আদিম প্রাইমেটরা কেনো মাংস খাওয়া শুরু করেছিলো?

আদিম প্রাইমেটরা কেনো মাংস খাওয়া শুরু করেছিলো?

শিম্পাঞ্জি ও এপসরা যে সাধারণ পূর্বসূরি থেকে এসেছে আমরাও সেই আদিম পূর্বসূরীদের জিনের সার্ভাইভাল মেশিন। কিন্তু তারা মাংস গ্রহণ করেনা, তারা পশুপাখি শিকার করেনা। আর এখান থেকে অনেকের প্রশ্ন জাগে,  কেনো সেপিয়েন্সরা আজ  মাংসাশী?  ঠিক কোন বিবর্তনীয় চাপ তাদেরকে অন্যদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদাভাবে একটি মাংসাশী প্রাণীতে পরিণত করেছে? কেনো তার ট্রান্সজিশনাল ফসিল হয়ে পড়ে থাকা পূর্বসূরিরা মিলিয়ন মিলিয়ন বছর ধরে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন প্রাণীকে হত্যা করে গেছে, কেনো আজ তারা এতটা হিংস্র হয়ে উঠেছে? কখন শুরু হয়েছিলো সেপিয়েন্সদের মধ্যে পশুদের শরীরের প্রতি দুর্দান্ত ক্ষুদা? সার্বজনীন ফিজিক্স ও বিবর্তনীয় নিয়মে তৈরি একটি সার্ভাইভাল মেশিন অন্য অন্য সার্ভাইভাল মেশিনগুলোকে হয়তো ধবংস করে ফেলতে পারে কিন্তু ঠিক কোন কারণে তারা আজ এদেরকে অমানবিক যন্ত্রণা দিয়ে অস্বাভাবিকভাবে কেটে টুকরো টুকরো করে পুড়িয়ে খেয়ে ফেলে? একটি রোবট তো তার প্রতিযোগী আর একটি রোবটের শরীরের পার্টগুলো চিবিয়ে চিবিয়ে খেয়ে ফেলতে পারেনা , তারা শুধু ধবংস করে!  এখনো গ্রহের  অধিকাংশ মানুষই এ ধরণের প্রশ্নে জর্জরিত হয়, বিশেষ করে তারা মনে করে , এটি অনেক বড় একটি প্যারাডক্স যা বিবর্তন এক্সপ্লেইন করতে পারেনি অথবা অনেকেই আছেন যারা এর ব্যাখ্যা জানেননা ও জানার চেষ্টাও করেনা। তারা কোন  সুসঙ্গত যুক্তি ব্যতিরেকেই ধর্মীয়  ঈশ্বরের মতো করে সেপিয়েন্সদের এই প্রবণতাটিকে   সাধারণ এক বিবর্তনীয় নিয়ম হিসেবেই মেনে নেয়।
 
 
 
 
 
 
আবার অনেকে মনে করেন,  মিলিয়ন বছর পূর্বের আদিম পূর্বসূরীদের সাথে আমাদের হাজার হাজার ড্যাস!ড্যাস!ড্যাস!ড্যাস…আছে।কিন্তু আসলেই কি তাই! সত্যি বলতে, মূলত মানুষের এমন ভয়ানক ও দুর্দান্ত মাংসাশী হওয়ার গল্পটি শুরু হয়েছিলো আজ থেকে ৬৫ মিলিয়ন বছর পূর্বে, যখন মহান এক প্রলংকারী উল্কাপিন্ড আমাদের গ্রহকে প্রচন্ড শক্তিতে আঘাত করে, আর ডায়নোসররা পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক প্রজাতির সাথে বিলুপ্ত হয়ে যায়।(১)
 
 
 
আমাদের গ্রহের বিস্তীর্ণ এক রেইনফরেস্টের গালিচার উপর, দ্রাক্ষলতা সজ্জীত উদীয়মান গাছগুলোর ফাঁকে ফাঁকে, আটানব্বই মিলিয়ন লাইট ইয়ার্স আয়তনের এ মহাবিশ্বে, আমাদের আদিম সাধারণ পূর্বসূরিদের বিবর্তন ঘটে। আমাদের রেটিনার দেখা সর্বপ্রথম প্রাইমেট, পুর্গোরিয়াস, যেটি দেখতে পুরোপুরিভাবে আপনার বা আমার মতো ছিলোনা অথবা সম্পূর্ণভাবে তাদের শিম্পঞ্জিও মনে হতো না। এটি  ইদুর ও কাঠবিড়ালির একটি আড়াআড়ি রুপ ছিলো ।  যদি  এটি আজও টিকে থাকতো তবে আমরা একে আজ আমাদের পোষা প্রাণী হিসেবেই হয়তো যত্ম  করতাম। পুর্গোরিয়াস ছিলো এক ভয়াভহ ও দুর্দান্ত বৃক্ষ পর্বাতারোহী এবং নতুন এক নিরামিষশাসী। এটি তার পূর্বসূরিদের কীটপতঙ্গ বা ইনসেক্ট বেইস ডায়েট ছেড়ে দিয়েছিলো, নতুন ফুল ও ফলের প্রাচুর্যতার ভীড়ে এসে। এমনকি তারা তাদের নিকটতর গাছের ডালে ছিদ্র করেছিলো যা ছিলো তাদের জন্য একটি উপযুক্ত স্থান।
 
 
 
 
 
প্রায় দশ মিলিয়ন বছর পর্যন্ত পুটোর্গোরিয়াসের উত্তরসূরীরা তাদের Plant-based Diet এর মধ্যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলো। এরা ছিলো ক্ষুদ্র বানর গোরিলা আকারের এপদের থেকে। তারা বেশিরভাগ গ্রীস্মমন্ডলীয় ফলগুলিতে বেঁচে থাকতো আর মাঝেমাঝে দুর্ঘটনাক্রমে তারা কৃমি বা Worm খেয়ে তাদের ক্ষুদা নিরবারণ করতো। ১৫ মিলিয়ন বছর পূর্বে তাদের মধ্যে অল্প একটু ভেরিয়েশন ক্রিয়েট হয় যার ফলে তারা বীজ ও বাদামের মতো আরো শক্ত খাবার খেতে শুরু করে কিন্তু তারা তখনও তাদের ভেগান ( কোন প্রাণী না খাওয়া) শিকড়ের প্রতিই বিশ্বস্ত থেকে গেলো। (২)
 
If primates didn't develop higher intelligence, what other species would have been the first to? - Quora
 
 
 
 
 
 
 
তারপর, প্রায় ৬ মিলিয়ন বছর পূর্বে সাহেলানথ্রাপাস ট্যাচডেনসিস প্রাইমেটিক দৃশ্যপটে প্রবেশ করে। সালেহলানথ্রাপাসের আবির্ভাব ঘটার পর আমাদের নিকটবর্তী কাজিন শিম্পাঞ্জি ও বনোবো আলাদা হয়ে যায়। প্যালেন্থ্রোপোলোজির ভাষায়, হোমিনিন শব্দটি আধুনিক মানুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এবং  প্রযোজ্য আমাদের সেইসব নিকটবর্তী কাজিনের সাথে যারা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। সালেহলানথ্রাপাস ছিলো তাদের মধ্যে প্রথম। একটি সংক্ষিপ্ত, সমতল মুখযুক্ত, ছোট মস্তিষ্কের প্রাণী। যেটি দু-পায়ে ভর করে সোজাসুজি হাঁটতে শিখে গিয়েছিলো। এর ছিলো ক্ষুদ্র ক্যানাইন টুথ যা এর পূর্বসূরিদের এনালেম টুথের চেয়ে সম্পূর্ণরূপে আলাদা। আর এ থেকে প্রমাণিত হয় যে পর্গোরিয়াসদের থেকে এদের অনেক বেশি পরিমাণ খাবার চিবানো ও পিষণ প্রয়োজন হয়েছিলো।(৩)
 
 
 
 
 
 
আদিম প্রাইমেটরা কেনো মাংস খাওয়া শুরু করেছিলো?
 
 
 
 
 
 
 
তাছাড়া, আমাদের পূর্বসূরীদের ব্রেনকে তখনও পুরোপুরি প্রাণীদের মাংসের নেশা দখল করতে পারেনি। সালেহানাথ্রপাস তখন সম্ভবত বীজ ও বাদামের পরিপূরক কোনো তন্তুযুক্ত গাছ খেয়েছিলেন। তারপর প্রায় ৪-৩ মিলিয়ন বছর পূর্বে বনভূমি, আফ্রিকার বন ও মৌসুমি প্লাবন ভূমিতে অস্ট্রোলোপিথেকাস বাস করতো, তাদের মস্তিষ্কও মাংসের নেশায় আক্রান্ত ছিলোনা।ডেন্টাল মাইক্রোয়ারের মাধ্যমে তাদের দাঁতগুলির পৃষ্ঠের উপর আণুবীক্ষণিক খাঁজ ও স্ক্র্যাচ পাওয়া যায়, যা পরামর্শ দেয় ; তারা কিছু পাতা, অঙ্কুর, প্রচুর ফল, ফুল এবং এখান সেখান থেকে কয়েকটি পোকামাকড় খেতো এমনকি গাছের ছাল।
 
 
 
 
 
তাহলে কী অস্ট্রোলোপিথরা মাংস খেতো? এটা সম্ভব। ঠিক যেমনি মডার্ন শিম্পাঞ্জি প্রায়শ কলোবাস বানর শিকার করে, ঠিক তেমনি আমাদের পূর্বসূরিরাও ছোট বানরদের কাচা মাংস খেয়ে ফেলেছিলেন। কিন্তু তবুও প্রথম দিকের হোমিনিডদের মাংসের মতো -ভারী খাবার হজম করার অন্ত্র বিকশিত হয়নি ঠিক যেমনি তাহলে কী অস্ট্রোলোপিথরা মাংস খেতো? এটা সম্ভব। ঠিক যেমনি মডার্ন শিম্পাঞ্জি প্রায়শ কলোবাস বানর শিকার করে, ঠিক তেমনি আমাদের পূর্বসূরিরাও ছোট বানরদের কাচা মাংস খেয়ে ফেলেছিলেন। কিন্তু তবূও প্রথম দিকের হোমিনিডদের মাংসের মতো -ভারী খাবার হজম করার অন্ত্র বিকশিত হয়নি ঠিক যেমনি আজ আমেরিকানরা তাদের প্রাত্যহিক জীবনে খেয়ে থাকে।
 
 
 
 
 
 
 
আদিম প্রাইমেটরা কেনো মাংস খাওয়া শুরু করেছিলো?
Lucy real mother of Humanity
 
 
শুরুতে তাদের অন্ত্র ছিলো ফল  ও ঘাসলতাপাতা খাওয়া পূর্বসূরীদের মতো, বড় ক্যাকাম, ব্যাক্টেরিয়াল ব্রিমিং থলি সহ। যদি অস্ট্রোলোপিথ নিজেকে মাংসের সাথে জড়ান, মনে করুন, তারা একটি জেব্রা স্ট্রিক টার্টারে খেয়েছিলেন__ তারা সম্ভবত তাদের মলাশয়টি ছিড়ে ফেলতেন, পেটে ব্যাথা, বমি বমি ভাব এবং ফোলাভাব সম্ভবত মৃত্যুর কারণ হতো । এবং এ বিপদগুলো থাকা সত্ত্বেও ২.৫ মিলিয়ন বছর পূর্বে আমাদের পূর্বসূরিরা মাংস খাওয়ার সাহস প্রদর্শন করেছিলেন।
 
 
কিন্তু যদি ২.৫ মিলিয়ন বছর পূর্বে তারা সত্যিই মাংস খাওয়া শুরু করে তবে নিশ্চয় ঠিক সে সময় তাদের অন্ত্রের মধ্যে কোনো একটি বিবর্তন ঘটার প্রয়োজনীয়তা ছিলো৷। কারণ তারা যদি ঠিক সে সময় মাংস খাওয়া শুরু করে , অন্ত্রে আদিম কোনো বিবর্তনীয় পরিবর্তন ছাড়া তবে তারা বিলুপ্ত হয়ে যেতো, আর আমরা তাদের উত্তরসূরী হতে পারতাম না। কারণ প্রাকৃতিক নির্বাচন শুধু সে সকল প্রাণীর টিকে থাকার প্রতি আনুকূল্যতা প্রদর্শন করতো যাদের মধ্যে শক্তিশালী অন্ত্র আছে ও যারা খুব দক্ষতার সাথে মাংস পরিপাক ও হজম করতে পারে ।
 
 
 
এ থেকে বোঝা যায়  অস্ট্রোলোপিথের শরীর ক্রমবর্ধমানভাবে এ পরিবর্তিত অবস্থার জন্য প্রস্তুত করেছিলো। কিন্তু এ  যুগান্তরকারী , মহান ঘটনাটি ঘটিয়েছিলো গাছের বীজ ও বাদামের মতো তুচ্ছ কিছু ফলের দানা! (৪) 
 
 
আদিম প্রাইমেটরা কেনো মাংস খাওয়া শুরু করেছিলো?
 
 
আটলান্টিকে একবার How Human Became Meat Eater নামক একটি আর্টিকেল প্রকাশিত হয়েছিলো,সেখানে Marta Zarasla বলেন, অস্ট্রোলিপিথদের অন্ত্র মাংস খাওয়ার জন্য উপযুক্ত হয়েছিলো লক্ষ লক্ষ বছর জুড়ে ক্রমবর্ধমান ভাবে গাছের কাচা বীজ ও বাদাম খেতে খেতে। আজ যেমন টিএসসির মোড় অথবা মুক্তমঞ্চে বসে আপনি আর আপনার গার্লফ্রেন্ড বাদাম চিবান, ঠিক তেমনি করে অস্ট্রোলোপিথরা লক্ষ লক্ষ বছর শত শত প্রজন্ম জুড়ে তাদের গার্লফ্রেন্ডের পাশে বসে হয়তো কোনো বীজ ও বাদাম চিবিয়েছিলো আর যার জন্য তারা এখন জিরাফ অথবা এন্টিলোপের মতো প্রাণীকেও চিবিয়ে খেয়ে ফেলতে পারে।
 
 
 
মিলিয়ন বছর পূর্বের সেই নিরর্থক বাদাম সুইং করার প্রবণতাটাই ছিলো আজকের বিশ্বের বিলিয়ন বিলিয়ন নিরীহ প্রাণীদের ছিড়ে টুকরো টুকরো করে,  খেয়ে, বর্জ্রের মাধ্যমে রাসায়নিক পদার্থে পরিণত করে, বাস্তুসংস্থানে তার এক ও অদ্বিতীয় আধিপত্য বা সম্রাজ্য গঠনের পূর্বপ্রস্তুতি!
 
২০১৮ সালে Golbal Citizen এ প্রকাশিত একটি আর্টিকেল থেকে জানা যায়, মানব সভ্যতা বিশ্বের বন্যপ্রাণীদের মধ্যে প্রায় ৮৩ ভাগ হত্যা করে ফেলে। বিশ্ব থেকে যে সকল পাখি বিদায় নেয় তার মধ্যে রয়েছে ৭০ শতাংশ পল্ট্রি চিকেন ও অন্যান্য পাখি। কিন্তু ক্ষুদ্র বাদামের মধ্যে কী এমন শক্তি ছিলো যা অস্ট্রোলোপিথিসদের মধ্যে লক্ষ বছরের বিবর্তনে সর্বপ্রথম একটি শক্তিশালী অন্ত্র তৈরি করে দেয় আর যা পরে তাদের এই নৃশংস পাষবিক জীবন উদযাপন করতে বাধ্য করেছিল?
 
 
 
 
 
আদিম প্রাইমেটরা কেনো মাংস খাওয়া শুরু করেছিলো?
Pre-Homo
 
 
 
 
 
মূলত গাছের বীজ ও বাদামের মধ্যে ছিলো প্রচুর চর্বি এবং খুবই নিন্মমাত্রার ফাইবার। যদি আমাদের আদিম পূর্বসূরি প্রেমিক প্রেমিকারা বাদাম খেয়ে থাকে তবে এটি ক্রমশ তাদের মধ্যে একটি ইনটেস্টটাইন ( Intestine) বিকাশ ঘটায় (Where Digestion of lipid Take Place) এবং ক্যাকামকে সংকোচিত করে দেয় (where fibers are digested)। আর এভাবে তাদের অন্ত্র মাংস প্রসেস করার জন্য অনেক বেশি উন্নত হয়ে উঠে। এটি হয়তো মৃতদেহ খোদাই করার সরঞ্জামগুলো তাদের দিতে পারে।
 
 
 
কিছু কিছু গবেষক বলেন, বীজ ও বাদাম ভাঙার জন্য তাদের আবিষ্কৃত প্রাথমিক পাথরের অস্ত্রগুলোই পরে প্রাণীদের হাড় ফাটানো ও মাংসগুলোকে আলাদা করার কাজে ব্যবহারিত হতে পারে৷। আর এভাবে ২.৫ মিলিয়ন বছর পূর্বে আমাদের পূর্বসূরিরা মাংস খাওয়ার জন্য পুরোপুরিভাবে প্রস্তুত ছিলেন, তাদের কাছে একই সাথে পর্যাপ্ত অস্ত্র ছিলো যা প্রাণী শিকার করতে পারে ও শরীরের মধ্যে ছিলো উপযোগী অন্ত্র যা দিয়ে তারা সেই খাবার হজমও করতে পারে! (৫)
 
 
তারমানে দেখা যাচ্ছে, প্রেমিকার বিচ্ছেদ থেকে নয়, নয় কোনো পারিবারিক হতাশা থেকে অথবা নয় জঙ্গলের অন্য কোনো প্রাণীর সাথে ব্যক্তিগত শত্রুতার প্রতি প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে, কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব অস্ট্রোলিপিথদের হাতে অস্ত্র তুলে দেয়নি, অস্ট্রোলোপিথদের হাতে আধুনিক বিষাক্ত মরণাস্ত্রের প্রাথমিক নকশা উঠিয়ে দিয়েছিলো জঙ্গলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অজস্র গাছের বীজ ও চর্বিযুক্ত ক্ষুদ্র কিছু বাদাম! ইতিহাসের সর্বপ্রথম অস্ত্র নির্মাতা ছিলো হাত, পা, নাক, চোখ ও মস্তিষ্কহীন কিছু জংলী বাদাম। আর একইসাথে বাদাম আমাদের পূর্বসূরিদের দিয়েছিলো শক্তিশালী অন্ত্র!
 
 
যার ফলে প্রাইমেটরা ক্রমাগত ভয়ানক থেকে ভয়ানকতম শিকারি প্রাণীতে পরিণত হয়েছিল ,কেটে টুকরো টুকরো করে ফেলেছিল  বিলিয়ন বিলিয়ন সার্ভাইভাল মেশিন, যারা কোন না কোনো আদিম পূর্বসূরীদের থেকে মানুষের মতোই বিবর্তিত হয়েছিলো আর যাদের বিবর্তনের পেছনেও আছে দীর্ঘ সংকটময় বেদনাবিধুর এক বিবর্তনীয় ইতিহাস!
 
 
আদিম প্রাইমেটরা কেনো মাংস খাওয়া শুরু করেছিলো?
 
 
 
এক লক্ষ বছর পূর্বে আমরা শিকারী সংগ্রাহক হিসেবে হোমোসেপিয়েন্স রুপে বিবর্তিত হয়েছিলাম আর বাদাম ছিলো আমাদের শিকারী সংগ্রাহক নিউরাল সার্কিটের প্রথম ইঞ্জিনিয়ার, যার জন্য আমরা একসময় দলবদ্ধ হতে শিখেছিলাম, সংঘবদ্ধ হতে শিখেছিলাম।আর এখনো আমরা সেই আদিম মনস্তত্ব লালন করি, আমদের ব্রেন এখনো নিজের মাঝে সেই এনসেস্ট্রাল মন বা নিউরাল সার্কিট বহণ করছে, যার ফলে আমরা আজো বন্ধুবান্ধবের প্রতি ভালোবাসা অনুভব করি, সবাই মিলে একসাথে সংঘবদ্ধ থাকতে চাই, একা থাকতে খুবই কষ্ট পাই আমরা, খুব ব্যাথা লাগে আমাদের, সিঙ্গুলারিটি পয়েন্টের মতোই একা লাগে এ মহাবিশ্বকে , মৃত্যুর মতোই একা হয়ে যায় মানব সভ্যতা কাউকে ছাড়া ! মূলত, লক্ষ লক্ষ বছর পূর্বে  সংঘবদ্ধতাই আমাদেরকে শিকার করতে ও হিংস্র প্রাণীর খপ্পর থেকে উদ্ধার করতে সাহয্য করে গেছে! আর তাই এখনো আমরা সেই মনস্তাত্বিক একাকীত্বের কারাগার থেকে বেরিয়ে আসতে পারিনি! শিকারী প্রাণী থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য যেমনি আমরা সঙ্গবদ্ধ হয়েছি ঠিক তেমনি বাদাম খাওয়ার ফলে আমাদের মনস্তত্বের পরিবর্তনও আমাদেরকে সংঘবদ্ধভাবে শিকার করতে অনুপ্রাণিত করেছিলো!
 
 
 
 
 
আর সম্ভবত সেই স্মৃতি এখনো আমাদের জেনেটিক স্তরে রয়ে গেছে, আর তাই আমরা এখনো অবসরে বাদাম খেতে পছন্দ করি, বৃষ্টির সময় প্রেমিকার পাশে বসে আমরা আজো বাদাম চিবাই আর মাঝেমধ্যে অজান্তেই দুটি হাত তাকে স্পর্শ করে, কখনো কখনো DNA এক্সচেঞ্জের আদিম তাড়না এসে উপস্থিত হয় আমাদের মাঝে, আর  ভিতু ও কাপুরূষ আঙুলগুলো চলে যায় প্রেমিকার কাঁধে অথবা জামার ভেতর দিয়ে নিষিদ্ধ কোনো তারকায়।
 
 
ওয়ার্ল্ড এটলাসে ২০২০ সালের ১৮ ডিসেম্বর Top Walnut- Consuming Countries নামক একটি আর্টিকেল প্রকাশিত হয়, সেখানে এক পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলা হয়, চায়নার প্রায় ৪০৩,৭১৯ জন ব্যক্তি বাদাম খায়, ইউনাইটেড স্টেটে ১৬০,২২০ জন, ইরানে ৪১,৮৩৬ জন এবং ফ্রান্সে ২১,৬৭০ ব্যক্তি নিয়মিত বাদাম খেয়ে থাকে। ETIMES এ বলা হয়, বাদামের মধ্যে খুবই স্বাস্থ্যকর চর্বি আছে, প্রেগন্যান্সির সময় এটি সন্তানের বডি ডেভেলাপ করতে সাহায্য করে, এর মধ্যে রয়েছে ব্রেন বুস্টার ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড, প্রোটিন, ফাইভার ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান যা সন্তানের বিকাশের জন্য খুবই উপযোগী! আর সম্ভবত এ জন্যই রোমান্টিক সময়গুলোতে আমরাদের মস্তিষ্ক বাদামের প্রতি অনেক বেশি আকর্ষণবোধ করে। স্প্রিঙ্গারে ও পিউবএমডি জার্নালে Vegitable Protein and Vegetable fat intakes in preadolescent and adolescent girl, and risk for Benign Brest disease নামক একটি আর্টিকেল প্রকাশিত হয় সেখানে বলা হয়, ৯- ১৫ বছর বয়সী মেয়েদের মধ্যে যারা নিয়মিত চিনা বাদাম খায় ৩০ বছর বয়সে তাদের ব্রেস্ট ডিজিজের সম্ভাবনা ৩৯ শতাংশ কমে যায়
 
 
 
 
 
আজ থেকে ২.৫ মিলিয়ন বছর পূর্বে যদি বাদামই আমাদের পূর্বসূরিদের শিকারী-সংগ্রাহক মনস্তত্ব তৈরি করে তবে ঠিক কিভাবে তারা বুঝতে পেরেছিলো যে তাদের জন্য এন্টিলোপ ও হিপ্পোস সম্ভাব্য খাবার হিসেবে উপযোগী? এর কারণ হতে পারে ৩.৫ মিলিয়ন বছর পূর্বের জলবায়ু পরিবর্তন। (৬)  আকস্মিক প্রকৃতিতে বৃষ্টির পরিমাণ কমে যায়, আর একইসাথে কমে যেতে থাকে, ফল, পাতা ও ফুলের পরিমাণ যার উপর আমাদের পূর্বসূরিরা নির্ভরশীল ছিলো। অধিকাংশ রেইন ফরেস্ট পরিণত হয়ে গিয়েছিলো খুবই দূর্লভ কাঠেত বনভূমিতে, খাওয়ার জন্য অনেক উচ্চমানের গাছপালার পাতা রয়েছে কিন্তু একইসাথে তৃণভূমিতে অজস্র চারণ প্রাণী আছে। জানুয়ারী থেকে এপ্রিল পর্যন্ত তীব্র ক্ষরার কারণে আমাদের পূর্বসূরিরা পর্যাপ্ত পরিমাণ খাবার পেতে ব্যর্থ হয়েছিলো।
 
 
 
 
Triassic period ended with 'lost' mass extinction and a million-year rain storm, study claims | Live Science
অথচ ট্রায়াসিক যুগেও প্রচুর পরিমাণ বৃষ্টি হতো, ডায়নোসররা হেঁটে বেড়াতো পানিতে …।
 
 
 
সে সময় তারা প্রচুর পরিমাণ সময় ও ক্যালোরি অপচয় করেছিলো। প্রাচীন হোমিনিনরা একটি বিবর্তনীয় রাস্তার বাঁকে আটকে গেলো। কিছু অস্ট্রোলোপিথ প্রচুর পরিমাণে নিন্মমাপের ঘাস লতাপাতা খেতে শুরু করলো। আর যারা হোমোদের মেন্টালিটির ছিলো তারা, শুরু করলো পশু শিকার। বিপুল পরিমাণ সময় ও শক্তি অপচয় করার পরও সেই তীব্র ক্ষরার মৌসুমে তারা পর্যাপ্ত ফলমুল সংগ্রহ করতে পারেনি যে জন্য আমাদের পূর্বসূরিদের অনেকেই বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিলো, শুধুমাত্র যারা ফলমূল ছেড়ে দিয়ে পশু শিকার শুরু করলো তারাই অধিক ক্যালোরি সংগ্রহ করে টিকে থাকতে সক্ষম হয়ে উঠেছিলো।
 
 
 
আর এ জন্য প্রাকৃতিক নির্বাচন সে সকল হোমোদের প্রতি আনুকূলতা প্রদর্শন করেছিলো যারা আমিষ জাতিয় খাবার খেতেও পছন্দ করে। ২.৫ মিলিয়ন বছর পূর্বে বৃষ্টির হারিয়ে যাওয়া ও রেইনফরেস্টের অপমৃত্যুই আমাদের পূর্বসূরিদের প্রতি প্রচন্ড নির্বাচনি চাপ সৃষ্টি করে যার জন্য তারা পুরোদস্তুর শিকারী সংগ্রাহক প্রাণীতে পরিণত হতে বাধ্য হয়।
 
 
কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে অস্ট্রোলোপিথদের সেই নিরামিষভোজী প্রাণীরা একসময় বিলুপ্ত হয়ে যায়।  আর তাদের একটি শাখা যারা শিকারী জীবনে প্রবেশ করে তারাই আমাদের আজকের আধুনিক মানব সভ্যতা তৈরি করে।আজ থেকে ২.৫ মিলিয়ন বছর পূর্বে বাদাম যদি চর্বির যোগান দিয়ে আমাদের অন্ত্রের মধ্যে পরিবর্তন সাধন না করতো, যদি আমরা মাংসাশী হওয়ার সিদ্ধান্ত না নিতাম তবে আমরাও অস্ট্রোলিপিথদের মতো বিলুপ্ত হয়ে যেতাম।
 
 
 
আজকের এই গ্যালাক্টিক মেন্টালিটির গ্রহ, রেডিও, টেলিভিশন, কম্পিউটার অথবা আইনস্টাইনের E=MC^ সবকিছু ২.৫ মিলিয়ন বছর পূর্বেই ধবংস হয়ে যেতো, আইনস্টাইন মৃত্যুবরণ করতো পৃথিবীতে জন্ম নেয়ার ২.৫ মিলিয়ন পূর্বেই, পৃথিবীর আট বিলিয়ন মানুষ আজ জানতোনা যে , তারা এ মহাবিশ্বে জন্মের পূর্বেই মরে গেছে! আমরা কখনো জানতে পারতাম না যে , আমাদের জন্মের ফলেই আমরা জানতে পেরেছি জন্মের পূর্বেই যদি আমাদের মৃত্যু হতো তবে, আমরা এটাও কোনোদিন জানতে পারতাম না যে , জন্মের ২.৫ মিলিয়ন বছর পূর্বেই আমাদের পূর্বসূরিদের জিনে আমাদেরও মৃত্যু হয়েছিলো।
 
 
 
খুবই দুর্দান্তভাবে আমাদের প্রোটোহিউম্যানরা একটি নতুন সম্পত্তি তার প্রোফিট হিসেবে পছন্দ করেছে যার মধ্যে ছিলো সোভান্নার শাকসবজী ও নতুন ধরণের মাংস। যা আমাদের পূর্বসূরিরা শিম্পাঞ্জি ও গোরিলারা গ্রহণ করেনি। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কেনো? কেনো আমাদের এত নিকটাত্মীয় হওয়া সত্ত্বেও শিম্পাঞ্জি ও গোরিলারা মাংসকে গ্রহণ করলোনা! কী এমন প্রতিবন্ধকতা ছিলো তাদের মাঝে? এটি অনেক অদক্ষ মস্তিষ্ককেই বিভ্রান্ত করে রাখে!
 
 
 
মূলত, মাংসের অনুসন্ধান ছিলো খুবই ব্যায়বহুল একটা কাজ, অনেক মাইল পর্যন্ত হাঁটাহাঁটি করতে হতো আমাদের পূর্বসূরিদের, তাদের হাতে যতটা না তৃণলতা ও ফলমুল ছিলো তার চেয়েও বেশি শক্তি তাদেরকে খরচ করতে হয়েছিলো। শিম্পাঞ্জি ও গোরিলা সদৃশ Walking Style থেকে দু- পায়ে ভর করে হাঁটার সক্ষমতা ছিলো অনেক বেশি এনার্জি এফিশিয়েন্ট যা তাদের শরীরকে অতিরিক্ত উত্তাপ থেকে সুরক্ষা দিয়েছিল ও প্রদান করেছিলো ধৈর্য ও সহ্য ক্ষমতা।
 
এর মানে হলো সাহেলানথ্রপাস বা এর পূর্বসূরিরা যদি ৬ মিলিয়ন বছর পূর্বে সোজা হয়ে না দাঁড়াতেন, তবে প্রাথমিকভাবে হোমোরা বিবর্তনীয় রাস্তায় মাংস সন্ধানে এত বেশি দক্ষতা অর্জন করতোনা এবং হয়তোবা তাদের মধ্যে পশুর মাংসের প্রতি কোনো স্বাদও বিবর্তিত হতো না । আর আজ রাতের খাবারের টেবিলে স্টেক অথবা বার্গার উদাও হয়ে যেতো।
 
 
 
 
 
 
 
 
15 | August | 2020 | Serbian Animals Voice (SAV)
 
 
Is It Morally Right To Kill Animals For Food? - Primal Meats
 
 
 
 
আমরা এখনো দেখতে পাই এমনকি সম্পূর্ণ উদার তৃণভোজী প্রাণীও মাঝেমাঝে মাংস গ্রহণ করে। যেমন- গরু ও হরিণ। এমনও রেকর্ড আছে যে গাভী মুরগীর ছানা খেয়ে ফেলে এবং মরাখরগোশ। হরিণ খেয়ে ফেলে পাখিদের ও ডুয়েকারের একটি ক্ষুদ্র আফ্রিকার ব্যাঙের ব্যাপারেও জানা গেছে। অথবা এটা বিস্ময়কর ব্যাপার নয় যে, মাংস হজম করার ক্ষমতা বিবর্তিত হওয়ার পর আমাদের পূর্বসূরি প্রাইমেটরা মাঝেমাঝে ক্ষুদ্র বানর শিকার করে খায়নি, এটি ছিলো তাদের একটু বাড়তি শক্তি যোগাড় করার একটি নৃশংস উপায়। যা তাদের ভোজ্য ছিলো, সেখানে তাই ছিলো। ২.৬ মিলিয়ন বছর পূর্বে প্রচুর মাংস ছিলো। পুর্গেরিয়াস যেমন জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে প্রচুর ফুল, ফল ও লতাপাতার সুযোগ নিয়েছিলো, ঠিক তেমনি তাদের আদিম হোমোরাও পরিবেশের পরিবর্তনের সাথে তাদের ডায়েটগুলো মানিয়ে নিয়েছিলো। আর তাই এখন, তারা পশুপাখির পেছনে ছুটে বেড়ায়!
 
 
 

আমাদের প্রাসঙ্গিক আর্টিকেলঃ

আদিম প্রাইমেটরা কেনো মাংস খাওয়া শুরু করেছিলো? আদিম প্রাইমেটরা কেনো মাংস খাওয়া শুরু করেছিলো? আদিম প্রাইমেটরা কেনো মাংস খাওয়া শুরু করেছিলো? আদিম প্রাইমেটরা কেনো মাংস খাওয়া শুরু করেছিলো? 
আদিম প্রাইমেটরা কেনো মাংস খাওয়া শুরু করেছিলো? আদিম প্রাইমেটরা কেনো মাংস খাওয়া শুরু করেছিলো? 
hsbd bg