হোমো বোডোয়েনসিস

বিজ্ঞানীরা মানুষের নতুন এক পূর্বসূরির কথা বলছেন যদিও তার মাথার খুলিটি পাওয়া গেছে অনেক পূর্বে। এখন যার নামকরণ করা হয়েছে “Homo Bodoensis” __ যেটি অর্ধ মিলিয়ন থেকেও অনেক পূর্বে আফ্রিকায় বসবাস করতো বলে জানা যায়। তারা ধারণা করছেন, নতুন এ প্রজাতি হয়তো মানব সভ্যতার সরাসরি পূর্বসূরি। Live Science এর তথ্যমতে, এই হোমো বোডোয়েনসিসই সম্ভবত আমাদের নিকট ব্যাখ্যা করবে কীভাবে তাদের উত্তরসূরি মানুষরা ভবিষ্যতের দিকে অগ্রসর হয়েছিল এবং ছড়িয়ে পড়েছিল সমস্ত বিশ্বে।২৮ শে অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিজ্ঞানীরা তাদের এ নতুন আবিষ্কারের বিস্তারিত একটি জার্নালে ব্যাখ্যা করেছেন যার নাম Evolutionary Anthropology: Issues News, and Reviews। হোমো এরেক্টাস, হোমো ইরগেস্টার, নিয়ান্ডারথাল, হোমো ফ্লোরেনসিয়েসিস, ডেনিসোভান ও লুঙ্গিম্যান সহ মানব সভ্যতার অসংখ্য প্রজাতির মধ্যে একমাত্র মানুষই এ গ্রহে টিকে আছে। বিজ্ঞানীরা ইন্দোনেশিয়ান আইল্যান্ড ফ্লোরসকে হোমো ফ্লোরেনসিয়েসসিসদের বাসস্থান বলে থাকেন যাদেরকে অনেক সময় হাস্যকরভাবে হবিটও ডাকা হয় মানব দেহের অতি-খুদ্র প্রতিকৃতি। প্রাচীন জীবাশ্মগুলোর কোনটি কোন প্রজাতির এবং তারা কে কখন এসেছে, তাদের মধ্যকার ধারাবাহিকতা ব্যাখ্যা করাটা অত্যন্ত বিতর্কিত ও চ্যালেঞ্জিং একটি বিষয়। কিন্তু স্কেলিটনের তারতম্যের ভিত্তিতে বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছিলেন মানুষ ও নিয়ান্ডারথাল সম্পূর্ণ আলাদা দুটি প্রজাতি। সাম্প্রতিক বিপুল সংখ্যক জেনেটিক প্রমাণের প্রাচুর্যতার কারণে বিজ্ঞানীরা সিদ্ধান্তে এসেছেন যে মানুষ ও নিয়ান্ডারথাল একসময় আন্তঃপ্রজনন করেছিলো, মানব নারী নিয়ান্ডারথালের মা হয়েছিল এবং নিয়ান্ডারথালদের অবশ্যই কোনো অনন্য প্রজাতি বলা ঠিক নয়। নিয়ান্ডারথালদের মধ্যেও মানুষের জেনেটিক্যাল ম্যাটারিয়ালস ছিল, ছিলো ক্ষুদ্র ভগ্নাংশের মানবতা।

Homo bodoensis: Scientists discover new species of human ancestors, Science  News | wionews.com

নতুন এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা ৭৭৪,০০০ থেকে ১২৯,০০০ বছর পূর্বের মধ্য পাইলোসিনের ( বর্তমানে এটিকে বলা হয় “Chibanian” ) সময়কার একটি ফসিল ডেটিং করেছিল। আমাদের পূর্ববর্তী স্টাডি বলেছিল, মানুষ এ সময় আফ্রিকাতে জাগ্রত হয়েছিল আর অন্যদিকে নিয়ান্ডারথাল দেখা দিয়েছিল ইউরেশিয়ায়। কিন্তু মানব বিবর্তনের মূল পাতায় কী লিখা ছিলো তা কেউই পড়তে পারেনি __এটি এমন একটি সমস্যা যে সমস্যাটিকে জীবাশ্মবিদরা “The muddle in the middle” বলে থাকেন।

চিবানিয়ান( আগে যেটাকে পাইলোসিন বলা হতো) যুগে আফ্রিকা ও ইউরোশিয়ার প্রাপ্ত ফসিল দুটি প্রজাতির ইঙ্গিত দিতোঃ হোমো হাইডেলবার্গেনসিস অথবা রোডেসিয়েনসিস। কিন্তু এ দুটি প্রজাতির মধ্যে ডেফিনিশন ও স্কেলিটনগত দিক থেকে অজস্র অসঙ্গতি ছিল। সাম্প্রতিক ডিএনএ এভিডেন্স সন্দেহ করছে যে, এইচ. হাইডেলবার্গেনসিস সম্ভবত প্রাথমিক নিয়ান্ডারথাল। কিন্তু অতি- সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ থেকে জানা যায়, পূর্ব এশিয়ার অজস্র ফসিলকে আমাদের আর হাইডেলবার্গেনসিস বলা উচিত নয়। কারণ তাদের ফেশিয়াল ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য যা চিবানিয়ান যুগে পূর্ব এশিয়ায় দেখা গিয়েছিল সেগুলো একইসময় ইউরোপ ও আফ্রিকায় দেখা ফসিলগুলো থেকে আলাদা।

এছাড়া চিবানিয়ান ফসিলগুলোকে মাঝেমাঝে এইচ. হাইডেলবার্গেনসিস এবং এইচ. রোডেসিয়েনসিসও বলা হতো। যদিও এইচ রোডেসিয়েনসিস অত্যন্ত খারাপভবে সঙ্গায়িত একটি লেবেল যা বিজ্ঞানে কখনো ব্যাপকভাবে গৃহিত হয়নি বিতর্কিত ইংরেজ সম্রাজ্যবাদের সেসিল রোডসের সাথে এর সংযোগের কারণে। এ কনফিউশনকে অতিক্রম করার জন্য বিজ্ঞানীরা এখন নতুন একটি প্রজাতির প্রস্তাব করছেন যার নাম এইচ. বোডেনসিয়েসিস যার নামকরণ করা হয়েছে ৬০০, ০০০ বছর পূর্বের একটি প্রাচীন খুলি থেকে যে খুলি পাওয়া গিয়েছিল ১৯৭৬ সালে ইথিওপিয়ার Bodo D’ar নামক জায়গায়। এ নতুন নামটি পূর্বে এইচ. হাইডেলবার্গেনসিস অথবা এইচ. রোডেসিয়েনসিস বলে চিহ্নিত ফসিলগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করবে। গবেষকরা বলছেন যে, হোমো বোডোয়েনসিস সেপিয়েন্সসের সরাসরি পূর্বসূরি, তাদের কাছ থেকেই মানুষের বিভিন্ন শাখা পৃথক হয়েছে আর একটা সময় রহস্যজনক নিয়ান্ডারথাল ও ডেনিসোভানদের বিবর্তন ঘটেছে, সাইবেরিয়ান ও তিব্বতীয়ান ফসিল রেকর্ড বলছে যে তারা তাদের নিয়ান্ডারথাল কাজিনের সাথে একই সময়ই বাস করেছিল। হোমো বোডোসিয়েনসিস না কি আফ্রিকা ও ইস্টার্ন মেডিটেরিয়ানের অধিকাংশ ফসিলকে ব্যাখ্যা করতে পারে। ইউরোপের অজস্র চিবানিয়ান হিউম্যান ফসিল নিয়ান্ডারথাল হিসেবে রি-ক্লাসিফায়েড হবে। হোমো হাইডেলবার্গেনসিস এবং হোমো রোডেসিয়েনসিস বিলুপ্ত হয়ে যাবে। গতকাল থেকে বিভিন্ন সায়েন্স নিউজ ও ওয়েবসাইটে এ নিয়ে ব্যাপকভাবে আলোচনা চলছে। গার্ডিয়ানেও Human Species who lived 500, 000 Years ago Name Homo Bodoensis শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তথ্যে কোনো অসঙ্গতি থাকলে অবশ্যই অবহিত করবেন। ধন্যবাদ।

মূল জার্নালঃ Evolutionary Anthropology: Issues News, and Reviews.

hsbd bg