হ্যাপ্টিক টেকনোলজি
মূলপাতা বিজ্ঞাননিউরোসায়েন্স হ্যাপ্টিক টেকনোলজি

হ্যাপ্টিক টেকনোলজি

লিখেছেন অ্যান্ড্রোস লিহন
218 বার পঠিত হয়েছে

হ্যাপ্টিক টেকনোলজি ; ইন্টারনেটের ভেতর মহাবিশ্বের ফিজিক্যাল সেনসেসন

 

আপনি হলোডেকের ভেতর সেন্সেশন ফিল করতে পারবেন, মনে হবে সম্পূর্ণ রিয়েল।এই টেকনোলজিকে বলা হয় হ্যাপ্টিক ট্যাকনোলজি(haptict echnology)।এটি হলো এমন একটি ডিজিটাল ট্যাকনোলজি যেটি সিমুলেশনের মাধ্যমে সেন্স অব টাচ তৈরি করতে পারে…!বিজ্ঞানী নিকোলা বলেছিলেন ভবিষ্যতে আমরা হলোডেকের মতো জীবন্ত রিয়েলিটি তৈরি করতে পারবো!

আজ আমরা মিচিও কাকুর Future of The Mind গ্রন্থ থেকে ব্রেন টু ব্রেন ইন্টারফেস এবং হলোডেক (Holodeck) সম্পর্কে আলোচনা করবো। ব্রেন টু ব্রেন ইন্টারফেস নিয়ে কাজ করেন এমন একজন বিজ্ঞানীর কথা যদি বলি তবে প্রথমত বলতে হয় নিকোলিসের নাম! ডঃনিকোলিস একবার বানরের মস্তিষ্কে একটি ন্যানোচিপ বসিয়ে দিয়ে সেটিকে  সরাসরি ইন্টারনেটের সাথে Connect করে দেন। পৃথিবীর অপরপ্রান্তে, জাপানের কিওটো তে একটি রোবট যে মানুষের মতো হাঁটতে সক্ষম তাকে বানরের মস্তিষ্কের ইলেক্ট্রিক্যাল সিগনালের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছিলো।রোবটটির নাম CB-1, একটি হিউমোনয়েড রোবট।বানরটি ছিলো ট্রিডমিলে, সে ট্রিডমিলে রান করতে করতে ইন্টারনেটের মাধ্যমে তার ব্রেন সিগনাল পাঠিয়ে রোবটির হাঁটার পদ্ধতি নির্দিষ্ট করে দিচ্ছিলো!

ব্রেন টু ব্রেন মেশিনের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এটির কোনো অনুভূতি নেই।যেমন-মেকানিক্যাল আর্মস মস্তিষ্কের সিগনাল রিড করতে পারে কিন্তু এটি কোনো বস্তুকে টাচ করলে তার সলিডিটি অনুভব করতে পারেনা।এ রোবটিক হ্যান্ড যদি কারো সাথে হ্যান্ডসেক করে তবে হয়তো তার আঙ্গুল কুচকে দেবে। এ সমস্যাটির সমাধানের জন্যে এমন কিছু প্রয়োজন যার মাধ্যমে সেন্স অব টাচ তৈরি করা যায়।

ডঃনিকোলিস এ সমস্যাটি সমাধান করার জন্যে একটি উপায় বের করলেন।ব্রেন টু ব্রেন সিগনাল।প্রথমে সেন্সর যুক্ত ম্যাকানিক্যাল হ্যান্ডে মস্তিষ্ক একটি সিগনাল সেন্ড করবে।  তারপর, ম্যাকানিক্যল হ্যান্ড আবার সিগনালটি মস্তিষ্ককে ফেরত দেবে! তথা মস্তিষ্কের সিগনাল মস্তিষ্কের কাছেই ফিরে যাবে, এই ফিডব্যাকের মাধ্যমে “Sensation of Touch” তৈরি করা সম্ভব!

রিসাস[Rhesus] নামক একশ্রেণীর বানর আছে যাদের মস্তিষ্কের মোটর কর্টেক্সকে মেকানিক্যাল আর্মের সাথে যুক্ত করে দেয়া হয়, এই মেকানিক্যাল আর্মের নিজস্ব সেন্সর আছে।এই মেকানিক্যাল আর্ম সিগনালটিকে মস্তিষ্কের সোমাটোসেন্সরি কর্টেক্সে [somatosensory cortex ] ব্যাক করে যে কর্টেক্সটি আমাদের মস্তিষ্কে Sensation of Touch তৈরি করার জন্যে অপরিহার্য!তার মানে আমরা আমাদের মস্তিষ্কে সেনশেসন চ্যানেল তৈরি করতে পারি যে চ্যানেলের মাধ্যমে স্কিনের সেন্স তৈরি করা সম্ভব!

মিচিও কাকু এই আইডিয়াটিকে হলোডেকের সাথে তুলনা করেছেন যার ভেতর দিয়ে আমরা ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে ভ্রমণ করি কিন্তু ভার্চুয়াল অবজেক্টগুলিকে আমাদের কাছে সলিড মনে হয়, আপনি হলোডেকের ভেতর সেন্সেশন ফিল করতে পারবেন, মনে হবে সম্পূর্ণ রিয়েল।এই টেকনোলজিকে বলা হয় হ্যাপ্টিক ট্যাকনোলজি(haptict echnology)।এটি হলো এমন একটি ডিজিটাল ট্যাকনোলজি যেটি সিমুলেশনের মাধ্যমে সেন্স অব টাচ তৈরি করতে পারে…!বিজ্ঞানী নিকোলা বলেছিলেন ভবিষ্যতে আমরা হলোডেকের মতো জীবন্ত রিয়েলিটি তৈরি করতে পারবো!

কিন্তু হলোডেক আসলে কী জিনিস?এটা বুঝতে হলে  প্রথমত আপনাকে ইন্টারনেটের সাথে কন্টাক্ট করতে পারে এমন একটি লেন্স পরিধান করতে হবে।আমরা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যেমন ইন্টারনেট কানেক্ট করে বিভিন্ন মুভি ও ইনফরমেশন দেখতে পারি ঠিক তেমনি সেই লেন্সটি পরিধান করার পর আপনি ইন্টারনেটের ভেতর দিয়ে সর্বত্র একটি ভার্চুয়াল রিয়ালিটি দেখতে পাবেন।আপনার লেন্সের প্রতিটি সিনারি ইনস্ট্যান্টলি একটি সুইচ অন করার সাথেসাথে পরিবর্তিত হতে শুরু করবে।আপনি যখন এই ভার্চুয়াল জগতের কোনোকিছু স্পর্শ করবেন সাথেসাথে BMBI প্রযুক্তি আপনার মস্তিষ্কে Sense of Touch তৈরি করবে যেটা আমরা কিছুক্ষণ পূর্বে আলোচনা করেছি।মস্তিষ্ক থেকে ম্যাকানিক্যাল হ্যান্ডে আগত সিগনাল পূণরায় সোমাটোসেন্সরি কর্টেক্সে ফিরে গেলে Sense of Touch তৈরি হয়।আপনি ইচ্ছে করলে হলোলেন্সের মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো সেলিব্রেটির সাথে সেক্স করতে পারবেন, ফোর্স ফিল্ডকে [EMF]ব্যাবহার করেই।আপনার সমস্ত স্বপ্ন হ্যাপ্টিক টেকনোলজির মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে।শুধু একবার সুইচ অন করবেন আর সাথে সাথে ফোর্স ফিল্ড একটিভ হয়ে যাবে এবং আপনি আপনার পছন্দের কোনো একজন তারকার ব্রেস্ট স্পর্শ করতে পারবেন, পেনিস সাক করার অনুভূতি ফিল করতে পারবেন যেটা হবে আমাদের প্রচলিত বাস্তবতার চেয়ে আরো অনেক বেশি আপডেট এবং ভাইব্রেশনাল।আপনি বিশ্বের যেকোনো রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করতে পারবেন, তাদের খাবারের টেস্ট গ্রহণ করতে পারবেন এবং আপনি চাইলে এভারেস্টের চুড়ায় ঘুরে বেড়াতে পারবেন!আপনার কাছে সম্পূর্ণ ভার্চুয়াল রিয়াল্মকে রিয়াল মনে হবে।আপনার যদি ঘুমুতে ইচ্ছে করে আপনি শুধুমাত্র সুইচ অন করবেন আর ইন্টারনেটের ভেতর দিয়ে আপনি বিশ্বের যেকোনো উন্নত মাপের বাসভবনে শুয়ে থাকতে পারবেন, হ্যাপ্টিক ট্যাকনোলজি সেন্স অব সেন্সেশনের মাধ্যমে আপনার নিকট ভার্চুয়াল রিয়ালিটিকে সলিড করে তুলবে!

হ্যাপ্টিক টেকনোলজি; এর কী কোনো বাস্তব প্রয়োগ হয়েছে?

 

২০১৩ সালে ডঃ নিকোলা এমন এক বিষ্ময়কর ঘটনা ঘটিয়েছেন যেটা স্টার টার্ককে অতিক্রম করে! দুটো মস্তিষ্কের মধ্যে “mind meld”  ঘটাতে সক্ষম হয়েছিলেন তিনি।এটা করা হয়েছিলো দুটো ইঁদুরের মধ্যে।একটি ইদুর ছিলো ডিউক ইউনিভার্সিটিতে এবং অন্যটি ব্রাজিলের নাটালে।প্রথম ইঁদুরটিকে বলা হয়েছিলো সে যোনো লাল আলো দেখার সাথেসাথে একটি লেভারে প্রেস করে এবং অন্য ইঁদুরটিকে বলা হয়েছিলো তার মস্তিষ্কে সিগনাল দ্বারা সিমুলেটেড হওয়ার পর সে যেনো লাভারে প্রেস করে।নিকোলি দুটো ব্রেনকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে খুব সুন্দরভাবে কানেক্ট করতে পেরেছিলেন!সফলতার সাথে দুটি ইঁদুর একে অপরকে রেসপন্স করেছিলো!শুধু তাই নয় “mind meld” এর মাধ্যমে দুটি ব্রেনকে একটিতে পরিণত করা যায়। যেটা আমরা সায়েন্স ফিকশন মুভিতে দেখি।

 

হ্যাপ্টিক টেকনোলজি; তাহলে কী ব্রেন নেট সম্ভব?

 

এ থেকে নিকোলি সিদ্ধান্তে এসেছিলেন যে “brain Net” সম্ভব, এমন একটা সময় আসবে যখন ইন্টারনেটের মাধ্যমে সমস্ত বিশ্বের সকল মানুষের ব্রেনকে একটি ব্রেনে পরিণত করা যাবে…!

২০১৩ সালে বিজ্ঞানীরা সরাসরি দুজন মানুষের মস্তিষ্ককে ইন্টারনেটের মাধ্যমে কানেক্ট করতে সক্ষম হয়েছিলেন এবং তারা সফলতার সাথে একে অপরকে রেসপন্স করেছিলো..!এই মাইলস্টোন ঘটনাটি ঘটেছিলো ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটিতে যেখানে একজন বিজ্ঞানী তার ব্রেন পালস অন্য আর একজন বিজ্ঞানীর মস্তিষ্কে সেন্ট করেছিলেন।প্রথম বিজ্ঞানী EEG হেলমেট পড়ে ভিডিও গেমস প্লে করছিলেন।সে মনে মনে তার হাত মুভ করার কথা স্মরণ করছিলো যদিও সে ফিজিক্যালি মুভ করেনি।

EEG হেলমেট থেকে এই সিগনালটি ইন্টারনেটের মাধ্যমে অন্য আর একজন সায়েন্টিস্টের কাছে যায় যিনি transcranial magnetic হেলমেট পরিধান করেছিলেন, এটি তার মস্তিষ্কের সে অংশে বসানো হয়েছিলো যেটি তার ডান হাত নিয়ন্ত্রণ করে।সিগনালটি তার ব্রেনে যাওয়ার সাথেসাথেই, তার মস্তিষ্কের ভেতর হেলমেট থেকে একটি ম্যাগনেটিক পালস যায় এবং অনৈচ্ছিকভাবে তার ডান হাত মুভ করতে থাকে।এর থেকে প্রমাণিত হয় একজন মানুষের ব্রেন অন্য আর একজনের মুভমেন্ট নিয়ন্ত্রণ করতে পারে!

এটি আমাদের কাছে নতুন একটি সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেয়, যেমন আমরা ম্যাগনেটিক পালসের মাধ্যমে ডান্স শেখাতে পারবো, ক্যারাটে শেখাতে পারবো, ক্রিকেট এবং ফুটবল খেলায় প্লেয়ারকে সরসরি দিক নির্দেশনা দিতে পারবো, আমরা আমাদের ব্রেন সিগনাল দিয়েই অন্যদের গান শেখাতে পারবো;শুধু তাই নয় আমরা বহু দূর থেকেই পোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ শেখাতে পারবো এবং টেকনোলজিক্যাল বিষয়গুলি খুব সহযে একে অপরের কাছে পরিচ্ছন্ন করতে পারবো।এ প্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা আমাদের নন-ভার্বাল আবেগ অনুভূতিগুলি একে অপরকে বোঝাতে পারবো..!একাকীত্ব বা ডিপ্রেসনের কোনো অস্তিত্বই থাকবেনা হয়তো..!

হ্যাপ্টিক টেকনোলজি ; এটি কী তবে আল্টিমেট কমিউনিকেশন?

 

কি-বোর্ডের মাধ্যমে সোশ্যাল নেটওয়ার্কে পার্টিসিপেট না করে আমরা ব্রেন নেটের মাধ্যমে সরাসরি টেক্সট মেসেজ বা ইমেইলের পরিবর্তে আমাদের চিন্তা,কল্পনা,স্বপ্ন এবং আবেগ অনুভূতি সেন্ড করতে পারবো।বর্তমানের মোবাইল ফোনগুলি শুধু মাত্র ইনফরমেশন বহন করে, আমরা এর মাধ্যমে মেসেজ,ভিডিও এবং অডিও সেন্ড করতে পারি, ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বডি ল্যাঙ্গুয়েজ পাঠাতে পারি।কিন্তু ব্রেন নেট হবে আল্টিমেট কমিউনিকেশন!

আমরা এর মাধ্যমে একে অপরকে নুইস্যান্স, ডিফেমেশন অথবা গভীরতম ইমোশন সেন্ড করতে সক্ষম হবো।।

 

আমাদের প্রাসঙ্গিক আর্টিকেলগুলি পড়ুনঃ 

 

হ্যাপ্টিক টেকনোলজি ; তথ্যসূত্র-

আরও পড়ুন

Leave A Comment...

হাইপারস্পেস
চিন্তা নয়, চিন্তার পদ্ধতি জানো...!