মূলপাতা বিজ্ঞান আইনস্টাইনের জন্মদিনে স্টিফেনের মৃত্যু

আইনস্টাইনের জন্মদিনে স্টিফেনের মৃত্যু

লিখেছেন অ্যান্ড্রোস লিহন
56 বার পঠিত হয়েছে

স্টিফেন হকিং ছিলেন  নক্ষত্র তিনি আমাদের থেকে বিদায় নিয়েছিলেন সুপারনোভার মতো! আজ সে মহান বিজ্ঞানীর মৃত্যুবার্ষিকী যিনি সারাজীবন নিউরোমোটর ডিজিজে আক্রান্ত ছিলেন, পৈশাচিকভাবে শরীরের ভেতর অবরুদ্ধ (Lock) ছিলেন, যার ব্রেন কম্পিউটারই শুধু সক্রিয় ছিলো, তার নিউরন সেলের ভেতর ছুটে চলা বিলিয়ন বিলিয়ন ইলেক্ট্রিক্যাল সিগনাল থেকে ” সময়ের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস” আর ব্লাকহোল ও শিশু মহাবিশ্ব বেরিয়ে এসেছিলো! কিন্তু তিনি এতকিছুর পরও অন্ধকার ও অজানার ভয়ে ভীতসন্ত্রস্ত ছিলেন না! মৃত্যু ও ঈশ্বরের প্রতি তিনি ছিলেন উদাস! যিনি গার্ডিয়ানের এক সাক্ষাৎকারে  বলেছিলেন, আমি মৃত্যুকে ভয় করিনা, কিন্তু এটিকে গ্রহণ করার জন্যে আমার কোন তাড়া নেই কারণ প্রায় ৪৯ বছর ধরে মৃত্যুর প্রত্যাশা নিয়ে আমি বেঁচে আছি! স্টিফেন হকিং স্বর্গে বিশ্বাস করতেন না! তার মতে যারা অন্ধকারকে ভয় করে স্বর্গ তাদের জন্য। এ বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানী ১৪’ ই মার্চ ২০১৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন। বিষ্ময়করভাবে এটি ছিলো সেদিন যেদিন  মহান বিজ্ঞানী আইনস্টাইন সোলার সিষ্টেমের এ গ্রহটিতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। হকিং ৭৬ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছিলেন, তিনি তার চুড়ান্ত “Brief Answer to the Big Question ” নামক মরোণোত্তর গ্রন্থটিতে লিখেছিলেন, There is no God! তিনি আরো বলেন, এ মহাবিশ্বকে কেউ পরিচালনা করছেন না! মৃত্যুর এক বছর পূর্বেও তিনি ঈশ্বরের অস্তিত্বকে অস্বীকার করেন। জিনিয়াস অব ব্রিটেন নামক একটি টিভি শো’ তে হকিং বলেন, আপনি যদি পছন্দ করেন তবে আপনি পদার্থবিদ্যার সুত্রকে ঈশ্বর বলতে পারেন কিন্তু এটি পারসোনাল গড নয় যার সাথে আপনি দেখা করতে পারেন এবং প্রশ্ন করতে পারেন! তার ২০১০ সালের গ্রন্থ “The Grand Design” এ হকিং ও তার কো-অথর লিওনার্ডো স্নোডিনো ” স্বতস্ফুর্ত সৃষ্টিকে” অস্তিত্বের কারণ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করেন এবং লিখেন, ” it is Not Necessary to invoke God to light the blue touch paper and set the Universe goings “! মৃত্যুর ২ সপ্তাহ পূর্বে তিনি A Smooth Exit from Eternal Inflation নিয়ে কাজ করেছিলেন যেটি ভবিষ্যতবাণী করে মহাবিশ্বের শেষ পরিণতি সম্পর্কে! হকিং থিওরাইজড করেন, বিজ্ঞানীরা বিকল্প মহাবিশ্বের অস্তিত্ব খুঁজে পাবেন যদি তারা স্পেসশিপে প্রোব ব্যাবহার করে যা মানুষকে তাদের মহাবিশ্ব সম্পর্কে আরো উন্নত উপলব্ধি প্রদান করবে, এর বাহিরে কী আছে এবং মহাবিশ্বে আমাদের অবস্থান! মৃত্যুর আগে তিনি বলে গিয়েছিলেন হিউম্যানিটি ও স্পেসের কথা! তার প্রজ্ঞাময় বানীগুলো সেলিব্রেটি সায়েন্টিস্টদের নার্ভাস সিষ্টেমকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছিলো! তিনি বলেছিলেন, আমরা বিভিন্ন রকম হুমকির মুখোমুখি হবো, নিউক্লিয়ার যুদ্ধ, গ্লোবাল ওয়ার্মিং এবং জেনেটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার্ড ভাইরাসের! হকিং ২০১৬ সালে (টেলিগ্রাফের Sarah Knapton এর মতে) রেডিও টাইমস এ কথাগুলো বলে গেছেন। Wired Magazine একটি সাক্ষাতকারে তিনি বলেছিলেন, আমি আতঙ্কবোধ করি যে আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স মানব সভ্যতার উপর আধিপত্য বিস্তার করবে! এলিয়েনদের প্রসঙ্গে “Stephen Hawking Favorite Place ” নামক একটি মুভিতে তিনি বলেন, আমি যতই বৃদ্ধ হচ্ছি ততই আমি এটা নিশ্চিত হয়ে যাচ্ছি যে এ মহাবিশ্বে আমরা একা নই….! তার মতে, আমরা যখন মহাকাশের দিকে তাকাই তখন হয়তো মিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরের নক্ষত্রগুলো থেকেও অন্য কেউ আমাদের দিকে তাকিয়ে থাকে ! তবে হকিং বিশ্বাস করতেন না, এলিয়েনরা আমাদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করবে! New York Times এর প্রতিবেদন অনুসারে, স্টিফেন হকিং যদিও ঈশ্বরকে প্রত্যাখ্যান করেছেন কিন্তু তিনি মৌলিকভাবে বিশ্বাস করেন, মহাবিশ্ব ও জীবনের তাৎপর্য আছে। হকিং জীবনের মিনিং সম্পর্কে বলেন, সবসময় মহাকাশের নক্ষত্রের উপর চোখ রাখো তোমার পায়ের দিকে নয়। বোঝার চেষ্টা করো তুমি কী দেখছো এবং বিষ্ময় প্রকাশ করো যে মহাবিশ্বটি কিভাবে অস্তিত্বশীল হয়েছে! উৎসাহী হও, তোমার জীবনে যত কঠিন সময়ই আসুক না কেনো, সবসময় তোমার জন্য কিছু না কিছু থাকবে যা তুমি করবে ও সফল হবে! প্যারালাল ওয়ার্ল্ড-মিচিও কাকু

Stephen Hawking's Funeral: Eddie Redmayne Among Attendees | PEOPLE.com

 
 

আরও পড়ুন

Leave A Comment...

হাইপারস্পেস
চিন্তা নয়, চিন্তার পদ্ধতি জানো...!