নারীর ভ্যাজাইনার মুখে এক খণ্ড ক্ষুদ্র টিস্যু থাকে যেটি আংশিকভাবে ভ্যাজাইনার মুখকে কাভার করে রাখে, এ কাভারটির নাম হলো হাইমেন। নারীর যোনির মুখের এ পাতলা কাভারটিকে তার ভার্জিটিনির চিহ্ন মনে করা হয়। কিন্তু এটি আসলে সত্যি নয়। নারীর এ কাভার বিভিন্ন কারণে প্রসারিত ও ছিঁড়ে যেতে পারে। যেমন হর্স রাইডিং, জিমনেস্টিক অথবা ট্যাম্পুনের ব্যবহার। নারীর হাইমেন বা সতীচ্ছদকে কেন্দ্র করে অসংখ্য মিথ আছে। অনেকের মতে হাইমেনের কেন্দ্রে একটি ছিদ্র থাকে, যেটি ম্যানিস্ট্রুয়াল রক্তকে নির্গমন হতে সহযোগিতা করে।
যাইহোক, হাইমেন কোনো পারফেক্ট বৃত্ত নয়। একটি হাইমেনের মধ্যে বিভিন্ন ছিদ্র থাকতে পারে। আর একটি মিথ হলো হাইমেন সেক্সের সময় “ভেঙে” যায়, যেখান থেকে রক্তপাত হয়। এটা সত্য যে হাইমেন সেক্সের সময় প্রসারিত ও ছিঁড়ে যেতে পারে কিন্তু এটি সবসময় সঠিক নয়। সেক্সের সময় এটি নাও ছিঁড়তে পারে। কোনো কোনো নারী হাইমেন ছাড়াই জন্মায় এবং অন্যান্যদের এমন কোনো হাইমেন থাকতে পারে যা খুবই ইলাস্টিক এবং সহজে ছেঁড়া যায় না। এমনকি কখনো যদি এটি ছিঁড়েও যায়, এখান থেকে ব্লিডিং হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। আসলে প্রথমদিন সেক্স করলে ভার্জিন নারীর ব্লিডিং ও পেইন হয়-এ ধারণাটি সর্বজনীন নয়, কিছু কিছু নারীর জাগরণ, উত্তেজনা এবং পরিমিত লুব্রিকেশনের অভাবেও পেইন ও ব্লিডিং হতে পারে। ইনফেকশন, সার্ভিক্স ইস্যু, ভ্যাজাইনাল ইস্যু, পলিপস ও ট্রমার কারণেও এটি ঘটতে পারে। সেক্সের সময় রক্ত ঝরা একজন নারীর সুস্থ্যতার প্রকাশ নয়। এটি এমন কিছু প্রমাণ করে না যে সে অপবিত্র!
কিছু কিছু পুরুষ আছে যারা সেক্সের সময় নারীর ব্যাথাদায়ক চেহারা দেখলে সেক্সচুয়ালি মোটিভেটেড হয়। কিন্তু এটা নির্ভর করে স্পেসিফিক সেক্সচুয়াল ফেটিশ বা প্রিফারেন্সের ওপর। তবে তারা কেন নারীকে কষ্ট দিয়ে আনন্দ পায়, সেটি একটি জটিল প্রসঙ্গ । “BDSM” নামক একটি ব্যাপার আছে যেখানে ব্যাথা ও অপমান সেক্সের প্রধান উদ্দেশ্য।
“অনেক মানুষ বিশ্বাস করে, হাইমেন ছিঁড়ে গেলে একজন নারী তার ভার্জিনিটি হারায়। কিন্তু ভার্জিনিটি নষ্ট হওয়া বলতে মূলত কী বোঝায়? বিয়ের পূর্বে কারও সাথে সেক্স করা অথবা হাইমেন ফেটে যাওয়া? একজন নারী খুব সম্ভবত ১৩-১৪ বছরের কাছাকাছি কোনো বয়স থেকেই মাস্টারবেট করা শুরু করে। মাস্টারবেশন তার জন্য খুবই স্বাভাবিক ও স্বাস্থ্যকর একটি চর্চা। গবেষকরা ১০০০ নারীর ওপর একটি পরিসংখ্যান পরিচালনা করে দেখেছিলেন,৯২% নারী দিনে অন্তত একবার মাস্টারবেট করেন বলে বিবৃত্তি দিয়েছিলেন।একটি সাক্ষাৎকারে একজন নারী বলেন, আমি সপ্তাহে ৫ দিন মাস্টারবেট করি। প্রতি সেশনে আমার ১২ মিনিট লাগে এবং ৩ বার অর্গ্যাজম হয়। এক সপ্তাহে আমি ৭,০৮০ মিনিট জাগ্রত থাকি এবং প্রতি সপ্তাহে মাস্টারবেট করে আমার সময় কাটে ৬০ মিনিট। প্রতি সপ্তাহে প্রায় .৮৪ শতাংশ সময় কাটে আমার মাস্টারবেট করে। আমি প্রতিদিন ১,০৮০ মিনিট জাগ্রত থাকি এবং ১,০৮০ মিনিট সময়ের মধ্যে ১২ মিনিট সময় মাস্টারবেট করার জন্য । এর অর্থ হলো প্রতিদিন আনুমানিক ১.১ শতাংশ সময় কাটে আমার মাস্টারবেট করে। এক একজন নারীর মাস্টারবেশন হার এক একপ্রকার। এটা নির্ভর করে তার দেহের শব্দের ওপর।”
একজন নারীর মাঝে মাস্টারবেট করার সময় এক বা একাধিক পুরুষের প্রতি ফ্যান্টাসি তৈরি হতে পারে, সে তার কোনো একজন বন্ধুকে চিন্তা করতে পারে, কোনো সেলিব্রেটি অথবা অভিনেতার কথা চিন্তা করে মাস্টারবেট করতে পারে। যোনিতে ক্রমবর্ধমান ফিঙ্গারিং করার কারণে তার হাইমেন ফেটে যেতে পারে। এখানে একটি প্রশ্ন জাগ্রত হয়, যদি কারও মস্তিষ্কের নিউরনে অন্য কোনো পুরুষ প্রবেশ করে তার ভার্জিনিটি নষ্ট হবে?
অনেক সময় একজন নারী মাস্টারবেট করার পরও দেখা যায়, ইলাস্টিক প্রকৃতির কারণে হাইমেন অক্ষত আছে। এক্ষেত্রে মানসিকভাবে তাকে ভার্জিন বলা যাবে?
“গবেষকরা দেখিয়েছে, নারীও পুরুষের মতো “WET DREAM” দেখে। পুরুষের মতো নারীরও “স্লিপ অর্গ্যাজম” হয়। ১৯৫৩ সালে, আলফ্রেড কিনসে ৫,৬২৮ জন নারীর সাক্ষাৎকার নিয়ে নিশ্চিত হয়েছিলেন ৪৫ বছর বয়সের মধ্যে একজন নারী অন্তত একবারের জন্য হলেও “nocturnal orgasm” অথবা “WET DREAM” এক্সপেরিয়েন্স করেছে। ১৯৮৬ সালে জার্নাল অব সেক্স রিসার্চে একটি ক্ষুদ্র গবেষণা পরিচালনা করা হয়েছিল, যেখানে বলা হয়েছিল ২১ বছর বয়সের মধ্যেই ৮৫ শতাংশ নারী “উইট অর্গ্যাজমের” অভিজ্ঞতা লাভ করেছিল। যে সকল নারী তার জীবনে স্লিপ অর্গ্যাজমের অভিজ্ঞতা লাভ করেনি, এটা তার জন্য খুবই স্বাভাবিক। পুরুষের অর্গ্যাজম সহজে তার ইজ্যাকুলেশনের চিহ্ন থেকে শনাক্ত করা যায়, আর নারীর অর্গ্যাজম নির্ভর করে ভ্যাজাইনাল সেক্রেশনের ওপর। একজন নারী ঘুমের মধ্যে কী ধরনের উইট ড্রিম দেখবে সেটা তার মস্তিষ্ক নির্ধারণ করে না। কারণ স্বপ্ন দেখার সময় মানুষের মস্তিষ্কের ডর্সোল্যাটারিয়াল প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্স ডিঅ্যাকটিভেট থাকে, আর তাই সে তার স্বপ্নের ওপর লজিক্যাল কন্ট্রোল তৈরি করতে পারে না। ”
একজন নারী যদি স্বপ্ন দেখে দুজন পুরুষ তাকে অ্যাপ্রোচ করছে, এখানে তার মস্তিষ্কের কোনো সচেতন কন্ট্রোল নেই, সে স্বপ্নে শিক্ষকের সাথে ইন্টারেক্ট করতে পারে অথবা সে কোনো ট্যাবু রিলেশনেও জড়াতে পারে।
প্রশ্ন হলো, একজন নারী যদি ২১ বছর বয়সেই স্বপ্নে অন্য কোনো পুরুষের সাথে সেক্স করে, তবে কী তার ভার্জিনিটি নষ্ট হবে? একজন নারী যদি ওরাল সেক্স করে তার হাইমেন ফাটবে না, আপনি কী এমন কোনো নারীকে ভার্জিন বলবেন, যে নিয়মিত তার বয়ফ্রেন্ডের পেনিস সাক করেছে কিন্তু তার হাইমেন কিছুই হয়নি? আপনি কী এমন কোনো নারীকে ভার্জিন বলবেন, যে অ্যানাল সেক্স পছন্দ করে কিন্তু তার হাইমেন একদম সতেজ? একজন নারীকে পবিত্র ও অপবিত্র বলার পূর্বে, আপনাকে প্রথমত ভার্জিনিটির ডেফিনিশন নির্ধারণ করতে হবে।
কোনো কোনো সংস্কৃতিতে ভার্জিনিটি পবিত্র আর কোনো কোনো সংস্কৃতিতে এটা একটা কুসংস্কার। এখান থেকে এটাই প্রমাণিত হয় যে, ভার্জিনিটি একটি সামাজিক কনসেপ্ট, যার কোনো বাস্তবতা নেই।
Read More Article:
অর্গ্যাজম কী? অ্যানাল অর্গ্যাজমের বায়োলজি?
ভার্জিন নারীর অস্তিত্ব আছে?/ভার্জিন নারীর অস্তিত্ব আছে?/ভার্জিন নারীর অস্তিত্ব আছে?


