অতীত ভুলে যাওয়ার কারণ
মূলপাতা Uncategorized অতীত ভুলে যাওয়ার কারণ

অতীত ভুলে যাওয়ার কারণ

লিখেছেন অ্যান্ড্রোস লিহন
152 বার পঠিত হয়েছে

আমাদের মধ্যে কেনো অনেকে দু-এক মিনিট পূর্বের মেমরি গুলি ভুলে যায়?এর কারণ ও প্রতিকার কী?

𝖳𝗁𝖾 𝗌𝖾𝖼𝗋𝖾𝗍 𝗈𝖿 𝗍𝗁𝖾 𝖬𝗂𝗇𝖽; 𝙰𝚛𝚝𝚒𝚏𝚒𝚌𝚒𝚊𝚕 𝚌𝚘𝚛𝚝𝚎𝚡 𝚊𝚗𝚍 𝙷𝚒𝚙𝚙𝚘𝚌𝚊𝚖𝚙𝚞𝚜.

𝗉𝖺𝗋𝗍4

 

২০১২ সালে ওয়েক ফরেস্ট ব্যাপটিস্ট মেডিক্যাল সেন্টার এবং দ্যা ইউনিভার্সিটি অব সাউথার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার বিজ্ঞানী যিনি ইঁদুরের মস্তিষ্কের আর্টিফিশিয়াল হিপ্পোক্যাম্পাস তৈরি করেছেন তিনিই প্রাইমেটদের মস্তিষ্কের জটিল থট প্রসেসকে ডুপ্লিকেট করতে পেরেছিলেন।এ জন্যে তারা রিসাস নামক ৫ টি বানর নেন এবং তাদের কর্টেক্সে ইলেক্ট্রোড ঢুকিয়ে দেন,যেটাকে বলা হয় L2/3 and L5 layers। বানররা যখন কোন কাজ করতে শেখে তখন বিজ্ঞানীরা তাদের মস্তিষ্কের দুটি লেয়ারের নিউরাল সিগনাল রেকর্ড করেন।কয়েকবার প্রাকটিসের পর মনে করুন বানররা ৭৫ পার্সেন্ট একুরেসির সাথে কাজটি করতে পারলো।কিন্তু যখন বিজ্ঞানীরা এই সিগনালগুলিকে তাদের মস্তিষ্কে ব্যাক করে তাদের কার্যক্ষমতা ১০ পার্সেন্ট বেড়ে যায়।যখন কিছু কেমিক্যাল তাদের মস্তিষ্কে দেয়া হয় তাদের কার্যক্ষমতা ২০ শতাংশ কমে যায় কিন্তু যখন আবার রেকর্ডেড সিগনাল গুলি তাদের মস্তিষ্কে ব্যাক করা হয় তারা স্বাভাবিক হয়ে উঠে।এ স্টাডি থেকে বিজ্ঞানীরা যথাযথ ভাবে বানরদের ডিসিশন ম্যাকিং প্রসেসকে রেকর্ড করতে পারে।কিন্তু এটি সে সকল প্রাণীদের উপর করা হয়েছে যাদের হিপ্পোক্যাম্পাস নেই, এর হিউম্যান ট্রায়াল অনেক বেশি জটিল হবে।আবার এদিকে আবিব ইউনিভার্সিটি অব ইসরায়েল মানুষের মস্তিষ্কের আর্টিফিশিয়াল সেরিব্রেলাম তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে!

এবার আসি আলজিমার ডিজিজের আলোচনায়।আপনারা হয়তো অনেকেই জানেন না আমেরিকার প্রায় ৫.৩ মিলিয়ন মানুষ আলজিমার রোগে আক্রান্ত, ধারণা করা হচ্ছে ২০৫০ সালের মধ্যে আমেরিকাতে এ রোগ মহামারী রুপ ধারণ করবে।অধিকাংশ ৬৫-৭৫ বছর বয়সী প্রবীণরাই এ রোগে আক্রান্ত।

 

আলজিমারের প্রাথমিক পর্যায়ে মস্তিষ্কের হিম্পোক্যাম্পসের যে অংশে মেমরি প্রসেস হয় সেটি ডেমেজ হয়ে যেতে থাকে।ব্রেন স্ক্যানের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন আলজিমার রোগীদের হিপ্পোক্যাম্পাস সংকুচিত হয়ে গেছে,এমনকি তাদের মস্তিষ্কের প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্সও চিকন হয়ে যায় যার কারণে তারা শর্ট টার্ম মেমরি প্রসেস করতে পারেনা।মস্তিষ্কের কর্টেক্স গুলিতে সংরক্ষিত লং টার্ম মেমরি যদিও ইন্ট্যাক্ট থাকে।এর মানে হলো আপনি ৫০ বছর পূর্বে কী করেছেন তা সঠিকভাবেই মনে থাকবে কিন্তু দু-মিনিট পূর্বের কোনো স্মৃতি আপনার মনে পড়বেনা!একটা সময় তারা তাদের লং টার্ম মেমরিও হারিয়ে ফেলে, তারা তাদের সন্তান,পাড়া প্রতিবেশী কাউকেই চিনতে পারেনা এমনকি মাঝেমাঝে তারা কোমার মতো ভেজিটেটিভ স্টেটে চলে যায়।

 

আমাদের দেশেও এমন অনেক বৃদ্ধ আছেন, দেখবেন তারা তাদের অতি কাছের মানুষদের চিনতে পারেনা,বারবার পরিচয় জিজ্ঞেস করে।দুঃখ্যজনকভাবে আলজিমারের বেসিক ম্যাকানিজম বিজ্ঞানীরা ২০১২ সালে বুঝতে পেরেছে।

এলজিমার শুরু হয় মস্তিষ্কে টাউ এমালয়েড প্রোটিনের গঠনের সাথে যেটি বিটা এমালয়েডের গঠনকে ত্বরান্বিত করে একধরণের আঠালো গ্লুকাইন পদার্থ যা মস্তিষ্ককে আবদ্ধ করে।এই এমালয়েড গুলিকে ড্রাগ টার্গেট করতে পারেনা কারণ তারা Prion দ্বারা তৈরি।প্রিয়ন হলো মিসেপেন বা বিকৃত প্রোটিন মলিকিউল।এরা ভাইরাস বা ব্যাক্টেরিয়ার মতো নয় কিন্তু নিজেদের রি-প্রডিউস করতে পারে!এটোমিক্যালি দেখলে, একটি প্রোটিন মলিকিউল এটমের বন্ধনে তৈরি একটি ফিতার ভাজকে প্রদর্শন করে।এটমের এই ফিতা নিজের উপর নিজেই ভাজ হয়ে থাকে প্রোটিনের প্রপার সেফ ও ফাংশন ঠিক রাখার জন্যে।কিন্তু প্রিয়ন হলো বিকৃত প্রোটিন যা ভুলভাবে ভাজ হয়ে আছে।যখন এগুলি সুস্থ্য প্রোটিনের উপর পড়ে তখন তারা সুস্থ্য প্রোটিনগুলিকেও ভুলভাবে ভাজ করে ফেলে।এভাবে প্রিয়ন বিকৃত প্রোটিনের একটি জলপ্রপাত তৈরি করে যা চেইন রিয়েকশনের মাধ্যমে আরো বিলিয়ন বিলিয়ন প্রোটিনকে দূষিত করে।

এখনো পর্যন্ত এই চেইন রিয়েকশনকে থামানোর মতো কোন পদ্ধতি আবিষ্কার করা সম্ভব হয়নি কিন্তু যেহেতু বিজ্ঞানীরা এর বেসিক ম্যাকানিজম বুঝতে পেরেছেন সেহেতু তারা বিকৃত প্রোটিনকে টার্গেট করে এন্টি বডি প্রয়োগ করতে পারেন।আর একটি উপায় হলো আর্টিফিশিয়াল হিপ্পোক্যাম্পাস যার মাধ্যমে আমরা শর্ট টার্ম মেমরিকে রক্ষা করতে পারবো?

 

তথ্যসুত্রঃ

 

আমাদের লিখা আরো আর্টিকেলগুলি পড়তে দেখুনঃ

 

 

 

আরও পড়ুন

Leave A Comment...

হাইপারস্পেস
চিন্তা নয়, চিন্তার পদ্ধতি জানো...!