শোয়ার্জনেগার জিন এন্ড বডি এনহেন্সমেন্ট টেক

যে জিনটি আপনার মধ্যে স্থাপন করলে বিশাল বিশাল গ্রহের গ্রেভেটিও আপনার উপর প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না কারণ এটি আপনার বায়োলজিক্যাল শরীরের দৃঢ়তা গ্রেভেটি থেকে উর্ধ্বে নিয়ে যাবে।

main source
FUTURE OF THE HUMANITY
SCIENTIST
MICHIO KAKU
ARTICLE WRITER
LEEHON
PART OF ARTICLE
2

১৯৯৫ সালে সমস্ত গ্রহ ক্রিস্টোফার রেবের জন্য হাহাকার করে উঠে ! যিনি ছিলেন সুপারম্যান মুভির অভিনেতা। দুঃখজনক হলেও এই যে, এ সুদর্শন পুরুষ একটি দুর্ঘটনায় আকস্মিক [horse-riding accident] প্যারালাইজড হয়ে যান। যে সুপারম্যান টেলিভিশনের পর্দায় মহাকাশ দাপিয়ে বেড়াতেন, সমস্ত মহাকাশ ছিলো যার হাতের মুঠোয়, তিনি কিনা চিরকালের জন্য বন্ধী হয়ে গেলেন হুইল চেয়ারে! শ্বাসযন্ত্রের সাহায্যে মানুষটি শুধু কোনোমতে নিশ্বাস নিতে পারতেন… তার স্বপ্ন ছিল আধুনিক প্রযুক্তি তাকে তার শরীরের উপর নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দেবে কিন্তু অসামাপ্ত এক স্বপ্ন নিয়েই এ অসহায় সুপারম্যানের মৃত্যু হয় ২০০৪ সালে।

মাত্র একটি দশক! মাত্র একটি দশক যদি সুপারম্যান বেঁচে থাকতেন? তবে হয়তো ডিউক ইউনিভার্সিটির মিগুয়েল নিকোলিস তাকে রক্ষা করতে পারতেন! এই তো সেদিনের কথা। ২০১৪ সালের ওয়ার্ল্ডকাপে ব্রাজিলের Sao Paolo ফুটবল খেলা শুরু করেছিলেন, বিশ্বের বিলিয়ন বিলিয়ন মানুষ যার সাক্ষী। কিন্তু সেটা বড় কথা নয়। আশ্চর্যজনক হলেও সত্য যে তিনি ছিলেন একজন প্যারালাইজড। প্রফেসর মিগুয়েল নিকোলিস তার মস্তিষ্কে একটি চিপ ইনসার্ট করেছিলেন। এ চিপ একটি পোর্টেবল কম্পিউটারের সাথে সংযুক্ত ছিলো যা তার এক্সোকেলিটন নিয়ন্ত্রণ করতো। নিকোলিসের স্বপ্ন ছিলো একদিন তিনি এপোলো মিশনের মতো কোন এক মহাকাশ অভিযানে যোগ দেবেন। তাঁর স্বপ্ন ছিলো চাঁদের মতো কোনো এক গ্রহ বা উপগ্রহে একদিন তিনিও পা রাখবেন। কিন্তু তার সে স্বপ্ন পূরণ হয়নি। তিনি মিচিও কাকুকে বলেন, ওয়ার্ল্ডকাপে যখন সাও পাওলো ফুটবলে ক্লিক করেছিল সেটাই ছিলো আমার চন্দ্র অভিযান!

এক্সোকেলিটন হলো যান্ত্রিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ। সামান্য ট্রেনিং এর মাধ্যমেই এগুলোকে হাত-পায়ের মতো নিয়ন্ত্রণ করা যায়। আর এটা সম্ভব হয়েছে কারণ কম্পিউটার মানুষের মস্তিষ্কের সুনির্দিষ্ট কিছু ব্রেন প্যাটার্ন জানে যা শরীরের সুনির্দিষ্ট কিছু মুভমেন্ট পরিচালনা করে। কম্পিউটারই এক্সোকেলিটনকে একটিভেট করে আর এতে করে ইলেক্ট্রিক্যাল পালস পরিণত হয় একশনে। US Military 150 মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছেন Revolutionary Prosthetic Program -এ ইরাক ও আফগানিস্তানের অভিজ্ঞ সৈন্যদের জন্য যাদের অনেকেই স্পাইনাল কর্ডের ইনজুরিতে ভুগছেন।

শোয়ার্জনেগার জিন এন্ড বডি এনহেন্সমেন্ট টেক

কিন্তু এক্সোকেলিটন ছাড়াও; সবচেয়ে, সবচেয়ে এবং সবচেয়ে বৈপ্লাবিক যে ঘটনাটি ঘটে গেছে সেটি হলো “শোয়ার্জনেগার জিন” আবিষ্কার যে জিনটি আপনাকে পৃথিবীর চেয়েও বিশাল মাধ্যাকর্ষণ শক্তিকে অতিক্রম করেও টিকে থাকতে সাহায্য করবে! এ জিন হলো সেই জিন যে জিনটি আপনার মধ্যে স্থাপন করলে বিশাল বিশাল গ্রহের গ্রেভেটিও আপনার উপর প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না কারণ এটি আপনার বায়োলজিক্যাল শরীরের দৃঢ়তা গ্রেভেটি থেকে উর্ধ্বে নিয়ে যাবে। আপনার পেশি সম্প্রসারিত হবে। হয়তোবা আপনি The incredible Hulk(2008) ফিল্মের বিশাল দেহের অধিকারী হাল্কের মতো হয়ে যাবেন। এ জিনটি ( Schwarzenegger Gene) সর্বপ্রথম পাওয়া যায় একপ্রকার ইঁদুরের শরীরে। যখন একটি জেনেটিক মিউটেশন সংঘটিত হয় এ ইঁদুরের পেশি অনেক শক্ত হয়ে যায়। পরবর্তীতে শোয়ার্জনেগার জিনের হিউম্যান ফর্মও পাওয়া যায়। যে সকল বিজ্ঞানী এ জিন আবিষ্কার করেছেন তারা ডাক্তারদের কাছ থেকে ফোন কল প্রত্যাশা করে ডিজেনারেটিভ মাসল ডিজিজে আক্রান্ত রোগীদের সাহায্য করার জন্য। কিন্তু তারা বিস্মিত হন যখন তারা দেখেন প্রায় অর্ধেক কলই আসে বডি বিল্ডারদের কাছ থেকে। তারা সবাই শরীরকে ফোলাতে চায়। তাদের অনেকেই এটা মানতে রাজি না যে এ গবেষণাটি এখনো পরীক্ষামূলক, তারা এর সাইড ইফেক্ট গণনা করতেই প্রস্তুত না! স্পোর্ট ইন্ডাস্ট্রিতে এটা রিতীমত মাথাব্যথায় পরিণত হয়ে গেছে। কারণ নতুন কোনো কেমিক্যাল এনহেন্সমেন্ট সনাক্ত করা এতটা সহজ না।

May be an image of 1 person and outdoors

আমাদের পেশির উপর হাল্কের মতো এই নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা আমাদের প্রয়োজন যদি আমরা ইন্টারস্টেলার ট্রাভেলে যাত্রা শুরু করি। কারণ পৃথিবীর চেয়ে বিশাল কোনো গ্রেভেটেশনাল ফিল্ডে আমাদের এ দূর্বল শরীর পেরেকের মতো আটকে যেতে পারে। আমরা যদি শোয়ার্জনেগার জিনকে ব্যবহার করি তবে আমরা মহাকাশে নতুন নতুন গ্রহ আবিষ্কার করতে পারব এবং সে গ্রহগুলো নিয়ে আমরা গবেষণাও করতে পারবো চূড়ান্তভাবে। মিচিও কাকু বলেন, এটাও মনে রাখতে হবে যে যে সকল গ্রহের গ্রেভিটেশনাল ফিল্ড আমাদের পৃথিবী থেকে ৫০ গুণ শক্তিশালী সে সকল গ্রহে আমাদের পেশি কুলিয়ে উঠতে পারবেনা। আমরা একদিন আমাদের বিশাল পেশি দিয়ে বিরাট বিরাট গ্রহগুলোকেও দমিয়ে রাখবো!

আমাদের সেন্স প্রসারঃ

আমাদের পেশি প্রসারণ ছাড়াও বিজ্ঞানীরা আমাদের সেন্স সম্প্রসারণের জন্য প্রযুক্তিকে ব্যবহার করা শুরু করেছে। যে সকল ব্যক্তি বধির তারা আজ Cochlear Implant এর মাধ্যমে কানে শুনতে পায়। এ যন্ত্র আপনার কানের ভেতর প্রবেশ করা সাউন্ড ওয়েভকে ইলেক্ট্রিক্যাল সিগনালে পরিণত করে যা প্রথমে অডিটরি নার্ভ ও তারপর মস্তিষ্কে প্রবেশ করে। ইতোমধ্যে প্রায় অর্ধ মিলিয়ন মানুষ এ পদ্ধতিতে তাদের শ্রবণশক্তি ফিরে পেয়েছে। আর্টিফিশিয়াল রেটিনা অন্ধদের মধ্যে কিছু মাত্রার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। এ যন্ত্র এক্সটারনাল ক্যামেরা অথবা ডাইরেক্টলি রেটিনায় স্থাপন করা যায়। এ যন্ত্র ভিজুয়াল ইমেজকে ইলেক্ট্রিক্যাল সিগনালে পরিণত করে যা মস্তিষ্ক আবার ভিজুয়াল ইমেজারিতে ট্রান্সলেট করে। এর একটি উদাহরণ হলো Argus।।, একটি ক্ষুদ্র ভিডিয়ো ক্যামেরা যা একজন ব্যক্তির গ্লাসে স্থাপন করা হয়। এ ইমেজ আর্টিফিশিয়াল রেটিনায় যায় যা অপটিক নার্ভে সিগনাল রিলে করে ৬০ পিক্সেলের ইমেজ তৈরি করতে পারে, বর্তমানে একটি উন্নত ভার্সন এসেছে যার রিসলিউশন ২৪০ পিক্সেল। জার্মানের একটি কোম্পানি ১,৫০০ পিক্সেলের আর্টিফিশিয়াল রেটিনা এক্সপেরিমেন্ট করেছেন। যদি এটি সফল হয় তবে চোখে দেখতে অক্ষম ব্যক্তিরা একদম স্বাভাবিক ভাবেই চোখে দেখতে সক্ষম হবে।

অন্ধ ব্যক্তিরা অবাক হবে যখন তারা ইমেজ আউটলাইন ও কালার দেখতে সক্ষম হবে। এটি শুধুমাত্র সময়ের ব্যাপার যে আর্টিফিশিয়াল রেটিনা আমাদের দৃষ্টি ক্ষমতা ফিরিয়ে আনবে। এমনকি আর্টিফিশিয়াল রেটিনা ব্যবহার করে আপনি এমন সব কালার দেখতে সক্ষম হবেন যা নরমালি চোখে দেখা যায়না। উদাহরণস্বরূপ – মাঝেমাঝে মানুষের হাত পুড়ে যায় কারণ গরম কোনো বস্তুর রঙ ঠান্ডা কোনো বস্তুর মতোই দেখায়। এর কারণ হলো আমাদের চোখ ইনফ্রারেড হিট রেডিয়েশন (Infrared Heat Radiation) দেখতে সক্ষম নয়। কিন্তু আর্টিফিশিয়াল রেটিনা ও গোগলস এটি কনস্ট্রাক্ট করতে পারবে যা খুব সহজেই এটাকে সনাক্ত করতে পারবে, এ ধরণের Night Vision Goggles মিলিটারিরা ব্যবহার করে।

এই ধরণের আর্টিফিশিয়াল রেটিনা ইন্টারস্টেলার ট্রাভেলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অন্য কোনো গ্রহ অন্ধকার হতে পারে, সেখানে ধুলোবালির পরিমাণ বেশি হতে পারে কিন্তু ইনফ্রায়েড হিট ডিটেক্টরের মাধ্যমে আমাদের চোখ সে ঝাপসা, কুয়াশাচ্ছন্ন গ্রহতেও দেখতে সক্ষম হবে। দূরবর্তী চাঁদে যেখানে সূর্যের আলোর অস্তিত্বও নেই সেখানেও আর্টিফিশিয়াল রেটিনা তাপ থেকে সৃষ্ট এ ইনফ্রারেড রশ্মিগুলোর তীব্রতা বৃদ্ধি করে আমাদের নিকট সেই উপগ্রহের মুখোশ খুলে দেবে।

আর একটি ব্যাপার হলো এই যন্ত্র আলট্রাভায়োলেট রশ্মিও সনাক্ত করতে পারবে যা ক্ষতিকর এবং স্কিন ক্যান্সারের কারণ কিন্তু সমস্ত মহাবিশ্বে এটি অত্যন্ত কমন। এ পৃথিবীতে আমরা আলট্রাভায়োলেট রশ্নি থেকে মুক্তি পাই বায়ুমন্ডলের মাধ্যমে কিন্ত মঙ্গলে আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মির কোনো ফিল্টার নেই। যেহেতু UV লাইট অদৃশ্য এটা কখন ক্ষতিকর পর্যায়ে চলে যায় সে ব্যাপারেই আমরা অসচেতন থাকি। কিন্তু সুপার ভিশন সম্পর্ন কোনো ব্যক্তি যদি মঙ্গলে যায় তবে সে তাৎক্ষণিক ইউবি রশ্নি দেখতে পাবে। ভেনাসের মতো গ্রহে, যা চিরস্থায়ী মেঘে ঢাকা সেখানেও আর্টিফিশিয়াল রেটিনা ইউভি রশ্মির মাধ্যমে দেখতে সাহায্য করবে।

সুপার ভিশনের আর একটি এপ্লিকেশন হলো টেলিস্কোপ এবং মাইক্রোস্কোপিক ভিশন। অত্যন্ত ক্ষুদ্র লেন্সের মাধ্যমে আপনার চোখ দূরবর্তী অবজেক্টগুলো দেখতে পাবে এমনকি আপনার শরীরের সেলগুলোর মত কাছের অবজেক্টগুলিও টেলিস্কোপ ও মাইক্রোস্কোপের মত বড় যন্ত্র ছাড়াই দেখা যাবে। এ ধরণের প্রযুক্তি টেলিপ্যাথি ও টেলিকেনেসিসের ক্ষমতাও প্রদান করবে।

ইতোমধ্যে এমন চিপও তৈরি করা সম্ভব যা আপনার ব্রেন ওয়েভ সংগ্রহ করবে এবং সেগুলোর পাঠোদ্ধার করবে এবং তারপর ইন্টারনেটে এই ইনফরমেশন ট্রান্সমিট করবে। উদাহরণস্বরূপঃ স্টিফেন হকিং যিনি ALS এ ভুগছিলেন, তিনি তার মোটর ফাংশন হারিয়ে ফেলেন যার মধ্যে তার আঙুলের মুভমেন্টও অন্তর্ভুক্ত ছিল। তার গ্লাসে একটি চিপ বসানো হয়, যা তার ব্রেন ওয়েভ সংগ্রহ করতো ।তারপর ল্যাপটপ ও কম্পিউটারে প্রেরণ করা হতো। এ পদ্ধতিতে তিনি মেন্টালি টাইপ করতে পারতেন যদিও অত্যন্ত ধীর গতিতে! এটি আসলে টেলিকেনেসিসের একটি সংক্ষিপ্ত স্টেপ। এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে একজন ব্যক্তি তার ব্রেনকে রোবটের সাথে কানেক্ট করতে পারবে অথবা অন্য কোনো মেকানিক্যাল ডিভাইসের সাথে। তারপর সেগুলো মেন্টাল কমান্ডের মাধ্যমে এক্সিকিউট করতে পারবে। এটা কল্পনা করা খুবই সহজ। কিন্তু ভবিষ্যতে এই টেলিপ্যাথি ও টেলিকেনেসিস একটি প্রথা হয়ে যাবে বলে কাকু মনে করেন। আমরা মেশিনের মাধ্যমে একে অন্যের সাথে আমাদের চিন্তা শেয়ার করতে পারবো। আমাদের মন লাইট অন করতে পারবে, ইন্টারনেট একটিভ করতে পারবে, বর্ণমালা লিখতে পারবে, ভিডিও গেইমস খেলতে পারবে, বন্ধুদের সাথে কমিউনিকেট করতে পারবে, কার কল করতে পারবে, মার্চেন্ডাইজ পার্সেল করবে, যেকোনো মুভি তৈরি করবে__ শুধু চিন্তার মাধ্যমে। ভবিষ্যতের এস্ট্রোনাটরা তাদের মনের ক্ষমতা ব্যবহার করে ভিন্ন কোনো গ্রহ আবিষ্কারের উদ্দেশ্যে স্পেসশিপ পাইলটিং করবে। মঙ্গলে শহড় গড়ে উঠবে রোবটের দ্বারা আর সেই রোবটদের নিয়ন্ত্রণ করবে আপনার মন।

কাকু বলেন, এটা নতুন নয়। আমাদের পূর্বসূরিদের মধ্যেও তাদের ক্ষমতা ও প্রভাব এনহেন্স করার এ প্রবণতা ছিল। তারা জামাকাপড়, ট্যাটু, মেকাপ, হেডড্রেস, ফেদার, গ্লাস, মাইক্রোফোন, হেডফোন ইত্যাদি দিয়ে তাদের ক্ষমতা বৃদ্ধি করার চেষ্টা করতো। এটি একটি বিশ্বজনীন ফিচার, আমরা আমাদের শরীরকে সবসময় মেরামত করার চেষ্টা করে এসেছি বিশেষ করে আমাদের প্রজননের সুবিধার জন্য। অতীত ও ভবিষ্যত এনহেন্সমেন্টের মধ্যে তারতম্য হলো যে, আমরা যেহেতু মহাবিশ্বকে এক্সপ্লোর করছি, এই এনহেন্সমেন্ট আমাদের বিকল্প পরিবেশে টিকে থাকতে সাহায্য করবে। ভবিষ্যতে, আমরা মেন্টাল যুগে বাস করবো, যেখানে আমাদের ব্রেন আমাদের চারপাশের বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণ করবে।

মনের ক্ষমতাঃ

ওয়েক ফরেস্ট ও ইউনিভার্সিটি অব সাউথার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার বিজ্ঞানীরা ইঁদুরের মস্তিষ্কে ইঁদুরের মস্তিষ্কের হিপোক্যাম্পাসে ইলেক্ট্রোড স্থাপন করেন যেখানে তাদের শর্ট-টার্ম মেমরি প্রসেস হয়। তারা টিউব থেকে ইঁদুরের পানি পান করার মেমরি রেকর্ড করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে ইঁদুর যখন কাজটি ভুলে যায় তখন তাদের হিপোক্যাম্পাস এই রেকর্ডিং দ্বারা স্টিমুলেট করা হয়েছিল। ইঁদুরটি সাথেসাথেই স্মরণ করতে পারে৷। প্রাইমেটদের মেমরিও এ একই পদ্ধতিতে রেকর্ড করা যায়।

দ্বিতীয় টার্গেট হলো আলঝেইমার রোগীদের মেমরি রেকর্ড করা। তারপর আমরা “ব্রেইন পেচমেকার” অথবা “মেমরি চিপ” স্থাপন করবো তাদের হিপোক্যাম্পাসের ভেতর, যা তাকে বলে দেবে সে কে, সে কোথায় বাস করে এবং কে তার আত্মীয়। মিলিটারিরা এখান থেকে বিপুল সুবিধাভোগ করবে। পেন্টাগন ২০১৭ সালে ৬৫ মিলিয়ন ডলার ঘোষণা করেছে একটি ক্ষুদ্র চিপ ডেভেলপ করার জন্য যা মিলিয়ন মিলিয়ন হিউম্যান নিউরন এনালায়েজ করবে, যাতে করে ব্রেন কম্পিউটারের সাথে যোগাযোগ ও স্মৃতি তৈরি করতে পারে। যদিও এ প্রযুক্তি আরো রিফাইন করা প্রয়োজন তবে একুশ শতকের ভেতর আমরা কম্পিউটারে আরো কমপ্লেক্স মেমরি আপলোড করতে পারব। প্রিন্সিপাল অনুসারে, আমরা আমাদের স্কিল ও এবিলিটি ট্রান্সফার করতে পারবো এবং এমনকি আমাদের সামগ্রিক কলেজ কোর্স, আমাদের মস্তিষ্কের ক্ষমতা এনহেন্স করার মধ্য দিয়ে আমরা অসীম সুবিধা ভোগ করবো। আরও দেখুন- অপটোজেনেটিক্স ও কৃত্রিম মেমরি

ভবিষ্যত মহাকাশচারীদের জন্য এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যখন তারা নতুন কোনো প্লানেট অথবা চন্দ্রে অবতরণ করবে, নতুন পরিবেশ ও প্রযুক্তি সম্পর্কে তাদের অনেক বিস্তারিত ইনফরমেশন প্রয়োজন হবে, অতএব মেমরি আপলোড করার মাধ্যমে মহাকাশচারীদের ব্রেনকে সে নতুন গ্রহের প্রয়োজনীয় ইনফরমেশন প্রদান করা সম্ভব হবে। এ প্রযুক্তি হয়তো ব্রেন নেটেরও জন্ম দেবে, আমরা ইন্টারনেটে শুধু ইনফরমেশন নয়, ইমোশন, ফিলিং, সেনসেশন এবং মেমরিও প্রেরণ করতে পারবো। আর এতে করে মানুষে মানুষে মানসিক ব্যবধান মুছে যাবে। এখন আমরা একে অন্যকে ভালোভাবে বুঝিনা কিন্তু ব্রেন নেটের মাধ্যমে আমরা পরস্পর পরস্পরের উত্তেজনা ও ভয় সম্পর্কেও অভিজ্ঞতা অর্জন করবো। আরও দেখুন- হ্যাপ্টিক টেকনোলজি ও ফেসবুক মেটাভার্স

জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর মাধ্যমেও মনের ক্ষমতা বৃদ্ধির কথা বিজ্ঞানীরা চিন্তা করছেন। ইঁদুরের মধ্যে এমন এক ধরণের জিন পাওয়া গেছে যা ধাঁধা সমাধান করার ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। এ জিনটার নাম NR2B , এটি মস্তিষ্কের হিপোক্যাম্পাসের দুটি সেলের সাথে যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ। গবেষকরা দেখেন যে, যখন ইদুরের NR2B জিনের অভাব দেখা দেয় তখন তাদের ধাঁধা সমাধান করার ক্ষমতা কমে যায়। যদি এই NR2B জিনের এক্সট্রা কপি থেকে থাকে তবে, তাদের মেমরি সমৃদ্ধ হবে। আরও দেখুন- জিনগতভাবে মেমোরি বৃদ্ধি

1] FUTURE OF THE MIND, MICHIO KAKU

2] FUTURE OF THE HUMANITY, MICHIO KAKU

hsbd bg