এস্টারয়েড বেল্টের ভেতর এক্সিলারেটর বসিয়ে ওয়ার্ম হোল

এস্টারয়েড বেল্টের ভেতর এক্সিলারেটর বসিয়ে ওয়ার্ম হোল

মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি ছেড়ে আমরা কিভাবে অন্য কোথাও পালিয়ে যেতে পারি এ ব্যাপারে বিজ্ঞানমহলে বহুদিন ধরেই জল্পনা কল্পনা চলছে। মিচিও কাকু তার ফিজিক্স অব দি ইম্পোসিবল, প্যারালাল ওয়ার্ল্ড, ফিউচার অব দি হিউম্যানিটি ও হাইপারস্পেসের মতো প্লানেট জয়ী গ্রন্থগুলোতে বিভিন্নভাবে মহাবিশ্ব ছেড়ে আমরা কিভাবে বিকল্প মহাবিশ্বে পালিয়ে যেতে পারি তার সাপেক্ষে বিভিন্ন যুগান্তরকারী পরিকল্পনার ইঙ্গিত দেয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে । এতে করে বিশ্বের হাজার হাজার বিজ্ঞান প্রেমিকের রাতের ঘুম পুরোপুরি নষ্ট! সমস্ত প্লানেট যখন টিকে থাকার প্রতিযোগিতায় অন্ধ ঠিক তখন একজন তরুণ হাইপারস্পেসের স্বপ্ন দেখে রাত দিন একাকার করে দিচ্ছে , তাদের নিউরনে কাজ করে জটিল সব সিমুলেশন। গ্যালাক্টিক এনসাইক্লোপিডিয়াতে জানা যায়, উন্নত সভ্যতা যদি এস্টারয়েড বেল্টের সমান একটি পার্টিকেল এক্সিলারেটর তৈরি করতে পারে তবেই হয়তো আমরা একটি ওয়ার্মহোল তৈরি করতে পারি। সার্কুলার প্রোটনের বিম বেল্টের চারপাশে পাঠিয়ে, যার গার্ডিয়ান হবে বিরাটাকার ম্যাগনেট! পৃথিবীতে আমরা বিশাল একটি সার্কুলার টিউবের ভেতর দিয়ে পার্টিকেলকে সেন্ড করতে পারি যে টিউব শূন্যস্থান ধারণ করে। কিন্তু আউটার স্পেসের ভ্যাকুয়াম যখন আমাদের সকল প্লানেটারি ভ্যাকুয়াম থেকে উন্নত, এই এক্সিলারেটরের জন্য কোনো টিউব প্রয়োজন হবেনা। গ্রহের তরুণদের মস্তিষ্কের হ্যাকার এলিয়েন বিজ্ঞানীদের এসব কথা শুনলে রক্ত উত্তেজিত হয়ে উঠে, পার্থিব জগতকে ভুলে যাই, মস্তিষ্কের নিউরনগুলো থিওরিটিক্যালি যেনো এই মুহূর্তেই পাড়ি জমাবে সেই অজানায়! বেল্টের চারপাশে নাকি কৌশলগতভাবে বিরাট বিরাট ম্যাগনেটিক স্টেশন বসানো হবে, যে ম্যাগনেটিক স্ট্যাশনগুলো প্রোটনের বিমের জন্য বৃত্তাকার পথ রচনা করে দেবে। এটা অনেকটা Relay Race – এর মতো! যতবার প্রোটন একটি স্টেশন অতিক্রম করবে, ইলেক্ট্রিক্যাল এনার্জির একটি ঢেউ ম্যাগনেটকে পাওয়ার দেবে , যা প্রোটন বিমকে লাথি মেরে পরবর্তী স্ট্যাশনে পাঠিয়ে দেবে, একাবারে কারেক্ট এঙ্গেলে। যতবার প্রোটনের বিম স্ট্যাশনকে অতিক্রম করবে, প্রোটনের বিম আরো অধিক থেকে অধিক শক্তিতে ফুলে উঠবে, ধারণ করবে লেজারের ক্ষমতার আকার, যতক্ষণ পর্যন্ত না এটি প্লাঙ্ক এনার্জিতে পৌঁছায়।

একবার যদি এক্সিলারেট এ এনার্জিতে পদার্পন করে, এটি স্পেসের একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে তার সমস্ত শক্তিকে কেন্দ্রীভূত করবে, প্রচন্ড শক্তিতে স্পেস ফেটে যাবে, খুলে যাবে ওয়ার্মহোলের মুখ। তারপর, ওয়ার্মহোলের মুখের ভেতর আমরা এক মুঠো নেগেটিভ এনার্জি ঢুকিয়ে দেবো যেনো সে মুখটিকে দীর্ঘকাল “হা’ করে রাখে, যেনো তার ঠোট কলাপ্স না করে!

এবার শুধু স্টারশিপ নিয়ে শা শা করে ঢুকে যাওয়ার অপেক্ষা! ওয়ার্মহোলের ভেতর দিয়ে আমাদের এ ভ্রমণ কেমন হতে পারে? এখনো এ প্লানেটের কোনো মস্তিষ্ক এ ব্যাপারে কিছু জানেনা! কিন্তু থ্রোন টাইম মেশিনের প্রস্তাবক কিপ থ্রোন ইন্টারস্টেলার মুভির পরামর্শ দিতে গিয়ে নাকি তাদেরকে এ ভ্রমণ সম্পর্কে একটি ধারণা দেয়ার চেষ্টা করেছেন! থ্রোন আলোক রশ্মির পথকে ট্র্যাক করার জন্য একটি কম্পিউটার প্রোগ্রাম তৈরি করেছিলেন! তার সেই কঠিন পদ্ধতি বিশ্লেষণ করার জন্য আমার আঙুল এখনো যথেষ্ট দক্ষ নয়। এই মুভিতে দেখা যায়, যখনই আপনি ব্লাকহোলের এপ্রোচ করবেন, আপনি এক বিরাট…. কালো গোলক দেখবেন, যেটাকে বলে ইভেন্ট হরাইজন, আপনি যখন এই ঘটনা দিগন্তের ভেতর প্রবেশ করবেন, আপনি মহাবিশ্বের এমন একটি বিন্দুতে চলে যাবেন যেটাকে বলা হয় ” The Pont of No Return”! এই কালো গোলকের ভেতর স্বয়ং ব্লাকহোল ওতপেতে থাকে, এমন একটি পয়েন্ট যার অবিশ্বাস্য ঘণত্ব ও গ্রেভেটি।

বিরাট বিরাট পার্টিকেল এক্সিলারেটর তৈরি করে স্পেসের মধ্যে ছিদ্র করা ছাড়াও পদার্থবিজ্ঞানীরা বলাবলি করছেন, ওয়ার্মহোল খুঁজে পাওয়া যায়। তার মধ্যে একটি সম্ভাবনা হলো খুবই দুর্দান্ত ও লোমহর্ষক!

ধারণাটা অনেকটা এমন যে, মহাবিস্ফোরণের সময় যে বোমাটি বিস্ফোরিত হয়েছিলো, সেটা এতটাই এক্সপ্লোসিভ ছিলো যে, এর প্রবল শক্তি সম্ভবত একটি অতি-ক্ষুদ্র ওয়ার্মহোলকে ইনফ্লেট করে তুলেছিলো যেমনটি আমরা বেলুন ফোলাই, আর এই অতি-ক্ষুদ্র ফুলে উঠা বেলুনটি ছিলো আমাদের মহাবিশ্বের ছেলে বেলায়, আজ থেকে ১৩. ৮ বিলিয়ন বছর পূর্বে।

এ সময় ছিলো সে সময় যে সময় ইউনিভার্স জ্যামিতিক ভাবে এক্সপান্ড হচ্ছে, আর সে ওয়ার্মহোলটিও আমাদের মহাবিশ্বের সাথেই এক্সপান্ড হয়েছে! যদিও  এ প্লানেটের কোনো তরুণের মস্তিষ্ক সেই সম্প্রসারিত ওয়ার্মহোলটি দেখেনি! কিন্তু আশার বারুদ জ্বলে উঠে য, ওয়ার্মহোল প্রাকৃতিকভাবেই ইউনিভার্সে অস্তিত্বশীল। কিছু কিছু পদার্থবিদ মহাকাশের অবারিত শূন্যতা পানে তাকিয়ে ভাবছে, কিভাবে স্পেসে এমন একটি ফুটো খুঁজে পাই আমরা! স্টার্কটার্ক মুভিগুলো যদিও প্রাকৃতিকভাবে তৈরি ওয়ার্মহোল অনায়াসেই খুঁজে পায়। এই যেমন ধরুন, যে কেউ এমন একটি অবজেক্ট দেখলো যা নক্ষত্রের আলোকে কোনো এক বিশেষ উপায়ে বাঁকিয়ে দিয়েছে। সম্ভবত, এটি দেখতে গোলাকার বা রিঙের মতো।

আরো একটি সম্ভাবনা কিপ থ্রোন ও তার সহযোগীরা প্রস্তাব করেন, আর তা হলো, ভ্যাকুয়ামে ক্ষুদ্র একটি ওয়ার্মহোল খুঁজে নিন আর তারপর এটাকে সম্প্রসারিত করুন। স্পেস সম্পর্কে আমাদের সাম্প্রতিক জ্ঞান দ্বারা আমরা খুব দারুণ একটা ব্যাপার জানতে পেরেছি আর সেটা হলো কোয়ান্টাম ফ্ল্যাকচুয়েশনের ফলে স্পেসে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন মহাবিশ্ব অস্তিত্বশীল হচ্ছে এবং মুহূর্তেই ধবংস হয়ে যাচ্ছে। আর আমরা আগেই বলেছি, এ ফ্ল্যাকচুয়েশনের সময় এ বাবল ইউনিভার্সগুলোর মাঝখানে টানেল ক্রিয়েট হয়। কিন্তু যেহেতু মহাবিশ্বগুলো অস্থিতিশীল এবং খুব দ্রুত শূন্যে মিলিয়ে যায় , সে জন্য অতি-ক্ষুদ্র সময়ের ভেতরেই আমাদেরকে সেই টানেলটি সম্প্রসারিত করে তুলতে হবে। আমাদের যদি যথেষ্ট শক্তি থাকে তবে আমরা পূর্ব থেকেই অস্তিত্বশীল একটি ওয়ার্ম হোলকেই ব্যবহার করতে পারি, এটাকে ইনফ্লেট বা সম্প্রসারিত করার মধ্য দিয়ে।

কিন্তু এ সব প্রস্তাবে একটি সমস্যা আছে। এই ওয়ার্মহোলের চারপাশে মহাকর্ষের কণা অবস্থান করে যাকে বলা হয় গ্রেভিটন। আপনি যদি এর ভেতর দিয়ে প্রবেশ করেন তবে আপনি কোয়ান্টাম কারেকশনের মুখোমুখি হবেন গ্রেভিটেশনাল ওয়েভের ফর্মে। সাধারণত কোয়ান্টাম কারেকশন খুবই ক্ষুদ্র এবং উপেক্ষা করার মতো। কিন্ত ক্যালকুলেশন থেকে জানা যায় আপনি যদি ওয়ার্মহোলের ভেতর প্রবেশ করেন তবে এই কোয়ান্টাম কারেকশন অসীম হয়ে উঠবে, আর সম্ভবত এ জন্য রেডিয়েশন প্রাণঘাতী হয়ে উঠবে। এছাড়া রেডিয়েশন লেভেল এতটাই প্রাণঘাতী হয়ে উঠবে যে, ওয়ার্মহোল সম্ভবত বন্ধ হয়ে যাবে, যা পেজেসটিকে অসম্ভব করে তুলবে। সাম্প্রতিক পদার্থবিজ্ঞানীদের মধ্যে বিতর্ক দেখা যাচ্ছে, ওয়ার্মহোলের ভেতর দিয়ে ভ্রমণ ঠিক কতটা মারাত্মক। যখন আমরা ওয়ার্মহোলের ভেতর প্রবেশ করি সেখানে আইনস্টাইনের রিলেটিভিটি আর কাজ করেনা কোয়ান্টাম ইফেক্ট এতটাই সক্রিয় হয়ে উঠে যে এর ভেতর দিয়ে যেতে আমাদের আরো উচ্চতর তত্ত্বের প্রয়োজন হয়। সাম্প্রতিক শুধুমাত্র একজনই এ কাজ করতে পারে আর তা হলো স্ট্রিং থিওরি যা এ পর্যন্ত পদার্থ বিজ্ঞানীদের সবচেয়ে বিস্ময়কর প্রস্তাব। (হকিং ওয়েভ ফাংশন এবং হাইপারস্পেস )

তথ্যসূত্রঃ

  1. Future of The Humanity, Michio Kaku
  2. Can a particle accelerator create a wormhole? | Study.com
  3. Extra dimensions, gravitons, and tiny black holes | CERN
  4. Quantum wormholes could carry people | New Scientist

hsbd bg