সমকামীতার জিন ও বিবর্তন
মূলপাতা বিজ্ঞানবিবর্তন সমকামীতার জিন ও বিবর্তন

সমকামীতার জিন ও বিবর্তন

লিখেছেন অ্যান্ড্রোস লিহন
209 বার পঠিত হয়েছে

১৯৬৯ সালে, যখন নিউইয়র্ক Stonewall inn  আক্রমণ করেছিল এবং LGBT  আন্দোলনকারীদের অপ্রত্যাশিত প্রতিরোধের মুখোমুখি হয়েছিল, তখনও বেশিরভাগ দেশে সমকামিতা অপরাধ ছিল। এমনকি আরও সহিষ্ণু সমাজে, ক্লোসেট থেকে বেরিয়ে আসা প্রায়ই সামাজিক এবং পেশাদার আত্মহত্যার অনুরূপ ছিল। বিপরীতে, আজ সার্বিয়ার প্রধানমন্ত্রী প্রকাশ্যে সমকামী এবং আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী গর্বের সাথে সমকামী, যেমন অ্যাপলের সিইও এবং আরও অনেক রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, শিল্পী এবং বিজ্ঞানীরা রয়েছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, গড় রিপাবলিকান আজ ১৯৬৯ সালে অনুষ্ঠিত সাধারণ ডেমোক্র্যাটের তুলনায় এলজিবিটি ইস্যুতে অনেক বেশি উদার মতামত রাখে। ২০১২ সালে সমকামীতার উপর Empathy and Spirituality: Is there a Gay Advantage? শিরোনামে ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব সাইকোলজি এন্ড বিহেভয়ার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তারা একটি পরিসংখ্যান পরিচালনা করেছিলেন যেখানে অনলাইনে  ৫৮ জন হোমোসেকচুয়াল   ও ৪৬ জন হেট্রোসেকচুয়াল অংশগ্রহণ করেন । পরিসংখ্যানে দেখা যায় হোমোসেকচুয়ালরা হেট্রোদের তুলনায় অন্য মানুষদের প্রতি অনেক বেশি এম্পেথি অনুভব করে ও তাদের স্প্রিচুয়াল চিন্তা উচ্চমাত্রিক! পল ভেসে স্যামাওয়াদের উপর একটি গবেষণা করে দেখেছেন , সমকামিতাকে কিন সিলেকশন ও হেল্পার নেস্ট হাইপোথেসিস ( Helper nest Hypothesis ) দিয়ে এক্সপ্লেইন করা যায়। বিবিসি নিউজে তিনি বলেন, The idea is that gay people compensate for their lack of children by promoting the reproductive fitness of brothers or sisters, contributing money or performing other uncle-like activities such as babysitting or tutoring. Some of the gay person’s genetic code is shared with nieces and nephews and so, the theory goes, the genes which code for sexual orientation still get passed down.. । ভেসে তার ল্যাবে একবার দেখিয়েছেন যে জাপানিদের মধ্যে যারা সমকামী তারা ভাইপো ও ভাগ্নেদের  প্রতি খুবই যত্নসশীল, দয়াবান ও মনোযোগী কারণ তাদের নিজেদের কোনো সন্তান নেই এবং একই ফলাফল পাওয়া যায় ইউকে, ইউএস ও আমেরিকায়। সামাওয়া হিজড়ারা নিজেদের স্ট্রেইট হিসেবে পরিচয় দিতে পছন্দ করে ও তাদেরকে সমকামী বললে তারা সেটা পছন্দ করেনা কিন্তু তাদের মধ্যেও নিজেদের ভাইপো ও ভাগ্নেদের প্রতি অনেক বেশি আন্তরিকতা দেখা যায়! উইলিয়াম ক্রিমার বিবিসি নিউজে বলেন, helper in the nest theory সম্ভবত ব্যাখ্যা করতে পারবে কিভাবে সমকামীতার জেনেটিক ট্রেইট নির্বাচিত হয়েছে! সায়েন্টিফিক আমেরিকায় নভেম্বর ২০১৯ এ Why Is Same-Sex Sexual Behavior So Common in Animals? শিরোনামে একটি আর্টিকেল প্রকাশিত হয় যেখানে বলা হয়,  It’s long been considered an evolutionary puzzle, but new research suggests this may be the wrong way to think about it। সায়েন্টিফিক আমেরিকার প্রতিবেদন অনুসারে, প্রায় পনেরশত প্রজাতির প্রাণী সমকামীতা করে , অতএব এটি প্রকৃতিতে আকষ্মিক ঘটনা নয়। সেপিয়েন্স থেকে হোমো ডিউস

Why Is Same-Sex Sexual Behavior So Common in Animals?

                     Scientific America  Starfish exhibiting mating behavior. Credit:

সেখানে বলা হয়, বিগত দশকে সমকামীতার উপর অনেকগুলো হাইপোথেসিস প্রস্তাব করা হয়েছে এবং প্রায় সবগুলোতে এটিকে একটি বিবর্তনীয় প্যারাডক্স বলে আখ্যায়িত করার কথা বলা হয়েছে যেহেতু এটি প্রজননের ক্ষেত্রে কোনো ভূমিকাই রাখেনা। হয়তো এ প্যারাডক্সের অনেক বড় মাপের কোনো বিবর্তনীয় উপযোগীতা আছে অথবা এটি  প্রাকৃতিক নির্বাচন দ্বারা নির্মুল হয়ে যেতো।

 

 

SSB (Same Sex Behaviour) কে অনেক সময় খুব বেশি ব্যায়বহুল মনে হয় কারণ এসএসবি একজন ব্যাক্তিকে অনর্থক বিপুল সময়, শক্তি ও ক্ষমতার অপচয় করার জন্যে অনুপ্রাণিত করে কোনোপ্রকার সুস্পষ্ট বিবর্তনীয় উপযোগ ব্যতীত। আর অন্যদিকে DSB (Different Sex Behaviour) ভেনিফিশিয়াল কারণ এটি সন্তান উৎপাদনে সহযোগিতা করে আর এ জন্যে এটি খুবই এফিশিয়েন্ট। যাইহোক, প্রাণীরা অনেক সময় বহুবার সেক্স করার পর মাত্র একটি সন্তান জন্ম দেয়। এক বছরে একজন পুরুষ একজন নারীর সাথে কয়েক হাজারবার মিলিত হয় কিন্তু তার পক্ষে কী কয়েক হাজার সন্তান জন্ম দেয়া আদৌ সম্ভব? তাহলে আমরা দেখছি শুধুমাত্র এসএস বি নয়, ডিএস বি, ও  একজন ব্যক্তির  ব্যপক সময়, শক্তি ও সম্পদের অপচয় করে। আমরা বলতে পারি সমকামীতা এক্ষেত্রে  একটু ব্যয়বহুল কারণ এটি সন্তান উতপাদন করতে কোনো সাহায্য করেনা। একজন ব্যক্তি মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত হাজার হাজার বার সেক্স করে, ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন শুক্রানু অপচয় করে কিন্ত তার পরিবর্তে সে সন্তান উতপাদন করে মাত্র ১ থেকে ৫ টি। অতএব সমকামীতাকে আমরা ঢালাওভাবে সময়, শক্তি ও সম্পদের অপচয় বলতে পারিনা।

 

কিন্তু কেনো প্রাণীদের মধ্যে সমকামীতা এত কমন? এর উত্তর সম্ভবত আমাদের মস্তিষ্কের Cognitive process এ লুকিয়ে আছে। আমাদের মস্তিষ্কের ভেন্ট্রোমেডিয়াল কর্টেক্সের কারণেই আমরা বাহিরের জগত ও ভেতরের জগতের মধ্যে পার্থক্য করতে পারি। এন্টারিয়র সিঙ্গুলেট কর্টেক্সের কারণে আমরা রিয়েলিটি ও ফ্যান্টাসির পার্থক্য বুঝতে পারি। নিউরোসায়েন্টিস্টরা মনে করেন, ইনসুলার কর্টেক্স, এন্টারিয়র সিঙ্গুলেট কর্টেক্স ও মেডিয়াল প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্সই আমাদের আত্মসচেতনতার জন্যে দায়ী। আজ থেকে চার মিলিয়ন বছর পূর্বেও আমাদের পূর্বসূরিদের মস্তিষ্কে প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্স ছিলোনা, তারা ভবিষ্যত নিয়ে কল্পনা করতে পারতোনা, তাদের ব্রেন Permanent present এ অবরুদ্ধ ছিলো। আমাদের পূর্বসূরীরা তিন মিলিয়ন বছর পূর্বে চির বর্তমানের কারাগার থেকে বেরিয়ে আসে।  বোঝাই যাচ্ছে আমাদের জ্ঞানীয় বিকাশ সমকামীতা থেকেও অনেক বেশি ব্যয়বহুল। আমাদের মস্তিষ্ক বিকশিত হতে হতে আজকের এ পর্যায়ে আসতে মিলিয়ন মিলিয়ন বছর সময় প্রয়োজন হয়েছে। সায়েন্টিক আমেরিকানে,  কামাথ, জুলিয়া মোঙ্ক, এরিন গিগলিও, ম্যাক্স লামবার্ট ও কেইটলিন ম্যাকডোনা তাদের যৌথ এক  গবেষণাপত্রে একটি হাইপোথেসিস প্রস্তাব করেন, যেখানে তারা  বলেন, প্রাণী জগতের মধ্যে SSB ও DSB দুটোরই একটা সংমিশ্রন দেখা যায়। এর কারণ হিসেবে তারা যা বলেছে তা যদি সহয ভাষায় প্রকাশ করি তবে যা দাঁড়ায়, 

প্রাণীরা একসময় নারী ও পুরুষের মধ্যে পার্থক্য করতে পারতোনা, কারণ তারা অধিকাংশ নিন্মমাত্রিক কনসাসনেস সম্পর্ন ছিলো, তাদের মস্তিষ্ক তখনও এ পার্থক্যগুলো তৈরি করার মতো উপযোগী করে বিকশিত হয়নি, এখনো অনেক প্রাণী আছে যারা এ পার্থক্যগুলো তৈরি করতে পারেনা, যৌন প্রজনন পদ্ধতি বিবর্তিত হওয়ার শুরুর দিকে, প্রাণীরা একে অন্যের সাথে সেক্স করার সময় এটা নির্দিষ্ট করতে পারতোনা যে তারা কী সমকামী অথবা বিসমকামী, তারা নারী পুরুষ বুঝতো না।


আবার নারী পুরুষ বুঝে সেক্স করতে গেলে সন্তান উতপাদনের গতি স্থির হয়ে যায় , আরো বিপুল সময় ও শক্তি অপচয় হয়, তারচেয়ে বরং প্রাণীরা যদি অনুমানের উপর ভর করে সেক্স করে তবে সেক্ষেত্রে যদিও সমকামীতার বিকাশ ঘটে কিন্তু একইসাথে খুব সহযেই নিজের জিনকে পরবর্তী প্রজন্মে হস্তান্তর করা যায়।


আর এভাবে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রকৃতিতে সমকামীতা টিকে থাকে। বিগত দশকে এসএসবিকে ব্যাখ্যা করার প্রস্তাবিত সমস্ত অনুমানের মধ্যে সাধারণ হ’ল এসএসবি ‘র  একটি “বিবর্তনীয় প্যারাডক্স” হিসাবে চিহ্নিত হওয়া কারণ এটি কোনও প্রাণীর বেঁচে থাকা বা প্রজনন সাফল্যে ( (জীববিজ্ঞানীদের “ফিটনেস” বলে যাকে ) স্পষ্টত অবদান না দিয়েই স্থির থাকে। “প্যারাডক্স” হিসাবে জীববিজ্ঞানীরা এসএসবিকে এত স্পষ্টভাবে ব্যয়বহুল বলে ধরে নিয়েছেন যে এটি অবশ্যই প্রচুর বেনিফিট অর্জন করতে হবে বা প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে নির্মূলের জন্য অন্যথায় দুর্বল হতে হবে। সমকামীতার জিন ও বিবর্তন

ফিজিক্স, ইভ্যুলিউসন, জেনেটিক্স ও সাইকোলজির বিভিন্ন দিক নিয়ে আমি বিভিন্ন সময় কথা বলেছি কিন্তু  সমকামীতা নিয়ে আমি এর পূর্বে কোনোদিন কথা বিলিনি। আমার বয়স ২৫। প্রায় ২৫ বছর পর আমি সমকামিতা সম্পর্কে ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশ করার প্রয়োজনীয়তা বোধ করেছি ।কারণ আমি যে মতামত প্রকাশ করছি  সেটি সম্পূর্ণ সায়েন্টিফিক। একটা বিষয় নিয়ে আমাদের তখনই কথা বলা উচিত যখন আমি এর সঠিক সায়েন্টিফিক এক্সপ্লেইনেসন  বুঝি  ও এর যৌক্তিক সৌন্দর্য আমাদের প্রভাবিত করে। আমি সমকামী নই কিন্তু সমকামিতার এভোলিউশনাল রহস্য আমাকে প্রভাবিত করে। আমি বিস্মিত হই। ট্রানজেন্ডার বা হিজড়াদের বিবর্তন আমাকে অনেক বছর অবাক করে রেখেছিলো ।  রিচার্ড ডকিন্সের সেলফিশ জিন পড়ার পর যখন  আমি জিনের মূলনীতিগুলো বুঝতে থাকি তখন আমি  বিস্ময়ে অবরুদ্ধ হই। তবে এখন আমার কাছে হিজড়াদের বিবর্তন ব্যাখ্যা করার মতো প্রাকধারণা বিবর্তিত হয়েছে। ডকিন্স আমার মনের মধ্যে নতুন এক ধরণের মিউটেশন ঘটিয়েছেন যার জন্য আমি এখন  অন্য প্রাণি, উদ্ভিদ ও   মানুষদের আলাদা করে দেখিনা,  আমি আমার চারপাশে দেখি জিন, মলিকিউল, ফিজিক্স ও বায়োলজির কিছু সুত্র । যাক, এতদিন একটা চিন্তা  ছিলো যে আসলে এ ব্যাপারটা নিয়ে আমি কিভাবে কথা শুরু করতে পারি  কিন্তু বিজ্ঞান আমাকে যতটুকু জানিয়েছে সে জ্ঞান নিয়ে কথা বলা যেতে পারে।  আমার আসলে এ ব্যাপারে বলার মতো মানসিকতা না থাকার পেছনে একটা কারণ ছিলো উদাসীনতা। মহাবিশ্বের বিশালত্বের কাছে কিছু বিষয়কে আমার নিতান্ত সাধারণ মনে হতো ! আর তাছাড়া ফিজিক্সের সুত্রকে লঙ্গন করে তো কেউ ঈশ্বরে বিশ্বাস করেনি অথবা হোমোসেক্সুয়াল হয়নি! আমার কাছে যা কিছু প্রাকৃতিক তাই সাধারণ, আর সাধারণ বিষয়বস্তু নিয়ে কথা বলে সময় নষ্ট করার চেয়ে জীবনকে আরো গভীরভাবে উপলব্ধি করাটাই তখন মূখ্য ছিলো! কিন্তু যখন বিবর্তন ও জেনেটিক্সের আলোকে সমকামীতাকে বুঝতে যাই  তখন আমি বুঝতে পারি  ব্যাপারটি আসলে মোটেই তুচ্ছ নয়। আমার পুরো আর্টিকেলটি যদি ধৈর্যের সাথে কেউ শেষ করতে পারেন তবে তিনি হয়তো এ কথার গুরুত্ব অনুধাবন করবেন! আমার এখন  মনে হয় যারা বিবর্তন বোঝেনা তারা অন্ধকারে আছে,  কারণ তারা জীবনের অনেক দিককেই তুচ্ছ মনে করে ও এগুলোর ব্যাখ্যা জানার মধ্যে কোনো বিশেষত্ব দেখেনা! যদিও  বিবর্তনের মূলনীতিগুলোর  উপর ভর করে  এখনো পুরোপুরিভাবে সঠিক সিদ্ধান্ত উপনিত হওয়া দুস্কর , তবে আমরা যখন এ মূলনীতিগুলোর মধ্যে থাকি তখন আমাদের মস্তিষ্ক সত্যের কাছাকাছি অবস্থান করে । সত্যিকার অর্থেই, বিবর্তনের নিয়মগুলো বোঝার পর আপনার কাছে এ পৃথিবীটা অন্যরকম বাস্তবতায় ধরা দেবে, সবকিছু অর্থপূর্ণ মনে হবে, জীবনের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিষয়গুলোকে আপনি সুত্র দিয়ে গেথে ফেলতে পারবেন! আপনার হাসি,কান্না, ভালো লাগা বা মন্দ লাগা, হতাশা বা মৃত্যু সবকিছুর অর্থ আছে ডারউইনের কাছে..! ব্যাখ্যা আছে সমকামীতারও । সমকামীতা  সম্পর্কে যখনই আলোচনা আসে তখন সর্বপ্রথম মস্তিষ্কের সারপেজে  কয়েকটি  প্রশ্ন উঠে আসে-



    • সমকামীতার বিবর্তনীয় উপযোগ কী? এটি কী স্বাভাবিক যৌন আচরণ?

 

    •  জিনের উদ্দেশ্য জিনের সংখ্যা বৃদ্ধি করা কিন্তু সমাকামীতার মাধ্যমে কোনো সমকামী  সন্তান জন্ম দিতে পারেনা তাহলে স্বার্থপর জিনতত্ব এটাকে কিভাবে ব্যাখ্যা করবে..?

 

    • হিজড়ারা সন্তান উৎপাদন করতে অক্ষম, যদি জিনের উদ্দেশ্য তার সংখ্যাবৃদ্ধি হয় তবে ট্রানজেন্ডারদের বিবর্তন ঠিক কোন প্রক্রিয়ায় ব্যাখ্যা করে, টিকে থাকার ক্ষেত্রে হিজড়াদের উপযোগ কি ছিলো?

 

    •  সমকামীরা কী সামাজিক পরজীবি?

 

    •  সমকামিতা কী একটি মানসিক ব্যাধি?

 

    • সমকামীতা একপ্রকার জেনেটিক্যাল সুইসাইড, জিন কেনো সুইসাইড করবে, সমকামীতার পেছনে কোন জিনটি দায়ী?

 

    •  সমকামীদের নিউরাল স্ট্রাকচার কী আলাদা, এটি কী মস্তিষ্কের নিউরন থেকে তৈরি?,

 

    • কিছুকিছু সমকামী আছে যারা নিজেদের নারী মনে করে। তারা মনে করে যে তাদের মস্তিষ্কের ভেতর নারীর মন কাজ করছে, তাদের মন নারীর দখলে, দেহটি শুধু একটি আবরণ মাত্র! তারা এটি কেনো মনে করে? এখনো কী বিজ্ঞান তাদের এ মানসিকতার ব্যাখ্যা দিতে পেরেছে!

 

  •  নারীদের শরীরে পুরুষের অঙ্গ বা পুরুষের শরীরে নারীর যৌনাঙ্গ কেন বিকশিত হলো! বিবর্তন এসব ফেনোটাইপকে  কিভাবে ব্যাখ্যা করবে! বিশেষ করে সেলফিশ জিন তত্ব এর সম্পূর্ণ দায় বহন করে।
 
 

 

 

 

সেলফিশ জিন ও সমকামীতাঃ

 

BBC এর এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আমাদের জিনের এলিল অথবা গ্রুপ অব জিন মাঝেমাঝে হোমোসেক্সুয়াল অরিয়েন্টেশনকে কোডিং করে ,যার রয়েছে অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি রি-প্রোডাক্টিভ ভেনিফিট। এ জন্যে সমকামীদের ক্ষতিপূরণ দিতে হয়, বিশেষ করে তাদের প্রজনন হার হ্রাস করার ভেতর দিয়ে যাতে করে নন- গে বা অসমকামীরা তাদের জিনকে পারবর্তী প্রজন্মে স্তানান্তর করতে পারে! এলিল কোডিং প্রতি সাতজনের মধ্যে একজনের সমকামী হওয়ার পেছনের বায়োলজিক্যাল ফ্যাক্টর আলোচনা করলেও পরিবারের তরুণ সদস্যদের সমকামী হওয়ার পেছনে BIG BROTHER EFFECT  কাজ করে। এ তত্ব অনুসারে যে সকল শিশুরা কয়েকজন বড় ভাই নিয়ে জন্মগ্রহণ করে , তাদের হোমো সেক্সুয়াল হওয়ার একটি সম্ভাবনা থাকে , কারণ একজন মা যখন কোনো একটি পুত্র সন্তান জন্ম দেয় তখন,  তার শরীরের ইমিউন সিষ্টেম  প্রোটিন অনুর মাধ্যমে একপ্রকার প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে যেটি মস্তিষ্কের বিকাশের সাথে জড়িত। আর প্রাথমিকভাবে যে বড় ভাইরা জন্মে তারা সবাই হেট্রোসেকচুয়াল হয় কিন্তু অপেক্ষাকৃত ছোটদের মধ্যে সমকামীতার প্রভাব দেখা যায়। আবার জন্মের পূর্বে যে ভ্রুণটি অস্বাভাবিক মাত্রায় মায়ের শরীরের টেস্টাস্টোরনের কাছাকাছি আসে তার লেসবিয়ান হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে  যায়,গবেষনায় দেখা গেছে, লেসবিয়ান নারীদের পুরুষদের তুলনায় আঙুলের রিং ক্ষুদ্র যা তাদের পরিপক্কতার পূর্বে টেস্টাটোরনের কাছে আসার একটি লক্ষণ!  কিন্তু সমকামিতার সাথে জড়িত কোনো একক জিনের অস্তিত্ব এখনো পাওয়া যায়নি। ন্যাচার জার্নালে No ‘gay gene’: Massive study homes in on genetic basis of human sexuality নামক একটি আর্টিকেলে বলা হয়, Nearly half a million genomes reveal five DNA markers associated with sexual behavior — but none with the power to predict the sexuality of an individual.. ।

 

Brighton Pride parade on the 3rd August 2019 in Brighton in the United Kingdom.

The 2019 Pride parade in Brighton, UK. Genetic variants associated with same-sex sexual behaviour can’t be used to predict someone’s sexual orientation.Credit: Sam Mellish/In Pictures/Getty/ Collected from Nature Journal.

 

 

 

বড় মাপের একটি গবেষণায় দেখা যায় যৌন আচরণের সাথে জিনোমের ৫ টি গুরুত্বপূর্ন স্পোট জড়িত কিন্তু কোনো একক জিন যৌন আচরণ নির্দিষ্ট করেনা। ২০১৯ সালের ২৯ আগস্ট বিজ্ঞানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়,   প্রায় 500,000 লোকের জিনোমের উপর ভিত্তি করে প্রকাশিত অনুসন্ধানগুলি অতীতের ছোট ছোট  গবেষণার  ফলাফলগুলি উপস্থাপন করে এবং অনেক বিজ্ঞানীর সন্দেহকে নিশ্চিত করে যে:  যৌন পছন্দগুলিতে জিনগত উপাদান থাকে, তবে কোনও জিন থাকে না । A  Geneticist at the Broad Institute of MIT and Harvard in Cambridge, Massachusetts এর নেতৃত্বস্থানীয় গবেষক আন্ড্রে গানা বলেন, “There is no ‘gay gene’,”। গান্না এবং তার সহকর্মীরাও বিশ্লেষণটি ব্যবহার করে অনুমান করেছিলেন যে 25% যৌন আচরণ জেনেটিক্স দ্বারা ব্যাখ্যা করা যেতে পারে, বাকিটি পরিবেশগত এবং সাংস্কৃতিক কারণগুলোর দ্বারা প্রভাবিত -যা অতীতের  ছোট গবেষণার সন্ধানের অনুরূপ ফলাফল। University of Oxford, UK এর সোশিওলোজিস্ট মেলিন্ডা মিলস বলেন, এটি একটি সলিড স্টাডি। গানা ও তার দল genome-wide association study (GWAS) নামক একটি পদ্ধতি ব্যবহার করেন যার মাধ্যমে তারা এক লক্ষ মানুষের ডি এন এ তল্লাসী করেন শুধু একটি একক লেটার খুঁজে পাওয়ার জন্যে,  যার নাম এসএনপি বা স্নিপ । একটি একক নিউক্লিওটাইড পলিমারফিজম বা এসএনপি (উচ্চারণ “স্নিপ”) হল ব্যক্তিদের মধ্যে ডিএনএ ক্রমের একক অবস্থানে একটি প্রকরণ। স্মরণ করুন যে ডিএনএ অনুক্রমটি চারটি নিউক্লিওটাইড ঘাঁটির একটি শৃঙ্খল থেকে গঠিত: A, C, G, এবং T। জনসংখ্যার যদি 1% এরও বেশি ডিএনএ অনুক্রমের নির্দিষ্ট অবস্থানে একই নিউক্লিয়োটাইড বহন না করে তবে এই প্রকরণটি এসএনপি হিসাবে শ্রেণিবদ্ধ করা যেতে পারে। যদি কোনও জিনের মধ্যে কোনও এসএনপি হয়, তবে জিনটি একাধিক অ্যালিল থাকার হিসাবে বর্ণনা করা হয়। এই ক্ষেত্রে, এসএনপিগুলো  অ্যামিনো অ্যাসিডের ক্রমের পরিবর্তনের দিকে পরিচালিত করতে পারে। এসএনপিগুলো কেবল জিনের সাথে সম্পর্কিত নয়; এগুলি ডিএনএর ননকোডিং অঞ্চলেও হতে পারে। যদিও কোনও নির্দিষ্ট এসএনপি ব্যাধি না ঘটায়, কিছু এসএনপি কিছু নির্দিষ্ট রোগের সাথে যুক্ত। এই এসএনপির  এসোসিয়েসশনগুলো  কোনও রোগের বিকাশের জন্য কোনও ব্যক্তির জিনগত প্রবণতার মূল্যায়ন করার জন্য বিজ্ঞানীদের এসএনপিগুলো সন্ধান করার অনুমতি দেয়। এছাড়া , যদি নির্দিষ্ট এসএনপিগুলো কোনও বৈশিষ্ট্যের সাথে জড়িত বলে জানা যায়, তবে বিজ্ঞানীরা বৈশিষ্ট্যের জন্য দায়ী জিন বা জিনগুলি সনাক্ত করার প্রয়াসে এই এসএনপিগুলোর কাছে ডিএনএর প্রসারকে পরীক্ষা করতে পারেন। গবেষকরা তাদের গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের দুটি গ্রুপে বিভক্ত করেছেন – যারা একই লিঙ্গের কারও সাথে যৌনমিলনের খবর দিয়েছেন বা সমকামী  এবং যারা করেন নি তারা। তারপরে গবেষকরা দুটি পৃথক বিশ্লেষণ করেছিলেন। একটিতে তারা এক মিলিয়নেরও বেশি এসএনপি মূল্যায়ন করেছে এবং যে সকল ব্যক্তির একে অপরের সাথে বেশি সংখ্যক এসএনপি রয়েছে তারাও একই ধরনের যৌন আচরণের প্রতিবেদন করেছে কিনা তা দেখেছিলেন। বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন যে জেনেটিক্স যৌন আচরণের বিভিন্নতার 8-25% ব্যাখ্যা করতে পারে। তাদের দ্বিতীয় বিশ্লেষণের জন্য, গান্না এবং তার সহকর্মীরা দেখতে চেয়েছিলেন যে কোন নির্দিষ্ট এসএনপি সমকামী যৌন আচরণের বা  ( SAME SEX BEHAVIOR) সাথে জড়িত ছিল এবং এমন পাঁচটি SNP এর  সন্ধান পেয়েছিলেন  যা ওই ব্যক্তিদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। তবে, এই পাঁচটি এসএনপি যৌথভাবে যৌন আচরণের পার্থক্যের 1% এর চেয়ে কম ব্যাখ্যা করেছে। এ থেকে বোঝা যায় যে প্রচুর পরিমাণে জিন যৌন আচরণকে প্রভাবিত করে, এর মধ্যে অনেকগুলো  গবেষকরা  এখনও খুঁজে পায়নি, বলেছেন গনা। তিনি আরও বলেন যে এর চেয়েও বড় আকারের নমুনাটি অনুপস্থিত ভেরিয়েন্টগুলি সনাক্ত করতে সহায়তা করতে পারে।যদিও গবেষকরা সমকামী যৌন আচরণের সাথে জড়িত কিছু এসএনপি সনাক্ত করেছেন, তবে জেনেটিক রূপগুলি কী তা তারা নিশ্চিত হয়নি । একটি স্মেল বা গন্ধ সংক্রান্ত  জিনের কাছাকাছি, যা গনা বলেছেন যে, এর  যৌন আকর্ষণে একটি ভূমিকা আছে। আরেকটি এসএনপি পুরুষ-প্যাটার্ন টাকের সাথে যুক্ত – যৌন হরমোনগুলির মাত্রা দ্বারা প্রভাবিত একটি বৈশিষ্ট্য, যা পরামর্শ দেয় যে এই হরমোনগুলিও সমকামী যৌন আচরণের সাথে যুক্ত। এ ফলাফলগুলো  যৌনতার জটিলতা প্রদর্শন করে বলে গনা মনে করেন । তাদের অধ্যয়ন গবেষকদের কাছেও একটি চ্যালেঞ্জ পেশ করেছিল, যারা জানত যে সাধারণের কাছে এই জাতীয় সংবেদনশীল বিষয়ে সংজ্ঞাগত ফলাফল ব্যাখ্যা করা মুশকিল হবে। তাহলে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে কোনো নির্দিষ্ট জিন নয় , তবে গ্রুপ অব জিন বা এলেল, জিনের কম্পোনেন্ট হোমোসেক্সুয়ালিটির সাথে জড়িত থাকতে পারে। অনেক সময় আমরা দেখতে পাই বিবর্তন প্রাণিদের মধ্যে যে উদ্দেশ্যে কোন  ট্রেইট বিকশিত করে সেটি সম্পূর্ণ ভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যাবহারিত হয় এবং সেটি বাইপ্রোডাক্ট হিসেবে টিকে থাকে। যেমন ডায়নোসরদের পাখা উড়ার উদ্দেশ্যে বিবর্তিত হয়নি, মূলত, খাড়া পাহাড়ের উপরে উঠার সময় তাদের এমন কিছু প্রয়োজন ছিলো যা ঝাপটিয়ে তারা গ্রেভিটির সাথে তাদের বিশাল দেহের ভারসাম্য রাখতে পারে যা পরে পাখা হিসেবে ব্যবহারিত হতো, আমাদের পায়ের বিবর্তন হয়েছিলো শিকারি প্রাণী থেকে পালানোর জন্যে বা শিকার করার জন্যে । কখনোই ফুটবল খেলার জন্যে পা বিবর্তিত হয়নি কিন্তু তবুও আমাদের পা এখন ফুটবল খেলছে। জিনের উদ্দেশ্য হলো শিকার, সংগ্রহ, প্রজনন ও তার সংখ্যা বৃদ্ধি । কিন্তু  ফুটবল খেলে কী জিনের সংখ্যা পাড়ে? উত্তর হলো, ফুটবল খেললেও জিনের সংখ্যা বাড়ে! কারণ একজন বিখ্যাত ফুটবল প্লেয়ারকে সমগ্র বিশ্ব চেনে , তার পরিবার সমাজের সাপোর্ট পায় , তার প্রেস্টিজ তার জিন থেকে সৃষ্ট টিকে থাকার যন্ত্রগুলোকে সমাজে সফলতার সাথে টিকে থাকতে সাপোর্ট করে! ঠিক তেমনি সমকামীতার সাথে জড়িত স্বতন্ত্র কোন জিন না থাকলেও, জিনের বিভিন্ন এলিল, হরমোন ও এনভায়রমেন্টের জটিল মিথস্ক্রিয়ায় সমকামিতার মাধ্যমেও সেলফিশ জিন পরবর্তী প্রজন্মে সফলতার সাথে তার অনুলিপি রেখে যেতে পারে!  এ কথাটি অনেকের কাছে কঠিন মনে হতে পারে। প্রশ্ন হলো, সমকামীদের  প্রজনন হার হ্রাস করে কিভাবে তাদের জিন নিজের সংখ্যা বৃদ্ধি করে, বিশেষত যখন তারা কোনো নারী সঙ্গীর সাথে সেক্সই করেনা?  তাই আমি ধারণাটিকে এখন আপনাদের জন্যে আরো সহয করে তুলবো। এ জন্যে আমাদের জানতে হবে সেলফিশন জিন তত্বের মূলনীতি।




রিচার্ড ডকিন্স তার Selfish Gene গ্রন্থে লিখেছেন, জিনের উদ্দেশ্য জিনের সংখ্যা বৃদ্ধি। আর জিন তার সংখ্যা বৃদ্ধির জন্যে ঠিক যেমনিভাবে কোনো প্রজাতিতে জনসংখ্যা বৃদ্ধি করে ঠিক তেমনি এটি অনেক সময় জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণও করে। পপুলেসশন ও পপুলেশন কন্ট্রোল- এ দুটি ব্যাপার আপাত দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ স্ববিরোধী। যেমন- সুইফট, গিলমেট এবং গ্রেটটিটদের দেখা যায় তারা একটা নির্দিষ্ট  সময় নির্দিষ্ট সংখ্যক ডিমে তা দেয়। জিনের উদ্দেশ্য যেহেতু জিনের সংখ্যাবৃদ্ধি , অতএব গিলমেটদের প্রয়োজন ছিলো অধিক সংখ্যক ডিমে তা দেয়া। কিন্তু তারা ছয়টির বেশি ডিম পাড়ে না! সুইফটরা একটি! কিন্তু প্রশ্ন হলো, কেনো? বিশটি ডিমের মধ্যে কী তিনটি ডিম অপেক্ষায় জিনের অধিক অনুলিপি থাকেনা? যদি দশটি ডিমের মধ্যে তিনটি ডিম অপেক্ষার বেশি সংখ্যক জিন থাকে তবে স্বার্থপর জিন কেনো দশটির পরিবর্তে প্রতিবার শুধু তিনটি ডিমে তা দিচ্ছে? রিচার্ড ডকিন্স বলেন, দশটি ডিম থেকে, বিশটি ডিমের মধ্যে জিনের আরো অধিক কপি থাকে, একশটি ডিমে তার চেয়ে আরো অধিক, আর সেরকমভাবে চিন্তা করলে অসীম সংখ্যক ডিমের মধ্যে সর্বোচ্চ পরিমাণ জিনের অনুলিপি পাওয়া যাবার কথা ছিলো!



 তাহলে কী গিলমেটদের উচিত নয়, তিনটির  পরিবর্তে অসীম সংখ্যক ডিম দেয়া? হ্যা! থিওরিটিক্যালি তাই হওয়া উচিত ছিলো কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন! তাহলে কী পাখিরা তাদের ক্লাচ সাইজ বা ডিমের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে? অন্য কথায় বললে তারা কী পুলেসশন কন্ট্রোল করে? জিনের উদ্দেশ্য যদি জিনের সংখ্যাবৃদ্ধি হয় তবে,  কেনো জিন শরীরটিকে অসীম সংখ্যক ডিম তৈরি করতে ফোর্স করছে না? কারণটা যৌক্তিক , উপাদানের অভাব! অসীম সংখ্যক ডিমের জন্যে অসীম পরিমাণ উপাদান প্রয়োজন যা জিনের কাছে নেই, অতএব সে যদি নির্দিষ্ট পরিমাণ ডিমের চেয়ে অধিক ডিম পাড়ার জন্যে শরীরকে নির্দেশ দেয় তবে সে শরীর থেকে জন্ম নেয়া মেশিনগুলো পর্যাপ্ত খাদ্য ও যত্ন পাবেনা। কোটি কোটি ডিমের দেখাশুনা করতে গেলে একজন মা নিজেই বিলুপ্ত হয়ে যাবে , আর মা যদি বিলুপ্ত হয়ে যায়  তবে সন্তানদের টিকে থাকার কোনো পসিবিলিটি নেই। তাহলে দেখা যাচ্ছে জিন তার সংখ্যাবৃদ্ধি করতে গিয়ে প্রায় সকল গিলমেটকেই খুন করবে যা জিনের স্বার্থপর উদ্দেশ্যের সম্পূর্ণ বিরোধী! অধিক জনসংখ্যার বিস্ফোরণ অথবা জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ কোনটার ভেতরেই জিন তার স্বার্থপর উদ্দেশ্য পূরণ করতে পারনা। কারণ জিন শুধু সংখ্যাবৃদ্ধি করলেই হবেনা, পাশাপাশি সন্তানের জন্যে তাকে ভালোবাসা,মমতা ও যত্মও নিশ্চিত করতে হবে! কত কোটি শরীর জন্ম নিলো তা জিনের কাছে মূখ্য বিষয় নয়। জিনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো যদি একটি ডিমও অবশিষ্ট থাকে সে ডিম থেকে জন্ম নেয়া শিশুদের স্বার্থপর জিনগুলো নিজেদেরকে সফলতার সাথে পরবর্তী প্রজন্মে রেখে যেতে পারছে কি না! যদি একশ কোটি শরীর জন্ম নেয়ার পর, জনসংখ্যার চাপ ও খাদ্যের সংকটে পড়ে কোনো জিনই টিকে থাকতে না পারে তবে স্বার্থপর জিনের জন্যে এত বিপুল শরীর তৈরি করাটা শুধুমাত্র অনর্থক সময় ও শক্তির অপচয় ! আর জিন যদি স্বার্থপর হয় তবে সে এত বিপুল শরীর তৈরি করে নিজেকে বিলুপ্ত করে দেবে না! এখন অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন, এর সাথে সমকামিতার সম্পর্ক কী?  কোনো সমকামীর জিন পরবর্তী প্রজন্মে তার কোনো কপি রেখে যেতে পারেনা যেটা তার স্বার্থপর জিনের সাথে পুরোপুরিভাবে সাংঘর্ষিক। তাহলে জিন কেনো ট্রানজেন্ডার অথবা সমকামীর মতো এমন সব শরীর জন্ম দেবে যে সকল শরীর অসীম সংখ্যক সন্তান তো দূরে থাক, একটি সন্তানও পরবর্তী প্রজন্মে রেখে যেতে পারে না? আর আমরা ঠিক এখানেই সমকামী ও হিজড়াদের বুঝতে ভুল করে ফেলি কারণ আমরা আসলে স্বার্থপর জিন তত্বের মূলনীতি থেকেই বিচ্ছিন্ন হয়ে যাই। আমরা বারবার এটা ভুলে যাই যে, প্রাকৃতিক নির্বাচনের একক হলো জিন, কোনো শরীর নয়, একটি শরীর পরবর্তী প্রজন্মে যেতে পেরেছে কি না সেটি গুরুত্বপূর্ণ নয়, গুরুত্বপূর্ণ হলো জিন নিজেকে পরবর্তী প্রজন্মে হস্তান্তর করতে পেরেছে কি না , হিজড়া বা সমকামীরা তাদের সন্তান রেখে যেতে পেরেছে কীনা সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, গুরুত্বপূর্ণ হলো জিন,  কারণ পরবর্তী  প্রজন্মে রেখে যেতে হবে জিন,  কোনো শরীর নয় ! অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন, কী বলেন এসব! দেহ ছাড়া জিনের অস্তিত্বই তো নেই, জিন দেহ ছাড়া কিভাবে এক দেহ থেকে অন্য দেহে যায়? সমকামীরা তো নারীর সাথে সেক্সই করেনা, তাদের জিন কিভাবে পরবর্তী প্রজন্মে বিস্তারিত হবে? প্রশ্নটি অতি-সরল! আমরা হয়তো অনেকে এলবাইনো জিন সম্পর্কে জানি। অ্যালবাইনো জিন হলো এমন একটি জিন যে জিনগুলো যাদের শরীরে থাকে তারা পারস্পরিক সহযোগীতার ভিত্তিতে কাজ করে এবং অনেক সময় তারা তাদের গোষ্ঠীকে রক্ষা করার জন্যে নিজের প্রাণও দিয়ে দেয়, এর কারণ হলো যদিও শরীর হিসেবে সে অন্য শরীরগুলো থেকে আলাদা কিন্ত তারা সবাই একই জিন ধারণ করে! আর জিনের উদ্দেশ্য যদি জিনের সংখ্যাবৃদ্ধি হয় তবে এলবাইনো জিন চাইবেনা তার তৈরি কোনো শরীর অন্য শরীরগুলোর ক্ষতি করুক,  যে শরীরগুলোতে একই এলবাইনো জিন আছে।





এলবাইনো জিন হলো এমন একটি জিন যে জিনগুলো যাদের শরীরে থাকে তারা পারস্পরিক সহযোগীতার ভিত্তিতে কাজ করে এবং অনেক সময় তারা তাদের গোষ্ঠীকে রক্ষা করার জন্যে নিজের প্রাণও দিয়ে দেয়, এর কারণ হলো যদিও শরীর হিসেবে সে অন্য শরীরগুলো থেকে আলাদা কিন্ত তারা সবাই একই জিন ধারণ করে! আর জিনের উদ্দেশ্য যদি জিনের সংখ্যাবৃদ্ধি হয় তবে এলবাইনো জিন চাইবেনা তার তৈরি কোনো শরীর অন্য শরীরগুলোর ক্ষতি করুক যে শরীরগুলোতে একই এলবাইনো জিন আছে। এলবাইনো জিন চেষ্টা করবে একটি শরীরকে হত্যা করে হলেও অন্য এলবাইনো জিন সম্পন্ন গোষ্ঠীটিকে রক্ষা করতে,  কারণ তাদের দলের প্রত্যেকের শরীরে দলের যেকোনো একজনের তুলনায় অনেক বেশি পরিমাণ এলবাইনো জিন থাকে! তার মানে দেখা যাচ্ছে, জিন সবসময় স্বার্থপরভাবে নিজের অনুলিপি তৈরি করেনা ,অন্য যে সকল শরীরের ভেতর তার অনুলিপি থাকে , সে শরীরগুলোকেও একে অপরকে রক্ষার জন্যে প্রোগ্রাম করে! এবং অনেক সময় কিছুকিছু প্রাণী তার গোষ্ঠীকে রক্ষা করার জন্যে নিজেই মারা যায়! এর একটি চরম উদাহরণ হলো, ক্যানিভাল মাকড়সা। ক্যানিভাল মাকড়সা যখন স্ত্রী মাকড়সার সাথে সেক্স করে তখন স্ত্রী মাকড়সাটি পুরুষ মাকড়সার মাথাটি এক কামড়ে খেয়ে ফেলে আর তারপর ধীরে ধীরে সে সম্পূর্ণ শরীর খায়। কিন্তু পুরুষ মাকড়সাটি মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও সেক্স করে। কারণ জিনের কাছে শরীর বা মন গুরুত্বপূর্ণ নয়, গুরুত্বপূর্ণ হলো তার সংখ্যা বৃদ্ধি, যদি শরীরের মৃত্যুর ভেতর দিয়ে হলেও জিন তার সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে তবে সে ঐ সুযোগ নেবে। আইনস্টাইন যদি কেনিভাল মাকড়সা হতো তবে স্ত্রী মাকড়সা এক কামড়ে তার মস্তিষ্কের সেলগুলো খেয়ে ফেলতো কারণ জিন আইনস্টাইন বা নিউটন চেনেনা, জিন শুধু তার কপি করে। স্ত্রী কেনিভাল শরীরটিকে খায় এবং মায়ের দেহে বিদ্যমান পিতার জিনগুলোর দেহ তৈরির জন্যে উপাদানের যোগান দেয় বা কেনিভাল পুরুষের জিন তাদের ফিউচার জেনারেশনের  জন্যে নিজের দেহকে পুষ্ঠিকর উপাদান হিসেবে ব্যবহার করে।



যাই হোক, এবার  আলোচনার মূল প্রসঙ্গে ফিরে আসি, কেনো সমকামীতার বিবর্তন ঘটলো। এর জিনগত উপযোগ কী? এটি কী স্বাভাবিক? সায়েন্টিফিক আমেরিকা ও ইউকিপিডিয়ার তথ্য অনুসারে ,  প্রকৃতিতে এমিবা থেকে শুরু বনোবো, গরিলা, কুকুর, হাতি, শেয়ার,ঘোড়া, ডলপিন, মর্মেট, সিংহ ,শেয়াল, ফান্ডা, রকুন, বেড়াল , শিম্পাঞ্জি, বাদামি ভাল্লুক , (পাখিদের মধ্যে)  অস্ট্রিন, ইমু, কমন গুল, চিকেন , র‍্যাবেন , রক ডোভ, ( মাছেদের মধ্যে) এমাজন মোলি, এঙলার ফিশ, গ্রেলিং , হটিং হোয়াইট ফিশ, সেলমন, ব্লাকস্ট্রিপ টপমিনো , এম্পিবিয়ানদের মধ্যে – ব্লাকস্পোটেট ফগ, মাউন্টেন ডাস্কি সালামান্ডার , পতঙ্গের মধ্য- কুইন বাটারফ্লাই, ফোমেস ফ্লাই, পারসশিপ লিপ মাইনার, ড্রাগন ফ্লাই, হাউস ফ্লাই সহ প্রায় পনেরশত প্রজাতির প্রাণীর মধ্যে হোমোসেকচুয়াল বিহেভিয়ার দেখা গেছে। Against Nature? নামক একটি প্রদর্শনী যেখানে ইউনিভার্সিটি অব অসলো’ র Natural History Museum ,  সে সকল প্রাণীদেরকে একটি বিশাল তালিকা প্রকাশ করেছেন  যাদের মধ্যে সমকামী আচরণ রয়েছে। নিউজ মেডিক্যাল লাইফ সায়েন্স Homosexuality is quite common in the animal kingdom, especially among herding animals. Many animals solve conflicts by practicing same gender sex শিরোনামে লিখেছিলেন  ,  University of Oslo  তখন পনেরশত প্রজাতির প্রাণীর একটি প্রদর্শনী করেন  যারা সমকামীতার আচরণ প্রকাশ করে । তার মানে , সমকামীতা কোনো অস্বাভাবিক আচরণ নয়, এটি প্রাণিজগতের মধ্যে অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি ঘটনা। যার জন্যে মিলিয়ন মিলিয়ন বছরের বিবর্তনীয় পথ পরিক্রমায় এটি এখনো টিকে আছে ! আমরা জানি , আমাদের জিনপুলে সে সকল জিনই টিকে থাকে যে জিনগুলো কোনো একটি নির্দিষ্ট  পরিবেশে প্রাণীদের শরীরকে টিকে থাকার জন্য উপযোগী কোনো ফেনোটাইপ প্রদান করে। সমকামীতা ঠিক কোনো বিবর্তনীয়  উপযোগীতার প্রতি লক্ষ্য রেখে বিবর্তিত হলো? আর কেনোই বা এটি লাখ লাখ বছর ধরে এখনো টিকে আছে? সে উপযোগীতা আসলে কী?   প্রায় পনেরশত প্রজাতির প্রাণী কোনো জিনগত উপকারীতা ছাড়া কেনো সমকামীতা করবে ! এর সম্ভাব্য একটি উত্তর আমি পূর্বেই দিয়েছি।



আমরা দেখেছি জিনের কাছে শরীর গুরুত্বপূর্ণ নয়, কেনিভাল মাকড়সার শরীর যদি সেক্স  করতে গিয়ে মারাও যায়, যদি সে আর কোনদিন সন্তান জন্ম দিতে নাও পারে তবুও জিন তাকে সেক্স করতে বাধ্য করে। ঠিক তেমনি জিনের কাছে  ( এলবাইনো জিন সম্পন্ন প্রাণীদের মতোই)  পরিবারের সকল সদস্য সন্তান উৎপাদন করতে পারছে কি না সেটি গুরুত্বপূর্ণ নয়, তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো পরিবারের অন্তত একজন সদস্যও সফলতার সাথে সন্তান উৎপাদন ও লালন পালন করতে পারছে কি না! ঠিক যেমনটি আমরা গিলমেট ও সুইফটদের ক্ষেত্রে দেখেছি, সুইফরা একটি ডিম পাড়ে ও সে ডিমটির সঠিকভাবে দেখাশুনা করে,  ডিম ফোটার পর সেটিকে সফলতার সাথে লালন পালন করে বড় করে তুলে, কারণ মিলিয়ন বছর পূর্বে সুইফটরা হয়তো দুটো ডিম পেড়েছিলো যার জন্যে তারা তাদের সন্তানদের সঠিকভাবে যত্ন করতে পারেনি এবং ফলশ্রুতিতে তার সব জিনই বিলুপ্ত হয়ে গেছে! অতএব দেখা যাচ্ছে, পরিবারের কতজন সদস্য সন্তান জন্ম দিচ্ছে সেটি সেলফিশ জিনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ  নয়, গুরুত্বপূর্ণ হলো , তাদের কতজন সফলতার সাথে ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে তাদের জিন রেখে যেতে সফল হয়েছে । সাধারণত আমাদের  পরিবারের সকল সদস্যের শরীরে যেহেতু একই জিন থাকে অতএব  জিন চাইবেনা সবাই মিলে অধিক সংখ্যক সন্তান জন্ম দিয়ে পরিবারে প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হোক। কারণ যদি পরিবারের প্রায় সকল সদস্যই সন্তান জন্ম দেয়, তবে কেউ কারো যত্ন করতে পারেনা, কোনো সন্তান বিশেষ কোন আদর বা স্নেহ পায়না আর এতে করে তাদের বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এ জন্য স্বার্থপর জিন কিছুকিছু শরীরকে বলে- তুমি সমকামী হও, তাহলেই তুমি তোমার জিনকে ভবিষ্যত প্রজন্মে হস্তান্তর করতে পারবে!  জিন তাকে এভাবে নির্দেশ দেয় কারণ তার শরীরে এলবাইনোর মতো এমনকিছু জিন আছে যেগুলো তার ভাইবোনের মধ্যেও আছে। অতএব সে যদি সমকামী হয়, তার নিজের কোনো সন্তান জন্ম হবেনা, আর যদি তার সন্তান জন্ম না হয় , তবে সে তার পরিবারের অন্য সদস্যদের স্নেহ করবে, সে  তার ভাইবোনের সন্তানদের যত্ম করবে, তা তাদের মাঝে বিদ্যমান সাধারণ জিনটিকে সফলতার সাথে পরবর্তী প্রজন্মে স্থানান্তরিত হতে সাহায্য করবে! মূলত সমকামীদের মধ্যে প্রেম, ভালোবাসা, স্নেহ ও মমতার আবেগ বৃদ্ধি করে দিয়ে, তাদের শরীরকে নারীর সংস্পর্শ থেকে দূরে রেখে, পরিবারের যে কোনো একজনের জিনকে ভবিষ্যত প্রজন্মে সফলতার সাথে স্থানান্তর করার জন্যেই সম্ভবত পরবরর্তী পর্যায়ে সমকামীতার বিবর্তন ঘটে!


যদি আমার এ হাইপোথেসিস সত্য হয় তবে অবশ্যই, আমরা সমকামী ও হিজড়াদের মধ্যে আবেগ অনুভূতির প্রাবল্য দেখতে পাবো। তাদের মনস্তত্বে পরার্থপর একটি প্রবণতা থাকবে। সমকামী ও হিজড়াদের মন মানসিকতা অন্য অনেকের তুলনায় উন্নত হবে এবং তাদের মধ্যে নমনীয়তা ও সহনশীলতার বিকাশ ঘটবে যেনো তারা তাদের জিনকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে রেখে যেতে পারে! সমকামীদের জিন ভবিষ্যত প্রজন্মে ছড়ানোর জন্য সেক্সের কোনো প্রয়োজন নেই,  ঠিক যেমনি বন্ধ্যা বা অনেকটা হিজড়া কর্মী মৌমাছিদের বংশবিস্তার করার জন্যে তাদের শরীরকে সরাসরি সন্তান জন্ম দিতে হয়না। প্রায় ৯৯ ভাগ নারী মৌমাছি আছে যারা সন্তান উৎপাদন করতে পারেনা, তারা প্রজনন ও বংশবিস্তারে সরাসরি অংশগ্রহণ করেনা, তারা রানী মৌমাছিকে লালন পালন করে ও সে শরীরটিকে সন্তান উৎপাদনের স্বার্থপর উদ্দেশ্যে যন্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে কারণ বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, মৌমাছিরা সবাই জন্মের সময় একই জেনোটাইপ নিয়ে জন্মগ্রহণ করে, তাদের কারো মাঝে জিনগত কোনো পার্থক্য থাকেনা, যে মৌমাছিটি ভবিষ্যতে রানী হবে তার শরীরে যে সকল জিন উপস্থিত থাকে, যারা ভবিষ্যতে কর্মী হবে তাদের মধ্যেও একই জিনগুলো উপস্থিত থাকে, প্রাথমিক পর্যায়ে তাদের মধ্যে শারীরিক কোনো পার্থক্যও তৈরি হয়না । শুধু তাই নয়, এ মৌমাছিরা একে অপরের যমজ, সাধারণ ভাইবোনদের মধ্যে জিনগত সম্পর্ক ১/২ হলেও যমজদের মধ্যে জিনগত সম্পর্ক ৩/৪ বা তাদের মধ্যে জিনগত পার্থক্য নেই বললেই চলে।




আপনার নিজের শরীরের একটি সেলে বিদ্যমান ডি এন এর সাথে আপনার শরীরের অন্য আর একটি সেলে বিদ্যমান ডি এন এ অনুর যেমন কোনো পার্থক্য নেই, ঠিক তেমনি কর্মী মৌমাছিদের সাথেও তাদের বোন যে ভবিষ্যতে রানী হবে তার কোনো জিনগত পার্থক্য নেই! রিচার্ড ডকিন্স তার The Selfish গ্রন্থে যা বলেন তার ব্যাখ্যা করলে যা দাঁড়ায়, শরীরের প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ভেতর জিন থাকলেও, আপনার হাত, পা, নাক, চোখ যেমন সন্তান জন্ম দেয়না ঠিক তেমনি মৌমাছিদেরকেও চিন্তা করতে হবে একটি শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ হিসেবে (আপনার চোখ ও যৌনাঙ্গ দুটো স্থানেই জিন থাকে কিন্তু চোখ সন্তান তৈরি করেনা) সে অঙ্গগুলোর সরাসরি যৌন প্রজননে অংশ নেয়ার কোনো প্রয়োজন নেই, যৌন প্রজননে অংশ নেবে শুধু একটি অঙ্গ আর সেটিই হলো যোনাঙ্গ বা রানী মৌমাছি।



মূলত পরিবেশ ও খাদ্যাভাসের পার্থক্যই নির্ধারণ করে দেয় ভবিষ্যতে কে কর্মী হবে অথবা কে রানী হবে! যারা বন্ধ্যা মৌমাছি তাদের মধ্যে একপ্রকার পরার্থবাদী মনোভাব কাজ করে, তারা ইমোশনাল, তারা তাদের রানী ও মৌচাকের ব্যাপারে খুবই সংবেদনশীল, তাদের মধ্যে সন্তান জন্ম দিতে পারার অক্ষমতার Compensation হিসেবে Care and Nurturing এর মানসিকতার বিকাশ ঘটেছে। এ জন্যে তারা নিজেরা যদিও প্রজনন করেনা কিন্তু রানী মৌমাছি ও তার সন্তানদের যত্ম করে। রিচার্ড ডকিন্সের হোমোসেকচুয়ালিটি নিয়ে লিখা একটি প্রবন্ধে এথিস্ট আয়ারল্যান্ড একটি ওয়েবসাইটে বলা হয়, মূলত কিছু সহনশীল, আবেগী, নমনীয় ও পরার্থপর প্রাণী তৈরি করার জন্যেই সমকামীতার বা ট্রান্সসেকচুয়ালিটির মতো ফেনোটাইপগুলোর বিবর্তন ঘটে কারণ সমকামীরা নিজে এ জন্যেই সন্তান উৎপাদন করেনা , যাতে করে তার ভাইবোনদের জিন সফলতার সাথে ভবিষ্যত প্রজন্মে হস্তান্তরিত হয়! আমরা আমাদের পূর্বধারণা থেকে জানি যে, পরিবারে সদস্য বেড়ে গেলে সেখানে Care and Nurturing এর মতো গরুত্বপূর্ণ ব্যাপারগুলো দূর্লভ হয়ে উঠবে, কেউ কাউকে সহযোগীতা করার সুযোগ পাবে না। আর আমরা জানি মানব শিশু অত্যন্ত দূর্বল অবস্থায় জন্মগ্রহণ করে, তার টিকে থাকা ও বেড়ে উঠার জন্যে পুরো পরিবারের সমর্থন প্রয়োজন। যদি পরিবারের সবাই হেট্রোসেকচুয়াল হয় , তবে জিন যা সেই  পরিবারের সকল সদস্যের মধ্যে উপস্থিত রয়েছে , সেটি সফলতার সাথে ভবিষ্যত প্রজন্মে নিজেকে হস্তান্তর করতে পারবে না, তাই স্বার্থপর জিনের কিছু এলিল এমন কিছু শরীর তৈরি করবে যেগুলো ট্রান্সজেন্ডাল অথবা সমকামী আর এ জন্যেই হয়তো প্রকৃতিতে সমকামীতা অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি ঘটনা! অনেকে সমকামীতাকে প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নিয়ন্ত্রণের একটি পদ্ধতি মনে করেন। এক দৃষ্টিকোণ থেকে এটিকে প্রাকৃতিক জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিও বলা যেতে পারে! তবে বিজ্ঞানীরা এখনো পর্যন্ত সমকামীতার সাথে জড়িত কোনো নির্দিষ্ট জিনের অস্তিত্ব পায়নি। বিজ্ঞানীরা মনে করেন জিন, হরমোন এবং এনভায়রনমেন্টের কমপ্লেক্স ইন্টারেকশনের কারণে সমকামীতা বিকশিত হতে পারে।

যাক, আমার এ আর্টিকেলের উদ্দেশ্য সমকামীতার সাথে সম্পৃক্ত কোনো জিন আবিষ্কার করা নয়। আমি শুধু স্বার্থপর জিন তত্ত্বের আলোকে সমকামীতাকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছি। রিচার্ড ডকিন্স তার Selfish Gene গ্রন্থে বলেন, একটি জীবকে তৈরি করার জন্যে শরীরে যে পরিমাণ ডিএনএ লাগে, তার থেকে বেশি ডিএনএ প্রয়োজন হয় একটি শরীরকে তৈরি করতে,  আর সে সকল ডিএনএ’ এর বিশাল অংশই প্রোটিন অনু তৈরির মাধ্যমে অনুদিত হয়না। আমরা যদি একটি একক সদস্যের দৃষ্টিকোণ থেকে চিন্তা করি তবে ব্যাপারটকে প্যারাডক্সিক্যাল মনে হয়। এমন ডিএনএ যা শরীরের কোনো উপকারই করেনা সে ডিএনএ গুলো কেনো আমাদের শরীরে টিকে থাকে? আপনি যদি মনে করেন, ডি এন এর উদ্দেশ্য শরীর তৈরি করা তবে বেশিরভাগ ডি এন এ ই কোন প্রকার শরীর তৈরি করেনা, যা আপনাকে অবাক করবে! আপাতত এ বাড়তি ডি এন এ কোনো কাজের জন্যে উপযোগী কি না তা বিজ্ঞানীরা বোঝার চেষ্টা করছেন! কিন্তু স্বার্থপর জিনের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে এ প্যারাডক্সটি সমাধান হয়ে যায়, জিনের উদ্দেশ্য টিকে থাকা, শরীর বা মনের উন্নতি সাধন নয়, যদি জিন এমন কোনো শরীরে অবস্থান করে যে শরীরে তার কোন কাজই নেই তবুও তার কিছু আসে যায়না, এমনকি কোনো জিন যদি কোন একটি শরীরকে সমকামী করে, তার শরীরের মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্মে হস্তান্তরিত না হয়ে অন্যকোনো শরীরের মাধ্যমেও হস্তান্তরিত হয় তাতেও জিনের কিছু আসে যায় না! আমরা এ বাড়তি ডিএনএ গুলোকে বলতে পারি একটি নিরীহ পরজীবি, যেটি শরীরের কোনো ক্ষতি করেনা বা উপকারেও আসেনা, এটি শরীরের সাথে কোন কিছু বিনিয়ম না করেই টিকে থাকে…! আমরা কী সমকামী ও ট্রান্সজেন্ডালদের সামাজিক পরজীবি বলবো, যারা নিজেরা কোনো সন্তান তৈরি করেনা কিন্তু সন্তান তৈরি করে এমন শরীরকে প্রজনন ও বংশবিস্তার করতে সাহায্য করে?

Atheist Ireland ওয়েবসাইটে নোযোফেরাটো নামক একজন গবেষক একটি থিওরি প্রস্তাব করেন, তিনি সেলফিশ জিন তত্ত্বের আলোকে প্রেডিকশন করেন একজন নারী যে সন্তান জন্ম দেয় সে অনেক বেশি দূর্বল হয়। আর আমরা জানি যে সমকামীদের মধ্যে সেরকম কোনো শারীরিক দূর্বলতা নেই। তাই তারা হেট্রোসেকচুয়ালদের সন্তানদের দেখাশুনা ও ভরণপোষণ করতে পারে। ১৯৯৭,২০০৩,২০০৭ সালের একটি গবেষণায় দেখা যায়, কিছু নির্দিষ্ট হরমোন যা গর্ভকালীন অবস্থায় হোমো সেকচুয়ালদের জিনের এলিলটিকে সক্রিয় করে , সেটি ঠিক তখনই অধিক হারে বৃদ্ধি পায় যখন সে অনেক বেশি সন্তান জন্ম দান করে, অতএব যে সব মায়েরা অনেক বেশি সন্তান জন্ম দেয় তাদের সন্তানদের মধ্যে সমকামীতার প্রবণতা দেখা যায়। কারণ গর্ভকালীন অবস্থায় নারীর জিন যদি সে হরমোন তৈরির প্রক্রিয়াকে ত্বরাণ্বিত করে সমকামীদের জিনের এলিলটিকে ডোমিন্যান্ট হতে সহযোগিতা না করতো তবে সে পরিবারে অধিক জনসংখ্যা দেখা দিতো কিন্তু কেউই পরিপূর্ণ যত্ন পেতো না, এ জন্যে সে পরিবারের সন্তানদের মধ্যে যদি সমকামীতার প্রভাব দেখা যায় তবে তারা তাদের সন্তান ও নাতীদের প্রতি যত্নশীল হবে না, তার পরিবর্তে তারা ব্রিডারের সন্তানকে যত্ন ও লালন পালনের ভেতর দিয়ে বড় করে তুলবে! অনেকে মনে করেন, হোমোসেকচুয়ালিটি বিবর্তন বিরোধী কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ বিপরীত।




প্রকৃতি চেষ্টা করছে অধিক প্রেমময়, সহানুভূতিশীল, যত্নবান  কিছু উপাদান তৈরি করতে! প্রশ্ন হলো, সমকামীরা কী আসলেই অনেক প্রেমময় ও সহানুভূতিশীল হয়? আমার মতে, উত্তর, হ্যা! এবং এর প্রমাণ অজস্র! গত কিছুদিন পূর্বে আমার একজন সমকামীর সাথে পরিচয় হয়েছে। যে কোনো সংবেদনশীল নারীর থেকেও অনেক বেশি আবেগপ্রবণ ও সহানুভূতিশীল, নারীদের মতোই তার মধ্যে রাগ ও অভিমানের প্রাবল্য দেখা যায় এবং সে নিজেকে মানুষের শরীরে একজন পুরুষ নারী দাবি করে! মুক্তমনা বাংলাব্লগে আমার পরিচিত সে সমকামী বন্ধুটির বেশকিছু আর্টিকেলও পাওয়া যাবে! কিন্তু একইসাথে আমি তার মাঝে কিছু বিশৃঙ্খল মানসিক সিন্ড্রোম লক্ষ্য করেছি। তার সাথে আলোচনার পর আমার যা মনে হয়েছে সে ব্যক্তিগত জীবনে খুব একটা সুখী নয় এবং তার নিজের ভাষ্যমতে, সে একাধিকবার সুইসাইড করারও চেষ্টা করেছে। আমি খেয়াল করে দেখেছি, সে এক নাগাড়ে ঘন্টার পর ঘন্টা কথা বলতে পছন্দ করে এবং তার সাথে সামান্য পরিমাণ আবেগীয় গোলযোগ তৈরি হলেই সে উত্তেজিত হয়ে উঠে। সামান্য কারণেই কান্না করে, অতি অল্পতেই আনন্দিত হয় আবার সামান্য ব্যাপারকেও অত্যন্ত মারাত্মকভাবে গ্রহণ করে এবং সেটিকে মনের ভেতর লালন করে। সে কিছুটা আতঙ্কগ্রস্ত, কিছুটা বিদ্রোহী আবার অনেক সময় মনে হয় সে সুস্থ্য, স্বাভাবিক ও যুক্তিসঙ্গত। আমার এ আর্টিকেলটি বিশেষত তাকে উদ্দেশ্য করেই লিখা কারণ সমকামীতা নিয়ে তার সাথে আলোচনার সময় তার সাথে আমার মতের কিছু সাংঘর্ষিকতা দেখা দেয়। ।কারণ জেনেটিক্সের থেকে বলা একটি শব্দ তার পছন্দ হয়নি আর সেটি ছিলো জেনেটিক্যাল এরর! আমি বলেছিলাম, জিন তার কপি করার সময় অনেক সময় ভুল করে, আর এতে করে এটি নতুন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জিনে মিউটেট হয় যা শরীরে ফেনোটাইপ হিসেবে প্রকাশ পায় এবং সে ফেনোটাইপটি টিকে থাকে যদি সেটি কোন প্রজাতিকে টিকে থাকার ক্ষেত্রে সহযোগীতা করে, এবং জিনের এ ভুলটি সার্বজনীন, হোমোসেকচুয়াল হোক অথবা হোক হেট্রোসেকচুয়াল জিন তার মিউটেশনের সময় কিছু ভুল করে , আর তাই বলেই প্রজাতির মধ্যে বিভিন্ন প্রকরণ তৈরি হয়, আর ঠিক এ জন্যেই আমরা প্রাইমেট থেকে সেপিয়েন্সে বিবর্তিত হয়েছি অথবা বিবর্তন প্রক্রিয়াটাই ছিলো অসম্ভব। কিন্তু তিনি আমার কথাকে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে উপস্থাপন করছেন, তার মতে, আমি সমকামী ও হিজড়াদেরকে জিনের Copying Error বলে অপমান করেছি! আমার মনে হয়, আমার সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ার পর হয়তো সে আমার প্রতি সন্তুষ্ট হবে কিন্তু আমার শেষের দিকের এ কথাগুলোর জন্যে খুবই ব্যথিত হবে, আমি ব্যথা দেয়ার উদ্দেশ্যে এ আর্টিকেলটি লিখিনি যদিও কিন্তু গবেষণার স্বার্থে আমাকে নিরপেক্ষভাবে তার সম্পর্কে কিছু কথা বলতে হয়েছে যা আমার ঠিক পরের অংশটির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। যদিও আমার এ কথাগুলোর উপর ভর করে সমকামীতাকে মানসিক ডিস-অর্ডার বলার কোন মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্তে উপনিত হওয়ার সময় হয়নি!



সমকামীতা কী মেন্টাল ডিস-অর্ডারঃ



আমেরিকান মেডিক্যাল এসোসিয়েশনের একটি জার্নাল JAMA জানুয়ারি ২০০১ সালে একটি আর্টিকেল প্রকাশ করে Same-Sex Sexual Behavior and Psychiatric Disorder শিরোনামে যেখানে নেদারল্যান্ডের একটি মেন্টাল হেলথ সার্ভে প্রকাশ করা হয়েছিলো। জামা আসলে ওয়েল ডকুমেন্টেট ও পিয়ার রিভিউড মেডিক্যাল আর্টকেল প্রকাশ করে থাকে। JAMA প্রায় ৫ হাজার সমকামী পুরুষ ও নারীর সাইকোলজিক্যাল স্যাম্পল সংগ্রহ করে যার মধ্যে ২৮৭৮ জন পুরুষের মধ্যে ২.৮ শতাংশ সমকামী এবং ৩১২০ জন নারীর মধ্যে ২.৪ শতাংশ সমকামী। এ গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, হোমো সেকচুয়ালদের মধ্যে হেট্রোসেকচুয়ালদের তুলনায় মানসিক গোলযোগ অনেক বেশি। বছরে বার মাসই হোমো-সেকচুয়ালদের মধ্যে বিভিন্ন প্রকারের মুড সুইং এর প্রাদুর্ভাব দেখা যায় (odds ratio [OR]=2.93; 95 Confidence Interval [CI]=1.54-5.67) যা হেট্রোসেকচুয়াল থেকে অনেক বেশি। এছাড়া সারাজীবন তাদের মধ্যে যে সকল রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যায় তার মধ্যে রয়েছে মুড ডিসঅর্ডার যা আবার সমকামী নারীদের থেকে পুরুষদের মধ্যে অনেক বেশি। (OR=2.41;95% CI=1.26-6.63)। জামা বলেন, হোমোসেকচুয়ালদের মধ্যে সারাজীবন একের অধিক সাইকোলোজিক্যাল ডিজ অর্ডার বিদ্যমান থাকে! তারা সিদ্ধান্তে আসে, Same Sexual Behaviour বা সমকামী আচরণ মানসিক গোলযোগের চুড়ান্তস্তরের কিছু অবস্থা তৈরি করে! কিন্তু তার মানে এই নয় যে হোমোসেকচুয়ালিটি নিজেই একটি মানসিক ব্যাধি। JAMA বলেন, বিগত শতকে হোমো সেকচুয়ালিটিকে মানসিক ব্যাধি মনে করা হতো। ১৯৭৩ সালে আমেরিকান সাইকিয়াট্রিক এসোসিয়েশন সমকামীতাকে সাইকোলজিক্যাল ডিজ-অর্ডারের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দেন যদিও ২৯৫২ সালে হোমো সেকচুয়ালিটি DSM-1( Diagnosed and statatistical Manual of mental disorder) এর তালিকায় ছিলো। এর আগে আমরা জেনেটিক্যাল দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেছি সমকামিতা কোনো মানসিক রোগ নয়, এটি হলো আমাদের জিনের একটি অভিযোজন যা জিনের টিকে থাকার ক্ষেত্রে বাড়তি উপযোগিতা প্রদান করে। যদিও সমকামীদের মধ্যে এক বা একাধিক মানসিক বিশৃঙ্খলা দেখা যায় কিন্তু আমরা ঢালাওভাবে কখনো সমকামীতাকে স্বয়ং সাইকোলজিক্যাল ডিজ-অর্ডার বলতে পারি না! DSM-3-R ডিটারমাইন করার জন্যে যে ইনক্সট্রুমেন্ট ব্যবহার কর হয়েছে তা ছিলো Composite international Diagnostic Interview (CIDI) যা ডিজাইন করা হয়েছিলো প্রশিক্ষিত ক্লিনিক্যাল ইন্টারর্ভিওয়ারদের ব্যাবহার করার জন্যে। CIDI এর ছিল গ্রহণযোগ্য Interrater Reliability এবং সেটিকে পূনরায় টেস্ট করার Retest Reliability! উল্লেখিত DSM-2-R ডায়াগনোস সমকামীদের মধ্যে যে সব মানসিক ডিস অর্ডার রেকর্ড করেছিলো তার মধ্যে রয়েছে,

১)মুড ডিজঅর্ডার (ডিপ্রেসন, ডিমেন্টিয়া, বাইপোলার ডিজ-অর্ডার)।

২) এনাক্সাইটি ডিজ-অর্ডার ( পেনিক ডিজ-অর্ডার, সোশ্যাল পোবিহা, সিম্পল পোবিহা, অবসেশন কমপুলসিভ ডিজ-অর্ডার, জেনারালাইজড এনক্সাইটি ডিজ-অর্ডার)।

৪) সাইকো একটিভ সাবস্টেন্স ইউজ ডিসঅর্ডার যা ড্রাগ এডিক্টেট বা এলকোহল সেবনকারীদের মাঝে দেখা যায়, যার মধ্যে রয়েছে সেডাটিভ, হিপনোটিক ও এনোক্সিওলাইটিক!

এছাড়াও তাদের মধ্যে স্ক্রিজোফ্রেনীয়া এবং Eating Disorder ও পাওয়া যায়। কিন্তু জামা সে সকল ডাটা সেগুলোর প্রাদুর্ভাবের স্বল্পতার কারণে উপস্থাপন করতে পারেন নি! JAMA যে পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে সে পরিসংখ্যান এমনকিছু বলে নি যে সমকামীতা নিজেই একটি মানসিক রোগ কিন্তু তার পরিসংখ্যান থেকে যা বেরিয়ে এসেছে সেটি ছিলো সমকামীদের মধ্যে এক বা একাধিক মানসিক রোগের লক্ষন দেখা যায়। এ সকল মানসিক রোগের পেছনে জিনগত উপযোগ কী, বা বিবর্তন কেনো সমকামীদের মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু মানসিক রোগের জন্ম দিয়েছে সেটি ব্যাখ্যার দাবি রাখে। অথবা এমনও হতে পারে সমকামীদের মানসিক রোগের পেছনে সংস্কৃতিরও একটি প্রভাব আছে! আমরা সেলফিশ জিন তত্ব থেকে জেনেছিলাম যে, কেনিভাল মাকড়সারা মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও স্ত্রী কেনিভালের সাথে সেক্স করে আর স্ত্রী তাকে জীবন্ত খেয়ে ফেলে। এবং আমি বলেছিলাম যদি সেপিয়েন্সরাও কেনিভাল হতো, তবে আইনস্টাইন স্যার যখন তার প্রেমিকার সাথে সেক্স করতে যেতেন তখন এক কামড়েই কেনিভালের স্ত্রী আইনস্টাইনের মাথাটি খেয়ে ফেলতেন, আইনস্টাইন আর একাধিক নারীর সংস্পর্শে যেতে পারতেন না! আইনস্টাইনের মনের ভেতর E=MC ^ থাকুক অথবা এটম বোমার প্রযুক্তি ; তাতে তার স্বার্থপর জিনের কিছু আসে যায়না৷ আমি এখন ঠিক একই সুত্রটি সমকামীদের উপরও খাটাবো।। সমকামীতা যদি জেনেটিক্যাল হয় এবং স্বার্থপর জিনই যদি তার নিজেকে সফলতার সাথে ভবিষ্যত প্রজন্মে স্তানান্তরের জন্যে কিছুকিছু শরীরকে সমকামিতার প্রতি আসক্ত করে তৈরি করে তবে সে শরীরটির মৃত্যু হলো অথবা নাকি সে সাইকো হয়ে গেলো জিনের তাতে বিন্দু পরিমাণও কিছু আসে যায় না! যাই হোক, জামার এ পরিসংখ্যানটি ২০০১ সালে পরিচালিত। ১৯৭৭ সালে ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন সমকামীতাকে ICD-9 লিস্টে রাখেন যা একসময় ICD-10 লিস্টে ছিলো। বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ক্লিনিক্যাল লিটারেচারের বর্ণনা অনুযায়ী, সেম সেক্স এট্রাকশন, অনুভূতি ও আচরণ সাধারণ ও ইতিবাচক।



হোমোসেকচুয়ালদের মস্তিষ্কের স্ট্রাকচার কী হেট্রো-সেকচুয়ালদের থেকে আলাদা?

 

পেট এবং MRI স্ক্যানের মাধ্যমে সমকামীদের মস্তিষ্কের সেরিব্রাল এসিমেট্রি ও ফাংশনাল কানেক্টিভিটির মধ্যে তারতম্য পাওয়া গেছে। যদিও এ পার্থক্য হোমো সেকচুয়াল ও হেট্রো-সেকচুয়ালদের মধ্যে কোনো পারসেপশনগত পার্থক্য তৈরি করে না। দ্যা গার্ডিয়ান ২০০৮ সালের ১৬ ই জুন Gay men and Heterosexual woman have similarity Shaped brains, Research Show নামক একটি প্রতিবেদনে বলেন, লেসবিয়ান এবং হেট্রোসেক্চুয়াল পুরুষদের মস্তিষ্ক একই প্যাটার্ন প্রদর্শন করে। এর অর্থ যা দাঁড়ায় তা হলো, একজন পুরুষ যে তার বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকৃষ্ট তার মনস্তত্ব সে নারীর মধ্যে কাজ করে যে পুরুষের মতোই অন্য কোনো নারীর প্রতি যৌন উত্তেজনা অনুভব করে! গার্ডিয়ানের মতে, এ আবিষ্কার একইসাথে ডিপ্রেসন ও অটিজমের জগতেও নতুন এক আলোর বিচ্ছুরণ! একজন সমকামী পুরুষ ও স্ট্রেইট নারীর (যে সমকামী নয়, বা বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকৃষ্ট) মধ্যে নিউরো-সায়েন্টিস্টরা মিল খুঁজে পেয়েছেন , যার থেকে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে সেকচুয়াল  অরিয়েন্টেশন অথবা যৌন দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণভাবে আমাদের মস্তিষ্কের হার্ডওয়ার যা আমাদের নিউরাল সার্কিট দ্বারা গঠিত! ব্রেন স্ক্যানের মাধ্যমে দেখা যায় হোমোসেকচুয়াল পুরুষ ও হেট্রো-সেকচুয়াল নারীদের ব্রেন স্ট্রাকচার একই! তার মানে, একজন পুরুষ যে, অন্য পুরুষের প্রতি আকর্ষণ বোধ করে তার মস্তিষ্কের নিউরাল সার্কিট সে’ই নারীটির মতো যে অন্য কোনো পুরুষের প্রতি স্বাভাবিক যৌন উত্তেজনা অনুভব করে! আরো সহযভাবে বললে, সমকামী পুরুষটির ব্রেন সার্কিট একজন নারীর, তার মস্তিষ্কের ইলেক্ট্রিক্যাল পালসে একজন নারীর মনস্তত্ব ভাইব্রেট করে! তার মস্তিষ্কের হার্ডওয়ারে একজন সাধারণ নারীর ইচ্ছা, আকাঙ্খা, স্বপ্ন ও কল্পনা ঘুরে বেড়ায়। অতএব আমরা বলতে পারি যে, সে ফিজিক্যালি পুরুষ হলেও মানসিকভাবে সে একজন মেয়ে! বিজ্ঞানীরা হোমো সেকচুয়াল  পুরুষ ও হেট্রোসেকচুয়াল নারীর মস্তিষ্ক স্ক্যান করে দেখেন, তাদের উভয়ের মস্তিষ্কের লেফট ও রাইট হেমিস্ফিয়ারের আকার সম্পূর্ণ সমান। বিপরীত ভাবে, সমকামী নারী(লেসবিয়ান) ও স্ট্রেইট পুরুষ( যে বিপরীত লিঙ্গের প্রতি সেক্স ফিল করে) এদের উভয়ের মস্তিষ্ক সম্পূর্ণ আলাদা, বিশেষ করে মস্তিষ্কের রাইট হেমিস্ফিয়ার লেফট হেমিস্ফিয়ারের তুলনায় বড়! এর কারণ হলো যে নারী অন্য নারীর প্রতি সেক্স অনুভব করে এবং যে পুরুষ অন্য নারীর প্রতি সেক্স অনুভব করে তাদের দুজন সম্পূর্ণ আলাদা। স্টকহোম, সুইডেনের বিখ্যাত স্টকহোম ব্রেন ইনস্টিটিউটে এমনকিছু ব্রেন সার্কিট খুঁজে পেয়েছেন যা ইমোশনাল ক্ষেত্রগুলোতে রেসপন্স করে, আর এ ব্রেন সার্কিটগুলো সমকামী পুরুষ ও স্ট্রেইট নারীর ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ একইরকম। এ আবিষ্কারটি, ২০০৮ সালের ১৫ ই জুন US JOURNAL PROCEEDINGS OF THE NATIONAL ACADEMY OF SCIENCE এ প্রকাশিত হয়। এ গবেষণা থেকে জানা যায় যে বায়োলজিক্যাল ফ্যাক্টর যৌন দৃষ্টিভঙ্গি বা সেকচুয়াল অরিয়েন্টেশনকে প্রভাবিত করে- যেমন গর্ভের টেস্টাটোরনে প্রভাব সৃষ্টি – এটি হয়তোবা আমাদের ব্রেন এনাটোমিকেও গঠন  করতে পারে! এ স্টাডিটি পরিচালনা করেছিলেন, নিউরোবায়োলজিস্ট ইভাঙ্কা সেভিচ, তার পূর্বের আরো একটি গবেষণায় তিনি, স্পেচিয়াল ও ভার্বাল ক্ষমতার সাথে সেক্স ও সেকচুয়াল অরিয়েন্টেশনের পার্থক্য দেখিয়েছিলেন! এ গবেষণায় দেখা যায় একজন সমকামী পুরুষ ও স্ট্রেইট নারী কিছু নির্দিষ্ট ভাষার ক্ষেত্রে অত্যন্ত পারদর্শী আর অন্যদিকে হেট্রো-সেকচুয়াল পুরুষ ও লেসবিয়ান নারীর মধ্যে রয়েছে স্থানিক সচেতনতা! বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞান আমাদের বলে, আমাদের পুর্বপুরুষরা বনে জঙ্গলে যখন শিকার করতো তখন তাদেরকে থ্রি-ডায়মেনশনাল স্পেস বা স্থান সম্পর্কে সচেতন থাকতে হতো কারণ তারা যখন কোনো শিকারকে তাদের নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করতো, তখন তারা অবচেতনভাবে বিভিন্ন জ্যামিতিক হিসাব নিকাশ সম্পন্ন করতো, এ জন্যে তাদের মস্তিষ্কের স্থানিক সচেতনতার সাথে সম্পৃক্ত পোস্টারিয়র প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্স ও পেরিয়িয়াল লোব নারীদের তুলনায় শক্তিশালী, যে জন্য পুরুষরা এখনো ফিজিক্স ও টেকনোলজির মতো ব্যাপারগুলো খুব সহযে বুঝতে পারে, আর অন্যদিকে নারীদের মস্তিষ্কের লেফট হেমিস্পিয়ারের যে অংশটি ভাষা ও কথা বলার সাথে সম্পৃক্ত সেটি অনেক বেশি শক্তিশালী যা তাদেরকে লাখ লাখ বছর পূর্বে যোগাযোগ ও সমাজ গঠনে সাহায্য করেছিলো! কিন্তু বিষ্ময়করভাবে সমকামী নারীদের মধ্যেও স্থানিক সচেতনতা বিদ্যমান যা সাধারণ একজন স্বাভাবিক পুরুষের মধ্যে সচারচর দেখা যায়, যেখান থেকে প্রমাণিত হয় যে, হয়তোবা পুরুষের মস্তিষ্ক গঠনের সাথে সম্পৃক্ত কোনো জিনের এলিল এখনো নারীর শরীরের মাঝে কমপ্লেক্স কোনো উপায়ে ইন্টারপ্লে করছে এবং দৃশ্যমান নারীর শরীরে এখনো এটি মানসিকভাবে প্রিমেটিভ রয়ে গেছে।

সেভিন এবং তার সহকর্মী পারলিংস্ট্রোম ৯০ জন স্বেচ্ছাসেবির মস্তিষ্কের MRI স্ক্যান নিয়েছিলেন, যারা সমবয়সী ও চারটি ভাগে বিভক্ত ছিলো, তাদের মধ্যে নারী, পুরুষ, হোমোসেকচুয়াল ও হেট্রোসেকচুয়াল অনেকেই ছিলো। ব্রেন স্ক্যান থেকে দেখা যায় হেট্রো সেকচুয়ালদের মস্তিষ্কের রাইট হেমিস্ফিয়ার লেফট সাইট থেকে ২ শতাংশ বড়! লেসবিয়ানদের মস্তিষ্কের ভেতরেও একই অসমতা দেখা গেছে, তাদের মস্তিষ্কের রাইট হ্যান্ড সাইট ছিলো লেফট হ্যান্ড সাইট থেকে বড়! আর অন্যদিকে হোমোসেকচুয়াল পুরুষ ও হেট্রোসেকচুয়াল নারীর মস্তিষ্কের মস্তিষ্কের দুটো সাইট সমান প্রমাণিত হয়েছে! এ ফলাফলগুলো ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন এক্সপ্লেইন করে, তারা আবিষ্কার করে, আমাদের মস্তিষ্কের রাইট হ্যান্ড সাইট যেটি স্থানিক উপলব্ধির সাথে জড়িত সেটি হেট্রোসেকচুয়াল  পুরুষ ও সমকামী নারীর মধ্যে বেশি উন্নত। একই দলের পূর্বের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, সমকামী পুরুষ ও স্ট্রেইট নারী সমকামী নারী এবং স্ট্রেইট পুরুষকেও কথা বলার দক্ষতার ছাড়িয়ে গেছে। সাভিকের টিম এখনো মস্তিষ্কের বিভিন্ন গঠন যৌন দৃষ্টিভঙ্গি সৃষ্টির পেছনে দায়ী কি না এটি নিশ্চিত করার জন্যে কাজ করে যাচ্ছে। (অথবা এর কোন প্রভাব কি না।) এটি আবিষ্কার করার জন্যে তারা সদ্য জন্ম নেয়া শিশুদের মস্তিষ্কের সমতা পরীক্ষা করছে যার মাধ্যমে তারা শিশুদের ভবিষ্যত যৌন দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাখ্যা করবে। ডাক্তার সেভিক বলেন, শিশুদের মস্তিষ্কের এ যৌন দৃষ্টিভঙ্গি গর্ভকালীন অবস্থায় তৈরি হতে পারে আবার জন্মের পরও তৈরি হতে পারে অথবা এ দুটির সমন্বয়ও হতে পারে! তাদের পরীক্ষার অন্য একটি সিরিজে সেভিক ও লিন্ডস্ট্রোম Positron Emission Tomography (PET) পদ্ধতি ব্যবহার করে স্বেচ্ছাসেবিদের ক্ষুদ্র একটি দলের উপর এক্সপেরিমেন্ট করেন এবং দেখেন, হেট্রোসেকচুয়াল নারী ও সমকামী পুরুষ এমন একটি ব্রেন সার্কিট ভাগ করে যেটিকে বলা হয় এমিগডালা যেটি আবেগ ও মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশে প্রধান ভূমিকা পালন করে! এ গবেষণা থেকে  নারী ও পুরুষের মস্তিষ্কের আলাদা আলাদা গঠনের ফলে সৃষ্ট মানসিক রোগগুলোকে বুঝতে সুবিধা হবে বলেও গবেষকরা মনে করেন, বিশেষ করে অটিজমের ক্ষেত্রে! (চলবে)

 

তথ্যসুত্র-

 
1,500 animal species practice homosexuality, News Medical Live Science
Athiest ireland

আরও পড়ুন

Leave A Comment...

হাইপারস্পেস
চিন্তা নয়, চিন্তার পদ্ধতি জানো...!