আল- জাহিজ সম্পর্কীত মিথ্যাচার
মূলপাতা নাস্তিকতাবাদ আল-জাহিজ সম্পর্কীত মিথ্যাচার

আল-জাহিজ সম্পর্কীত মিথ্যাচার

লিখেছেন বিপ্লব রায়
204 বার পঠিত হয়েছে

আল-জাহিজ সম্পর্কীত মিথ্যাচার; আল-জাহিজ কি বিবর্তনবাদের প্রবক্তা?

 

সে সময় আরবে জ্ঞান বিজ্ঞান বিকশিত গ্রীকদের লেখা অনুবাদ করত। গনিত, চিকিৎসা ও সমাজ বিজ্ঞানে আরবদের অবদান থাকলেও জীববিজ্ঞানের শাখার ভিত্তিমূল হিসেবে বিবেচিত বিবর্তন বিদ্যায় আরবদের অবদান অতিরঞ্জিত ছাড়া আর কিছুই নয়। ৭৭৬ খ্রিস্টাব্দে, দক্ষিণ ইরাকের বসরা শহরে জন্মগ্রহণকারী সাহিত্যিক ও ধর্মশাস্ত্রবিদ আল-জাহিজকে কেউ কেউ বিবর্তনের জনক দাবি করে থাকেন। চার্লস ডারউইনের প্রায় এক হাজার বছর আগে আব্বাসীয় শাসনামলে তার রচিত ‘কিতাব আল-হায়ওয়ান’ (The Book of Animals) জন্য তাকে নাকি বিবর্তনবাদ তত্ত্বের প্রবক্তা বলা হয়। তিনিই নাকি বিবর্তনকে পূর্নাঙ্গভাবে উপস্থাপন করেন। কথা মোটেও সত্য নয়। আল-জাহিজ এর মৃত্যুর ৫০০ বছর পর ইবনে খালদুন নামে একজন আরবীয় পণ্ডিত ১৪শ শতকে তার মুকাদিমা গ্রন্থে বিভিন্ন স্তরের প্রানী জীবনের কথা উল্লেখ করেন। যেমন:

“creation … started out from the minerals and progressed, in an ingenious, gradual manner, to plants and animals. The last stage of minerals is connected with the first stage of plants, such as herbs and seedless plants. The last stage of plants, such as palms and vines, is connected with the first stage of animals, such as snails and shellfish … the last stage of each group is fully prepared to become the first stage of the next group.”

সত্যি বলতে আল-জাহিজ Natural Selection নয়, a kind of Biological selection কথা বলেন। তিনি বলেন,

“In sum, no animal can survive without nourishment. The hunting animal cannot escape being hunted. Every weak animal devours those that are weaker; every strong animal cannot avoid being consumed by those that are stronger…. God, in sum, made some beings the cause of life to others, and in turn made these the cause of death to yet others.”

অর্থাৎ, কোনো প্রানী খাদ্য ছাড়া বাঁচতে পারে না। শিকারি প্রানী নিজেরাই শিকার হওয়া থেকে এড়াতে পারে না। প্রত্যেক দুর্বল প্রানী তার চেয়ে দুর্বলতর প্রানীকে ভক্ষণ করে। প্রত্যেক শক্তিশালী প্রানী তার চেয়ে অধিকতর শক্তিশালী প্রানীর ভক্ষণ এড়াতে পারে না। মোট কথা, ইশ্বর অন্য প্রানীর জন্য কিছু প্রানীকে জীবন দান করে আবার কিছু প্রানীকে অন্য প্রানীর জন্য মৃত্যু ঘটান।”

জার্মান ইতিহাসবিদ Herbert Eisenstein বলেন,

“First of all, the goal of al-Jahiz’s Book of Animals was not actually the study of animal species, but a proof of the existence of the Creator that is evident from his creation” (p. 122 in Einfürung in die arabische Zoographie).

হতে পারে সে একজন ভালো দার্শনিক বা ধর্মশাস্ত্রবিদ তবে জীববিদ্যায় পন্ডিত নন। সত্যিকার অর্থে, তিনি স্রষ্টার সৃষ্টির স্বেচ্ছাচারিতা ও স্বাধীন ইচ্ছাকে এ যুক্তি দিয়ে দেখান যে, ইশ্বর প্রানীদের চোয়াল, দাত, থাবা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন নিজেদের রক্ষার ও আক্রমনের জন্য।

এছাড়া তিনি লিখেন,

“when you see an animal … of great danger, and concerning whom Man must be very careful, such as snakes and wolves provided with fangs … thus may you know … that God— sublime and powerful is He— gives to the steadfast, those who understand that free will and rational experience could not exist if the world were purely evil or entirely good.”

সময় পরিক্রমায় জৈব বৈচিত্র্যে নয় বরং তিনি এক ইশ্বরবাদ দশর্নের মাঝে প্রকৃতিকে খুঁজেছেন।যা ধর্মশাস্ত্রের দিকে যায়।
ব্রিটিশ-ইরাকি পদার্থবিদ জিম আল খলিলি বলেন, আল জাহিজ লেমেরকান এভোলুশেনের সাথে নেচারেল থিউলোজিকে মিশ্রণ করেছেন।টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের এ্যাসিসটেন্ট প্রোফেসর জেনি মিলার বলেন, তার Book of Animals গ্রন্থটি ইশ্বরের সেবার উপর লেখা। তখনকার সময়ে তিনি ছিলেন এলিট শ্রেনীর এবং সবার সাথে সমানভাবে আচরন করতেন না। তিনি মনে করতেন, সকলের অবস্থা হলো ইশ্বরের সৃষ্টির প্রকৃতির নিয়ম। সত্যি বলতে, তিনি তার কবিতার মধ্যে কিছু প্রকৃতির গল্প কাহিনী মাধ্যমে ইশ্বরের সংযোগ খুঁজার চেষ্টা করেছেন।

 

আল-জাহিজ সম্পর্কীত মিথ্যাচার; তথ্য সূত্র:

 

আমাদের প্রাসঙ্গিক আর্টিকেলগুলো পড়ুন:

 

আরও পড়ুন

Leave A Comment...

হাইপারস্পেস
চিন্তা নয়, চিন্তার পদ্ধতি জানো...!