অদৃশ্য হওয়ার প্রযুক্তি; ট্যাকনোলজিক্যালি আপনি অদৃশ্য হতে পারবেন?

 

প্লেটোর থিওরি অব এথিক্সের সেন্ট্রাল পার্টই ছিলো ইনভিসিবিলি।ফিলসফিক্যাল মাস্টারপিস গ্রন্থ রিপাবলিকে প্লেটো Ring of Gyges নামক একটি মিথ উল্লেখ করেছিলেন।একদা লিডিয়ার দারিদ্র এবং সৎ রাখাল গাইজেস একটি গুপ্ত গুহায় প্রবেশ করেছিলো যেখানে সে একটি আংটির সন্ধান পায়।সোনার আংটি তাকে জাদুকরী ভাবে অদৃশ্য করে দেয়।আংটির দেয়া ক্ষমতা পেয়ে শীঘ্রই এ দারিদ্র রাখাল উত্তেজিত হয়ে উঠে।সে সম্রাটের স্ত্রীকে আসক্ত করে তার সহযোগীতায় সম্রাটকেও হত্যা ফেলে।প্লেটো এখানে বুঝাতে চেয়েছিলেন,অদৃশ্য হওয়ার ক্ষমতা থাকলে কোনো ব্যাক্তিই তার ভেতরের অবদমিত কামনাকে সংযত করতে পারেনা তখন সে নিজের ইচ্ছায় স্বতঃস্ফূর্তভাবেই খুন করে!প্লেটো বলেন, সকল মানুষই সন্ত্রাসী।মোরালিটি হলো একটি সামাজিক সংস্কার যেটি এ আভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসের উপর বাহির থেকে প্রয়োগ করা হয়।একজন ব্যাক্তি তার সুনাম ও সুখ্যাতির জন্যে হয়তোবা বাহির থেকে অনেক ভদ্র,নম্র ও বিনয়ী হতে পারে কিন্তু যদি একবার সে অদৃশ্য হওয়ার ক্ষমতা অর্জন করে তবে তাকে আর অবদমন করা যায় না!

মিচিও কাকু তার ফিজিক্স অব দ্যা ইম্পসিবল গ্রন্থে অদৃশ্য হওয়ার চারটি পদ্ধতির কথা বলেছেনঃ

 

  • মেটাম্যাটারিয়াল
  • নোনোটেকনোলজি
  • হলোগ্রাম
  • ফোরথ ডায়মেনশন

 

অদৃশ্য হওয়ার প্রযুক্তি; মেটাম্যাটারিয়াল 

একটা সময় অদৃশ্য হওয়াটাকে অসম্ভব মনে করা হতো।কিন্তু সাম্প্রতিক নতুন একটি ম্যাটারিয়াল ডেভেলপ হয়েছে যার মাধ্যমে অদৃশ্য হওয়া যায়।এ নতুন ম্যাটারিয়ালকে বলা হয় মেটাম্যাটারিয়াল।একটা সময় মনে করা হতো মেটাম্যাটারিয়াল তৈরি করা অসম্ভব কারণ এটি “ল” অব অপটিককে লঙ্গন করে।কিন্তু ২০০৬ সালে ডিউক ইউনিভার্সিটির গবেষকরা প্রচলিত বিশ্বাস ভেঙে দিয়ে একটি অবজেক্ট তৈরি করেন যেটিকে অন্যান্য ওয়েভ দিয়ে দেখা সম্ভব হলেও মাইক্রোওয়েভ দিয়ে দেখা যায়না।এখন প্রশ্ন হলো মেটাম্যাটারিয়াল কীসের তৈরি?এগুলি হলো এমন কিছু পদার্থ যার কোনো অপটিক্যাল প্রোপার্টি প্রকৃতিতে পাওয়া যায়নি।এটি তৈরি করা হয় এমন একটি ক্ষুদ্র ইমপ্লান্ট স্থাপন করার মাধ্যমে যা ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ওয়েভকে অপ্রচলিত উপায়ে বাকিয়ে দিতে পারে।ডিউক ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা একটি ক্ষুদ্র ইলেক্টিক্যাল সার্কিটকে কপার ব্যান্ডের সাথে স্থাপন করেন যা সমন্তরালভাবে সাজানো থাকে।(অনেকটা ইলেক্ট্রিক্যাল ওভেনের কয়েলের মতো।এটি সিরামিক,টিফলন,ফাইভার কম্পোজিট এবং মেটাল কম্পোন্যান্টের জটিল মিশ্রনের একটি ফলাফল।কপারের এ ইমপ্লান্ট মাইক্রোওয়েভকে বাকিয়ে স্পেসিফিক একটি পথে চলার জন্যে চ্যানেল তৈরি করে দেয়।আপনি নুড়ি পাথরের ভেতর দিয়ে নদীর পানি প্রবাহের কথা চিন্তা করুন, পানি পাথরের চারপাশে বক্র হয়ে যায়।ঠিক তেমনি মেটাম্যাটারিয়াল সবসময় মাইক্রোওয়েভের গতিপথকে বিকৃত ও বক্র করে দেয় যার কারণে আলো সিলিল্ডারের চারপাশে আবর্তিত হয় এবং সিলিল্ডারের ভেতরের সবকিছুকে আড়াল করে রাখে।

ম্যাটামেটারিয়াল আলো এবং ছায়া দুটোকেই যদি আড়াল করতে পারে তবে এটি আপনাকে সম্পূর্ণ অদৃশ্য করে ফেলতে পারবে!বিজ্ঞানীরা উন্নত মাপের মেটাম্যাটারিয়াল ডেভেলপ করার চেষ্টা করছে যেটি আমাদেরকে সাধারণ আলোক রশ্নি থেকেও অদৃশ্য হতে সহযোগীতা করবে…!আর হ্যা মেটাম্যাটারিয়ালের মূল প্রিন্সিপাল ইনডেক্স রিপ্লেকশন যেটি নিয়ে আমরা পরে কখনো কথা বলবো।

 

 অদৃশ্য হওয়ার প্রযুক্তি;  হলোগ্রাম 

হলোগ্রামঃ হলোগ্রাম হলো লেজারের তৈরি থ্রিডি ইমেজ।একজন ব্যাক্তিকে হলোগ্রামের মাধ্যমে অদৃশ্য করা সম্ভব যদি ব্যাকগ্রাউন্ড সিনারি স্পেশাল হলোগ্রাফিক ক্যামেরা দিয়ে তৈরি করা হয় এবং তারপর বিশেষ ধরণের হলোগ্রাফিক স্ক্রিন লোকটির সামনে স্থাপন করা হয়, যেটি 3D হলোগ্রাফিক ইমেজ এবং ব্যাকগ্রাউন্ড সিনারি কনটেইন করে।আপনি যদি চোখ নাড়াচাড়াও করেন আপনি বুঝতে পারবেন না যে আপনি যা দেখছেন তা ফেইক!

 

অদৃশ্য হওয়ার প্রযুক্তি;  ফোরথ ডায়মেনশন 

 

H.G ওয়েলস তার The Invisible Man গ্রন্থে ফোরথ ডায়মেনশনের ভেতর দিয়ে অদৃশ্য হতে পারার সম্ভাবনার কথা বলে গেছেন।একটি থ্রি-ডায়মেনশনাল প্রজাপতি যদি টু-ডায়মেনশনাল কাগজের উপর ঘুরতে থাকে তবে এটি অদৃশ্য হয়ে যাবে ঠিক তেমনি আমরাও ফোরথ ডায়মেনশনের ভেতর অদৃশ্য হয়ে যেতে পারি।কিন্ত ফ্যাক্ট হলো ফোরথ ডায়মেনশন এখনো প্রমাণিত নয়।আর হাইপোথেটিক্যালি দেখা গেছে ফোরথ ডায়মেনশনে ভ্রমণ করতে হলে যে পরিমাণ এনার্জি প্রয়োজন তা আমাদের বর্তমান প্রযুক্তির কাছে নেই!

আমাদে আরো আর্টিকেলগুলি পড়তে অনুসন্ধান করুনঃঅ

  1. কোয়ান্টাম টেলিপোর্টেশন
  2. মিথ্যা সনাক্তকারী যন্ত্র
  3. জিন ও মস্তিষ্কের সম্পর্ক
  4. ন্যানো রোবট

তথ্যসুত্রঃ

hsbd bg