ন্যাচার জার্নালে প্রকাশিত একটি পেপারের রেফারেন্স দিয়ে অনেকে বলছেন, মানুষ বানর সদৃশ পূর্বসূরি থেকে আসেনি এসেছে মাছ থেকে। কিন্তু এ ইনফরমেশন ঠিক কতটা সঠিক? ন্যাচার জার্নালে কী আদৌ এমনকিছু দাবি করা হয়েছে? ইভোলিউশনারী মর্পোলজি ল্যাবে কয়েকজন গবেষক প্যালিওস্পন্ডিলাস নামক একটি প্রাচীন মাছের অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছেন। যেটি চার পা বিশিষ্ট সকল প্রাণীর পূর্বসূরি। যার মধ্যে মানুষও অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু সেখানে এমন কোনো দাবী করা হয়নি যে, প্যালিওস্পন্ডিলাসই মানুষের পূর্বসূরি, অস্ট্রোলোপিথ বা আর্ডিওপিথেকাসদের মতো কোনো আদি পূর্বসূরী নয়।
প্যালিওস্পন্ডিলাস হলো মাছের মত দেখতে ক্ষুদ্র মেরুদণ্ডী প্রাণী। লম্বায় যেটি ৫ সেঃমি। যার রয়েছে ঈলের মত শরীর যেটি ৩৯০ মিলিয়ন বছর পূর্বে ডেভোনিয়ান পিরিয়ডে বাস করতো! মানুষ আর শিম্পাঞ্জি তাদের সাধারণ পূর্বসূরি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে আনুমামিক ৬ মিলিয়ন বছর পূর্বে। এ সময় জাঙ্ক ডিএনএ-এর হার বৃদ্ধির উপর ভিত্তি করে বিজ্ঞানীরা নির্ণয় করেন!
অতএব এটা বলা কতটা যৌক্তিক যে, ৩৯০ মিলিয়ন বছর পূর্বের প্যালিওস্পন্ডিলাস মানুষের পূর্বসূরি? এ সকল অপব্যাখ্যা যারা প্রচার করে তাদের কী কমনসেন্সটাও নেই? বিজ্ঞানীরা অত্যন্ত ক্ষমতাবান Riken Sprinh 8 Syncrotron ব্যবহার করেছে এ ফসিলটি হায় রেজোলিউশনের মাইক্রো সিটিস্ক্যান তৈরি করার জন্য। এ ফসিলটি অন্যান্য ফসিল থেকে একটু আলাদা ছিল। এর মাথাটি পাথরের নিচে গ্রোথিত ছিল। গবেষকরা পদ্ধতিগতভাবে উচ্চ রেজোল্যুশনের স্ক্যানিং করে এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফিচার প্রকাশ করেছেন, প্রথমত, বিজ্ঞানীরা দেখেছেন এর রয়েছে চারটি সেমি সার্কুলার ক্যানেল, যেটি সুস্পষ্টভাবে চোয়ালযুক্ত মেরুদণ্ডী প্রাণীদের ভেতরের কানের কথা বলছে। এটি একটি ইস্যু সমাধান করে। পূর্বে ভাবা হয়েছিল প্যালিওস্পন্ডিলাস বিবর্তনীয় ভাবে চোয়ালহীন মেরুদণ্ডীদের পূর্বসূরি।
তারপর তারা ক্রেনিয়াল বৈশিষ্ট্যের মূল চাবিকাঠি খুঁজে পান যা তাদেরকে টেট্রাপোডোমর্ফের অন্তর্ভুক্ত করে। যা টেট্রাপডদের চারপেয়ে প্রাণীতে পরিণত করে এবং চারপেয়ে প্রাণীদের সকল নিকটবর্তী পূর্বসূরি। কয়েকটি বিশ্লেষণ বলছে যে, পেলিওস্পন্ডিলাস পা বিশিষ্ট টেট্রাপডদের খুবই নিকটবর্তী যদিও অনেকে মনে করে টেট্রাপডদের এখনো ফিন রয়ে গেছে। যাইহোক, টেট্রাপডদের মতো, সাধারণত তাদের দাঁত, ত্বকের হাড়, যুগল অ্যাপেন্ডেজ নেই। যদিও এ বৈশিষ্ট্যগুলো সে সময়কার আরও অনেক প্রাণীর মধ্যে উপস্থিত ছিল যারা স্কটল্যান্ডের আচনারাস মাছের বেডে বাস করতো।
এ বৈশিষ্ট্যগুলির অভাবকে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে উন্নয়নমূলক বৈশিষ্ট্যগুলির একটি সেটের বিভাজন দ্বারা, যার ফলে একটি লার্ভা সদৃশ দেহ তৈরি হয়। এ বৈশিষ্ট্যগুলো বিবর্তনীয়ভাবে হারিয়ে গেছে কিনা অথবা স্বাভাবিক বিকাশের বৈশিষ্ট্যগুলো বরফে পরিণত হয়েছে তা কখনোই জানা যাবেনা। তবে এ হেট্রোকোনিক ইভোলিউশন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মত নতুন বৈশিষ্ট্যের বিকাশকে সহজতর করে।
তথ্যসূত্র:
Palaeospondylus: Long-standing mystery of vertebrate evolution solved using powerful X-rays
মানুষ কী মাছ থেকে এসেছে? মানুষ কী মাছ থেকে এসেছে?


