আর্টিফিশিয়াল হিপ্পোক্যাম্পাস
মূলপাতা বিজ্ঞাননিউরোসায়েন্স আর্টিফিশিয়াল হিপ্পোক্যাম্পাস

আর্টিফিশিয়াল হিপ্পোক্যাম্পাস

লিখেছেন অ্যান্ড্রোস লিহন
182 বার পঠিত হয়েছে

মানুষের আর্টিফিশিয়াল হিপ্পোক্যাম্পাস তৈরি করা কী সম্ভব?

𝚃𝚑𝚎 𝚜𝚎𝚌𝚛𝚎𝚝 𝚘𝚏 𝚝𝚑𝚎 𝚖𝚒𝚗𝚍

   
Matrix মুভিতে দেখা যায় একজন ব্যাক্তির মাথার পেছন দিকে ইলেক্ট্রোড বসিয়ে মস্তিষ্কের ভেতর থেকে সরাসরি মেমরি আপলোড করা হচ্ছে।এর মানে হলো যে কেউ চাইলে আমাদের মস্তিষ্কের Raw and Unprocessed Data ডিকোড করতে পারে যা আমরা ফিফথ সেন্সের মাধ্যমে সংগ্রহ করি যেগুলি স্পাইনাল কর্ড,ব্রেন স্টিম এবং থালামাসে মুভ করে।হিপ্পোক্যাম্পাসের প্রসেসড ডাটা থেকে আনপ্রসেসড ডাটা আপলোড করা খুবই কঠিন।
  মস্তিষ্কের স্পাইনাল কর্ড থেকে থালামাসে কী পরিমাণ ইনফরমেশন প্রবেশ করে তার একটু দৃষ্টান্ত দেয়ার জন্যে আমি এখন শুধু আমাদের দৃষ্টি বা ভিশনটাকেই এক্সপ্লেইন করবো কারণ আমাদের অসংখ্য স্মৃতি চোখের ভেতর দিয়ে প্রবেশ করে।আমাদের চোখের রেটিনাতেই রয়েছে ১৩০ মিলিয়ন সেল যেগুলিকে কোন এবং রড বলা হয় তারা ১০০ মিলিয়ন বিট ইনফরমেশন প্রসেস এবং রেকর্ড করে। এই ইনফরমেশনগুলি তারপর অপটিক নার্ভে প্রবেশ করে যেটি পারসেকেন্ডে ৯ মিলিয়ন বিট ইনফরমেশন ট্রান্সপোর্ট করতে পারে।থালামাস থেকে ইনফরমেশন গুলি অকুপিটাল লোবে যায় যেটি মস্তিষ্কের একেবারে পেছনে।এই ভিজুয়াল কর্টেক্স পাহাড় সমান ইনফরমেশনকে বিশ্লেষণ করে। ভিজুয়াল কর্টেক্সের কিছু ভাগ রয়েছে যেগুলি বিশেষ কিছু কাজ করার জন্যে ডিজাইন করা।তাদেরকে V1 এবং V2 নামে নামকরণ করা হয়।এটি আমাদের মস্তিষ্কের পেছনে একটি অরিজিনিয়াল ইমেজের সাইজ এবং সেপ অনুযায়ী প্যাটার্ন তৈরি করে।V1 ছড়াও অকুপিটাল লোবের আর কিছু অংশের কাজঃ
  • স্টেরিও ভিশনঃএই নিউরন আমাদের দু-চোখ দিয়ে প্রবিষ্ট ইমেজগুলিকে একে অপরের সাথে Compare করে।এটি এরিয়া V2 তে সংঘঠিত হয়।
  • ডিস্টেন্টঃ এ নিউরন গুলি দুটি অবজেক্টের দূরত্ব নির্দিষ্ট করে,দু-চোখের ভেতর প্রবিষ্ট ছায়া ও অন্যান্য ইনফরমেশনের মাধ্যমে।এ ঘটনাটি ঘটে V3 তে।
  • কালার প্রসেস করা হয় এরিয়া V3 তে।
  • মোশনঃ বিভিন্ন সার্কিটের ভেতর দিয়ে বিভিন্ন মোশন প্রবেশ করে,স্ট্রেইট লাইন,স্পাইরাল এবং এক্সপেন্ডিং এগুলি এরিয়া V5 এ সংঘঠিত হয়।
  • শুধুমাত্র আমাদের চোখে দেখার সাথেই মস্তিষ্কের ৩০ টা সার্কিট জড়িত।এমনকি বিজ্ঞানীরা মনে করছেন এর চেয়ে আরো বেশি থাকতে পারে।
    অকুপিটাল লোবের প্রায় ত্রিশটার মতো নিউরাল সার্কিটে ইনফরমেশন প্রসেস হওয়ার পর সেটা প্রবেশ করে প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্সে যেখান থেকে আমরা সবশেষে ইমেজটি দেখি এবং শর্ট টার্ম মেমরি তৈরি হয়।তারপর তথ্য গুলি আমাদের হিপোক্যাম্পাসে যায় যেখানে ইনফরমেশনগুলিকে লং টার্ম মেমরিতে জমা করা হয়।আবার এ মেমরিগুলিকে মস্তিষ্কের আলাদা আলাদা বিশটি কর্টেক্সে ভাগ করে দেয়া হয়।  
আমরা যখন একটি ফুলের দিকে তাকাই তখন তার ইমেজ প্রস্তুত করার জন্যে আমাদের ব্রেনকে এত সীমাহীন জটিল একটি প্রকৃয়ার ভেতর দিয়ে প্রবেশ করতে হয় কিন্তু আমরা অত্যন্ত মসৃন এবং সহযভাবে শুধু ফুলটিকে দেখি আমরা এর পেছনের অসীম জটিলতাকে একেবারেই অনুভব করতে পারিনা।কারণ আমরা যদি সম্পূর্ণ সাব-কনসাস প্রকৃয়াটিকে বুঝতে চাই আমাদের মস্তিষ্কের বিপুল পরিমাণ এনার্জি এনং টাইম অপচয় হবে আর আমরা কয়েক দিনের মধ্যেই মৃত্যুবরণ করবো।যদি একটি দৃশ্যকে তৈরি করতেই মস্তিষ্কের বিপুল পরিমাণ শক্তির প্রয়োজন হয়, তাকে মিলিয়ন মিলিয়ন বিট ইনফরমেশন প্রসেস করতে হয় তবে আমাদের উচিত আমাদের চোখের ব্যাবহারকে মাঝেমধ্যে সীমিত করে তোলা, আমাদের চোখ,নাক এবং কানের ব্যাবহার কমিয়ে যদি আমরা ব্রেনকে রেস্ট দিতে পারি তবে মনে হয় আমাদের মস্তিষ্কের ভেতরের আরো অনেক হিডেন ডায়মেনশন খুলে যেতে পারে।
  একটি ছবি রেটিনা থেকে হিপ্পোক্যাম্পাসে প্রবেশ করা পর্যন্ত বিলিয়ন বিলিয়ন নিউরন সিকোয়েন্সিয়ালি ফায়ার হয়, প্রতি সেকেন্ডে মিলিয়ন বিট ইনফরমেশন ট্রান্সপোর্ট হয়।এবার যদি আমরা নাক,কান এবং জিহবাকে গণনায় ধরি,  যদি ছবির সাথে ইমোশনকে গণনায় আনি।তবে এ সকল ইনফরমেশন প্রয়োজন হয় একটি ছবিকে হিপ্পোক্যাম্পাসে জমা রাখতে।এ পর্যন্ত এমন কোন মেশিন আবিষ্কার করা সম্ভব হয়নি যা মস্তিষ্কের সম্পূর্ণ জটিলতাকে রেপ্লিকেট করতে পারে তাই যারা মানুষের আর্টিফিশিয়াল হিপ্পোক্যাম্পাস তৈরি করতে চায় তাদেরকে সম্পূর্ণ চ্যালেঞ্জটাই মোকাবিলা করতে হবে!  
আর্টিফিশিয়াল হিপ্পোক্যাম্পাস; তথ্যসুত্র;
 
আমাদের প্রাসঙ্গিক আর্টিকেলগুলি পড়ুন;
   

আরও পড়ুন

Leave A Comment...

হাইপারস্পেস
চিন্তা নয়, চিন্তার পদ্ধতি জানো...!