ইলেক্ট্রোড দিয়ে অবচেতন মন হ্যাকিং

আপনারা হয়তো শুনেছেন যে মানুষ তার মস্তিষ্কের মাত্র ১০ শতাংশ ব্যবহার করতে পারে। অনেকে গর্বের সাথে বলে থাকেন, স্বয়ং আইনস্টাইন বলেছেন তিনি তার মস্তিষ্কের ১০ শতাংশের বেশি ব্যবহার করতে পারেনি। এ কথাগুলো কিন্তু ব্যাপক জনপ্রিয়তাও অর্জন করেছে। মোরান সার্প, যিনি কেলোগ ইউনিভার্সিটির নিউরোসায়েন্সের একজন প্রফেসর তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণরুপে একটি মিথ। কেউই জানেনা এই মিথ সর্বপ্রথম কোথা থেকে শুরু হয়েছিল? কিন্তু ধারণা করা হচ্ছে এই মিথ শুরু হয়েছিল ১৯০০ সালে যখন মনোবিজ্ঞানী উইলিয়াম দাবি করেছিলেন যে, মানুষ শুধু তার মস্তিষ্ক ও শারীরিক ক্ষমতার ক্ষুদ্র একটি অংশই ব্যবহার করতে পারে। তিনি এ কথাগুলো লিখেছিলেন, তার “The Energies of Men” গ্রন্থে। আমাদের সাম্প্রতিক গবেষণা দেখিয়েছে আপনি আপনার ব্রেনের ১০ শতাংশ থেকেও বেশি এক্সেস করতে পারেন। আসলে যেকোনো মুহূর্তে আপনি আপনার মস্তিষ্কের যে কোনো অংশকেই ব্যবহার করতে পারেন কিন্তু এ মিথ জন্মের কারণ হলো আপনার কনসাসমাইন্ড কোনো একটি নির্দিষ্ট মুহুর্তে শুধুমাত্র ৪৬ বিট ইনফরমেশন সম্পর্কেই সচেতন থাকে আর প্রায় ১১ মিলিয়ন বিট ইনফরমেশন আপনার ব্রেন অবচেতন ভাবে প্রসেস করে।

সার্প বলেন, এটা অনেকটা আপনার পিয়ানোর চাবির মত, পিয়ানোর সবগুলো Key একসাথে বেজে উঠেনা। একটি নির্দিষ্ট পয়েন্টে শুধু একটি Key কাজ করে। প্রতিটি Key ব্যবহার করা যায় কিন্তু তার মানে এই নয় যে শুধুমাত্র পিয়ানোর ১০ শতাংশ মিউজিক প্লে করতে পারে।

একইভাবে আপনি যদি কাউকে বলেন, বিশ্বকে গাঢ় বাদামি রঙে দেখতে, সে ব্যর্থ হবে। যদিও কালার প্রসেসিং মস্তিষ্কের ভেতরই সংঘটিত হয়, তারা সেই পার্ট নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না যা কালার প্রসেস করে। অন্তত বর্তমানে। ফিজিক্যালি আপনার মস্তিষ্কের মধ্যে যে প্রসেস সংঘটিত হয় সেটির উপর এক্সেস নেয়া বর্তমানে সম্ভব নয়। এমনকি আপনি নিজের ইচ্ছায় আপনার মেমরি মুছে দিতে পারবেন না, কোনো তথ্য সরিয়ে দিতে পারবেন না এবং আপনার ইচ্ছা অনুযায়ী কোনো ইমোশন কন্ট্রোল করতেও পারবেন না। আপনি কখনোই বলতে পারবেন না যে আমি দিনের মধ্যে ১০ মিনিট দুঃখী আর সারাদিন সুখে থাকব।

সার্প হলেন কম্পিউটার হ্যাকিং এর একজন প্রাক্তন প্রফেসর, তিনি এ ব্যাপারে কৌতুহলি ছিলেন মানুষের ব্রেন হ্যাক করা যায় কি না! মানুষের মস্তিষ্ককে তার অবচেতন সিস্টেমের উপর এক্সেস দেয়ার মধ্য দিয়ে। তিনি বলেন, মস্তিষ্ক বর্তমানে One Way Road মেনে চলে। ইনফরমেশন শুধু একটি ডিরেকশনেই কাজ করে। নিউরোসায়েন্টিস্টরা এটাকে “Feed Forward”, নেটওয়ার্ক বলে থাকেন। এ প্রক্রিয়ায় তথ্য পেছনের দিকে চালিত করা প্রায় অসম্ভব। পূর্ববর্তী পয়েন্টগুলোতে ফিরে যাওয়ার পথ তৈরি করার মাধ্যমে স্নায়ুবিজ্ঞানীরা উভয় দিকেই তথ্য প্রবাহিত করতে পারে। অপেন সার্জারির পেশেন্টদের ব্রেনে সার্প ও তার দল ইলেক্ট্রোড স্থাপন করার মধ্য দিয়ে এরকম একটি পথ তৈরি করার চেষ্টা করেন যেনো আমরা আমাদের সাব-কনসাস মাইন্ডেও প্রবেশ করতে পারি। এ প্রক্রিয়ায় আপনি ১১ মিলিয়ন সাব-কনসাস তথ্যের জগতে প্রবেশাধিকার পেতে পারেন এবং ধীরে ধীরে সে তথ্যগুলো নিয়ন্ত্রণ করার কৌশলও নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসার চেষ্টা করতে পারেন। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, এটা কি আমাদের রিয়েলিটির ইন্টারপ্রিটেশান পরিবর্তন করে দেবে? আপনার মস্তিষ্কের মধ্যে মাল্টিপল প্রসেস সংঘটিত হবেঃ আপনি দেখবেন যে ফোটন আপনার রেটিনা হিট করেছে, আপনার ব্রেন কালার ও শেইপের ইনফরমেশন পুঞ্জিভূত করেছে এবং আপনি অবশেষে বুঝতে পারলেন যে আপনি যে ইমেজ দেখতে পেয়েছেন সে আপনার মা। যাইহোক, আপনি যদি আপনার মস্তিষ্কের সঠিক সেকশনে এক্সেস নিতে পারেন, আপনার চোখে একটা জিনিস দেখবেন আর মনের ভেতর দেখবেন ভিন্ন কিছু। আপনি আপনার সামনে দেখবেন আপনার মা কে কিন্তু আপনার মনের চোখে ফুটে উঠবে আপনার বাবা। কিন্ত সম্ভাবনা এখানেই শেষ নয়। কল্পনা করুন, কেউ আপনাকে ইনসাল্ট করেছে কিন্ত আপনার মন দেখেছে কীভাবে এটাকে কমপ্লিটলি ইগনোর করা যায়! এ গবেষণা থেকে বেরিয়ে এসেছে যে একজন ব্যক্তি তার মস্তিষ্ককে যতবেশি কন্ট্রোল করতে পারবে, তার জীবনের উপর অধিপত্য ততবেশি বেড়ে যাবে। আপনি এমনকিছু দেখবেন ও শুনবেন যা আপনি ন্যাচারালি দেখেননি বা শোনেননি। আর এ পদ্ধতিতে হয়তো ডিপ্রেসনের মৃত্যু হবে। সম্পর্ক, কর্ম, সন্তুষ্টি ও ক্রিয়েটিভিটি সকল ক্ষেত্রেই এটি প্রভাব বিস্তার করবে। আরও পড়ুনঃ টেলিপ্যাথিকেল রোবট

তথ্যসূত্রঃ

FORBES: Hacking Into The Human Brain Could Create Superhumans.

hsbd bg