ন্যানো-রোবট ও জৈবিক অমরত্ব।

ন্যানো রোবট

লিখেছেন ভার্সিক ওভা
133 বার পঠিত হয়েছে

ন্যানোবোট, মৃত্যুর কারণ,অসীম তারুণ্য, বায়োলজিক্যাল ইমোর্টালিটি এবং মেন্টাল সুইসাইড।

Mind Beyond the matter.

Part-5

বয়স কেনো বাড়ে?প্রাচীন বিজ্ঞান আমাদের এ প্রশ্নের কোন উত্তর দিতে পারেনি, ঐতিহ্যগতভাবেই আমাদের Ageing Process সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের কোনো জ্ঞান ছিলোনা।সাম্প্রতিক এজিং প্রসেস থিওরি বিকশিত হয় এবং অনেক গবেষণায়ই এ থিওরির সাথে একমত হয়েছেন।এ থিওরি অনুসারে, বয়স হলো আমাদের জেনেটিক এবং সেলুলার লেবেলের তৈরি করা কিছু Error বা ত্রুটি।সময়ের সাথে সেলের যখন বয়স বাড়ে তখন শরীরে ডি এন এ গুলি ভুলভাবে তৈরি হয়, সেলুলার ধ্বংসাবশেষ স্তুপিকৃত হতে থাকে(Cellular Debris also Start Accumulate)।যা সেলগুলিকে খারাপ ( Sluggish) করে তোলে।একটা সময় সেলগুলি ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং স্কিন ঝুলেন যায় যেটাকে আমরা বলি বার্ধক্য!এবং অবশেষে আমরা মারা যাই।তার মানে আমাদের ন্যাচারাল মৃত্যুর কারণ হলো জেনেটিক্যাল এরর।

কিন্তু মজার ব্যাপার হলো আমাদের শরীরে Cell Error Correcting Mechanism রয়েছে।যেটি আমাদের সেলের ভেতরে সংঘঠিত ভুলগুলিকে সংশোধন করে।কিন্তু সময়ের সাথে এই সেল এরর কারেক্টিং প্রসেস সঠিকভাবে কাজ করেনা, আর এ জন্যে আমাদের সেলগুলি বৃদ্ধ হয়ে যায়,আমাদের ইমিউন সিষ্টেম দূর্বল হয়ে উঠে এবং আমরা মৃত্যুবরণ করি।প্রশ্ন হলো আমরা যদি আমাদের শরীরকে অমর করে রাখতে চাই তবে সেক্ষেত্রে আমাদের কী করা উচিত?

ন্যানোবোট

Credit: Quora

থার্মোডায়নামিক্সের সেকেন্ড “ল” অনুসারে সময়ের সাথে যেকোনো আইসোলেটেড সিষ্টেমে এন্ট্রপি বৃদ্ধি পায় সম্ভবত এ জন্যেই আমাদের শরীরের সেল এরর কারেক্টিং ম্যাকানিজম আমাদের এজিং প্রসেসকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যার্থ হয় এবং আমরা মৃত্যুবরণ করি।কিন্তু বিষ্ময়কর ব্যাপার হলো প্রকৃতির সবকিছুর মধ্যেই Vice Versus রয়েছে।দিনের বিপরীতে রাত অথবা কোয়ার্কের বিপরীতে এন্টি কোয়ার্ক।ঠিক একইভাবে আমাদের শরীরের মধ্যে একইসাথে এবং একইসময় দুটো পরস্পর বিরোধী ম্যাকানিজম কাজ করছে এজিং এর বিপরীতে এন্টি এজিং, ডেথ এর বিপরীতে এন্টি ডেথ।

আরও পড়ুন: পোস্ট বায়োলজিক্যাল মাইন্ড

দেখুন জেনেটিক্যাল ম্যাকানিজম সময়ের সাথে আমাদের ডি এন এ ক্লোন করার সময় অনেক ভুলত্রুটি করে যার জন্যে আমাদের সেলগুলি Malfunction হয়ে যায় আবার অন্যদিকে সেল এরর কারেক্টিং প্রসেস এই ভুলগুলি কারেকশন করার চেষ্টা করে।দেহের ভেতরেই প্যারাডক্স।একটি ম্যাকানিজম আমাদের মৃত্যু চায় অন্যটি আমাদের সেলগুলিকে রিফাইন করে আমাদের জীবিত রাখতে চায় কিন্তু চুড়ান্তে এই লড়াইয়ে এদের একটির জয়লাভ করে।এখন প্রশ্ন হলো কি হবে যদি সেল এরর কারেক্টিং প্রসেসকে আমরা শক্তিশালী করে তুলি?

বুঝতেই পারছেন এটি আক্ষরিক অর্থেই আমাদেরকে বায়োলজিক্যালি অমর করে তুলবে।জিন থেরাপি এবং নতুন এনজাইম তৈরির মাধ্যমে আমরা সেল রিপেয়ার ম্যাকানিজমকে আপডেট করে তুলতে পারি, কিন্তু আরো একটি পদ্ধতি আছে যার মাধ্যমে আমাদের এই ম্যাকানিজমকে আপডেট করা যায় আর সেটি হলো Nanobot বা ন্যানো রোবটের ব্যাবহার।

ন্যানোবোট হলো একপ্রকার এটমিক মেশিন যেটি রক্তপ্রবাহকে Petroling [দেখাশুনা,সমর্থন] করবে, ক্যান্সার কোষকে আক্রমণ বা জ্যাপিং করবে, এবং এজিং প্রসেসের ক্ষতি থেকে রক্ষা করবে যেটি আমাদের অনন্তকাল তরুণ এবং জীবিত রাখবে!!

মিসিও কাকু তার Future of the Mind গ্রন্থে লিখেছেন, ন্যাচার অলরেডি আমাদের শরীরে এমনকিছু ন্যানোবোট তৈরি করেছেন যেটাকে ইমিউন সেল বলে, ইমিউন সেল আমাদের রক্তকে পেট্রলিং করে।কিন্তু দুঃখ্যজনক ব্যাপার হলো ইমিউন সেল শুধুমাত্র আমাদের শরীরের ভাইরাস এবং ব্যাক্টেরিয়ার বিপক্ষে যুদ্ধ করে, এজিং প্রসেসের বিপক্ষে কাজ করেনা!মজার ব্যাপার হলো ইমিউন সেল আমাদের সুস্থ্যভাবে বাচিয়ে রাখে ঠিক আছে কিন্তু মৃত্যুর বিপক্ষে কোনো প্রতিষেধক তৈরি করেনা, সে একইসাথে জীবনের নিশ্চয়তা দেয় এবং আমাদের মৃত্যুর পথকে অবরুদ্ধ করেনা!যেহেতু আমাদের জেনেটিক্যাল ম্যাকানিজমের দ্বিমুখীতার কারণেই আমাদের মৃত্যু হচ্ছে অতএব আমরা এটা বলতেই পারি মৃত্যুম্পূর্ণ সাবজেক্টিক, এটি আমার সচেতনতার বাহিরে ঘটছেনা।

১.মস্তিষ্কের MRI প্রযুক্তি

২.টেস প্রযুক্তি

আমরা অমরত্ব অর্জন করতে পারবো যদি ন্যানোবোট আমাদের এজিং প্রসেসের লুটপাটকে রিভার্স করতে পারে।এক্ষেত্রে ন্যানোবোটকে আমরা আর্টিফিশিয়াল ইমিউন সেল বলতে পারি, মৃত্যুর এবং বার্ধ্যকের বিপক্ষে ইমিউনিটি।অতিক্ষুদ্র কিছু পুলিশ বাহিনি যারা রক্তপ্রবাহ দেখাশুনা করবে,ক্যান্সার কোষকে আক্রমণ করবে,ভাইরাসকে নিউট্রালাইজ করবে,ধ্বংসাবশেষ এবং মিউটেশনকে পরিস্কার করবে।যদি এটি সম্ভব হয় তবে আমাদেরকে আর রিভাnর্স ইঞ্জিনিয়ারিং এর মাধ্যমে রোবটের মস্তিষ্কে সার্ভাইভ করতে হবেনা, আমরা আমাদের শরীরের মধ্যেই সারভাইভ করবো।

প্রশ্ন হলো আমরা যখন অমরত্ব লাভ করবো তখন আমরা অলস হয়ে যাবোনা তো!জীবনের দৈর্ঘ্য যদি যদি কয়েক হাজার বছর হয়ে যায় তবে আমরা আজকের কাজকে কয়েকবছর পরের জন্যে রেখে দেবো, আমাদের অলসতা এবং কর্মহীনতা বেড়ে যাবে!এবং হয়তোবা ডিপ্রেসনে পড়ে আমরা অবশেষে আমাদের শরীরকে ধবংস করে ফেলবো, কারণ আমরা বায়োলজিক্যাল অমরত্ব লাভ করলেও আমাদের জেনেটিক্যাল মাইন্ড আগের মতোই নশ্বর মেন্টালিটিতে থেকে যাবে…!

রেফারেন্স:

আরও পড়ুন

Leave A Comment...

হাইপারস্পেস
চিন্তা নয়, চিন্তার পদ্ধতি জানো...!