন্ধান করে প্রত্যাহার করা খাদ্য, পরীক্ষা করে অদ্ভুত বাসা অথবা শুনে অনুপ্রবেশকারী শিম্পাঞ্জির শব্দ যেনো তারা একা চুরি করতে পারে।
 
 
যখন তারা প্রতিবেশীর মুখোমুখি হয়, তারা নার্ভাস হয়ে প্রস্রাব করে দেয় বা ডেফিকেট এবং একে অপরকে স্পর্শ করে, পূনরায় নিশ্চয়তা প্রদানের জন্য। তারপর তারা আক্রমণাত্মকভাবে ডাক দেয় অথবা উপহাস বা ঠাট্টা করে৷ কেউ কম্পন করে গাছের ডাল, কেউ চড় মারে মাটিতে। কেউ নিক্ষেপ করে পাথর। তারপর উভয় গ্রুপ পশ্চাদপসরণ করে। এবং বর্তমানে, ১৯৭৪ সালের ক্লাসিক ইভেন্টে, শিম্পাঞ্জি যুদ্ধ শুরু করে।
 
১৯৭০ সালে ৭ জন পুরুষ ৮ জন নারীর একটি উপদল কাশাকেলা কমিউনিটির রিয়েল স্টেটের দক্ষিণ দিকে ভ্রমণ করতে শুরু করে । ১৯৭২ সালে এই বিদেশীরা নিজেদের আলাদা একটি কমিউনিটি তৈরি করে, যেটাকে পর্যবেক্ষকরা নাম প্রদান করেছিলেন কাহামা, যেটি দক্ষিণের নদী উপত্যকায় অবস্থিত। মাঝেমাঝেই কাসাকেলা পুরুষ কাহামা পুরুষদের সাথে দেখা করতো, তাদের নতুন বর্ডারে এবং বৃক্ষের মধ্যে ড্রাম বাজিয়ে অথবা গাছের ডাল টানাটানি করে বন্ধুত্বহীনতা প্রদর্শন করতো, পরস্পর পশ্চাদপসরণের পূর্বে।
 
 
1974 সালে, যাহোক, ৫ জন কাসাকেলা পুরুষ দক্ষিণ ভুখন্ডের গভীরে অনুপ্রবেশ করলো , একজন কাহামা পুরুষকে বিস্মিত করে, তাকে তারা পেটায়। গোডেল ঘটনাটি এভাবে ব্যাখ্যা করেন, একজন কাসাকেলা পুরুষ ভিক্টিমকে নিচের দিকে শক্ত করে ধরে রেখেছিল যখন অন্যরা তাকে পেটায়। তারপর একজন তার পেছনের পায়ে উঠে দাঁড়ায়, হাঙ্গামার মধ্যেই আওয়াজ করে, শত্রুর দিকে পাথর নিক্ষেপ করে। এটি পতিত হয় খুব অল্প সময়ে৷ মারপিটের দশ মিনিট পর, যোদ্ধারা কাহামা পুরুষকে প্রত্যাখ্যান করে, রক্তাত্ব শরীর ও ভাঙা হাড় নিয়ে পড়ে থাকে আক্রান্ত পুরুষ।
 
 
পরবর্তী তিন বছরে, ৫ এর অধিক কাহামা পুরুষ ও এক নারী একই ভাগ্য বরণ করে। ১৯৭৭ সালের মধ্যে কাসাকেলা পুরুষ তাদের অনেক প্রতিবেশীকেই উপড়ে ফেলে, অবশেষে বিলুপ্ত হয়ে যায়। তারপর কাসাকেলা কমিউনিটি তাদের পরিধি প্রাসারিত করতে থাকে দক্ষিণের টাঙ্গানিকা লেকের কিনারা পর্যন্ত। আমাদের বৃক্ষবাসী পূর্বপুরুষরাও কী আজ থেকে ৮ মিলিয়ন বছর পূর্বে একে অন্যের সাথে এভাবেই যুদ্ধের ধামামায় মেতে উঠেছিল? সম্ভবত…
 
 
তারা সম্ভবত ততোদিনে শিকার করতে শুরু করে দিয়েছিলো। শিম্পাঞ্জি শিকারিরা ছিলো সবসময় এডাল্ট। আর ভিক্টিম ছিলো সাধারণত তরুণ বেবুন, বানর, বুশবাক বা বুশপিগ। মাঝেমাঝে সরল বিশ্বাসী কোন বানরকে সে নিকটবর্তী কোন গাছের কিনারায় খাওয়ায় অথবা কান্না করে, সে হলো “সুবিধাবাদী শিকার”! তবে পরিকল্পিত, সমবায় গ্রুপের শিকার অভিযানও খুবই সাধারণ। শিকার সবসময় নিস্তব্ধ।
কেবল শিকারীর তাকানোর দিক নির্দেশ, তার চকচকে চুল, তার বাঁড়া মাথা, তার চালাকার দৃঢ় সংকল্প বা এক্সচেঞ্জ করা নজর, অন্যদের সতর্ক করে যে তাড়া চলছে। তারপর একদল পুরুষ ভিক্টিমকে ঘিরে ফেলে।
 
শিম্পাঞ্জি শিকারটিকে ধরার সাথেসাথে একটি যুদ্ধ শুরু হয়। প্রতি হান্টার চিৎকার করে ও চিৎকার দিয়ে পশ্চাদপসরণ করে। কয়েক মিনিট পর, শুনতে পাওয়ার মতো দূরত্বে একত্রিত হয়ে তারা ক্লাস্টার গঠন করে। কিছু শিম্পাঞ্জি ভিক্ষা করে, মাংসের অধিকারীর দিকে তাকিয়ে থাকে, কেউ কেউ পড়ে থাকা মাংসের টুকরা সংগ্রহ করে, বৃক্ষ পত্রাবলির নিচে থেকে।
 
তারপর সবাই খেতে বসে, অবসরে যোগ করেন প্রোটিন পরিপূরক পাতা__মূল স্টেক এবং সালাদ ডিনার। মাঝেমাঝে বিশ পাউন্ড ওজনের কাঁচা শব খেতে কয়েক ডজন শিম্পাঞ্জির প্রয়োজন হয়, একটি ইভেন্ট যা আমেরিকার ছুটির মতো নয়। শিম্পাঞ্জি মাংসের উপর লড়াই করে। কখনো কখনো টেম্পার বিস্ফোরিত হয় কিন্তু পদমর্যাদা বড় অংশ নিশ্চিত করেনা। শিম্পাঞ্জির সামাজিক জীবনের একদিকে অধস্তনরা লিডারকে মানেনা। বয়সের আছে ছিন্নবস্ত্র। সেক্সের আবেদনের ক্ষেত্রেও সেটাই ঘটে। একজন এস্ট্রাস মহিলা মাঝেমাঝেই অতিরিক্ত টুকরা  পায়।
 
পূর্বাভাস, গ্রুপ শিকার, সহযোগিতা, শেয়ারিং __ এসব শিকার কৌশল আমাদের পূর্বসূরীদের মধ্যে অত্যন্ত ব্যাপকভাবে উন্নত হয়েছিল। কিন্তু হিউম্যান হান্টিং এর একটি মূল উপাদান শিম্পাঞ্জিদের মধ্যে অনপুস্থিত। এটি মাঝেমধ্যে ঘটতে পারে, তবে। একটি উদাহরণ হল, গোম্বের পুরুষদের একটি দল, চারটি প্রাপ্তবয়স্ক বুশপিগকে ঘিরে রেখেছে এবং শিকারিরা তাদের মধ্য থেকে একটি পিগলেট বের করার চেষ্টা করছে। তারপর একজন বৃদ্ধ প্রাপ্ত বয়স্ক একটি শুকরকে আঘাত করে। তরমুজ আকারের একটি শিলা নিক্ষেপ করে। বুশপিগ পিগলেটকে রেখে পালিয়ে যায়৷। কিছুক্ষণ পরেই শিম্পাঞ্জিরা, এ বিচ্ছিন্ন তরুণকে গ্রাস করে।
 
 
 

নোবেল সেভেজ

 
আমাদের শেষ বৃক্ষবাসী পূর্বসূরিরা শিম্পাঞ্জির মত কমিউনিটিতে বাস করতো। তারা কি একে অপরের সাথে গ্যাং তৈরি করতো? তাদের বাউন্ডারি প্রোটেক্ট করতো? তারা কী পিপড়াদের  জন্য লাঠি ব্যাবহার করতো, একে অন্যকে সহযোগিতা করতো?
 
এদের কেউ ছিলো প্রাচীন ডাক্তার আবার কেউ ছিল যোদ্ধা। তারা জোক করতো, একে অপরের সাথে পানি ছুড়াছুড়ি করে। যে কারণে শিম্পাঞ্জিরা আজো ভাঁড়ামি করতে পছন্দ করে এবং একে অন্যের সাথে তামাশা করে। কিছুকিছু পূর্বসূরি কিউরিয়াস ছিল, কেউ ছিল উদ্ভাবনী, কেউ লাজুক, কেউ উৎসাহী, কেউ মিষ্টি, কেউ একগুঁয়ে, কেউ সুন্দর ঠিক যেমন আজকের মানুষ ও বানরদের মধ্যে দেখা যায়।
তাদের অবশ্য সেন্স অব ফ্যামলিও থাকতে পারে। শিম্পাঞ্জি, গরিলা ও অন্যান্য প্রাইমেটরা নিয়মিত তাদের মা, বোন ও ভাইয়ের সাথে সম্পৃক্ত থাকে এবং হয়তো তারা আগন্তুক দেখলে ভীতসন্ত্রস্ত হয়, তারাও হয়তো দলনেতাকে সম্মান করতো ও সেক্স পার্টনারকে কিস করতো, বাহুতে বাহু রেখে পথ চলতো। কোন সংশয় ছাড়াই তারা তাদের ফেশিয়াল এক্সপ্রেসনের মাধ্যমে ভালোবাসা, আনন্দ ও বিরক্তি প্রকাশ করতো এবং আরো অনেক ইমোশন। এবং তারা জঙ্গলের ফ্লোরে বসে বিপুল পরিমাণ সময় অপচয় করতো, থাপ্পড় মারতো, স্ট্রোক করতো, আলিঙ্গন করতো, একে অন্যের সাথে কাদা ও পাতা ছোড়াছুড়ি করতো, তারা শিশু, বন্ধু এবং ভালোবাসার মানুষের সাথে খেলাধুলা করতো।
 
আট মিলিয়ন বছর পূর্বে একজন শিশু তার মা অথবা মায়ের বন্ধুর যত্নে বড় হতো। কিন্তু তখনও বাবা ও স্বামীর অস্তিত্ব ছিলনা এবং তখনও স্ত্রী বিবর্তিত হয়নি।
 
 
 
 

আমাদের গ্যাং

 
ছয় মিলিয়ন বছর পূর্বে এ গ্রহে কিছু একটা প্রবেশ করে। আফ্রিকায় বিবর্তিত হয় এক নতুন প্রজাতি । যাদের কিছুকিছু কেনিয়ার Woodland এর সুবিস্তীর্ণ করিডোরে ঘুরে বেড়াতো। এবং আজ থেকে ৪.৪ মিলিয়ন বছর পূর্বে ৩৫ জনেরও বেশি ব্যক্তি বসবাস করতো সেখানে এবং জঙ্গলেই তাদের মৃত্যু হতো । যে জঙ্গলটি আজকের ইথিওপিয়ার ক্লান্ত নদীগুলোকে জড়িয়ে রেখেছে।
 
তাদেরকেই সম্ভবত, ল্যামেন মিসিং লিংক বিবেচনা করেছিলেন। তারা ছিলো পৃথিবীর বুকে প্রথম যারা আমাদের নিকটবর্তী কাজিন শিম্পাঞ্জি থেকে আলাদা হয়েছিল, তারা পদচারণা করেছিল মানব সভ্যতার দিকে। আমাদের কাছে রয়েছে তাদের হাড়৷। তাদের দেয়া হয় বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক নাম। তবে বেশিরভাগই আর্ডিপিথেকাস প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত রমিডাস।
 
 
 
একগামীতার প্রথম ফসিল ''আর্ডি''
 
 
 
আর্ডি নামের অর্থ ছিল “গ্রাউন্ড” অথবা “ফ্লোর। স্থানীয় ইথিওপিয়ান ভাষায় যাদের বলা হয় Afar Tribesman। Ramid মানে ” Root”! আর্ডি তার অধিকাংশ স্কেলিটনই ত্যাগ করেছিল যেটাকে বর্তমানে বলা হয় আরামিস। এটি ছিল মধ্য আওয়াস, ইথিওপিয়ার একটি উপত্যকা। সে দুই পায়ে দাঁড়াতো, আর ওজন ছিল ১০০ পাউন্ড। তার দাঁতের আর্কিটেকচার থেকে বোঝা যায় সে প্রচুর পাতা, বাদাম ও ক্ষুদ্র মামেল খেতো।
 
তার বিরোধি আঙুলগুলো ছড়িয়েছিলো যা দিয়ে সে গাছের ডাল ধরতে পারতো। এইপদের মতো এ বৈশিষ্ট্য পরবর্তী হোমিনিড থেকে আলাদা যাদের আঙুলগুলো জোড়া আর এদিক থেকে তারা আমার ও আপনার মতোই। তবুও তার পায়ের অন্য বৈশিষ্ট্য তাকে দু-পায়ে সোজা হয়ে হাঁটতে শেখায়। সে এখন চার পায়ের পরিবর্তে দু-পায়ে হাঁটে। মানব সভ্যতার অগ্রযাত্রায় এটা ছিলো গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ কারণ আমাদের হাত যদি আদিম পূর্বসূরীদের মতো হাঁটতো তবে আমি এখন কম্পিউটারে টাইপ করতে পারতামনা, রেডিও, টেলিভিশন অথবা কম্পিউটার কোনোকিছুই তৈরি হতোনা, মানব সভ্যতা বলতে আমরা যা বুঝি তার সবটাই দুটি হাত! কারণ কোন চারপেয়ে প্রাণী এখনো রকেট তৈরি করতে পারেনি, উড়াতে পারেনি স্পেসশিপ অথবা তৈরি করতে পারেনি কোয়ান্টাম কম্পিউটার।
 
 
 
 
 
এছাড়াও আর্ডি, তার মেয়ে আর ছেলে বন্ধুদের অসাধারণ মানবিক বৈশিষ্ট্য ছিল আর সেটি হল, Reduced Canine Teeth! কুকুরের মুখে যে লম্বা দুটি দাঁত থাকে, যা দিয়ে তারা কামড়ের মাধ্যমে বিষ সংক্রমণ করে। অর্ডির সে দাঁত ছোট হয়ে গিয়েছিল । শুধু এটুকুই। আর বেশিকিছু নয়। কিন্তু তাদের বডি স্কেলিটন নারী ও পুরুষের মধ্যে তেমন কোন পার্থক্য প্রদর্শন করেনি। আর এটা ছিলো যুগল ভালোবাসার (Pair Bond ) সম্পর্কের বিবর্তনের পক্ষে প্রথম প্রমাণ। সেক্স নির্বিশেষে বডি স্কেলিটনের তারতম্যহীনতা প্রমাণ করে যে যুগল সম্পর্ক Emerged হয়েছে।
 
 
একগামীতার প্রথম ফসিল ''আর্ডি''
 
 
 
 
 
তাদের উপরের শ্রোণিচক্র ছোট হয়ে আসে। সে দু-পায়ে এক পাশ থেকে অন্যপাশে নাড়াচাড়া করতে পারতোনা যেমন শিম্পাঞ্জিরা করে থাকে। তবুও তার নিন্মতর পেলভিস ছিল বানর সদৃশ যা তৈরি করতো বিশাল পেশি গাছে চড়ার জন্য। তার আরও ছিল বানর সদৃশ হাত, বট আঙুল ও ছোট এবং নমনীয় হাতের তালু। এবং যদিও তার খুলির দিকগুলো ও মেরুদণ্ড হাঁটার জন্য বিবর্তিত। কিন্ত বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, আর্ডিপিথেকাসদের দাঁতই ছিল একগামীতা ও যুগল ভালোবাসা সৃষ্টির এনাটমি। কুকুরের মতো লম্বা, দাঁত যেগুলোকে ক্যানাইন বলে সেগুলো আকস্মিক ছোট হয়ে যায় আর সেই সংকোচিত ক্যানাইন দেখেই এন্থ্রোপোলোজিস্ট লাভজয় হাইপোথিসাইজ করেন, এটাই ছিল একগামীতার বিবর্তনের প্রাথমিক ধাপ, যুগল প্রেমের।
 
 
 
একগামীতার প্রথম ফসিল ''আর্ডি''
চিত্রঃ ৪.৪ মিলিয়ন বছর পূর্বের আর্ডির মাথার খুলি ও চোয়ালের দাঁত , একগামীতা ও যুগল প্রেমের প্রথম প্রমাণ ।
                     
 
দীর্ঘকাল ধরে এটা সর্বজন স্বীকৃত ছিল যে পুরুষ প্রাইমেটরা হর্ড গঠন করে। প্রাইমেটরা তাদের বড় ও চুরির মতো ধারালো ক্যানিন টিথগুলো ব্যবহার করতো সন্তান উৎপাদন করার সুযোগ লাভ করার জন্য। নারীর যৌনির জন্য তারা একে অন্যের সাথে লড়াই করতো আর সে লড়াইয়ে চুরির মতো এ দাঁতগুলো প্রয়োজন ছিল। একটা যৌনিকে কেন্দ্র করেই তাদের দাঁতগুলো বড় হয়ে উঠেছিল। যে পুরুষের দাঁতগুলো তাদের DNA Exchange করার জন্য প্রতিযোগি পুরুষদের বিপক্ষে তলোয়ারের মতো আচরণ করতো , ন্যাচারাল সিলেকশন তাদের প্রতিই আনুকূল্যতা  দেখিয়েছিলো । কারণ তখন কোন একগামীতা ছিলনা, যুগল ভালোবাসার সম্পর্ক ছিলনা, নারীর কোন স্বামী বা পিতা ছিলোনা, তার যৌনি ছিল একটি ওয়াইল্ড মেশিন, যেটি জিনের বাহক হিসেবে কাজ করতো, আর সবাই চাইতো, সে মেশিনের ভেতর জিন ইনপুট করে, ভবিষ্যত প্রজন্মে চলে যেতে, অনেকটা টাইম মেশিন বা ওয়ার্মহোলের মতো। যা এক সময় থেকে জিনকে অন্য সময়ে নিয়ে যেতে পারে মুহূর্তে। কিন্তু আকস্মিক আর্ডোপিথেকাসদের এই তলোয়ারের মতো ধারালো ক্যানাইন ছোট হয়ে যায়। (ভালোবাসার ব্রেন সার্কিট )
 
 
তারমানে তারা এখন আর লুচ্ছামি করেনা, অজস্র নারীর শরীর পাওয়ার জন্য তারা এখন আর রক্তপাত করেনা, এখন একটি টাইম মেশিন হলেই তাদের জন্য যথেষ্ট, তারা এখন একজন নারীর ভেতরেই সম্পূর্ণ মহাবিশ্বকে খুঁজে পায়, আর এভাবেই তারা দীর্ঘকালীন সম্পর্ক গড়ে তোলে। এতদিন শিশুদের নির্দিষ্ট কোনো পিতা ছিলনা, নারী একাই সন্তান লালনপালন করতো, ইতিহাসে এ প্রথম ফ্যাটারনিটি বিবর্তিত হয়, মিলিয়ন বছর পর আমরা প্রথম জানতে পারি বাবা বলতেও একটা কিছু মহাসশূন্যে আছে। লাভজয় বলেন, দ্বিপদী প্রাইমেটরাই যুগল ভালোবাসার সম্পর্ক নিয়ে আসে। আমরা যদি চারপায়ের হতাম তবে হয়তো আমাদের মনস্তত্ত্ব পরিবর্তন হয়ে যেতো৷
 
আর্ডি ছিল এক জটিল বালিকা! কেউ একমত আবার কেউ একমত হতে পারনি যে, সে ও তার সঙ্গী শিম্পাঞ্জির পূর্বসূরী থেকে পৃথক হয়েছে। আবার অনেকে একমত নাও হতে পারেন যে আর্ডি সন্তান এর লালন পালনের জন্যই যুগল ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। কিন্তু আর্ডি ও তার অন্তরঙ্গ বন্ধু দীর্ঘ সময় জঙ্গলের ফ্লোরে কাটিয়েছিল। তারা ঘাসের আস্তরণ ভেদ করে পথ চলেছিল, হয়তো সিংহের খপ্পড়ে পড়েছিল অথবা পালিয়েছিল অনেক দূরে।
 
 
আমাদের পূর্বসূরিরা দীর্ঘকাল মাটিতে শুয়েই অজস্র সেকেন্ড অপচয় করেছিলো।
 
 
 
 

 

 অনুবাদ-

The Anatomy of Love , The noble Savage
 
 
 
একগামীতার প্রথম ফসিল ”আর্ডি”
একগামীতার প্রথম ফসিল ”আর্ডি”
একগামীতার প্রথম ফসিল ”আর্ডি”
একগামীতার প্রথম ফসিল ”আর্ডি”
একগামীতার প্রথম ফসিল ”আর্ডি”
একগামীতার প্রথম ফসিল ”আর্ডি”
একগামীতার প্রথম ফসিল ”আর্ডি”
একগামীতার প্রথম ফসিল ”আর্ডি”
একগামীতার প্রথম ফসিল ”আর্ডি”
একগামীতার প্রথম ফসিল ”আর্ডি”
একগামীতার প্রথম ফসিল ”আর্ডি” একগামীতার প্রথম ফসিল ”আর্ডি” একগামীতার প্রথম ফসিল ”আর্ডি”  একগামীতার প্রথম ফসিল ”আর্ডি” একগামীতার প্রথম ফসিল ”আর্ডি” 
একগামীতার প্রথম ফসিল ”আর্ডি”
hsbd bg