Last updated:
থিংকিং ফাস্ট এন্ড স্লো
Angry Woman ♀

সাইকোলজি নিয়ে ডেনিয়েল কাহম্যানের লেখা Thinking Fast and Slow গ্রন্থটি মনোবিজ্ঞান নিয়ে পড়া আমার জীবনের সেরা গ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম। বইটির শুরুতেই লেখক স্লো থট এবং ফাস্ট থটের উদাহরণ দিতে গিয়ে খুব সিম্পল দুটি এক্সপেরিমেন্ট প্রদর্শন করেন। একজন মহিলা রাগান্বিত চোখে মুখ ‘হা’ করে তাকিয়ে আছেন। এ ছবিটি দেখে আপনাকে অটোমেটিক মুডে পর্যবেক্ষণ করতে হবে ছবিটি মূলত কি বলতে চায়। প্রথমেই ছবিটি দেখে আপনার মনে হবে একটি হালকা কালো চুলের মহিলা, এবং খুব দ্রুত আপনি দেখবেন সে রাগান্বিত, এরপর মনে হবে এ মহিলাটির “হা” করা মুখ থেকে ঠিক এখনই ভয়ানক খারাপ কোনো শব্দ মিসাইলের মতো ছুটে আসবে। ছবিটি দেখার সাথে সাথেই আপনি আপনার কোনপ্রকার চিন্তা, ইনটেনশন বা ইচ্ছা ছাড়াই অনুভব করবেন মহিলাটির পরবর্তী আচরণগুলো কি হতে যাচ্ছে। আপনার মধ্যে কোন প্রতিক্রিয়া তৈরি হবেনা, কোনো বিশ্লেষণ তৈরি হবেনা। ছবিটি দেখার সাথে সাথে সম্পূর্ণ ভবিষ্যত আপনার মনের ভেতর এমনি এমনি ফট ফট করে প্রকাশিত হতে থাকবে। এটাকেই বলে ফাস্ট থিংকিং।

এবার নিচের সমস্যাটি দেখুন;

১৭×২৪

এটা দেখার পরপরই আপনি বুঝতে পেরেছেন যে এটি একটি মাল্টিফিকেশন প্রবলেম। এবং সম্ভবত আপনি এটাও জানেন যে, পেন্সিল ও কাগজে আপনি এ সমস্যাটি সমাধান করতে পারবেন। এর সম্ভাব্য ফলাফল কি হতে পারে এ ব্যাপারে আপনার মধ্যে একটি অস্পষ্ট ধারণা হয়তো তৈরি হয়েছে। আপনি হয়তো এটাও ধারণা করতে পেরেছেন যে ১২,৬০৯ অথবা ১২৩ কোনোটাই এর ফলাফল হতে পারেনা। এ সমস্যাটির উপর কিছুক্ষণ সময় অপচয় করার পর আপনি নিশ্চিত হতে পারলেন না যে এর উত্তর ৫৬৮ হতে পারে৷ সুনির্দিষ্ট কোনো সলিউশন আপনার মস্তিষ্কে আসেনি। আপনি হয়তো ভাবছেন এটা নিয়ে আপনার গণনা করা উচিত নাকি উচিত নয়। এতক্ষণ যদিও আপনি এ কাজটি করেননি কিন্তু আকস্মিক এখন আপনি গণনা করতে শুরু করেছেন এবং হয়তো অন্তত আংশিক শেষও করে ফেলেছেন। কয়েকটি সিকোয়েন্স অব স্টেপে আপনি অনুভব করলেন আপনার চিন্তা স্লো হয়ে গেছে! আপনি প্রথমে আপনার কগনিটিভ মেমরি থেকে স্কুল জীবনে গুণ সম্পর্কে যা শিখেছেন তা পুনরুদ্ধার করা শুরু করলেন আর তারপর এটি প্রয়োগ করলেন। চাপের মধ্যে আপনি কম্পিউটেশন বা গণনা সম্পাদনও করলেন। আপনি কিছু ম্যাটারিয়ালস ব্রেনে ধরে রাখতে প্রতিবন্ধকতাও বোধ করলেন। আর এজন্য আপনি কতটুকু গণনা করেছেন ও কোথায় আছেন তার পদাঙ্ক অনুসরণ করতে হবে। এটি ছিল মানসিক শ্রমের প্রক্রিয়া যা ছিল সুনির্দিষ্ট, সুশৃঙ্খল, শ্রমসাধ্য _ স্লো থিংকিং- এর একটি প্রটোটাইপ। গণনা শুধু আপনার মনের ভেতর সংঘটিত একটি ঘটনা নয়, আপনার বডিও এ গণনায় অংশ নিয়েছিল। আপনার পেশির টেনশন বেড়ে গিয়েছিল, আপনার ব্লাড প্রেসার বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং উঠতে শুরু করেছিল আপনার হৃসস্পন্দন! কেউ যদি আপনার চোখের দিকে ক্লিয়ারলি তাকাতো তবে সে পরিস্কারভাবেই দেখতে পেতো আপনার চোখের পাপড়ি দীর্ঘায়িত হয়েছে। আপনার পাপড়ি একমাত্র তখনই নরমাল আকারে ফিরে এসেছিল যখন আপনি আসল উত্তরটি খুঁজে পেয়েছিলেন( যা ছিল ৪০৮)।

আমাদের মনের দুটি সিস্টেমঃ

তার মানে দেখতেই পাচ্ছেন আমাদের মনের ভেতর দুটি সিস্টেম কাজ করে! সাইকোলজিস্টরা রাগান্বিত মহিলা ও মাল্টিফিকেশন প্রবলেমের সাথে জড়িত মস্তিষ্কের এ দুটি সিস্টেম নিয়ে কয়েক দশক ধরে কাজ করে যাচ্ছেন! এখানে আমি মনোবিজ্ঞানী স্ট্যানেভিচ ও রিচার্ড ওয়েস্টের দুটি পদ্ধতি, সিস্টেম-১ ও সিস্টেম-২ বলে ব্যাখ্যা করবো।

সিস্টেম-১ কাজ করে অটোম্যাটিক্যালি এবং খুবই দ্রুত, এখানে কোনো পরিশ্রম নেই এবং ইচ্ছিক কোনো কন্ট্রোলের অস্তিত্ব নেই।

সিস্টেম-২ -এ আপনাকে প্রচুর মানসিক পরিশ্রম করতে হবে, কমপ্লেক্স কম্পিউটেশন বা গণনাও করতে হতে পারে। সিস্টেম-২ ব্যক্তির এজেন্সি, চয়েজ ও কনসেন্ট্রেশনের সাবজেক্টিভ অভিজ্ঞতার সাথে জড়িত। সিস্টেম-১ ও সিস্টেম-২ সাইকোলজিতে অধিক পরিচিত। আপনি খুব দ্রুত এ দুটি সিস্টেমের সাইকো-ড্রামা দেখতে পাবেন। সিস্টেম-১ এর অটোমেটিক অপারেশন আপনার মধ্যে বিস্ময়করভাবে কমপ্লেক্স থট তৈরি করে, বিভিন্ন প্যাটার্নের জটিল ধারণা কিন্তু ধীরগতির সিস্টেম-২ আপনার মধ্যে সুশৃঙ্খল পদক্ষেপের একটি পরম্পরা তৈরি করে দেয়। অনেক সময় সিস্টেম-১ -এর অপ্রতিরোধ্য আচরণের কারণে সিস্টেম-২ অকেজো হয়ে যেতেও পারে। এখানে সিস্টেম-১- এর সাথে জড়িত কিছু সামগ্রিক অটোমেটিক একটিভিটি দেয়া হলোঃ

  • একটি অবজেক্ট আর একটি অবজেক্ট থেকে দূরে কি কাছে সনাক্ত করুন।
  • আকস্মিক ছুটে আসা কোন একটি শব্দের দিক নির্ণয় করুন।
  • ভয়ানক কোনো ছবি দেখলে “বিরক্তিকর মুখ” তৈরি করা।
  • কন্ঠস্বরের মধ্যে বন্ধুত্ব খুঁজে পাওয়া।
  • ২+২= কত?
  • বিশাল বিলবোর্ডে কোনো লেখা পাঠ করা।
  • এম্পটি রোডে গাড়ি চালানো।
  • দাবা খেলায় স্ট্রং মুভ পাওয়া( যদি গ্রেন্ড মাস্টার হও)
  • একটি সিম্পল সেন্টেন্স বুঝতে পারা।

একটি রাগান্বিত মহিলাকে দেখলে আপনার মনে যে ঘটনা ঘটবে সেটি স্বতস্ফুর্ত, সাবলিল এবং এখানে ক্ষুদ্র পরিমাণ পরিশ্রমও করতে হয়না। সিস্টেম-১ আমাদের সেই সব সহজাত বৈশিষ্ট্যকে অন্তর্ভুক্ত করে যা আমরা অন্যান্য প্রাণীদের সাথেও শেয়ার করেছি। মূলত, আমরা বিবর্তিত হয়েছি আমাদের চারপাশের জগতকে বোঝার জন্য, অবজেক্ট শনাক্ত করার জন্য, মনোযোগ সাজানোর জন্য, ক্ষতির পরিমাণ হ্রাস করার জন্য এবং স্পাইডারকে ভয় পাওয়ার জন্য। আমাদের এই সকল মেন্টাল একটিভিটিজ মিলিয়ন মিলিয়ন বছরের বিবর্তনে আমাদের মধ্যে ফাস্ট এন্ড অটোম্যাটিক হয়ে উঠেছে। সিস্টেম-১ দুটি ধারণাকে এসোসিয়েট করতে পারদর্শী( যেমন- ফ্রান্সের রাজধানীর নাম?)। কিছু দক্ষতা শিখতে হতে পারে যেমন- পড়া ও সামাজিক পরিস্থিতির বিভিন্ন নুইস্যান্স রিয়েলাইজ করা। কিছু দক্ষতা যেমন দাবা খেলায় স্ট্রং মুভ পাওয়া- এগুলো স্পেশালাইজড এক্সপার্টরাই অর্জন করতে পারে। আর অন্যগুলো সুবিস্তীর্ণভাবে সবার মধ্যে ভাগ হয়ে আছে। আমরা একবার মেমরিতে যদি কোনো তথ্য সংরক্ষণ করতে পারি সে মেমরিতে আমরা কোনো ইনটেনশ ও ইফোর্ট ছাড়াই এক্সেস করতে পারি। আমাদের কিছু কিছু মেন্টাল একশন সম্পূর্ণ অনৈচ্ছিক। আপনার ভাষায় একটি সহয সেন্টেন্সের অর্থ কি ; এটা আপনার বোঝার ইচ্ছা ও প্রচেষ্টা না থাকলেও আপনি বুঝবেন, অপ্রাত্যাশিত উচ্চ শব্দ শনাক্ত করবেন , ২+২=৪ অথবা ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস ; এ কথাগুলো বোঝা থেকে আপনাকে কোনোভাবেই কেউ আটকাতে পারবেনা। আবার কিছু কিছু কর্মকাণ্ড যেমন চুইঙ্গাম চিপানোর সময় যদিও নিয়ন্ত্রণ আপনার হাতেই থাকে কিন্তু এ প্রক্রিয়া অটোম্যাটিকই চলতে থাকে। এটেনশন কন্ট্রোল দুটি সিস্টেমের উপর ডিপেন্ড করে- একটি উচ্চশব্দ অনুভব করা সাধারণত সিস্টেম-১- এর খুবই অনৈচ্ছিক একটি অপারেশন যা মুহূর্তেই সিস্টেম-২- এর ঐচ্ছিক মনোযোগকে ট্রিগার করে। উচ্চশব্দ ও জনসম্মুখে অফেন্সিভ মন্তব্যকে যদিও আপনি অবদমন করতে পারেন, আপনার ব্রেন থেকে তবুও এটা সরেনা, আপনার মনোযোগ মৌলিকভাবে সেদিকেই পরিচালিত হয়, অন্তত মুহূর্তের জন্য। সিস্টেম-২ এর সাথে জড়িত উচ্চমাত্রিকভাবে বৈচিত্র‍্যময় অপারেশনগুলোর মধ্যেও একটি কমন ফিচার রয়েছে। এগুলোর জন্য আপনার মনোযোগ প্রয়োজন এবং মনোযোগ ভেঙে গেলে এ অপারেশন গুলোও সম্পূর্ণ ভেঙে যায়।

১.সার্কাসের একজন ভাড়ের দিকে দৃষ্টি রাখুন।

২. ভীড়ের মধ্যে কোন একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তির কন্ঠস্বর খুঁজে বের করুন।

৩. সাদা চুলের একজন মহিলাকে খুঁজে বের করুন।

৪. আপনার স্মৃতি থেকে একটি অদ্ভুত শব্দ খুঁজে বের করুন।

৫. গতানুগতিক গতি থেকে দ্রুত গতিতে পথ চলুন।

৬. সামাজিক পরিস্থিতিতে এপ্রোপিয়েট ল্যাঙ্গুয়েজ খুঁজে বের করুন।

৭. এ পেজে থেকে ‘a’ লেটারের ঘটনাগুলো গণনা করুন।

৮. ন্যারোস্পেসে পার্ক করুন।

৯. দুটি ওয়াশিং মেশিনের মোট ভ্যালু তুলনা করুন।

১০. একটি জটিল যুক্তির বৈধতা নিরূপণ করুন।

এ প্রতিটি পরিস্থিতিতে আপনি অবশ্যই মনোযোগ দেবেন, আপনি তেমন ভালো কাজ করতে পারবেন না, এমনকি হয়তো কোনো কাজই করতে পারবেননা। সিস্টেম-২ -এর ক্ষমতা রয়েছে সিস্টেম-১ এর কর্মপদ্ধতি পরিবর্তন করার, খুব সাধারণভাবে মেমরি ও এটেনশানের অটোম্যাটিক ফাংশন প্রোগ্রাম করার মাধ্যমে। আপনি যখন ব্যস্ত রেলস্টেশনে বসে থাকেন, তখন আপনি হয়তো আপনার চারপাশে সাদা চুলের কোনো আত্মীয়কে অনুসন্ধান করতে পারেন। আপনি যদি ট্রাফিকজ্যামের মধ্যে ১৭×২৪ গুণ করার চেষ্টা করেন, আপনি যতই চেষ্টা করেননা কেনো আপনি ব্যর্থ হবেন, আপনার নিশ্চিতভাবে তখন এটা চেষ্টা করা ঠিক নয়। আপনি শূন্যরাস্তায় আপনার পেসেঞ্জারের সাথে কথা চালিয়ে যেতে পারেন। অনেক মা বাবা কিছুটা অপরাধবোধের সাথেই বলেন, তারা যখন অন্যমনস্ক হয় তখন তারা তাদের বাচ্ছার বই পড়ে শেষ করে ফেলেন। আমরা সবাই আমাদের মনোযোগের এ সীমাবদ্ধতাগুলো সম্পর্কে অবগত। আর সামাজিক আচরণ আমাদের এসব সীমাবদ্ধতাগুলোর জন্য ভাতা দেয়। যেমন- একজন ড্রাইভার যখন মালবাহী একটি ট্রাককে কোনো সরু রাস্তায় ঢুকিয়ে দেয়, উদাহরণস্বরূপ এডাল্ট পেসেঞ্জার প্রায় কথা বলা বন্ধ করে দেয়, তারা জানে ড্রাইভারের মনোযোগ বিক্ষিপ্ত করা একেবারেই ভালো ধারণা নয় এবং তারা দেখে যে ড্রাইভার সাময়িকভাবে বধির হয়ে গেছে , সে কিছুই শুনতে পাচ্ছেনা। কোনো একটি ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ফোকাস করলে আপনি অন্ধও হয়ে যেতে পারেন। এ ব্যাপারটি সবচেয়ে নাটকীয়ভাবে প্রথম এক্সপ্লেইন করেছিলেন ক্রিস্টোফার চ্যাব্রিস এবং ডেনিয়েল সিমন্স তাদের Invisible Gorilla নামক গ্রন্থটিতে। তারা একটি শর্ট ফিল্ম তৈরি করেছিলেন যেখানে ছিল দুই দল বাস্কেল বল প্লেয়ার। একদল সাদা জার্সি পরিহিত আর অন্যদল কালো। এ ফিল্মের দর্শকদেরকে বলা হয়েছিল, কালো জামা পরিহিত প্লেয়ারদের দিকে পর্যবেক্ষণ না করেই এটা গণনা করার জন্য যে সাদা জার্সি পরিহিত প্লেয়াররা ঠিক কতবার একে অন্যের দিকে বলটি ছুড়ে দেয়। খেলাটি ছিল মোটামুটি কঠিন ও হাস্যকর। নিন্মের ভিডিওটি লক্ষ করুন।

মনে করুন, আপনি নিজেই এখন এ খেলার একজন দর্শক। আপনি কালো জার্সি পরিহিত প্লেয়ারদের উপেক্ষা করে সম্পূর্ণ মনোযোগের সাথে সাদা জার্সি প্লেয়াররা একে অন্যকে কতবার বলটি পাস করেছে সেটি গণনা করে খাতা বা মোবাইলের প্যাডে লিখুন। আপনি কী কোনো গরিলা দেখতে পেয়েছেন? যদি না দেখে থাকেন তবে আপনার উপর এক্সপেরিমেন্টটি কাজ করেছে। আপনি খুবই মনোযোগের সাথেই ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করেছেন। কিন্তু দুঃখের সহিত আপনাকে জানাতে হচ্ছে যে এখানে একজন ছিলো যে গরিলা, প্রায় নয় সেকেন্ডের জন্য সে আপনার সামনেই দাঁড়িয়ে ছিল। আমরা যখন গভীর মনোযোগের সাথে কোনো একদিকে ফোকাস করি তখন আমরা সাময়িকভাবে ব্লাইন্ড হয়ে যাই। হয়তো আপনি তড়িঘড়ি করে আবার ব্যাপারটি দেখেছেন? রাইট? এবং কালো জার্সির একটি গরিলা দেখতে পেয়েছেন? হাজার হাজার মানুষ এ ভিডিও দেখেছে। তারা এ ভিডিওটিতে অস্বাভাবিক কিছুই দেখেনি। এটাই হলো, গণনার কাজ_ বিশেষ করে এক দলকে উপেক্ষা করার জন্য নির্দেশনার প্রভাব__ ‌যা আপনাকে ব্লাইন্ড করে দিয়েছে। দেখা ও গণনা সিস্টেম-১ এর অটোমেটিক ফাংশন, কিন্তু তারা ডিপেন্ড করে প্রাসঙ্গিক ঘটনার উপর অন্তত কিছু মনোযোগ আরোপের উপর। লেখকরা এ এক্সপেরিমেন্ট থেকে দূর্দান্ত কিছু ব্যাপার বের করে আনেন। যে সকল ব্যক্তি গরিলাকে দেখতে ব্যর্থ হয়েছে তারা পুরোপুরিভাবে কনফার্ম ছিল যে এখানে কোনো গরিলা নেই, তারা বিশ্বাসই করছিলোনা যে এরকম কোনো দুর্দান্ত ঘটনা সত্যিকার অর্থেই ঘটেছে। গরিলা স্টাডি আমাদের মন সম্পর্কে দুটো সত্য আমাদের নিকট উন্মোচন করে – আমরা সুস্পষ্ট বিষয়েও অন্ধ হতে পারি এবং আমরা অন্ধ হতে পারি সুস্পষ্ট অন্ধত্বের কারণেও।

প্লট সাইনোপসিসঃ

আমরা যখন জাগ্রত থাকি তখন সিস্টেম-১ ও সিস্টেম-২ দুটোই একটিভ থাকে। সিস্টেম-১ অটোমেটিক্যালি রান করে কিন্ত সিস্টেম-২ সাধারণ কম পরিশ্রম করতে পছন্দ করে। এটি “লো” এনার্জি স্টেটে থাকতে চায়, যেখানে, এর অত্যন্ত ক্ষুদ্র একটা ফ্র‍্যাকশন নিয়োজিত থাকে। সিস্টেম-১ কন্টিনিউয়াসলি সিস্টেম-২ এর জন্যে সাজেশন প্রদান করতে থাকে; ইম্প্রেশন, ইনটুইশন, ইনটেনশন ও ফিলিংস। সিস্টেম-২ যদি একবার অনুমোদন দেয় তবে ইমপ্রেসন ও ইনট্যুইশন বিশ্বাসে পরিণত হয়ে যায় এবং ঐচ্ছিক একশনে পরিণত হয়। যখন সবকিছু স্মুথলি চলে, তখন সিস্টেম-২ পুরোপুরিভাবে সিস্টেম-১ এর নির্দেশনা অনুযায়ী চলে সামান্যতম বা কোনো মডিফিকেশন না করেই। আপনি সাধারণ বিশ্বাস করেন আপনার ইম্প্রেশন ও একশন আপনার আকাঙ্খা এবং সাধারণত এটা ভালো। কিন্তু যখনই সিস্টেম-১ কোন ডিফিকাল্টির ভেতর পড়ে যায়, সিস্টম-২ আরো বেশি সাপোর্ট দিতে শুরু করে এবং স্পেসিফিক প্রোসেসিং যা ঐ মুহূর্তের প্রবলেম সমাধান করে। সিস্টেম-২ তখনই অস্থির হয়ে উঠে যখন সিস্টেম-২ কোনো একটি উত্তর দিতে ব্যর্থ হয়। যেটা সাধারণ ঘটে যখন আপনি ১৭×২৪ এর সমস্যাটি সমাধান করতে যান। আপনি যখন বিস্মিত হন আপনি কনশাস এটেনশনের একটি ঢেউ ফিল করেন। সিস্টেম-২ তখনই এক্টিভ হয় যখন সিস্টেম-১ এর জগতের সূত্র ভায়োলেট হয়। যে জগতে বাতি লাফায়না, বেড়াল ডাকেনা এবং গরিলা বাস্কেট বল কোর্ট অতিক্রম করেনা। গরিলা এক্সপেরিমেন্ট আমাদের বলে বিস্ময়কর কোনোকিছু পর্যবেক্ষণ করার জন্য সামান্য মনোযোগের প্রয়োজনীয়তা আছে।

আপনাকে তাকাতে হবে, মেমরি অনুসন্ধান করতে হবে বিস্মিত হওয়ার জন্য। স্টিস্টেম-২ আমাদেরকে সব সময় মনিটরিং করে, আমাদের আচরণ, আমরা যখন রাগান্বিত হয়ে উঠি অথবা রাতের অন্ধকারে গাড়ী চালাই। সিস্টেম-২ পরিশ্রম বৃদ্ধি করে যখন সে কোন ইফোর্ট পর্যবেক্ষণ করে। স্মরণ করুন যখন আপনার সাথে কেউ অফেন্সিভ আচরণ করে তখন এটা কতটা কঠিন আপনার জন্য নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা। সংক্ষেপে বলতে গেলে, আপনার অধিকাংশ চিন্তা সিস্টেম-১ থেকেই তৈরি হয় কিন্তু সিস্টেম-২ সেটি অধিকার করে নেয় যখন কোনো জটিলতা দেখা দেয় এর সাধারণত একটি শেষ কথা থাকে। এ দুটি সিস্টেমের পার্থক্য খুব কার্যকরী। এটি আপনার ইফোর্ট কমায় ও আপনার কাজকে অপটিমাইজ করে। সিস্টেম-১ অধিকাংশ সময় যে কাজগুলো করে তা খুবই দারুণ, এটি পরিচিত সিচুয়েশনগুলোর মডেল তৈরি করে, এর শর্ট-টার্ম প্রেডিকশনগুলো খুবই যথাযথ, এর প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া চ্যালেঞ্জগুলি দ্রুত এবং সাধারণত উপযুক্ত।

সিস্টেম-১ পক্ষপাত করে, এটি বিশেষ পরিস্থিতিতে সিস্টেমেটিক কিছু ভুল করে। এটি মাঝেমাঝে কারো প্রশ্নের খুব সহয জবাব দেয়। এটি লজিক ও স্ট্যাটেটিক খুব কমই বোঝে। সিস্টেম-১ এর একটি সীমাবদ্ধতা হল এটি কখনো Turned off হয়না। যদি আপনাকে স্ক্রিনে আপনার পরিচিত কোনো ওয়ার্ড দেখানো হয়, আপনি এটি পড়তে পারবেন__ যদিনা আপনার ফোকাস অন্যত্র চলে যায়।

ইলুশনঃ

সিস্টেম ১ এর স্বেচ্ছাচারীতা, এমনকি ইম্প্রেসন ও বিশ্বাসের পার্থক্য বোঝার জন্য ফিগার-৩ লক্ষ করুন।

থিংকিং ফাস্ট এন্ড স্লো

এ ছবিটি অবিস্মরণীয়; আলাদা আলাদা দৈর্ঘের দুটি হরাইজন্টাল লাইন। যার দু-পাশে দুটি করে ফিন লাগানো। বাম পাশের লাইনটি সুস্পষ্টভাবে ডানপাশের লাইন থেকে অনেক বিরাট। এটা হলো প্রাকৃতিকভাবে আমরা যা দেখছি আর আমরা যা দেখি তা আমরা বিশ্বাস করি। আপনি যদি এ ছবিটি দেখে থাকেন তবে আপনি এ মুহূর্তে বিখ্যাত Muller -Lyer Illusion এর উপর দিয়ে হাঁটছেন। কিন্তু আপনি যদি একটি রুলার হাতে নেন এনং দুটি লাইনকে মেপে দেখেন আপনি দেখবেন এ দুটি লাইন পরস্পর সমান।

এখন আপনি এ দুটি লাইন পরিমাপ করেছেন। আপনার সিস্টেম-২ এবং আপনার মধ্যে নতুন একটি বিশ্বাস জন্ম হয়েছে। আপনি দেখেছেন যে এ দুটো লাইন আসলে পুরোপুরিভাবে সমান। আপনাকে যদি তাদের দৈর্ঘ্য জিজ্ঞাসা করা হয় তবে আপনি যা দেখেছেন তাই বলবেন। কিন্তু আপনার বিশ্বাস চেঞ্জ হওয়ার পরও, আপনার পরিমাপ যথাযথ হওয়ার পরও আপনি আপনার সিস্টেম-১ -এর কাজ থামাতে পারবেন না, সে তার কাজ করেই যাবে, আপনি যতবার তাকাবেন আপনার কাছে এ দুটি লাইন একে অন্যের থেকে ভিন্নই মনে হবে, যদিও আপনি জানেন তারা সমান। আপনি আপনার ইলুশনকে দমন করার জন্য একটা কাজই করতে পারেন। আপনি দৈর্ঘ্য সম্পর্কে আপনার ইমপ্রেসনকে অবিশ্বাস করতে পারেন। আপনি ফিনগুলো লাগানোর পূর্বের সময় চিন্তা করতে পারেন, স্কেল দিয়ে আবার আপনি লাইন দুটো পরিমাপ করে দেখতে পারেন কিন্তু আপনি যাই করেন না কেনো আপনি Muller-Lyer illusion-এর স্বীকার হবেন। তখনও আপনার মনে হবে একটি লাইন অন্যটি থেকে লম্বা।

থিংকিং ফাস্ট এন্ড স্লো

সব ইলুশন ভিজুয়াল নয়। চিন্তারও ইলুশন আছে। যেটাকে আমরা বলি “Cognitive Illusion”! ডেনিয়েল যখন গ্রেজুয়েট স্টুডেন্ট ছিলেন। তিনি সাইকো থেরাপির কিছু কোর্সে প্রেজেন্ট হতেন। লেকচারের সময় তার শিক্ষক একটি গল্প শুনিয়েছিলেন তাদের। ”আপনার বিভিন্ন সময় একজন পেশেন্টের সাথে দেখা হয় যে তার পূর্বের ট্রিটমেন্টের মাল্টিপল মিস্টেক সম্পর্কে আপনার কাছে গল্প করে, অনেক ডাক্তারই দেখিয়েছে, কেউই তার রোগ ধরতে পারেনি। পেশেন্ট আপনাকে বলছিল, কিভাবে তার পূর্বের থেরাপিস্ট তাকে ভুল বুঝেছিল কিন্ত তিনি খুব দ্রুত বুঝতে পারলেন যে, আপনি আলাদা, সবার থেকে আলাদা। আপনিও তার সাথে একই ফিলিংস শেয়ার করলেন যে আপনি তাকে বুঝতে পেরেছেন। আমার শিক্ষক এ পর্যন্ত এসে আকস্মিক চিৎকার করে উঠলেন, এটাকে অফিসের বাহিরে ছুড়ে ফেলে দাও! সে একজন সাইকোপ্যাথ এবং কেউই তাকে সাহায্য করতে পারবেনা। অনেক বছর পর তিনি বুঝতে পারেন তার শিক্ষক তাকে সাইকোপ্যাথ চার্ম সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছিলেন। এ এনালজির সাথে Muller- Lyer illusion এর একটা সম্পর্ক আছে। তিনি বলেন, আমাদেরকে যা শেখানো হয়েছে সেটা এমন ছিলোনা যে আমরা পেশেন্ট সম্পর্কে কিভাবে অনুভব করবো। মূলত আমার শিক্ষক বলতে চেয়েছেন, পেশেন্টের প্রতি আমাদের যে ইমোশন-এর উপর আমাদের কোনো কন্ট্রোল নেই, এটি সিস্টেম-১ থেকে আসে। তাছাড়া পেশেন্টকে সন্দেহ করার ব্যাপারে আমাদেরকে কোনো শিক্ষা দেয়া হয়নি। আমাদেরকে বলা হয়েছিল, পেশেন্টের মুখ থেকে পূর্বের ট্রিটমেন্টের ব্যর্থতার কথা শুনে প্রবলভাবে আকৃষ্ট হওয়াটা মূলত প্যারালাল লাইন -এর ফিনের সাথে তুলনীয়। এটি একটি ইলুশন, যেটিকে কগনিটিভ ইলুশন বলে। সিস্টেম-২ আমাকে বলে এটি কিভাবে সনাক্ত করতে হয় এবং উপদেশ দিতে হয় এ ধরণের কর্মে বিশ্বাস না করার জন্য। সিস্টেম-১ এমনি এমনি কাজ করে, এটাকে ঐচ্ছিকভাবে টার্ন অফ করে দেয়া যায়না, ইনট্যুইটিভ থটের এই ভুলকে দমন করা খুব কঠিন। এ পক্ষপাত অনেক সময় এভোয়েড করা যায়না কারণ সিস্টেম-২- এর কাছে অনেক সময় কোনোপ্রকার “সংকেত” থাকেনা। যদিও ভুল ধরার জন্য সংকেত প্রদানও করা হয়, তবুও সিস্টেম-২’কে অনেক পর্যবেক্ষণ ও পরিশ্রম করেই সে ভুলকে দমন করতে হয় আর নয়তোবা এটি বেশিরভাগ সময় ‘লোয়ার এনর্জি স্টেটে” থাকতে চায়, সিস্টেম-২ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সিস্টেম-১ এর উপরই সব ছেড়ে দেয়। আসলে সবসময় আমাদের চিন্তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করাটাও খুবই বিরক্তিকর, আর একটা সময় আমরা ক্লান্ত হয়ে হাল ছেড়ে দেই, সিস্টেম-২ এতটাই স্লো এবং অসম্পূর্ণ যে সিস্টেম-১- এর বিকল্প হিসেবে এটাকে ব্যবহার করাই যায়না। সবচেয়ে ভালো যে কাজ আমরা করতে পারি তা হলো কম্প্রোমাইজ, এটা বোঝা যে কোন পরিস্থিতিতে মিস্টেক অনেক দৃশ্যমান এবং সে ভুলের গুরুত্বকে উপেক্ষা করাও খুব কঠিন। আর আমি আপনাদেরকে ধারাবাহিকভাবে এ ভুলগুলো কিভাবে সনাক্ত করা যায় সে ব্যাপারে তথ্যপ্রদান করবো। (কমনসেন্স ও মহাবিশ্ব)

তথ্যসুত্রঃ

hsbd bg