Can't find our books? Click here!
মাত্র ২৪ ঘণ্টার চিকিৎসায় জন্ম নিল ব্যাঙের হারানো পা

২৪ ঘণ্টার চিকিৎসায় জন্ম নিল ব্যাঙের পা

স্যালাম্যান্ডার, স্টারফিশ, কাঁকড়া ও টিকটিকি এদের হারানো অঙ্গ পুনরুৎপাদন করতে পারে। চ্যাপ্টাকৃমিকে বহু খণ্ডে বিভক্ত করলেও প্রতিটি খণ্ড একটি পূর্ণাঙ্গ দেহ গঠন করতে পারে। মানুষের দেহে ক্ষত সারাতে টিস্যুর বৃদ্ধি ঘটে এবং আমাদের যকৃতেরও অনেকটা চ্যাপ্টাকৃমির মতোই পুনর্গঠনের ক্ষমতা আছে, ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হারিয়ে ফেলা যকৃতও পূর্ণ গঠন ফিরে পেতে পারে। কিন্তু হাত বা পায়ের মতো জটিল কোনো অঙ্গের এ রকম প্রাকৃতিক রিজেনারেশন ক্ষমতা নেই। কেমন হতো যদি দুর্ঘটনা বা রোগের কারণে হারানো কোনো অঙ্গ আমরা আবার ফিরে পেতাম?

সম্প্রতি টাফটস বিশ্ববিদ্যালয় ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা এক তাক লাগানো কাজ করেছেন। প্রাপ্তবয়স্ক ব্যাঙ অঙ্গহানি ঘটলে সেটা পুনরুৎপাদন করতে পারে না। বিজ্ঞানীরা এজন্য একটি বিশেষ ধরনের রাসায়নিক ডিভাইস ব্যবহার করেন, যাকে বলা হয় ‘বায়োডোম’ । এটি একটি সিলিকন ক্যাপ, যাতে সিল্ক প্রোটিন জেলের মধ্যে পাঁচটি ভিন্ন ধরনের ড্রাগস পুরে দেওয়া হয়। তারপর এই ক্যাপ আফ্রিকার নখরযুক্ত এক ধরনের ব্যাঙ( Xenopus laevis) এর হারানো পায়ের ক্ষতস্থানে যুক্ত করে দেওয়া হয় এবং ২৪ ঘণ্টার জন্য রেখে দেওয়া হয়। ব্যবহৃত প্রতিটি ড্রাগের কাজের ধরন ছিল স্বতন্ত্র, যার মধ্যে রয়েছে প্রদাহ কমানো, দাগ সৃষ্টিকারী কোলাজেন তৈরিতে বাধা দেওয়া এবং স্নায়ুতন্তু, রক্তনালি ও পেশির বৃদ্ধিকে উদ্দীপ্ত করা। পরবর্তী ১৮ মাসে বিজ্ঞানীরা উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখতে পান। Read more: প্রজননক্ষমতাসম্পন্ন জীবন্ত রোবট?

কী ধরনের পরিবর্তন দেখতে পান, সেটা জানার আগে আমাদের জানতে হবে ঠিক কী ঘটে যখন কোনো প্রাণীর অঙ্গহানি ঘটে। প্রথমত, ক্ষতিগ্রস্ত অঙ্গের সংযোগস্থলে (যাকে বলা হয় স্টাম্প) স্টেম সেলের একটি পিণ্ড তৈরি হয়, একে বলে “ব্লাস্টেমা”। এই কোষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত অঙ্গ পুনরুৎপাদনে সক্ষম, কিন্তু উন্মুক্ত ক্ষতস্থান রক্তক্ষরণ ও সংক্রমণের প্রতি সংবেদনশীল বলে ক্ষতস্থানটি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ত্বকের কোষ দ্বারা আবৃত হয়ে যায়, যা এর নিচের টিস্যুগুলোর পুনর্গঠন নিশ্চিত করে, কিন্তু একই সাথে অঙ্গের পুনরুৎপাদনও অসম্ভব হয়ে পড়ে। ঠিক এই ২৪ ঘণ্টার ঘটনাগুলোকেই বিজ্ঞানীরা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেন, তবে গতানুগতিক পন্থার বাইরে গিয়ে।

মাত্র ২৪ ঘণ্টার চিকিৎসায় জন্ম নিল ব্যাঙের হারানো পা

সাধারণত থেরাপি কোনো অঙ্গের কোষের পুনরুৎপাদনকে প্রভাবিত করতে পারে। কিন্তু ৫টি ড্রাগের এই ককটেল একেবারে ভ্রূণীয় অবস্থায় মানুষের দেহ অর্গানোজেনেসিসের যে প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যায়, সেই প্রক্রিয়াকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্রিগার করতে সক্ষম। গবেষকেরা এমন কিছু মেকানিজম পর্যবেক্ষণ করেন, যেগুলো ড্রাগসের অত্যন্ত ক্ষণস্থায়ী প্রয়োগের পর ক্ষতিগ্রস্ত স্থানকে দীর্ঘমেয়াদি বৃদ্ধির দিকে ধাবিত করে। চিকিৎসার প্রথম কয়েকদিনের মধ্যেই তারা সেইসব আণবিক পথ শনাক্ত করেন, যেগুলো সাধারণত একটি বিকাশমান ভ্রূণকে শরীরের আকৃতি তৈরিতে সহায়তা করে। এই পথগুলো একবার সক্রিয় হয়ে ওঠার পর টিস্যুর বৃদ্ধি ও সংগঠনের কাজ নিজেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, কোনো থেরাপির মধ্যস্থতা ছাড়াই। ফলাফল? ১৮ মাসের দীর্ঘকালীন বৃদ্ধি শেষে পরীক্ষাকৃত ব্যাঙের বেশিরভাগেরই স্বাভাবিক ব্যাঙের মতোই একটি হাড়, নিউরনসমেত অভ্যন্তরীণ টিস্যু এবং অগ্রাংশে বেশ কয়েকটি আঙ্গুলসহ একটি মোটামুটি কার্যকরী পা দেখা যায়। এই পা বাইরের উদ্দীপকের প্রতি সাড়া প্রদানে সক্ষম। এমনকি ব্যাঙগুলো অনেকটা স্বাভাবিক ব্যাঙের মতোই এই পা পানিতে সাঁতরাতেও ব্যবহার করতে পারে।

 ব্যাঙের হারানো পায়ের এই পুনরুৎপাদনের ঘটনা বিজ্ঞানীদের এখন আশার আলো দেখাচ্ছে। ব্যাঙের এই চলনসই পাগুলো থেকে কীভাবে পুরোপুরি কার্যকরী পায়ে উন্নীত করা যায়, সেদিকেই এখন নজর বিজ্ঞানীদের। সাইন্স এডভান্সেসে প্রকাশিত গবেষণাপত্রের সংশ্লিষ্ট লেখক মাইকেল লেভিন বলেন, “আমরা পরীক্ষা করে দেখব কীভাবে এই চিকিৎসাটি স্তন্যপায়ীদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যায়। বায়োডোমের নিচে তরল পরিবেশে সঠিক ড্রাগ ককটেল ক্ষতস্থানকে পুনরুৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সংকেত প্রদান করে। ” তাঁর মতে, এমনকি প্রাপ্তবয়স্ক প্রাণীর দেহেও তাদের শরীর গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষিত থাকে, এই পদ্ধতি হলো সেই সুপ্ত ও সহজাত এনাটমিক্যাল প্যাটার্নিং প্রোগ্রামকে ট্রিগার করারই একটি কৌশল। কে-ই বা বলতে পারে, স্তন্যপায়ীদের ক্ষেত্রে এই কৌশল প্রয়োগের ইতিবাচক ফলাফল একদিন আমাদেরও হারানো অঙ্গ ফিরিয়ে দিতে পারবে না?

তথ্যসূত্র :

গুগল এডসেন্সঃ ২৪ ঘণ্টার চিকিৎসায় জন্ম নিল ব্যাঙের পা/ ২৪ ঘণ্টার চিকিৎসায় জন্ম নিল ব্যাঙের পা

২৪ ঘ২৪ ঘণ্টার চিকিৎসায় জন্ম নিল ব্যাঙের পা