ইম্মর্টালিটি এন্ড গ্যালাক্টিক মাইন্ড

ইম্মর্টালিটি এন্ড গ্যালাক্টিক মাইন্ড

আমরা যদি মস্তিষ্কের সকল নিউরাল সার্কিট ও মেমরিকে কম্পিউটার ডিস্কে রাখি এবং তারপর সুপার কম্পিউটারে আপলোড করি, তাহলে কি আপলোডেড ব্রেন ফাংশন রিয়েল ব্রেনের মত আচরণ করবে?

Last updated:
main sources
FUTURE OF THE HUMANITY
writer
MICHIO KAKU
ARTICLE WRITER
LEEHON
POSITION
Researcher at Blind watchmaker
PART
1

2001:A Space Odyssey মুভিতে বৃহস্পতি গ্রহ ভ্রমণের সময় মহাকাশচারীদের একটি দলকে হিমায়িত করে রাখা হয়েছিল ( ১৯৬৮)। তাদের শারীরিক ফাংশন হ্রাস করে শূন্যের কাছে নিয়ে আসা হয়। অতএব এ মাল্টিজেনারেশন স্টারশিপে আর কোনো সমস্যাই নেই। যেহেতু পেসেঞ্জার ফ্রোজেন। মিশন ডিজাইনারের আর কোনো চিন্তা নেই। কিন্তু আপনার কি মনে হয় এটা আসলে সম্ভব?

যারা উত্তর মেরু বাস করেন তারা জানেন শীতকালে মাছ ও ব্যাঙ বরফে জমে শক্ত হয়ে যায়। যখনই গ্রীষ্ম আসে বরফ গলতে শুরু করে এবং তারা পুনরায় জীবন্ত অবস্থায় বেরিয়ে আসে। রাশিয়ান বিজ্ঞানীরা ২০২১ সালে এমন একটি মাইক্রোস্কোপিক প্রাণি ( Bdelloid rotifers ) খুঁজে পান যেটি ২৪, ০০০ বছর পর হিমায়িত দশা থেকে জীবন ফিরে পায়

সাধারণত আমরা ভাবি এই ফ্রিজিং প্রসেস তাদের হত্যা করবে। কারণ টেম্পারেচার কমে গেলে, আইস ক্রিস্টাল গ্রো করবে, সেল প্রসারিত হবে, অবশেষে সেলের দেয়াল ছিড়ে ফেলবে এবং বাহিরের দেয়াল কুচকে বা ফেটে যাবে। কিন্তু প্রকৃতি এ বাঁধা দূর করার জন্য একটি বিশেষ সমাধান বের করেছে। আর এ সলিউশনটির নাম “এন্টিফ্রিজ”! শীতকালে, আমরা গাড়ীতেও এন্টিফ্রিজ ব্যবহার করি পানির ফ্রিজিং কমানোর জন্য।

এক্ষেত্রে ন্যাচারাল সিলেকশন ব্যবহার করে ” Glucose”, এ গ্লুকোজ দিয়েই আমাদের রক্তের শীতলতা কমানো হয়। তাই যদিও একটি প্রাণি বরফে হিমায়িত হয়ে যায় তাদের রক্ত তখনও তরলই থাকে, তাদের শরীরের বেসিক ফাংশন  সঠিকভাবেই কাজ করে।

ইম্মর্টালিটি এন্ড গ্যালাক্টিক মাইন্ড
২৪ হাজার বছর ক্রিপ্টোবায়োসিস স্টেটে থাকার পর জেগে উঠে যে প্রাণি, USA Today

মানুষের ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি সম্পূর্ণ খাটেনা। কারণ উচ্চ ঘণত্বের গ্লুকোজ মানব দেহে বিষক্রিয়া জন্ম দেয় আর এ বিষক্রিয়া থেকে মানুষের মৃত্যুও হতে পারে। এ জন্য বিজ্ঞানীরা মানুষের শরীরে অন্য কয়েক প্রকারের কেমিক্যাল এন্টিফ্রিজ ব্যবহার করে। এ প্রক্রিয়াকে বলা হয় ভিট্রাইফিকেশন( Vitrification)। এটি হলো কয়েক ধরণের কেমিক্যালের সমন্বয় যা আইস ক্রিস্টাল গঠন হওয়ার প্রক্রিয়াকে প্রতিহত করে। এর একটি সাইড ইফেক্ট আছে। কারণ ল্যাবে যে সকল কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় সেগুলো মাঝেমাঝে বিষক্রিয়ার কারণ হতে পারে আবার কখনো প্রাণঘাতী। মিচিও কাকু বলেন, আমরা এখনো এ ধরণের সাসপেন্ডেড এনিমেশন থেকে অনেক দূরে অবস্থান করছি।

ইম্মর্টালিটি এন্ড গ্যালাক্টিক মাইন্ড

আমরা যদি দূরবর্তী কোনো গ্রহে মানুষ পাঠাতে চাই তবে “Suspended Animation” একমাত্র উপায়। কারণ এ প্রক্রিয়ায় আমরা মহাকাশচারীদের ফ্রোজেন করে বহুদিন ফ্রিজে ( Suspended animation – or “emergency preservation resuscitation,” in medical parlance – involves rapidly cooling a patient’s body down to ten to 15 degrees Celsius (50 to 59 Fahrenheit) by replacing their blood with an ice-cold salt solution ) সংরক্ষণ করতে পারবো। তারা জানবেও না যে তাদের ব্রেন যখন এবসলিউট শূন্যতে ঘুমিয়ে ছিলো তখন কয়েক হাজার বছর অতিবাহিত হয়ে গেছে। এক একজন মহাকাশচারী উত্তরমেরুর ব্যাঙ, মাছ অথবা ২৪ হাজার বছর ক্রিপ্টোবায়োসিস স্টেটে থাকা রোটিফারের মতো মহাকাশযানে হাজার হাজার বছর ঘুমিয়ে থাকবে। তাদের দেখাশুনা করবে স্পেসশিপের সুপার কম্পিউটার এবং আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স। ৫০ হাজার বছর পর হয়তো কোন এক মহাকাশচারী ঘুম ভেঙে দেখবে সে সম্পূর্ণ অচেনা কোনো এক গ্রহে শুয়ে আছে, কেটে গেছে অজস্র শতাব্দী, আর এ সময়ের ভেতর তার ছেড়ে আসা গ্রহ হাজার হাজার বছর ভবিষ্যতে চলে গেছে! মধ্যখানে ৫০ হাজার বছর অতিবাহিত হয়ে গেলো অথচ তার মস্তিষ্ক এ পঞ্চাশ হাজার বছরের কোনো ইনফরমেশনই জানেনা, তার হাজার হাজার বছরের কোনো তথ্য নেই!

ইম্মর্টালিটি এন্ড গ্যালাক্টিক মাইন্ড

কিন্তু এ সাসপেন্ডেড এনিমেশনের একটি সমস্যা আছে। এমার্জেন্সি কোনো মুহূর্তে তাদেরকে জাগিয়ে তোলাটা খুবই দুঃস্বাধ্য। বিশেষ করে এস্টারয়েড ইম্প্যাক্টের সময়। এ সময় হয়তো মানুষের প্রয়োজন হবে। রোবট হয়তো প্রাথমিক কিছু ডেমেজ মোকাবিলা করতে পারবে কিন্তু গুরুতর বিপদ হলে মানব বুদ্ধির উপস্থিতি আবশ্যক। আর এ জন্য ইন্টারস্টেলার ভ্রমণে সাসপেন্ডেড এনিমেশন ব্যবহার করাটা এত বেশি সুবিধাজনক না। আমাদেরকে এ জন্য বিকল্প কোনো পথ অনুসন্ধান করতে হবে।

ʜʏᴘᴇʀꜱᴘᴀᴄᴇ : ꜱᴘᴀᴄᴇꜱʜɪᴘ ᴏꜰ ᴛʜᴇ ᴍɪɴᴅ, Group by HʏᴘᴇʀSᴘᴀᴄᴇ

ভিন্ন গ্রহে মানব ক্লোনঃ

ইম্মর্টালিটি এন্ড গ্যালাক্টিক মাইন্ড

আপনি হয়তো ভাবছেন আমরা ভিন্ন কোনো গ্যালাক্সিতে মানব ক্লোনও তবে পাঠাতে পারি। আমরা স্পেসে এমন একটি ভ্রুণ প্রেরণ করবো যার শরীরে আমাদের ডি.এন.এ থাকবে। আশা করা যায়, কোনো এক দূরবর্তী ভবিষ্যতে তারা অন্য কোনো গ্যালাক্সিতে জেগে উঠবে। অথবা আমরা আমাদের ডিএনএ কোড সেন্ড করতে পারি, যা ভিন্ন গ্রহে নতুন কোনো মানুষ তৈরি করতে সাহায্য করবে। এ পদ্ধতির ব্যবহার দেখা যায় Man of Steel সায়েন্স ফিকশন মুভিতে। এজন্য অবশ্যই স্টারশিপে পৃথিবীর মতো পরিবেশ তৈরি করতে হবে এবং পাশাপাশি লাইফ সাপোর্ট সিস্টেমও বজায় রাখতে হবে। সায়েন্স ফিকশন লেখকরা বহু যুগ পূর্বেই এসব কল্পনা করে রেখেছেন। তারা কল্পনা করেছিলেন, মানব সভ্যতা একদিন এ প্রক্রিয়ায় গ্যালাক্সির বিভিন্ন সেক্টরে নিজেকে বিস্তার করবে! প্রশ্ন হলো, আমরা মানব সভ্যতা কী ইউনিকলি এ গ্রহে বিবর্তিত হয়েছি? আমাদের জিনোমের ভেতর একই প্রক্রিয়ায় ভিন্ন কোনো গ্যালাক্সি থেকে কোনো এক্সট্রা টেরিস্টিয়াল এলিয়েন ১০ লাখ বছর পূর্বে নির্দিষ্ট কোনো জিন ট্রান্সপ্লান্ট করেনি তো? যে ১.৫ শতাংশ জিনের কারণে আমরা শিম্পাঞ্জি থেকে আলাদা, যে জিনগুলো আমাদের ব্রেন কানেকশন বদলে দিয়েছিলো, এ মহাবিশ্বের উপর আমাদের বুদ্ধির আধিপত্য দিয়েছিলো সেই ইউনিকলি আলাদা জিনগুলোর মিউটশনে কোনো উচ্চবুদ্ধিসম্পন্ন সভ্যতার হস্তক্ষেপ নেই তো? এ প্রশ্নগুলো আসলে বৈধ নয় কিন্তু মানব কল্পনাকে তো আর অবরুদ্ধ করে রাখা যায়না। আমরা যদিও কোনো হায়ার সিভিলাইজেশন দ্বারা প্রভাবিত নয় কিন্তু যদি আমরা টিকে থাকি একদিন আমাদের ডিএনএ ইন্টারগ্যালাক্টিক স্পেস ভ্রমণ করবে এতে কোনো সন্দেহ থাকার কথা নয়।

ইম্মর্টালিটি এন্ড গ্যালাক্টিক মাইন্ড
cryo-chamber

কিন্তু এখানেও সমস্যা আছে। অনেকে এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। এখনো পর্যন্ত আমরা সফলতার সাথে কোনো মানুষের ক্লোন করতে পারিনি। এমনকি এ পর্যন্ত কোনো প্রাইমেটেরই ক্লোন করা যায়নি। আমাদের প্রযুক্তি এখনো ক্লোন তৈরির জন্য উপযুক্ত নয়। হয়তো ভবিষ্যতে সম্ভব হবে। আর এটাও মনে রাখতে হবে যে, এ ক্লোনদের তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণ করার জন্য আমাদেরকে রোবটও ডিজাইন করতে হবে। আর এটাও যে, আমরা যে ক্লোনগুলো স্পেসশিপে পাঠাবো সেগুলো জেনেটিক্যালি আমাদের আইডেন্টিক্যাল হলেও, তাদের মধ্যে আমাদের মেমরি ও পারসোনালিটি কাজ করবেনা। তারা হবে ব্লাঙ্কস্লেট ৷

বর্তমানে একজন ব্যক্তির সম্পূর্ণ মেমরি ও পারসোনালিটি সেন্ড করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এটি আমাদের সক্ষমতার বাহিরে। আর এ জন্য আমাদের আরো কয়েকশত বছর অপেক্ষা করতে হবে কিন্তু ফ্রোজেন ও ক্লোন না করেও আমরা আরো কিছু পদ্ধতিতে আমাদের বয়স কমিয়ে দিতে পারি আর এ প্রক্রিয়ায় আমরা সম্পূর্ণ তরুণ অবস্থায় এক গ্রহ থেকে দূরবর্তী অন্য কোনো গ্রহে ভ্রমণ করতে পারি।

ইম্মর্টালিটি এন্ড গ্যালাক্টিক মাইন্ড
clone a dead gladiator

অমরত্বের সন্ধানেঃ

আনুমানিক ৫ হাজার বছর পূর্ব থেকে মানুষ অমরত্ব অনুসন্ধান করছে। গিলগামেস মহাকাব্যের জন্মেরও পূর্বে। নোহার মহাপ্লাবন, তার ভ্রমণ সবকিছুর একমাত্র উদ্দেশ্যই হলো অমরত্বের রহস্য[ The Secret of Immortality ] জানা। ঈশ্বর এডাম ও ইভকে গার্ডেন অব ইডেন থেকে বের করে দিয়েছিলেন কারণ তার ভয় ছিল তারা এ জ্ঞান অমরত্বের উদ্দেশ্য ব্যবহার করবেন।

British Museum Flood Tablet.jpg
The Deluge tablet of the Gilgamesh epic in Akkadian

মানুষ অমরত্ব আর শান্তির জন্য ঈশ্বরের আশ্রয় নিয়েছে আর আশ্রয় নিয়েছে ধর্মের। তাদের সকল কিছুর একমাত্র উদ্দেশ্যই ছিল অনন্ত জীবন, অসীম শান্তি ও নিরাপত্তা। আমাদের পূর্বসূরিরা সবসময় তাদের জীবনের সংক্ষিপ্ততা নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ছিল। হাম, পোলিও, বসন্ত অথবা টিউবারকলোসিসে তাদের যেকোনো সময় মৃত্যু হতো। এন্টিবায়োটিক ও ভ্যাক্সিন তাদের জীবনের দৈর্ঘ বৃদ্ধি করেছে। এ সময়কালে হাসপাতালগুলোর সুনাম বৃদ্ধি পেতে থাকে। হসপিটাল মানুষের রোগ নিরাময়ের এক বিশ্বাসযোগ্য আশ্রয়ে পরিণত হয়।

ইম্মর্টালিটি এন্ড গ্যালাক্টিক মাইন্ড
NOAH SEARCH THE SECRET OF IMMORTALITY

আমাদের আধুনিক বিজ্ঞান আমাদের বয়স কমানোর জন্য নতুন নতুন সিক্রেট উদ্ভাবন করছে। তারা বয়স কমিয়ে এমনকি ঘড়িকেই বন্ধ করে দেয়ার চেষ্টা করছে। তারা আমাদের জীবনের প্রত্যাশাকে অসীম করে তুলতে চাইছে। আমাদের এই অনাদি আকাঙ্খা এ গ্রহের সবচেয়ে ধনী কিছু মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। সিলিকন ভ্যালির একটি ইনফ্লাক্স আছে যেখানে তাদের উদ্যোক্তারা বয়সের প্রক্রিয়াকে পরাজিত করার জন্য মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার ইনভেস্ট করছে। তারা বিশ্বকে ওয়্যার করতে চাইছেনা, তারা এ বিশ্বে চিরকাল জীবিত থাকতে চায়। গুগলের কো-ফাউন্ডার সার্জেই ব্রিন বলছেন, আমরা মৃত্যু থেকে বাঁচানো ছাড়া আর কিছুই করতে পারছিনা। ল্যারি এলিসন, অরাকলের কো-ফাউন্ডার বলেন, মৃত্যুকে গ্রহণ করাটা আমার কাছে বোধগম্য নয়। পিটার থায়েল যিনি Paypal এর কো-ফাউন্ডার তিনি ১২০ বছর বেঁচে থাকতে চান। রাশিয়ান ইন্টারনেটের সেনাপতি দিমিত্রি ঈটস্কভ বেঁচে থাকতে চান ১০,০০০ বছর। আমরা আমাদের আধুনিক প্রযুক্তি এবং আমাদের আধুনিক বিজ্ঞানের সম্পূর্ণ ক্ষমতা ব্যবহার করে আমাদের বয়স বৃদ্ধির প্রসেস ও আমাদের জীবনের দৈর্ঘ সম্প্রসারণের উপায় বের করতে পারবো বলে মিচিও কাকু মনে করেন।

অতীতে বিজ্ঞানীরা অনেক ভুল করেছিল। তারা ঠিক ভাবে আমাদের বয়স বৃদ্ধির প্রক্রিয়াটি বুঝতে পারেনি। অনেক ভুলের পর অবশেষে তারা বিশ্বাসযোগ্য এবং পরীক্ষার দ্বারা যাচাই উপযুক্ত কিছু থিয়োরি উন্নত করতে সক্ষম হয়। যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ক্যালোরিক রেস্ট্রিকশন, টলেমার্স (Telomerase) এবং বয়সের সাথে সম্পৃক্ত জিন (Age gene)।

ইম্মর্টালিটি এন্ড গ্যালাক্টিক মাইন্ড

এ তিনটি পদ্ধতির মধ্যে শুধু একটি পদ্ধতির মাধ্যমেই প্রাণীদের জীবনের দৈর্ঘ বৃদ্ধি করা যায় বলে প্রমাণিত। এটাকে বলা হয় “Caloric Restriction”! গুরুতর ভাবে প্রাণীদের খাদ্যে ক্যালোরির পরিমাণ সীমিত করে তোলা। গড়ে যে সকল প্রাণী ৩০ শতাংশ কম ক্যালোরি নেয় তারা ৩০ শতাংশ বেশি বাঁচে। এ বিষয়টির যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায় কোষ, পতঙ্গ, ইঁদুর, মাইস, কুকুর, বেড়াল ও অন্যান্য প্রাইমেটদের ক্ষেত্রে। সত্যি বলতে এটাই বিজ্ঞানীদের মধ্যে সার্বজনীনভাবে গ্রহণযোগ্য একটি পদ্ধতি। কাকু বলেন, শুধুমাত্র মানুষের উপর এ পদ্ধতি এখনো প্রয়োগ করা হয়নি যেটি এ গ্রহে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রাণী।

ইম্মর্টালিটি এন্ড গ্যালাক্টিক মাইন্ড
Owen (left panels) and Eeyore (right panels) are both 27 years old, but Eeyore, who has been fed a calorie-restricted diet for the past 20 years, looks more youthful in terms of facial features, coat, and posture.

এ থিয়োরি অনুসারে, প্রকৃতিতে বিভিন্ন প্রাণী এমনিতেই ক্ষুদার্ত অবস্থায় জীবন কাটায়। প্রাণীরা প্রজননের জন্য খুব অল্প পরিমাণ সম্পদই পায় যেখানে সময় অবারিত।

কিন্তু যখন সময় অনেক কঠিন হয়ে উঠে তখন তারা এমন একটি স্টেটে প্রবেশ করে যেটিকে বলা হয় ” HIBERNATION”। এ পদ্ধতিতে তারা তাদের সম্পদ সংরক্ষণ করে এবং দুর্ভিক্ষ অতিবাহিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত অপেক্ষা করে। প্রাণীদেরকে যখন কম খাবার প্রদান করা হবে তখন তাদের শরীরে দ্বিতীয় “বায়োলজিক্যাল রেসপন্স” ট্রিগার হবে যা তাদেরকে দীর্ঘ সময় জীবিত রাখবে। কিন্তু এই ক্যালোরিক রেসট্রিকশনের একটি পাশ্বপ্রতিক্রিয়া আছে। প্রাণীরা অলস ও নিষ্ক্রিয় হয়ে যায় এবং সেক্সের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। আর মানুষ যদি খাবারে ৩০ শতাংশ ক্যালোরি ব্যবহার করে তবে সেক্ষেত্রে সে কড়িকাঠে পরিণত হবে। তবে আশার কথা হলো, ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিগুলো এ ক্যালোরিক রেস্ট্রিকশন থেকে উদ্ভব সমস্যা মোকাবিলা করার জন্য উপযুক্ত কেমিক্যাল খুঁজে বের করতে পারে। আর সাম্প্রতিক বিজ্ঞানীরা রিসভারেট্রল( Resveratrol) নামক এমন একটি কেমিক্যাল আলাদাও করেছে। রিসভারেট্রল পাওয়া যায় রেড ওয়াইনের মধ্যে যা সিরটুইন (Sirtuin) মলিকিউল একটিভেট করে যেটি Oxidation Process স্লো-ডাউন করে দেয় যেটি বয়স বৃদ্ধির সাথে জড়িত একটি প্রিন্সিপাল কম্পোন্যান্ট। আর এভাবে এটি সম্ভবত বয়সের সাথে সম্পর্কযুক্ত মলিকিউলার ডেমেজকে প্রোটেক্ট করতে সক্ষম হবে।

বয়স বাড়ার আর একটি কারণ টলেমার্স যেটি আমাদের বায়োলজিক্যাল ক্লক নিয়ন্ত্রণ করে। সবসময় সেল বিভক্ত হয়, ক্রোমোজোমের আগা যেটাকে টলেমার্স বলে সেটি আগের চেয়ে ছোট হয়ে যায়। সব শেষে ৫০-৬০ বার বিভাজনের পর টলেমার্স এতটাই ক্ষুদ্র হয়ে যায় যে সেটি অদৃশ্যই হয়ে যায়, ক্রোমোজম দূরে সরে যেতে থাকে। এ সময় একটি দশায় প্রবেশ করে যে দশাটিকে বলা হয় সিনেসেস( Senescence) যখন সেলটি আর সঠিকভাবে তার কাজ করে যেতে পারেনা।

এভাবে এখানে একটি লিমিট এসে উপস্থিত হয় একটি সেল ঠিক কতবার বিভক্ত হতে পারবে, যাকে বলে “Hayflick Limit”! একবার ডঃ লিওনার্ড হ্যায়ফ্লিকের সাথে মিচিও কাকুর একটি সাক্ষাৎকারে তিনি তাকে প্রশ্ন করেন, হ্যায়ফ্লিক লিমিট মানুষের মৃত্যুকে খুন করতে পারবে কিনা। তিনি চূড়ান্তভাবে এ ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করেন। তিনি বুঝতে পেরেছেন যে এ বায়োলজিক্যাল লিমিট বয়স বৃদ্ধির সাথে সম্পৃক্ত কিন্ত এর প্রভাব নিয়ে এখনো গবেষণা চলছে। আর তাছাড়া বয়স হলো একটি জটিল জৈবরাসায়নিক প্রক্রিয়া যা বিভিন্ন পথের সাথে সম্পর্ক রাখে। আমরা এখনো মানুষের এ লিমিট অল্টার করতে পারার ক্ষমতা থেকে বহু দূরে। নোবেলজয়ী এলিজাবেথ ব্লাকবার্ন বলেন, প্রতিটি চিহ্ন, জেনেটিক্স সহকারে, এখানে থাকে কিছু কার্যকারণ সম্পর্ক (টলেমার্সের মধ্যে) আর যে নোংরা বিষয়টি ঘটে সেটি হলো আমাদের বয়স। তিনি বলেন, টলেমার্স ক্ষুদ্র হওয়ার মানে হলো আপনার মৃত্যু__হৃদরোগ, ডায়বেটিক্স, ক্যান্সার এবং আলঝেইমার আপনাকে আক্রমণ করবে।

সাম্প্রতিক, বিজ্ঞানীরা টলেমার্সের উপর একটি এক্সপেরিমেন্ট পরিচালনা করেন। ব্লাকবার্ন ও তার সহকারীরা যে এনজাইমটি আবিষ্কার করেছিলেন যেটি টলেমার্সকে ক্ষুদ্র হওয়া থেকে রক্ষা করে। অন্য কথায় এ এনজাইম ঘড়ির কাটা অফ করে দিতে পারে। যখন টলেমার্স স্কিন সেল অসীমভাগে ভাগ হতে থাকবে এবং এটি হ্যায়ফ্লিক লিমিট অতিক্রম করবে। এ ধরনের স্কিন সেল ল্যাবে শতাধিকবার বিভক্ত হতে পারে ৫০-৬০ বার নয়। তবে টলেমার্সকে রেগুলেট করার ক্ষেত্রে সাবধানতা আবশ্যক কারণ ক্যান্সার কোষও অমর আর তারা ইমোর্টালিটি এটেইন করার জন্য টলেমার্সকেই ব্যবহার করে। নরমাল সেল আর ক্যান্সার সেলের মধ্যে তারতম্য এখানেই যে তারা অসীমকাল জীবিত থাকে এবং কোনোপ্রকার লিমিট ছাড়াই রি-প্রডিউস করতে পারে। এমনকি তারা টিউমার তৈরি করতে পারে যা আপনার হত্যার কারণ। আর এ জন্য বলা যায় যে ক্যান্সার হলো টলেমার্সের একটি আনওয়ান্টেড বাইপ্রোডাক্ট!

জেনেটিক্স অব এজিং

বয়সকে মোকাবিলা করার আর একটি উপায় হলো জিন ম্যানিপুলেশন। এ সত্য যে বয়স আমাদের জিন দ্বারা প্রভাবিত যেটি এখন সুস্পষ্ট। বাটারফ্লাই কোকন থেকে বের হওয়ার পর কয়েকদিন বা সপ্তাহের বেশি টিকে থাকেনা। ল্যাবে মাইস নিয়ে গবেষণা করে দেখা গেছে তারা দু-বছর বেঁচে থাকে। মানুষের চেয়ে কুকুরের বয়স দ্রুত গতিতে বাড়ে এবং দশ বছর পর মারা যায়।

আমরা যদি প্রাণীদের রাজত্বের দিকে চোখ রাখি তবে আমরা দেখতে পাই যে, তাদের লাইফস্প্যান পরিমাপ করা কঠিন। ২০১৬ সালে জার্নাল সায়েন্সে, রিসার্চাররা বলেন, গ্রীনল্যান্ডের শার্ক গড়ে ২৭২ বছর বেঁচে থাকে। তারা শার্কের বয়স পরিমাপ করেছেন তাদের চোখের টিস্যুর লেয়ার গণনা করে, যা সময়ের সাথে বৃদ্ধি পায়, স্তর থেকে স্তরে, পেঁয়াজের মতো। তারা এমনকি এমন একটি শার্ক পেয়েছিলেন যার বয়স ৩৯২ বছর এবং আরো একটি যার বয়স ৫১২ বছর। অতএব ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির ভিন্ন ভিন্ন প্রত্যাশিত জীবন। মানুষের ক্ষেত্রেও গবেষণা সঙ্গতি প্রকাশ করেছে, যমজ ও আত্মীয়দের প্রত্যাশিত জীবন প্রায় কাছাকাছি। যদি বয়স অন্তত আংশিকভাবে জিন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, মূল ব্যাপার হলো সেই জিনগুলোকে আলাদা করা যেগুলি এটাকে নিয়ন্ত্রণ করে। এক্ষেত্রে কয়েকটি পদক্ষেপ আছে।

এজন্য আমরা প্রথমে তরুণ ও বৃদ্ধদের জিন সংগ্রহ করতে পারি এবং তাদের জিনগুলোকে তুলনা করে বের করতে পারি বয়স বাড়ার সাথে সাথে কোথায় জেনেটিক্যাল ডেমেজ বেশি হয়। যেমন- একটি গাড়ির বয়স বাড়ে ইঞ্জিনে যেখানে অক্সিডেশন ও ব্যবহারের ফলে ক্ষয় সবচেয়ে বড় সমস্যা। সেলের প্রধান ইঞ্জিন হলো,মাইটোকন্ড্রিয়া।

এটি হলো সেই জায়গা যেখানে শক্তি বের করার জন্য সুগার অক্সিডাইজড( Oxidised) হয়। ডিএনএর একটি সতর্ক এনালাইসিস নির্দেশনা প্রদান করছে যে, ভুলগুলো মূলত এখানেই জমা হয়। আশার কথা হলো যে একদিন বিজ্ঞানীরা, সেলের নিজস্ব রিপেয়ার মেকানিজম উন্নত করবে যাতে করে এ ভুলগুলো তৈরি হওয়ার প্রক্রিয়াটি উল্টে (Reverse) দেয়া যায় আর এ পদ্ধতিতে সেলের প্রয়োজনীয় জীবন বৃদ্ধি পাবে।

বোস্টন ইউনিভার্সিটির থমাস পার্ল, শতবর্ষীদের জীবন এনালায়েজড করে দেখেছেন, কিছু মানুষ জেনেটিক্যালি দীর্ঘদিন বেঁচে থাকার জন্য প্রোগ্রামড, তিনি তাদের জিনের মধ্যে ২৮১ টি জেনেটিক্যাল মার্কার সনাক্ত করেছেন যা বয়স বৃদ্ধির প্রক্রিয়াটিকে স্লো ডাউন করে দেয় এবং এই সকল শতবর্ষী মানুষদের মারাত্মক মরণব্যাধি থেকে রক্ষা করে।

বয়স বৃদ্ধির ম্যাকানিজম ধীরে ধীরে প্রকাশিত হচ্ছে। অজস্র বিজ্ঞানী আশাবাদী যে এটি কোন একসময় নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। তাদের গবেষণা দেখিয়েছিল যে, বয়স আর কিছুই নয় আমাদের সেল ও ডিএনএ’তে ভুলের সংগ্রহ ব্যতীত এবং সম্ভবত কোনো একদিন আমরা এ ভুলকে এরেস্ট ও এ ক্ষতিকে রিভার্স করতে পারবো। হার্ভাডের প্রফেসররা এতটাই আশাবাদী যে তারা এডভান্স এজিং রিসার্স ক্যাপিটালাইজ করার জন্য কোম্পানি খুলে বসে আছে। কিন্তু আমাদের জিন আমরা কতদিন টিকে থাকবো সেটি নির্ধারণ করে দেয় তা অনস্বীকার্য। সমস্যা হলো এটি সনাক্ত করা যে কোন কোন জিনগুলো এ প্রসেসের সাথে জড়িত, আমাদের এনভায়রনমেন্টাল এফেক্টকে আলাদা করে এবং এ জিনকে অল্টার করে।

বিতর্কিত বয়স সংক্রান্ত থিয়োরিঃ

অনেক প্রাচীণ একটি মিথ প্রচলিত আছে তরুণের রক্ত খেলে শাশ্বত যৌবন অর্জন করা যায় ঠিক যেনো তারুণ্য একজনের শরীর থেকে অন্যজনের শরীরে স্থানান্তর হয়ে যায় যেমনটি ভ্যাম্পায়ার লিজেন্ডদের মধ্যে হয়ে থাকে। সুকুবুস ছিল একটি মাইথিক্যাল ক্রিয়েসার যে ছিলো শাশ্বত তারুণ্যের অধিকারী কারণ যখন সে আপনাকে কিস করবে, সে আপনার দেহ থেকে তারুণ্যকে চুষে নেবে। আধুনিক বিজ্ঞান আমাদের বলছে এ ধারণাটির মধ্যে সম্ভবত সত্যের একটি নির্যাস আছে। ১৯৫৬ সালে কর্নেল ইউনিভার্সিটির Clive M. McCay দুটি ইঁদুরের ব্লাড বেসেল একসাথে সেলাই করে দেন। যাদের একজন তরুণ আর অন্যজন বৃদ্ধ। তিনি এটি আবিষ্কার করে বিস্মিত হয়ে উঠেন যে, বৃদ্ধ ইঁদুরটি দেখতে ক্রমশ তরুণ হয়ে যাচ্ছে যেখানে বিপরীত ঘটনা ঘটছে তরুণের ক্ষেত্রে।

২০১৪ সালে, হার্ভাড ইউনিভার্সিটির এমি ওয়েগার এ এক্সপেরিমেন্ট রি-এক্সামিন করেন।! বিস্ময়ের সাথে তিনি দেখেন, ইঁদুরদের মধ্যে পুনরায় তারুণ্য দেখা দিচ্ছে। তারপর তিনি একটি প্রোটিন আলাদা করেন যার নাম GDF11 যা এ প্রসেসের পেছনে কাজ করছে। এ ফলাফল এতটাই লক্ষণীয় যে সায়েন্স ম্যাগাজিন এটাকে সে বছরের সেরা দশটি আবিষ্কারের মধ্যে একটি বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। আরো একটি বিতর্ক আছে মানুষের গ্রোথ হর্মোন (HGH) নিয়ে, যেটি ব্যাপক ফ্যান্টাসি তৈরি করেছে বিজ্ঞানীদের মাঝে কিন্তু বিশ্বাসযোগ্য গবেষণা বলছে যে এটি বয়স নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী। ২০১৭ সালে প্রায় ৮০০ সাবজেক্টের উপর একটি বড় মাপের স্টাডি করে ইসরায়েলের ইউনিভার্সিটি অব হাইফা একটি বিপরীত প্রভাব খুঁজে পান। HGH সম্ভবত মানুষের প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল কমিয়ে দেয়। এবার আর একটি গবেষণায় দেখা যায় যে জেনেটিক মিউটেশন HGH হ্রাস করতে পারে সেটি সম্ভবত প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল বাড়িয়ে দেয়। অতএব HGH এর প্রভাব পুনরায় ফিরে আসে। এ সকল গবেষণা বলছে যে সকল ফলাফল টেস্টেবল, রিপ্রোডিউসেবল এবং ফলসিফিয়েবল যা সত্যিকার বিজ্ঞানের হলমার্ক।

বায়োগেরেন্টোলজি হলো নতুন এক ধরণের বিজ্ঞান যেটি এজিং প্রসেসের সিক্রেট উন্মোচনে ব্যস্ত। সাম্প্রতিক এ ক্ষেত্রটিতে একটা বড়সড় বিস্ফোরণ ঘটে গেছে। তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ জিন, প্রোটিন, প্রসেস এবং কেমিক্যাল বিশ্লেষণ করার ক্ষেত্রে যার মধ্যে আছে FOXO3, DNA মিথাইলেশন, mTOR, ইনসুলিন গ্রোথ ফ্যাক্টর, Ras2, Acabose, Metaformin, alpa-estradiol ইত্যাদি। এগুলোর প্রতিটিই বিজ্ঞানীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতুহল সৃষ্টি করেছে। কিন্তু ফলাফল এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়ে গেছে। সময় আমাদের বলে দেবে কোন এভিনিউ সেরা কিছু দিতে যাচ্ছে। একসময় যে অমরত্ব ঈশ্বর, নবি, স্প্রিচুয়ালিস্ট ও যাদুকরদের কাছে ছিল আজ সেই অমরত্ব প্রবেশ করেছে বিজ্ঞানীদের ল্যাবে। যদিও বয়স প্রতিরোধ করার কার্যকরী কোনো উপায় আজও আমরা পাইনি কিন্তু বিজ্ঞানীরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

আমাদের স্পেস গবেষণা আজ অবিশ্বাস্য কিন্তু আমরা এখনো বয়সের রহস্য সমাধান করতে পারিনি। অবশেষে, কয়েকটি এভিনিউ কম্বিনিশন করে আমরা হয়তো বয়স স্লো ডাউন এবং এমনকি স্টপ করে দেয়ার একটি উপায় বের করতে পারি।আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম এটা করতে সক্ষম হবে। Gerald Sussman একবার বলেন, আমি মনে করিনা যে এখনো সময় এসেছে কিন্তু এটি খুবই কাছাকাছি। ” আমি ভীতসন্ত্রস্ত যে, আমিই হলাম শেষ জেনারেশন যারা মরে যাবে।”

যদি এজিং প্রবলেম সমাধান হয়ে যায় তবে কি ঘটবে? যখন এ সমস্যাটি সমাধান হয়ে যাবে তখন দূরবর্তী নক্ষত্রগুলোকে আর কঠিন মনে হবেনা। অমর মানুষ ইন্টারস্টেলার ট্রাভেলকে সম্পূর্ণ ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখবে। তারা সম্ভবত স্টারশিপ তৈরির বিশাল সময়কে অত্যন্ত ক্ষুদ্র একটি প্রতিবন্ধকতা মনে করবে। আমরা ছুটির সময় যেমন দীর্ঘ অবসর কাটাই। ইম্মর্টাল সত্তা নক্ষত্র ভ্রমণের জন্য শতাব্দীকাল সময়কে বিরক্তির চেয়ে বেশিকিছু মনে করবেনা।

আমাদের এটাও মনে রাখতে হবে যে অমরত্ব আমাদের মাঝে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যা সৃষ্টি করবে যা এ বিশ্বে বিশাল জনসংখ্যার জন্য দায়ী। অমরত্ব গ্রহকে একটা সময় জনসংখ্যার কার্পেটে পরিণত করবে। সম্পদ, খাদ্য ও শক্তির উপর চাপ তৈরি করবে তথা আবার বিশ্বযুদ্ধ সৃষ্টি হবে। মানুষে মানুষে, জাতিতে জাতিতে খাদ্যের জন্য দাঙ্গাহাঙ্গমা তৈরি হবে। আর যদি বিবর্তনীয় দৃষ্টিকোণ থেকে চিন্তা করি তবে অমরত্ব এ গ্রহে এতটাই চাপ সৃষ্টি করবে যে অতিরিক্ত জনসংখ্যার জন্য পর্যাপ্ত খাবারই পাওয়া যাবেনা। এতে করে ফ্লোরেস দ্বীপের 991 cubic centimeters মানুষদের মতো যে সকল মানুষ কম খেয়ে টিকে থাকবে তাদের জিনই পরবর্তী প্রজন্মে হস্তান্তরিত হবে। আর এ প্রক্রিয়ায় আমাদের গ্রহের এক সময় মানুষের অস্তিত্ব থাকবেনা, সমস্ত গ্রহে বিক্ষিপ্ত ও বিশৃঙ্খলভাবে ঘুরে বেড়াবে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র হবিট। (আমার ব্যক্তিগত হাইপোথিসিস)

ইম্মর্টালিটি এন্ড গ্যালাক্টিক মাইন্ড
ফ্লোরস হবিট

যারা আকারে ফ্লোরেনসিয়েসিস থেকে বড় হবেনা। এ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মানুষগুলো হয়তো তখন হিংস্র কোনো জন্তু জানোয়ারের খাবারে পরিণত হবে, তাদের জ্ঞান ও বুদ্ধিমত্তা লোপ পাবে এবং অন্তিমে বিলুপ্ত হয়ে যাবে! আর এ সমস্যা থেকে নিষ্কৃতির একমাত্র উপায় ইন্টারস্টেলার ট্রাভেল। ন্যাচারাল সিলেকশন নিজেই ইন্টারস্টেলার ট্রাভেলে মানব সভ্যতার ব্রেনকে বাধ্য করবে! কারণ মানুষের হাতে তখন ৪ টি অপশনই উম্মোক্তঃ

  • খাদ্য ও বাসস্থানের জন্য বিশ্বযুদ্ধের অবতারণা ও গণহারে মৃত্যু।
  • বাস্তুসংস্থানের ধারণ ক্ষমতার অতিক্রম করা।
  • হোমো ফ্লোরেনসিয়েসিস বা হবিটে পরিণত হওয়া।
  • ইন্টারস্টেলার ট্রাভেল।

কিন্তু প্রশ্ন আসে, এ জনসংখ্যার বিস্ফোরণকে আমাদের ঠিক কতটা গুরুত্বের সাথে দেখা উচিত? ১৯০০ সালের পূর্বে পৃথিবীর জনসংখ্যা ছিলো ৩০০ মিলিযন। ১৯০০ সালে সেটি এসে উপনীত হয়েছে ১.৪ বিলিয়নে। বর্তমান জনসংখ্যা ৭.৫ বিলিয়ন। জাতিসংঘের ধারণা করছেন ২১০০ সালের মধ্যে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ১১.২ বিলিয়নে পরিণত হবে। আর এভাবে আমরা পৃথিবীর ম্যাক্সিমাম ধারণ ক্ষমতা অতিক্রম করবো। যার ফলে ফুড রাইয়ট ও বিশৃঙ্খলা জন্ম হবে। কিন্ত গভীর পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে যে জনসংখ্যার বৃদ্ধি ধীরে ধীরে স্লো ডাউন হবে। জাতিসংঘ তার প্রেডিকশন বার বার কমিয়েছে। আসলে একুশ শতকের মধ্যে জনসংখ্যা একটি লেভেলে চলে আসবে এবং স্থির হয়ে যাবে।

মিচিও কাকু বলেন, একসময় কৃষকরা অধিক সন্তান গ্রহণ করতো কারণ তারা মনে করতো অধিক সন্তান মাঠে কাজ করলে তাদের সম্পদ বৃদ্ধি পাবে আর এতে করে তাদের খরচও কম হবে। কৃষকরা অতিরিক্ত জনসংখ্যাকে সম্পদ মনে করতো। কিন্তু আপনি যখন শহরে যাবেন আপনার সন্তান আপনাকে ফকির করে দেবে। কারণ তারা তখন স্কুলে যাবে, মাঠে কাজ করবে না। তাদেরকে গ্রোসারি শপ থেকে খাওয়াতে হবে যা খুবই এক্সপেন্সিভ। তারা এপার্টম্যান্ট চাইবে যা অনেক ব্যয়বহুল। অতএব একজন কৃষক যখন শহরে প্রবেশ করবে সে দশটি সন্তানের পরিবর্তে, দুটি সন্তানই গ্রহণ করবে।

আশ্চর্যজনকভাবে মিচিও কাকু তার The Future of The Humanity গ্রন্থে বাংলাদেশের কথাও বলেন। তিনি বলেন, ” এমনকি বাংলাদেশের মতো দেশে যেখানে বেশিরভাগ মধ্যবিত্ত শহুরে নয়, তাদের মধ্যেও জন্মহার হ্রাস পেয়েছে। এর কারণ হলো নারীশিক্ষা”।

কাকু বলেন,চায়না ও ইন্ডিয়ার মিলিয়ন মিলিয়ন মানুষ যারা মধ্যবিত্ত শ্রেণীর তারা ওয়েস্টার্ন মুভি দেখে এবং সেই জীবনযাত্রা অনুসরণ করতে চায়, তারা সম্পদ অপচয়, অতিরিক্ত ভোগ, বিশাল বাড়ি, বিলাসবহুল পন্য ইত্যাদির প্রতি আজ আসক্ত। তাদের কাছে আজ যথেষ্ট সম্পদ নেই আমাদের জনসংখ্যাকে খাওয়ানোর জন্য। আর নিশ্চিতভাবে যারা ওয়েস্টার্ন ডায়েট ফলো করে তাদেরকে খাওয়ানো একদম অসম্ভব।  সবকিছু বিবেচনা করলে আমরা দেখতে পাই যে বয়স বৃদ্ধির হার স্লো ডাউন হলে এটি আমাদের উপর যথেষ্ট প্রভাব সৃষ্টি করবে। তারা এমন এক সত্তা তৈরি করবে যারা বিশাল দূরত্বকে কিছুই মনে করেনা, বহু শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ তারা গ্রহণ করবে। তারা স্টারশিপ তৈরি করবে আর উড়ে যাবে মহাকাশে।

ডিজিটাল ইম্মর্টালিটি

মিচিও কাকু তার “The Future of the Humany” গ্রন্থে ডিজিটাল ইমোর্টালি সম্পর্কেও কথা বলেছেন। যা কিছু দার্শনিক প্রশ্নের জন্ম দেয়। আসলে আমাদের দেহ খুবই ভঙ্গুর, এর আয়ু অনেক কম। আমরা অমর হলেও কিন্তু অব্যয় ও অক্ষয় নয়। ইন্টারস্টেলার ট্রাভেলের সময় আমাদের অমর শরীরকে অনেক দুর্যোগ পোহাতে হবে। তারচেয়ে বরং ভালো হয় যদি আমরা ইন্টারস্টেলার ট্রাভেলে আমাদের চেতনাকে সেন্ড করতে পারি।

আমাদের অনেক পূর্বসূরি তাদের অস্তিত্বের কোনো প্রমাণ না রেখেই মরে গেছেন। তাদের অস্তিত্বের একমাত্র সাক্ষী আমরা। যদিও আমার তিন প্রজন্ম পূর্বের সংবাদও আমি জানিনা। মিচিও কাকু বলেন, আজ আমরা অনেক ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট রেখে যাচ্ছি। আমাদের ক্রেডিট কার্ড ট্রান্সজেকশন, আমরা যে সকল রাষ্ট্রে ভ্রমণ করছি তার ইনফরমেশন, আমরা যে খাবার পছন্দ করি, যে জামা পরিধান করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি, আমাদের ডায়রি, ইমেইল, ভিডিয়ো, ফটো ইত্যাদি। সকল ইনফরমেশন একত্রিত করে আমাদের একটি হলোগ্রাফিক ইমেজ তৈরি করা সম্ভব যে দেখতে অবিকল আপনার মতোই হবে, ম্যানারিজম ও মেমরির দিক থেকে!

একদিন আমাদের সোল লাইব্রেরি থাকবে। আমরা জাকারবার্গ সম্পর্কে বই পড়ার পরিবর্তে তার সাথে কথা বলতে পারবো। আমরা তার হলোগ্রাফিক প্রোজেকশনের সাথে কথা বলবো। তার ঈশারা, বডি মুভমেন্ট এবং ভয়েস ইনফেকশন একইরকম থাকবে। ডিজিটাল রেকর্ডের ভেতর তার বায়োগ্রাফিক্যাল এক্সেস থাকবে, তার পলিটিক্যাল, রিলিজিয়াস এবং পারসোনাল ম্যাটারের উপর। যাইহোক, এ অভিজ্ঞতা হবে সরাসরি তার সাথে কথা বলার মতো। কাকু বলেন, ব্যক্তিগতভাবে আমি আইনস্টাইনের সাথে থিয়োরি অব রিলেটিভিটি নিয়ে কথা বলতে স্বাচ্ছন্দবোধ করবো। একদিন আপনার গ্রেট গ্রেট গ্রেট গ্রেট চিল্ড্রেন আপনার সাথে কথা বলবে। এটি হলো ডিজিটাল ইম্মর্টালিটির একটি রুপ।

কিন্ত এটি কি আসলেই আপনি? এটি হলো আপনার বায়োগ্রাফিক্যাল ডিটেইলস ও আচরণের একটি মেশিন অথবা সিমুলেশন। কেউ কেউ বলেন আত্মাকে কখনো ইনফরমেশনে রিডিউস করা সম্ভব না। কিন্তু কি হবে যদি আমরা কখনো আপনার ব্রেনকে রিপ্রডিউস করতে পারি? ডিজিটাল ইম্মর্টালিটির পরবর্তী ধাপ হলো হিউম্যান কানেক্টোম প্রজেক্ট। এটি একটি বিলাস বহুল প্রজেক্ট যা হিউম্যান মাইন্ডকে কম্পিউটারের ভেতর ডিজিটালাইজড করবে। মিচিও কাকু মানব মনকে ডিজিটালাইজ করার দুটি উপায় বলেছেনঃ

আরও দেখুন- ন্যানোবোট, মৃত্যুর কারণ,অসীম তারুণ্য, বায়োলজিক্যাল ইমোর্টালিটি এবং মেন্টাল সুইসাইড।

আসলে আলাদা আলাদা দুটি উপায়ে মানব মনকে ডিজিটালাইজ করা যায়। প্রথমটি হলো হিউম্যান ব্রেন প্রজেক্ট। যেখানে সুইসরা চেষ্টা করছে এমন একটি কম্পিউটার প্রোগ্রাম তৈরি করতে যেটি মানব মনের বেসিক ফিচারগুলো সিমুলেট করবে। এ পর্যন্ত তারা ইঁদুর ও রেবিটের থট প্রসেস কয়েক মিনিটের জন্য সিমুলেট করতে পেরেছে। এ প্রজেক্টের লক্ষ্য হলো এমন এক কম্পিউটার তৈরি করা যা সাধারণ মানুষের মতো যৌক্তিকভাবে কথা বলতে পারে। এটি একটি ইলেক্ট্রনিক প্রক্রিয়া যেটি কম্পিউটারের মধ্যে বিশাল ট্রান্সজিস্টরের সারির মাধ্যমে হিউম্যান ইন্টিলিজেন্স ডুপ্লিকেট করবে। কিন্তু সমান্তরাল একটি প্রচেষ্টা চলছে আমেরিকাতে যেটি অবশ্য বায়োলজিক্যাল যেখানে মানুষের মস্তিষ্কের নিউরাল পথগুলো ম্যাপ করার চেষ্টা চলছে। এ পদক্ষেপকে বলা হয় “Brain initiative”! এর কাজ হলো মস্তিষ্কের নিউরাল স্ট্রাকচার উন্মোচন করা, সেল থেকে সেলে এবং আল্টিমেটলি মস্তিষ্কের সম্পূর্ণ নিউরাল পথগুলো বের করা। কিন্তু কম্পিউটার ও রোবট এ শ্রমসাধ্য বিরক্তিকর কাজটি করার সময় কমিয়ে আনতে পারে।

ইম্মর্টালিটি এন্ড গ্যালাক্টিক মাইন্ড
FROM COLD SPRING HARBOR LABRATORY

একটি পদ্ধতি আছে যেখানে ব্রেনকে টুকরো টুকরো করে কাটা হয়। হাজার হাজার টুকরো করে মাইক্রোস্কোপের মাধ্যমে প্রতিটি নিউরনের ভেতরকার কানেকশন পুনর্গঠন করার চেষ্টা করা হয়। স্টান্ডফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা এ প্রসেসটির গতি বাড়ানোর জন্য যে প্রযুক্তি বের করেছে তার নাম ” Optogenetic”! এ পদ্ধতিতে প্রথমে আপনাকে অসপিন নামক একটি প্রোটিন আলাদা করতে হবে, যা আপনার আইসাইটের সাথে জড়িত। আপনি যখন এর নিউরনের ভেতর একটি জিনের উপর আলো ফেলবেন, এটি নিউরনটি ফায়ার করবে। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর মাধ্যমে মস্তিষ্কের যেকোনো সেলে এ জিন ইমপ্লান্ট করে আপনি সেটি স্টাডি করতে পারন। মাউসের ব্রেনের একটি নির্দিষ্ট সেকশনে এটি একটিভ করার মাধ্যমে গবেষকরা এমনকিছু নিউরন বের করেছেন যা সুনির্দিষ্ট কিছু আচরণের জন্য দায়ী এবং মাউস স্পেসিফিক একটিভিটি প্রদর্শনও করেছিল। এই উপায়ে একজন ব্যক্তি সুনির্দিষ্ট নিউরাল পথ খুঁজে পেতে পারে সুনির্দিষ্ট কিছু আচরণ নিয়ন্ত্রণ করার মধ্য দিয়ে। উদাহরণস্বরূপ এ বিলাসবহুল পদ্ধতি হয়তো আমাদের মানসিক রোগের কারণগুলো অনুসন্ধান করে বের করতে পারবে। হিউম্যান ব্রেন ম্যাপিং এর মধ্য দিয়ে আমরা এই রোগগুলোর উৎস জানতে পারবো। আরও দেখুন- অপটোজেনেটিক্স ও কৃত্রিম মেমরি

ইম্মর্টালিটি এন্ড গ্যালাক্টিক মাইন্ড
Photo credit- DANA FOUNDATION

উদাহরণস্বরূপঃ আমরা সবাই মনে মনে কথা বলি( Self Conversation), এ সময় আমাদের লেফট ব্রেন যেটি ভাষার সাথে সম্পৃক্ত সেটি মূলত আমাদের Prefrontal Cortex এর সাথে কনসাল্ট করে। সিজোফ্রেনিয়া রোগীদের লেফট ব্রেন প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্সের সাথে পরামর্শ করা ব্যতীতই একটিভ হয়ে যায় যেটি মস্তিষ্কের কনশাস পার্ট। যখন লেফট ব্রেন প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্সের সাথে কনসাল্ট করেনা তখন সিজাফ্রেনিকরা মনে করে তাদের শব্দ এক্সটারনাল কোনো সোর্স থেকে আসছে। যদিও বিজ্ঞানীদের কয়েক শতাব্দী লেগে যাবে মানব মস্তিষ্কের সম্পূর্ণ ম্যাপ তৈরি করতে। কাকু বলেন, একুশ শতকের শেষ দিকে এ কাজ সম্পর্ন হয়ে যাবে।

আত্মা কী শুধুই ইনফরমেশন?

আমরা যদি মরেও যাই আমাদের কানেক্টম জীবিত থাকবে। তাহলে একটি সেন্স থেকে আমরা কি অমর? আমাদের মনকে যদি ডিজিটালাইজ করা যায় তাহলে সোল কি শুধুই ইনফরমেশন? আমরা যদি মস্তিষ্কের সকল নিউরাল সার্কিট ও মেমরিকে কম্পিউটার ডিস্কে রাখি এবং তারপর সুপার কম্পিউটারে আপলোড করি, তাহলে কি আপলোডেড ব্রেন ফাংশন রিয়েল ব্রেনের মত আচরণ করবে? এটি কি রিয়েল থিংস থেকে তারতম্যহীন হবে? কিছুকিছু মানুষ এ ধারণাকে বিভৎস মনে করে। আপনি যদি আপনার মনকে কম্পিউটারে আপলোড করেন তবে এটি ইনফিনিটি ট্রেপে আটকে যাবে। কেউ কেউ মনে করে এটা মৃত্যুর চেয়েও খারাপ। স্টারটার্ক ফিচারে একটি এপিসোড আছে যেখানে সুপার এডভান্স সিভিলাইজেশনকে একটি উজ্জ্বল গোলকের ভেতর পিউর কনশাসনেস হিসেবে দেখানো হয়। স্মরণাতীত কাল পূর্বে এলিয়েন তাদের ফিজিক্যাল বডি ত্যাগ করে এবং তখন থেকে তারা একটি গোলকের ভেতর বাস করে। এলিয়েন অমর হয়ে যায়। কিন্তু একটি এলিয়েনের ভেতর পূনরায় মানব দেহে ফিরে আসার ইচ্ছে জন্ম হয়। সে রিয়েল সেনসেশন ও প্যাশন অনুভব করতে চায়, এমনকি এর মানে সে জোরপূর্বক কারো শরীরও কেড়ে নিতে পারে।

যদিও কম্পিউটারের ভেতর বাস করাটা অনেকের কাছে অস্বস্তিকর মনে হতে পারে। এমনটা ভাবার কারণ নেই যে আপনি মানুষের মতো জীবনের অনুভূতি ও নিশ্বাস নিতে পারবেন না। যদিও আপনার কানেক্টম মেইন ফ্রেম কম্পিউটারের ভেতর থাকবে, এটি নিয়ন্ত্রণ করবে রোবট যে দেখতে আপনারই মতোন। রোবট যা ফিল করে তা আপনিও ফিল করতে পারবেন। আর এভাবে আপনার মনে হবে যে আপনি রিয়েল বডির ভেতরই অবস্থান করছেন, এমনকি আপনি হয়তো তখন সুপারপাওয়ার সম্পর্ন হয়ে যাবেন। রোবট যা দেখবে ও শুনবে সব মেইনফ্রেম কম্পিউটারে ফিরে আসবে এবং আপনার চেতনাকে উন্মোচন করবে। অতএব মেইন ফ্রেম কম্পিউটারের ভেতর থেকে রোবট নিয়ন্ত্রণ করা আর এভায়টরের ভেতর থেকে নিয়ন্ত্রণ করা একই কথা।

দেখুন-

মেট্রিওস্কা ব্রেন; এলিয়েনরা কী পোস্ট বায়োলজিক্যাল ?

বিগ ফ্রিজের সময় বুদ্ধিমান কী সার্ভাইব করতে পারবে?

এ পদ্ধতিতে আপনি দূরবর্তী নক্ষত্রে চলে যেতে পারবেন। আপনার সুপারহিউম্যান এভায়টর সূর্যের কাছাকাছি গ্রহগুলোতেও নৃশংস তাপমাত্রা সহ্য করতে পারবে অথবা দূরবর্তী হিমায়িত চাঁদের শীতলতা। একটি স্টারশিপ যেটি মেইনফ্রেম কম্পিউটারকে বহন করছে সেটি আপনার কানেক্টমকে নতুন কোনো সোলার সিস্টেমে নিয়ে যেতে পারবে। যখন আপনার স্টারশিপ নিরাপদ প্লানেটে চলে যাবে তখন আপনার এভায়টর সেটাকে আবিষ্কার করার জন্য স্টারশিপ থেকে বের হবে।

হ্যান্স মোর্বেক বলেন আরো একটি উপায়ে মানুষের মনকে কম্পিউটারে আপলোড করা যায়। এজন্য প্রথমে হসপিটালের একটি শয্যায় আপনাকে শোয়ানো হবে। তারপর আপনার ব্রেনকে একটি রোবটের ব্রেনের সাথে সংযুক্ত করা হবে। তারপর একজন সার্জন আপনার ব্রেন থেকে একটি নিউরন নেবে এবং এটিকে ডুপ্লিকেট করে ট্রান্সজিস্টরের মাধ্যমে নতুন একটি নিউরন তৈরি করবে আর সেটি বসাবে রোবটের মধ্যে। এভাবে একটির পর একটি নিউরন আপনার ব্রেন থেকে সরানো হবে ও রোবটের মস্তিষ্কে স্থাপন করা হবে ট্রান্সজিস্টরের ফটোকপি। আপনি পরিপূর্ণ সচেতন থাকবেন যতই নিউরন আপনার খুলি থেকে সরিয়ে ফেলা হোক না কেনো কারণ আপনার ব্রেন রোবটের সাথেও কানেক্টেড যার মধ্যে অপসারিত নিউরন একই ভাবেই অবস্থান করছে। একটা সময় কোনো চেতনা হারানো ছাড়াই আপনার চেতনা রোবটের মধ্যে ট্রান্সপ্লান্ট হবে। একশত বিলিয়নের মধ্যে একশত বিলিয়ন সেলই ডুপ্লিকেট হবে। তারপর আপনার ও আর্টিফিশিয়াল ব্রেনের কানেকশন কেটে দেয়া হবে। আপনি স্ট্রেচারের দিকে তাকাবেন, দেখবেন আপনার আগের দেহ, যার কোনো ব্রেন নেই, এখন আপনার ব্রেন রোবটের ভেতর। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এটা কি আপনি?

উত্তর “হ্যা”! অধিকাংশ বিজ্ঞানী তাই মনে করেন কারণ আপনার মেমরি ও প্রবণতা সবকিছু মূল ব্যক্তির মতোই। তার থেকে আপনি তারতম্য অনুভব করবেন না। আমরা যদি আমাদের দূরবর্তী নক্ষত্রে যেতে চাই তবে অজস্র জীবন প্রয়োজন, একজীবনে এটি সম্ভব না। মাল্টিজেনারেশনাল ট্রাভেল, লাইফ এক্সটেনশন এবং অমরত্বের অনুসন্ধান মহাবিশ্বের অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

FUTURE OF THE MIND, MICHIO KAKU

FUTURE OF THE HUMANITY, MICHIO KAKU

NEW EMPEROR OF HOMO DEUS, LEEHON

hsbd bg